যৌনতা ও প্রেমের উপাখ্যান

 রোহিত রায়

“একশো! একশো এক! নে দাদাভাই থাম এবার, তুই অলরেডী একশো বিট করে ফেলেছিস। ” ইশান বিরক্তি প্রকাশ করল।
ডিপ্স মারছিলো পরাগ। শক্তপোক্ত শরীরটা চুইয়ে দেহের শেষবিন্দু ঘামটা যেন মাটির ওপর আছাড় খেলো। পরাগ উঠে দাঁড়িয়ে নিজের ভাইয়ের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে ” গান্ডু! শালা আমি ডিপ্স মারতে পারছি। আর তুমি বসে বসে গুনতে পারছ না? ঢ্যামনা। “
ঠিক ধরেছেন পরাগ নিজের ব্যামের ফ্রাস্টেশনটা ভাইয়ের ওপর বার করছে। পরাগ প্রচন্ড ফিটনেস ফ্রিক।আর এটা ওর ব্যায়ামের সময়। তাই পরাগ কে এখন আর বিরক্ত করছিনা। তাহলে কাকে নিয়ে গল্প শুরু করি?!
আসলে গল্পের দুটো দিক হয় এক.যেটা আমরা দেখতে পাই। আর অন্যটা যেটা অন্য দিকেই ঘটে। তাই অন্যদিক তুলে ধরা যাক কেমন।
অন্যদিক(১)… হাওয়া খুব ভালো লাগে আমার। হাওয়া আপনাকে বুঝিয়ে দেয় জীবন এলোমেলো হতে চলেছে। তীব্র হাওয়ার ব্যপারটা ঠিক বলতে পারব না। তবে এই গাড়ীর জানালার বাইরের মৃদু হাওয়া এত….জীবন অদ্ভূত সেটা গাড়ীতে বসে উপলব্ধি করা যায়। দুরকম ভাবে। যদি মনে করা যায় জীবন স্থির আর বাকি সবাই আপনাকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছে। আর অন্যদিক সবকিছু স্থির আর আপনি সবাইকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছেন। উপলব্ধির উপর নির্ভর করে। স্থান-কাল-পাত্র নির্ভর করে।
-” কি হলো বাবু কোনো কথা বলছিস না শরীর ঠিক আছে তো। ” বাবার কথায় আমার ভাবনাটা কেটে গেছিলো। ” cheer up my boy ‘if you change nothing then nothing will be changed ‘ আমরা কিন্তু সব কিছু নতুন করে শুরু করতে যাচ্ছি। তাই be strong সোহান। ” বাবা জানে আমি খুব নরম স্বভাবের ছেলে। একটু তে ভেঙ্গে পড়ি, ইমোশনাল হয়ে পড়ি। তাই আমার মনকে শক্ত করতে বাবা প্যাম্পার করতেই থাকে। মা কিছুমাস আগে মারা গেছে। অথচ আমি এক ফোটা চোখের জল ফেলিনি। বাবা অবাক হয়েছিলো। আমাকে কত বার করে বলেছিলো কাঁদ বাবু কাঁদ। কিন্তু কাঁদিনি আমি সেদিন। সেদিন থেকে নিজেকে খুব শক্ত মনে হচ্ছে আমার। নিজের মধ্যেই নিজে আমি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কারোর সামনে আর কোনোদিন দুর্বল হব না। আমি বাবাকে বললাম ” no its ok dad. I’m fine actually! আমরা কতক্ষনে পৌছাব!”
-” আর পাঁচ দশ মিনিটে পৌছে যাব। দেখবি কোলকাতা শহর তোকে নতুন করে ভালো লাগতে শেখাবে। গান শুনিস নি সেই ‘ প্রাক্তন ‘ ফিল্মের।
আমার খুব ভালো লেগেছিলো প্রাক্তন ফিল্ম। বাবা যে গানের কথা বলছে সেটা হঠাৎ এক দুই লাইন মনে পড়ল। ” কোলকাতা! তুমিও হেটে দেখো কোলকাতা।।
তুমিও ঘুরে দেখো কোলকাতা।
তুমিও ভেবে দেখো যাবে কি না যাবে আমার সাথে…. “
বাবা লুকিং গ্লাস দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বললল “কতদিন পর গান গাইলি বলত।? “
আমার হাসি পেল বেস। সত্যি কোলকাতার নস্টালজিয়ার প্রলেপ কি আমার গায়ে লেগেই গেল শেষ পর্যন্ত।! কিন্তু নৈহাটিতে কত কিছু ফেলে আসলাম যে! আমার বন্ধু বান্ধব। আমার সেই…. না না। আমি আর সে সব কথা মনে করতে চাই না।
সোহান মাথাটাকে এলিয়ে দেয় পিছনের সিটে। চোখ টা বুজে আসছে। দূরে দেখা যাচ্ছে ন্যাশনাল হাইওয়ের অনন্ত প্রসারিত পথ। এখোনো যে অনেক বাকী। সবে তো শুরু।
গাড়ী ছুটছে। যশোর রোডের সিগ্নাল ক্রশ করছে। আর গাড়ি ছুটছে।
(পরাগের দিক থেকে…… )
” ওয়ে পরাগ! পরাগ। “
পরাগ সবে হস্তমৈথুন শুরু করবে বলে নিজের লিঙ্গ নিয়ে নাড়া চাড়া শুরু করেছিলো তার মধ্যে নীচ দিয়ে চিৎকার ভেসে আসল। পরাগ জাঙ্গিয়া টা উঠিয়ে নিয়ে খালি গায়ে বেরিয়ে দোতালার বারান্দায় এসে দাড়িয়েছে। দেখে নীচে ওর বন্ধুরা দাঁড়িয়ে আছে। মুখটা তিতো হয়ে উঠলো। ‘শালা সুখ কোথায় ‘ মনে আউড়ে নিলো একবার। তারপর বলল ” কি রে কার বোনকে প্রেগ্নেন্ট করলাম আবাল গুলো। ভর দুপুরে এত চেচামেচি। “
পরাগের এহেন আচরনে সবাই অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে। ওই পাশের ফ্ল্যাটের মন্ডল দাদু একবার পরাগের দিকে তাকালো। দেখা বোঝা যায় পরাগের এই জাঙ্গিয়া পরা সপ্রতিভ চেহারা। আর ভালো ভাবে বলতে গেলে হট এন্ড সেক্সি চেহারা ওনার ঠিক সইল না। মুখে যেন কেউ উচ্ছে থেতো করে দিয়েছে। পরাগ একবার সেই দিকে তাকিয়ে ওনার উদ্দেশ্যে বলল ” কি দাদু তোমার নাতনি সেই যে আমার ফিজিক্সের খাতা নিয়ে গেলো ফেরৎ দেওয়ার আর নাম নেই। “
“আরে ওই পরাগ! “
-” দাড়া বাড়া আসছি। যদি প্রয়োজনীয় কথা না হয় রে। এক একটা পিছন না মেরেছি। ” এবার অন্য দিকে তাকিয়ে ” ও দাদু ত্রিধা কে রাতে পাঠিয়ে দিয়ো। আরে আরে খাতাটা দিয়ে যাবে। তুমিও না দাদু এই বয়সেও রস গেলো না তোমার। ” মৃদু হেসে বেরিয়ে গেলো।
এই one side paralysed লোকটা কে যে উত্তেজিত করল পরাগ। তা শুধুমাত্র যাতে ওই পঙ্গু লোকটা রেগেমেগে অন্তত রিয়্যাক্ট করে।এতে মন্ডল দাদুর প্যারালাইসড অংশ সেড়েও যেতে পারে। তাই যত টা খারাপ ছেলে আমাকে আপনারা ভাবছেন থুড়ি পরাগকে ততটা আমি থুড়ি পরাগ না।
পরাগ নীচে আসে।
– ” বলবে কি হয়েছে। “
একজন বলল ” ভাই কারা যেন হঠাৎ আশিস কে পিছন থেকে বস্তা মুড়ে রাম্পাট কেলিয়েছে। “
” কি” পরাগ উত্তেজিত হয়ে গেলো ” কোথায় ও এখন। “
– ” বাড়ীতে”
-“শালা চেহারাও দেখেনি! কারা মারল। শালা ধনে লিফ্লেট টানিয়ে হেটে বেড়াবো নাকি যে, কে মেরেছিস আমাদের বন্ধুকে তার মা-মাসি…… “
-” ওরে এদিক ওদিক তাকিয়ে কথা বল ভাই। মুখে একটু রেড সিগ্ন্যাল দে ভাই। ” পাশ থেকে রোহণ দা যাচ্ছিলো পরাগের কথা শুনে আর না বলে থাকতে পারল না।
পরাগ কিছুক্ষন চুপচাপ ছিলো তারপর ভেবে নিয়ে বলল ” আরে বোলো না দাদা। কোথা থেকে সব লাথখোর মাদারচোদের দল এসে আমাদের বন্ধুকে নাকি হেব্বি ধুয়ে দিয়েছে। এসব সহ্য হয়? “
রোহন বাইক রেখে বলল – ” তা! তোরা এখানে কি করছিস? যা দেখা করে আয়। “
পরাগ হেসে ” দাদা বলছি আমরা তিন জন আছি। যদি তোমার বাইকটা দাও সুবিধে হয়। “
-” আচ্ছা যা যা নিয়ে যা। কিন্তু সাবধানে। বাইকের কিছু হলে আসে যায় না। তোর কিছু হলে জেঠিমা আমায় ধুয়ে দেবে। “
-” আরে না না । কিছু হবে না । “
বাইকে করে বেরিয়ে গেল ওরা তিন জন।
বাইকে চলা কালীন পরাগ জিজ্ঞেস করল। ” ভাই কেস টা কি এমনি এমনি তো ক্যালায় না মানুষ। ওকে কিছু জিজ্ঞেস করেছিস। “
মাঝের ছেলেটা বলল ” ভাই! মেয়ে কেস আমি নিশ্চিত। “
পরাগ হেসে বলল “ওই জন্য শালা মেয়েদের চক্কর করতে নেই। মেয়েদের চক্কর করেছো তো সেধে বাঁশ নিয়েছো।
বাইক যখন ধর্মতলা মোড় ক্রস করছে তখন একটা গাড়ী মারত্বক ভাবে ওদের বাইকের গা ঘেষে যাচ্ছে। পরাগ বাইকের স্পীড কমিয়ে কোনোরকম ভাবে হ্যান্ডেল্টাকে বাদিকে ডালহৌসির দিকে মুখ করল।ওদের বাইকের সাইলেন্সটা গাড়ীটা ডিকিতে ঘষতে ঘষতে আগুনের ফুলকি মারতে মারতে যাচ্ছিলো। কিন্তু পরাগের হাত বেহাত ভালো হওয়ায় দুর্ঘটনা সেরকমভাবে হলোনা। গাড়ীটা যখন হাত দশেক অতিক্রম করেছে পরাগ বাইক দাড় করালো। পিছন দিকে তাকিয়ে দেখল। গাড়ীর উইন্ডো দিয়ে একটা কপালের উপর দিয়ে কিছু চুল ঝুলে পড়েছে। চোখে চশমা। দুধ সাদা রং এর কেউ একজন তাকিয়ে রয়েছে হা করে।
পরাগ উত্তেজিত হয়ে চিৎকার করল ” রাস্তা বেরোস ঢ্যামনামি করার জন্য। গান্ডুগুলো। পেলে না পিছন চু….
(সোহানের দিক থেকে….)
সোহান যেন হাফ ছেড়ে বাচল। মনে মনে সম্ভাব্য অ্যাক্সিডেন্টটার সার্থক পরিনতি কি হতে পারত তা কল্পনা করতে বিশেষ অসুবিধে হলোনা ওর। এরা বাইক চালাতে বেরোয় না বডি শো করতে। তবে সত্যি সত্যি যে ছেলেটা বাইক চালাচ্ছিলো তাকে দেখতে যতটা সুন্দর, মুখের ভাষা ততটাই বিশ্রী। ওযে কোনোদিন ওরকমভাবে রাস্তার মাঝে বসে গালাগালি দেবে ভাবতেই পারে না।
-” এই হচ্ছে কোলকাতার সবচাইতে বাজে দিক। যখন তখন। যখন তখন অ্যাক্সিডেন্ট। এখানকার স্কুলে যাতায়াত শুরুহবে সাবধানে পা ফেলবি কেমন।! ” বাবা ভ্রু দুটো ফার্স্ট ব্র্যাকেটের মত লাগছিলো।
সোহান বলল ” আমি কি কাল জয়েন্ট করছি ড্যাড?”
– ” হ্যা। কাল রাস্তা চিনিয়ে দেব। বেশী দূর না নতূন ফ্ল্যাট থেকে মিনিট দশেকের হাটা। “
সোহান জানলার বাইরে তাকালো। আচ্ছা নৈহাটিতে তাপন কি করছে এখন। আজকেও কি ওরা পুরোনো বাগানে গাঁজা টানছে। নাকি প্রতিদিন কার মত ক্লাবের মাঠে উইকেট পুতেছে। যদিও আমি ওদের সাথে কোনোদিনই খেলিনি কারন মধুকাননের পাশে যে সুন্দর জলাশয় টা ছিলো। ওর ওই পাড়ে নীলচে মাছরাঙা গাছের আড়াল দিয়ে এসে হঠাৎ করে পুকুরে নেমে মাছ ধরে আবার অদৃশ্য হয়ে যেত। সে কোথায় যেত? এই রহস্য সোহানের জীবনে বেশী অ্যাডভেঞ্চার ছিলো। অসিন একবার বলেছিলো ” the kingfisher has the dream of sex with nature… “
সোহান জিজ্ঞেস করে ” কি বললি? ঠিক বুঝলাম না। “
অসিন বলেছিলো ” এখন বুঝবি না। প্রেমে পড়লে বুঝবি। “
প্রেমে কি কোনোদিন পড়েনি সোহান? হ্যা পড়েছে। তবে সে তার প্রেমকে দেখেছে এক ঝলক। আর কোনোদিন তাকে দেখতে পারবে কিনা জানেনা। নৈহাটিতে পড়েছিলো প্রেমে? কে জানে!
সোহান দূরে দেখতে পেল। একরাশ ধূলো কেউ যেন মুঠো বন্দি করে রেখেছিলো, সেই মুঠোকে যখন খুলে দেওয়া হলো। কিছুটা ধূলো উড়ে গেলে যেমন হয়। সোহানের জীবনের কিছুটা অংশও যেন বাদ পড়ে গেলো। তাহলে কি বাকী জীবন ধূলো হয়েই থাকল? নাকি কেউ তাতে জল দিয়ে স্বপ্ন তৈরীর উপাদান তৈরী করবে। তাহলে সেই বাড়ীকে কি নাম দেওয়া যায় ধূলোর বাড়ী। যার বাস্তবে কোনো অস্তিত্ব নেই।
সোহান ভাবে তার কি দর্শন নেওয়া উচিৎ ছিলো। খালি খালি সায়েন্স নিয়ে পড়তে গেল ও।
(পরাগের দিক থেকে….)
পরাগ ওর বন্ধুকে দেখে বাড়ীর বাইরে এসে দাঁড়ায়। বাকী দুজন এখনো ভিতরে আছে। ওরা থাকবে কিছুক্ষন। আসলে পরাগকে কারোর মা বাবাই ঠিক পছন্দ করে না। কি জন্য পছন্দ করে না কে জানে। বা কানে দুল আছে তাই? হাতে ট্যাটু আছে তাই।? প্যান্টের কোমর অনেক নীচে তাই? নাকি গালাগালি দেয় তাই? ও দেখেই বুঝেছে আশিসের বাবা মা ওকে ভালো চোখে দেখছে না। কিন্তু ওর তো এতে দোষ নেই ও তো এরকমই। ওকে কি কেউ ঠিক এই ভাবেই মেনে নিতে পারবে না। আচ্ছা জীবনে তো এত কোনোদিন ভাবে নি ও। ও এবার মনে পড়েছে, আজকে খ্যাচা হয়নি তো। ওই জন্য এত জটিল কথা ভাবছে ও। ধূর বাড়ী গিয়ে মিয়া খালিফার পানু আর নিজের জেনারেটার। কাল থেকে আবার স্কুল শুরু।

