একটি অসম্পূর্ণ ভালবাসার গল্প এবং শপথ’

লেখকঃঘাসফড়িং

খুব সোজাসাপটা আর অনাড়ম্বর জীবনই আমার।একদম সচ্ছ পানির মত ঝকঝকে।উপর থেকে দেখলেই সমুদ্রের পানির মত যার গভীর ভেতরটা পর্যন্ত দেখা যায়।খুব সহজেই নাকি আমাকে সবাই বুঝে নিতে পারে।অবশ্য এটা সবাই বলে।

কিন্তু আজ পর্যন্ত এখনও এমন একজনকেও দেখিনি যে আমাকে বুঝতে পেরেছে।জানতে পেরেছে আমার ভেতরটা।তাই পরিবারসহ ফ্রেন্ড সার্কেলের এই তত্ত্ব আমার বিশ্বাসে আদৌ ঢুকেনি।তবে আমাকে না বুঝলেও আমার রন্ধ্রে রন্ধ্রে আমার ফ্রেন্ডদের আনাগোনা।ভার্সিটি জুড়ে আমাদের হট্টগোলেই সবাই অতিষ্ঠ ।এর প্রভাব পড়ে প্রতিটি পরিবারেও।আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেল অনেক বড়।কোথা থেকে যেন শুরু হয়েছিল কথার সূচনা?ভুলেই তো গেলাম।তবে কথা হল আমাদের ফ্রেন্ড সার্কেলের কাহিনী বলে শেষ করাটা কিছুটা অসাধ্যই বটে।

তবে ফের্ন্ড সার্কেলের মধ্যে ইদানীং পক্ষপাতী হয়ে আমার দৃষ্টিটা একদিকে আবদ্ধ।ভার্সিটির নতুন একটা স্টুডেন্ট।টানা টানা ভ্রুঁ আর আর মহিমাময়ী চোখ ওয়ালা ছেলেটা যখন আসিফের সাথে হাল্কা হেসে কথা বলে,তখন হৃদয়টায় একটা মাতাল হাওয়া বয়।সেদিন ছেলেটাকে প্রথম দেখেছিলাম রাস্তায়।বাইক চালাতে গিয়ে হঠাত্ থমকে যাই।এক্সিডেন্ট করতে বসেছিলাম প্রায়।সাদা প্যান্ট আর নীল পাঞ্জাবি গায়ে থাকলে একটা মানুষকে এত সুন্দর লাগার কথা বুঝি! সেটা যাচাই করতেই আমাদের সার্কেলের হলিউডের হিরো বলে যাকে ডাকি।ঐ সুনীলকে পরদিনই নীল পাঞ্জাবি আর সাদা প্যান্ট পড়ালাম। চোখে পড়ার মত সুন্দর দেখাচ্ছিল;কিন্তু কেন জানি ভাল লাগেনি আমার।হতাশাব্যঞ্জক উক্তিতে সুনীল রেগে খামুস।

ছেলেটাকে খুঁজতে খুঁজতে যখন হয়রান তখনই হঠাত্ সেদিন আসিফের সাথে ছেলেটাকে দেখে আকাশকুসুম অবস্থায় আমি।ফোকর খুঁজতে লাগলাম ছেলেটার সাথে কথা বলার।অথচ খোঁজার কোনও মানেই নেই।সরাসরি গিয়েই কথা বলতে পারি আমি।কিন্তু সেই সাহসটা করতে গিয়েও কোথাও যেন ভাটা পড়ে যাচ্ছে।অদ্ভুত সব কাণ্ডকীর্তি।এমন ভীরুতা আমার মধ্যে আমিই কখনও দেখেছি বলে মনে হয়নি।রিয়া তো কি যেন আচঁ করতে পারল নাকি কে জানে!আমাকে সন্দেহমাখা সুরে সেদিন বলে, “কিরে তুই এই ছেলেকে কেন এভাবে তালাশ করিস ?”

আমার পিলে চমকে উঠাতে রিয়ার সন্দেহটা বোধহয় একটু জমে গিয়েছিল।

ছেলেটা যখন কাছাকাছি হয় আমার, তখন দমকা একটা বাতাস আমাকে তার উপস্থিতি জানান দিয়ে যায়। চোখের সামনে পড়লেই হৃত্পিণ্ডের আপন শক্তি অভাবনীয় ভাবে বেড়ে যায়।লাফিয়ে মনে হয় বুকের চামড়া ছেদ করে বেরোবে।

তারপর একদিন আসিফের কাছ থেকে ছেলেটার সম্পর্কে জানলাম।গ্রামের সাধারণ একটা ছেলে।আসিফের চাচাত ভাই।লেখাপড়া করার ইচ্ছে অনেক।তাই শহরে এসে উঠা।এমনিতে শহরে ছেলেটার কেউ নেই।আসিফের সাথে তার মামার বাসাতে থাকে।

ভার্সিটি বন্ধ রইল একদিন।রাজনৈতিক কারণবশত।সেদিন সুযোগ বুঝে সাহস জুগিয়ে কথা বললাম ছেলেটার সাথে,

-হাই!

