সেবিন্তি ও আত্মোপলব্ধি

লেখকঃ নীল মেঘ

ফেরি পার হয়েই শিহাব গুগলে ম্যাপটা আবার দেখে নিল আর মনেমনে ইন্টারনেটের জনককে মাথা নুইয়ে জাপানী স্টাইলে মাথা নুইয়ে সম্মান জানাল।কারো প্রতি খুব বেশি কৃতজ্ঞ হলে সে এই কাজটি করে এবং এটার সে নিজস্ব নামও দিয়েছে।সেটা হল ‘চুং চাং সম্মান’।
তবে এই ‘চুং চাং সম্মান’টা সে অবশ্যই মনেমনে করে এবং সে এ ব্যাপারে আশাবাদী যে এই ‘চুং চাং সম্মান’ সে কোন একদিন আর মনেমনে না করে প্রকাশ্যেই করবে তবে তার মত লাজুক আর মুখচোরা স্বভাবের ছেলের পক্ষে প্রকাশ্যে সেইকাজ আদৌ সম্ভব কিনা সে নিজেই জানেনা। গতবছরের ঘটনা। তার খুব জ্বর হল।বুয়া রান্না করতে এসে দেখে তার এই অবস্থা।সারারাত মেসের বুয়া ঐদিন জেগে ছিল তার জন্য।বেচারি বাসায়ও যায়নি।একটাসময় জ্বরের ঘোরে শিহাবের মনে হইছে এ বুয়া নয়,যেন গ্রাম থেকে মা এসে তার পাশে বসে জলপট্টি দিচ্ছেন।সুস্থ হয়ে শিহাব কতবার যে মনেমনে বুয়াকে ‘চুং চাং সম্মান’ জানিয়েছে তার হিসেব নেই।

সে যে জায়গায় যাচ্ছে সেটার ঠিকানা কারো কাছে জানতে চাইলে শতভাগের উপরেও বাড়তি আরো দুইভাগ নিশ্চিত যে ঐ লোকটি জায়গার নাম শুনেই তার অতিমূল্যবান বক্রদৃষ্টি নিক্ষেপ করবে।
রিকশাওয়ালাকে অবশ্য জায়গাটার নাম বলতে হবে।না বললে সে নিয়ে যাবে কেমনে?তবে রিকশাওয়ালারা এসব জায়গার নাম শুনে অভ্যস্ত।তাদের দৃষ্টি বক্র না হবারই কথা তারপরও এই রিকশাওয়ালা জায়গার নাম শুনেই মুচকি হেঁসে বলল ‘যামু’।চ্যাংড়া ছেলে নাম শুনেই আমোদ পেয়েছে হয়ত।
শহর থেকে অদূরে একটা জায়গায় এসে রিকশা থামল। রিকশাওয়ালা বলল,এখান থেকে হেঁটে যেতে হবে।ভাড়া দিতে গিয়ে দেখা গেল রিকশাওয়ালা চুক্তির চেয়ে বেশি ভাড়া চাচ্ছে।
-শুভ কাজে যাচ্ছেন,একটু বাড়িয়ে দেন মামা।তেলতেলে একটা হাঁসি দিয়ে ছেলেটা বলল
সেই হাঁসি দেখে শিহাবের ইচ্ছে হল থাপ্পড় মেরে গাল চ্যাপ্টা করে দিতে,কিরকম ফাজিলের মত হাসছে।সে কোনমতে মেজাজ সামলে ভাড়া মিটিয়ে নেমে পড়ল।

সন্ধ্যা প্রায় হয়েই গেছে।
ইট বিছানো আধপাকা অন্ধকার রাস্তা দেখে বুঝাই যাচ্ছে এলাকাটা উন্নয়নের ছোঁয়া থেকে বঞ্চিত।ইট বিছানো রাস্তার কোথাও কোথাও ইট উঠে গিয়ে ছোট গর্তের মত হয়ে আছে।শিহাব খুব সাবধানে সেই গর্তগুলো এড়িয়ে রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে।সে যে একা এই রাস্তা দিয়ে যাচ্ছে তা না,আরো কিছু মানুষও এই নিষিদ্ধ-পথ দিয়ে আসাযাওয়া করছে।কেউ কারো দিকে তাকাচ্ছে না।একজনকে দেখা গেল বৃষ্টিহীন এই সন্ধ্যায়ও ছাতা মাথায় দিয়ে এমনভাবে আসছে যাতে করে লোকটার মুখ দেখা না যায়।শিহাবের অবশ্য এসব লুকোচুরি করার কোন দরকার নাই কারণ এখানকার কেউ তাকে চেনার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

