প্রতিজ্ঞা -২

ওভারব্রিজের উপর বসে থাকতে আমার ভীষণ রকমের ভাল লাগে। সিড়িতে বসে কত রঙ ঢঙের মানুষ দেখি। কেউ চাকুরীজীবী, কেউ চামার, কেও ব্যবসায়ী, কেউ ড্রাইভার। এইরকম হরেক রকমের মানুষ। সিলেট আসার পর ওভারব্রিজটাই হয়ে ওঠেছে আমার সময় কাটানোর জায়গা। ওভারব্রিজের পশ্চিমে কোর্ট মসজিদের গম্বুজের পিছনে সূর্য্যাস্ত দেখে বিকেল পার করে সন্ধ্যে নামাই শহরে।
সন্ধ্যে আসলেই শহরটা যেন সাজ সাজ রব পড়ে যায়, চারিদিকে ঝলমলে বাতিগুলো জ্বলে ওঠে। প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। ঠিক আমার মত। সারাদিন নিরীহের মত দেখালেও সন্ধ্যে হওয়ার পর যেন আমার ভেতর প্রতিশোধের স্পৃহা জ্বলে ওঠে আমাকে প্রাণবন্ত করে তুলে দেয়। আমি আরবের শক্তিশালী ঘোড়ার মত তেজ অনুভব করি ভেতরে। সেই তেজে নতুন জীবনের স্বাদ। মৃত্যুর পরেই নতুন জীবনের সূচনা হয়। মিনহাজ প্রণয় ভাইদের মৃত্যু আমাকে নতুন জীবন এনে দিয়েছে।
বাস্তবে আমি একজন চাকুরীজীবী হলেও আমার আরেকটা জীবনের সূচনা হয়েছিল সেদিন। আমার শিকারী সত্ত্বার । আমি নিজের খেয়ালে শিকার করিনা।আমি শিকারী। যখন শিকারের সময় আসে তখন আমি পৃথিবীর নিকৃষ্টতম জীবটিকে শিকার করি।
আমি গণমানুষের পক্ষে দুপেয়ে জানোয়ারদের
শিকার করি। যাদের জন্য সমাজে মানুষের স্বস্তি নেই, ইজ্জত নেই, সুখ নেই, আরাম নেই। যারা উগ্রতা ছড়িয়ে দেয় সমাজে। যারা ধর্মের শৃঙ্খল দিয়ে বেধে রাখতে চায় সমাজকে। তাদের শিকার করার জন্যে আমি শিকারী।
আমার সেই শিকারী সত্ত্বাই আমার প্রতিজ্ঞা পূরণের পথ মসৃণ করে দিয়েছে। প্রথম শিকারটা করেছিলাম মিনহাজ প্রণয় ভাইদের খুনিকে।
প্রতিশোধের নেশায় বেশ আনকোরা ভাবেই খুন করে ফেলেছিলাম। পরে অবশ্য বুঝেছি,
আরেকটু অসতর্ক হলে আমি নিজেই শিকার হয়ে যেতাম। কারণ সেই পথ তখনো আমার অভিজ্ঞতা কিংবা দক্ষতা কিছুই ছিলনা।
কিন্ত আমি বুঝতে পেরেছি আমার জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে অসফল হলেও আমার প্রতিজ্ঞা পূরণের শিকারী জীবনে আমি সফল হবই।
এবং সেটা আমার প্রথম শিকার সাল্লুকে হত্যার প্রক্রিয়াটা দেখলেই বোঝা যায়, আরেকটু মাথা খাটালে আমি পরিপূর্ণ শিকারী হয়ে ওঠব। আমি প্রতিজ্ঞা পূরণে সক্ষম হব। এইজন্য চাকুরীজীবনের পাশাপাশি শিকার জীবনে সফলতা আনার উপায় বের করতে লাগলাম।
নিজের শিকারকে অতি সহজে বধ করার জন্য কোন শারিরীক ভাবে উন্নত হওয়ার দরকার পড়েনা। তবে নাজুক হলেও চলবেনা। যথেষ্ট শক্তি থাকতে হবে।বুদ্ধি আর শক্তির কৌশলে শিকার করা যায় অতি সহজে।আধুনিক কালের শিকারীরা মেধাশক্তির উপরই বেশী নির্ভরশীল। তাছাড়া এই পথে ডাক্তারী বিদ্যে না থাকলেও ফরেনসিকদের সকল জ্ঞান রাখতে হবে নিজের মাথায়, নাহলে প্রথম শিকারে তুমি নিজেই শিকার হয়ে যাবে।
ফরেন্সিক তথ্যের মধ্যে প্রথমেই আসে রক্তের কথা।মানুষ শিকারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রুল হলো রক্ত প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করা। আধুনিক ফরেন্সিক বিদ্যা এতটা এগিয়েছে যে অনিয়ন্ত্রিতভাবে প্রবাহিত এক
ফোঁটা রক্তের সূত্র ধরে মুহুর্তের মধ্যেই কেইস সমাধান
করে ফেলতে পারে। রক্ত একজন মানুষর সকল
গোপনীয়তাকে উন্মুক্ত করে দেয়। প্রথমেই ধরা যাক
ব্লাড স্পেটার বা রক্তের ছিটার কথা। দেয়ালে লেগে
থাকা রক্তের ছিটার প্যাটার্ন পর্যালোচনার মাধ্যমে
মৃতদেহের অবর্তমানেই ভিক্টিমের পয়েন্ট অফ স্ট্রাইক
(ভিক্টিমের দেহের ঠিক কোথায় আঘাত লেগেছে) এবং
ফোর্স অফ স্ট্রাইক (ভিক্টিমের দেহে কত জোরে আঘাত
লেগেছে) নির্ণয় করা সম্ভব। প্রথম স্ট্রাইক দিয়ে
আতঁতায়ী ডানহাতি না বাঁহাতি?