কোলকাতার রন্ধ্রে রন্ধ্রে লুকিয়ে আছে ঐতিহ্যের ছাপ। যেমন উত্তর কোলকাতার বা ধরা যাক শঙ্কর ঘোষ লেন, ঢাকুরিয়া, ভবানীপুর এই পরিধি গুলোর কোনায় কোনায় যে ড্যাম্প পড়া গন্ধ বেরোয়, তা যদি ঠিক মত সিগারেটেত ধোয়ার মত ফুসফুস অবধি নেওয়া যায়। তাহলে রাজা রামমোহন রায় বা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর এর শেষ নিশ্বাস এর স্বাদ হয়তো পাওয়া যাবে। আবার যদি রবীন্দ্রসদন, নন্দন থেকে শুরু করা যায় তবে চোখে পড়বে আধুনিকতারর ছাপ, রং বাহারি জামা কাপড়, আধুনিকমনস্ক নর নারী। তবে কোলকাতা তাদের জন্য নমনীয় যাদের পকেটে হিটার লাগানো। কারন কোলকাতা একটা নিয়ম খুব মেনে চলে ‘ফেল কড়ি মাখো তেল ‘।
তেমনি আধুনিক কোলকাতাকে দেখতে হলে যেতে হবে দক্ষিণ কোলকাতায়। সেখানেই সবচেয়ে আধুনিক, ভালো করে বলা যেতে পারে উচ্চবিত্ত দের তৈরী স্কুল আছে….. যেখানে প্রতিপদে মেইন্টেন করতে হয় স্ট্যাটাস। কিন্তু এই সব স্ট্যাটাসের উর্দ্ধে হলো পরাগ। ওর স্কুল ড্রেস নিজের মত করেই বানানো খাপানো প্যান্ট, জামা যাতে ওর চওড়া মেদমুক্ত চেহারার প্রতিটা পেশী খাজ বোঝা যায়। গায়ের রং টা শ্যামিক হলেও খুব সপ্রতিভ। যে মেয়ে একবার ওর দিকে তাকাবে আরো একবার ফিরে তাকাতে বাধ্য।
এরকমই পরাগ আর ওর বন্ধুরা স্কুলের বা সাইডের বাগানে বসেছিলো। পরাগ এক পা তুলে হাটুর ওপর হাত রেখে বসে ছিলো। এই অবস্থায় যদি কোনো ম্যাম ওকে দেখত তাহলে খুব অপ্রতিভ পরিস্থিতির সম্মুখীন হত। কারন প্যান্টের ভাজ গূলো ওর জাঙ্গিয়া দিয়ে আবৃত লিঙ্গের ফোলা ভাব টাকে বেশী পরিমানে এক্সপোস করে।
পরাগ এমন ভাবে হাসল যেন কেউ ওকে একটা অবিশ্বাস্য হাসির কথা শুনিয়েছে। বলল ” শালা এবার কেমিস্ট্রিটা হেব্বী ঝোলাবে ভাই। ফেল না করে যাই। বাড়া আমার বাবাটাও মহা খচ্চর। লাথ মেরে বার করে দেবে। ” বলে জোরে জোরে হেসে নিলো। আজকের ওয়েদার বড্ড ভালো লাগছে পরাগের। কেমন কেমন যেন আজ সবকিছুই যেন নতুন করে শুরু হতে চলেছে। তাই আর সকাল সকাল নিজের বাপকে আর গালাগালি দিলো না ও। পাশ থেকে একজন ওর bulge ধরে বলল ” বাড়ীতে বসে সারাদিন তো মুটো মারতেই থাকিস। মারতে মারতে বিচির ঝোলা এমন বাড়িয়েছিস যে, কেমিস্ট্রিও ঝুলাচ্ছে। “
পাশ থেকে আর একজন বলল ” ভাই বাচতে চাইলে পরাগের ঝোলা ছাড়, নাহলে তোকে ঝুলিয়ে এমন মারা মারবে। তোর বিচির ঝোলা খুজে পাবি না। “
পরাগ ওর লিঙ্গের ওপর থেকে তার হাত সরিয়ে বলল ” একদম ” বলে পাসের জনের সাথে হাত মিলিয়ে নিল।
যে হাত দিয়েছিলো তার নাম কৌনিশ। সে ব্যঙ্গ করে হেসে বলল ” হ্যা হ্যা বাড়া জানা আছে। পরাগ নাহয় মেয়েদের সাথে সেক্স করেছে। যতই ও ছেলেদের বলুক পোদ মেরে রেখে দেব বা পিছন গরম করব, ও কোনোদিন পারবে না। মেয়েবাজী করা সহজ ভাই। ভালো একটা হোমো খুজে তার সাথে ছেলেবাজী অত সহজ না। “
পরাগ হাসে ” কেন বাড়া আমার মাথায় ‘গে’ লেখা আছে নাকি যে আমি ছেলেদের সাথে করব। “
– ” নে শুকিয়ে গেল তো। শো হোমোবাজী করতে ‘গে’ হওয়া লাগে না বাড়া। কেন ‘Desi Boys’ ফিল্ম টা দেখিস নি। অক্ষয় কুমার তো টাকার জন্য একটা ছেলেকে দিলো। ও কি গে হয়ে গেছে। “
– ” তোর বোধ হয় আমার সাথে করার হেব্বি ইচ্ছা হয়েছে। ” এই বলে পরাগ কৌনিশের পাছায় হাত রেখে বলল ” চল! বাথরুম ফাকা আছে। আমি বিভিন্ন স্টাইলে দিয়ে পারি। খুশী করে দেব তোকে একদম।
পিছন থেকে পরাগের হাত সরিয়ে নিয়ে কৌনিশ বলল ” ওয়ে ছাড় বে। বললাম তো দম থাকলে একটা হোমো ধরে দেখা। “
অন্য একজন হেসে পাশের জন কে বলল ” কৌনিশের গাঢ়ে পরাগের হাত পড়তেই গরম হয়ে গেছে। তাই আর মাল রিস্ক নিলো না। “
পরাগ হেসে ওদের দিকে তাকিয়ে সমর্থনসূচক ভাবে হেসে চোখ মারে। আর বলে ” ঠিক আছে ভাই চ্যালেঞ্জ এক্সেপ্টেড। আজকের মধ্যেই একটা ছেলেকে যদি না চুদেছি তবে আমিও পরাগ না। “
বলতে বলতেই একটা গাড়ী তীব্র হর্ণ বাজিয়ে স্কুলের মধ্যে ঢুকছে।
পরাগের চোখ পিটপিট করে উঠলো। মনে হলো কেউ যেন ওর গায়ে ঠান্ডা সূচ ফুটিয়ে দিয়েছে। রক্তে শিহরণ বয়ে গেল। হঠাৎ কালকের অ্যাক্সিডেন্টের কথা মনে পড়ল। এটাই সেই গাড়ী টা না? হ্যা এতটা ভুলতো আমার হবে না। কিন্তু গাড়ীটায় তো…….হ্যা তাইতো পরাগ খেয়াল করল সেই স্ক্র‍্যাচ টা আছে। তাহলে এই মাল সেই মাল।
পরাগ দেখতে পায় গাড়ীর ড্রাইভিং সিট থেকে নেমে আসে এক ভদ্রলোক। সে এসে এই পাশের দরজাটা খুলে দেয়। তখন ওরা দেখে ঝাচকচকে বুট। তারপর পুরো শরীর। পরাগের মনে পড়ে কাল তো এই জানলার বাইরে তাকিয়ে ছিলো। হ্যা সেই চশমা। সেই বড়ো বড়ো চোখ আর কপালের ওপর আছড়ে পড়া চুল। সে ওই ভদ্রলোকের সাথে প্রিন্সিপালের ঘরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। কৌনিশ পাশ থেকে বলল ” উরি! শালা মালটা কোমর নাড়াচ্ছে দেখেছিস। পুরো দেবদাসের পারো। “
পরাগ এবার খেয়াল করল হ্যা তাই তো ছেলেটা চালচলন ঠিক না। পাছা নাচাতে নাচাতে যাচ্ছে। মুখে তো শালা দাড়ি গোফের নাম নেই। আমার তো দাড়িই সামলাতে পারছি না। ধনের গোড়ার লোম তো বাদই দিলাম। হাতে একটা বই। কে শালা এটা।?
তবে তাই হোক….. ” শুনো ভাই লোগ ” পরাগ ডাকে সবাইকে। তারপর সেই নবাগত ছেলেটার দিকে আঙ্গুল নির্দেশ করে বলে ” ইয়ে রাহি তুম লোগোকি হোমো ভাবি। আজ হি ইসকি লুঙ্গা। ওয়াদা রাহা।……. তবে তোরাও একটু হেল্প করিস তোদের ও ভাগ দেব। “
স্কুলের ঘন্টা পড়ল। অতএব ক্লাস শুরু হবে। পরাগ মাঝে মাঝে ভাবে শুধু মাত্র এই ফিজিক্স, আর কম্পিউটার সায়েন্স টা ভালো লাগে বলে কেমিস্ট্রি আর ম্যাথ টাও নিতে হলো। না ম্যাথ কঠিন লাগে না ওর। বরং এতটাই সহজ যে এখন অসহ্য লাগে। আর কেমিস্ট্রি সেটা এতটাই কঠিন যা মাথার দশ হাত ওপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। আর এখন সেই কেমিস্ট্রি ক্লাস চলছে। পরাগ বাইরের দিকে তাকিয়ে ছিলো। এখান থেকে দেখা যায় দূরে কিছু রাস্তার ছেলেরা বটতলায় বসে জুয়া খেলছে। আর ও বসে বালের কেমিস্ট্রি ক্লাস করছে। আচ্ছা ও কি আদৌ এই সাজানো গোছানো পরিবেশের জন্য তৈরী কি? ওর তো এসব ভালোই লাগে না। তার চেয়ে বরং কারোর পকেট মেরে বেশ দৌড় দিতো। প্রতিদিন রাত কাটতো ডোংরিতে। ওখানে বেশ চার পাঁচটা মাগিকে ধরে লাগাতো। হাতে বন্দুক থাকত। সেদিন তো একজনের মকেট মেরেই দিলো। উমা সে লোকের কোনো হুশ নেই। পরাগ বরং সেই লোকটাকে ডেকে মানিব্যাগ টা দিয়ে বলল ” মানিব্যাগের দিকে খেয়াল রাখুন একটু। নাহলে তো”
-” ওহ sorry sorry…. পড়ে গেলো কখোন খেয়াল করিনি। “
পরাগ মনে মনে ভাবে যাহ শালা চুরি করলাম টের পায়নি। কোলকাতার লোকেদের শালা কিসসু হবে না। ল্যাধ খেয়ে খেয়েই মরবে।”
–” students here is the new student…. name Sohan Basu ” চিল্লিয়ে উঠলেন কেমিস্ট্রি টিচার। পরাগ মুখটা এমন করল যেন যেন কেউ ওর গালে চিরতা,নিম পাতা আর কালো মেঘের পাতার রস একসাথে গুলিয়ে দিয়েছে। ও তাকালো সেই দিকে। তাকিয়ে অবাক। সিজেনের মাঝখানে এন্ট্রি সেই ছেলেটা, কোমর ব্যাকানো। পরাগ একবার কৌনিশের দিকে তাকালো দেখল তাকিয়ে মাথা নাড়াচ্ছে। মানে ‘হচ্ছে হচ্ছে ‘।
টীচার বললেন ” সোহান এখোনো সিট পায়নি। তাই যে সিঙ্গেল সিটে আছো সে যায়গা দিয়ে দাও। “
পরাগ জানে ওর সিঙ্গেল সিট। ও খুব নম্রভাবে যায়গা ছেড়ে ঊঠলো। হেসে বলল ” come on sohan…. come here…. “
কি হলো? কেন হলো? কিভাবে হলো? পরাগ নিজের ইচ্ছায় যায়গা ছাড়লো। স্যার হতবাক। স্টুডেন্টস হতবাক। মানে যে পরাগ গায়ে ভুল করে হাত লেগে গেলে হাত মুচকে ভেঙ্গে দেয়। সেই পরাগ নিজের ইচ্ছায় এমন ভাবে ডাকছে। যেন কতদিনের বন্ধুত্ব।
সোহান এগিয়ে আসে। এসে বসে পড়ে পাশে। বসতে বসতেই ঘন্ট পড়ে গেল। এরপর ফিজিক্স ক্লাস তাই সবাই বেরিয়ে গেল। কিন্তু সোহান জানে না কারন ওর কাছে রুটিন নেই। পরাগ সঙ্গে সঙ্গে হাই বেঞ্চে উঠে বসল। বসল এমন ভাবে যে সোহানের মুখটা পরাগের দুই হাটুর মাঝে প্রায় ওর লিঙ্গের কাছাকাছি। পরাগের তিন বন্ধুও ছুটে আসে। ঘটনা আকস্মিকতায় সোহান ঘাবড়ে গেলো। পরাগ সঙ্গে সঙ্গে ওর প্যান্টের ওপর দিয়ে সোহানের লিঙ্গ মুচড়ে ধরল। সোহান আর্তনাদ করে উঠলো। সোহানের মুখের ওপর ওর হাত রেখে বলে ” সসসসসস একদম চিল্লাবি না শালা। না হলে এমন চাপ দেব না বিচি মিচি গলে জল হয়ে যাবে। ” বলে আরো চাপ বাড়িয়ে দিলো। মুখ চাপা অবস্থায় সোহান চেচাতে পারছে না। পা দাপাচ্ছে। আর চোখ থেকে বেরিয়ে আসছে জল। পরাগ দেখতে পাচ্ছে সোহানের চোখমুখ লাল হয়ে যাচ্ছে। পরাগ হাসছে। ওকে দেখলে বোঝা যেত কতটা নির্মম হওয়া যায়। সেটা যেন ও সোহানের চোখে দেখতে পায়।
পাশ থেকে কৌনিশ বলে ” এ পরাগ লাগছে মালটার ছেড়ে দে। বিচির ব্যাথা বুঝিস তো। “
পরাগ হাসে আরো জোরে চেপে ধরে। বলে ” শোন বে শালা হোমো যদি চাস ছেড়ে দেই তোকে। তবে আমি যা বলব করতে হবে। বুঝলি।? “
সোহান আর পারছিলো না ও মাথা নাড়িয়ে সম্মতি জানায়। সোহান ছেড়ে দেয়। কিন্তু মুখ থেকে হাত সরায় নি। সোহানের চোখের জলে ওর হাতের পাতা ভিজে যাচ্ছে। পরাগ বলল ” এ বাড়া হোমো না মেয়ে। কেদেই যাচ্ছে। বলে সোহানের মুখটা ধরে ওর প্যান্টের চেনের দিকে নিয়ে গেল। সোহান আবার ছটফট করছে। পরাগ কৌনিশকে বলল ” আমার প্যান্টের চেইন টা খোল তো। ” তাই করল। সোহান মুখে আওয়াজ করছিলো হয়তো ছেড়ে দাও। ছেড়ে দাও বলেই। জাঙ্গিয়ার ওপরেই ঠেসে ধরল ওর মুখটা। পরাগ হেসে বলল ” চোষ। চাট বাড়া। ” না সোহান মুখ খোলে নি। স্কুলে প্রথমদিন এসে ও আদর যত্ন পাবে হয়তো আশা করেনি। তাই ওই প্রবল যন্ত্রনাময় মূহুর্তেও ও হয়তো শেষ রক্ষা করছিলো নিজেকে। তবে পরাগ ও হয়তো প্রথমদিন ওর দানবীয় রূপ আর জাঙ্গিয়ার বাইরে বার করেনি। হয়তো দয়া। আর না হলে এর থেকেও তীব্র যন্ত্রনা অপেক্ষা করছে সোহানের জন্য।
পরাগ দেখল ওর লিঙ্গ তুঙ্গে ও বাইরে বার করার জন্য যেই হাত দিয়েছে। ঠিক তখনি জুতোর আওয়াজ শোনা গেল। ও বেঞ্চ থেকে নেমে চেন আটকে বলল ” আজ হলো না। কিন্তু তোকে দেখে নেব। লাস্ট পিরিয়ডে দেখে নেব তোকে। ” ওরা কয়েকজন হাসাহাসি করতে করতে বেরিয়ে গেল। কেউ পিছনে ফিরে তাকালো না যে। একজন নিজের যন্ত্রনা আর সহ্য করতে না পেরে ককিয়ে ককিয়ে কাদছে।
পরাগ বাইরে এসে বলল ” দেখ শালা প্রথম দিনেই মুখে ঠেকিয়ে দিয়েছি। সাহস আছে তোদের।? ” হাসে ও।
কৌনিশ বলল -” থাক ছেড়ে দে পরাগ। সোহান নিতে পারবে তোর জিপ খোলার সময় তো বুঝলাম তোর সাইজ। ছেড়েদে খুন টুন হয়ে যাবে, একে বারেই নরম ছেলে “
– ” না! না! একবার যখন আমি চ্যালেঞ্জ নিয়ে পুরোন করব।তোদের কাজ হবে ছুটির সময় ওকে গোডাউনে নিয়ে আসা। ওদিকে কেউ যায় না। ফেলে মারব আজকে। শালা সেই মজা পেয়ে গেছি।”
– ” ভাই ভেবে চিনতে।!! কেমন? ছেলেটাকে দেখে বোঝা গেল খুব নরম সরম। “
পরাগ আড় চোখে তাকিয়ে একবার হেসে ব্যঙ্গ করে বলল ” কেন শালা? এত প্রেম মাড়াচ্ছিস হঠাৎ, কি ব্যাপার, তুইও হোমো হয়ে গেলি। “
গোডাউনের ফ্লোরে আছাড় ফেলে দিলো পরাগ সোহানকে। সোহান রিতীমত কাদছে। হ্যা কথা মত মৈনাক আর কৌনিশ ধরে নিয়ে এসেছিলো সোহানকে। পরাগ হিংস্র পশুর মত ওকে মাটির সাথে চেপে ধরেছিলো। একসময় সোহানের প্যাণ্ট খুলে যায়। পরাগ সোহানের দেহে প্রবিষ্ট হয়। রক্তে মাখামাখি হয়ে যায় পরাগের লিঙ্গ। কিন্তু তাতে কি। এ যে আদিমতম পাশবিক ক্রিয়া। এই রিপু যতক্ষন না তার কাজ শেষ করে, চলতে থাকে তার খেলা। সোহান ছটফট করছিলো। কিন্তু পরাগের বাঘের মত শরীরের কাছে ওর শরীর নিতান্ত ক্ষুদ্র খরগোশ। বাঘ এখন শিকারের আনন্দে দাপাচ্ছে। ওদিকে পরাগের বন্ধু অর্কও তার শরীর ঢুকিয়ে রেখেছে সোহানের মুখে। ছেলেটা চিল্লাতেও পারছে না । রক্ত গড়িয়ে পড়তে লাগে মেঝেতে। কিন্তু সেদিকে কারোর হুশ নেই। একসময় বীর্যের পতন ঘটে। ছড়িয়ে যায় সোহানের দেহের ওপর। পরাগ উঠে হাসতে হাসতে প্যান্ট পরে। অর্করও পতন ঘটে। সোহানের চোখমুখে ভরে যায় বীর্য। একসময় এক দানবীয় উৎফুল্লতা শোনা যায়। আর সোহানের গোঙানির আওয়াজকে পিছনে ফেলে ওরা বেরিয়ে যায়।
পরাগ হেসে বলে ” কিরে পুরোন করলাম তো চ্যালেঞ্জ। এবার একটা সিগারেট খাওয়া দম ফুরিয়ে গেছে। “
ওরা নীচে চলে আসে। কেউ ভাবেও না যে এক নিরীহ ছেলে পায়ুর দ্বার ছিড়ে যাওয়ায় রক্তারক্তি অবস্থায় কাতরাচ্ছে। যার হয়তো ক্ষমতাই নেই সে হেটে গেট অবধি আসবে। পড়ে রয়েছে রক্তাক্ত আধমরা খরগোশ। বাঘেরা শিকার পেয়ে খুশী।

৩।
সোহান আর সহ্য করতে পারছিলো না। বাড়ীতে এসে ও বিছানায় তীব্র আর্তনাদ করতে লাগল। মনে হচ্ছিলো কেউ যেন ওর পায়ুদ্বারে গরম লোহার রড ঢুকিয়ে আবার বার করে নিচ্ছে। ভিতরের অন্তর্বাস রক্তে ভিজে জ্যাব জ্যাব করছে। কিন্তু ওর আর ক্ষমতা নেই বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ায়। স্কুলের জামা কাপড় খোলে।
“মা তুমি কোথায় মা!? আমি আর সহ্য করতে পারছি না। খুব কষ্ট হচ্ছে মা। মা! যন্ত্রনায় ছটফট করতে করতে যদি মারা যাই, তবে কি তোমার কাছে যেতে পারব মা? আমি আবার নৈহাটি ফিরে যাব। দরকার নেই আমার কোলকাতা। দরকার নেই আমার এত দামী স্কুলের। ” সোহান কাদছে, গোঙাচ্ছে চোখ ফেটে বেরোচ্ছে জল।”
ওর মনে পড়ে যাচ্ছে কিছুক্ষন আগে ঘটে যাওয়া ঘটনা গুলো। সব যেন অন্ধকারের মত হয়ে আসছে। ও আর চোখ খুলতে পারছে না। কি সাংঘাতিক দানবীয় অত্যাচারের সাক্ষী হলো সে। ওরা মানুষ? ওই ছেলেটাকে দেখে প্রথমে ভালো লেগেছিলো ওর। ওরকম চেহারা সচরাচর চোখে পড়ে না। তারপর ও মুঠোবন্দি করল আমার…… ওফ কি তীব্র যন্ত্রনা। মানুষ এত নিষ্ঠুর হয়? ওর শরীরে কি এইটুকু অনুভূতি ছিলো না, যে মানুষ, শুক্রাশয় যে কোনো আঘাত সহ্য করার থেকে মরা অনেক বেটার মনে করে।
আমি তো কোনোরকম ভাবে ব্যাপারটা এড়িয়ে যেতে চেয়েছিলাম। কিন্তু ওরা আমাকে ঠিক ধরে নিয়ে গেল। সেই গোডাউনে। ওটা একটা অভিশপ্ত যায়গা। সেখানে ওই পরাগ নামের ছেলেটা। জানো মা? তুমি কি শুনতে পাচ্ছ? ওই ছেলেটা খুব বাজে। খুব নিষ্ঠুর। ও কি জানেনা যে। মানুষের পায়ুদ্বার কোনো কিছু ঢোকানোর জন্য তৈরী হয়নি। তার মধ্যে ওরকম প্রবলাকার পেনিস। কি দানবীয় চেহারা। মুখে একরাশ দাড়ী। অসুরের মত পিটানো চেহারা। তলপেট লোমে ভরা সেই লোমের ভিতর থেকে ওর ওই দানব সোহান কে গ্রাস করতে আসছিলো। ও পারছিলো। না। ঢুকছিলো না। জোর করে। ” কাদতে কাদতে চিল্লিয়ে উঠলো মায়ের ফটোর দিকে তাকিয়ে। ” জোর করে ছীড়ে নিয়ে ঢূকে যায় ভিতরে। ” ” মা খুব ব্যাথা করছে। “
কিন্তু কোথায় কে? কার সাথে কথা বলছে ও? মানুষের উপলব্ধির থেকে দামী পাওয়া বোধহয় এই জগৎ সংসারে আর দুটো নেই। যেমন সোহান উপলব্ধি করল। ও এখন এই রুমে একা। কেউ নেই ওর পাশে। কল্পনায় হয়তো মাকে দেখছিলো ও। তবে সমাধান। এই সমাধান কে করবে। এটা তো আর কস্মিক ওয়ার্ল্ড নয়। ও নিজেকে শক্ত করল বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ালো। মনে হচ্ছে যে একসাথে গোটা পাঁচেক ষাঁড় ওর ওপর লাফাচ্ছে। নিজেকে এক মুহূর্তের জন্য খুব ভারী মনে হলো ওর। ওর এখন হেটে বাথরুম পর্যন্ত হেটে যাওয়ার ক্ষমতা নেই। সোহান চোখের জল মোছে, নিজের চুল ঠিক করে।
নিজেকে নিজেই বলে ” কি হচ্ছে টা কি সোহান। এই টুকুতে এত ঘাবড়ে গেলে হবে। পড়ে পড়ে বাচ্চাদের মত কাঁদছিস। কেউ হেল্প করতে পারবে না তোকে। বাবাকে বলতে পারবি। যে তোকে ধর্ষন করেছে কিছু ছেলে। স্কুলের প্রথম দিন তুই বুঝে গেছিস কি প্রবল যন্ত্রনা পড়ে আছে তোর জন্য আগামী দিনগুলো তে। সব টা মেনে নিতে হবে। তোকে শক্ত হতে হবে। ‘ এই ভাবে সে এক পা এগোল, নাহ! আর পারা যাচ্ছে না। সারাটা রাস্তা ও যে আসল কিভাবে ও নিজেই জানে না। সব কিছু ঝাপসা ছিলো। এই টুকু বুঝতে পারছিলো ও খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছে। তখন ঝাপসা ভাবে দেখতে পায়। রাস্তার ওপারে কারা যেন দাঁড়িয়ে হাসছে। ওর দিকে তাকিয়ে হাসছে। ওর এই করুন পরিনতি তে ওদের হাসি পাচ্ছে। তারপর চেনা একজন কে দেখতে পেল। সেই ট্রিম করা গাল ভরা দাড়ী। আর পৌরুষদীপ্ত চেহারা। ওটা পরাগ ছিলো। কে যেন বলে উঠলো ” ও বৌদি, হাটতে অসুবিধে হচ্ছে। প্রেগ্নেন্ট নাকি। “
শাওয়ার থেকে জল পড়ছে। জল চুইয়ে পড়ছে সোহানের গা বেয়ে।
ওরা এরকম করল শুধুকি ওর আচরনে একটু মেয়েলি ভাব আছে তাই। জল পায়ুর ছেড়া কাটা যায়গা গুলো তে যখন পড়ছে। জলে যাচ্ছে যেন পৃথিবী। ও কুলিকুচি করল শাওয়ারের জল দিয়ে। কারন একটা ছেলে ওর মুখে পুরে দিয়েছিলো ওর কঠিনকে।
আচ্ছা ‘গে’ রা কি মানুষ হয় না। কেন সাধারণ মানুষ এরকম করে। তাও এতদিন বহু টোন টিটকিরি শুনেছে ও। সত্যি অনেক ‘ বৌদি ‘, হিজড়ে, হোমো, মেয়ে, বেশ্যা। শেষের কথাটাতে নিজেরি খচ করে উঠলো ওর। কারন ও কোনোদিন সমকামীতায় লিপ্ত হয় নি। বরং ‘ গে ‘ রা নিজেদের সঙ্গী হিসেবে একজন পুরুষকে পছন্দ করে সেরকমও তো কাউকে পছন্দ হয়নি ওর কোনোদিন। বরং সবাইকে বন্ধুর চোখেই দেখেছে।
আচ্ছা আজ ওই ছেলেটা কি এক বারও বুঝতে পারেনি যে ওর খুব কষ্ট হচ্ছে। রক্ত কি ওর চোখে পড়েনি।
তখন সন্ধ্যে সাতটা বেজে পাঁচ। কলিং বেলের আওয়াজ পাওয়া গেলো। সোহান বোঝে বাবা এসেছে। তার যন্ত্রনা অনেকটাই কমে গেছে। কিন্তু ওই যায়গাটা বীভৎস ভাবে ফুলে উঠেছে। তাই হাটায় একটু অসুবিধে হচ্ছে। ও গিয়ে দরজাটা খোলে।
ডাইনিং টেবিলে কাটা চামচ চীনা মাটির প্লেটে আঘাত করার মত আওয়াজ। আর নুডলস চিকেন চপের সমাগম।
সোহান দেখে ওর বাবা ওর দিকে তাকাচ্ছে বারবার, কিন্তু কিছু বলছে না। ” তুমি কিছু বলবে ড্যাড। “
– ” না আজ তোর নতুন স্কুলের কোনো অভিজ্ঞতা শেয়ার করছিস না। কি ব্যাপার। নতুন শহরের পাল্টা হাওয়া লাগল নাকি? ” বাবা একবারে বলে গেল।
অভিজ্ঞতা। একবার সেই অত্যাচারের চিত্র ফুটে উঠলো ওর সামনে। তারপর মাথা ঝাকিয়ে বলল ” no every thing is fine Dad “
বাবা হাসে। বলে ” ওহ then anything about new friend or your new crush…… ” বলে আর তাকালো না সোহানের দিকে।
– ” what do you want to know ” সোহান সারাদিনে এই প্রথম হাসে। আর অবাক হয়।
-” তুই আমায় বিশ্বাস করতে বলছিস যে। কোলকাতায় এসে ওরকম হাইফাই স্কুলের একটা ছেলেকেও তোর পছন্দ হয় নি। ” হাসে বাবা
সোহানে মৃদু হেসে তাকায় বাবার দিকে। তারপর কোথায় যেন ঝাপসা একটা ছবি ভেসে আসে। কিন্তু কার সেটা বুঝতে পারেনি সোহান। শুধু বলে ” you know Dad that you are the olny father in this world who had accepted his son’s homosexuality..so freely… “
– ” and you should to be proud ” হেসে বলেন তিনি।
– ” I’m Dad ” এক দৃষ্টে তাকিয়ে ছিলো সোহান ওর বাবার দিকে, বলে ” আচ্ছা বাবা তুমি এই, ওরিয়েন্টেশনকে সাপোর্ট কেন করো, আমি আজো তার উত্তর পেলাম না। ” ” by any how…!”
– ” না। তুই যেরকম ভাবছিস সেরকম কিছুই না ” বাবা থামে।
– ” তা….হ লে” সোহান সব জালা যন্ত্রনা যেন ভুলে গেল। সে জানে তার বাবা অনেকদিন আগেই জেনে গেছিলো যে সোহান হোমোসেক্সুয়াল। বরং প্রথম প্রথম সোহান ব্যাপারটাকে অস্বীকার করতে চেয়েছিলো। কিন্তু ওর বাবা অনিশ খুচিয়ে খুচিয়ে জেনে গেছিলো। তবে বলেছিলো ” yeah may be I’m homosexual কিন্তু এমন কোনো ব্যাপার নেই যে আপামোর যে কোনো ছেলের প্রতি ওর ইন্টারেস্ট।
অনিশ অর্থাৎ সোহানের বাবা মৃদু হাসে বলে ” তুই যদি কোনো রিলেশনশিপ এ যাস সেদিন আমি অবশ্যই বলব। “
– ” why not today?? ” সোহান আবদারের সুরে বলল।
– ” because you know that everything is waiting for its perfect time… “
চোখ থেকে চশমা খুলে বাবার দিকে তাকিয়ে নম্র ভাবে বলল ” আজ স্কুলে তেমন কারোর সাথে কথা হয়নি। ” গলা বুজে আসে হঠাৎ সোহানের। ” আর এখানে কেউ ফ্রেন্ডলি না। তবে আমাদের নৈহাটি খুব আত্মিক ছিলো”
– ” কারন ওখানে অগ্নীশ্বর বাগচী ছিলো তাই? ” বলে হাসে অনিশ।
চোখ বড়ো বড়ো হয়ে যায় সোহানের।
– ” মানে? তুমি জানতে ড্যাড। অগ্নীশ্বরের ব্যাপার এ। “
– ” ভালো লাগত ওকে তোর।? “
– ” Never but he proposed me….but বললাম যে হোমোসেক্সুয়াল মানেই যে ছেলেদের প্রতি তীব্র আকর্ষন থাকবেই এমন কোনো কৃৎনিশ্চয়তা নেই। “
– ” জানি। তবে যেদিন যাকে পছন্দ হবে বা কেউ যদি তোকে প্রোপজ করে আমাকে জানাবি ” অনিশ নরম ভাবে বলে।
সোহান হেসে বলে ” good night dad”
– ” good night…… ” ” তোর পায়ে কি হয়েছে। খুড়িয়ে খুড়িয়ে হাটছিস কেন?”
সোহান থমকে দাঁড়িয়ে যায়। কপালে ছোট ছোট ঘামের বিন্দু জমতে শুরু করল। কারন বাবা জানতেই পারে যে তার ছেলে গে। কিন্তু বাবা এটা শুনলে রেগে যাবে যে কেউ তার ছেলেকে এমন অত্যাচার করেছে। তাই ও পিছন ফিরে বলল ” oh its nothing… Dad… নতুন জুতো তাই হালকা ফোসকা পড়ে গেছিলো। “
– ” অহহ।”
প্রতিদিন রাতের অভ্যাস কিন্তু মানুষের পালটায় না। তাই আজও সোহান নতুন বাড়ীর ব্যালকনি তে দাঁড়িয়ে গল্পের বইতে চোখ বোলাচ্ছিলো। তবে মন বসছিলো না কারন কাল কি হতে পারে। সেই ছেলেগুলো যদি আবার ওকে আক্রমণ করে তখন কি করবে ও। কারন ওর খুব পেইন হচ্ছে। ব্লিডিং ও হচ্ছিলো কিন্তু এখন আর হচ্ছে না।
কিন্তু…..