-হ্যালো!কেমন আছেন?

আন্তরিকতার একটা হাসিতে আমিও ছেলেটার প্রশ্নের উত্তর দিলাম।

-আপনি আমার পরিচিত?

-না।পরিচিত হচ্ছিলাম।

আমি খানিকটা হেসে দিয়ে বললাম,

-আজকের লাঞ্চের সময়টুকু আমাকে দেওয়া যায়?

ছেলেটা বোধহয় অবাক হল কিছুটা।

-কাউকে নিমন্ত্রণ করবেন অধিকার খাটিয়ে।এভাবে কাতরতার প্রয়োজন নেই।বলেই একগাল ঠেলে হেসে দিল।

-আসলে আমি কখনও ভাবিনি।আমার সিনিয়র একজন ছাত্র আমার প্রতি এতটা আন্তরিক হতে পারে!

-আরে আরে!এসব কি বলছ?

-না না।ঠিকই তো বললাম।সেই প্রথম থেকে আজ দুমাস পর্যন্ত যতগুলো সিনিয়র ছাত্রের সাথে কথা হল তাদের তো একটাই নীতি।জোর যার দেশ তার।অবশ্য আপনি সবার থেকে আলাদা।আমি তা প্রথম থেকেই খেয়াল করছি।

আমি যারপর নাই অবাক হলাম রাকিবের কথা শোনে।তাহলে শুধু আমিই নই;রাকিবও আমাকে ফলো করত।অজান্তেই চাপা হাসিতে আমি হেসে উঠলাম।

-একি আপনি হাসছেন যে!

-না না।এমনি।কেন?হাসিটা দেখতে খারাপ বলে হাসতে অন্যায় নাকি?

-হুম।ধরুন এই অসুন্দর হাসিটাই মন চুরি করতে যথেষ্ট।তাই চুরি করাটা তো অবশ্য অন্যায়।

বলেই অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল রাকিব।আমি তার অদ্ভুত হাসির অর্থ বিহ্বলে পড়লে গেলাম।রাকিব কিছু খাচ্ছিলনা।লজ্জাশীলতার মাত্রাটা প্রকট ওর।তাই জোর করে কিছু সাধিনি।এখান থেকেই দুজনের প্রাথমিক পরিচয়টা গড়ে উঠে।একে অপরের নাম্বার আদানপ্রদান করে নেই।

-বিশাল শোন!

আসিফের ডাকে পিছন ঘুরে তাকাই।

-হ্যাঁ বল।তোকে তো এতক্ষণ খুঁজছিলাম।কোথায় ছিলি তুই?

-আরে বলিসনা।একটু টেনশনে আছি।

-টেনশন?আর এদিকে ভার্সিটি ছুটির পর থেকেই তোর জন্য দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে পায়ে ব্যথা হয়ে গেল।

-সরি।

-আচ্ছা বল। টেনশন কিসের?

-আরে রাকিবটাকে নিয়ে।

রাকিবের নাম শুনতেই আগ্রহের প্রবণতা বেড়ে গেল।

-রাকিবকে নিয়ে?কি সমস্যা?

-এবারের সেমিস্টারটা বোধহয় দেবেনা ও।

-কেন কি হয়েছে?

-ওর বাবার শরীরটা অসুস্থ থাকায় সেমিস্টার ফি বাড়ি থেকে পাঠায়নি এখনও।আমার কাছে ধার চাইল কিন্তু আমার হাত এখন একদম খালি। আচ্ছা শোন,তোর কাছে পাওয়া যাবে?

বুকের গভীর থেকে অজান্তেই একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে এল আমার।খুব কাছের মানুষের জন্য কিছু করতে পারলেও নাকি পরম শান্তি পাওয়া যায়।রাকিব আমার খুব আপন কেউ হয়তো।তাই ওর জন্য কিছু করতে পারব বলেই বুকের ভেতরে প্রশান্তি অনুভব করছি।

-তুই বিকেলে এসে নিয়ে যাস কেমন।তবে টাকাটা রাকিবের কাছ থেকে আর ফেরত্ আনতে পারবিনা।

ছোট্ট একটা হাসিতে আসিফ সম্মতি জানায়।

ভার্সিটির সামনে এত ভীড় কেন?

কৌতুহল ভেদ করতে ভীড় ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করতেই বুকের একপাশ ছপাত্ করে উঠল।দৌড়ে গিয়ে রাকিবের পাশে বসলাম।ডান পা থেকে অনর্গল রক্ত বেরচ্ছে ওর।ঘর্মাক্ত শরীর আর রক্তিম দুটো চোখ তীব্রতা ধারণ করেছে রাকিবের।একটা ট্যাক্সি ডেকে উঠলাম দুজন। হাসপাতালে নিয়ে গেলাম অজ্ঞাত রাকিবকে।

বাইরে আধঘণ্টা বসে থাকার পর ডাক্তার ভেতর থেকে বেরিয়ে এল।আমি অস্থিরতা নিয়ে প্রশ্ন করি।

-ডাক্তার রাকিবের কি হয়েছে?