আততায়ীর উচ্চতা? ইত্যাদি বের করে ফেলা যায়। এরপর ২য় স্ট্রাইক ফোর্স অফ স্ট্রাইক থেকে আততায়ীর দৈহিক গঠন, তাগড়া না
রোগা, মোটা না পাতলা ইত্যাদি নির্ণয় করা সম্ভব।
শিকারে আমার রক্তারক্তি বেশ পছন্দের। তবে যতটা সম্ভব কম রক্তপাতে শিকার করা ভালো। ।
ভাল শিকারী হতে গেলে আবার একজন দক্ষ
এনাটমিস্ট হতে হবে। শিকারের দেহের প্রতি ইঞ্চি চামড়ার নীচে কি কি আভ্যন্তরীন অঙ্গ-প্রতঙ্গ এবং শিরা-ধমনী
আছে সবই সে অর্ন্তচক্ষু দিয়ে দেখতে পায়। গলার
স্বরযন্ত্র এবং চেইন
দিয়ে ফাঁস লাগিয়ে মারার জন্যে শ্বাসনালীর অবস্থান
জানা থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বিনা রক্তপাতে শিকার করার জন্যে এই পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয়। কিন্তু বড় ধরনের শিকারে এই পদ্ধতি অবলম্বন না করাই ভালো।
আরেকটা উপায় রয়েছে, তলপেটের নাভির চার ইঞ্চি নিচে একটা স্ক্রুড্রাইভার
ঢুকিয়ে দিয়ে তার সাহায্যে নিম্ন মহা শিরা ছিঁড়ে
ফেলতে হবে। এতে দ্রুত এবং রক্তপাতহীন মৃত্যু হয় শিকারের। রক্তপাতের
পুরোটাই এক্ষেত্রে আভ্যন্তরীণ রক্তপাত যা আসলে
পেটের ভেতরেই সীমাবদ্ধ থাকে। তাছাড়া এর মাধ্যমে
বড় শিকারকেও সহজেই কুপোকাত করে দেওয়া সম্ভব।
এই উপায় গুলো নির্বিঘ্নে শিকার করা জন্যে ভালো কিন্তু একাজে প্রচুর শিক্ষা এবং দক্ষতার প্রয়োজন।
তবে আরেকটা উপায় রয়েছে যেটাতে শুধু শিকারকে বাগে পেলেই কেল্লাফতে। হাতের যে শিরা দিয়ে স্যালাইন করা হয়, সেই শিরায় বায়ুভর্তি ইঞ্জেকশন পুশ করে মেরে ফেলা যায় শিকারকে।
বাতাস শিরা বেয়ে হৃদপিন্ডে যেয়ে কার্ডিয়াক এমবোলিজম ঘটায়, তৎক্ষণাৎ মৃত্যু ঘটে। যার সাথে সাধারণ হার্টফেইলারের কোনই পার্থক্যই
নেই। অজ্ঞান কিংবা ঘুমন্ত শিকারকে কোন প্রমান
ছাড়া সরিয়ে দিতে এই পদ্ধতির কোন বিকল্প নেই।
তাছাড়া বিভিন্ন স্পর্শকাতর অঙ্গ, যেমন অন্ডকোষ, কানের নিচের নরম অংশ, চোখের উপরে থাকা সুপ্রারবিটাল
ছিদ্র, মাথার পেছনে থাকা সেন্সলেস করার গর্ত ইত্যাদি জায়গায় পিন কিংবা ছুরি ঢুকিয়ে দিয়ে শিকারকে সাথে সাথে পঙ্গু বানিয়ে নিজের আয়ত্ত্বে আনা যায়।