পরাগ হেসে ওর ভাই কে বলল ” তুই যেদিন বড়ো হবি বুঝবি। “
ইশান পরাগের ভাই ওর দাদার বিছানায় আধ শোয়া অবস্থায় ছিলো। বলল ” দাদাভাই আমি তোর থেকে মাত্র তিন বছরের ছোট। আমার সাথে তুই শেয়ার করতে পারিস। “
পরাগ ইশানের সামনেই নিজের জাঙ্গিয়া খুলে দিলো।
ইশান হেসে বলে ” মাঝে মাঝে গাল, বগল, তলপেটের লোম ঝোম পরিষ্কার করতে পারিস তো। “
পরাগ হেসে ড্রয়ার থেকে বক্সার কাট প্যান্ট বার করল। পরতে পরতে বলল
– “কি হবে করে। জানিস তো এসব করতে ভালো লাগে না এখন। এসব বাল ছাল করে নিজেকে সাজিয়ে গুছিয়ে। লাভ কি। ” পরাগ লাফ দিয়ে বিছানায় পড়ল। ” তুই কি আজ আমার পাশেই শুবি বাড়া? আমার ঠিক নেই জানিস তো মাঝ রাতেও খাড়া হলে… ’
– ” আচ্ছা দাদা ভাই বাবা – মা থাকলে। তুই কি এরকম হতি? ওদের কথা অমান্য করতে পারতি?”
পরাগ কিছুক্ষন তাকিয়ে থাকে ইশানের দিকে। তারপর হেসে মৃদু ভাবে বলে
– ” হয়তো। জানিনা। “
পরাগ লাইট অফ করে দিলো। নিস্তব্ধতার চাদর টেনে নিচ্ছে ধীরে ধীরে কোলকাতা। সব লাইট একসাথে বন্ধ হলে। স্কাইলাইট খুব ভালো বোঝা যায়। সেই আলোতেই হয়তো ভালো করে খেয়াল করলে দেখা যেত সেই নিষ্ঠুর, নির্মম আর শিকারী পরাগের চোখের কোল বেয়ে জল নেমে আসছে। যা দিনের আলোয় অদৃশ্য।
বাস্তবে যার কোনো মূল্য নেই কারোর কাছে। কারন এই অশ্রুর মূল্য বাস্তবে পরাগের কাছেই নেই।

৪।
আজকে প্রথম পিরিয়ড বায়োলজি/ কম্পিউটার সায়েন্স। বাইরে এমনভাবে বৃষ্টি পড়ছে যেন আকাশের কালো মেঘ গুলো কে কেউ বেধড়প মারছে আর ওরাও কেদে যাচ্ছে। রাস্তা, ভেজা মাটি, আর ড্যাম্প মারা সিমেন্টের গন্ধ কোলকাতার আনাচে খানাচে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
পরাগের এই গন্ধটা ভালো লাগে। মনে হয়, কেন যে স্কুল টাইমে ভালো ভালো জিনিষ গুলো হয়ে যায়। এই বালের চার দেওয়ালে বন্দি থেকে কি লাভ হচ্ছে ওর সেটাই তো বোঝে না ও। “
পরাগ নিজের দাড়িতে হাত বুলিয়ে নিলো। আসলে গাল চুলকাচ্ছে। ভীষণ দাড়ি হয়ে গেছে। আর ওই যায়গায় তো। কাল ভাই বলল। সত্যি তো কিসের জন্য করব ভেবে পাই না। কেউই তো বারন করার নেই। ভাই…. “
এবার থেকে কি ওই বাঞ্চত টার কথাও শুনতে হবে নাকি? পরাগ হেসে ফেলে।
পরাগ রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ওর পাশে কৌনিশ, অর্ক, আর বিতান দাঁড়িয়ে আছে।
বিতান হেসে বলল – ” ভাই কালকের সেই হোমো মালটাকে তো দেখলাম না সকাল থেকে। “
কৌনিশ বলে ” ওই মালের আবার বায়োলজি আছে। কাল পরাগ ওর বায়োলজি যেভাবে বিগড়েছে শালা বোধ হয় আজ সকালে হাগতেও পারেনি। “
সবাই হেসে দিলো একসাথে। পরাগ তেমন হাসেনি। কারন ও ওদের কথা খেয়াল করেনি। যদি কেউ এখন পরাগের একটা ছবি তোলে তাহলে বোঝা যেত নেচার মডেলিং কাকে বলে। যেন শ্যাম বর্নের কোনো গ্রীক দেবতা দাঁড়িয়ে বৃষ্টির পতন দেখছে।
ভাই বৌদি। এবার আমাদের আসল বৌদি অরন্যা।
কৌনিশ ধাক্কা মারে পরাগকে। পরাগ সংবিৎ ফিরে পায়। পিছনে ঘুরে দেখে অরন্যা দাঁড়িয়ে।
পরাগের ভ্রু কুচকে যায়। কারন অরন্যা বড্ড গায়ে পড়ে। টপ খানকি স্কুলের। নেই নেই করেও পরাগের সাথে বারো থেকে তেরোবার শুয়েছে। পরাগই তো ওর ছোট্ট গর্তকে আজ সুয়েজ খাল বানিয়েছে। আজকেও এসেছে সিওর বাড়ীতে ডাকবে বলে।
অরন্যা আলতো ভাবে পরাগের বুকে হাত রেখে বলল ” বেবী আজ একটু আসতে পারবে আমাদের বাড়ীতে। আমার ডিফারেন্সিয়েশন পার্ট হচ্ছে না” – ” সে তো অনেকদিন ধরেই শুনছি। পরাগ ভাই তুই এখোনো ওখানেই আটকে আছিস। আরো এগো বাবা। ” বলে বিতান ব্যঙ্গের সুরে হাসে।
বাড়া এর মত মাগী খুব কম পাওয়া যায়। এত লুজ করে ফেলেছে যে এখন দিয়েও মজা পাওয়া যায় না। এর থেকে……।
পরাগ বলে ” অরন্যা দেখছি আমি। যাব একবার “।
অরন্যা একবার পরাগের পুরুষাঙ্গ প্যান্টের ওপর থেকেই মুঠো করল।
বলল “I will wait… “
পরাগের অবস্থা খারাপ হয়ে গেল। অরন্যা আর কিছু পারুক আর না পারুক ভালো দাড় করাতে পারে। পরাগ আর এক মিনিট দাড়ালো না। রওনা দিলো বাথরুমের উদ্দেশ্যে।
পরাগ যেই বাথরুমের দরজা খোলে দেখে সেখানে সোহান একটা যায়গায় দাঁড়িয়ে টয়েলেট করছে। সোহান পরাগ কে খেয়াল করেনি। ওরা ছাড়াও সেখানে আরও একজন ছিলো। সে বেরিয়ে যেতেই সোহানের চোখ পড়ে পরাগের ওপর। পরাগ তাকিয়ে আছে ওর দিকে। সোহানের মুখে এক ফোটা দাড়ি গোফ নেই, ফর্সা, নীল চোখ। এক ঝলকে যে কোনো ব্লু ফিল্মের নায়িকার কথা মনে পড়ে গেল। পরাগ আর পারল না। ও সোহানের হাত ধরে টেনে এমার্জেন্সি টয়েলেটে ঢুকিয়ে নিলো।
ওরা এখন মাত্র দুজন। ওই ছোট্ট খোপ টাতে। পরাগ খেয়াল করল সোহানের ছোখ ফেটে জল আসছে। কপালে ঘামের বন্যা বইছে।
সোহান কোনোরকমে বলল ” দেখো প্লীজ আমায় ছেড়ে দাও। আমি…. “
পরাগ ওকে ঘুরিয়ে দিলো। মানে এখন সোহানের পিছন দিক এখন পরাগের সামনে। সোহান দেখতে পায় ওর আর পরাগের মুখ দেওয়ালে সাটানো বড়ো আয়নায়।
সোহান কে চেপে ধরে আয়নায় নিজের শরীরের ভর দিয়ে।
সোহান এবার কেদেই দিলো। ” প্লীজ ছেড়ে দাও আমায়। আমার…. “
মুখ চেপে ধরল পরাগ ওর। তারপর আয়নায় দেখল।সেই কালো চশমা পরা মেয়েলী আদলের চেহারা। যে রিতীমত কাপছে। আবার ভিজে যাচ্ছে পরাগের হাত চোখের জলে।
পরাগ ওর ঘাড়ের কাছে মুখ এনে গরম নিশ্বাস ফেলে ফিসফিস করে বলল ” স্ চিল্লাস না গান্ডু। তুইও কেস খাবি আর আমিও। “
সোহানের শরীরটা যেন কেপে উঠলো। অনুভব করল পরাগের ওই যায়গা দৃঢ় ও বর্ধিত হয়ে রয়েছে। প্যান্টের উপর দিয়েই বোঝা যাচ্ছে তার উষ্মতা। মুখের ওপর থেকে হাত সরিয়ে নিলো পরাগ। নিজের শরীর কে সোহানের শরীরের সাথে ঘষতে লাগল। ঘাড়ে ঠোট ঠেকিয়ে জিজ্ঞেস করে গরম নিশ্বাস ছাড়তে ছাড়তে ” নাম কি? “
সোহান কিছুক্ষন তাকিয়ে দেখে পরাগের প্রতিবিম্বকে, তারপর বলে “সোহান! সোহান বসু।” কথা গুলো কেপে কেপে যাচ্ছে। পরাগের শক্ত হাত দুটো সোহানের শরীরের ঢাল বেয়ে নীচে নামে। সোহানের প্যান্টের বেল্টের লক খুলে ফেলে।
– ” আমাকে ছেড়ে দাও। পরাগ “
– ” চুপ বাল। বললাম না বেশী কথা বলতে নেই এই সময়। ” পরাগ সোহানের কানের লতি নিজের ঠোটের মধ্যে নিয়ে নেয়। সোহানের হাত পা কেউ যেন দড়ি দিয়ে বেধে ফেলেছে। পরাগ নামের নাগ সাপ ক্রমশ পাক খাচ্ছে ওর শরীরের ওপর দিয়ে।
নিজের হাতে পরাগ সোহানের প্যান্ট খুলে দেয়। নিজের টাও টান দিয়ে নামিয়ে দেয়। সোহান হয়তো বুঝতে পেরেছিলো পরাগ আর ওর কোনো কথা শুনবে না। ছেড়ে দিয়েছিলো নিজেকে পরাগের মধ্যে।
আজ পরাগ নিজেকে আবার প্রবেশ করালো সোহানের মধ্যে। হ্যা বলপূর্বক। সোহান চোখ নাক বুজে ফেলেছিলো।
চোখ ফেটে আজও জল বেরোলো। ছিটকে সরিয়ে নিয়ে হাটু গেড়ে বসে পড়ল পরাগের সামনে। হাত জোড় করে বলল ” আমি পারছি না পরাগ ছেড়ে দাও। প্লীজ। I can’t take it any more…. ” কেদে দিলো সোহান। পরাগ দেখে চোখ থেকে জল বেয়ে বেয়ে পড়ল ওর বুটে।
পরাগ ওকে উঠিয়ে নিলো এক টানে। আবার পিছন দিকে ঘুরিয়ে বলল ” চল আজ গল্প করি। “
সোহান প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে বলল ” গল্প? “
নিজেকে আবার প্রবেশ করালো পরাগ। ” কাঁদবি না একদম। মেয়েদের মত ছিচ কাদুনে কেন তুই। “
চোখ বুজে নাক কুচকে বলে ” আমার খুব লাগছে পরাগ। “
– ” কিচ্ছু হবে না। একটু সহ্য কর। ” পরাগ নিজের শরীর আন্দোলন শুরু করল। সোহানের ভিতরে যেন কেউ গোটা রড ঢুকিয়ে আবার বার করছে।
পরাগ নিজের ঠোট সোহানের ঘাড়ে রেখে জিজ্ঞেস করে ” বাড়ী কোথায়? “
– ” ধর্মতলা! কোয়েন্টিকো অ্যাপার্টমেন্ট”
– ” ফ্ল্যাট নং? “
সোহান কাতরাচ্ছে যন্ত্রনায় ” আসতে সোহান। I’m bleeding….. why flat no.?
পরাগ সোহানের গাল খামছে ধরল। দাতে দাত পিষে বলল ” বেশী ইংলিশ মাড়াবি না আমার সামনে। “
– ” লাগছে! “
পরাগ গতি বাড়ায় কামক্রিয়ার। হঠাৎ সোহান কে সামনে ঘুরিয়ে ত্যাগ করে ওর বীর্য সোহানের তলপেটে।
তারপর সোহানের কপালের সাথে কপাল ঠেকিয়ে। হাফাতে হাফাতে বলে ” thank you….শোন। তাকা বাড়া আমার দিকে “। সোহান তাকায় পরাগের দিকে। ” প্রতিদিন আমরা এই বাথরুমে দেখা করব। কথার খেলাপ হলে সবার সামনে ফেলে রেপ করব সেদিনের মত”
সোহান তাকিয়ে ছিলো পরাগের দিকে। কোনো কথা বেরোচ্ছিলো না ওর মুখ থেকে। পরাগ কমোটের উপর উঠে ওপরের ফাকা অংশ টপকে অন্য কিউবে চলে যায়।

শাওয়ারের জল আজও জালিয়ে পুড়িয়ে দিচ্ছে সোহানের শরীর। দেওয়াল ধরে দাঁড়িয়ে আছে। কাচের ওপর নিজের ভেজা শরীরের খাজ বেয়ে জল গড়িয়ে পড়তে দেখতে পাচ্ছে সোহান। আচ্ছা! পরাগ তো গে না। তাহলে ও আমাকে কেন এবিউস কেন করছে? কাম সেই রিপু যে কিছু বোঝে কিছু দেখেনা। তবে Divine sex টার্ম টা কেন এসেছে। সেক্স সেই ক্রিয়া যা বিপরীত লিঙ্গের প্রতি তীব্র আকর্ষন সৃষ্টি করে। একে অপরের ফোর প্লে তে উত্তেজিত হয়। তাহলে। না এর উত্তর আছে। cosmic sex…. এর উত্তর একমাত্র কস্মিক সেক্স। এ হচ্ছে আধ্যাত্মিক জগতের মিলন ক্রিয়া। এই স্তরের মিলনে নিজের সাথেও নিজের সঙ্গম সম্ভব। যে নিজেকে রতিক্রিয়ায় রত করতে পারে নিজের সাথে। সেই তো জয় করে এ কসমোসের যাবতীয় মিলন বিন্দু। তাহলে কি সোহান পরাগকে যোগী বানিয়ে দিচ্ছ? ও হঠাৎ এত কিছু কেন ভাবছে কেন?
রাত হয়ে গেছে অনেক। আজকে সোহান ওর বাবাকে খুব খুশী দেখেছে। বাবা অনেকদিন ধরে চেয়েছিলো ম্যানেজিং ডাইরেক্টরি করতে। আজ সেই সিট সে অর্জন করেছে।
বাবাকে সে সেদিন জিজ্ঞাস করেছিলো। কেন তার বাবা সমকামীতাকে সমর্থন করে। সোহান বুঝে ছিলো তার বাবা খুউ বুদ্ধি করে এড়িয়ে গেল ব্যাপারটাকে। তার বাবা যেমন পুরুষ পরাগকেও তো সেরকম পুরুষের পর্যায় ফেলা যায়। তাহলে তাকে যে রোজ পরাগ মিলনের আবেদন জানিয়ে গেল। কিন্তু আর যাই হোক পরাগ ওর বাবার মত না। পরাগ খুব নিষ্ঠুর, ওর কি এই টুকু বোঝার ক্ষমতা সত্যিই নেই যে সত্যিই ওর ব্যাথা করে। ও কি সোহানের চোখের জল দেখে না? ও কি সোহানের নিস্তব্ধ আকুতি শুনতে পায় না। কাম ওকে এত টানে? পরাগ যে সোহানকে ভালোবাসে না। ….. সোহানের বুকের ভিতর খচ করে উঠলো।
– ” কি ভাবছিস এসব তুই সোহান? পরাগ আর তুই।! ফ্যান্টাসি ভালো। কিন্তু লিমিটে থাক। “
পরাগ জানে এসব ভণিতা। এ শুধুই সময়াধিক্যের প্রভাব। কিন্তু রোজ রোজ এই যন্ত্রনাও তো নেওয়া যায়। কারন ও আজ বারবার পরাগকে বারন করছিলো ঠিকই কিন্তু সেই জোর দিয়ে ঠেলে দেওয়াটা কোথায়? পরাগের প্রতিটা নিশ্বাসে মায়া ছিলো। এক আধ্যাত্মিক মায়াবী যাদু। কিন্তু ” যন্ত্রনা?” পরাগ কি সেই সমস্ত হিংস্র শরীর চাতকের মধ্যে পড়ে যারা শুধু চিৎকার শুনতে পছন্দ করে।? যন্ত্রনা দিতে পছন্দ করে। ” A Top “
না সোহান তো এই সব টপ পুরুষদের অস্তিত্ব মেনে নিতেই নারাজ। এরা কখোনই গে না। এরা সর্বভুক। যখন কোনো মেয়ে পায় না তখন ছেলে দিয়ে কাজ চালায়। কিন্তু প্রথম দিনেই পরাগ সম্পর্কে সোহান যেটুকু শুনেছে। তাতে এই টুকু শিওর পরাগ হচ্ছে স্কুলের প্রথম স্থানাধিকারি প্লে বয়। স্কুলের সমস্ত সুন্দরী মেয়েই ওর খাদ্য হয়েছে। তাহলে পরাগের কাম চাহিদায় ওর অস্তিত্ব কোথায়।
(পরাগের দিক থেকে)…..
পরাগ জানে যে তার লিঙ্গ স্বাভাবিকের থেকে একটু বেশী বড়ো ও মোটা। কিন্তু এতে তো ওর কোনো দোষ নেই। ও যার সাথেই সেক্স করুক না কেন। একবারের বেশী কেউ সাহস দেখায় নি। এক অরন্যা ছাড়া। তবে অরন্যার ব্যাপারটা আলাদা ও ওর যোনী কৃত্রিম ঊপায় বড়ো করেছে। তার ওপর ওর কন্ট্রিবিউশন তো আছেই। তার পরেও এক্সেপশনাল হলো…. ওই নতুন গান্ডু টা। সোহান।
পরাগ আয়নার দিকে তাকিয়ে দেখছিলো নিজের নগ্নতাকে। কিছুক্ষনের জন্য যেন দেখতে পেল সেই কালো ফ্রেমের চশমা। ফর্সা নির্লোম গাল আর নীল চোখ দিয়ে মাপছে পরাগকে। পরাগ মুহূর্তে উত্তেজিত হয়ে ওঠে। এসবের কোনো মানে হয়।? প্রথমে স্কুলে সোহানের সাথে। তারপর বাড়ী এসে চান করার সময়। তারপর ত্রিধা যখন খাতা দিতে এসেছিলো তখন ত্রিধা ঝাপিয়ে পড়ে ওর ওপর। আবার সোহানের এক ঝলক ওকে উত্তেজিত করে দিলো। কিন্তু আর না। এখন আর না।
পরাগ আলো নিভিয়ে ভারান্দায় এসে দাঁড়ায়। এসময় কোলকাতা আলসেমী তে ব্যস্ত হয়ে ওঠে। হাতের কর শেষ হওয়ার আগেই গাড়ীর সংখ্যা শেষ হয়ে যায়। দূরে ডালহৌসির সাজানো আলো চোখে এসে ছানি ফেলে। কিন্তু পরাগ বারান্দায় এসে দাঁড়ায় রাতের স্কাইলাইটের জন্য। কোটি কোটি দূরে অসংখ্য তারা আর আকাশ থেকে ঝরে পড়া আকাশের নিজস্ব আলো। খুব ম্লান হয় সবার চোখে পড়ে না । এই আলোর নীচে আসলে ওর শরীর কেমন যেন হালকা হয়ে যায়। এক অজানা অদৃশ্যকে চায়। শ্রোনীদেশ শিরশির করে ওঠে। লিঙ্গ যেন কিছু বলতে চায়। লিঙ্গ কথা বলে এই আলোর সাথে।হ্যা পরাগ স্কাইলাইটে দাঁড়ায় নগ্নতা নিয়ে। কোনো অজানা কারনে ওর নগ্নতা খুব ভালো লাগে। নগ্নতার প্রতীক কথা বলার সময় দৃঢ় হয় না। কিন্তু পৃথিবীর যাবতীয় ওজোন যেন সোহানের নেতিয়ে থাকা লিঙ্গের গায়ে ঝুলিয়ে দেয়। আর কথা চলে। লিঙ্গ উত্তর খোজে। পায় না হয়তো প্রশ্ন জানা নেই তাই।

