অপ্রেমের গল্প

ঘাসফড়িং

রাতুল মহাসড়কের একপাশে দাঁড়িয়ে আছে। হু হু করে একের পর এক গাড়ি যাচ্ছে ওর পাশ দিয়ে। সাহস করে রাস্তা পার হতে পারছে না ও। আজ এই প্রথম ঢাকায় এসেছে ও।
শহরের মানুষ কেমন হাত দেখিয়ে চট করে রাস্তা পার হয়ে যাচ্ছে। রাতুল অনেকক্ষণ হলো দাঁড়ানো।সাহস করে ও রাস্তাটা পার হতে পারছে না।দু’পা এগোয় তো একটা ট্রাক আসে,ও ভয়ে ছ’ পা পিছোয়।কোন একটা পথচারীর অনুসরণ নেয় তো ওই লোক ফুস করে রাস্তা পেরিয়ে যায়, ও পিছিয়ে আসে।
আতিককে ও বলেছিল ওকে যেন এগিয়ে নিতে আসে।আতিক আসবে বলেছিল। কিন্তু রাতুল বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর আতিক ব্যস্ত হয়ে পড়েছে কোন এক কাজে।আসতে পারছে না আর। আতিকের সাথেই দেখা করার জন্য গ্রামের ঘরকুনো সুবোধ বালক রাতুল আজ ঢাকা এসেছে দুঃসাহস করে।ওদের দুজনের পরিচয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ফেসবুক থেকে। সাত-আট মাস হবে ওদের কথা হয়।
রাতুলের প্রাণের সখা আতিক। ছেলে হয়ে ছেলেকে ভাল লাগার মত ব্যধি নিয়ে রাতুল ছিল ভীষণ কষ্টে। ওর অনুভূতি বোঝার মত কেউ ছিল না। মনের মধ্যে এই কিশোর বয়সে যে ঝড় উঠে, সেটা থামানোর কোন মানুষ ছিল না তার। ওর যে ভালবাসার অবদমিত ইচ্ছে,সেটা ওকে আহত করতো দিন দিন।
হাতে ফোন পাওয়ার পর রাতুল আতিকের দেখা পায়।মাস্টার্স পড়ুয়া আতিক রাতুলের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দেখা দেয়।জীবনে প্রথম সে তার প্রাণের মানুষ পায়। যে তাকে বুঝে, তার মত করে ভালবাসে। খোঁজ রাখে। নিয়ম মেনে কল করে।
রাতুলের মনে হয়, এই ছোট জীবনে আতিককে পেয়েই তার জীবনটা পরিপূর্ণ হলো। ওর খুশির শেষ নেই। গ্রামগঞ্জে বড় হওয়া রাতুল কাউকে কখনো কাছে পায়নি দুটো কথা বলার। আতিককে পাওয়ার পর সারাদিন কত কথা শোনায় ও আতিককে।
ওর বাবা সারাদিন কী কী কাজ করলো, মা রোগাক্রান্ত হওয়া সত্ত্বেও কী কী রান্না করলো- বড় দুই বোন বেড়াতে আসলো কবে- ওর কলেজে, ক্লাসে কী কী ঘটলো দিন জুড়ে- যাবতীয় সাংসারিক সব হিসেব রাতুল আতিকের কাছে মেলে বসে রাত হলেই।

চ্যাট বক্সের ভেতর হাজারো কাচা অনুভূতি জমা পড়ে আছে রাতুলের। আতিকের মিষ্টি করে বলা, ‘দুপুরে খেয়েছো?’ কথার মত নানান কথায় রাতুল সময়ে অসময়ে অকারণে চোখ বোলায়। তার ভাল লাগে।
তৃপ্তিতে মন ভরে উঠে।

রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে এখনো রাতুল মেসেঞ্জার থেকে আতিকের করা লাস্ট মেসেজ দেখছে। ‘দুপুরে খেয়েছ?’ বলা মেসেজটা ওর চোখে পড়লো। কিন্তু ওর এখনো দুপুরের খাওয়া হয়নি। সেই ভোরসকালে বাড়ি থেকে খেয়ে বেরিয়েছে ও। আর এতক্ষণে বাস থেকে নেমেছে। আশেপাশে কিছু হোটেল আছে খাবারের। কিন্তু ওর পকেটে খুব যৎসামান্য টাকা। মায়ের থেকে মিথ্যে কথা বলে কিছু আর ক্লাসমেট থেকে কিছু ধার নিয়ে আসা যাওয়ার টাকাটা কোনরকম জোগাড় করেছে ও।সেটা ভেঙে খাওয়া যাবে না।

আতিকের ফোন এলো রাতুলের মোবাইলে। ফোন তুলতেই আতিক বলল,
-এই রাতুল, তুমি যেখানে আছো,তার কিছু সামনেই একটা ফুট ওভার ব্রিজ আছে৷ তুমি ওখানে আসতে পারবে?
-আমি তো চিনি না।
-আচ্ছা তবে কাউকে এক্টু জিগ্যেস করো। বলে দেবে।
রাতুল এক্টু হেঁটে গিয়ে একজনকে জিগ্যেস করলো এদিকে ফুট ওভার ব্রিজ আছে কিনা। এক্টা লোক তাকে দেখিয়ে দিল।এখান থেকে প্রায় ৬-৭ মিনিট পায়ে হেঁটে গেলে একটা ব্রিজ আছে। রাতুল লোকটার দেখানো পথ মত হেঁটে এগোতে লাগলো।
বেশখানিকটা হাঁটার পর ব্রিজ দেখতে পেল। সেটা বেয়ে রাস্তা পেরোল রাতুল। রাস্তার ওপাশে যেতেই আতিককে ফোন করে ও জানাল,
-আপ্নি কোথায়? আমি বাস স্টেশনে আছি।
-দাঁড়াও, দাঁড়াও।আমি আসছি।
বলেই আতিক ফোন রাখলো।

রাতুল কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে।হরেক রকমের লোক যাচ্ছে আসছে।কারো মাথায় বোঝাও থাকে।ওরা যাওয়ার সময়, ‘এই সাইড’ বলে উঠে।রাতুল একটু পিছিয়ে যায়। তখন আবার কারো সাথে ধাক্কা খেয়ে উঠে। আর সঙ্গে সঙ্গে লোক বিরক্তিতে বলে উঠে, ‘এই,চোখ নেই নাকি!’
রাতুল কাচুমাচু হয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে থাকে।একপাশ হয়ে দাঁড়িয়েও স্বস্তি নেই।
শহুরে এমন কাঠখোট্টা ব্যবহার দেখে রাতুলের অবাক লাগে।আতিকের এত লেট দেখেও ওর মন খারাপ হয়। ওর কথাতেই রাতুল এতদূর এসেছে। স্কুল কামাই করেছে,মা বাবাকে মিথ্যে বলেছে,টাকা ধার করেছে- সবই আতিকের দেওয়া পরামর্শ। রাতুল মাথা খাটিয়ে এতকিছু করতে পারতো না। আতিক সবকিছু বলে বলে দেওয়াতেই রাতুলের সহজ হলো সব। রাতুল চেয়েছিল ওদের বিশেষ কোন একটা সময়ে দেখা হোক, কিন্তু আতিকের শরীর নাকি অসুস্থ। তাই ও বলছিল ওকে যেন রাতুল এক্টু দেখে যায় এই সময়ে। রাতুলও আর অযুহাত তোলেনি।