তবে বিভিন্ন ধরনের মার্শাল আর্ট, অস্ত্র সম্পর্ক্যে জ্ঞান থাকতে হবে। যাতে পরিস্থিত মোকাবেলা করা যায় কিংবা শিকারের হাতে ধরা পড়ে গেলে বিনাঅস্ত্রে শিকারের আক্রমণ প্রতিহত করা যায়।
সবশেষে শিকারীকে হতে হবে দক্ষ অভিনেতা, মেকাপ আর্টিস্ট। ক্রসড্রেসিংও করতে হবে মাঝেমধ্যে।
কারণে ছদ্মবেশ ধারণ করে নিজের সত্তাকে ভালমানুষির আড়ালে ঢেকে রেখে সবার সাথে সুমধুর ব্যাবহার করতে হবে। কখনো লাস্যময়ী মেয়েদের মেকাপ নিতে হবে বিষমকামী পুরুষ ভুলানোর জন্য।
অতি রাগের মধ্যেও মেজাজ রাখতে হবে শান্ত।
শান্ত মেজাজ সমাজের
নৃশংশতম নিকৃষ্টদের শিকার করতে হবে। আমি মানুষরূপী পশুদের শিকার করব।
শিকার মানেই রক্তের হলিখেলা নয়। আপনারা আবার আমাকে খুনী বলে গে কমিউনিটির লোকদের ত্যক্ত করবেননা। শিকার করলেই
হলেই যে খুনি হতে হবে এমন কোন কথা নেই।
আর সবাইতো খুন করছেনা? আমার একজনের জন্য পুরো কমিউনিটির লোকদের খুনী বলা যায়না।
সমাজের মধ্যে যেমন ভালো মানুষ আছে, খারাপ মানুষ আছে। তেমন সমস্ত কমিউনিটির লোকই শান্ত নয়। শিকারীদের মধ্যেও সমকামিতা রয়েছে।
তাই বলে পুরো কমিউনিটিই নৃশংস হয়ে যায়না, আর এইভাবে ছাড় দিলে কমিউনিটি বিলুপ্তি হয়ে যাবেনা এর কোন নিশ্চয়তা নেই। কী দোষ করেছিলো মিনহাজ ভাই? প্রণয় ভাই? লাবু ভাই?
কেন তাদের মরতে হল? যারা মেরেছে তারা কী খুনী না? তাদের জন্যই আমি হয়ে ওঠব শিকারী। ওরা যত হবে উগ্র, আর আমি হব ধ্বংসতারা।
*
জগলুকে এইভাবে পেয়ে যাবো ভাবিনি। জগলুর বন্ধু সাল্লু খুন হওয়ার পর পরই ও নিখোঁজ হয়ে যায়। গা ঢাকা দিয়েছে সম্ভবত। পুলিশ সাল্লু হত্যার সুরাহা করতে পারেনি। কারণ কোন প্রমাণ আমি রাখিনি।
সাল্লুকে হত্যা করে ওর থেকে বাজেয়াপ্ত মোবাইল থেকে জগলুর মোবাইল নাম্বারটা পেয়েছিলাম। কিন্ত শালা’র মোবাইল সুইচড অফ করে দিয়েছিল।
ফেসবুকে সার্চ করেছি পাইনি। কিন্ত আশার আলো হিসেবে দুই বন্ধুর একটা সেলফি পাই মোবাইলে। যাই হোক, আমারো সময়ের দরকার ছিল দক্ষ শিকারী হওয়ার জন্যে। আমি সর্বদাই লেগে রয়েছিলাম খোঁজে।
সাল্লু হত্যা ঘটবার অনেকদিন পর কী মনে করে ফেসবুকে জগলুর নাম্বারটা সার্চ করতে ওর আইডিটা চলে আসে।
কিন্ত দূর্ভাগ্য সবকিছুতে প্রাইভেসী দেয়া।
অবশেষে রাস্তা না পেয়ে চেক ইনে চোখ বুলাই। কোন জায়গায় লাস্ট চেক ইন করেছিল?