অবশেষে শিহাব সেই বিশেষ জায়গাটার একেবারেই কাছে চলে এল।উঁচু বাউন্ডারির ভেতর অনেকগুলা বাসা উকি মারছে।গেটের মুখে একটা খুপরি চায়ের দোকান আর গোল্ডলিফ সিগারেট কোম্পানির ছাতা দেয়া ছোট্ট একটা পানের দোকান।
শিহাবের একবার মনে হল ফিরে যাই,দরকার নাই নিজেকে যাচাই করার।কিন্তু পরক্ষণেই মনে হল এত দূর থেকে এসে ফিরে যাওয়া হবে নিজের ভীরুতাকে প্রশ্রয় দেয়া।সাহসের অভাবে কোন কাজ করেনি এরকম তার খুব কমই হয়েছে।
চায়ের দোকানের সামনে কড়া মেকআপ নিয়ে কয়েকটি মেয়ে দাড়িয়ে বিচিত্র সব অঙ্গভঙ্গি করছে।কেউ কেউ আবার ওখান থেকেই পুরুষ-সঙ্গী নিয়ে গেট দিয়ে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছে।শিহাব বুঝতে পারছেনা তাকে কি চায়ের দোকানের মেয়েগুলোর কাছে যেতে হবে নাকি সোজা গেটের ভেতর ঢুকে যাবে।গেটের খোলা মুখে কোন দারোয়ানকেও দেখা যাচ্ছেনা,তাহলে নিশ্চয় ঢুকতে সমস্যা হবেনা।
-কি গো নয়াবাবু,কাউরে ”পছন” হয়না?
পেছন থেকে নারীকন্ঠ শুনে শিহাব চমকে উঠল।
-ডরাইয়েন না গো বাবু,আহেন আমার লগে।
শিহাব কিছুটা বুঝে কিছুটা না বুঝে মেয়েটির সাথে গেটের ভেতরে ঢুকল।
দৌলতদিয়া পতিতালয়!
এতদিন যে জায়গাটার নাম শুনে আসছে আজ সে সেই জায়গাটায়।
ভেতরে ঢুকে তার মনে হল এটা যেন শহরের ভেতর অন্যকোন শহর।বাইরের অন্ধকারের ছিটেফোঁটাও ভেতরে নেই।অনেকগুলা ছোটছোট দালান দাড়িয়ে আছে আলোকোজ্জ্বল হয়ে।কেমন যেন একটা বিয়েবাড়ি বিয়েবাড়ি ভাব তবে বিয়েবাড়ির মত মানুষজন এত বেশি না।আবার একে অনেকটা জুয়ার শহর লাসভেগাসের মতও মনে হয় যেখানে সূর্য ডুবলেই আলোকিত সুখের শুরু।
-এইদিকে আহেন।
এই প্রথম সে মেয়েটির দিকে তাকাল।
১৮/১৯বছর বয়স হবে।সস্তা প্রসাধনে কড়া মেকআপ দিয়ে মেয়েটি যে শ্যামলাভাব দূর করার একটা ব্যর্থ চেষ্টা করেছে সেটা তার মুখ দেখেই বুঝা যায়।মেয়েটা শাড়িও পরেছে অন্যভাবে,বাসাবাড়িতে মহিলারা যেভাবে পরে সেভাবে নয়।বুকের কাছে গিয়ে শাড়ীর সামনের অংশকে এত চিকন করেছে যে যাতে খুব সহজেই যে কেউ তার স্তনযুগলের আকৃতি বুঝতে পারে।কিন্তু এত সাজসজ্জা দিয়েও মেয়েটি তার দেহমনে অত্যাচারের ছায়া মুছতে পারেনি।ভাল করে তাকালেই বুঝা যায় দেহ দিয়ে মনের সাথে ক্রমাগত যুদ্ধ করে যাচ্ছে এই মেয়েটি।
-কিরে বিন্তি,আজ এত তাড়াতাড়ি পেয়ে গেলি।’বেশটপ’ লাক।
দুতলার বারান্দা থেকে একটা মেয়ে চেঁচিয়ে বলল।
-তোমার নাম বিন্তি?
