ধোঁয়াশা

লেখক : রাত জাগা পাখি

[ বি: দ্র : ঘটনাটি সম্পূর্ণ বাস্তব জীবন থেকে নেওয়া হয়েছে, যেখানে মূল চরিত্র গ্রামের ১টি সাধারণ সহজ সরল মাটির ছেলে, এবং শহরের ইট-পাথরের গড়া এক কঠোর হৃদয়বান ব্যাক্তির ]

প্রায় আধ ঘন্টা আগেই চারদিকে আজান হয়েগেছে তাই, সবাই যার যার ঘরের ফিরেগেছে, চারদিক এখন অন্ধকারময়। আমি বাড়ির উঠোনের একপাশে বসে বসে ফেইসবুকে বন্ধুদের সাথে চ্যাট করছি। আর মা সমান তালে ডেকেই চলেছেন, গ্রামের এই এক সমস্যা ঘরের ভেতরে কোনো নেট পাওয়া যায় না। তাই তো বাইরে বসে বসে ফেইসবুক চালাচ্ছি। আর দিকে মা পড়তে বসার জন্য ডেকেই চলেছে। উফ্ প্রতিদিন এই পড়া পড়ি আর ভালোলাগে না, আমি এ্যানি দশম শ্রেণীতে পড়ি, আমাদের বাড়িটা একটা মমফস্বল শহরে, অবশ্য এখান থেকে শহরটা প্রায় ৩ কিলোমিটারের ভিতরে ই তাই শহরের সবকিছু ই এখানে রয়েছে। আমার আম্মু একজন স্কুল টিচার,আর আমি উনার বড় ছেলে, আর আমার ছোট ভাই ক্লাস ফাইভে পড়ে তাই পড়াশুনা র চাপ টা আমাকেই বেশি পোহাতে হয়। অবশ্য এখন মে মাসের শরুর দিকে আর এস. এস. সি. তো সেই ফেব্রুয়ারি তে তাই মা এতো আগে থেকেই পড়াশোনা তে বেশি চাপ দিতে শুরুকরেছেন। ঠিক এমন সময় অপরিচিত কেউ ইনবক্সে নক্ করল। hi, hello ২-১ বার যখন লিখলো তখন একপ্রকার বিরক্তিকর হয়েই মেসেজটা চেক করলাম, তারপর আমি hi লিখলাম। কিন্তু আবার ওপাশ থেকে অভিযোগ আসলো, যে আমি কেমন আছি তা জিগ্যেস করাতে আমি hi কেন লিখেছি? আমি দেখলাম ওহ! তাই তো তারপর বন্ধুদের বিদায় জানিয়ে লোকটার সাথে কিছুক্ষণ কুশল বিনিময় করে নিলাম, কিন্তু লোকটা আমার ফোন নাম্বার চেয়ে বসল। আমিও তাই দিয়েদিলাম। দেওয়ার পর বললাম ভাই এখন ফোন দিয়েন না পরে কথা বলব! বলে নেট অফ করে ঘরে চলে গেলাম পড়তে বসতে। আর আম্মু সেই কখন থেকে বকতে শুরুকরে দিয়েছে সেদিকে যেনো আমি খেয়াল ই করলাম না। প্রতিদিন এভাবে বকা শুনতে শুনতে যেনো আমার কানে সয়েগেছে। তার পর যথারীতি পড়তে বসলাম, এবং পড়া শেষে খাওয়া দাওয়া সেরে ঘুমিয়ে পড়লাম।পরদিন আবার সেই প্রতিদিনের মতোই ভোরে ঘুম থেকে ওঠে প্রাইভেট পড়ে তারপর সারাদিন স্কুল করে বিকাল ৪.২০ মিনিটে বাড়ি ফিরলাম। এর মধ্যে আর ঐ লোকটার সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ হয়নি। স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে আমার বন্ধু রায়ানের সাথে বিকাল ৫টার দিকে নদীর ধারে হাটতে বেরোলাম । কিছুক্ষণ হাটার পর হঠাৎ একটা অজানা নম্বর থেকে কল আসলো, আমি সালাম জানিয়ে জিগ্যেস করলাম—–আপনি কে?