নন্দিতা সিনেমাহল, সিলেট। তারিখ গত কয়েকদিন আগের। তারমানে, জগলু এখন সিলেটে।
অফিসে এক সপ্তাহের ছুটি নিয়ে চলে আসি সিলেটে। কিন্ত দিন পেরিয়ে যায়, জিন্দাবাজার, বন্দর, রিকাবিবাজার, আম্বরখানার প্রতিটি অলিগলি তন্নতন্ন করে খুঁজি। পাইনা।
প্রত্যেকদিন বিকেলে বন্দরের জালালাবাদ পার্কে গিয়ে বসি। পার্কে সাধারণত গে কমিউনিটির লোকজনই বেশী আসে। এতদিনে প্রায়ই খেয়াল করেছি ব্যাপারটা।
কলবয় থেকে বুড়ো জোয়ান সবাই আসে। একেকজনের ভাবভঙ্গি দেখেই বলে দেয়া যায়, তাদের ভিতরটা। এইখানে আসি মজা নেওয়ার জন্যে। এই কমিউনিটিতেই যে কত বিকৃতরুচির মানুষ আছে সেটা ফেসবুকে আর এই পার্কে না আসলে বোঝা যেতোনা।
দিন চারেক পেরিয়ে যায়, আমি হতাশ হই। ফেসবুক আইডিটা শালা ডিএক্টিভ করে রেখেছে।
সেদিন সন্ধ্যেয় পার্কের জবাগাছটার নীচে বসে এক কাপলের খুনসুটি দেখছিলাম। এইরকম অহরহ ই হয়।
হঠাৎ করেই লোকটাকে দেখলাম সামনে দিয়ে হেটে যেতে। ল্যাম্পপোস্টের আলোয় চেহারাটা ক্ষণিকের জন্য দেখলাম। কয়েকসেকেন্ডের জন্য যেন হার্টবিট মিস করলাম। ধীরপায়ে তার পিছু ধরে সামনে গেলাম।
হ্যা, আমার সেই কাঙ্ক্ষিত লোক। জগলু।
শিকারের রক্তের নেশায় মাথার ভিতর দপদপ করে জ্বলছে শোধের আগুন।
কিন্ত শিকারীর মাথা ঠান্ডা রাখতে হয় নাহলে শিকার ফসকে যায়। জনসম্মুখে এমন কোন কাজ করা যাবেনা যা সন্দেহ জাগায় শিকারীর প্রতি। মুখে রাখতে হয় মেকি হাসি। কয়েকবার পাশাপাশি হাটলাম।
এরপর হাসিমুখে হাত বাড়িয়ে দিলাম হ্যালো বলে। পার্কের নিয়মটা এরকম। কয়েকবার পাশাপাশি হাটবে, তারপর হায় হ্যালো বলবে আর পছন্দ হলে বিছানায়।
_আমি জনি। কেমন আছেন?
_ভালো। আপনি?
_আমিওতো ভালোই। নিয়মিত আসেন নাকী?
_না। তেমন আসা হয়না।
ঠোটে তার হাসি। ট্যারা চোখে আমি কয়েকবার দেখেও নিলো। আমাকে পছন্দ হবে কীনা কে জানে?
জগলুকে নিয়ে ব্রেঞ্চিতে বসি। ছেলেটা সুদর্শন বটে। দেখে মনে হয়না ও একটা সিরিয়াল কিলার। কী নিরীহ দেখাচ্ছে। কালো প্যান্ট, আর স্যুট গায়ে দেয়া। কে জানে, স্যুটের আড়ালে হয়তো রিভলভার লুকিয়ে আছে। তারপর কি করা হয় আপনার?
জিজ্ঞাস করলাম ওকে।
এই ব্যবসা করি। আপনি?
আমি মানুষ শিকার করি। শিকারি বলা যায়।
খানিকটা থতমত খেলো মনে হচ্ছে। চোখে খানিকটা প্রশ্নের আভাস। জগলু নামের ছেলেটার চাহনী শীতল।
শীতল চাহনীতে আমার মেরুদন্ডে শীতল স্রোত বয়ে যায়। কিন্ত কাবু করেনা আমায়।
ওর উরুতে হাত রেখে আলতো চাপ দিয়ে বলি, এই যে আপনাকে শিকার করব এইভাবে, বলেই হাতটা আস্তে আস্তে বাড়িয়ে দেই ওর জিপারের দিকে।
ও মৃদু হাসে। হাফ ছেড়ে বাচি আমি। চোরের মন সবসময় পুলিশ পুলিশ করে।
_যাবেন নাকী? ওর ফেঁপে ওঠা পুরুষাঙে চাপ দিয়ে বলি।
_হুম। যাওয়া যেতে পারে।
আমি উঠে হাত ধরে টান দেই। আসেন, আমার রুমে যাই। ও হাত সরিয়ে নিয়ে বলে,
আমার রুম আছে। যাবে?
বুঝতে পারলাম নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে। কিন্ত আমারো কোন ওয়েপন ছাড়া একা একা শত্রুর বিছানায় শোয়াটা ঠিক হবে কীনা বুঝতে পারছিনা। আমি ওর দিকে সলজ্জিত হাসি দেই। যাওয়া যেতে পারে। তবে প্রস্ততির একটা ব্যাপার আছে না?