-তেমন কিছু নয়।মাথা ঘুরে যাওয়ায় রাস্তায় এক্সিডেন্ট করেছিল। সিরিয়াস কিছু নয়।

স্বস্তি ফিরে পেয়ে আমি রাকিবের কেবিনে ঢুকি।ইতিমধ্যে রাকিব উঠে বসেছে।হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে ওষুধ পত্র কিনে নিলাম কিছু।একটা রিকশা ডেকে রাকিব আর আমি উঠে পড়ি।একদম চুপচাপ রাকিবকে আজ কেমন যেন খুব অচেনা মনে হচ্ছে।সেসবের হিসেব কষতেই হঠাত্ রাকিবের প্রশ্ন।

-ওষুধ গুলো কত হল?

আমি উল্টো রাকিবকে প্রশ্ন ছুঁড়লাম।

-টাকার প্রশ্ন কেন?

ও কিছু বললনা।

আমি আবারও জিজ্ঞাসা করলাম,

-ডাক্তারের থেকে শুনলাম তোমার মাথা ঘুরে গেছিল।মাথায় কি কোনও প্রবলেম রয়েছে তোমার?

-বলতে পারবনা।তবে গত চার-পাঁচ বছর এই উপসর্গটা লক্ষ্য করছি।হঠাত্ হঠাত্ অসহ্য রকমের ব্যথা হয়।

-বড় কোনও রোগ বাঁধিয়ে ফেলছ হয়তো।ওষুধ গুলো সময় করে খেও।

রাকিবের বাসার সামনে এসে আমি নেমে যাই।ভাড়া দিয়ে রিকশাওয়ালাকে বিদায় করি।রাকিব সেই আগের মতোই ঘাড় ঝুঁকিয়েই রয়েছে।

আমি ওকে পৌছে দিয়ে বাসায় ফিরে আসি।হৃদয়টার খুব গভীরে রাকিবকে নিয়ে অনেক অনুভূতি জন্মে গেছে অকস্মাৎ।এভাবে রিকশায় করে দুজন একসাথে ঘুরব।কখনও বা শহরের বাইরে কোথাও যাব।বুকের ভেতর তিলতিল করে জমিয়ে রাখা ভালবাসা রাকিবকে সঁপে দেব।আমার অস্তিত্ব বলতে আমি রাকিবকেই বুঝি তা জানাব।কিন্তু সেটা হচ্ছে না।আমি পারছিনা।

-আচ্ছা তোমার প্রবলেমটা কি বল তো?একটা মানুষকে এতটা লাঞ্ছনা দেওয়ার মানে কি?তোমার এত অহংকার কীসের?তোমার মত হাজারও ছেলে আমার পেছনে ঘুরে।কিন্তু তোমাকেই আমার ভাল লাগে।তোমার মেদহীন এই শরীর,লম্বা ঐ নাসিক আর জোড়-ভ্রুর সাথে চোখদুটোই প্রতিটা হৃদয়কে ব্যাকুল করে।তোমার এই সবসময় গাম্ভীর্যের রেখা টেনে কথা বলা আমার সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।তুমি কেন এমন কর বল তো?

বিরামহীন ভাবে কথা গুলো বলে গেল ঈশান।

আমার দ্বৈত সত্তার কথা জানা প্রথম মানুষ।ভার্সিটিতেই যার সাথে পরিচয়।সেই সাথে সময় পার করা হিসেবে ইশানের সাথে সম্পর্কে জড়াই।কিন্তু ওর প্রতি আমার বিন্দু পরিমাণ ভালবাসা জন্মায়নি।অনুভূতি অনুভব করিনা ওর প্রতি।তাই রিলেশন নামক এই টাইম পাসটায় ক্ষণ অনুক্ষণ ভাঙন ধরে।ইশানের নানান প্রশ্নের জবাব আজ আমার কাছে আছে।আমি মোবাইলের গ্যালারিতে ঢুকে রাকিবের একটা ফটো ইশানকে দেখিয়ে বললাম,

-আমার ভালবাসা।

নিস্তব্ধ ইশান সন্তর্পণে মোবাইলটা হাতে নিল।পলকহীন দৃষ্টিতে কিছুক্ষণ ফটোটার দিকে তাকিয়ে রইল।

ক্রোধান্বিত কণ্ঠে বলল,

-কে এই ছেলেটা?

আমি ওর হাত থেকে মোবাইলটা এনে মুচকি হেসে বললাম,

-বললাম না,আমার ভালবাসা।

-ভার্সিটির ফার্স্ট ইয়ারে পড়ছে।তাই না?

আমি ঘাড় নেড়ে জবাব দিলাম।ইশানের মোবাইল বেজে উঠল।রিসিভ করে উঠে চলে যেতে যেতে বলতে লাগল,

-হ্যালো সিমি!

