ধূসরের ছায়ে লুকায়িত হলুদ

লেখকঃপৃত্থুজ আহমেদ

উৎসর্গঃ-ঈশাণ(Youthful Ishaan)

***

কলেজ ছুটি হল প্রায় অনেকক্ষণ হয়েছে।হাতের কিছু কাজ ছিল সেগুলো শেষ করতে করতে দেরি হয়ে গেল আজ।এমনিতেই আমি সবার শেষে বের হই।তবুও আজকে যেন বেশ দেরি হয়ে গেল।আসলে সামনে পরিক্ষার কারণে এখন একটু ব্যস্ত সময় পার করতে হচ্ছে প্রশ্নপত্র তৈরি করা নিয়ে।আর মাত্র কয়েকদিন বাকি পরিক্ষার।আমারও প্রশ্নপত্র তৈরি করা প্রায় শেষের পথে।ঘড়ির দিকে তাকালাম।অনেক দেরি হয়ে গেছে।

নাহ্!আজকে উঠতেই হবে।বাকিটা বাসায় গিয়ে শেষ করা যাবে।ব্যাগপত্র গুছিয়ে রওয়ানা দিলাম বাসার উদ্দেশ্যে।হঠাৎ করেই কেমন অদ্ভুত অনুভূত হতে লাগল।যা আজ সকাল থেকেই থেমে থেমে জেগে উঠছে।আজকের দিনটাও কেমন যেন অদ্ভুত লাগছিল।তাহলে আমার জীবনে কী আবার কোন বড় কিছু ঘটতে চলেছে?না।কী আর ঘটার বাকি আছে!যা ঘটার তা তো বহু বছর আগেই ঘটে গেছে।নিজের বোকা বোকা ভাবনাগুলোতে নিজেরই কেমন হাসি পেল।এত বছর পরেও আমি বাঁচার স্বপ্ন দেখি এই ভেবে।জীবনের এতগুলো ধূসর বসন্ত অতিবাহিত হওয়ার পরও আবার সেই বসন্তকে নবীনতার রঙ কেন দিতে চাইছি সেটাই কেমন আশ্চর্য লাগছে।এই মনস্তাত্ত্বিক ব্যাপারগুলো আমি আজও বুঝলাম না।কখন কী চেয়ে বসে,পেয়ে বসে মনে আজও বুঝে উঠতে পারিনি।হয়ত বাকি জীবনটাতেও বোঝা হয়ে উঠবেনা।

***

কলেজের মেইন ফটক অতিক্রম করে বেরিয়ে কলেজের পাশের পার্কটার পাশ দিয়ে যাচ্ছি গাড়িতে উঠব বলে।এমন সময় পেছন থেকে কারও ডাকে স্তম্ভিত হয়ে পেছন ফিরলাম।আমার মনে হল কেউ আমাকে বাবাই বলে ডাকছে।ঠিক কী হচ্ছে বোঝার জন্যই পেছন ফেরা।পেছন ফিরে দেখলাম ছয়-সাত বছরের একটা বাচ্চা ছেলে আমার দিকে হাসি হাসি মুখ করে তাকিয় আছে।আমার থেকে খানিকটা দূরেই ওর অস্তিত্বের অবস্থান।বাচ্চাটা দেখতে খুবই সুন্দর।ঠিক যেন দেবশিশু।কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হল ও আমাকে বাবাই ডাকছে কেন?আমি আশেপাশে তাকিয়ে দেখলাম কেউ আছে কী না,কিন্তু না সেরকম কাউকে নজরে পড়ল না।

***

আমি বাচ্চাটার দিকে খুব মনোযোগের সহিত তাকালাম।মুখাবয়ব টা চেনা মনে হচ্ছে খুব।অতি পরিচিত কারও প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছে এই বাচ্চাটার মুখশ্রী তে।ওকে খুব নরম স্বরে জিজ্ঞেস করলাম,তুমি কী আমাকে চেন?তোমার বাবা মা কোথায়? তুমি কী হারিয়ে গেছ?আর আমাকে বাবাই ডাকছ কেন?

