রাশিকথনঃ মিথুন

কখনও যদি কোন মিথুন রাশির জাতক আপনাকে বলে আপনি সবকিছু দুটো করে দেখতে শুরু করেছেন তাহলে ঝটপট করে চশমাটা বদলে ফেলবেন না যেন। শুধু মনে রাখবেন, মিথুন হচ্ছে দুই এর রাশি আর তার ব্যক্তিত্বের দুইটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপরায়ণ দিক রয়েছে। এখনই যা দেখবেন পরমুহূর্তেই তা অদৃশ্য হয়ে যাবে।। এইসব দ্রুত পরিবর্তনশীল ব্যাপারগুলোর মধ্যে আপনি যেটা ধরতে পেরেছেন সেটা কি? ভালোবাসা নাকি ঘৃণা? বুদ্ধিমত্তা নাকি ভাববাদীতা? দুঃখ নাকি আনন্দ? মিথুনের পরিবর্তনশীল অনুভূতিগুলি ডিস্কো স্টেজের মাতাল করা লাইটগুলো দেখবার মতোই বিভ্রান্তিকর। বলা মুশকিল ঠিক কোথায় বাস্তবতার শেষ আর ঘোরের শুরু। সে আজ এক জায়গায় তো কাল অন্য জায়গায়। মিথুন তার জামা কাপড়, চাকরি, ভালোবাসা কিংবা বাসস্থান তার মনের ভাবের মতোই যখন তখন বদলে ফেলতে পারে। আর সেটা সে খুব দ্রুতই পারে।

মিথুন হচ্ছে চোখ বুলানো পাঠক। সে যে কোন বইয়ের পৃষ্ঠা উল্টিয়েই বইটির ভেতরের তথ্য বলে দিতে পারে (জন. এফ. কেনেডী যে একজন দ্রুতগতির পাঠক ছিলেন তা কোন দুর্ঘটনা ছিলো না)। এ রাশির জাতকদের মধ্যে শেষ পৃষ্ঠা প্রথমে পড়ার একটা বিদঘুটে স্বভাব রয়েছে। যদি আপনি কোন মিথুন জাতককে পান যে কিনা একটা বই প্রথম থেকে পড়তে শুরু করে মাঝপথে বিরক্ত না হয়েই শেষ পর্যন্ত পড়েছে তাহলে তাকে পাগল আখ্যা দিতে পারেন কিংবা তার জন্মকুষ্ঠিতে যাচাই করে দেখতে পারেন যে তার মধ্যে বৃষ, মকর কিংবা অন্যান্য স্থিরচিত্ত রাশিগুলোর প্রভাব আছে কিনা। 

কিছু কিছু মিথুন জাতক, অন্য যারা ধীর স্থিরভাবে চিন্তা করে অভ্যস্ত তাদেরকে নিজেদের ক্ষীপ্র মানসিক ক্ষমতার দ্বারা বোকা বানিয়ে কিংবা চিন্তামগ্ন করে তুলে একধরনের দুষ্টু প্রকৃতির আনন্দ উপভোগ করে থাকে। মিথুন জাতক বব হোপ-এর সাথে তর্কে জড়াতে আপনি কতটুকু ইচ্ছুক বলেন? জুন মাসে জন্ম নেয়া ব্যক্তিটি আপনার সামনে খুব কৌতূহলী একটা পাখির মতো ক্ষণিকের জন্যই বিরক্তিকরভাবে এসে কিছু একটা দেখবে আর নিমেষেই উড়ে চলে যাবে। এমনকি তাকে কোন সম্ভাষণ করবার সুযোগটাও আপনার হবে না। যেকোন ধরনের রুটিন মিথুনদেরকে খাঁচায় বন্দি অসহায় পাখির মতো বিমর্ষ করে তোলে। এইসব মানুষগুলো কঠিন কোন কাজ, একঘেঁয়েমী খুবই আক্রোশের সাথে অনুতাপ করে।

সাধারণত তারা দৃঢ়ভাবে সময় মেনে চলা সুবোধ মানুষগুলোর দলে পড়ে না। এমন নয় যে তারা সময়ের কথা ভুলে যায় বরং তার যাত্রাপথে অন্যকিছু তার মনোযোগ আকর্ষণ করে তার দেরি করিয়ে দেয়। মীনদের মতোই মিথুনদের অন্তরেও তাদের আকাঙ্ক্ষার ঠিক উল্টো রকম কাজ করার কিংবা অভিব্যক্তি প্রকাশের প্রচণ্ড তাগিদ লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু মিথুনদের এই বৈচিত্র্যময়তা আর তাদের বচনপটুতার জন্যেই তারা খুবই সফল রাজনীতিবিদ হবার যোগ্যতা রাখে। সে তার দ্রুত গতিসম্পন্ন মস্তিষ্ক আর তার মিষ্টি কথা বলবার সামর্থ দিয়ে সেই মূলটা ঠিকই উৎপাটন করতে পারবে।

মিথুন আর লেখালেখির মধ্যে একটা অদ্ভুত যোগাযোগ রয়েছে। এই রাশি নিজেই লেখালেখির ক্ষমতাকে নিয়ন্ত্রণ করে। তাই প্রায় সব মিথুনই যে কোন একটা বুদ্ধিদীপ্ত মন্তব্য করে বুদ্ধিমত্তার সাথে আরও কিছু শব্দ সহজেই জুড়ে দিতে পারে। প্রচুর সংখ্যক মিথুনকে দেখবেন যে তারা বিজ্ঞাপনচিত্র, ভাষণ, প্রামাণ্য চিত্র, নাটক এবং বই ইত্যাদি লেখালেখির সাথে জড়িত। কিন্তু বইগুলো হবে উপন্যাস কিংবা পাঠ্যবই কিংবা বাস্তবভিত্তিক কাহিনী এবং জীবনবৃত্তান্ত। তবে খুব কম মিথুনকেই পাবেন, যদি বা পান তবেই, যারা আত্মজীবনী লেখে। তাছাড়া নিজের ব্যক্তিগত চিঠি প্রকাশ করে দেবে এমন মিথুন পাওয়া বিরল ব্যাপার।

মিথুনের বৈশিষ্ট্য আছে এমন জাতক তার কোন কাজের জন্য জবাবদিহিতা করতে ঘৃণাবোধ করে। এক্ষেত্রে সে সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে দীর্ঘসূত্রিতা বজায় রাখবে। মিথুনেরা তাদের কোন মতামত কাগজে লিখতে ভয় পায় কেননা তারা জানে আজ যেটা তারা বিশ্বাস করছে আগামীকাল সেটা বিশ্বাস নাও করতে পারে। অন্তরের বিচারে প্রত্যেক মিথুনই আসলে বিক্রেতা।দুটো পুরোপুরি বিপরীতমুখী উদাহরণ দিয়ে এই ব্যাপারটা শেষ করা যাক। মিথুন জাতক জন. এফ. কেনেডী সমগ্র পৃথিবীকে উজ্জ্বল আদর্শটা বিক্রি করে গেছেন। আর মিথুন মাইকেল টড নাটকের জগতে বিক্রি করে গেছেন দু একটা স্বপ্ন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.