আমি সেই আগের মতোই রেস্টুরেন্টে বসে রইলাম।ইশান ছেলেটা আমার দেহ প্রেমি।তা আমি অনেক আগে থেকেই জানি।তবে ও সত্যিই বলেছে।ভার্সিটির ছেলে থেকে শুরু করে এমনকী মেয়েরাও ওকে পছন্দ করে।তারই একজন হলো কিছুক্ষণ আগে ফোন করা সিমি।ভীষণ পছন্দ করে ইশানকে।কিন্তু এখনও সাড়া দেয়নি ইশান।

-আংকেল প্লিজ।আংকেল ভুল বুঝছেন আপনি।এমন করবেন না দয়া করে। আমি সত্যিই আপনার মেয়েকে কিছু করিনি।

-শোনো ছেলে,আমি পুলিশের কারসাজি দেখতে অপছন্দ করি।তাই ভালয় ভালয় বলছি চলে যেতে।তোমাকে কিচ্ছু জিজ্ঞেস করিনি আমি।সুতরাং বাহাজ না দেখিয়ে একঘণ্টার মধ্যে তুমি বাসা খালি করে দাও।আর শোন আসিফ,তুই এমন বদমাশ ছেলে যদি আর কখনও বাসায় এনে তুলেছিস তো তোকেও বাড়িতে পাঠিয়ে দেব।

একপাশে জড়োসড়ো হয়ে দাঁড়িয়ে রইল আসিফ।অপরপাশে চোখ থেকে জল ঝরাচ্ছে রাকিব।সেই সাথে ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে আমার হৃদয়।এগিয়ে গিয়ে প্রশ্ন করলাম আসিফের মামাকে,

-আংকেল কি হয়েছে?এমন করে তাড়িয়ে দিচ্ছেন কেন রাকিবকে?

-বাবা এত প্রশ্নের উত্তর আমি জানিনা।যে ছেলে আমার মেয়ের উপর কু নজর দেয় তাকে বাসাতে থাকতে দেওয়া মানে দুধ কলা দিয়ে কালসাপ পোষা।আমি হতবাক হয়ে গেলাম।

-এসব কি বলছেন আপনি?কোথাও ভুল আছে আপনার।

-ভুল?দাঁড়াও।

আংকেল ওনার মেয়েকে ডাকলেন।

-সিমি!সিমি!

দোতলা থেকে নেমে এল সিমি।ছলছল চোখে রাকিব তাকিয়ে রইল সিমির দিকে।সিমির বাবা সিমিকে জিজ্ঞাসা করল,

-এই ছেলেকে কখন দেখেছিলি তোর ঘরে?

-বাবা কয়েকদিন ধরেই রাতের বেলায় দরজার বাইরে কারো হাঁটার শব্দ শুনতাম।ভাবতাম ভুল শুনছি।কিন্তু কাল সন্দেহটা একটু বেশিই হয়।জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে দেখি এই ছেলে ঘরে উঁকি দিচ্ছে।

আমি রাকিবের দিকে তাকালাম।অবিশ্বাস্য রাকিব মুখাবয়ব নেড়ে নেড়ে ঘটনার সত্যতা বলে দিচ্ছে। বেশিক্ষণ তাকিয়ে থাকতে পারলাম না রাকিবের দিকে।আমিই সবকিছু গুছিয়ে নিলাম রাকিবের।ঘণ্টাও পেরতে দিলাম না।রাকিবকে নিয়ে বেরিয়ে বাসা খালি করে দিলাম।

ট্যাক্সিতে বসে আছি দুজন।অনবরত কেঁদেই যাচ্ছে রাকিব।ও যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছে তা আমি বুঝতে পারছি।কিন্তু শিকারকারিটা কে?

হঠাত্ ফোন বেজে উঠল আমার।স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে দেখি ইশানের ফোন।আমি রিসিভ করলাম।

-হ্যালো।

-হ্যালো মিস্টার হ্যান্ডসাম বয়! কেমন দিলাম খেলটা।

-মানে?

-আপনার রাকিব এখন কোথায়?

আকাশ ভেঙে পড়ার মত অবস্থা হল আমার।কিছু বুঝে উঠার আগেই ফোন কেটে গেল।হিংস্র একটা নিশ্বাস ভেতর থেকে বেরিয়ে এল।রাকিবের ভেজা মুখটার দিকে তাকিয়ে

আমি পকেটে হাত দিলাম।ছোট্ট একটা আংটি কিনা হয়েছিল রাকিবের জন্য।ভেবেছিলাম অজানা কিছু কথা বলব আজ ওকে।তাই ওর বাসাতে গিয়েছিলাম।এখন আর সেই সাহসটা নেই।

-কেমন লাগছে?ভয় পাওনা তো আবার?