৫।
সোহান যখন রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে ছিলো স্কুলে। তখন এলোমেলো হাওয়া দিচ্ছিলো। অরন্যা সোহানের পাশে এসে দাড়ায়। এই মেয়েটকা একদম পছন্দ হয়নি, সোহানের প্রথমদিন থেকে। প্রতিটা সময় কেমন যেন হর্নি হর্নি ভাব। আর এটাই সোহানের একদম পছন্দ না। এমনিতেও কিছুই শোনা বাকি নেই অরন্যার ব্যাপারে। তবে কথা বলার ইচ্ছাটা ছিলো।
দুদিন। পরপর দুদিন, পরাগ আসেনি স্কুলে। হ্যা জীবনের উপর দিয়ে কেউ যেন শান্তির প্রলেপ দিয়ে গেছে।কিন্তু কি যেন একটা নেই নেই মনে হচ্ছে সোহানের। হয়তো পরাগ নেই সেই জন্য।
” so you are the new guy.. ” পাশ থেকে ভেসে আসে এই কথাটুকু। সোহান পাশে তাকিয়ে দেখে অরন্যা ওর দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে। চোখটা দেখে মনে হচ্ছে যেন কত কিছু জানতে চায় ওর কাছ থেকে। অভদ্রতা কোনোদিন সোহানের একটা লোম স্পর্শ করতে পারেনি। তাই আজও পারল না। সোহান ঠোটের কোনা দুটোকে টেনে পেরেক পুতলো যেন ” yeah… sohan… basu…”
– ” you don’t need that fake smile… I know you are feeling embarrassed… right?? ” কিছুক্ষন সোহানের দিকে তাকিয়ে থেকে বাইরের দিকে তাকায় অরন্যা।সোহানের নিজেকে খুব অপরাধী মনে হচ্ছিলো। কারন অরন্যা যাই করুক ওর সাথে তো কোনো খারাপ ব্যবহার করেনি। এবার যেন ভিতর থেকেই সপ্রতিভতা বেরিয়ে আসে। হেসে বলে ” no… not actually…. I’m thinking about something else… so… what’s up.. “
– ” thinking about something else or….. someone else… ” অরন্যা হাসে কথাটা বলে।
সোহান কি সত্যি কারোর কথা ভাবছে? পরা…
– ” পরাগ ছেলেটাই ওরকম। নিজের ব্যাপারে লোকেদের ভাবিয়ে তোলে। ” অরন্যা সোহানের দিক থেকে চোখ সরিয়ে নেয়।
সোহানের মনে হয় কেউ যেন এক বালতি ঠান্ডা জল ওর গায়ে ছুড়ে মেরেছে। হৃৎস্পন্দন যেন আচমকাই বেড়ে গেছে কারন অরন্যার তো জানার কথা নয়। কারন হোমোসেক্সুয়ালিটি কে জাহির নিশ্চয় ও করেনি। তবে কি পরা….
– ” আরে আমি জানি। don’t worry আমি কাউকে! এসমস্ত কাউকে বলে, বেড়াই না। ” অরন্যা হাসে।
– ” না না তুমি যা ভাবছ।” সোহান এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে। আর শিহরণ ওকে জড়িয়ে ধরছে ক্রমশ।
– ” চুপ করত সোহান। আমি জানি সব। প্রথমদিন যখন ওরা তোকে টার্গেট করেছিলো তখনি আমি শুনেছিলাম। ওরা খেয়াল করেনি মোটা বট গাছটার আড়ালে আমি বসে ছিলাম। “
সোহান বুঝতে পারে লুকানোর আর কোনো যায়গা নেই। ও বলে ” তো তোমার প্রেমিক আমার সাথে ওরকম একটা কাজ করল।তোমার মনে হচ্ছে না এটা অন্যায়। বা ও তো হোমাসেক্সুয়ালিটিতে ঢুকে পড়েছে।”
অরন্যা হাসতে শুরু করে দিলো। যেন কেউ ওকে কপিল শর্মার শো দেখিয়ে দিয়েছে। ও হেসে হেসে বলে ” কে বলল তোকে, ও আমার প্রেমিক? “
– ” না মানে আমি শুনেছি তোমার আর ওর অন্যরকম। মানে…. “
– ” হ্যা হ্যা সেক্সের রিলেশন। তার মানেই প্রেমিক নাকি। “
‘সেক্সের রিলেশন ‘ এমনভাবে উঠলো কথাটা যেন কত সোজা সাপটা রিলেশন।
অরন্যা হেসে বলে ” পরাগের সেক্সুয়ালিটি বিচার করতে যাস না। ও যখন আমার সাথে করে, আমি ওকে মানুষ বলেই মনে করিনা। “
– ” মানে ” সোহান অবাক।
– ” কিছুই না। ও কেমন যেন যন্ত্র। কেউ চাবি ছেড়ে দিয়েছে তাই ঢোকাচ্ছে। আর টাইমিং ফিক্স করা আছে সময় এলেই মাল ছেড়ে দেবে। “
সোহান ফ্রি মাইন্ডেড, মুখ পাতলা অরন্যার কথা মন দিয়ে শুনছে। কারন কোনো এক অজানা শক্তি ওকে যেন সিলিং এ জাকড়ে রেখেছে।
অরন্যা বলছে। ” একটা হিউম্যান সেক্স বলে কথা আছে। একটা প্লেজার থাকে। ভগবান মেয়েদের কিছু যায়গা দিয়ে পাঠিয়েছে যেখানে যৌনতার সময় অনেক কাজ করতে হয় পুরুষ সঙ্গীকে। কিন্তু ও ওরকম না। সেটা আমি, একমাত্র আমিই জানি। ওর দরকার শুধু একটা ‘হোল ‘ মানে গর্ত। সেখানে ও নিজের প্লেজারিটিতেই খুশী। সামনের জন কি বলল, কি না বলল। কি পেল। তাতে ওর কোনো আসে যায় না। “
— ” এই অরন্যা ” পাশ থেকে কিছু মেয়ে যাওয়ার সময় অরন্যাকে ডাক দেয়। অরন্যা সোহানের দিকে তাকিয়ে বলে ” ok bye… বেশী ভাবিস না এসব নিয়ে”
নন্দনের পাশদিয়ে হেটে যাওয়ার সময় এই কথা গুলোই ভাবছিলো। ও কেমিস্ট্রি পড়বে আজ থেকে। স্যার ওকে খুবি পছন্দ করে, কারন পুরো ক্লাসে একমাত্র সোহান আছে যে কেমিস্ট্রিতে টপ করতে পারে বলে স্যারের ধারনা। তাই আজি জয়েন্ট করতে বলা হয়েছে সোহানকে। একটা ভয় কাজ করছে। নাকি পরিবেশের প্রভাব? কে জানে। আকাশ কেমন যেন গুম মেরে আছে। ভ্যাপসা ভাবটা বাড়ছে। বাবাও আসেনি নাহলে গাড়ীটা নিয়ে আসা যেত। আসলে গরম ওর একদম পোশায় না। গায়ের থেকে একটা ঘেম গন্ধ বেরোয়। কারোর ঘেম গন্ধতো নাই, ইনফ্যাক্ট নিজের ঘামেরো গন্ধ সোহান সহ্য করতে পারে না।
সোহান স্যারের ফ্ল্যাটে ঢুকতে না ঢুকতেই মনে হলো কেউ যেন ওকে গিরিখাতের মধ্যে ঠেলে দিয়েছে। স্যারের ব্যাচটার একদম কোনার দিকে বসে রয়েছে পরাগ। তাকিয়ে আছে ওর দিকে যেন বাঘ তার শিকারকে দূর থেকে দেখছে। সেই নিজের প্লেজার, নিজের কাম, নিজের মিলন বিন্দুর কেন্দ্রে থাকা মানুষ টা তাকিয়ে আছে ওর দিকে। সব যেন অন্ধকার শুধু ওই দুটো চোখ আর পরাগ। আর তার সরল রেখায় দাঁড়িয়ে সোহান। পায়ের তলায় মাটি নেই। উপরে ছাদ নেই। এত গভীর ছিলো সেই চোখ দুটো সোহানের কাছে।
(পরাগের দিক থেকে….)
যা! শালা এই মালটা আসল কোথা থেকে বাড়া। মানে আজ দিনই খারাপ। এ মাল কেমিস্ট্রিতে মারাত্মক! এমনিতেই বাড়া হয় না., তার ওপর বাড়া এইসব হোতা ধরে নিয়ে আসে এই আবাল স্যার। শালা কোনদিন রাস্তার মাঝখানে পুতে ফেলব সেদিন বাড়া কেমিস্ট্রি পড়াতেও পারবে না। আর এই বালের সোহান সব যায়গাতেই বছরের মাঝে ঢুকে চোদাচ্ছে। “
সোহানকে দেখে পরাগ খুব অপ্রতিভ পরিস্থিতে পড়ে।
স্যার বললেন ” এসো এসো I’m waiting for you my boy.. come in.. come in..কোথায় বসবে বলতো?”
স্যার এদিক ওদিক তাকালেন। একবার পরাগের দিকেও চোখ পড়ে। কিন্তু বললেন ” এক কাজ করো। এই খানে একদম সামনে বসো। “
পরাগ হাফ ছেড়ে বাচে। শালা এমন ভাবে তাকাচ্ছিলো স্যার যেন আমার পাশেই বসাবে। সহ্য হয়না মালটাকে একদম। হেবী নাটক করে। ঠিক মত লাগাতেও দেয় না। কি যে এমন কষ্ট কে জানে? একবার ভিতরে ঢুকবে একবার বাইরে। তার জন্য চোখের পোদের জল এক করে মরে।
কিন্তু সোহানের তো সত্যি সত্যি খুব ব্লিডিং হচ্ছিলো। ও তো একবারও জোর করে সরিয়ে দিলো না। কাটা ছেড়ার যন্ত্রনা জানে পরাগ। ও যখন কান ফুটিয়ে ছিলো যন্ত্রনায় তিন দিন ঘুমোতে পারেনি ও। তার ওপর ওর পুরুষাঙ্গ খুব যে ছোটখাটো না সেটা জানে। তবে কেন যে ও নিজেকে স্থির রাখতে পারে না? ওর এখনো মনে পড়ে সেই সব ঘটনা। ও তো ওর কাকি, জেঠী, বৌদি, বোন, নিজের দিদি, কাউকেই ছাড়েনি। সবার সাথে ওর সেক্স হয়েছে। এর জন্য কি আদৌ ওর অনুশোচনা আছে কোনো। এসব কেন….. “
কেমিস্ট্রি পড়ার ছুটি হয়েছে কিছুক্ষন হয়েছে। রাস্তায় সব পূজো পূজো রব উঠেছে। প্যান্ডেলের কাজ শুরু হয়ে গেছে। আর কয়েকদিনের মধ্যে আলোয় ঝলমল করে উঠবে কোলকাতা। চারদিকে জামা কাপড়, কেনা কাটার ভিড়। পরাগের এসব বড্ড আদিখ্যেতা মনে হয়। আদিখ্যেতা মনে হয়, নাকি সব থাকতেও ওর যে কিছু নেই এই ভাবনা গুলো ওকে আষ্টেপৃষ্ঠে ধরে। বাবা কখোনোই ব্যাবসা ফেলে আসবে না। মা তো নেই। জেঠীকে যৌনতা করার পর থেকে কিছু বলতেই পারে না। দেওয়ার মধ্যে কাকি হয়তো জামা কাপড় দেবে। তাও হয়তো শর্ত রাখবে যে কাকা না থাকলে পরাগ যেন এসে বিছানা গরম করে দিয়ে যায়। তবে এসব এখোন আর কোনো ব্যাপার না পরাগের কাছে।
টাকা পয়সা আছে ওর কাছে। কিন্তু তেমন তো খরচাও করে না ও। ড্রেস পত্রের ব্যাপারে ওর একদম কোনো সেন্স নেই। দাদা বলে স্কুল ড্রেস্ টায় পরাগকে দারুন লাগে। কিন্তু ড্রেস দাদার ছিলো তাই হয়তো দাদার ফ্যাশন…….”
– ” পরাগ…. ” পিছন থেকে একটা ডাক আসে ওর। পিছনে তাকিয়ে ও ভাবে, শালা আবার এ কেন।
পরাগের পাশে পথ চলতে শুরু করল সোহান। পরাগ ওর দিকে তাকালোই না তেমন। ওর ভালো লাগে না এসব বন্ধুত্ব। সামাজিকতার খোলস টা তাও একেবারে খুলে ফেলতে পারেনি ও।
– ” স্কুলে আসছ না কেন? ” সোহান মৃদু ভাবে জিজ্ঞাস করে।
– ” তোর বাপের কি বাড়া? বেশ করেছি যাইনি। ” পরাগ কড়া ভাবে বলল। কিন্তু রাগ নেই। বোঝা যায় ও এ ভাবেই কথা বলে।
সোহান হাসে – ” না আমার বাবার কিছুই না। কিন্তু আমি তো দুদিন টয়েলেটে অপেক্ষা করেছিলাম, তুমি আসবে বলে।
কি বলে কি হারামিটা। সত্যি অপেক্ষা করেছিলো। এত যন্ত্রনার পরেও। তার থেকেও বড়ো কথা পরাগের জন্য অপেক্ষা, হাসে পরাগ মনে মনে।
হঠাৎ মেঘ গর্জিয়ে ওঠে। যাঃ বাবা মেঘ কখোন হলো?
পরাগ রেগে আকাশের দিকে তাকায়।
– ” বললে না তো, আসোনি কেন? ” সোহান কথাটা শেষ করতে করতেই। মেঘ আছড়ে পড়ে কোলকাতার বুকে। পুরোনো শহরের সিলিং এ কেউ যেন টোয়েন্টি ফোর আওয়ার শাওয়ার চালিয়ে দেয় মুহূর্তে।
পরাগ পাশেই একটা ছোট্ট গলি দেখতে পায়। দুহাত চওড়া। তার ওপর টিনের শেড। ও ঢুকে গেলো। পিছন পিছন সোহান।
ও ছোট্ট খোপের কোনায় গিয়ে দাঁড়ায় পরাগ। সোহান নিজের হাত বাড়িয়ে জলে ভেজায় হাতটা। আর নরম ভাবে বলে। ” এটাই কি সেই the kingfisher has the dream of sex এর উদাহরণ । “
কিছুক্ষন সব চুপচাপ। পরাগ দেখে সোহান তাকিয়ে আছে। একজোড়া বড়ো বড়ো নীল চোখ যেন ওর ভিতর থেকে ওপাশের বস্তু দেখতে পাচ্ছে। পরাগের নিজেকে নগ্ন মনে হলো। শ্রোনীদেশে আবার সেই শিরশিরানি।
– ” কি হলো বললে না, কেন আসোনি স্কুলে।! “
– ” ভাইয়ের জ্বর ছিলো। তাই আসিনি।”
পরাগ বাচ্চাদের মত উত্তর দিলো কিন্তু কড়া গলায়।
– ” কেন? মা বা বাবা কেউ ছিলো না দেখার। ” সোহান তাকিয়ে রয়েছে। সোহানের কন্ঠ বৃষ্টির এলো পাথাড়ি শব্দকে ভেদ করে যাচ্ছে।
কিন্তু পরাগের মাথা প্রচন্ড গরম হয়ে গেলো। ও ঝাপিয়ে পড়ে সোহানের ওপর । সোহানের গাল দুটোকে জাবড়ে ধরে ও। দেওয়ালের সাথে পিশে বলে চেঁচিয়ে বলে ” বাড়া এত খবর নিতে কে বলেছে গান্ডু? আমার বাপ।? বড্ড বাড় বেড়েছিস দুদিনে। ডোজ ভুলে গেছিস বাড়া।? “
সোহান কিন্তু স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো। নিস্পলক নীল দুটো সমুদ্র। পরাগের মনে হলো যেন ওর দিকে সেই এক সমুদ্র জল এগিয়ে এসেছে। ও ভেসে যাবে। ডুবে যাবে। পরাগের হাতের বাধন আলগা হচ্ছিলো। আর শরীর শিথিল। সোহানের ঠোট দুটো, চোখ দুটো কি আচমকাই বড্ড কাছে চলে এসেছে? খুব কাছে। আরও কাছে নিশ্বাস প্রশ্বাস এর আওয়াজ পাচ্ছে পরাগ। কিন্তু ও চাইছে না এটা হোক। কিন্তু ওকে যেন কেউ বাধ্য করছে ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকতে। নিজেকে বড্ড ভারী মনে হলো ওর। সোহানের ঠোটের স্বাদ পেল পরাগ। একটা ভিজে মিন্টের স্বাদ। সোহান কি ওকে কিস করল! হ্যা! হ্যা তাই তো যখন পরাগ কসমোস থেকে বাস্তবে ফেরে ও দূরে ঠেলে দেয় সোহান কে। সোহান টাল সামলাতে না পেরে। পিছন দিকে সিড়ির কোনায় গিয়ে পড়ল। পাজরে লাগে বোধ হয়।
পরাগ দেখে সেই চোখ দুটো থেকে জল বেরিয়ে সোহানের মাখনের মত গাল কেটে বেরিয়ে যাচ্ছে। ওর মাথায় আগুন জ্বলে ওঠে। ও চেচিয়ে ওঠে ” শালা শুয়োরের বাচ্চা! হোমো মাল শালা ফের যদি আমার দশ হাতের মধ্যে দেখি না। জ্যান্ত পুতে ফেলব। ” তাকিয়ে ছিলো নীল সমুদ্র ওর দিকে। ও আর দাড়ায় না ওখানে। যেন বিশ্বসংসার এদিক থেকে ওদিক হয়ে যাচ্ছে পরাগের। বৃষ্টির ছাট কেটে দৌড়াতে লাগে ও। জল পরাগকে ভিজিয়ে যাচ্ছে ইচ্ছা মত। তার রাজত্ব এখোন। অন্ধকার রাস্তা ঘাট। পরাগ শুনতে পেল একটা হালকা গান ভেসে আসছে। ” জনম্ জনম্ জনম্ সাথ চলনা ইউহি, কাসাম তুমহে কাসাম আকে মিলনা ইউহি। “
(সোহানের দিক থেকে…..)
সোহান বাড়ীর বারান্দায় দাঁড়িয়ে। আকাশের দিকে ছিলো স্থির দৃষ্টি। আকাশের ওই আলো আধারি পরিবেশ ওর চোখ কেড়ে নিলো। ইনভারটার চলছে কিন্তু সোহান নিজের ঘরের আলো জালায় নি। কোলকাতার অন্ধকারটা আজ বড়ো ভালো লাগছে সোহানের। কোমরের কাছটায় খুব ব্যাথা। পরাগ খুব জোরে ধাক্কা দিয়েছিলো। কিন্তু ও টাল সামলাতে পারেনি। কিন্তু আজ ও কি করল? পরাগ কেন ওর এত কাছে আসল? ওর শরীরের থেকে যেন হিটারের মত উষ্মতা বেরোচ্ছিলো। ওর গাল ভরা দাড়ী। আলো আধারিতে ওর শ্যামিক শক্ত পোক্ত পুরুষালী দেহ। ও বড্ড কাছে ছিলো। আর ওর চোখ দুটো। কত কথা যেন একসাথে বলছিলো। পরাগতো সরে গেলো না। তবে কি সেই আধ্যাত্মিকতা? না অন্য কিছু?