-ক্যান আফনের পছন হয়নি?আফনে চাইলে বিপাশা খারিনা যেইডা খুশি ডাকতে পারেন।
-বিপাশা কারিনা কেন ডাকব?তোমার যা নাম তাই ডাকব। -না অনেকেই তাদের পছন্দের নামে আমাদের ডাকে,আমরা আমাগো দেহের লগে নামও ‘চেল’ কইরা দেইগো নয়াবাবু।

শিহাব বিন্তির ঘরে বসে আছে।
ঘরটা খুব একটা বড় না।আসবাবপত্র বলতে একটা ডাবল বেডের খাট,দুটা চেয়ার আর ছোট্ট একটা সাইড টেবিল।দেয়ালের অনেক জায়গায় প্লাস্টার উঠে গেলেও সেটা বলিউডের মেয়েদের বিকিনি পরা ছবি দিয়ে আড়াল করে দেয়া হয়েছে।
-এটা তোমার ঘর?শিহাব বিন্তিকে বলল
-না এই ঘর খদ্দেরগো লাইগা।
-ও
বিন্তি দরজা লাগিয়ে দিয়েছে। শিহাবের কিরকম জানি লাগছে।মনে চাচ্ছে এখান থেকে পালিয়ে যেতে।একবারও বিন্তির শরীর ছুঁয়ে দেখতে ইচ্ছে করছেনা তার অথচ রাহাতের সাথে তার ফার্স্ট রুমডেটের দিন দরজা লাগানোর সাথে-সাথেই সে রাহাতের উপর ক্ষুধার্ত বাঘের মত ঝাঁপিয়ে পড়ছিল।
বিন্তি বুঝতে পারছেনা সে কি করবে।এই খদ্দেরটা অন্যদের মত না,অন্যরা যেখানে দরজা লাগানোর সাথে-সাথেই শরীর নিয়ে টানাহেঁচড়া শুরু করে এই লোকটা কিছুই করছেনা।সে খাটের উপর বসে আছে,ইচ্ছা করেই বুক থেকে আঁচল ফেলে দিয়েছে অথচ লোকটা যেন চেয়ারে বসে তাকে দেখছেই না।তাছাড়া টাকাপয়সার ব্যাপারেও কিছু বলেনি এখন পর্যন্ত,শেষে যদি টাকা না দিয়ে চলে যায়।তবে এসব মামলায় কি করতে হয় তা বিন্তির জানা আছে।আগেরবার একজন টাকা নিয়ে ঝামেলা করায় স্বপনকে দিয়ে লোকটার মোবাইল রেখে দিয়েছিল।এর কাছেও দেখছে একটা মোবাইল আছে যদি ঝামেলা করে তাহলে তাই করতে হবে।
অবশ্য সেটা না করে বিন্তির উপায়ই বা কি?
প্রতিটা খদ্দেরের টাকার তিন ভাগের দুইভাগই দিতে হয় মাসীকে আর বাকি একভাগ দিয়ে তার খরচ চালাতে হয়।এখন যদি লোকটা টাকা না দিয়ে চলে যায় মাসী সেটা বিশ্বাস করবেনা।বলবে সে পুরো টাকা রেখে দিছে,পরে নিজের জমানো টাকা থেকে ভর্তুকি দিতে হবে।
খাটে পা ঝুলিয়ে বিন্তি বসে আছে।ওখান থেকেই বলল,আফনে কি আমার রেইট জানেন?
-কিসের রেট?
-এই ধরেন একবার ইনজয় করলে ৩০০টেকা,দুইবারে ৫০০টেকা আর সারারাত চাইলে ১০০০টেকা।
-ও আচ্ছা।
বিন্তি খাটে বসা থেকেই তার শাড়ি আস্তে আস্তে উপরের দিকে তুলে নিল।সেটা দেখেও শিহাবের মধ্যে কোন ভাবান্তর হলনা। বিন্তির লোমহীন কোমল পায়ের চেয়ে রাহাতের লোমশ খসখসে পা টাই তার কাছে কামোদ্দীপক মনে হল।দোকানের ডিসপ্লেতে রাখা জামা-পরানো পুতুলগুলোকে যেমন দেখতে ভাল লাগে কিন্তু ছুঁতে ইচ্ছে করেনা এই পা’টাও তার কাছে সেরকম মনে হল।
বিন্তির মনে হল লোকটা প্রথমবার এসেছে এরকম জায়গায় তাই হয়ত একটু নার্ভাস সেজন্য কাছে আসছে না।বিন্তি জানে এরকম পরিস্থিতিতে খদ্দেরকে কি করে কাছে আনতে হয়।
শিহাবকে বলল,আফনে ‘মুজা’ নিয়া আইছেন তো?