মুচকি একটা হাসি পরিস্ফুটন করে রাকিব বলল,

-আপনার এই ঋণ শোধ করার সামর্থ্য কোনও দিন আমার হবে কিনা জানিনা।

-সামর্থ্য নেই যখন তখন তোমার এই সাধ্যহীনতা প্রকাশ না করলেই খুশি হব।

অবাক দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকাল রাকিব।

-আচ্ছা যা বলতে এসেছিলাম।রান্নাটা তোমার নিজেকেই করতে হবে।বাইরে বাইক দাঁড় করিয়ে এসেছি।চলো।

-কোথায় যাব?

-যেখানে ইচ্ছা।যাবেনা?

হেসে উঠল রাকিব।আমি হাসতে চেষ্টা করলাম।কিন্তু নিদারুণ সত্যের পেছনে অভিনয় করতে জানিনা আমি।তাই হৃদয়ের খানিকটা আবেদন রাকিবকে ছলের কৌশলে জানিয়েছিলাম।

বাইকে বসে বেল চাপলাম কয়েকবার।রাকিব তড়িঘড়ি করে এসে পেছনে চেপে বসল।সংকোচ করছিল আমাকে ধরে বসতে।ইচ্ছে করেই যখন বাইকে ঝাঁকিয়ে ঝুঁকিয়ে চালাতে লাগলাম তখন না ধরা ছাড়া আর উপায় থাকলনা।ওর কোমল হাত দুটি বুকের সীমানায় পৌছল আমার।হৃদয়কে স্পর্শ করে গেল।একটু এগোলেই শপিংমল এসে যাবে।তাই ঘুরিয়ে নিয়ে গেলাম বাইককে।

-একি?আপনি কোথায় যাচ্ছেন?ওদিকে তো ভার্সিটির পথ?আমাদের তো শপিংয়ে যাওয়ার কথা।

-এই পথ যদি না শেষ হয় তবে কেমন হত?

পেছন থেকে রাকিব হেসে উঠল।

-আপনার গানের গলা তো মন জুড়িয়ে দেবার মত।

আমি হেসে উঠলাম।বোকা রাকিব আমার ভাবাবেগ বুঝলনা।

-আচ্ছা আপনাদের এই বাংলোটা ভাড়া দিলেও তো ভাল ব্যবসা করতে পারতেন।

-আমার বাবা ব্যবসা সামলাতে সামলাতে স্ট্রোক পর্যন্ত করেছিলেন,বাবা আর বড় ভাইয়া মিলেও সামলাতে পারেনা।আমাকে বলেছিল হাল ধরতে।কিন্তু লেখাপড়া শেষ না করা অবধি আমি ধরছিনা।আর এই বাংলোটা?এটা বাবা শখ করে বানিয়েছে।খালিই তো পড়ে রয়েছে।ইচ্ছে করলে তুমি সারাজীবন এই বাংলোতে কাটাতে পারবে।

-আচ্ছা আপনি ধোঁকা খেয়েছেন কেমন?

-মানে?

-আমি শুনেছি বিশাল হৃদয়ের মানুষরা সর্বাধিক ধোঁকাপ্রাপ্ত হয়।

বলেই হি হি করে হেসে উঠল ।

শপিং থেকে নানান রকমের জিনিসপত্র কিনার পর আমার পছন্দের একটা বিয়ার কিনলাম ।রাকিব বিস্মিত হয়ে প্রশ্ন করল,

-আপনি মদ খান?

-আরে ওটা মদ নয়,বিয়ার।

-আচ্ছা দেখি।বলেই বোতলটা হাত থেকে টেনে নিল রাকিব।বোতলের গায়ের লেখা দেখেই ও লাফিয়ে উঠল।

-আপনি এত ঝাঁঝী বিয়ার খান?

আমি রাকিবের হাত থেকে বোতলটা টেনে আনলাম।

-মাঝেমধ্যে খেতে হয়।

বাইকে বসে এক ঢোক বিয়ার খেতেই রাকিব চেঁচিয়ে উঠল।

-এই এই কি করছেন?আপনি বাইকে বসে বিয়ার খাচ্ছেন যে!একসিডেন্ট করবেন।দিন।ওটা আমি ফেলে দেব।

-আরে আরে।ফেলনা।কত দাম নিল বল তো।

-আচ্ছা।দাঁড়ান,তাহলে কাজে লাগাই।

বলেই পুরো বোতল খেয়ে নিল রাকিব।

-হায় হায়!একি করলে।

-কাজে লাগিয়েছি।

বোতল নাচাতে নাচাতে বলল ও।

বাংলোর সামনে এসে ঢলে পড়া রাকিবকে কোলে তোলে নিলাম।পুরো পথ নানান রকমের প্রলাপ বকে কান ঝালাপালা করে দিয়েছে।তবে সেসবই কেন জানি ভাল লাগছিল।অচেতন রাকিবটাই যদি আমার হত।তাহলে আজীবন স্রষ্টার নিকট কৃতজ্ঞ থাকতাম।