৬।
হ্যা! ঠিক ঠিক, পরাগ পর পর দুদিন খেয়াল করল স্কুলে সোহান ওকে পাত্তাই দিচ্ছে না। স্কুলে ওর পাশের সিটটাই তো সোহানের। ওর পাশেই বসছে। অন্যদের সাথে কথা বলছে। কিন্তু ওর দিকে তাকাচ্ছে না পর্যন্ত। পরাগের আগা পাঁচ তলা রাগে ফাটছিলো। জীবনে ওকে কেউ এতটা নেগ্লেক্ট করেনি। পরাগ নিজে থেকে তো মরে গেলেও কথা বলবে না ওর সাথে। এতে ওর আতে যে পরিমান ঘা লাগবে তা সামলাতে পারবে না পরাগ। একটা বাল যে দুদিন আগেও পরাগের দিকে তাকাতে ভয় পেত….. এক মিনিট সোহান তো তার মানে এখোনো তাকাতে ভয় পাচ্ছে। ওই তো সেদিন বলেছিলো, চেচিয়ে রেগে বলেছিলো সোহান কে ওর কাছে না আসতে।
হঠাৎ পরাগের চোখে ভেসে ওঠে সেই বড়ো বড়ো দুটো নীল চোখ। আর ওর সেই প্রশ্ন ” কি হলো বলো স্কুলে আসছ না কেন। “
স্কুল যেহেতু তাই সোহানের ওর পাশে বসার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তাই বলে আমায় ও নেগ্লেক্ট করবে, এত সাহস।যে আমায় দেখে কাপত। চোখের জল ফেলত। আমায় ভয় পেত,সে আমার সাথে এমন ভাব করছে যেন কেউ না আমি। পুরো স্কুল আমায় সেলাম ঠোকে। ভয় পায়। সেখানে ও তো তার মানে আমাকে ওর থেকে ডাউনে ফেলে দিচ্ছে। বাড়া আমি তো আর সহ্য করতে পারছি না। কোথায় মালটা হ্যা? কোথায়? আজকেই ওর একশো আট দি…….
(সোহানের দিক থেকে…..)
এটা লাস্ট প্রিয়ড। এরপর ছুটি। সোহানের খুব হাসি পেল। সোহান খেয়াল করেছে ও পরাগের দিকে তাকাচ্ছে না বলে পরাগ রীতিমতো ফুসছে। হ্যা পরাগ রাগী, খুব রাগী। কিন্তু এটাই পরাগ। যারা বোঝে না, পারিপার্শ্বিক যাদের কাছে কোন বিশেষ কিছু না। মেনে নিতে চায় না কিছু। অপারগ ধরনের জেদী। তাদের রাগ হয় খুব। আর ভালো কথায় এদের ‘বাচ্চা’ বলে।
বাচ্চা! পরাগ। ও যে কি? তাতো ভগবান যানে। ও যে কোন কসমোসের মধ্যে দিয়ে বিচরন করে। খুব হাসি পেল সোহানের, পরাগের ওই লাল লাল ফোলা রাগি মুখটার কথা ভেবে।
– ” ওয়ে শালা ওখানে বসে আছিস কেন,? জানিস না ওটা আমাদের বসের যায়গা। ” আওয়াজটা খট করে কানে বাজে সোহানের।
সোহান হেসে বলে। ” সরি! ” একটু সরে বসে বলল ” নিন সরে বসলাম “
হঠাৎই সেই বক্তা সোহানের কলার ধরে হিচড়িয়ে ওঠালো। ” শালা থোবনা দেখে তো নতুন মাল মনে হচ্ছে বস। ঝেড়ে দেব নাকি বস? ” বক্তা পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটার দিকে তাকিয়ে বলল।
সেই ছেলেটা কাছে এসে সোহানের কলার ধরে বলল ” শোন বে বোকাচোদা! এটা আমার বসার যায়গা বুঝেছিস বাড়া। ফের যদি এখানে বসতে দেখি না। পুতে ফেলব এখানে “
সোহান করুন সুরে বলে ” এরকম কেন বলছ? ভালো ভাবে বললেই তো সরে যেতাম গো। “
ছেলেটা হিংস্র ভাবে বাকিদের দিকে তাকিয়ে বলে ” এ শালা তো মাগি মাল রে। আমাকে গো গো করে বলছে। ” ছেলেটা সোহানকে ধাক্কা দিয়ে দূরে ছুড়ে ফেলে। ” শালা হোমোচোদা। মালটার গা থেকেই বাড়া কেমন ছক্কা ছক্কা গন্ধ। “
জটলা বাড়তে শুরু করে। ছাত্রছাত্রীদের ভীড় শুরু হয়ে যায়। সোহানের কনুই ছেড়ে যায় বেশ কিছুটা। সোহান ছেলেটার দিকে তাকিয়ে কান্না আর তীব্রভাবে বলে ” এরকমভাবে বলার কি আছে? আর গায়ে হাত তুলছো কেন? একটু ভালোভাবে বললে তোমার সামনে কোনোদিন আসতাম না। “
এবার ছেলেটা মনে হয় সত্যি চাড়া দিয়ে ওঠে। ও গিয়ে সোহানের কলার ধরে ওঠায়। সঙ্গে সঙ্গে ছেলেটার হাতের ওপর আরেক শক্তপোক্ত শিরা বার করা হাত পড়ে। সবাই তাকিয়ে ছিলো সেদিকে।
ছেলেটা হাতের উৎসের দিকে তাকায়। সোহান ছলছলে চোখে তাকায় তার উদ্ধারকারীর দিকে। হ্যা ওটা পরাগ ছিলো। পরাগের হাইট আর শরীরের সামনে ওই ছেলেটার দেহ কিছুই না। পরাগ হাত টাকে ধরে সোহানকে আলগা করে দিলো। সোহান এই সুযোগে দু পা পিছনে সরে যায়। পরাগের দিকে ছেলেটা কটমট করে তাকিয়ে ছিলো। আক্রোশ ছিলো ওর চোখে। পরাগ ছেলেটার কলার ধরে কিছুটা আন্দোলিত করে জিজ্ঞাস করে ” কি বে শালা স্কুলের দাদা হয়ে গেছিস? চিনিস না আমায়! চল চোখ নামা বাড়া। নামা চোখ শালা। ” পরাগ চেচিয়ে ওঠে। স্কুলের সবাই দেখছিলো আর রীতিমতো অবাক ছিলো। পরাগ কারোর জন্য নিজে থেকে লড়ছে। সবাই যেন খুজছে এক স্বার্থপর পরাগকে।
সোহান তাকিয়ে থাকে পরাগের দিকে। অচেনা লাগছে ওর কাছেও সেই কঠোর দানব…. কোথায় সে।
পরাগ ছেলেটাকে বলে ” চলবে ক্ষমা চা ওর কাছে। খালি খালি গায়ে হাত তুলেছিস ওর। “
মাঝ খান থেকে একটা ছেলে এগিয়ে আসে। বলে “পরাগ ছাড় ওকে দোষ কিন্তু এই ছেলেটার ” বলে সোহানের দিকে ঈশারা করল সে। ” ওই বা কেন কমার্স সেকশনে ঢুকবে। এতে যে দাঙ্গা হবে ও জানে না ? “
পরাগ বলে “তাই বলে মারবে। মারবে কেন।? ক্ষমা চাক আগে। তোর কথা আমি শুনবো ঋষভ। কিন্তু ক্ষমা চাক আগে। “
সোহান বলে ” ছেড়ে দাও পরাগ আমি ঠিক আছি। ” পরাগ বিষ চোখে তাকায় সোহানের দিকে। সোহানের বুক ধক করে ওঠে ওই মানুষটার হিংস্র চোখ দুটো দেখে।
ছেলেটার হাত মুচকে ধরে পরাগ। শেষে বেরিয়েই যায়। ” sorry! sorry! I’m sorry… ” কিন্তু এটা বলে ঋষভ। ” ওর হয়ে আমি ক্ষমা চাইছি পরাগ লিভ হিম। প্রিন্সিপ্যাল আসছে। ” পরাগ তাকিয়ে দেখে ঠিক তাই। সঙ্গে সঙ্গে ওকে ছেড়ে দেয়। আর সোহানের হাত ধরে ওকে নিয়ে যেতে থাকে অন্য দিকে। পিছন থেকে শুনতে পায় ” কিরে পরাগ কোতি ধরলি নাকি? মেয়েরা আর দিচ্ছে না নাকি? “
সোহান দেখে পরাগ কিছুক্ষনের জন্য থমকালো। সোহান পিছনে তাকিয়ে দেখে ওই ছেলেটা সোহানের দিকে তাকিয়ে অশ্লীল ভঙ্গী করছে। পরাগ আবার ওর হাত ধরে টেনে নিয়ে গেল। অন্যদিকে। সবাই দেখলো। এত বড়ো অপমান করা সত্ত্বেও পরাগ কিছু বলল না।
পরাগ লাইব্রেরী তে নিয়ে এসে সোহানকে একরকম টেবিলের ওপর ছুড়ে মারে। সোহান দেখে পরাগ ফুসছে। ওকে ঠিক এখোন স্পেনের হিংস্র ষাঁড়ের মত ক্ষিপ্র দেখাচ্ছে। পরাগ লাইব্রেরীর দরজা বন্ধ করে ওর কাছে এসে বিশাল জোরে একটা থাপ্পড় মারে।
সোহান কি দেখতে পাচ্ছে এখন কিছু? চারদিক অবশ হয়ে গেলো। দিন গুলো কেমন যেন যন্ত্রনার মধ্যে দিয়েই যাচ্ছে। পরাগ ওর গাল গায়ের জোরে জাপ্টে বলল ” গান্ডু তোর জন্য আজ আমায় এত অপমান সহ্য করতে হলো। “
সোহান যেন আর পারল না। আর কত? পরাগের দিকে তাকিয়ে প্রায় কেদেই দিলো ” I didn’t ask you for my help… ok.. why did you save me?” পরাগ সোহানের মুখের কাছে মুখ নিয়ে বলে ” শালা মেরে ফেলত তোকে। চিনিস ওদের।? “
– ” তোমার কি তাতে? মেরেই ফেলত। শুরু থেকে তো মার খেয়েই যাচ্ছি পরাগ। তুমিই তো শুরু করেছিলে। ওই মারাত্মক যন্ত্রনা যখন সহ্য করতে পেরেছি, এই টুকুও করেই নিতাম। ” সোহান সোজাসুজি তাকিয়ে বলল। পরাগ নিরীহ হয়ে পড়ে বাস্তবতার সামনে। কিন্তু পরাগ কোনোদিন মাথা নত করে নি কারোর সামনে। তবে এটা সত্যি যে ও কিছুক্ষনের জন্য সোহানের কান্না ভেজা চোখ। আর রক্তে ভেজা পায়ু দেখতে পেয়েছিলো। সোহানের সেই অার্তনাদ গুলো যেন একবার পরাগের চারপাশে কুণ্ডলী পাকিয়ে চলে গেল। তাও অজানা কোনো কারনে রেগে গেল এবার ও। হয়তো সোহান ওর চোখে চোখ রেখে কথা বলছে সেই জন্য। পরাগ চেপে ধরে সোহানের কব্জি দুটো। সোহান চোখ বন্ধ করে অার্তনাদ করে ওঠে। পরাগ দেখতে পায় সেই যে সোহান পড়ে গেছিলো তার ফলে ওর কনুই এর কাছটা ছেলে গেছে কিছু টা।
স্কুলে ঘন্টা পড়ার আওয়াজ জানান দিয়ে যায়। যে স্কুল সময় সমাপ্ত।
-“আহ! লাগছে কিন্তু পরাগ। জালা করছে। ” সোহান একরকম চোখ বুজেই ছিলো।
পরাগ রুমাল ভিজিয়ে সোহানের ছেলে যাওয়া যায়গা টকে পরিষ্কার করছিলো। সোহানের দিকে তাকিয়ে পরাগ রেগে গেল, বলল ” শালা মেয়েদের মত করিস কেন বে গান্ডু ? সব সময় শালা লাগছে লাগছে। বেশী লাগছে লাগছে করিস বলেই তো লোকে লাগানোর সুযোগ পায়। ” পরাগ জোরে জোরে রুমাল ঘষতে লাগে।
স্কুল পুরো ফাকা। স্যারেরাও বেরিয়ে গেছে। দারোয়ান রয়েছে তবে সেও পরাগকে সমীহ করে।
স্কুলের মার্বেল বাধানো ট্যাপ সিস্টেমের পাশে ছাউনি তে বসে ছিলো পরাগ সোহান।
সোহান দেখে যে পরাগ একদিন নিজে ওর রক্তপাত ঘটিয়ে ছিলো, যন্ত্রনা দিয়েছিলো সে এখানে বসে তার সেবা করছে। আজ একটা জিনিষ খেয়াল করল পরাগের চেহারায়। এটা বোধ হয় নিজেকে লোফার দেখানোর জন্য পরাগের নতুন সংযোজন। ভুরুটা ব্লেড দিয়ে অল্প চাছা। মনে হচ্ছে কেউ যেন লম্বা লম্বি ছুরি মেরেছে।
পরাগ বলে ” আমি তোকে উদ্মা ক্যালাতে আসছিলাম। তার আগেই দেখি কেলো মাড়িয়ে রেখেছিস। “
– ” কেন মারবে কেন? “
– ” শালা গান্ডু মনে হয় আমায় দেখে? বেশী অ্যাটিটিউড না তোমার ? ” পরাগের চোখ লাল হয়ে গেলো। সোহান স্থির ভাবে তাকিয়ে থেকে বলে ” তুমি সেই রাতে বারন করলে যে তোমার দশ হাতের মধ্যে যেন আমি না থাকি। “
পরাগ হার মানবে না ” বাড়া সেদিন তো পুতেই ফেলতাম তোকে ” বলে রুমাল টা গায়ের জোরে সোহানের কনুই তে বেধে দেয়। ” তোর ভাগ্য ভালো এখোনো বেচে আছিস তুই। শালা হোমোচোদা। ” পরাগ ব্যাগ থেকে জল বার করে খেল।
– ” I’m sorry for that ” সোহান নীচের দিকে তাকিয়ে বলে।
– ” হুম “
– “কি হুম? “
পরাগ বলে ” শালা বড্ড বেশী বকিস তুই, ” বলে উঠে পড়ে যায়গা থেকে।
পরাগ গ্যারেজ থেকে সাইকেল বার করে জিজ্ঞাস করে ” তোকে বাড়ী পৌছে দেব চল। “
সোহান খানিক্ষন তাকিয়ে থাকে। কারন কোনো অচেনা মানুষের সাথে কোথাও যায় না। অচেনা। পুরোনো পরাগ অচেনা ছিলো না। এই পরাগ বড্ড অচেনা। তবে একে বারে তো অচেনা না। তাহলে এই সাহায্য কেন? আবার কি এর বদলে তীব্র যন্ত্রনা। কিন্তু যাই হোক পরাগ কে এই মূহুর্তে ও না করতে পারবে না।
সাইকেলে বসে হাওয়ার তোড়ে পরাগের ঘামে ভেজা গায়ের গন্ধ সোহানকে নিয়ে যাচ্ছে অন্য জগতে। একটা দীর্ঘদিন না কাচা জামা। ঘামে ভেজা শরীর। তীব্র গন্ধ। সোহানের এই প্রথম ঘামের গন্ধ বড়ো ভালো লাগছে। ওর মনে হচ্ছে, ও যদি পরাগের বগলে, গলায়, বুকে, পিঠে নাক ঠেকিয়ে জীবনের পর জীবন শুয়ে থাকতে পারতো।
কিন্তু কেউ যদি আগে থেকে দেখিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা রাখতো? যদি ও পারত পরাগের দেহের অলিগলিতে বিচরন করতে তবে কি হতো? এই সব কি একিভাবে স্থির থাকত?
ও এক বিস্তারিত মায়াজালে জড়িয়ে পড়ছে। ও কি পরাগের সেক্সুয়ালিটি নিয়ে নিজের জগতে বড্ড বেশী টানা হ্যাচড়া করছে? ওর কোনো লাভ নেই। পরাগ যদি গে হত তাহলেও কি সব একরকম থাকত। এক অদ্ভুত ডিভাইনের মধ্যে দিয়ে ঘুর পাক খাচ্ছে সোহান। একই কিন্তু এলোমেলো প্রশ্ন পাক খাচ্ছে। নাকি ও ডুবে যাচ্ছে এর মধ্যে। বড্ড পেতে ইচ্ছে করছে পরাগ কে। বড্ড কাছে পেতে ইচ্ছা করছে। হ্যা এবার সোহানের নিজে থেকেই সোহানের শরীরে ডুবে যেতে ইচ্ছে করছে। তবে কি অরন্যার কথাই ঠিক। এ এক আধ্যাত্মিক ক্ষমতা…..।
সাইকেল থেমে যায়। সোহান নামে সাইকেল থেকে। যেন এক চরম অপ্রাসঙ্গিক ভ্রম রকেটের মত বেরিয়ে গেল ওর ভিতর থেকে। পরাগ হেসে বলে ” শালা দেখতো কি করলি? কেউ তল পেটে হাত রাখে। “
সোহান পরাগের প্যান্টের দিকে তাকিয়ে দেখে। পরাগের বিশালাকায় শরীরি দন্ড যেন প্যান্ট শরীর ভেদ করে বেরিয়ে আসতে চাইছে। এক লহমায় নিজের হাতের অতীতে ফিরে যায় সোহান। ওর মনে হলো ভুল করে হলেও পরাগের যৌন দন্ডের ছোয়া পড়েছে ওর শরীরে। যখন ও পরাগের তল পেট আকড়ে ধরেছিলো। এতক্ষন সোহানকে যে যৌন ইচ্ছা গ্রাস করছিলো তাকি ওই দন্ডের মায়াতেই।
– ” শালা আজ টাইম নেই। নাহলে তোকেই পোহাতে হত বাড়া এর জেদ। ” সোহান ফিরে আসে। এবং হেসে বলে “thank you for everything…. and sorry again “
পরাগ কুচকে তাকায় সোহানের দিকে। সোহান পিছনের দিকে পা বাড়ায়। তাহলে পরাগের সাথে কি সত্যিই ওর যৌনতা করার ইচ্ছে নেই? পরাগের মধ্যে থাকা শক্তি টাই বা কি?
পরাগ সাধারণ কিস কে হোমোসেক্সুয়ালিটি ভাবছে ? অথচ ওর যে সোহানের দেহের আগ্রহ তাকি সমকামিতা না? এ কিরকম মায়াজাল। যার প্রতিটা সুতোয় শুধু প্রশ্নের ছড়াছড়ি।

৭।
পরাগ তিনদিন প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়েছিলো। ও নিজের পুরুষাঙ্গে হাত দেবে না। কারোর সাথে সেক্স করবে না। মোটামুটি ও যোগী হয়ে গেল যেন। কিন্তু আজ রাতে যেন ওর শরীর ক্রমশ অবশ হয়ে যাচ্ছে। খুব ভারী মনে হচ্ছে ওর নিজেকে।
ঘরের লাইট নিভিয়ে এসে ও বারান্দায় দাঁড়ায়। আজ আকাশে মেঘ করেনি। স্কাইলাইট স্পষ্ট। সেই অনুভূতি। যেন আজ সমগ্র পৃথিবীকে কেউ ওর লিঙ্গে ঝুলিয়ে দিয়েছে। প্রবল ভার বহন করছে যেন ও, ওর নেতিয়ে থাকা পুরুষাঙ্গে। আজ কি আরো একটু বেশী মোটা দেখাচ্ছে এই লিঙ্গকে? কথা বলছে ওই স্কাইলাইটের সাথে পরাগের লিঙ্গ। হঠাৎ কি যেন হলো। মনে হলো ওর লিঙ্গ ওকে চালনা করছে। আকাশের তারাদের সংখ্যাধিক্যের প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠলো ওর চোখে। যা এখন মহাকালের মত দেখা যাচ্ছে। ও হয়তো বুঝতে পারছে না। ও নিজের নগ্ন দেহ জামা কাপড়ে আবৃত করে ফেলছে। পরাগ এখন যেন এই দুনিয়াতেই নেই। একটা নেশা ভেসে বেড়াচ্ছে ওর আসপাশ দিয়ে। ও তার বিন বাজানোয় চালিত হচ্ছে। ফ্ল্যাট থেকে বেরিয়ে ফুটপাতে দাঁড়ায় পরাগ। রাত তখন একটা। আকাশের মোহে ও আচ্ছন্ন। কি যেন খুজে চলেছে ওর নীচের অংশ। পা চলতে শুরু করেছে। তবে পা কি মাটিতে আছে আদৌ। এ যেন অন্ধকার এক হাওয়া মহলে ভেসে বেড়ানো। যা অসংখ্য আলোকবিন্দু দ্বারা সম্মোহিত। পরাগ সম্মোহিত। ওর পুরুষাঙ্গ সম্মোহিত।
পরাগ হাটছে। দেখছে স্কাইলাইটের ওই আলো থেকে কারা যেন নেমে আসছে। তাদের পা মাটিতে নেই। তারা যেন ভয় পাচ্ছে ওর কাছে ঘেষতে। কিন্তু পরাগের ভিতর থেকে কেউ বলছে যেওনা। আমায় ভয় পাওয়ার কিছু নাই।
পরাগ ছুটছে। ছুটছে সেই স্পিরিচুয়াল অতিমানবের দিকে। কারন স্পিরিটের শরীর বিবস্ত্র আর নগ্নতা আকর্ষনীয় ওর কাছে। ওর মনে হলো ওর নগ্নতা ওর থেকে দূরে চলে যাচ্ছে।
এ কোথায় এসে পড়ে ও। এখানে চারদিকে আলো ছাড়া আর কিছু নেই। পরাগের চোখে খুব লাগছে সেই আলো। পরাগ তাও তাকাচ্ছে, দেখছে সেখান থেকে এক মনুষ্য অবয়ব আসছে, ক্রমশ ওর দিকে। তার মাথায় চুল নেই। শরীরে নগ্নতা ঢাকার জন্য এক ফিনফিনে ধুতি। সে এসে বসে পরাগের সামনে। পরাগ মোহাচ্ছন্নের মত বসে সেই অবয়বের সামনে।
পরাগ জিজ্ঞেস করে – ” তুমি কে। “
সে বলে ” আমি কাল। আমি নিয়ন্ত্রণকারী। “
– ” কাল! নিয়ন্ত্রণকারী! এই যায়গাটা কোথায়। এটা কি মহাকাশ।? “পরাগ জিজ্ঞেস করে।
কাল হাসে সজোরে। শব্দ প্রতিফলিত হয়। সে বলে ” তোমার তো এই যায়গাটা সবচেয়ে ভালো চেনার কথা। এতো তোমার জগৎ। এ তোমার অন্তরবিশ্ব। “
পরাগ তাকায় চারদিকে। ” কিন্তু এযে মহাশূন্য কাল। শুধু আলোকবিন্দু। যে দিকেই তাকাই না কেন। “
কাল আবার হাসে। বললেন ” এগুলো হচ্ছে পৃথিবীর যাবতীয় জাগতিক বস্তু। তোমার জন্ম থেকে শুরু করে এখোনো অবধি তুমি প্রতক্ষ্য এবং পরোক্ষ ভাবে যা দেখেছো, শুনেছো, এবং অনুভব করেছ। তারাই এরা। “
– ” আমি এদের দেখতে পাচ্ছিনা কেন?”
কাল হাসেন, আবার হাসেন। বড়ো ভয়ঙ্কর ছিলো সেই হাসি। সে পরাগের সামনে হাত তুলে ধরে নিজের, আর পরাগ বিবস্ত্র হয়ে পড়ে। কাল পরাগের পুরুষাঙ্গ ধরে তাকে উত্তেজিত করে। পরাগ বলে ” কি করছেন, সব যে তোল পাড় হচ্ছে। “
কাল পরাগের লিঙ্গে হস্তমৈথুন শুরু করেন। করতে থাকেন। বলেন ” তোমার কাছে এসব জাগতিক বস্তুর কোনো অস্তিত্ব নেই। তোমার কাছে সম্পর্কের কোনো অস্তিত্ব নেই। অনুভূতির কোনো অস্তিত্ব নেই। তাই স্পিরিচুয়াল ওয়ার্ল্ডে এসবের কোনো অস্তিত্ব নেই। তুমি তো স্পিরিচুয়ালিটিই চেয়েছিলে পরাগ। তোমার যৌনতা যে আধ্যাত্মিক। সে যে এক যন্ত্র। সে মনে করে সঙ্গম প্রত্যেক বস্তু এবং প্রানী নির্বিশেষে সম্ভব। তোমার কাছ থেকেও সবার যৌনতা প্রাপ্তি সম্ভব, তোমার কাছে সেই শক্তি আছে। তুমি যোগী পরাগ। তুমি যৌন যোগী। “
পরাগ দেখছে কাল ওর মোটা লম্বা লিঙ্গকে গায়ের জোরে ঝাকাচ্ছে। কিন্তু সাফল্য কই। পরাগ বলে ” আমি যে চরম উত্তেজিত কাল। বীর্যপাত কেন ঘটছে না? “
কাল হেসে বলে ” তুই যে কাম কে জয় করতে চাইছিস। যোগী হতে চাইছিস। কেন বীর্যপাত ঘটাবি? “
পরাগ উত্তেজনায় ছটফট করছে ” কাল আমি ডিভাইন সেক্স চাই, আমি কস্মিক সেক্স চাই না। বীর্যপাত হোক আমার। “
পরাগ শরীরের ভিতর যেন বীর্য খুজে চলেছে। আবার হাসে কাল। বলে ” তুই কি ভুলে গেলি পরাগ! তুই যে তোর শরীরের ভিতরে। শুধু তুই না এ জগতের প্রত্যেকেই নিজেদের শরীরের ভিতর থাকে। তাই তো তারা নিয়ন্ত্রন করতে পারে। আর তুই তো সেই নিয়ন্ত্রণকারী আত্মাকেই নিয়ন্ত্রন করতে চাইছিস। ওই জন্য আমি এতক্ষন ধরে তোকে মৈথুন করার পরও তুই বীর্য নিয়ন্ত্রন করে রেখেছিস। আধ্যাত্মিক মনুষ্য ছাড়া এ তো সবাই পারে না। “
থেমে যায় মৈথুন। পরাগ কামরস ত্যাগ করে কিন্তু বীর্যপাত ঘটেনি। স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশী পরিমান কামরস বেরোয়। কাল বলে ” এখোনো তোর মধ্যে রিপু আছে। কে সেই রিপু? এই রিপু তোকে যোগী হতে দেবে না। ধ্বংস কর সেই রিপুকে ধ্বংস কর।
– ” না! খুজে বার করব সেই রিপুকে। আমার তাকেই চাই। আমি নিয়ন্ত্রণকারীকে নিয়ন্ত্রন করার ক্ষমতা রাখি। তুমি নিজের জালে ফেসে গেছ কাল। তুমি হেরে গেছো। ডেভিলের কাছে হেরে গেছো। “
কাল চিল্লিয়ে ওঠে “নাআআআআ “
সব তোলপাড়। হচ্ছে। পরাগের সামনে একঝলকে আবার সব কিছু ভেসে উঠলো। জন্ম থেকে শুরু করে জীবনের ওপারে সব কিছু। মোহাচ্ছন্নতা কেটে যায়। স্কাইলাইট সরে যায়। সূর্যোদয় প্রথম পর্ব শুরু হয়। পরাগ নিজেকে নগ্ন অবস্থায় আবিষ্কার করে সেই বারান্দায়।
ও কি স্বপ্ন দেখলো। কাল কে ছিলো? সেই নিয়ন্ত্রনকারীই বা কে? আর যৌনতা সৃষ্টির ক্ষমতার ব্যাপার টাই বা কি? আর কি যেন কসমিক ডিভাইন। মানুষ তো স্বপ্নে তাই দেখে যা বাস্তবেও হতে দেখেছে।
ধূর আজ থেকে স্কুল ছুটি। পরাগ দেখে ওর লিঙ্গ খাড়া হয়ে রয়েছে। ধুর শালা ভালোই লাগে না এখন এই সমস্ত করতে। কেমন যেন একই ঘেস্তা ঘ্যাচার। একটু বেরোই আজ। অনেকদিন এলো মেলো হাটা হয় না।
এই ফুটপাথ, সেখানে শুয়ে থাকা কিছু লোকজন, তাদের কেউ হয়তো পুরো পরিবার মিলে একটা মাছের টুকরো ভাগাভাগি করে খাচ্ছে, তাও তারা ঠোট টেনে পেরেক পুতে রেখেছে। তারপর শুয়ে পড়ছে ওই নোংরা সাতকালের শতচ্ছিন্ন কাপড় টার ওপর। কোলকাতাকে মাঝে মাঝে চিনে উঠতে পারে না পরাগ। আজ কিছুই ভালো লাগছে না। তার ওপর ওই ভয়ানক স্বপ্ন।
হাটতে হাটতে ধর্মতলা ক্রস করবার সময়। ওর নজরে পড়ে কোয়েন্টিকো কমপ্লেক্সের গেট থেকে বেরিয়ে আসছে সোহান। সোহানের গায়ের রং এই ওয়েদারে যেন আরো ফেটে পড়ছে। চোখে সেই কালো ফ্রেম, আর তার ভিতর থেকে নীল সমুদ্রের ঢেউ।
(সোহানের দিক থেকে…..)
সোহান আজকে, পূজোর আর এই কয়েকদিন বাকি, এখন শপিং করতে যাচ্ছে। পিটার ইংল্যান্ডের শো রুম খুব কাছাকাছি। কিন্তু ড্যাডের অফিসের উলটো রুটে। সোহান বারবার বলল যে ও একা যেতে পারবে। কিন্তু না বাবা শোনার পাত্র না। বলে “একটা বন্ধুও হয় নি, এতদিনে যার সাথে তোকে এই কোলকাতার রাস্তায় ছাড়তে পারব। “
সোহান চেয়েছিলো বলতে ” কি জানি কি হলো এতদিন?
আরে পরাগ না। সোহান চেচিয়ে ওঠে ” পরাগ “। খেয়াল করল পরাগ ওর দিকেই আসছে। সোহান পরাগের এই সৌন্দর্য কোথায় লুকাবে বুঝতে পারল না। পরাগ কালো টাইট প্যান্ট… পরাগ জাঙ্গিয়া পরে নি নাকি। এরকম ফোলা থাকে কেন? কালো গেঞ্জী মত পরেছে, যা ওর দেহকে ঘিরে রাখবার জন্য যথেষ্ট না। আর তার ওপর একটা খোলা লাল চেক শার্ট। আজকে কানের দুল টাও কালো।
এত কিছু দেখার মধ্যে দিয়ে পরাগ যে কখন সোহানের দুহাতের মধ্যে চলে এসেছে, খেয়াল করে নি।
পরাগ গম্ভীর ভাবে জিজ্ঞাস করে ” কোথায় যাচ্ছিস।? “
সোহান ফিরে আসে ভাবনার জগৎ থেকে। বলে ” এই শপিং এ যাচ্ছি। সামনে পূজো you know… “
পরাগকে একটু অন্যমনস্ক দেখালো। ভ্রু কুচকে একটু অন্যদিকে তাকিয়ে বলে ” ওহ। একা? “
সঙ্গে সঙ্গে অনিশ গাড়ী নিয়ে বেরিয়ে এসে দাড়ালো ওদের সামনে।
সোহান অনিশকে বলে ” Dad meet him. he is Parag… “
অনিশ হেসে পরাগের দিকে তাকায়। পরাগ গম্ভীর ভাবে বলে ” Hey.. man.. what’s up..? “
অনিশ অবাক হয় বোধ হয় একটু,কিন্তু হেসে বলে ” Hey dude… ” তারপর সোহানের দিকে তাকিয়ে বলে ” চল অনেক দেরী হয়ে যাবে অফিসের, তোকে পৌছে দি। “
– “আমি তো তোমাকে বললাম ড্যাড চলে যেতে পারব। “
– ” অন্তত দিয়ে আসি, তোকে আর পরাগ চলো। তুমিও চলো আমাদের সাথে। “
পরাগ গম্ভীর ভাবে বলে ” ভালো লাগে না শপিং যেতে, আমি বুঝি না ওসব কিছু। “
হঠাৎ ফোন বেজে ওঠে অনিশের। অনিশ ফোন তুলে বলে ” yes sir “…..”no sir “….its absolutely ok sir “……” yeah… yeah… I’m coming sir… on the way… yeah on the way “। ফোন ছেড়ে সোহানের দিকে তাকাতেই, সোহান বলে ” আমি চলে যেতে পারব, এই তো পরাগ আছে। “
সোহান খেয়াল করল অনিশের ঠোটে ছদ্ম একটা হাসি। তার মানে আজ রাতে ওকে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
সারা রাস্তা পরাগ সোহানের সাথে কোনো কথা বলে নি। সোহান এক অদ্ভুত প্রশান্তি তে হাটছিলো। মাঝে মাঝে পরাগের হাতের সাথে ওর হাত লেগে যাচ্ছিলো। ভালো লাগছিলো সোহানের। খুব সেফ লাগছিলো নিজেকে, যেন পৃথিবীর কোনো বিপদ ওকে ছুতে পর্যন্ত পারবে না, যতক্ষণ এই রাগী, গম্ভীর মানুষ টা ওর সাথে আছে। আজ হাওয়া নেই শহরে, গুম মেরে রয়েছে চারপাশ। ঝড় হবে, প্রবল ঝড়।
শো রুমে ঢুকে সোহান একটার পর একটা ড্রেস ট্রাই করছে। সেলস ম্যান অসহ্য হয়ে যাচ্ছে। পরাগ দেখছিলো, দেখছিলো ওর পাশে দাড় করানো মডেল টাকে। ম্যানি কুইনটা একটা সাদা শার্ট আর সিলভার কালারের প্যান্ট। একদম ফর্মাল পোশাক। আর গায়ে একটা আটা হাফ সিলভার কালারের ব্লেজার। ড্রেসে হাত বোলাচ্ছিলো পরাগ। সেই ব্লেজার টার পকেটে একটা লাল স্কার্ফ ছিলো, ভেলভেটের। পরাগের ভালো লাগছিলো ড্রেস টা। সোহান আয়নার মাধ্যমে দেখছিলো পরাগের সেই চোখ দুটো। ছোট বেলা থেকে সোহানশুনেছে, ওর চোখ দুটো খুব সুন্দর, কিন্তু চোখ সুন্দর কি সুন্দর না? সেটা প্রশ্ন না। প্রশ্ন হলো গভীরতা, সোহান তাকিয়ে নিজেকে সমর্পন করছিলো ওর চোখে।
পাশ থেকে সেলস ম্যান বলে ” sir is it decided… “
সোহান হেসে মৃদু ভাবে বলে ” yeah…. that’s suit…. pack that …. “
সোহান কি তাহলে প্রেমে পড়ল, যার কাছে হোমোসেক্সুয়ালিটি বলতে বলতে বিশেষ কোনো সংজ্ঞা নেই, পুরুষের প্রতি নাও টান থাকতে পারে, যার টেম্পোরারি ডায়ালগ, সে কি পড়ে গেলোই প্রেমে, হঠাৎ সেই বৃষ্টির রাতের পরাগের সিগারেটের টেস্টে ভরা মুখের স্বাদ পাক দিয়ে গেল। হ্যা বোধ হয়, প্রেমে ও পড়েছে। শেষ পর্যন্ত পরাগ। না হয়েই বা যায় কোথায়। সোহান জানে এ কোনোদিন সম্ভব না। দীর্ঘশ্বাস পড়ে সোহানের।

