অপূর্ব ভালোবাসা

লিখেছেনঃ আরভান শান আরাফ।

কলেজের সবচেয়ে স্মার্ট আর হ্যান্ডসাম ছেলে শান।সুঠাম,জিম করা শরীর।মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি।এলোমেলো চুল।মুখে সব সময় অদ্ভূত একটা হাসি যেনো লেগেই থাকে।ফর্সা চেহারাতে কালো দাড়ি।

আর হালকা লাল ঠোটের মুচকি হাসিটা যে কোন মেয়ের রাত্রের ঘুম কেড়ে নিবে।শান বাবা মার একমাত্র ছেলে।না চাইতেই সব কিছু পেয়ে যায় । বাবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের ধনাট্য ব্যক্তিদের একজন।

মেয়েদের লাইন লেগে থাকে তার সাথে প্রেম করার জন্যে।সারাদিন কানে একটা হ্যাটফোন লাগিয়ে গান শুনে।বন্ধু বান্ধব নিয়ে আড্ডা দিয়ে আর পড়াশোনাতেই তার দিন কেটে যেতো। রসায়নে অনার্স করছে।

একে তো পড়াশোনাতে ভালো তার উপরে ধনী আর স্মার্ট।তাই হাবভাব ই আলাদা।শানের অনেক বন্ধু।তবে তাদের মধ্য থেকে অয়ন একটু আলাদা।সবাই শানকে তুই সম্মোধন করলে ও অয়ন তুমি বলেই ডাকে।

সেই ক্লাস নাইন থেকে এক সাথে পড়ছে তারা।শান প্রেম করে আর সেই প্রেম কাহিনী অয়নকেই শুনতে হয়।প্রেমিকার সাথে দেখা করতে যাবে সেই ব্যবস্থা অয়নকেই করতে হয়।কোন ড্রেসটা পড়বে?

কোন গ্লাস চোখে দিব ইত্যাদি ইত্যাদি।অয়ন আর শানদের বাসার দূরত্বট কমই তাই যখন তখন তার ফোনে ছুটে যেতে হয়।অয়ন সমকামী।জীবনে সেক্স করো সাথে হয়নি।অনেক মেয়ের প্রেমের অফার উড়িয়ে দিয়েছে।

সামাজিকতার দায়ে কোন ছেলের সাথে ও প্রেম হয়নি।তারপরে ও সে সমকামী।সে সমকাম ফিল করে শানের প্রতি।অয়ন জানে না কেনো সে শানকে এতো ভালবাসে।তার প্রতি কেনো এতো টান।

যখন রাত্র নামে তখন অয়ন শানের কথা ভেবে ভেবে ঘুমায় আর জেগে ওঠে অয়নকে মেসেজ করে সুপ্রভাত জানিয়ে।হয়তো অয়নের মেসেজের রিপ্লে কোন দিন ও শান দেই না তবো সে করে। কারন,এটাই ভালবাসা ।

ভালবাসা কিছু চাওয়া বা পাওয়ার নাম না।ভালবাসা দেওয়ার নাম।যৌনতার নাম ভালবাসা না ভালবাসা যৌনতা রক্ষার নাম।সেদিন শান কলেজে গেলো রোজকার মতো।ও আজও সে অয়নকে কল করেছিল।

কী পড়ে যাবে তা জানতে। কিন্তু , অয়নের ফোন সুইচ অফ ছিল । শান তাই আগের পরনের কাপড় পড়েই কলেজে গেল । দৌরে দু তলার ক্লাসে ঢুকল । রোমানকে ডেকে জিজ্ঞেস করল , কীরে অয়ন কোথায় ?

রোমান বলল সে জানে না । শান আর দেরি না করে নিচে নেমে আসল । শহীদ মিনারের কাছে পলাশ গাছটার কাছে শানের প্রেমিকা সুইটি দাঁড়ানো ছিল ।সে শানকে ডাক দিয়ে কাছে নিয়ে বলল , তোমাকে খুব ব্যস্ত দেখাচ্ছে যে ?

শান বিস্তারিত খুলে বলল যে অয়নের ফোন অফ আর সে কলেজেও আসেনি । তাছাড়া সকালে মেসেজো করেনি । সে তো কলেজে না এসে পারে না । সুইটি একটা অট্টহাসি দিয়ে বলল , তুমি কী গে নাকি যে ,একটা ছেলে কলেজে না আসাতে এতোটা উতালা ?