-মোজা কিসের?
-হায় রাম,এই লোকটা মুজাও চিনেনা।মুজা হল ‘কনটম’।
-না কনডম আনিনি।
-আপনি বসেন আমি কনটম আর মেমরি নিয়ে আসছি তবে এসবের জন্য কিন্তু আলাদা টেকা দিতে হইবে।
শিহাব কিছু বলল না।খানিক বাদে বিন্তি এক প্যাকেট কনডম আর মোবাইলের মেমরি-কার্ড একটা নিয়ে এসে তার মোবাইলে কার্ডটি লাগিয়ে শিহাবকে খাটে এনে বসাল।
শিহাব বিন্তির খাটে শুয়ে আছে।তার হাতে বিন্তির চালু করা ভিডিও যেখানে দুটি মেয়ে নগ্ন হয়ে পরস্পরের শরীরের এমন কোন জায়গা নেই যেখানে আদর করছেনা। মেয়েদের এই খেলা দেখতে শিহাবের মোটেই ভাল লাগছে না।এদিকে বিন্তি একে একে শিহাবের সকল ভূষণ ভূপতিত করে অবাক হয়ে তার দণ্ডটির দিকে তাকিয়ে মনেমনে ভাবছে,ধ্বজভঙ্গ নাকি!
না বিন্তির ধারণা ভুল প্রমাণিত হল কিছুক্ষণের মধ্যেই।এইতো নিম্নমুখী চর্মদণ্ডটি ঊর্ধ্বমুখী হতে শুরু করছে। মেয়েদুটির সাথে যখন একটি ছেলে যোগ দিল তখনই ব্যাপারটা ঘটল।ছেলেটির নগ্ন মেদহীন পেটানো শরীর দেখে শিহাব নিজের অজান্তেই উত্তেজিত হয়ে গেল। শিহাবের উথিত দণ্ডটি বিন্তির উষ্ণ মুখের ভেতর।
সেই চেনা অনুভব অচেনা হয়ে শিহাবের তনুমনে ধরা দিল। শিহাবের মন সেই উষ্ণতার ভেতরও যেন রাহাতের খোঁচাখোঁচা দাড়ির পরশ খুঁজছে।
বিন্তির আদরে তার নিজেকে একটা আবেগহীন পুতুলের মত মনে হচ্ছে যার নিজের কিছু করার ক্ষমতা নেই।
বিন্তিই নিজে শিহাবকে কনডম পরিয়ে দিল।
ইশারায় আদিম খেলার সর্বশেষ অংশে যাবার ইঙ্গিত দিলেও শিহাবের মন সেই ইঙ্গিতের দ্বার দিয়ে যেতে ইচ্ছে করেও করছেনা।সে যেমন চিৎ হয়ে শুয়ে ছিল সেভাবেই শুয়ে রইল।
বিন্তি বুঝল যা করার তাকেই করতে হবে।পরে যদি খদ্দের কাম না করেই চলে যায় তাহলে টাকা দিতে ঝামেলা করতে পারে।
শিহাব চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছে।বিন্তি তার দণ্ডটির উপর দুই পা দুইদিকে ছড়িয়ে বসে আছে। ‘পোচ’ করে একটা শব্দ হল।ব্যথায় বিন্তি উহ করে উঠেই নিজের অতল গহ্বরে শিহাবকে ডুবিয়ে দিল।শিহাব আরামদায়ক তপ্ত এক অনুভূতি পেল।বিন্তি উপরনিচ করছে আর শিহাব চোখ বন্ধ করে আছে।
তার চোখে ভাসছে রাহাতের মুখ।রাহাতের সেই ব্যথা পাওয়া আওয়াজ আর বিন্তির আওয়াজ তো প্রায় একই তারপরও রাহাতের জন্য সেদিন মায়ার সাথে যে ভালবাসা তার মনে উদয় হয়েছিল আজ বিন্তির জন্য সেটা উদয় হচ্ছেনা।
চোখ বন্ধ করলেই রাহাতের মুখ ভেসে উঠে তার মানসপটে তাই অনিচ্ছা সত্যেও সে চোখ দুটি মেলে রাখল যাতে রাহাতের মুখ ভেসে না উঠে।শিহাব প্রাণপণ চেষ্টা করছে তার মনকে রাহাতের দেহ থেকে বিন্তির দেহে আনতে কিন্তু সবকিছুর মধ্যে তার অবচেতন মনে নিজের অজান্তেই রাহাত চলে আসে।