৮।
(সেদিন দুপুরে। সোহানের দিক থেকে……)
সোহান ফ্ল্যাটের দরজা খোলে।পরাগ ওর পিছনেই দাঁড়িয়ে ছিলো। সোহানের গেঞ্জীর ওপর দিয়ে ওর কোমরের খাজটা স্পষ্ট ছিলো। সেটা সোহান জানে।
ঘরে ঢুকে সোহান বলে ” ঠান্ডা খাবে না গরম…. “
পরাগ চারদিক দেখছিলো। একদম নিরেট ভাবে সাজানো। সোহান বলে ” আমার হাতে সাজানো। ভালো লাগছে? “
পরাগ গম্ভীরভাবে শুধু বলে ” ভালো। “
সোহান নিজের রুমের দরজা খুলে বলে এই ঘরটা আমার। পরাগ ওর গভীর চোখ দুটো দিয়ে, সোহানের দিকে তাকিয়ে ছিলো। সোহানের গায়ে যেন কেউ ঠান্ডা পাইপ দিয়ে ফু দিয়ে যায়। পরাগ সোহানের ঘরে ঢোকে। সোহান হেসে বলে “তুমি বসো আমি আসছি। “
সোহান যা ভাবছে তার কি আদেও কোনো এক্সিস্টেন্স আছে? পরাগ ওর ঘরে দাঁড়িয়ে আছে। পরাগ। যাকে ও হয়তো ভালোবেসে ফেলেছিলো প্রথম দিন থেকেই। ওর দুর্বলতা হয়ে পড়েছে পরাগ। ওই জন্য হয়তো অত যন্ত্রনা সত্ত্বেও দ্বিতীয় দিন ও পরাগকে না করেনি। ধীরে ধীরে গম্ভীর মুখ, রাগী চেহারাটা একটা জেদী বাচ্চার অবয়ব নিচ্ছিলো। বাচ্চারাও তো রেগে গেলে ওরকম , দেখা যায়। কিন্তু এই বাচ্চা…
সোহান ঘরে ঢুকে দেখে পরাগ ওর একটা বই নিয়ে ঘাটাঘাটি করছে। বইটার কভারে লেখা ” Cosmic and Divine “
সোহান এসির পাওয়ার বাড়িয়ে দেয়। দরজা বন্ধ করে জিজ্ঞেস করে ” তুমি পড়ো, এইসব ইরটিক লিটারেচার? “
পরাগ তাকায় সোহানের দিকে। সোহানের গায়ে জামা নেই একটা প্যান্ট পরা শুধু, হাফ প্যান্ট। সোহানের বুক নির্লোম গোল্ডেন, আর সেখানে দুটো গোলাপী চেরি ফল যেন। ওর নীল চোখ দুটো।
– ” কি হলো! বলো, do you know about cosmic sex and divine sex “
হঠাৎ পরাগের সামনে ভেসে ওঠে সেই অজস্র আলোকবিন্দু, সেই স্পিরিচুয়াল অবয়ব গুলো, আর সেই দীর্ঘকায় কাল বা নিয়ন্ত্রনকারী। তার মুখ থেকে বেরিয়ে আসা সেই শব্দ গুলো, অচেনা শব্দ গুলো। ‘কস্মিক সেক্স ‘, ‘ ডিভাইন সেক্স ‘। আর ওর অচেনা অজানা অন্তর বিশ্ব।
– ” বলো কোনোদিন পড়েছো কিনা? ” সোহান আবার হেসে জিজ্ঞেস করে। ঘর ক্রমশ ঠান্ডা হচ্ছে, খুব সুন্দর একটা ভালো লাগার গন্ধ ঘুর পাক খাচ্ছে।
পরাগ গম্ভীর মুখ খানা নিয়ে বসে সোহানের পাশে। বইটা হাত থেকে রেখে বলে ” না কোনোদিন পড়িনি, তবে জানি, কিন্তু জানিনা এগুলো কি? শুধু সেক্স টুকুর মানে জানি। “
সোহান অবাক হয়, ” মানে? জানো, কিন্তু জানোনা এগুলো কি। “
পরাগ দাড়ীতে হাত ঘষতে লাগে। কানের দুলে একবার হাত বুলিয়ে নিলো। অন্যমনস্ক দেখা গেল পরাগকে।
সোহান পরাগের হাতে হাত রাখে। “খুব শক্ত তোমার হাত দুটো পরাগ। সবসময় এমন রেগে থাকো কেন? ” সোহান নরমভাবে জিজ্ঞেস করে।
পরাগ হাত ছাড়িয়ে নিয়ে বলে ” তোর বাপের কি শালা গান্ডু। ” কথা গুলোয় তেমন জোর শুনতে পেল না সোহান।
সোহান হাসে।
পরাগ হঠাৎ সোহানের গাল মুঠোর মধ্যে নিয়ে নেয়। গায়ের সব জোর দিয়ে। বলে ” হাসছিস কেন বাড়া? আমি কি ইয়ারকি করছি নাকি তোর সাথে বাড়া।? “
সোহান স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। আর ঘরে আলো আধারি নিস্তব্ধতা।
– ” তাকিয়ে আছিস কি বোকাচোদা, চোখ উপড়ে নেব। ” পরাগ সোহানের গলা টিপে ধরে। ” তুই যা ভাবছিস তা কোনোদিন সম্ভব না। “
সোহান হাসে, খুব নম্র ভাবে হাসে।” আমি তো তোমায় কিছুই বলিনি। পরাগ। কেন তুমি নিজেকে টানছ এর মধ্যে। “
– ” তুই বলিস নি। তুই কিচ্ছু বলিস নি। কিন্তু । কিন্তু। ” পরাগ সোহান কে ছেড়ে দিয়ে উঠে পড়ে যায়গা থেকে। দেওয়ালের গায়ে গায়ের জোরে ঘুষি মারে। আবার মারে আবার মারে বারবার মারে। সোহান আর দেখতে পারে না ওই দৃশ্য। ও ছুটে গিয়ে পরাগ আর দেওয়ালের মাঝখানে দাঁড়িয়ে পড়ে। পরাগের চলমান হাত ওই সমুদ্রের সামনে স্থির হয়। সোহান দেখে পরাগের চোখে জল। পরাগের হাতে হাত রেখে বলে ” কেন এত রাগ পরাগ? কিসের এত রাগ। তুমি আমায় বলো। “
– ” তুই বুঝবি না শালা, কোনোদিন বুঝবি না। কেউ বুঝবে না, ” পরাগ সোহানের ঘাড়ে কপাল ঠেকায়। ” আমার কারোর ওপর রাগ নেই। কারোর ওপর না। আমার রাগ নিজের ওপর বাল, শালা জন্ম নেওয়ার সাথে সাথে মা মরে গেলো। আর বাপ না শালা ওটা হচ্ছে পাপ, আমি ওই বাঞ্চত টার মতই ঢ্যামনা হয়েছি। তুই তো তোর বাবার সাথে অন্তত দুঃখ, যন্ত্রনা গুলো ভাগ করে নিতে পারিস। আর বাড়া আমি, যন্ত্রনা মেটাবার হেব্বি উপায় বার করে ফেললাম। শালা লাগিয়ে লাগিয়েই জীবন হাফ বরবাদ হয়ে গেলো। এখন শালা নেশা হয়ে গেছে। জানিস তিনদিন আমি করি নি। আমার শরীর টুকরো টুকরো হয়ে যাচ্ছে। মনে হচ্ছে কেউ যেন চেয়ারে বেধে আমার বিচি জোরে জোরে টিপছে আর আমি ব্যাথা সহ্য করতে পারছিনা। কিন্তু জানিনা কেন আমার এসব করতেও আর ইচ্ছা করছে না। মনে হচ্ছিলো সব ছেড়ে দিয়ে কোথাও পালিয়ে যাই। আজ তো ডিসিশন ও নিয়ে ফেলেছিলাম। আমার এসব কিছুই ভালো লাগছে না। না কারোর ভালোবাসা, না কারোর সহানুভূতি, না কোনো রকম লাগানো ফাগানো। “
সোহান একদৃষ্টে তাকিয়ে ছিলো। শুধু ভাবছিলো তাহলে পরাগকি সত্যিই আধ্যাত্মিক জগতের যৌন যোগী। যার কোনো কাম নেই, ক্রোধ নেই, নেই শোক, নেই ক্রোধ। যা আছে আত্মকেন্দ্রিক। আজ পরাগকে বড্ড অসহায় লাগছে। কারন পরাগ নিজের মধ্যে নেই। তবে…… ” পরাগ তুমি আমায় কেন বলছ এই সমস্ত। “
পরাগ আবার ঝাপিয়ে পড়ে, গলা জড়িয়ে বলে ” তুই রিপু, তুই বাধছিস আমাকে। কেন যেতে দিচ্ছিস না? তোর চোখ দুটো নিয়ে কেন তাকাচ্ছিস আমার দিকে? আমাকে কেন বাধছিস?”
সোহানের বিশ্বাস হচ্ছিলো না, পরাগ কি বলছে? ও জানে পরাগ এখন নিতান্ত আবেগের বশে বলে ফেলেছে এই সমস্ত। কিন্তু এই টুকু হলেও যেন ও খুশী।ও পরাগের ঘাড়ে হাত রেখে বলে
“তুমি এসব নিয়ে কেন এত ভাবছ। পরাগ? তুমি তো এত কিছু ভাবো না পরাগ। ওই সহজ সরল পরাগ কোথায়?
পরাগ এলিয়ে দিলো নিজের শরীর বিছানায়। বলল আগের রাতের সব ঘটনা। সব স্বপ্ন। সব মায়া।
সোহান শুনে যায় সব, শুনে যায়।
ঘড়ির কাটা যেন লোহার জুতো পরে সোহানের বুকের ওপর দিয়ে যাচ্ছিলো। নীরব, নিস্তব্ধ ব্যস এইটুকুই ছিলো ঘরের মধ্যে। সোহান পরাগের সামনে বসে বলে ” পরাগ তুমি যে স্বপ্ন দেখেছো, তাকে বলা হয় বাস্তবের বিপরীদ স্বপ্ন। যা তুমি কোনোদিন কল্পনা করতে পারো না। তোমার স্বপ্নে তা তুমি দেখেছো। আমাদের কাছে সময়ের অভাব নেই পরাগ। নেই। ” গলা বুজে আসছিলো সোহাগের। ওর বিশ্লেষণাত্মক ক্ষমতা পরাগের সামনে লোপ পাচ্ছে। ও বলতে পারত ” পরাগ তোমায় তোমার ডিভাইন খুজে বার করতে হবে। সেই যৌনাকাঙ্ক্ষা নিজের মধ্যেও আনতে হবে। যৌন মিলন মানে কখোনই এক পুরুষাঙ্গের গর্তে প্রবেশ করা নয়। তা ভালোবাসার চরম বহিঃপ্রকাশ। সেই ভালোবাসা টাই হারিয়ে যাচ্ছে পরাগ। এখন আবেগের বশে তুচ্ছ যৌন তাড়নায় তুমি নিজেকে সমকামী বানিয়ে নিচ্ছ। কিন্তু তুমিতো বিসমকামী। একাধিক নারীর মধ্যে খুজে নিতে হবে তোমার ডিভাইন বা পারম্পারিক বা ঐশ্বরিক যৌনতা। আমার ভালোবাসা না হয় এক তরফাই থাকুক। ” কিন্তু এসব কিছুই বলতে পারেনি সোহান। সোহান আবিষ্কার করে ওর ভাবনার সময়কালীন পরাগ নিজের দেহ দিয়ে ওকে ঘিরে ফেলেছে। পরাগের গায়ের থেকে উষ্মতা সোহানের শরীরে এসে মিশছে। আর সেই পরাগের শরীরি গন্ধ। সোহানের একবারও ইচ্ছে হলো না ওকে দূরে সরিয়ে দিক। বরং এত কন্ট্রাডিকশন থাকা সত্ত্বেও ওর পরাগকে পাগলের মত ভালোবাসতে ইচ্ছা হলো। পরাগ পাগলের মত ওর শরীর তছনছ করছে কিন্তু এত কিছুর মধ্যেও সোহানের মনে হলো। সেই ডিভাইন টাই নেই। পরাগের মধ্যে ক্ষমতা আছে অন্যের শরীরে যৌনাকাঙ্ক্ষা জাগানোর। কিন্তু কিছু একটার অস্তিত্ব নেই। আধ্যাত্মিকতা দিয়ে সুখ বা ভালোবাসা পাওয়া যায় না। তা হচ্ছে তীব্র ত্যাগ। পরাগ ত্যাগ করে নিজেকে। আজ আবার বাইরেই ত্যাগ করল সোহানের বিছানার ওপর।
সোহান বিছানার কোনায় হালকা ভাবে হাটুটা মুড়ে বসেছিলো, যাতে নগ্নতা ঢাকা যায়। পরাগ বিছানা থেকে উঠে সোজা প্যান্ট টা পরে নিলো। সোহান পাশ থেকে জামাটা টেনে গায়ে জড়িয়ে। জিজ্ঞেস করে ” are you gay Parag? “
পরাগ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে এই প্রশ্নে। কিছুক্ষন চুপ করে থাকে। গায়ে গেঞ্জী চড়িয়ে, গম্ভীর বলে ” হ্যা হয়তো! জানিনা। “
সোহান তাকিয়ে দেখে পরাগ প্যান্টের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে ওর নেতিয়ে থাকা সিঙ্গাপুরি কে ঠিকঠাক করছে। এত এসির মধ্যেও পরাগের গা থেকে দরদর করে ঘাম বেরোচ্ছিলো। সোহান মৃদু হেসে জিজ্ঞেস করে ” আর যদি জিজ্ঞেস করি, যে are you straight…? “
পরাগ ওর ওই রাগী চোখ দুটো দিয়ে তাকায় সোহানের দিকে। সোহান আতকে ওঠে কারন পরাগ রেগে গেলে খুন পাশবিক। কিন্তু পাশবিকতা ছিলো না। গম্ভীর ভাবে বলে আবার ” হবে হয়তো জানিনা। “
সোহান এবার হেসে ফেলে। পরাগ তাকায় সহাস্যমুখ সোহানের দিকে। সোহানের দুটো সোনালী রং এর পা এখনো আলগা। সোহান বলে ” এবার জিজ্ঞেস করব, তুমি কি পাগল পরাগ।”
পরাগ তীক্ষ্ণ ভাবে তাকায় সোহানের দিকে। সোহান হেসে আয়না প্রতিবিম্বের দিকে তাকায়।
পরাগ গুরুগম্ভীর স্বরে বলে ” তোর হাসি টা বেশ, সুন্দর যে কেউ প্রেমে পড়ে যাবে, “
সোহানের মনে হলো এই সময়। আর আসবে না। ও প্রশ্ন করে “তুমিও? “
পরাগ বলে ” আমার কাছে যদি ইমোশণ থাকত নারে গান্ডু। পাক্কা তোর ওপর লাট খেতাম। ছেলে মেয়ে তো আসে যায় না। ফুটো হলেই তো চলবে আমার। “
সোহান স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলে ” আর ওটাই তো তোমার সব থেকে বড়ো ভুল। this is not the matter of a hole… may be there is something else…. what you have to find… you know the kingfisher has the dream of sex with nature…. তখন বুঝিনি, আজ বুঝেছি।”
পরাগ হা করে তাকিয়ে ছিলো কিছুক্ষন। বোঝাই যাচ্ছিলো সোহান ঘোড়ার সামনে মন্ত্র পড়ছে। পরাগ ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করে। ” তুই কি বলছিস ? আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। “
সোহান দম ফেলে ফেলে হাসে। “বলে বাদ দাও, ছাড়ো এসব তোমার এত কিছু না ভাবলেও চলবে। ওই শপিং ব্যাগ টা আমায় দাও।” টেবিলের ওপর রাখা ব্যাগের দিকে ইশারা করে। সোহান উঠে দাঁড়ায়। পরাগ গাম্ভীর্যপূর্ণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিলো সোহানের লিঙ্গের দিকে। সোহান খেয়াল করে ব্যাপার টা। বলে ” জানি তোমার মত নয় দশ ইঞ্চির না, বা অত মোটা না, কিন্তু স্বাবাবিক। তাই তাকিও না,… আহ্! পরাগ লজ্জা লাগে তো। ” পরাগ সম্মোহিতের মত দেখছিলো।
সোহান প্যান্ট পরে ব্যাগ টা পরাগের হাতে দিয়ে বলে ” এটা তোমার রাখো। ” পরাগ হতভম্বের মত তাকিয়ে দেখে ব্যাগের মধ্যে রাখা স্যুইট টাকে। বলে “এসব কি আবার! কেন? “
– ” তোমার পছন্দ হয়েছিলো তো। তাই আমি দিলাম। “
– ” আমি তো ভাবছিলাম তুই তোর বাবার জন্য নিলি। “
– ” তুমি পাগল, আমার বাবার এই স্যুট পরার মত হাইট আছে,! যে বাবার জন্য নেব। “
– ” হঠাৎ এই সব কেন করছিস বাড়া। তুই জানিস তো, তুই যা চাচ্ছিস তা নাও হতে পারে। ” পরাগ মাথা নীচু করে।
সোহান হেসে বলে ” আমি তোমাকে রিটার্ন গিফট এর আশায় কিছুই দিই নি। আমার ভালো লাগবে তুমি, যদি এটা নাও। “
পরাগ সম্মতিসূচক ভঙ্গিতে মাথা নাড়ায়। সোহান কিছুক্ষন তাকিয়ে ছিলো। এসি হাওয়ার শব্দ পাওয়া যাচ্ছে এই নিস্তব্ধ ঘর টায়। নিস্তব্ধতা ভেঙ্গে সোহান বলে ” একটা কথা বলব? “
পরাগ সোহানের ঘরের দরজা খুলতে গিয়েও আটকে যায়। বলে ” বল! “
সোহান বলে ” ভালোবেসে ফেলেছি। “
পরাগ কিচ্ছুক্ষন তাকিয়ে থেকে বলল “জানি। কিন্তু কাকে বাসছিস দেখ। ভেবে একটু শিওর হয়েনে। “
সোহান হেসে বলে ” আমি কারোর কাছ থেকে কোনোদিন কিছুই আশা করিনা। পরাগ। আমি one sided love এ প্রচণ্ড বিশ্বাসী, কারন যে কোনো সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রত্যেককেই one sided lover হতে হয়। আমি…. না আর কিছু না ব্যস। “
পরাগ চলে যাচ্ছিলো মেইন দরজা টা খুলে। সোহান পিছন থেকে বলে ” পরশু মহালয়া। যদি বন্ধুও মনে করে থাকো। একবার এসো। ঘুরতে যাবো। কোলকাতা সে ভাবে দেখা হয়নি তো। আর হ্যা এই ড্রেস টাই পরে এসো তোমায় মানাবে। “
পরাগ শুধু মাথা নাড়ায়। যেন হাজারো প্রশ্ন বা আলোকবিন্দু পিছনে ফেলে কোনো স্পিরিট অন্ধকারের মধ্যে নির্লিপ্ত হচ্ছে।
সূর্য উদয়ের অপেক্ষায় আজ সব কিছু। দেখা যাক।

৯।
পরাগের গায়ের ভিতর অদ্ভুত এক জালা ধরছে। সকাল থেকে অন্তত চারবার ওর পুরুষাঙ্গ দৃঢ় হয়েছে। কিন্তু হস্তমৈথুনের মত আনকোরা কাজ করতে ওর ভালো লাগছে না। কয়েকদিন আগেও তো সব ঠিক ঠাক ছিলো। কবে থেকে শুরু হলো এসমস্ত? পরাগ ভেবেই চলেছে। ক্রমশ যেন সেই অন্তর বিশ্ব তোল পাড় হচ্ছে। শুধু ভিতর থেকে কেউ হাতুড়ি মারছে এই বলে যে, কি যেন নেই, কি যেন নেই!
কাল পরাগ যখন সোহানের ওই ঘর ছেড়ে বেরিয়ে আসে। তখন আবার সেই অন্ধকার, সেই আলোক বিন্দু, সেই পরাবাস্তব জগত। সেই ওঠানামা। শ্রোনীদেশে শিহরন। আর লিঙ্গমুন্ডে ভার বহন। কি করে এত বুঝবে, যে কি হচ্ছে ওর সাথে এই সব? কোথায় প্রশান্তি, কোথায় এর শেষ। হয়তো ওর শরীর চায় যৌনতা। কারন মনে হচ্ছে সারা বিশ্বের সমস্ত কিছু, যাবতীয় চাপ যেন আজ পরাগের উপর, আজ এটা আরও বেশী করে মনে হচ্ছে।
হঠাৎ ফোন বেজে উঠলো পরাগের, রিংটোন টা ওর খুব প্রিয়, ” আমি কি তোমায় খুব বিরক্ত করছি? বলে দিতে পারো তা আমায়। হয়তো আমার কোনো প্রয়োজন নেই, তবু লেগে আছি একটা কোনায়। “
পরাগের এই কারনেই পছন্দ কারন, এই ফোন ওকে সত্যিই বিরক্ত করে। ফোন ধরে পরাগ। ফোনটা অরন্যার। তার মানেই ভার মুক্তির যায়গা। কথা বলে জানা গেল, পরাগকে ও আসতে বলছে। পরাগ ছুটছে, ছুটছে। ওকে সেই রিপুকেই আকড়ে ধরতে হবে।