সে একটা কার্ড দেয়। ঠিকানা দেয়া আছে।
তাহলে কাল চলে এসো।
আমি খুশিতে ডগমগ করে ওঠি মনে মনে। শিকার করার নেশায় আচ্ছন্ন হয়ে ওঠে মনে।
*
সেদিন রাত্রেই ঠিকানা খুঁজে বাড়িটা বের করি। নং-২৫, শান্তি কুটির, শাপলাবাগ।
ছদ্মবেশ ধারণ করে আমি ওই বাড়িটার
চারপাশে প্রায় ঘন্টাদুয়েক ঘুরে ঘুরে পরিস্থিতি বুঝতে চেষ্টা করি।
পরদিন সন্ধ্যেয় সবকিছু রেডী হয়ে গেলাম শিকারের আস্তানায়। উত্তেজনায় ঢিপঢিপ করছে বুক। উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়ে ঘরের ভেতর নিয়ে যায় জগলু।
দরজা ভেজিয়ে আমাকে কোলে তুলে নেয়। ঠোটে ঠোট ডোবায়। ঠোটে নিকোটিনের গন্ধ। উফ! শালার শরীরে মাদকতারও গন্ধ। পুরুষের লোমশ বুক আমার বেশ পছন্দ। আমাকে বিছানায় ছুড়ে দিয়ে সবকিছু খুলে ফেলে শরীর থেকে। শুধু জাঙ্গিয়া আর স্যান্ডো গেঞ্জিটা পরনে তার। উফ! সন্ত্রাসীগুলা তো বেশ দেখতে। কিন্ত ও আমার শিকার! ও যখন উদোম হয়ে চড়াও হবে, তখনি কড়াৎ করে কানের নীচে নরম অংশে একটা বসিয়ে দিলাম।
পাথরের মূর্তির মতো জমে যায় তার শরীর। আঘাতটা মোক্ষম জায়গায় পড়েছে। কানের নীচের নরম অংশ বেশ সংবেদনশীল জায়গা। ওখানে আঘাত পড়লে জমে যাবে মূর্তির মত। ক্ষণিকের জন্য অসাড় হয়ে যাবে শরীরের সব অংশ।
সেই সুযোগটাকে কাজে লাগাতে হবে। রক্তারক্তি হলেই ঝামেলার। একটা ইঞ্জেকশন এনেছি শুধু সাথে আর ক্লোরোফরম মেশানো রুমাল।
ওর মত লোককে মারার জন্য এই ঢের। ওকে বিছানার মাথায় হেলান দিয়ে বসিয়ে দেই। ও শুধু দেখছে, কিছু করতে পারবেনা। চিৎকারও দিতে পারবেনা। শিকারকে এইভাবে মারাইতো বেশ উপভোগ্য। অসহায়ের মত তাকিয়ে থাকে। হাতের আঙুলগুলোকে শুধু নাড়াচ্ছে। কিন্ত এই অসাড়তা খানিক পরেই কেটে যাবে।
যা করার তাড়াতাড়ি করতে হবে। কিন্ত দূর্ভাগ্য!
পুশ করার আগেই মাথাটা প্রচন্ড আঘাতে কড়কড় করে ওঠে। মনে হচ্ছে সমস্ত হাড় ভেঙে গেছে। চোখের সামনে সর্ষেফুল দেখছি। অন্ধকারে তলিয়ে যাচ্ছে আমার চেতনা। অজ্ঞান হওয়ার আগে ওর হাতের আঙুলগুলো একটা সুইচে উপর দেখলাম।
* * *
চোখে জলের ছোঁয়া পেয়ে জ্ঞান ফিরে। চোখে পিটপিট করে তাকাই সামনে। প্রথমে বুঝতে পারলামনা কোথায় আছি? মাথাটা চিনচিন করে ওঠছে। হাত বুলাতে গিয়ে টের পেলাম হাত দুটো বাঁধা রয়েছে।
ইশ! মারাত্মক ধরনের ভুল হয়ে গেছে। শিকারের উত্তেজনায় দরজা আটকাতে ভুলে গিয়েছিলাম,
আর শালা ইমার্জেন্সি সুইচে চাপ দিয়ে ওর সহকর্মীদের এলার্ম করে ফেলেছিল।
নিজের উপর প্রচন্ড রাগ হচ্ছে। এইরকম বোকামী না করলেও পারতাম। সামনে তাকালাম।
জগলু বসে আছে সামনের একটা চেয়ারে। হাতে একটা গ্লক পিস্তল। আমিও একটা চেয়ারে বাধা। জগলুর চোখ দুটো শান্ত। শীতল চাহনি। বুকের ভিতর কাঁপন ধরিয়ে দেওয়ার মত। ঘরের অবস্থানটা বুঝতে চেষ্টা করলাম। পুরো ঘরটাই বিভিন্ন বক্সে আর বস্তায় ভরা। চারিদিকে আগাছোলা বক্স আর বস্তা। সম্ভবত গুদামঘর হবে। উপরে সিলিং ফ্যান ঝুলছে। আর একটা গোল বালব। আমার ডানসাইডে সুইচবোর্ড। বস্তা আর বাক্সগুলোর জন্য চারিদিকে আলো আধারি ভাব। শুধু ফাকা জায়গাটা আলোকিত।
জগলুর পিছনে দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে। সম্ভবত ওর বডিগার্ড। হাতে রিভলভার। আর ওদের পিছনে বন্ধ দরজা দরজার কাছে আরো দুজন।
তারমানে আমাকে বাদ দিয়ে মোট ছজন। আবার বিরক্ত হলাম! নিজের প্রতি। প্রথম শিকারে এসেই এইরকম প্যাঁচে পড়ে যাব বুঝতে পারিনি।
এখন এত্তগুলোকে সামলাও মি. জনি ড্যানিয়েল।
অবশ্য আত্মবিশ্বাস হারাইনি কারণ পা দুটো খোলা রয়েছে আমার।
জগলু খানিকটা ঝুকে আসল আমার উপর। মাথার চুলগুলো মুষ্টিতে ধরে মাথাটা উপরে তুলে জিজ্ঞেস করে,
“আমার পিছনে লাগার কারণ জানতে পারি, মি.জনি? আমি জবাব দেইনা। ও একটা ঘুষি লাগায় আমার গালে। কড়াৎ করে ওঠে ভেতরটা। মনে হয় দাত নড়ে গেছে। ঠোটের খাজ বেয়ে রক্ত গড়িয়ে পড়লো।
হঠাৎ আমি বেমানান প্রশ্ন জিজ্ঞেস করে বসলাম,
R u gay mr. Jaglu?