অবশেষে ওদের দেখা হলো।আতিক এগিয়ে এসে হ্যান্ডশেক করলো রাতুলের সাথে। রাতুল হকচকিয়ে উঠে তাকিয়ে আছে আতিকের দিকে।আতিক ভীষণ লম্বা ওর থেকে। ৫’১১ তো হবেই। মুখে হাল্কা হাল্কা দাড়ি আছে। কানদুটো খরগোশের মত খাড়া।নাকটা টিকালো।গায়ের রং শ্যাম। ঠিক ফেসবুকের ছবিতে যেমন দেখেছিলো। খালি ওখানে এক্টু বেশি ফর্সা দেখিয়েছে আতিককে এই যা।রাতুল ভেবেছিল এতদিনের সম্পর্কের পর আজ দেখা হচ্ছে এই প্রথম,আতিক বুঝি ওকে বুকে জড়িয়ে ধরবে।কিন্তু আতিক কেমন আনুষ্ঠানিক সম্পর্কের মত হ্যান্ডশেকেই কুশলাদি আদান-প্রদান করলো।
-তোমার আসতে কোন সমস্যা হয়নি তো?
-না, কীসের সমস্যা হবে।আপ্নার কথামত বাস ধরেছি কাউন্টার থেকে।বাস স্টেশনে এনে নামালো।
-স্টেশন থেকে কিভাবে বাকিটা এলে?
-ঐ যে,যেভাবে বলেছিলেন।একজনকে জিগ্যেস করাতেই উনি বলে দিলেন।
-আচ্ছা,ভেরি গুড।
আতিক এক্টু সামনে সামনে এগিয়ে যাচ্ছে। রাতুল আতিকের ডান হাতটার দিকে তাকিয়ে আছে। ওর নিজের বা’ হাতটা খালি।আতিক এই হাতটা ধরেই ইচ্ছে করলে এগোতে পারে।কিন্তু ও ধরছে না।কিছুটা পথ হাঁটার পর একটা শাখা রোড পড়লো পার হওয়ার।
-এই,এসো রাতুল।
বলেই আতিক পার হতে শুরু করলো। রাতুল তাকে ডেকে থামালো।
-আমি কখনো এমন গাড়িভর্তি রাস্তা পার হইনি।আমাকে ধরে পার করে দিন।
আতিক খানিকটা অবাক হয়ে বলল,
-আমি কিভাবে তোমার হাত ধরব।মানুষ দেখলে কি ভাববে!
-আমি যে একা একা পার হতে পারি না।
-ধুস, এতবড় ছেলে হয়েছো এখনো এত ভয় পাও!
কিঞ্চিৎ বিরক্ত হয়ে আতিক রাতুলের হাত ধরে রাস্তা পার হলো।