শানের কথাটা ভাল লাগেনি । কী মনে করে যে দ্রুত হেটে গেইটের দিকে চলে যেতে লাগল ।সুইটি ডেকে জিজ্ঞেস করলো ক্লাস করবে কী না ? শান কোন উত্তর দিল না । শান তাদের এতো দিনের সম্পর্কের মধ্যে একদিনেও অয়নের বাসায় যায়নি । অবশ্য অয়ন তাকে কোন দিন যেতেও বলেনি ।

আজকে শান মনস্থির করলো সে যাবেই । যে ভাবা সেই কাজ । শান ছুটল অয়নের বাসার দিকে । অয়নের আম্মু শানকে বলল যে অয়ন রুমেই আছে । আজকে এখনো ওঠেনি ।

যেহেতু তার রুমে যাওয়া নিষেধ তাই কেউ যায়নি । শান দ্রুত হেঁটে অয়নের রুমে ঢুকল । দরজা খুলতেই চোখে পড়লো ,দেয়াল জোরে টাঙানো শানের একটা বিশাল ছবি । পুরুটা খাটের দৈর্ঘ্য সমান লম্বা ।

শান তো অবাক ,এতো বড় ছবি তার ?রুমে ঢুকে দেখে অয়ন শুয়ে আছে । ছোয়ে ডাক দিতে গিয়ে দেখে খুব জ্বর । শান ভাবল তার জাগা পর্যন্ত অপেক্ষা করি । তাই সে টেবিলের উপরে রাখা তার ডায়রিটা খুলল , খুলতেই চোখে পড়ল , কয়েকটা চুল ।

চুল গুলো শানের এটা সে দেখেই বুঝতে পেরেছিল । একদিন , মাঠে অয়নের উরুতে মাথা রেখে শুয়েছিল আর সেই চুল সে মোঠ করে ধরে রেখেছিল । এরূপ অনেক কিছুই যেমন ,রক্তে ভেজা একটুকরা কাপড় , টিশার্টের সূতা , নখ আর শিলাকে লেখা শানের জীবনের প্রথম প্রেম পত্র ।

এই সব কিছুই অয়ন রেখে দিয়েছে । শান ডায়রির অনেক গুলো পাতা উল্ঠালো । দেখল সব পাতাতেই বড়ো করে তার নামটা লিখা । শানের মাথা কাজ করছিল না ।

অয়ন থাকে কেমন ভালবাসে শুধুই কী বন্ধুত্বের ভালবাসা ? কৌতুহল বশত কারনে অয়নের ল্যাপটপটা অন করলো শান । ডেকসটপে ভেসে ওঠল শানের ছবি । প্রতিটা ফুলডারের নাম শান ।

একটা ফুলডার পোরোটা জোরে শানের নিজের ছবি । এই ভাবে অনেক কিছুই দেখল । শানের বুঝতে বাকি রইল না যে , তার বন্ধু অয়ন একজন সমপ্রেমী আর এটাও বুঝতে পারলো যে ঠিক কতটা ভাল অয়ন শানকে বাসে ।

ঠিক কতটা ভালবাসা অয়নকে সমকামী বানাল ।শান কিছু না বলে চলে গেলো । শান যখন চলে গেলো তার প্রায় কিছুক্ষণ পরেই অয়নের ঘুম ভাঙল । জ্বরটাও কমে গিয়েছিল । সে তার রুমে একটা বডিস্প্রের ঘ্রাণ পাচ্ছিল ।

তার মনে হল রুমে শান এসেছিল । কারন এই স্প্রেটা একমাত্র শানই ব্যবহার করে । অয়ন আম্মুকে ডাকল ,আম্মু বলল যে শান এসেছিল । তারপর রুমের খোলা ডায়রি ,চালু ল্যাপটপ দেখে বুঝতে আর বাকি রইল না যে , তার শান সব জেনে গেছে যে সে গে ।

যে নাকি সবার চোখে আজ থেকে ঘৃনিত । সারাদিন অয়ন কিছু খায়নি । শুয়ে শুয়ে শুধু ভাবছে যে , একটা ভুলে তার বন্ধুটাকে হারাতে হলো । হঠাৎ , মোবাইলে রিং বেজে ওঠলো । অয়ন চোখের পানি মুছে ফোনটা কানে ধরে , বললু হল্যো ।

ঐ পাশ থেকে শান বলে ওঠল , বাহিরে আসু । দাঁড়িয়ে আছি । ফোনটা কেটে দিল । অয়ন দৌড়ে নিচে নেমে গেল ।যেয়ে দেখে কেউ নেই । চাঁদের আলোতে একটা কুকুর বসে ঘেউ ঘেউ করছে । সে একটু , এগিয়ে গেল ।

পিছনে ঘুরে আরেকটু আগাল । হঠাৎ , একটা বাক্য শুনা গেল ,i love you . do you love me ? অয়ন চমকে পিছনে ঘুরে তাকাল । দেখে ,শান দাড়িয়ে , হাতে একতোড়া গোলাপ । চাঁদের আলো ঠিকরে পড়ছে তার চেহারাতে ।

অয়নের মনে হল স্বর্গ হতে ফেরেশতা নেমে এসেছে তার কাছে । আনন্দে চোখ বেয়ে পানি ঝরতে লাগল । ঝাপিয়ে পড়লো শানের বুকে । শান আলতো করে কপালে একটা আর ঠোট একটা কিস করে বলল , পাগল একটা ।

এতো ভালবাসো কেনো?অয়ন কিছু না বলে শানের চোখ দুটিতে চুমু দিয়ে ঠোটে ঠোট ডোবাল । চাঁদের আলোতে রচিত হল অপূর্ব এক ভালবাসা । যেখানে ধর্ম , সামাজিকতা সব ব্যর্থ । এটাই ভালবাসা ।যে দেখে প্রকৃতি নিরব ।

সমপ্রেমের গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.