আমার প্রশ্নে খানিকটা থতমত খায়। রাগী চোখে থাকায় আমার দিকে। মুখের ভিতরে জমে যাওয়া রক্তগুলো থু থু দিয়ে ফেলে দিই।
সে খানিকটা হেসে বলে,
“আমি সমকামী হই আর না হই তাতে তোমার কী? আমার পেছনে লেগেছ কেন”? সেটাই বল।
“অনেক জানতে ইচ্ছে হচ্ছে, নিজে একজন সমকামী হয়ে যারা সমকামিতার অধিকার নিয়ে মাঠে নামে তাদের খুন কর কীভাবে?
ও প্রশ্নটা শুনে অবাক হয়। অবাক হওয়ারই কথা।
ও খানিকটা ভাবে। কার কথা বলছো? মিনহাজ এবং প্রণয় হত্যা?
আমি মাথা নেড়ে হ্যা বলি। ও গলা ফাটিয়ে হাসে।
একজন সমকামীদের জন্য এত দরদ?
আমি বলি, আমি শুধু ওদের স্বগোত্রীয়ই নই। ওদের ভাইও। তুমি আমার ভাইকে মেরেছো। আর তুমিও সমকামী। কীভাবে পারলে ওদের খুন করতে? তারাতো অপরাধের কিছু করেনি। শুধু অধিকারটা চেয়েছে। স্বাধীনভাবে বাচতে চেয়েছে এই স্বাধীন দেশে।
ও আবারও গলা ফাটিয়ে হাসে। তারপর বলে, আমি সমকামী নই। তোদের মত *দা খাওয়া পাবলিক নই আমি বুঝেছিস মাদারচুদ। তোরা সমাজের ভাইরাস।
আমিও গলা ফাটিয়ে হাসি। একটু আগে যে আমার সাথে বিছানায় শোতে চাইলো, তার মুখে এই কথা।
সে বলে, মেয়েদের পাইনা বলে তোদের মত হিজড়াদের *দি।
ওর কথা শুনে রক্ত মাথাচাড়া দিয়ে ওঠে।
ও আমার চেয়ারের হাতলের সাথে আমার হাত দুটো চেপে ধরে আমার উপর ঝুকে আসে। তারপর আমার ফু দিয়ে কপালে থাকা চুলগুলো সরিয়ে দেয়।
আমার পায়ের জুতোগুলোতে বুড়ো আঙুল দিয়ে চাপ দিলাম। গোড়া দিয়ে বের হয়ে এলো ধারাল ছুরি। সেফটি ওয়েপন। নাইফ সু। জাপানিজ ব্রান্ড। জুতোর নীচে ছুরি শোয়ানে থাকে।
বুড়ো আঙুলের নীচে একটা গোপন সুইচ আছে। সেখানে একবার চাপ দিলে গোড়ালী দিকে ছুরি বের হয়। আরেকবার দিলে শুয়ে যায়। পা টা উচু করে ছুড়ে দিলাম জগলুর দিকে। সোজা কপালে গিয়ে আঘাত করলো। ওর হাতের পিস্তলটা থেকে বুলেট বের হল। মেঝে ফুড়ে ভেতরে চলে গেল বুলেটটা। আমি পই করে চেয়ার সমেত উঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে আঘাত করলাম জগলুক। সে ছিটকে পড়লো পিছনে। ওর হাতের গ্লক পিস্তলটা সুইচবোর্ডের এদিকে ছিটকে যায়।ওর সঙীরা মূহুর্তের মধ্যে জগলুকে আহত দেখে হকচকিয়ে যায়। আমি চেয়ার পেছনে রেখে সুইচবোর্ডের দিকে এগিয়ে যাই। জগলু আদেশ দেয়,
“কিল হিম”
কিন্ত ততক্ষণে ঘরের আলো নিভে যায়। একটা গুলি এসে চেয়ারের ঘায়ে লাগে। মটমট শব্দে ফেটে যায় চেয়ারের মাঝখান। বুলেটের গরম হলকা পিঠে লাগে। উজ্জ্বল আলো থেকে হঠাৎ অন্ধকারে গেলে দেখা যায়না। সবকিছুই অন্ধকার ভাসে। তেমনি চারিদিকে ঘুটঘুটে অন্ধকারে ভরে গেল। আমি নীচু হয়ে ডানপাশের একটা বক্সের পিছনে কাভার নেই। পায়ের জুতার ছুরিটা দিয়ে এক হাতের সাহায্যে অন্য হাতের বাঁধন কেটে দেই।
অন্ধকার চোখে সয়ে আসে। হাতড়াতে হাতড়াতে হাতে গ্লক পিস্তলটা ঠেকে। ধড়ে যেন প্রাণ ফিরে এলো।
হঠাৎ ঘরের বালবটা জ্বলে ওঠলো। ওহ, শিট। আবার বোকামী। ঘরের বালবটা ফাটিয়ে দেয়া উচিত ছিল। বক্সের ফাক দিয়ে মাথা তুলে সোজা বালবের দিকে গুলি ছুড়ি। বালবটা ফেটে যায়। কিন্ত কোন কানফাটানো শব্দ করেনি। বাহ, তাহলে সাইলেন্সার লাগানো খেয়াল করিনি। সাথে সাথে একপশলা গুলি ছুড়ে আমার দিকে। কিন্ত সাথে সাথে আমি ডাইভ দিলাম। সামনের দিকে নয় ডানদিকে আরেকটা বাক্স ছিল সেদিকে।