এতগুলো প্রশ্ন একসাথে শুনে স্বাভাবিকভাবেই যে কারোরই হকচকিয়ে যাবার কথা।কিন্তু বাচ্চাটার ভাবগতির কোন পরিবর্তন লক্ষ্য করতে পারলাম না।ও খুব স্বাভাবিক ভঙ্গিতে পূর্বের ন্যায় আমার দিকে তাকিয়ে রইল হাসিমাখা মুখে।আমি কিছুটা অবাক হলাম।ওকে আবার জিজ্ঞেস করলাম তুমি কথা বলছ না কেন?ও এবার মুখ খুলল,বলল তুমিই তো আমার বাবাই।আমি তোমাকে চিনব না তো কাকে চিনব?তোমার নাম হিমু রহমান।কিন্তু আমার কাছে তোমার নাম হল আমার বাবাই।বলেই বাচ্চাটা আমার দুগালে দুটো চুমু দিল।আমি দ্বিতীয়বারের মত অবাক হলাম।তবু কেন জানি বাচ্চাটার উপর রাগ হচ্ছে না।বরং একটা চেনা মায়া কাজ করছে ওর প্রতি।ভেতর থেকে কেন জানি ওকে বুকে টেনে নিতে ইচ্ছে করছে।ওর দিকে তাকিয়ে ওকে জিজ্ঞেস করলাম,আচ্ছা বাবু তোমার নাম কী?আমার নাম অহিম।বাচ্চাটা তার নাম বলার সাথে সাথেই বুকের ভিতরটায় তীব্র কম্পন অনুভূত হল মনে হচ্ছিল।এক তীব্র হাহাকারে বুকের ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠল।তড়িঘড়ি করে অহিমকে আবারও জিজ্ঞেস করলাম,তোমার বাবার নাম কী?

অহিম কিছু না বলে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে।আমি ওকে ঝাঁকুনি দিয়ে আবারও ওর বাবার নাম বলতে বললাম।ও বলল,বাবা তোমাকে তাঁর নাম বলতে বারণ করেছে।তোমার বাবা তোমার সাথে এসেছে অহিম?

হ্যাঁ এসেছে।চল তোমাকে আমার বাবার কাছে নিয়ে যাই।

এই বলে আমার জবাবের অপেক্ষা না করেই আমার হাত ধরে অহিম আমাকে তার বাবার কাছে নিয়ে যাচ্ছে।যতই এগোচ্ছি ততই আমার হৃদপিন্ডের স্পন্দনগতি পরিবর্তন হতে লাগল।এই স্পন্দন আমার চেনা।বহুবছরের চেনা এই হৃদস্পন্দন।

অহিম আমাকে পার্কের প্রায় শেষ মাথায় নিয়ে এলো।এখানটায় সাধারণত কেউ আসেনা।কিন্তু ওর বাবা কই?আমি ওকে জিজ্ঞেস করলাম।ও বলল আরেকটু সামনে চল,দেখতে পাবে।একটু এগোতেই অদূরেই দেখতে পেলাম একটা মানুষের অবয়ব ফুটে উঠতে লাগল।পেছন ফিরে দাঁড়িয়ে আছে।আমার একটা হাত অহিমের হাতের সাথে মুষ্টিবদ্ধ।আরেকটা হাত আমার বুকের বাম পাশে।কেমন একটা চিনচিন ব্যথা অনুভূত হচ্ছে বুকে।আমি লোকটার মানে অহিমের বাবার আরও কাছাকাছি চলে এসেছি।অহিম আমার হাতটা ছেড়ে দিয়ে ওর বাবার কাছে চলে গেল দৌঁড়ে।অহিম যেতেই লোকটা পেছন ফিরে তাকাল।সাথে সাথেই মনে হল আমার হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গেছে।মনে হল আমি জীবনের শেষ সীমানায় দাঁড়িয়ে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে যাচ্ছি।অভ্র!এতবছর পর!আর অহিম?অভ্র আর হিমু মিলেই অহিম!এই নামটা আমারই দেয়া নাম।

***

অভ্র আমার সামনে দাঁড়িয়ে আছে।অহিম ওদের ড্রাইভার আঙ্কেলের সাথে গেছে অন্যদিকে।আমি অভ্র’র মুখের দিকে তাকাতে পারছিনা।তাই অন্যদিকে তাকিয়ে আছি।চারিদিকে কেমন শূন্যতা বিরাজ করছে।পিনপতন নিরবতা ভেঙ্গে অভ্র জিজ্ঞেস করল,কেমন আছিস হিমু?

ভাল আছি।তুই কেমন আছিস?

তুই সত্যিই ভাল আছিস হিমু?

ভাল থাকার জন্যই তো এত আয়োজন।সব কিছু থেকে নির্বাসন নিয়েছিলাম ভাল থাকার জন্যই।ভাল না থেকে উপায় আছে কী!তুই বললি না তো তুই কেমন আছিস অভ্র?

হ্যাঁ যেমনটা তুই রেখেছিস।ভাল না থেকেও ভাল আছি।কিংবা ভালই নেই।

আমি যেমন রেখেছি বলতে?