___কেমন আছো বন্ধু

—–ভালো, আপনি কেমন আছেন

___ভালো

—–আপনাকে কিন্তু চিনতে পরলাম না

—–মনে করে দেখো আমাকে চিনতে পারো কি না…..

—–না, আমি আপনাকে চিনি না,

—–চোখ বন্ধ করে ভেবে দেখো তো আমাকে চিনতে পারো কি না

—–আমি সত্যি সত্যিই চোখ বন্ধ করলাম কিন্তু অন্ধকার ছাড়া আর কিছুই দেখলাম না। তাই এক প্রকার বিরক্ত হয়েই বললাম দেখুন যদি পরিচয় দিন তাহলে দিয়েদিন আর না হলে ফোন রেখেদিলাম।

—–ওহ্ বন্ধু, আমি সায়মন ………… এটুকু বলাতেই আমি চিনতে পারলাম। তারপর বললাম কাল যে আপনার সাথে মেসেজ হয়েছিল, আপনি কি সেই সায়মন? উনি বললেন হ্যা এ্যানি। তুমি কি আমার ওপর রাগ করেছো? আমি বললাম না না ও কিছু না। কিন্তু আমি মনে মনে বেশ অবাক হলাম, কেননা ফেইসবুকে তো অনেক ফ্রেন্ডের সাথেই পরিচয় হয় কিন্তু কেউ কোনো দিন নাম্বার নিয়ে কল দেয় নি। এসব ভাবতে ভাবতে ভুলেই হয়েছিলাম যে আমি ফোনে কারো সাথে কথা বলছি। তার পর ও পাশ থেকে হ্যালো হ্যালো শুনে সম্মতি ফিরে পেলাম। বললাম ওহ্ সরি নেট প্রব্লেম। সে বললো it’s ok. তুমি কিন্তু আমাকে তুমি করে বলবা ওকে?। আমি বললাম না না তা কিকরে হয় আপনি তো আমার থেকে বড় তাই আপনাকে আপনি করে ই বলবো, তারপর সে বললো দেখো তুমি যদি আমাকে তুমি করে না বলো তাহলে কিন্তু আমি রাগ্ করবো। ছেলটার এমন আচরনে কেনো যানি না আমার ভালোই লাগছিলো, তাই আপনি থেকে তুমি করেই বলা শুরুকরলাম। এরপর দুজনে দুজনার সম্পর্কে সব কিছুই ভালোকরে জেনে নিলাম। ছেলেটা র বাড়ি পুরান ঢাকায়। গাড়ির কোম্পানি তে জব্ করে। এভাবে প্রায়১ ঘন্টা র বেশিই কথা হয়েগেছে সেদিকে আমার খেয়াল ই নেই। হঠাৎ রায়ানের কথায় সে খেয়াল টা হলো। কথা বলতে বলতে ভুলেই গেছিলাম যে রায়ান আমার সাথেই আছে। এদিকে আমার পড়ার সময় হয়েগেছে, কিন্তু কথা যেনো শেষ ই হচ্ছেনা, তাই সায়মন কে বললাম যে এখন রাখি পরে আবার কথা হবে। তারপর ওপাশ থেকে বিদায় জানায় এবং ফোন টা রেখেদিলাম। ★★★ইশ্ বাড়ি ফিরতে একটু দেরি হয়েগেছে, অবশ্য কখনো সন্ধায়ী এত দেরিতে বাড়ি ফিরি না তাই কেউ কিছু জিগ্যেস করেনি। তারপর হাত-মুখ ধুয়ে নিয়ে সোজা চলেগেলাম পড়ার টেবিলে। কিন্তু কেনো যানি আজ পড়তে ইচ্ছে করছে না।কিন্তু কেনো এমন হচ্ছে এর কোনো ব্যাক্ষা আমার কাছে নেই। তবুও আমি পড়ার চেস্টা চালিয়ে যাচ্ছি কিন্তু নাহ্, কিছুতেই আজ পড়ায় মন বসছে না। বার বার খালি ছেলেটার কথাগুলো কেনো যানি মনে পড়ছিল। তাই ছেলেটাকে মনে মনে বকা দিতে থাকলাম। কারন তন্তত ৩ স্যারের পড়া তো মুখস্থ করতেই হবে নাহলে বেত দিয়ে পাছা লাল করে ফেলবে। ওফ্ মা গো ব্যাপারটা ভাবতেই যেনো গা শিওরে উঠে। নাহ্ পড়া হচ্ছে না যে হচ্ছে ই না। একসময় মা খেতে ডাকলেন, তারপর খেয়েদেয়ে শুয়েপড়লাম। পরদিন যা ভেবেছিলাম ঠিক তাই হলো, যাকে বলে বিদ্যোপার্জন করার মহৌষধ। মনে মনে আমি রাগে ফুসতে লাগলাম। আর মনে মনে বলতে শুরুকরলাম নিকুচি করেছি তোর বন্ধুত্ব। বেটা নচ্ছার তোর সাথে কাল কথা বলেই তো আজ আমার এই দশা।