বিন্তি টাট্টুঘোড়ায় চড়ার মত শিহাবের উপর চড়ে যাচ্ছে।তার বুক সেই আরোহণের তালেতালে বাবুই পাখির বাসা বাতাসে যেরকম দোল খায় সেরকম দোল খাচ্ছে।শিহাব সেদিকে তাকিয়ে আছে দেখে বিন্তি শিহাবের হাত টেনে নিয়ে তার বুকে রাখল।
নরম সেই মাংসপিণ্ডে হাত দিয়ে শিহাবের মনে হল বিন্তি তাকে কোন খেলনা ধরিয়ে দিছে।অনেকটা তুলা দিয়ে তৈরি বলের মত যেটার মাঝখানে হালকা শক্ত একটা চাকতি।এত আরামদায়ক খেলনাও শিহাবকে রাহাতের শক্ত চওড়া বুক থেকে বিস্মৃত করতে পারছেনা।
শিহাব বুঝতে পারছে সে সেই চরম মুহূর্তের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।বিন্তিও তার কারুকার্যের মাত্রা বাড়িয়ে দিয়েছে।
সব শান্ত!
ঝড় থেমে গেলে যেরকম সব শান্ত হয়ে যায় ঠিক সেরকম।কেউ কোন কথা বলছেনা।
বিন্তি নামের এই মেয়েটির কাছে থাকতে তার এখন একধরণের ঘেন্না লাগছে,শুধু থাকতে নয় মেয়েটিকেও ঘেন্না লাগতেছে।অথচ সে জানে এখানে এই মেয়েটির কোন দোষ নাই।
শিহাবের মনে হচ্ছে সে চরম ভুল করছে। সে রাহাতকে ঠকিয়েছে।সাথে নিজেকে,নিজের সত্ত্বাকে।
রাহাতের কথা মনে হতেই কখন যে তার চোখে জল এসেছে সেটা সে টেরই পায়নি।
বিন্তি শিহাবের আর্দ্র চোখ দেখে অবাক হয়নি।এখানে যে সব খারাপ লোক আসে তা না,কিছুকিছু ভাল লোকও আসে যারা তাদের প্রিয়জনদের কাছ থেকে প্রত্যাখ্যাত হয়ে মনের কষ্ট ঘুচাতে এখানে আসে।এই লোকটাও সেরকম কেউ হয়ত।
-আমি খুব ‘খারাফ’ একটা মেয়ে,তারপরও দুয়া করি আফনের মানুষটা যেন আফনের কাছে ফির‍্যা আহে। শিহাব খুব অবাক হল বিন্তির এই অদ্ভুত মায়াজড়ানো কথাগুলো শুনে।
আসলেই মানুষ তার ভেতরে অনেকগুলা মানুষ নিয়ে বাস করে।একেক সময়ে একেক মানুষ বের হয়ে আসে।যে বিন্তিকে এতক্ষণ শিহাবের মনে হয়েছিল পয়সালোভী কোন এক দেহপসারিণী সেই বিন্তিকেই এখন মনে হচ্ছে পরমপ্রিয় কোন বন্ধু যার কাছে মনের সব দুঃখ বলা যায়। তবুও শিহাব বিন্তিকে বলতে পারেনি তার ভালবাসার কথা।পারেনি বলতে তার ভালবাসার মানুষ তাকে ছেড়ে যায়নি,সে নিজেই তার ভালবাসার মানুষকে লুকিয়ে এখানে এসেছে যার হাত ছুঁয়ে সে প্রতিজ্ঞা করেছিল সে ছাড়া আর কারো সাথে এই শরীর বিনিময় করবেনা। এসেছে শুধুমাত্র নিজেকে জানতে,নিজের ভেতরটাকে উপলব্ধি করতে।
কি দরকার জটিল এই ভালবাসার কথা বলে এই সরল মেয়েটার মনে কুটিল প্রশ্নের উদ্রেক করার। শিহাব ফিরে যাচ্ছে। সেই চেনা শহরে,চেনা মানুষটার কাছে।

সূত্রঃ http://gayrua.blogspot.com/2016/02/blog-post_39.html

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.