অরন্যাকে এক ধাক্কায় পরাগ বিছানায় শুইয়ে দেয়। একটা ঘর, আলো আধারি পরিবেশ। পরাগের মত একজন দামাল পুরুষ আর অরন্যার মত এক লাস্যময়ী নারী। হলে হতে পারত কামের খেলা। ভালোবাসার খেলা। কিন্তু অরন্যাকে শুইয়ে দিয়ে পরাগ ওর স্কার্ট খুলে কোনোরকম ফোরপ্লে ছাড়া সোজাসুজি প্রবিষ্ট হলো। অরন্যা চেচিয়ে ওঠে ” পরাগ its hurting…. its not wetted…. “
পরাগ কোনোরকম বারন শুনছে না। ওকে প্রমান করতেই হবে ‘কাল’ ভুল। ও পারে ডিভাইন সেক্সের মধ্যে নিজেকে ছড়িয়ে নিতে, যেখান থেকে পরাগকে তুলে বের করে আনা কালের পক্ষে সম্ভব নয়। অরন্যা নিজের ওপরের ব্রেসিয়ার টা খোলে। একজোড়া নরম স্তন বেরিয়ে আসে পরাগের সামনে। কিন্তু পরাগ চোখ বুজে, গায়ের জোরে রমণ করছে। অরান্যা চেচালো ” oh… you fucking devil… press my boobs…. play with my chest balls… ” পরাগের গলার চেন টেনে নিজের কাছে, আরো কাছে টেনে আনার চেষ্টা করল অরন্যা।
পরাগ দেখছে, ওর সামনে দুটো নরম চর্বির দলা, ওর শরীরের আন্দোলনের সঙ্গে, অরন্যার বুকের ওপর ঘুর পাক খাচ্ছে। অরন্যা পরাগের হাত ধরে নিজের বুকের ওপর বসিয়ে দেয়। পরাগ গায়ের জোরে অরন্যার বাম স্তন টিপে ধরে। পরাগের চুল ঝুলে পড়েছে, গায়ে ঘাম উপছে পড়ছে। অরন্যা পরাগের গায়ের গন্ধটাকে উপভোগ করার জন্য নিজের নাক পরাগের বুকে ঠেকিয়ে দেয়। গলার পিছন দিয়ে হাত গলিয়ে, পরাগকে আকড়ে ধরতে চায়। বুকে চুমু দেয়। কিন্ত ও কি করে বুঝবে পরাগ যে আদৌ এই জগতে নেই।
পরাগ দেখতে পাচ্ছে এক বিস্তর অন্ধকার, তার অনেক অনেক অনেক গভীরে একটা, কিছু একটা দেখা যাচ্ছে, সেটা পরাগের কাছে স্পষ্ট না। সে শুধু পড়েই যাচ্ছে ঢুকেই যাচ্ছে অন্ধকারের করাল গ্রাসে। হঠাৎ প্রকট হয় সেই মুন্ডিত মস্তক, ধুতি আবৃত কাল এসে ওর লিঙ্গে হাত দেয়। পরাগ জিজ্ঞেস করে ” আমি কোথায় এলাম? “
– ” তুমি একে বারেই যোগী হতে চলেছো, অভিনন্দন ” কাল মৈথুন করে আর ব্যঙ্গাত্মক হাসে।
– ” কিন্তু আমি তো ডিভাইন করছি। যৌনতা করছি আর কিছুক্ষনের মধ্যে আমার বীর্যপাত হবে। ” পরাগ বলে।
– ” আমি নিয়ন্ত্রনকারী, আমি ঈশ্বর নই, দেখতে পাচ্ছি, তুমি যৌনতায় লিপ্ত। কিন্তু একে কি আদৌ যৌনতা বলে? তাহলে এত অন্ধকার কেন, ধীরে ধীরে আলোক বিন্দুরা দূরে সরছে কেন? কোথায় কাম, কোথায় ক্রোধ, কোথায় অনুভূতি। সব যে শেষ। যৌনকর্ম আর যৌনতার মধ্যে পার্থক্য বিস্তর। তুমি তো নিজের সুখানুভূতি নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছ। হ্যা তোমার বীর্যপতন ঘটবে তা একান্তই তোমার,…… দেখ কি বলে ভবিষ্যৎ……..
অরন্যা কোনোরকম ভাবে ছুড়ে মারে পরাগকে বিছানার অন্যদিকে। পরাগ ফিরে আসে, ফিরে আসে, দেখে উপরে একটা দেওয়াল, চারপাশ দেওয়াল দিয়ে আবদ্ধ।পাশে তাকিয়ে দেখে অরন্যা চেচাচ্ছে। আর পরাগের লিঙ্গ দিয়ে বীর্যপতন ঘটছে, ভেসে যাচ্ছে অরন্যার বিছানা পরাগের শরীরের ভিতরের গন্ধতে। কিছুক্ষন চোখ বোজে পরাগ, ওর যে বীর্যপাত ঘটছে কিন্তু কোথায় সেই শান্তি? এত কিছুর পর তো এক অদ্ভুত শান্তি পাওয়ার কথা। নতুন আলো দেখবার কথা, তা না। যেন শুক্রাশয় যুদ্ধ লেগেছে। যেন সবে তো শুরু।
অরন্যা ওঠে, পরাগকে এক গ্লাস জল দেয়। বলে ” কি হয়েছিলো তোর পরাগ? কার সাথে কথা বলছিলিস? আগেও বলতিস কিন্তু দু একটা কথা। আজ অনেক কথা বললি। এমন কথা যা অন্তত তোর মুখদিয়ে আশা করা যায় না। “
– ” কি বলছিলাম আমি ” পরাগ গম্ভীর ভাবে জিজ্ঞেস করে, অরন্যা পরাগের লিঙ্গে হাত দিয়ে বলে ” এত বড়ো জিনিষ কন্ট্রোল করিস কি করে? ” পরাগ অরন্যার হাত সরিয়ে দিয়ে জিজ্ঞেস করে “বল না কি বলছিলাম। “
অরন্যা ব্রা পরতে পরতে বলল ” you were talking about like divine sex…. তারপর সব থেকে আশ্চর্য হলাম তুই বললি ‘ বীর্যপাত ‘ মানে যে মানুষ ” মাল আউট” বলে সে আজ হঠাৎ আধ্যাত্মিক জগতের কথা বলছে। আশ্চর্য হব না! “
পরাগ মাথা নীচু করে বসে ছিলো। ওর শরীরের ভিতর সেই তন্দ্রাটা খুজে পাচ্ছে না। আবার মনে হচ্ছে অরন্যাকে ধরে যদি লাগাতে পারত।
অরন্যা বেড কভার টা উঠিয়ে নিয়ে গেল। এসে দেখে পরাগ নগ্ন অবস্থাতেই টান টান হয়ে শুয়ে আছে। চোখ সিলিং এর দিকে। অরন্যা ওর কাছে এসে বুকে হাত রাখে ” কি হয়েছে পরাগ, বেশ কিছুদিন ধরে তুই বেশ ডিস্টার্ব। আমি তোর ভালো বন্ধু। আমায় অন্তত বল। কি হচ্ছে তোর সাথে? “
পরাগ তাকায় অরন্যার দিকে। অরন্যা আতকে ওঠে পরাগের চোখ দেখে, কিছুক্ষনের জন্য মনে হলো পরাগের পুরো চোখে মহাকাশ দেখতে পাচ্ছে। পুরো কালো। পরমূহুর্তে আবার ঠিক। অরন্যা এবার চেচিয়ে বলে ” tell me the truth you damm….what is tha matter….. “
পরাগ সিলিং এর দিকে চোখ রেখে বলতে থাকে। আদি, অনন্তের কথা। কালের বানী। ডিভাইন সেক্সের কথা। অরান্যা শোনে।
যখন বলা শেষ পরাগ উঠে বসে। জাঙ্গিয়া পরতে থাকে। অরন্যা বলে ” পরাগ ডিভাইন সেক্স মানে শুধুই যৌনতা না। ডিভাইন সেক্স মানে শুধুই সেক্স না। “
পরাগ তাকিয়ে ছিলো। অরন্যা ওর দাড়ীতে হাত বুলিয়ে হেসে বলে ” ডিভাইন মানে হচ্ছে ঐশ্বরিক বা ঈশ্বর। আর ডিভাইন সেক্স মানে হচ্ছে স্বর্গসুখ, শান্তি, যেমন ধর ছেলারা যদি ইজ্যাকুলেশনের পর পায় সেই শান্তি আর মেয়েরা যতক্ষন নিয়ে পারে। একদম ভিতর অবধি। the kingfisher has the dream of sex with nature… এটা মানে এই না যে মাছরাঙা পাখি প্রকৃতির সাথে যৌনতা করবে..এর মানে হচ্ছে ‘পরিবেশ আজ বড্ড আনন্দে আছে, শান্তিতে আছে। শান্তি, সুখ।। একটা অ্যাডিকশন। “
– ” তাহলে আমার ভুল কোথায়? “
– ” তোর ভুল হচ্ছে you are just a fucking machine….. না না গালাগালি না… fucking machine means সেক্স করার যন্ত্র। সেক্সে অনেক কিছু থাকে পরাগ। তুই লাস্ট কবে আমার দুধে মুখ রেখেছিস বলতে পারবি? বা সেক্সের সময় আমাকে খেয়েছিস ইচ্ছে মত? “
পরাগ অপ্রস্তুত হয়ে পড়ল যেন। বলে ” তোর ওই চর্বির বল দুটোয় আমার কোনো ইন্টারেস্ট নেই। আর সেক্সের সময় ওগুলো আমার বড্ড সময় নষ্ট মনে হয়। “
– ” that’s why I call you fucking machine ” অরন্যা হাসে।

এখন সন্ধ্যেবেলা। সারা দুপুর পরাগ দুচোখের পাতা এক করতে পারেনি। এখন বিছানায় হ্যালান দিয়ে বসে আছে। হঠাৎ ত্রিধা পরাগের ঘরে ঢোকে। ত্রিধা কাছে এসে বসে পরাগের দাড়িতে হাত বুলিয়ে বলে ” কি রে এরকম ভূতের মত বসে আছিস কেন?”
পরাগ দেখে ত্রিধা তাকিয়ে আছে। হঠাৎ অরন্যার সেই ব্যঙ্গাত্মক হাসি আর কথাটা মনে পড়ল ‘ you are just a fucking machine….’
পরাগ ত্রিধাকে কাছে টেনে বলে ” কিস করবি আমায়….. “
ত্রিধা যেন আকাশ থেকে পড়ে ” মানে তুই…. ” আর কিছু বলতে পারল না ত্রিধা। পরাগ যেন ভিতর থেকে কিছু টেনে বার করে আনতে চাইছে। এমন ভাবে কিস করছিলো। পরাগ খেয়াল করে ত্রিধা পরাগের প্যান্টের মধ্যে হাত ঢুকিয়েছে। ওর পুরুষাঙ্গ ধরে মৈথুন করছে। গায়ের জোরে। পরাগ ভাবে ও যে ওকে কিস করছে তার কি কোনো দাম নেই? এসেই আগে ধনে হাত দিতে হবে? ও ছুড়ে মারে ত্রিধা কে, বলে ” কেন বাড়া কিস করছিস তাতে হচ্ছে না? চোদাতেই হবে বল? “
ত্রিধা হেসে বলে ” তোর কিসে কেউ আনন্দ পেয়েছে আজ পর্যন্ত। তুই পারিস কিস করতে? ঠোটে ঠোট ঠেকালেই তাকে কিস বলে না। you are just a fucking machine….. understand??? ” ত্রিধা বেরিয়ে গেলো ঘর থেকে। এটা গালাগালির মত লাগল খানিক টা।
সবাই ওকে এক কথা বলছে। ও নাকি যন্ত্র। ওর মধ্যে কোনো কাম, ক্রোধ, অনুভূতি নেই। just a fucking machine….. কেউ ওর এই প্রাপ্তিকে, ভালোবাসে না। মন থেকে চায় না। শুধু ওর মধ্যে একটা যৌনাকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি করার ক্ষমতা আছে তাই এখন প্রাইয়োরিটি হয়ে দাড়িয়েছে। এসব চিন্তা, তোল পাড় হচ্ছিলো পরাগের মাথায় স্কাইলাইটের তলায় দাঁড়িয়ে। আজ ও নগ্ন অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। সেই বোঝা, চাপ। কিন্তু পাত্তা দিচ্ছে না। একটা সিগারেট ধরায় পরাগ। অরন্যার কথা মনে পড়ে গেল। ডিভাইন…. শান্তি, নেশা। কোথায় গেলে পাওয়া যাবে। ধুম্র বলয় উঠলো তার মাঝখান থেকে জলন্ত তারা দেখা যাচ্ছে। একটা অদ্ভুত চোখের মত আকৃতি। কি যেন ভেসে বেড়াচ্ছে। কিছু একটা তে ডুবে যাচ্ছে ও। কি শান্তি। একি মৃত্যু ? না মৃত্যু কেন হবে ? তার আগে যে একজন কে, জীবনে একজন কে যে প্রতীজ্ঞা করলাম সেটা পূরণ করতে হবে। সোহানের ওই নীল চোখ দুটো ভেসে উঠলো পরাগের চোখে, সেই সোনালী রং, চেরি ফলের মত গোলাপী দুটো বুক, আর তলপেট থেকে নেমে পড়া একটা লিঙ্গ। পরাগ তাকিয়ে ছিলো সেই দিকে। কোথায় যেন হারিয়ে গেছিলো বুঝতে পারছিলো না যে, ও কি দেখতে চাইছে আর কি দেখছে ?
বুঝতে চাইছিলো। ও ব্ল্যাঙ্ক হয়ে গেছিলো। সব বোঝা হালকা হয়ে গেছিলো কিছুক্ষনের জন্য। যেমন এখন নেমে গেল সব চাপ। হঠাৎ খুব ঘুম পাচ্ছে। সিগারেটের টানে এই প্রথম এত নেশা ধরল। এত ঘুম পাচ্ছে। না ঘুমাতে হবে কাল ধকল আছে। দাদার কাছ থেকে বাইক টা নিলে হয়।


১০।
(এক বাস্তব স্বপ্ন…পরাগের দিক থেকে) এত আলো কেন? পরাগ চারদিকে ভালো করে তাকিয়ে দেখে। দেখে ও দাঁড়িয়ে আছে এক রাস্তায়। কোলকাতার রাস্তায়। কোনো অন্ধকার নেই। ওই তো পথে পড়ে থাকা হাড় হাভাতে মানুষ গুলো। ওই ওদের ছেড়া ন্যাকড়া। ওর ওপর শুয়ে আছে কিছু কালো মানুষ। তার আশপাশ দিয়ে খেলে বেড়াচ্ছে নোংরা বাচ্চা গুলো। যাদের তলপেট থেকে ঝুলছে ছোট লিঙ্গ। মেয়ে গুলোর গায়ে কোনোরকম এক টুকরো কাপড়। পরাগের সেই অন্ধকার জগত কোথায় গেল? আর সেই কাল, নিয়ন্ত্রণকারী। সেই আলোক বিন্দু গুলো?
হঠাৎ পরাগ দেখে এক ঠান্ডা ঘর। এসি চলছে। সামনে নগ্ন সোহান। পরাগের পায়ে কেউ যেন বরফ ঢেলে দিয়েছে, নড়তে পারছে না। খুব শীত করছে ওর। সোহানের বুকের গোলাপী চেরি ফল দুটোর ওপর নজর পড়ে। আর ঝুলতে থাকা লিঙ্গ। সোহান কাছে আসছে, আরো কাছে আসছে। এক সময় সোহানের মুখের স্বাদ পাওয়া গেল। ভেজা মিন্টের স্বাদ। আর নীল চোখ নিয়ে সোহানের সেই চাহুনি। পরাগ যেন চাইছে না এসব হোক। ও সোহানকে দূরে ফেলে দেয় ধাক্কা দিয়ে। কিন্তু ধাক্কা দিতে চায় নি ও। ধাক্কা ও সোহানকে দিলো কিন্তু নিজে ছিটকে গেল। কোথায় যেন পিছিয়ে যাচ্ছে পরাগ। শুধু পিছিয়ে যাচ্ছে। সোহান চলে গেল, হাড় হাভাতে মানুষ গুলো চলে গেল, কোলকাতার রাস্তা চলে যাচ্ছে, আলো দূরে সরে যাচ্ছে।
কোথায় এটা,? এমন অন্ধকার তো আগে দেখেনি পরাগ, এখানে তো কোনো বস্তুর অস্তিত্ব নেই।
হঠাৎ পরাগ খুব ভারমুক্ত মনে করল নিজেকে। একটা ভিজে মিন্টের গন্ধ ঘুরে বেড়াচ্ছে ওর চার পাশ দিয়ে। আর পরাগ সম্মোহিত হচ্ছে। ও টান টান করে দিয়েছে নিজেকে। একটা সুবিশাল নীল সমুদ্র। হলুদ প্রখর সমুদ্র, সোনালী আভায় বালি ভেসে যাচ্ছে। হলুদ, স্বর্নাভ বালি। হঠাৎ একটা সোদা সোদা গন্ধ, এটা বোধ হয় ওর নিজের গায়ের গন্ধ। যা এ প্রকৃতিতে বড়ো বেমানান। ওর হাতে একটা গ্লাস আছে, ওয়াইন গ্লাস, তাতে চেরি ফলের মত গন্ধ, পরাগ ঢক ঢক করে খেয়ে নিলো।
মাথাটায় ঝিম ধরছে। কি শান্তি,! এই কি সেই শান্তি।? এই কি সেই ভালো লাগা , এখান থেকে কোথায় যাবে না। পরাগ সোনায় ভেজা বালির মধ্যে ইচ্ছে মত গড়াগড়ি খাচ্ছে। মুখ ঘষছে বালিতে। চেরি ফলের গন্ধে ডুবে যাচ্ছে। নীল সমুদ্র দেখতে ভালো লাগছে। তবে এই কি সেই ডিভাইন? সেই স্বর্গসুখ কি এটাই? এত ভালো এর আগে কোনোদিন লাগেনি। হঠাৎ একটা শব্দ পাওয়া গেল জলের শব্দ, পরাগ তাকিয়ে দেখে, একটা মাছরাঙা পাখি জল থেকে মাছের মত কিছু একটা নিয়ে উড়ে যাচ্ছে। উড়ে যাচ্ছে। সূর্যালোকে মিলিয়ে যাচ্ছে। পরাগ আবার পিছিয়ে আসছে সব কিছু ছেড়ে পিছিয়ে আসছে। আবার সেই অন্ধকার।
কিছুক্ষন সব স্তব্ধ। পরাগ চোখ বুজে আছে।
– ” পরাগ! নেশা হয়েছে? পেয়েছ ডিভাইন সেক্স? “
পরাগ চোখ খুলে দেখে সেই কাল।
– ” তুমি। আজ এত অন্ধকার কেন? “
– ” এটা তোমার নির্বোধ মস্তিষ্ক এর অন্ধকার। তুমি বুঝেও যেটা না বোঝার ভান করছ। মানুষ নিজে ইচ্ছা করে না বোঝার ভান করে গেলে তাকে কে বোঝাবে পরাগ।? আজ সব যে পরিষ্কার তোমার কাছে। ” কাল হাসেন।
– ” আমি বুঝিনি! “
বুঝবে চোখ খুললে বুঝবে। এবার যখন আলোয় চোখ খুলবে আর কোনোদিন অন্ধকার হবে না। তুমি একাধারে আমায় হারিয়ে দিলে। খুজেই নিলে সেই রিপুকে। ” কাল হাসেন।
পরাগ জামা কাপড় খুলে, ফেলে বলে ” আজ তো আপনি, একবার নাড়ালেনো না আমার যৌনাঙ্গ। “
কাল পরাগের বুকে হাত রেখে বলেন ” তার আর দরকার পড়বে না। এখন তো তুমি আর নিয়ন্ত্রককে নিয়ন্ত্রন করছ না। “
উধাও! কাল উধাও! হঠাৎ একটা আওয়াজ ভেসে আসে, ফিসফিস করে “the kingfisher has the dream of sex with nature “
পরাগ লাফ দিয়ে ওঠে। দেখে ওর ওই আগোছালো ঘর, সেই বারান্দা। আবার সেই তোল পাড় করা শরীর। কেউ যেন ওকে বেধে রেখে চাবুক মারছে। কোথায় শান্তি? শুধু স্বপ্নে? সেই স্বপ্ন এক সোনালী দ্বীপ, নীল সমুদ্র, আর চেরি রং এর ওয়াইন। কিন্তু তা তো স্বপ্নে। শান্তি চাই! শান্তি চাই! ডিভাইন।
পরাগ হাত পা ছোড়ে হঠাৎ হাতটা গিয়ে পড়ে পাশে রাখা প্যাকেটের ওপর। সোহানের দেওয়া সেই প্যাকেট। সোহান বলেছিলো ” এটা তোমার জন্য। “
তখন সোহান নগ্ন, আবার সেই হলুদ বালি রাশির মত শরীর। নীল দুটো চোখ সমুদ্রের মত, চেরি গোলাপী চর্বিহীন বুক দুটো। আর ওর ওই তলপেট থেকে ঝুলে থাকা যৌনাঙ্গ। সেই পরিবেশের অস্তিত্ব তবে এ জগতে আছে। কাল বলেছিলেন পেয়ে গেলে তবে রিপু। বোঝেনি পরাগ। এখন বুঝছে যখন, আর দেরী কেন? ওর ডিভাইন চাই। শান্তি চাই, বাচবে ও। পেয়ে গেছে সেই মারাত্মক বেচে থাকার নেশা।
পরাগ ছুটছে, রাত সাড়ে এগারোটা, আজ এই নেশাটার জন্য বড্ড তাড়াতাড়ি চোখ লেগে গেছিলো। একটা ভেজা মিন্টের গন্ধ ওকে ওর গন্তব্যের দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ছূটছে। কোয়েন্টিকো কমপ্লেক্স আর কতদূর?