“শূয়োরের বাচ্চাটা কোথায় গেল” জগলুর কন্ঠস্বর শুনতে পাই। কিন্ত অন্ধকার এবং নিরবতার চাদরে আচ্ছন্ন রুম। সব কিছু যেন স্থির হয়ে গেল।
কেউ নড়ছেনা। পিনপতন নীরবতা।
পরমূহুর্তে শুরু হয়ে গেল বুলেট বৃষ্টি। যে যেদিকে পারছে সেদিকেই গুলি ছুড়ছে।
বাক্সের উপর উকি দিয়ে দেখলাম। এলোপাথাড়ি গুলি ছুড়ছে। হঠাৎ করে দেখে মনে হবে ঝড়ের রাতে আকাশে বিজলী চমকাচ্ছে।
আমি একটা সুবিধামত জায়গায় বুক দিয়ে ক্রল করে এগিয়ে গেলাম। তারপর একটা করে টার্গেট লক্ষ্য করে গুলি ছুড়তে শুরু করলাম। বাক্স দিয়ে কাভার করে নিয়েছি। যত নিজেকে আড়াল করা যেতে পারে ততই মঙ্গল। প্রথমে টার্গেট করলাম দরজার ডান পাশে দাঁড়ানো ছেলেটাকে। সোজা মাথায় দিকে বুলেট ছুড়ে দিলাম। কোন শব্দ হলোনা। শুধু আগুনের ফুলকি দেখা দিলো পিস্তলের মাথায়।
অন্ধকারে ধপাস শব্দ হল। ডাইভ দিলাম অন্য বাক্সের দিকে। যেদিকে ছিলাম সেদিকে গুলিতে ঝাঁঝরা করে ফেলেছে হয়তো বাক্সটাকে।
তারপর বামপাশের ছেলেটার দিকে গুলি ছুড়ে অন্যদিকে ডাইভ দিলাম। আরেকবার ধপাস শব্দ হল।
আমার পিস্তলের ঝলসে ওঠা ফুলকিতে ওদের অবস্থান দেখে নিয়েছিলাম, আর মাত্র তিনজন।
জগলু, আর তার সাথের দুইজন। তিনজনের পিস্তলই
আমার যেখানে ছিলাম সেদিকে তাক করা ছিল।
এইবার বুঝে গেছে ওরা। এইভাবে অসতর্কভাবে বেহিসাবি গুলি চালালে হবেনা। অন্ধকার ঘরটিতে আবার ফিরে এলো নীরবতা আর অন্ধকারের ছায়া।
কী করা যায় ভাবতে থাকি। কীভাবে ওদের পিস্তল থেকে গুলি বের করা যায়।
অন্ধকারে হাতড়িয়ে একটা শক্তমতো জিনিস পেলাম সেটা অন্ধকারে অন্য দিকে ছুড়ে মারলাম।
তৎক্ষণাৎ গর্জে ওঠলো তাদের পিস্তল। আমার দিকে নয়, যেখানে জিনিসটা গিয়ে পড়েছে। এই সুযোগে আমি ওদের অবস্থান দেখে একজনের উপর গুলি চালিয়ে দিলাম। জগলু সাথে সাথেই আমার দিকে ফিরে ট্রিগার চেপে ধরলো।
উহ! বুলেটটা শীষ কেটে উড়ে গেলে মাথার উপর দিয়ে। যতই হোক, নিশানা আছে শালার। পুরনো খেলোয়াড় বলে কথা। বাক্সের আড়ালে থেকে বুক দিয়ে আবার ক্রল করে এগিয়ে গেলাম ওদের কাছাকাছি। জগলু আগের জায়গায় আবার গুলি চালালে দেখে নিলাম ওর বাকী একজন সহযোগীর অবস্থান। ক্যামেরার ফ্ল্যাশ জ্বলে ওঠলো যেন। সহযোগীর চেহারা বরাবর দুইবার চালালাম। সাথে সাথে জগলুর দিকেও দুদুবার ট্রিগার চেপে দিলাম। তারপর ডানে বামে আরো দুটো করে যাতে ডাইভ দিলেও মিস না হয়। কিন্ত সহযোগীর আর্তনাদ ভেসে আসলেও জগলুর আর্তনাদ পেলামনা।
জগলুর পিস্তল থেকে ফ্ল্যাশ জ্বলে ওঠলো আবার। এইবার আর মিস হবেনা। মুহুর্তেই আমার পিস্তলের ট্রিগার টেনে ধরলাম দুইবার, একবার হাতের পিস্তলটাকে লক্ষ্য করে, আরেক হাটুতে লক্ষ্য করে গুলি করলাম।
পরিচিত হাটুর হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার শব্দটা কানে আসে।
ওরে শালারে, আমার পা টা শেষ করে দিলো..