আম্মু ঘরে বসে টিভি দেখছিলো, আর ঠিক তখনি সায়মন ফোন করলো। আমি রান্নাঘর থেকে ফোনের রিং বেজে ওঠার শব্দ শুনেই বুঝতে পারলাম যে ওটা সায়মন ই ছিলো, কেননা আমি ওর নাম্বারে আলাদা করে রিংটোন দিয়ে রেখেছি যাতে না দেখেই বুঝতে পারি যে ওটা কে কল করেছে। আমি রান্নাঘর থেকে দেখতে পেলাম আম্মু সায়মনের সাথেফোনে কথা বলছে। ব্যাপারটা দেখে আমি খুবই ভয় পেয়েগেলাম। আর মনে মনে ভাবছি ঠিক কি হবে এখন,? আম্মু কি জেনে গেলো যে তার ছেলে ১জন সমকামি। আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।আমার খাওয়া শেষ হয়েগেছে, খুব ভয় ভয় করছে। যাইহোক আমি আম্মুর কাছে গেলাম, আম্মু আমারদিকে তাকিয়ে বললো এই নে তোর বন্ধু র ফোন। আমি ফোনটা হাতে নিয়ে আমার রুমে চলেগেলাম। তারপর ওর সাথে বেশকিছুক্ষন কথা হলো।পরে যখন আম্মুর টিভি দেখেই চলছিল তখন আমি ভাবলাম বাইরে থেকে একটু ঘুরে আসি। কিন্তু যেই আমি বাইরে যাবো অমনি আম্মু আমাকে ডাকদিলেন, আর ঠিক তখনি আমার বুকের ভেতরটা ধক্ করে উঠলো। ভাবছি আম্মু কেনো ডাকদিলেন? আম্মুর কাছে যেতেই আম্মু সায়মনের সম্পর্কে জিগ্যেস করলেন। যে ওটা তোর কেমন বন্ধু রে? আমার উপস্থিত বুদ্ধিটা প্রখর তাই চট্ করে বলেদিলাম ওটা আমার ফেইসবুক বন্ধু প্রায় ১ বছরের। যদিও আমাদের সম্পর্কটা ১ সপ্তাহ ও হয়নি। পরে আম্মু যা বললেন তা শুনে বেশ অবাক ই হলাম। কেননা এইটুকু সময়ের মধ্যেই ছেলেটা মা কে ও পটিয়ে ফেলেছে দেখছি। সায়মনের ব্যাপারে আম্মুর কাছ থেকে বেশ প্রশংসা ই শুনলাম। আর হবেই না কেনো, দেখতে হবে না যে কার বয়ফ্রেন্ড। ছেলেটা দেখছি সবাইকে অাপন করে নিতে পারে। কিন্তু ওকে যে আমি মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছি তা আমি কি করে সায়মন কে বলবো তাই বুঝতে পারছিনা।

যতই দিন যায় ততই যেনো আমরা একে অপরের সাথে জরিয়ে যাচ্ছি। আমাদের সম্পর্কটা প্রায় ১ মাসের বেশিই হতে চললো কিন্তু কেউ কারো সাথে দেখাই করতে পারলাম না, আর না বলতে পারলাম ভালোবাসার কথা। কিন্তু একদিন সায়মন নিজেই আমাকে ফোনে প্রপোজ করলো, আর আমি নিজেকে তার জন্যেই সপেদিলাম। আমার জীবনের প্রথম প্রেমে, আর ভালোবাসা বলতেই আমি শুধু সায়মনকেই বুঝি। আর সায়মন আমাকে প্রতিদিন নতুন নতুন স্বপ্ন দেখাতে থাকে, আর আমি তার সেই স্বপ্নের রাজ্যে নিজেকে রাজকন্যা এবং সায়মনকে রাজকুমার হিসেবেই জানি। সায়মনের দেখানো স্বপ্নকে ঘিরে নিজেকে নতুন করে তৈরী করে, জীবনের নতুনত্ব কে আবিস্কার করতে শুরুকরলাম। এখন আমার জীবন বলতে শুধু সায়মনকেই বুঝি, আর কিছুই না।