বাহ্!ভুলে গেলি?অবশ্য ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।সেদিন চলে গিয়ে তো তুই মহান সেজেছিস।তাই তোর সবকিছু ভুলে যাওয়াটাই স্বাভাবিক।

অভ্র,পুরনো কথাগুলো ঘাঁটছিস কেন আবার?সেদিন আমি না গেলে আজ তুই এত সুন্দর বাস্তব পেতি না।সামাজিকতা পেতি না অভ্র।

কীসের বাস্তবতা?কীসের সামাজিকতা হিমু?যেখানে তুই নেই সেখানে এসব বড্ড তুচ্ছ আমার কাছে।এই সমাজ,সংসার কখনও আমার ততটা গুরুত্বপূর্ণ ছিলনা,আজও নেই।যতটা গুরুত্বপূর্ণ তুই আমার কাছে।

দেখ অভ্র,এতবছর পর এইসব কথাবার্তার সত্যিই কোন মানে নেই।আজ তোর একটা সংসার আছে।বউ,বাচ্চা সবকিছু আছে।সুতরাং এসব অতীত হাঁতড়িয়ে তোর বর্তমানটাকে ক্ষতিগ্রস্ত করিস না।

জানিস হিমু,ভাল শুধু তুই একা বাসতে পারিস না।আমিও তোকে ভালবেসেছি।আর আজও তোকেই ভালবাসি।প্রত্যেকটা মূহুর্তে আমি তোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করি।কিন্তু তুই তো সবার কাছে উদার হতে চেয়েছিস।আর উদার হয়েছিসও বটে।তবে সেটা আমার ভালবাসার বলি চড়িয়েই হতে হল?চেয়ে দেখ,আমি আজও সেই অতীতেই দাঁড়িয়ে আছি।যেই অতীতের অন্ধকার গহ্বরে তুই আমাকে ফেলে এসেছিলি।কেন এমনটা করলি?কেন করলি হিমু!অভ্র কাঁদতে কাঁদতে মাটিতে বসে পড়ল।

আর আমি ঠায় দাঁড়িয়ে রইলাম।যেই অতীতের কথা অভ্র চিৎকার করে বলছে সেই একই অতীত ছিঁড়ে আমিও কখনও বেরোতে পারিনি।হয়ত বেরোতে চাইনি তাই।কিন্তু তবুও আজ আমি সবার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ।নিজের কাছে,বাস্তবতার কাছে এমনকি নিজের ভালবাসার কাছেও আমি আজ প্রশ্নবিদ্ধ।

***

আজ সবকিছুই ঠিক তেমন হয়ে গেছে যেমনটা আমি চেয়েছিলাম।ছোট্ট একটা সংসার,অভ্র,অহিম সবই ঠিকআছে।শুধু আমার স্থানে আজ অন্তিকার অস্তিত্ব বিরাজমান।হ্যাঁ!আমার মত অন্তিকাও অভ্রকে ভালবাসত।আমি,অভ্র আর অন্তিকা ছিলাম হরি হর আত্মা।অন্তিকার দৃষ্টিতে আমি অভ্রের জন্য সততা দেখেছি।অন্তিকা প্রায়শই অভ্রকে নিয়ে তার চাওয়া,স্বপ্নের কথা বলত আমাকে।আর আমি তখনই ভেবে নিয়েছিলাম একটা সুন্দর নিশ্চিত বাস্তব যেখানে অভ্রের জন্য অপেক্ষা করছে,সেখানে আমি ওকে অনিশ্চিত বাস্তবতায় ঠেলে দিতে পারিনা।তাই নিজের সবকিছু বিসর্জন দিয়ে আমি অন্তিকা আর অভ্রকে সমান্তরাল করে নিজে বিচ্ছেদ হয়ে গেলাম সকল বন্ধন থেকে।

***

অভ্র’র দিকে তাকালাম।ও এখনও মাটিতে বসে কাঁদছে।কাঁদছি আমিও।আমি চাইলেই থাকতে পারতাম ওদের পাশে।কিন্তু কখনও ওদের মাঝে দীর্ঘশ্বাস হতে চাইনি বলেই আমি দূরে চলে গেছি।মিশে গিয়েছি বাস্তবতার ভীড়ে।তবুও না থেকেও আমি অভ্র আর অন্তিকার মাঝে আজীবন থেকে গিয়েছি।কিন্তু ভাবিনি জীবন আমাকে এই জায়গায় এসে দাঁড় করাবে।অভ্র যে বেপরোয়া তা আমি জানতাম।তবে বাস্তব হাঁতড়ে আমাকে বের করে আনবে তা কখনও ভাবিনি।অভ্রকে জড়িয়ে ধরলাম।চোখের জল মুছে দিয়ে বললাম বাসায় চল।অভ্র কান্না থামিয়ে বলল,একদিন আমার বাসায় চল তোর স্ত্রী,সন্তানদের নিয়ে।অন্তিকা প্রায়ই তোর কথা বলে।

অভ্র’র কথা শুনে আমার ভীষণ জোরে হাসতে ইচ্ছে করলেও আমি হাসিনি।শুধু একটা ম্লান হাসি দিয়ে বললাম,স্ত্রী সন্তান থাকলে তো নিয়ে যাব!