ধপ করে যায় জগলু। পুরো ঘর আবার নীরব অন্ধকার। বাতাস বারুদের গন্ধে ভারী হয়ে ওঠেছে।
সাথে আছে কাচা রক্তের ঘ্রাণ। বুক ভরে শ্বাস নেই।
শিকারের রক্তেই শিকারীর প্রশান্তি।
আস্তে আস্তে পা টিপে দরজার দিকে আগাই। নাহ ও শব্দ করেনা। একটানে দরজাটা খুলে ফেলি। একটা সিড়ি উপরে উঠে গেছে। তারমানে এটা আন্ডারগ্রাউন্ড রুম। ওহ, সুবিধাই হল। ভেতরের এই যুদ্ধের দামামা বাহিরে শোনা যায়নি তাহলে। পিছন ফিরলাম।
বাহিরের সামান্য আলোয় দেখতে পেলাম আমার স্বর্গোদ্যান। রক্তে লাল হয়ে আছে পুরো মেঝে, চারদিকে ছিটিয়ে আছে চারটে রক্তাক্ত লাশ। দরজার একপাশে হাটু নিয়ে কাতরাচ্ছে জগলু, আর আমার দিকে অসহায়ের দৃষ্টিপাত করছে।
ওর হাতের পিস্তলটা হাত তিনেক দূরে পড়ে আছে। সামান্য আলোতেও বোঝা যাচ্ছে, ও প্রচন্ড ভয়ে কুকড়ে যাচ্ছে। ওর পকেট থেকে মোবাইলফোন, আর অনান্য যাবতীয় বাজেয়াপ্ত করলাম।
তারপর একদলা থু থু ছিটিয়ে দিলাম জানোয়ারটার মুখে যে আমাদেরকে মানুষ হিসেবে মনে করেনা। এতক্ষনতো নিজেকে বাচানোর চেষ্টা করছিলাম। তারপর সেই পুরনো ক্রোধ ফিরে এলো। প্রতিজ্ঞা পূরণের জন্য ওর হাতের পিস্তলটা হাতে তুলে ওর দিকে তাক করলাম,
তারপর ট্রিগার চাপতে শুরু করলাম। কতবার চেপেছি খেয়াল নেই। শুধু রক্তের ছিটাগুলো মুখে এসে পড়ছিলো, সেগুলো অনুভব করেছি। যখন খেয়াল হল ততক্ষণে জগলুর মুখ চেনার আর উপায় নেই।
তারপর আন্ডারগ্রাউন্ডের দরজাটা বন্ধ করে উপরে উঠে দিলাম, রাত প্রায় বারোটা।
ওর ঘরের ল্যাপটপ আর আমার পছন্দের দুটো গ্লক পিস্তল নিয়ে বাথ্রুমের পাইপ বেয়ে রাস্তায় নেমে আসলাম। ঠিক তখনি জগলুর ফোনটা বেজে ওঠলো।
বস কল করেছে। ওরও বস রয়েছে?
কল রিসিভ করলাম……
_হ্যালো জগলু! নতুন একজনকে ওপারে পাঠিয়ে দিয়ে হবে। নাম: ভ্যালেন্টাইন সৈকত। অনলাইনে সমকামীদের নিয়ে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। আমি ওর ছবি ঠিকানা তোমাকে মেইল করছি।
যাক বাবা, আমিতো ভেবেছিলাম আমার প্রতিজ্ঞা শেষ। কিন্ত পালের গোদাতো রয়েই গেলো দেখছি।
নতুন দুপেয়ে শিকারের সন্ধান পেলাম আবার। তবে আরেকটা শিকারের গন্ধ পেয়ে মনটা ভালো হয়ে ওঠলো। প্রতিজ্ঞা পূরণ শেষ। এইবার শুরু হবে আমার শিকারী জীবন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.