আতিকদের বাসাটা চার তলায়। রাতুল আতিকের পিছন পিছন এসে বাসায় উঠলো। ধীরে ধীরে মনটা কেমন ভারী ভারী লাগছে ওর।গোছগাছ খুব সুন্দর একটা বাসা আতিকদের। মধ্যিখানে ড্রোয়িং রুম,আর তার তিন পাশে তিনটে থাকার ঘর।আরেকপাশে বাথরুম আর কিচেন।
রাতুল ড্রোয়িং রুমের সোফাতেই বসে পড়লো।ওর খুব ক্লান্তি লাগছে।সামনের টি-টেবিলেই একটা ছোট জগ আর গ্লাস।ও একগ্লাস পানি নিয়ে ঢকঢক করে খেতে শুরু করলো। আতিক ওর রুম থেকে গলা ছেড়ে ডাক দিলো,
-এই,কোথায় তুমি?
রাতুল জলের গ্লাস পুরোটা খাওয়ার আগেই ডাক পড়াতে সেটা ও নামিয়ে রাখলো।
-এই তো, এখানেই।
-ওখানে কী? এদিকে এসো।
রাতুল উঠে গিয়ে আতিকের রুমে বসলো।
-ব্যাগটা রাখো।
রাতুল ব্যাগটা ছাড়িয়ে রাখলো পিঠ থেকে। পুরো বাসাতে কেউ নেই দেখে ও জিগ্যেস করল,
-আপ্নার বোন আর মা কোথায়?
-ওরা নানুর বাড়ি গেছে।
-আচ্ছা।বলেননি তো।
-আজই গেল, চলে আসবে সন্ধ্যায়।
আতিক বেলকনিতে নিয়ে গেলো রাতুলকে।এক্টু বিরাম নিয়ে বলল,
-দেখো, এখান থেকে শহর দেখা যায়।
রাতুল রেলিংয়ে হাত রেখে দাঁড়াতেই পিছন থেকে এসে আতিক তাকে জড়িয়ে ধরলো।আদুরে গলায় জিগ্যেস করল,
-সোনাটাকে আদর করে নিই এক্টু।দুপুরে খেয়েছো?
-না।খাইনি।
আতিক এক্টু চমকে উঠলো বটে।কিন্তু কিছু বলল না।
-আজ আমার থেকে শরাব খাবে।নোন্তা শরাব।খাবে?
লজ্জায় রাতুলের ফর্সা মুখ রক্তিম হয়ে উঠলো।ও চোখ নামিয়ে নিলো।আতিক থুতনি ধরে মুখটা তার দিকে নিয়ে এলো। রাতুলের নরম ঠোঁটে আঙুল ছোঁয়ায়।শার্টের উপরের দুটো বোতাম ছাড়িয়ে নিয়ে মসৃণ বুকে হাত হাত চালায়।রাতুল রীতিমতো কাঁপতে থাকে। লজ্জায়,সংকোচে,ক্লান্তিতে,আকস্মিকতায় ওর হাত পা জড়ো হয়ে আসতে থাকে।আতিক ওকে কোলে তুলে নিয়ে গিয়ে বিছানায় ফেলে।রাতুল বলে উঠে,
-আমার গোসল করতে হবে এক্টু।সারা রাস্তায় প্রচণ্ড ধুলোবালিতে শরীর জমে গেছে।গোসল করলে এক্টু ফ্রেশ লাগতো।
আতিক কেমন যেন দ্বিধায় পড়ে যায়।
-গোসল পরে হবে।আগে এক্টু আদর করতে দাও। বলেই আতিক রাতুলের উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে।রাতুলের শার্ট ছাড়িয়ে নেয় আস্তে আস্তে।কোমল লোমহীন শরীর দেখে আতিকের শিশ্ন উত্থিত হয় প্রবল বেগে।
গোলাপী রঙের স্তনের বোঁটা দেখে আতিকের জিভে জল জমে যায়।ও সেই লালা ঝরায় রাতুলের বুকে।স্তনের বোঁটায় ভিজে জিভ দিতেই রাতুল কুকড়ে উঠে।বিছানার চাদর খামছে ধরে শক্ত করে।আতিকও তার গ্যাঞ্জি খুলে নেয়। আতিকের শক্ত পশমওয়ালা বুক রাতুলের খালি শরীরে লাগে।রাতুল বুঝতে পারে না- ওর অনুভূতিটা ঠিক কেমন হয়ে ধরা দিচ্ছে।