বিছানায় শুইয়ে দিলাম রাকিবকে।একদম নিঃশব্দে চোখদুটো বুজে রয়েছে।অমায়িকদুটো চোখে ঠোঁট ছুঁইয়ে দিয়ে গোলাপের পাপড়ি বর্ণের ঠোঁট দুটোতে অকৃত্রিম এক ভালবাসার প্রতীকী এঁকে দিলাম।অজান্তেই বোধহীন রাকিব বাহুডোরে জড়িয়ে নিল আমাকে।ওর শরীরের উষ্ণ তাপে নেশা পেয়ে যায়।নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়েও পারলাম না।রাকিবের ইশারায় সাড়া দিয়ে পৌছে গেলাম ভালবাসার অতলস্পর্শি শিখরে।

আজ আর কোনও দ্বিধা নেই।একটা গোলাপ ধরে রেখেছি হাতের মুঠোতে।রাকিবকে আর কত চেপে যাব সত্যটা।বললে হৃদয়টা হাল্কা হবে।বাংলাতে গিয়ে কলিং বেল চাপলাম।রাকিব এসে দরজা খুলে দিয়ে কেমন যেন গুটিয়ে পড়ল।ওর মুখটা এমন মলিন দেখাল কেন ভাবতে ভাবতেই সোফায় গিয়ে বসলাম।

-আপনি বসুন।আমি চা করে আনছি।

প্রখর অনুতপ্ততা দেখছি রাকিবের মধ্যে।রাকিব কি কালকের ঘটনাটা নিয়ে ডিস্টার্বড?

হাতে চায়ের কাপ নিয়ে রাকিব ড্রয়িং রুমে ঢুকল।কাপা কাপা হাতে কাপটা আমার দিকে এগিয়ে দিতেই কেমন যেন ঢলে পড়তে লাগল ও।সেই সাথে আমার হাতে থাকা গোলাপটাও।

আমি চমকে উঠে ধরলাম রাকিবকে।

-একি!রক্ত?

রাকিবের নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে কেন!

মুহূর্তের মধ্যেই হাসপাতালে এনে ভর্তি করালাম ওকে।ডাক্তারের রিপোর্টের অপেক্ষা করছি প্রায় ঘণ্টাখানেক হয়ে যাবে।ডাক্তার বাইরে এসে আমার হাতে একটা ফাইল ধরিয়ে দিল।ফাইলটাতে চোখ বুলাতেই শিরদাঁড়া বেয়ে এক ঝলক বিদ্যুৎ খেলে গেল আমার।

-ডাক্তার আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে হয়ত।

-না মিস্টার বিশাল।

-ভাল করে আবার পরীক্ষা করুন।এত অল্পতেই রাকিবের এমন কঠিন কিছু হতে পারেনা।

-সেটা ভেবেই আমরা পরপর দুবার টেস্ট করিয়েছি।হি হ্যাজ অলরেডি অ্যাফেক্টেড বাই ব্রেইন টিউমার।

কিছু মুহূর্তের জন্য আমার শ্বাসরোধ হয়ে যাচ্ছিল মনে হল।নিজের চোখ আর কানকে বিশ্বাস করতে আমার অসাধ্য মনে হচ্ছে।ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করলাম,

-রাকিবকে বাঁচানো যাবেনা?

-সরি।রোগটা ভীষণ গাড় হয়ে গেছে।সময় নেই।

পৃথিবীটা থমকে যাচ্ছে।সেই সাথে আমি।কাউকে কখনও এতটা ভালবাসিনি যতটা রাকিবকে বেসেছি।আর সে কিনা আমাকে একা করে দিচ্ছে?

ভাবতে গেলেও চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছে করে।নিঃশব্দে ধীরে ধীরে রাকিবের কেবিনের দিকে এগিয়ে গেলাম।দরজার বাইরে থেকে কেবিনে তাকাতেই তটস্থ হয়ে গেলাম।এসব কি দেখছি আমি!রাকিবকে বুকে জড়িয়ে রেখেছে কেউ।ডাক্তারটা কে?রাকিবের খুব আপন কেউ হবে হয়ত।আমার মতোই চোখ থেকে অনবরত জল ঝরছে ওই ডাক্তারের।রাকিবের হাত টেনে চুমুও খেল।সেদিকে আর তাকিয়ে থাকতে পারলামনা।পুরো শরীরটা কেমন ঝাঁঝিয়ে উঠল।

একটা ফার্মেসিতে ঢুকে রাকিবের প্রেশক্রিপশন দেখিয়ে ওষুধ নিয়ে ফিরছিলাম।রাস্তায় লোকজনের ভিড় দেখে এগিয়ে যেতেই দেখি ইশানের বাবা।সাথে সাথে হাসপাতালে নিয়ে এলাম।মাথাটা ফেটে গেছে খানিকটা ভদ্র লোকের,সেই সাথে হাতও।

ডাক্তার ব্যান্ডেজ করে দিয়েছে।ইশানের পরিবারের লোকজন ছুটে এসেছে ইতিমধ্যেই।ইশান আমাকে ওর বাবার পাশে দেখামাত্রই থমকে গেল।ওনাকে কেবিনে রেখে আমি রাকিবের রুমে চলে আসলাম।ইশান অবাক পলকে তাকিয়ে রইল আমার দিকে।

রাকিবের পাশে বসে চুপচাপ ওর দিকে তাকিয়ে রইলাম।আমার উপস্থিতি চোখ বুজেই ও বুঝতে পেরে গেল।ম্লান গলায় বলল,

-আপনি?