অভ্র কিছুটা অবাক হয়ে আমাকে জিজ্ঞেস করে,বিয়ে করিসনি কেন?

সবাইকে যে করতেই হবে এমনটাও না।আমার সেই মানসিক সামর্থ্য নেই যে আমি বিয়ে করে একটা মেয়ের সাথে জীবন পার করে দেব।বেশ তো আছি মন্দ কীসের।

***

অভ্র আমার দিকে তাকিয়ে রইল।ওর দৃষ্টি আমার কাছ থেকে ভিন্ন কিছুর প্রত্যাশা রাখছে।আরও কিছুর আশ্বাস চাইছে।কিন্তু আমি তা পারিনা।এতবছর পর এসব সত্যিই আর সম্ভব নয়।আজ বাস্তবতার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।বাস্তব আজ ভিন্ন কথা বলে।আমি অভ্রকে ভালবাসি বাকিটা জীবন ওকেই ভালবাসব।কিন্তু বাস্তব ভেদ করে কল্পনার জগতে প্রবেশ করা আমার পক্ষে কখনও সম্ভব নয়।চিরকাল ধূসর অভ্রের আড়ালে হলুদ হিমু লুকিয়ে থাকবে।আমি সেই সূর্য,যার হলদে আলো কখনও অভ্রের ধূসরতা ভেদ করতে পারেনা।চিরকাল অন্তরালেই থেকে যাব আমি।অভ্রের ভালবাসার অন্তরালে।হঠাৎ অহিম দৌঁড়ে এসে বলল,

বাবা,বাবাই তোমরা চল তো।আমি ড্রাইভার আঙ্কেলের সাথে বসে থাকতে থাকতে বিরক্ত হয়ে গেছি।এই বলে অহিম আমার এবং অভ্রের হাত ধরে টানতে লাগল।সন্ধ্যে হয়ে এলো।অবশেষে,ঘুরে দাঁড়ালাম আমরা তিনটা মানুষ।অহিম আমাদের মাঝখানে থেকে দুজনের দুটো হাত ধরে এগোচ্ছে।

***

আমি অভ্র আর অহিমের সাথে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটছি আর ভাবছি,জীবন কখন,কাকে,কীভাবে,কোথায় নিয়ে যায় তা আমরা কেউ বলতে পারিনা।হঠাৎ করেই জীবনের বাঁকে চলে আসে অসংখ্য বাস্তবতা।আর এই বাস্তবতাকে সঙ্গী করেই আমাদের বাঁচতে হয়।নাই বা পেলাম আমি অভ্রকে।কিন্তু ওর স্মৃতি,ওর ভালবাসা সব আছে আমার কাছে।এক জীবন কাটিয়ে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট।জীবনে অপূর্ণতা থাকতে হয়।নাহলে জীবনে নিমজ্জিত প্রকৃত স্বাদ আস্বাদন করা যায় না।উপলব্ধি করা যায় না জীবনের প্রতিটা নিঃশ্বাস।প্রতিটা নিঃশ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে গৃহীত অম্লজানে যদি দীর্ঘশ্বাসের ছোঁয়া না থাকে তাহলে তাকে জীবন বলা যায় না।অপ্রাপ্তির প্রাবল্যতা যত ভারি হয় আমাদের জীবন হয়ে ওঠে ততটাই পরিপূর্ণ।টইটুম্বুর হয়ে ওঠে বাস্তবতার রসে।যেই রস আমাদের জীবনের প্রকৃত মানে উপলব্ধি করাতে সহায়তা করে।

এসব ভাবছি,সেই সাথে আরেকটা আতঙ্কে মনটা সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।নাহ্,আমি কখনওই অভ্র আর অন্তিকার মাঝে আসতে পারিনা।ওদের ভালবাসায় সুক্ষ্ণ গরল হয়েও পড়তে চাইনা আমি।আমাকে পালাতে হবে আবারও।দূরে কোথাও,বাস্তবতা এবং কল্পনা থেকেও বহুদূরে।যেখানে গেলে আমার সামান্যতম আঁচ অভ্র আর অন্তিকার জীবনে পড়বেনা।আমি আবার হারাব।সবকিছুর সমাপ্তিতে গিয়ে হারাব আমি।এই নিদারুন বাস্তবতা আর কল্পনার উপসংহার কোথায়?যেখানে আমি নিমজ্জিত হয়ে চির নিঃশেষে নিষ্পেষিত হতে পারি।

সমাপ্ত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.