পরাগ যখন কমপ্লেক্সে পৌছায়। তখন কমপ্লেক্স বন্ধ এখন বেরোনো ছেড়া, কেউ ঢুকতে পারবে না। এক হয় যদি ফোন করে কথা বলে নীচে ডাকা যেত কিন্তু এতদিন হয়ে গেছে। সোহানের ফোন নাম্বার চাওয়া হয়নি। হঠাৎ গেট দিয়ে একটা গাড়ী বেরিয়ে গেল। আরে এটা তো সোহান দের ই গাড়ী। ওর বাবা আইটি প্রফেশনে আছে, ও বলেছিলো, যখন তখন প্রোজেক্টের জন্য ডাক আসতেই পারে। তার মানে সোহান আছে বাড়ী তে। পরাগ মনে মনে চিন্তা করে নিলো যে, ঠিক আছে তিন তলায় সোহান দের ফ্ল্যাট আরাম সে পাইপ বেয়ে উঠে পড়বে।
পিছনের পাচিল, শক্তিশালী পরাগের কাছে ডিঙানো কোনো ব্যাপারই ছিলো না। শরীরের মধ্যে তোল পাড় ও উত্তেজনা একসাথে হচ্ছে। পুরো লন টা আলো আধারিতে ঢাকা। ওই তো তিন তলায় সোহানের ঘরে আলো জলছে। পরাগ পা বাড়ালো। হ্যা উঠে গেলো, বলা যেতে পারে যেন গা ছেড়ে দিয়েছিলো পরাগ, ভিজে মিন্টের গন্ধ ক্রমশ গাঢ় হচ্ছিলো। তাতে ভেসে এসে পড়ে ওই তিন তলায়।
কাচের ওপারে পরাগ চোখ রাখে, পর্দার আড়াল থেকে দেখা যাচ্ছে, একটা আদুল দেহ। একটা বড়ো গেঞ্জীর প্যান্ট পরা। এক হাতে বই নিয়ে সোহান বিছানায় হ্যালান দিয়ে বসে আছে। শ্রোণিদেশ শিরশির করে ওঠে পরাগের, সোহানের ওই মায়াময় রুপ দেখে। এর কাছে পৌছাতেই হবে ওকে। একটা কাচ আর বোধ হয় হাত দশেকের দূরত্ব। তারপর ওর সেই স্বর্গরাজত্ব।
পরাগ দেখছে, ঘরের চার কোনায় চার রকম আলো জলছে। আর বেড ল্যাম্প থেকে যে হলুদ আলো বেরোচ্ছে তাতে সোহানের শরীর আরো সুন্দর দেখাচ্ছে। কেন যেতে পারছে না পরাগ ওর কাছে? কত কাছেই তো বসে আছে সোহান। ওকে কি তবে এবার ওর স্বত্তা আটকাচ্ছে। যে শেষভাগে এসে মনে হচ্ছে যা করাচ্ছে, এতো হওয়ার কথা ছিলো না। এখন যেন অনুভূতি গুলো চেপে বসছে। না না, ও তো নিজেই সোহানকে ‘হোমোচোদা ‘, ‘হোমোচোদা ‘ বলে উপহাস করেছে। আর ও এসেছে আজ সোহানের কাছে। কাল যদি ও নিজেকেই নিজে হোমো বলে ফেলে। ! একবার নীচেরদিকে তাকায় পরাগ, কিন্তু সেখানে তো অন্ধকার। আলো তো সোহানের এই ঘরে, সোহানের কাছে। দোনো মোনো হচ্ছে পরাগের। ওর ডিভাইন। ওর শান্তি?
পরাগ কিসের কথা ভাবছে? কেউ তো একবারমাত্র ওর খোজ নেয়না। ভালো আছি কি না জানতে চায় না। সব একরকম থাকবে। পরাগ এক থাকবে শুধু, শান্তি পাবে আলাদায়, ভিন্নে। জানুক তবে সবাই। আবার নাই বা জানল। কি আছে। এখন দূরত্ব যেদিকে কম, সেটাই ডিভাইন। আর সহ্য হচ্ছে না এই তোল পাড়। হাতুড়ির বাড়ী। এত জটিল প্রশ্নের ভীড়। পরাগ কাচে হাত রাখে। আর না। তবে কি হয়েই গেলো। দেখা যাক কি করি আমি।…..
তবে সময় এখোনো আছে। কিন্তু অন্ধকার আর সহ্য হচ্ছে না যে। না! না আর ভেবে লাভ নেই।

তবে সময় এখোনো আছে। কিন্তু অন্ধকার আর সহ্য হচ্ছে না যে। না! না আর ভেবে লাভ নেই।

(গল্প দুজনের দিক থেকে…..)
পরাগ সিদ্ধান্ত নিয়েই নিলো। কাচের ওপর টোকা মারে। সোহান মন দিয়ে বই পড়ছিলো। হঠাৎ ভ্যালকনি থেকে এরকম টোকা মারার শব্দে আতকে ওঠে সোহান। পরাগ দেখছে সোহান এই দিকেই তাকিয়ে আছে। কিন্ত দেখতে পাচ্ছে ওকে, পর্দার আড়ালের জন্য। সোহান বিছানা থেকে উঠে কাচের দরজার পাশে এসে দাঁড়ায়। ভাবে হাওয়াও হতে পারে। কিন্তু সোহান যথেষ্ট ভীতু। আর হরোর ফিল্ম দেখতে দেখতে নিজেকেই ভুত ভেবে বসে মাঝে মাঝে। তাই ফিল্মের সংলাপের মত বলেই ফেলে “কেউ আছে ওখানে?”
পরাগ শুনতে পায় সোহানের আওয়াজ। ও কোনো কিছু না ভেবেই বলে ” সোহান! আমি…… “
সোহান ভয় পেলো, খুব ভয় তবে ভূতের নয়। এ ভয় রোমান্টিকতার। গায়ে শিহরণ জেগে উঠলো। মনে হলো কিছুক্ষনের জন্য রোমিও জুলিয়েটে চলে গেছে। ও চট জলদি পর্দা সরালো। হ্যা ও যা দেখছে তা মিথ্যে হতে পারে না। বাইরে ঘন অন্ধকার। আকাশে তারারা জানান দিচ্ছে আলোর অস্তিত্ব মিটে যায় নি। ঘরের মৃদু আলোয় শ্যামিক পরাগের গায়ের মৃদু বাদামী রং দৃঢ় হয়েছে। সেই দাড়ীতে ভরা শক্ত চোয়াল। কালো একটা গেঞ্জী, লাল টাইট প্যান্ট, পিঠে একটা ব্যাগ। কানে চকচকে দুল দেখা যাচ্ছে বিশাল সুগঠিত চেহারাটা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে কাচে এক হাত দিয়ে। যেন কাল পুরুষ। সোহান সেই হাতের পরতের ওপর নিজের হাত রাখে। মনে হচ্ছিলো জন্ম জন্মান্তর পার করে পরাগ এসে দাড়িয়েছে এই পরতের ওপারে। পরাগ কাচের ওপার থেকে কপাল ঠেকিয়ে দেয়, বলে ” you know….. I have the dream of sex with this nature….”
সোহান আর দেরী করে না। সরিয়ে দেয় বাধা। ছুটে যায় রেলিং এর ধারে নীচের দিকে তাকিয়ে দেখে অন্ধকারের ঘনিয়ে থাকা পৃষ্ঠ উপড়ে পরাগ এখানে এসেছে। ও পরাগের সামনে দাঁড়িয়ে বলে ” এভাবে কেউ আসে? তুমি যদি পড়ে যেতে.? কিছু যদি হয়ে যেত? “
পরাগ দেখে সোহানের নীলসাগর খাড়া খাত বেয়ে নেমে আসছে। সোহান বলে ” তুমি কি পাগল পরাগ? একটা ফোন করলে আমি তো যেতে পারতাম। এই ভাবে কেউ আসে। কিছু যদি হয়ে যেত। কি করে…. ” পরের কথাটা বলার আগেই পরাগ সোহানের কোমর ধরে কাছে টেনে আনে। উফ কি চরম সুখ। পরাগ বলে গম্ভীরভাবে ” এত বকিস কেন বাড়া? “
সোহান নিস্তব্ধ। পরাগের চোখ দুটো জলজল করছে। পরাগ বলে ” কোথায় রোমিওর মত এত উপরে এসে, তোর সামনে এসে দাড়ালাম জড়িয়ে ধরে কিস করবি?! তা না লেকচার দিচ্ছে। “
সোহান নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছে না। পারিপার্শ্বিক যাবতীয় সব কিছুই ভ্রম মনে হচ্ছে, পরাগের চোখ দুটো আজ বড্ড বিশ্বাস্য। সোহান বলে কেটে কেটে ” মানে…. পরাগ…. তুমি..কি…. বলছ? ” সোহানের শরীরে ভালোলাগার ভয় কাজ করছে,। পরাগ সোহানকে পিছনে সরাতে সরাতে দেওয়ালের সাথে হেলান দিয়ে দেয় ” শালা তোর নেশা, লেগে গেছে। উজাড় করে দিচ্ছিস সব কিছু আমার, তোর নীল চোখে হাবুডুবু খাচ্ছি আমি শালা। ” পরাগ সোহানের নগ্ন বুকের বামবৃন্ত দুই আঙুল দিয়ে মৃদুভাবে চিপে ধরল। সোহান চোখ বুজে ফেলে। কাপছে সোহান। উত্তেজনা, ভালোবাসা, ভালোলাগা। পরাগ বৃন্তে আঙুল ঘোরায় বলে ” এই সব কিছু আমায় দিয়ে দে তুই। এগুলো কিছু তোর না। ভগবান এগুলো আমার জন্য পাঠিয়েছে। আমার বেচে থাকার উপকরণ এগুলো। তুই আমার নেশা। আমায় বাচিয়ে নে । “
সোহান বুঝতে পারে ওর পা আর মাটিতে নেই, ও পরাগের কোলে। বিছানায় শুইয়ে পরাগ সোহানের গায়ের চাঁদরে পরিনত করে নিজেকে। সোহান আজ পাচ্ছে পরাগের সেই শরীরী ঘ্রান, আজ এসব বড্ড নিজের মনে হচ্ছে। পরাগ বুড়ো আঙুল সোহানের ঠোটে রেখে বলে ” দে এই কমলা লেবুর কোয়া দুটো আমায় দে, একদিন বেবোধের মত অবহেলা করেছি ” পরাগ সোহানের ঠোটের ফাকে নিজের জীভ প্রবেশ করালো।
সোহান যদি দেখতে পারত, পরাগের চোখ দুটো। কিন্তু ওর আর ক্ষমতা নেই ও তো এই জগতেই নেই।
পরাগ যেন নিজেকে ঢুকিয়ে দিতে চাচ্ছে সোহানের ওই ভিজে মিন্টের স্বাদের নেশায়। পরাগ সোহানকে নিজের দিকে ঘুরিয়ে কোলে বসালো। পরাগ বলছে ” চোখ খোল সোহান, আমায় ভালোবাস, আকড়ে ধর আমায়। আমায় বাচতে দে। আমায় ভালোবাসা শেখা। আমি মহা গান্ডু। “
সোহান চোখ খোলে। জলজলে দুটো চোখ। সোহান হাত দিয়ে পরাগের জামা খুলে নেয়। পরাগের লোমশ গাল দুটোকে নিজের দুহাতের মধ্যে নিয়ে খুব কাছ থেকে বলে ” I love you “
– ” I want you… love you… you are my life time addiction… “
সোহান নিজে থেকে পরাগের ঠোট মুখে নেয়।
কখোনও সোহানের সারা শরীর পরাগের জীভের স্পর্শ পায়। আবার পরাগের সমগ্র দেহ সোহানের ভালোবাসা পায়। সোহানের বুকে পরাগের দাতের ছাপ বসে যায়। আর পরাগ এক ধাপ এক ধাপ করে ইহকাল ফিরে পায়। সোহানকে আজ সোজাসুজি রেখেই পরাগ প্রবিষ্ট হয় ওর দেহে। আজ সোহানের ব্যাথা করছে না, বিন্দুমাত্র না। বরং পরাগের ঠোটের সাথে ঠোট ঠেকিয়ে রেখেছে । আঙুল দিয়ে পিঠ আকড়ে রেখেছে। ভালো লাগছে পরাগের গায়ের উৎকট পুরুষালী ঘ্রান।
পরাগ খুজে পাচ্ছে নিজেকে। হ্যা এটাই ওর যৌনতা। এই সত্যি থেকে পালাবার উপায় নেই। এই নীল চোখেই, এই সোনালী শরীরেই ডুবে থাকতে হবে ওকে। এখানে অনেক শান্তি। এখানে অনেক প্রেম, অনেক ভালোবাসা। কোনোদিন পায়নি ও। এটাই ওর ডিভাইন। ভালোবেসে ফেলেছি এই চোখ, এই শরীর, এই ছোয়া, এই সোহানকে।
পরাগ সোহানের গলায় ঠোট ডুবিয়ে বলে ” আমাকে নে সোহান। নে আমায় পুরোপুরিভাবে। ” এলোমেলো শ্বাস পড়ছে ওর।
সোহান চোখ বোজে। বুঝতে পারে পরাগের শরীর থেকে উষ্মতা, আধ্যাত্মিক তরল, বেরিয়ে এসে ওর শরীরে মিশছে। পরাগ আর ওর মিলন হচ্ছে। চোখ বোজে সোহান। এ অনুভূতির ভাগীদার কেউ না। আকড়ে রাখে পরাগের পিঠ নিজের সাথে।
পরাগ বোঝে তার পতন ঘটেছে। জগতের যাবতীয় ভারমুক্তি ঘটল আজ। শরীর ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে। এই অনুভূতির বর্ননা নেই। শুধুই সোহান।
পরাগ তাকিয়ে দেখে সোহান তাকিয়ে রয়েছে স্থির দৃষ্টিতে ওর দিকে। চুমুর পর চুমু পড়তে থাকে সোহানের ঠোটে। ভিজছে ওদের ঠোট। সোহান হেসে বলে ” এসব কি সত্যি ছিলো পরাগ, নাকি শুধুই স্বপ্ন। ” পরাগ সোহানের বুকে ঠোট ঠেকিয়ে বলে, ” আমি স্বপ্ন দেখতে চাইনা আর। তুই আমার রিয়েলিটি। সব চেনা হয়ে গেছে আমার। “
একসময় রাত হলো নিঝুম। শুধু বিছানার পাশের ল্যাম্পটা জলছে। ঘড়ীর কাটার আওয়াজ শুনতে পাওয়া যাচ্ছে। এসির হাওয়ার আওয়াজ ও শোনা যাচ্ছে। রাত এখন সাড়ে তিন। পরাগ জলজল চোখে তাকিয়ে আছে সোহানের দিকে। ও জড়িয়ে রেখেছে সোহানকে, যেন কোথাও পালাতে দেবে না, কোথাও যেতে দেবে না। সোহানের বুকে নাক ঠেকিয়ে রেখেছে পরাগ। ওর গা থেকে একটা সুন্দর গন্ধ আসছে, পরাগের ভালো লাগছে। গন্ধটা ক্রমশ জড়িয়ে ধরছে ওকে, এই জগত ছেড়ে ও কোথাও যাবে না।পেয়ে গেছে ও।
সোহানের বুকে দাড়ির ছোয়া লাগছে, পরাগের গরম নিশ্বাস পড়েছে। পরাগ ওর একেবারে নিজের আজ। অন্তত আজ। সারা জীবনের জন্য শুধু ভগবানের কাছে প্রার্থনা করা যায়।
পরাগ জিজ্ঞেস করে” একটা কথা জিজ্ঞেস করি “
– ” বলো। তোমার কথাই শুনবো আজ। “
– ” তোর খুব কষ্ট হয় বল? রোজ রোজ আমি আমার….. ” পরাগের গলা বুজে আসে।
সোহান হারিয়ে যাচ্ছে বার বার। রাগী মানুষ গুলো এমন অবুঝ হয় ” না আজ কষ্ট হয় নি,আজকের পরাগ। এ এক অন্য পরাগ।
– “ঘুম পাচ্ছে না? “
সোহান বলে ” এই টুকু পড়েনি, ঘুমাবো। “
পরাগ আরো আকড়ে ধরে সোহানকে, বলে ” আমাকে শোনা কি পড়ছিস। “
– ” হঠাৎ দেখা ‘ শুনেছো কোনোদিন? “
– ” না ! শোনা। “
সোহান হাসে পরাগের দিকে তাকিয়ে, কপালে চুমু খায়। পরাগ নিজের মাথা নিমজ্জিত করে সোহানের গলা আর বুকের মাঝের আবেশে। এক শান্তির উষ্মতা, এই মেয়েলী প্রেমটার শরীরে।
ঘরের মধ্যে ভেসে বেড়ায় ভালোবাসা ” হঠাৎ দেখা”র লাইন গুলো।

‘ রেলগাড়ির কামরায় হঠাৎ দেখা, ভাবি নি সম্ভব হবে কোনোদিন। আগে ওকে বারবার দেখেছি লালরঙের শাড়িতে
দালিম ফুলের মতো রাঙা; আজ পরেছে কালো রেশমের কাপড়,আঁচল তুলেছে মাথায় দোলনচাঁপার মতো চিকনগৌর মুখখানি ঘিরে। মনে হল, কালো রঙে একটা গভীর দূরত্ব
ঘনিয়ে নিয়েছে নিজের চার দিকে,
যে দূরত্ব সর্ষেখেতের শেষ সীমানায়
শালবনের নীলাঞ্জনে।
থমকে গেল আমার সমস্ত মনটা। চেনা লোককে দেখলেম অচেনার গাম্ভীর্যে। হঠাৎ খবরের কাগজ ফেলে দিয়ে আমাকে করলে নমস্কার।
সমাজবিধির পথ গেল খুলে,আলাপ করলেম শুরু –কেমন আছ, কেমন চলছে সংসার ইত্যাদি।

সে রইল জানলার বাইরের দিকে চেয়ে, যেন কাছের দিনের ছোঁয়াচ-পার-হওয়া চাহনিতে। দিলে অত্যন্ত ছোটো দুটো-একটা জবাব,কোনোটা বা দিলেই না। বুঝিয়ে দিলে হাতের অস্থিরতায় –কেন এ-সব কথা,
এর চেয়ে অনেক ভালো চুপ করে থাকা। আমি ছিলেম অন্য বেঞ্চিতে
ওর সাথিদের সঙ্গে।

এক সময়ে আঙুল নেড়ে জানালে কাছে আসতে।
মনে হল কম সাহস নয়;
বসলুম ওর এক-বেঞ্চিতে।
গাড়ির আওয়াজের আড়ালে বললে মৃদুস্বরে,
“কিছু মনে কোরো না,
সময় কোথা সময় নষ্ট করবার।আমাকে নামতে হবে পরের স্টেশনেই;দূরে যাবে তুমি,
দেখা হবে না আর কোনোদিনই।তাই যে প্রশ্নটার জবাব এতকাল থেমে আছে, শুনব তোমার মুখে।

সত্য করে বলবে তো?

আমি বললেম, “বলব।”

বাইরের আকাশের দিকে তাকিয়েই শুধোল,

“আমাদের গেছে যে দিন
একেবারেই কি গেছে,
কিছুই কি নেই বাকি।”
একটুকু রইলেম চুপ করে;তারপর বললেম, “রাতের সব তারাই আছে
দিনের আলোর গভীরে।” খটকা লাগল, কী জানি বানিয়ে বললেম না কি। ও বললে, “থাক্‌, এখন যাও ও দিকে।” সবাই নেমে গেল পরের স্টেশনে;

আমি চললেম একা।
সোহানে থামে। এক রাবীন্দ্রিক নিস্তন্ধতা। তাকিয়ে দেখে পরাগ ঘুমিয়ে পড়েছে। কি দারুন দেখতে লাগছিলো। ওর গলার খাজে মুখ গুজে ঘুমিয়ে আছে। সেই নিষ্ঠুর, নির্মম দামাল পুরুষ ঠিক কাছুমাছু দিয়ে। যেন শিশু। এও এক হঠাৎ পাওয়া।

( মহালয়ার নতুন সকাল…… সোহানের দিকে)
সোহান চোখ খুলে দেখে ওর বাবা অনিশ দাঁড়িয়ে। কাচ চিরে ঘরে রোদ ঢুকছে। কাল ও কি স্বপ্ন দেখলো। না, তার কারন সোহান দেখে পরাগের নগ্ন দেহ চিৎ হয়ে স্বপ্ন দেখছে। এক শান্তির ঘুম। ও চট করে কম্বল টা দিয়ে পরাগের কোমর পর্যন্ত ঢেকে দিলো। সোহান দেখে অনিশ হেসে ঘাড় নাড়াতে নাড়াতে ওর রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। সোহান খুব লজ্জা পেল। বাবা তো ঢুকতে ঢুকতে সব বুঝেছে। ইস কি কান্ড। পরক্ষনেই পরাগের গালের কাছে গিয়ে ওকে চুমু খেল সোহান। তারপর প্যান্ট পরে বেরিয়ে আসে ঘর থেকে।
ড্র‍য়িং রুমে যেন আলো, সূর্য আলো খেলে বেড়াচ্ছে। খুব প্রখর আলো। সব পর্দা সরানো। বাবা ডাইনিং টেবিলে বসে চা খাচ্ছে। ওকে দেখে বলে ” good morning champ… আয় বোস। বেড টি দিতে গেছিলাম। তাতে যা সিন দেখলাম। তা বেচে বর্তে আছিস তো।? এই টুকু টুকু বাচ্চা ছেলে গুলোর সাইজ কি! ওহ! “
সোহান হাসে এই ড্যাডের শুরু হলো। সারাজীবন এর রেষ চলবে। কিন্তু আজ সোহানের ভালো লাগছে। ও টেবিলে এসে বসে, ভ্রু কুচকে বাইরের দিকে তাকিয়ে মৃদু হেসে বলে ” you had to knock the door dad “
অনিশ বলে “অনেকবার ধাক্কিয়েছি।আপনারা যে আমার অবর্তমানে ঘোড়া বেচে দিয়ে ঘুমাচ্ছেন কি করে জানব।? ” হাসে অনিশ।
– ” ওহ! কাল অনেক রাত হয়ে গেছে ঘুমাতে। “
– ” থাক থাক আর বলতে হবে না। “….. ” তাহলে পরাগ….ভেবে চিনতে নিয়েছিস তো। দেখ লাইফ কিন্তু তোর। আমি কোনো কিছুই বারন করব না you know…… “
সোহান হেসে বলে ” yeah পরাগ। আর কোনো যায়গা নেই ড্যাড। সব দেওয়া হয়ে গেছে। ” বাইরের দিকে তাকায় সোহান। পূজোর শহর মেতে উঠেছে।
অনিশ হেসে বলে ” তাহলে! আমার চাপ কমল! আর যাই হোক তুই একা তো আর নেই এই কোলকাতার নস্টালজিয়ায়।”
সোহান হাসে বলে ” তুমি কিন্তু এখোনো বললে না ড্যাড, why do support me? “
অনিশ মৃদু হাসে, দেখে এমন লাগল যেন অনেক গল্প আছে। অনেক। বলে ” জীবনে কিছু কিছু ভালো লাগা গুলো অবলা থেকে যাওয়া ভালো। আজ বুঝছিস না, এখন শুধু নতুন খবর, নতুন ভালোবাসা, মুক্ত জগত, এসবের খবর নিয়ে হবে কি? “
সোহান তাকিয়ে থাকে অনিশের দিকে। অনিশ বলে ” যাই, মহালয়ায় আবার আইটি প্রফেশন ছুটি দেয় না। “” আর হ্যা happy journey my champ “
দরজা খুলে বেরিয়ে যায় অনিশ।
দারুন ছিলো এই নতুন সকালটা। দুজন ডিভাইন জগতের প্রেমিকের নতুন জগতের এক অনন্য সকাল। দূর কোথা থেকে একটা মন্ত্র ভেসে আসছে। পূজো আসছে। সোহান ঘরে ঢুকে দেখে পরা খালি গায়ে, লাল ফুল প্যান্ট পরে রেলিং ধরে দাঁড়িয়ে আছে। ঘাড়ে হাত রাখে পরাগের। পরাহ মৃদু হেসে ওর হাতটা আকড়ে ধরে। বলে ” বেরোবি তো চল। আজ অনেক ঘোরা বাকী। অনেক ভালোলাগা বাকি। “
– ” আপনার হাসিটা কিন্তু খুব সুন্দর মি. পরাগ। ” সোহান নরম ভাবে বলে। পরাগ হাসে, আরো হাসে। সকাল আরো ঝলমলে হয়। পরাগ বলে ” শোন কান টা এদিকে আন কথা আছে। “
– ” কি কথা? ” সোহান অবাক হয়।
– ” বেশী বকিস বাড়া শোননা শালা। রাগলে ভালো হবে? “
সোহান বাচ্চা ছেলের মত মুখটা বাড়িয়ে দেয়। পরাগ আকস্মাৎ সোহানের ঠোটে ঠোট ঠেকিয়ে বলে ” happy journey with me my love. “
সোহান হেসে চুম্বন আরো গাঢ় করে দেয়।
শেষ হয় যৌনতার টানা পোড়েন।
সব শেষে কোলকাতার রাস্তা দিয়ে এরকম হাজারো সোহান আর পরাগ হেটে বেড়ায়। হাত ধরে হোক বা না ধরে হোক। কেউ রাগী, কেউ ইমোশনাল, কেউ সুন্দর, কেউ কুৎসিত। কেউ লম্বা, কেই শর্ট। কিন্তু এরাও নিজেদের যৌনতা খুজে পেয়েছে। এতেই এরা খুশী। সমকাম বিষয় টা যতটা সহজ একজন নারীমনা পুরুষের কাছে। ততটাই জটিল একজন পুরুষোচিত সমকামির ক্ষেত্রে। তাকে আরো অনেক বেশী পুরুষ হয়ে উঠতে হয়। আরো অনেক বলশালী হতে হয়। তাই যে কোনো পুরুষের ক্ষেত্রে সেই টপ হয়ে ওঠা হয় না। এরকম পরাগ অনেক আছে খুজে বার করতে হয়। সোহান যেমন বার করতে পেরেছে। তাই একজন আদর্শ সোহান হয়ে ওঠাও যথেষ্ট জটিল। আসলে সবটাই যৌনতার খেলা। আধ্যাত্মিক সন্ধান।

সমাপ্ত।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.