আমি রাকিবের একটা হাত চেপে ধরে জিজ্ঞাসা করলাম

-তোমার এই রোগের কথা আগে জানতেনা?

ভাঙা স্বরে জবাব দেয় ও।

-না।বাড়িতে ফোন করেছেন?

-হ্যাঁ।তোমার বাবা মা আসছে।

মলিন একটা হাসি দিয়ে রাকিব জিজ্ঞেস করল,

-আপনি আমার জন্য এতকিছু করছেন কেন?ছেড়ে দিননা।আর কত বইবেন এই উটকো ঝামেলা।

আমি রাকিবের মুখ চেপে ধরে ওকে থামিয়ে দিলাম।কিছু প্রশ্ন জমিয়ে রেখেছিলাম তখনকার দেখা ডাক্তারের সাথে ওর অন্তরঙ্গতার সম্বন্ধে।কিন্তু যখনই রাকিবের অশ্রুভরা চোখ দুটো দেখি তখন নিজেই যেন জ্যান্ত লাশ হয়ে যাই।

এরইমধ্যে রাকিবের বাবা মা হন্তদন্ত হয়ে হাসপাতালে ছুটে এসেছে।আমি একপাশ হয়ে বেরিয়ে গেলাম কেবিন থেকে।

ওবেলার ডাক্তারটাকে দেখামাত্রই জিজ্ঞেস করলাম,

-আপনি কে?আর রাকিব আপনার কে হয়?

-রাকিব আমার কাজিন।আমি ডক্টর হাসিব।নতুন জয়েন করেছি।তবে আপনি কে?রাকিবের মুখে অনেক কথাই শুনেছি আপনার সম্পর্কে।আমি ভৎসর্ণার ছলে একটা হাসি দিলাম।রাকিবের সাথে ওর সম্পর্কটা কাজিন নাকি অন্য কিছু তা আমি জানি।একটা মানুষকে দুজনই গভীরভাবে ভালবাসে।তাই হয়ত এই দোটানায় স্রষ্টা রাকিবকে রাখতে চায়না।

-রাকিবকে কি বাঁচানো যাবেনা?

-আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছি।তবে….

-তবে?

-পারব বলে মনে হচ্ছে না।

১০

অন্যান্য দিনের চেয়ে রাকিবের দুর্বলতাটা আজ বেশি মনে হচ্ছে।রাকিবের কথা মত ওর বাবা মাকে বাংলোতে দিয়ে আসি।ধীরে ধীরে ওর বেডের পাশে গিয়ে বসি।চোখদুটো থেকে অফুরান ভাবে অশ্রুধারা বইছে আমার।রাকিবের মুখটার দিকে তাকিয়ে রইলাম কিছুক্ষণ।ভাবতেই অসহনীয় কষ্ট হয়।এই মুখটাকে আর বেশিদিন বাঁচিয়ে রাখতে পারবনা।নিস্তব্ধতায় মিশে রয়েছে পরিবেশটা।হঠাৎ করেই রাকিবের গলার স্বর ভেসে উঠল

-এত ভীরু তুমি জানতামনা।

আমি হতবাক বনে গেলাম রাকিবের কথা শোনে।

-তবে কি জানো?তোমার ভালবাসাই আমাকে অভিশাপ দিয়েছিল হয়তো।তোমার এই অবিনশ্বর ভালবাসার ভাগীদার আমি হতে পারিনি।তবে তোমারই তো ছিলাম সবসময়।মুখ ফোটে একবারের জন্যও কেন বলোনি যে,আমি তোমার ভালবাসা।আমি বেশকিছুটা অবাক হয়েও নির্দেশের সুরে বলি,

-রাকিব!কথা বলোনা।ডাক্তার নিষেধ করেছে।অসুস্থ হয়ে পড়বে।

-বলতে হবে আজ।সময় নেই।আজ ইশান নামের একটা ছেলে এসেছিল।

মুহূর্তেই ব্যাপারটা বোধগম্যে চলে এল আমার।

-তুমি তো অন্য কারোর রাকিব।

-আমি অন্য কারোর মানে?

-তোমাকে হাসিব ভালবাসেনা?

-কিন্তু আমি তো ওকে বাসিনা।

-সেদিন হাসিবকে কাঁদতে দেখেছিলাম তোমাকে জড়িয়ে রেখে।

-চোখের দেখা সবকিছু সঠিক নয় বিশাল।আর হাসপাতালের অধিকাংশ মুহূর্ত আমি জ্ঞানহীন থাকি।কখন কি ঘটছে আমার সাথে আমি জানিনা।

একটা দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে রাকিব বলল,

-যে কটা মুহূর্ত বাঁচব তোমাকে ভালবাসতে দিবে?