আচমকা বেল বেজে উঠে আতিকদের বাসার। থতমত হয়ে উঠে বসে ও। তড়িঘড়ি করে তার গায়ের কাপড় জড়িয়ে নিয়ে দরজা খুলতে যায়।কি যেন মনে করে হুট করে ফিরে এসে বলে,
-রাতুল উঠো প্লিজ। তাড়াতাড়ি।
রাতুল কেমন আহত চোখে তাকিয়ে থাকে।
-উঠো না! বলেই রাতুলের হাত ধরে ওর শার্ট হাতে ধরিয়ে রুমের এটাচড বাথরুমে ঢুকিয়ে দেয় ওকে।
বদ্ধ বাথরুমে দাঁড়িয়ে রাতুলের চোখ কেমন শীতল হতে শুরু করে।অনাকাঙ্ক্ষিত এমন ঘটনায় ওর ঘাড় ভেঙে আসতে থাকে।নিজের উপর লজ্জা লাগে।অপমানিত বোধ হতে থাকে নিজেকে নিয়ে।
দরজায় খটখট আওয়াজ হয় কয়েক মুহুর্ত পর।রাতুলের চিন্তার সুতো কেটে যায়।
-সরি সরি রাতুল, বেরিয়ে এসো। দুধওয়ালা এসেছিলো। পুরোনো দুধওয়ালা। আম্মুর সাথে ওর ভাল সম্পর্ক।
রাতুল ধীর পায়ে বেরিয়ে আসে।বলে,
-আমাকে লুকোনোর কী আছে তবে!
-ও দেখলে ঝামেলা হয়ে যেতো।মায়ের কানে যেতো।বজ্জাত লোক, অসময়ে এসে উঠে ঘরে।একটু আদর করছিলাম।
বলেই আতিক রাতুলকে হেঁচকা টানে নিজের দিকে টেনে নেয়।রাতুল কিছু বলে না। ওর ভেতরে কেমন একটা পাথর বিশাল আকার ধারণ করছে যেন।গলা অব্ধি এসে যাচ্ছে সেই পাথরটা। ওর কেবল দেখে যেতেই ইচ্ছে করছে।কিছু বলতে ইচ্ছে হচ্ছে না একফোঁটাও।
রাতুলের শার্ট ছিল না গায়ে।আতিক তার প্যান্টটাও ছাড়িয়ে নেয়।বিবস্ত্র রাতুল স্তব্ধ নয়ন নিয়ে সাদা রঙয়ের সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকে।
…………………

বাস চলছে দ্রুত গতিতে।বাতাস এসে আছড়ে পড়ছে রাতুলের চোখেমুখে।জলভরা চোখে রাতুল তাকিয়ে আছে বাইরের দিকে।চারিদিকে অন্ধকার।যাওয়ার বেলায় রাস্তার পাশের যত সাইনবোর্ড পড়েছিল,সব ও পড়ে পড়ে গিয়েছিল।এখন এই অন্ধকারে বাইরের কিছুই দেখা যাচ্ছে না।বাসের ভেতরের লাইটটাও অফ করে দেওয়া হয়েছে। এমন অন্ধকারেই রাতুলের ভাল লাগছে৷ ভেজা চোখ নিয়ে ও ফোনের স্ক্রিনের দিকে তাকালো। কোন মেসেজ নেই আতিকের।
সেই কখন রাতুল বেরিয়েছে। এমন বেলা ঘনিয়ে রাতুল বেরিয়ে কিভাবে বাড়ি যাবে সেটা ভেবে ও খুব চিন্তায় ছিল। এমন অনিশ্চয়তা নিয়েই আতিক রাতুলকে এনে বাসে তুলে দিয়েছে। ওর কেবল মনে পড়ছে রাতুলের শেষ বলা কিছু কথা, ‘আম্মু চলে আসবে।তাই তোমাকে রাখতে পারছি না।’
রাতুলের হঠাৎ মনে হল,সে কি এতটাই ব্রাত্য? দেওয়ার মত কি কোন পরিচয় ছিল না তার?

মেসেঞ্জারে ঢুকে দেখে যে আতিক ৩ ঘন্টায় শ’খানেক মেসেজ করতো,সে আজ এই ৩ ঘন্টায় একটা শব্দও লিখে পাঠায়নি।বাস থেকে নেমে ধীরে ধীরে বাড়ির দিকে পা বাড়াচ্ছে রাতুল।গহীন অন্ধকারে ওর খুব ভয় লাগছে।সেই ভয় ছাপিয়ে ভেতরেরও গহীন কোথাও একটা ব্যথা হচ্ছে রাতুলের।যেই ব্যথার উৎস আছে, কিন্তু নিরাময় নেই।
একা একা এত রাতে কখনো ঘরের বাইরে না যাওয়া ছেলেটা আজ এত রাতে ঘরে ফিরছে নির্জন রাস্তা ধরে।টিপ টিপ পায়ে বাড়ি ফিরছে গোপন এক কলঙ্কের কালি নিয়ে।
……………………….

সমাপ্ত।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.