অপচিকিৎসা

(প্রসঙ্গঃ সংশোধনী ধর্ষণ, হরমোন থেরাপী ও সমকামিতা)

লেখকঃ মুন

গত ১৭-০৮-২০১৮ ইংঃ তারিখের ঘটনা৷ বাংলাদেশের রংপুর শহরের একজন সমকামি বন্ধু কল্লোল (ছদ্মনাম) খুব অসুস্থ্য হয়ে পড়েন মানসিক চাপের ফলে৷ মানসিক চাপ তাঁর মানসিক ও দৈহিক স্বাস্থ্যের উপরে গভীরভাবে প্রভাব ফেলে৷ তিনি বেশ কয়েকবার বমি করেন এবং সংজ্ঞা হারিয়ে ফেলেন৷ তাঁর পূর্ব থেকেই শরীরের ওজন কম ছিল আর এর সঙ্গে নিম্ন রক্তচাপ ও বিষন্নতা বা ডিপ্রেশন ছিল৷ সবকিছু মিলিয়ে তিনি হঠাৎ করেই প্রচন্ড অসুস্থ্য হয়ে গেলেন৷ তাঁর পরিবারও বুঝতে পারলেন না যে তাঁকে হঠাৎ করে কোথায় নিয়ে যাবেন, কোন ডাক্তার দেখাবেন৷ পরদিন ১৮-০৮-২০১৭ ইংঃ তারিখ সকালবেলা তাঁর পরিবার কাছাকাছি একটা প্রাইভেট ক্লিনিকে তাঁকে নিয়ে গেলেন চিকিৎসা করাবেন বলে৷ সেই ক্লিনিকের মালিক ডাঃ মোঃ জহুরুল হকের চেম্বারে যখন সেই বন্ধুটি ঢুকলেন তখন ডাক্তার তাঁর সমস্যা জানতে চাইলেন৷ বন্ধুটিও সব সমস্যা খুলে বলতে লাগলেন ডাক্তারকে বিশ্বাস করে৷ মানসিক চাপের বিষয়টি যখন সামনে চলে এলো তখন তাঁর যৌনতা অর্থ্যাৎ সমকামিতার বিষয়টাও সামনে চলে এলো৷ এটা জানতে পেরেই ঐ চিকিৎসক বন্ধুটিকে বলতে লাগলেন যে বন্ধুটি নাকি মানসিক প্রতিবন্ধী এবং তাঁর এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে হলে প্রতিদিন মেয়েদের সাথে “জোরপূর্বক যৌন সম্ভোগ” বা ধর্ষণ করতে হবে অথবা কোন মেয়েকে দিয়ে তাঁকে “ধর্ষণ” করানো হবে৷ ডাক্তার আরো বললেন যে, বন্ধুটিকে সিটিস্ক্যান করতে কারণ তিনি নিশ্চিত হতে চেয়েছিলেন যে বন্ধুটির মাথায় কোন সমকামিতার পোকা আছে কিনা৷ তিনি জোরপূর্বক সিটিস্ক্যানও করিয়ে নেন এবং প্রায় ৩৫০০ টাকা হাতিয়ে নেন বন্ধুর অভিভাবকের কাছ থেকে ঐ বাবদে৷ এরপর বলেন যে, সিটিস্ক্যান থেকে নাকি বুঝতে পেরেছেন যে ঐ বন্ধুর শরীরে নাকি “নারী হরমোন” বেশী, তাই তাঁর শরীরে “পুরুষ হরমোন” দিতে হবে৷ তাহলে নাকি বন্ধুটি সমকামী থেকে বিষমকামী পুরুষালী “পুরুষে” পরিণত হতে পারবে৷ এরপর তিনি জোরপূর্বক হরমোন থেরাপী দিতে চান ঐ বন্ধুটিকে৷ বন্ধুটি অনেক অনুনয়-বিনয় করে সে যাত্রায় ছাড়া পান ঠিকই কিন্তু আরো বেশী অসুস্থ্য হয়ে পড়েন৷

সমকামিতা কোন রোগ নয় অথচ ঐ কুলাঙ্গার চিকিৎসক হরমোন থেরাপী এবং রোগীকে মেয়েদের দ্বারা “ধর্ষণ” করানোর চেষ্টা করেন৷ আমার তো মনে হয় ডাক্তারটি বিকৃতরুচির অধিকারী এবং তাঁর শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়েও আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে৷ যদিও তিনি নামের শেষে “এমবিবিএস” এবং “সার্জন” লিখে থাকেন৷ তবুও এই চিকিৎসককে ভন্ড এবং বিকারগ্রস্থ বলে মনে হয়েছে৷

এই ডাক্তার আমার সেই বন্ধুকে বলেছেন যে যদি কোন সমকামী ব্যক্তি নিয়মিত মেয়েদের দ্বারা ধর্ষিত হয় বা মেয়েদেরকে ধর্ষণ করে এবং হরমোন থেরাপি নেয় তাহলে সে নাকি একমাসের মধ্যে বিষমকামী পুরুষালী “পুরুষে” পরিণত হবে৷ একজন বিষমকামী পুরুষকে যদি জোরপূর্বক বা এমনি অন্য পুরুষের সাথে যৌনকর্ম করানো হয় তাহলে সেই বিষমকামী পুরুষটি কি সমকামীতে পরিণত হবে? আপনারাও কি তাই মনে করেন? আপনাদের মতামত কি? আপনাদের মতের স্বপক্ষে যুক্তি বা বৈজ্ঞানিক প্রমাণাদিগুলি কি কি? আপনারা কি এধরনের “ধর্ষণ” ও অপচিকিৎসা সমর্থণ করেন? একজন চিকিৎসক কিভাবে “ধর্ষণের” মত ন্যাক্কারজনক বিষয়কে চিকিৎসা পদ্ধতি হিসাবে রোগীর উপর প্রয়োগের কথা চিন্তা করতে পারেন বা এ ধরনের বাজে পরামর্শ দিতে পারেন? আপনাদের পরিবারের কোন সদস্যের উপরে এধরনের সংশোধনী ধর্ষণ ও অপচিকিৎসা প্রয়োগ করা হলে আপনাদের প্রতিক্রিয়া কি হতো?

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.