ভেতর থেকে চেপে রাখা একটা আর্তনাদ বেরিয়ে এল আমার।দলাপাকানো কষ্ট গুলো বাঁধ ভেঙে দিল।জড়িয়ে ধরলাম রাকিবকে।কয়েকমুহুর্ত আমাদের কান্নায় পরিবেশটা ভারি হয়ে উঠল।রাকিব কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলতে লাগল,

-বিশাল!আমার একটা শেষ উপকার করবে?

অনেক কষ্টে কান্নাগুলো চেপে রেখে বললাম,

-বলো।

-আমার বাবা মার আমি ছাড়া আর কেউ নেই।তুমি ওদেরকে একটু দেখবে?

-হ্যাঁ দেখব।

-আর আমার অনুপস্থিতিতে মদ তো নয়ই বিয়ারও ছুঁবেনা।

-না।ছুঁবনা।

-তোমাকে বেঁচে থাকতে হবে।কথা দাও।

পিণপতন নীরবতায় আমি কথা দিলাম রাকিবকে।সময়টাকে আমি থামিয়ে দিতে চাচ্ছিলাম অন্তহীন এক বেড়াজালে।যেন কখনও এই দেহের মানুষটা আমার বুকছাড়া না হয়,কখনও এই মানুষটা যেন চোখের আড়াল না হয়।

আমার মনে হতে লাগল,কিছু একটা ছিঁড়ে পড়ছে আমার বুক থেকে।আচমকাই রাকিবের কান্নার আওয়াজ বন্ধ হয়ে গেল।আমাকে জড়িয়ে ধরে রাখা দুটো হাত পিঠ থেকে ঢলে পড়ল।আমি ঘাড় থেকে রাকিবের মুখাবয়বটা তুলে ধরলাম চোখের সামনে।অবিস্তৃত সীমানার মায়াবী দুটো চোখ বুজে গেছে।সাথে থেমে গেছে নিঃশ্বাস।সমাপ্তি হয়ে গেছে আমার অসম্পূর্ণ ভালবাসার।

১১

একজন বিশেষজ্ঞ সার্জন আমি।সারাদিনের কাজ শেষে বাংলোটাতে ফিরি।সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রেখেছি যে স্থানটাকে।গাড়িতে করে ওখানে পৌছে গিয়ে রাকিবের ঘরটাতে ঢুকি।ওর কিছু স্মৃতি নাড়াচাড়া করি।

ভালবাসার শাখা প্রশাখার সংখ্যা অনেক।ভালবাসার মানুষটাকে নিয়েই জীবন সাজাতে পারে এমন দৃষ্টান্ত খুব কমই রয়েছে।ভেবে নেই আমিও হয়ত তাদের মধ্যে একজন।আমিও ধরে নিয়েছি আমার ভালবাসার পরিসমাপ্তটাই হয়ত এমন হওয়ার কথা ছিল।

রাকিবের গায়ে জড়ানো কিছু কাপড় ঠোঁট দুটোতে ছুঁইয়ে ওকে ভেবে অনুভব করি।রাকিবের স্নিগ্ধতা নিই ।সবকিছু অনুভব করতে গিয়েও ব্যর্থতার শিকার হই।অনুভূতিগুলো কেমন যেন মৃত।

চঞ্চল এই আমি তো সেদিনই স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম,যেদিন রাকিবকে প্রথম দেখেছিলাম।মাঝে কিছু দিন সুখের সাগরে ভেসে আজ আবারও সেরকম স্তব্ধতা গ্রাস করে নিয়েছে আমাকে।

রাকিবের ঘরের খোলা বারান্দাটায় সবসময় ঝিরঝিরে একটা বাতাস বয়।ওখানে বসলে রাকিবকে তীব্র ভাবে মনে পড়ে।ইচ্ছে হয় বিসর্জন দেই নিজেকে।সেদিনই তো এই ইচ্ছেটা হয়েছিল।যেদিন আমার ভালবাসাই অন্তিমত গেছে।কিন্তু কথা দিয়েছি যে রাকিবকে।রাকিবের স্মৃতিচারণের মধ্যেই তো আমার ভালবাসা সজীব থাকবে।ভালবাসাকে বাঁচিয়ে রাখতেই হবে আমার বেঁচে থাকা।

কিন্তু সেসব দিনের কথা মনে পড়ে।তিক্ত দুফোটা জলও চোখ থেকে গড়িয়ে পড়ে প্রকৃতির অগোচরে।যেদিন বোতলের পুরো বিয়ার একঢোকেই খেয়ে নিয়েছিল রাকিব।

আমার সামনেই দুটো বিয়ার আর গ্লাস।কিন্তু আমি আর এখন বিয়ার খাইনা।রাকিবকে কথা দিয়েছি।

———————

সমাপ্ত

বি:দ্রঃ গল্পটি একটি পূর্ণদৈর্ঘ্যের কিঞ্চিত্ ছায়া অবলম্বনে রচিত।

সমপ্রেমের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.