এভাবেই চলছিল আমাদের সম্পর্কটা, এমন কোনো একদিন নেই যে সায়মনের সাথে অন্তত ১ ঘন্টা ফোনে কথা বলিনাই। অামাদের সম্পর্কটা প্রায় ৬ মাস হতে চললো, কিন্তু আমরা কেউ কাউকে না দেখেই দুজনে দুজনকে ভালোবেসে গেছি ( শুধু মাত্র ফেইসবুকের ছবিতে আমাদের দেখা হয় )। আর তো মাস দুয়েক পরেই আমাদের দেখা হতে চলছে, কেননা আমার পরীক্ষা শেষ হলেই তো সায়মন আমাদের বাড়িতে আসবে বলেছে।আর তারপর আমাকে তার সাথে করে ঢাকায় নিয়ে যাবে বলেছে। সায়মন আমাদের বাড়িতে আসতে তো পারবেই, কেননা মা র সাথে তো আগেই পরিচয় হয়েই আছে, তাই এব্যাপার নিয়ে চিন্তা করার কিছুই নাই।

কিছুদিন ধরে সায়মন কাজে ব্যাস্ততার কারনেই আমার সাথে তেমন যোগাযোগ করতে পারছেনা। আমি ফোনে ও তেমন পাচ্ছি না।কিছুদিন পরে যখন আমাদের বাড়িতে আসছে তাই তেমন এব্যাপারটা নিয়ে ভাবছি না। আমার চোখে এখন শুধু স্বপ্নের ঘোরপাক চলছে। সায়মন কে কাছে পেলে কি কি করব, কোথায় কোথায় যাবো আমার মাথায় এখন এইসব ছাড়া অন্যকিছু বা অন্যকোনো কথা আসছেনা। কিছুদিন পরেই যখন এখানে আসবে, তারপর তো আমি তার সাথে তার বাড়িতে যাবো। তখন তো তার আশেপাশের লোকজনদের চিনতে পারবো না ‘। আর এদিকে সায়মন কাজে ব্যাস্ত তাই ভাবলাম সায়মনের ফেইসবুক আইডি টা চেয়ে নিই, এতে করে অন্তত তার বন্ধুদের সম্পর্কে তো জানতে পারবো। যেই ভাবা সেই কাজ, ফেইসবুকে ঢুকেই দেখলাম সায়মন লাইনে আছে তাই তক্ষুনি আইডি টা চাইলাম আর সায়মন সাথে সাথেই তা আমাকে দিয়েদিলো।কারন আমি ওর খুবই কাছের, প্রিয় কেউ ছিলাম। সায়মনের আইডিটা তে লগ ইন করলাম, প্রথমে প্রোফাইল, তারপর নোটিফিকেশন ইত্যাদি চেক্ করে নিলাম। পরে ঢুকলাম ইনবক্সে। কিন্তু একি!!!! ও আমার সাথে এতো বড় একটা চিটিং করলো এটা ভেবেই আমার দুচোখ থেকে টপাটপ কয়েক ফোটা করে কষ্ট গুলো ঝরে পড়তে লাগলো । পুরো পৃথিবীতে নিজেকে খুব ক্ষুদ্র মনে হতে লাগলো। আমি নিজের চোখ কে জানো বিশ্বাস করতে পারছিনা। তবে একটা ব্যাপার স্পস্ট হয়েগেছে যে যেদিন থেকে সায়মন আমার সাথে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছে তার কিছুদিন আগে থেকেই ও আমার বয়সী আরেকটা ছেলের সাথে সম্পর্কটা জুড়ে দিয়েছে।আর তাই সে এখন ব্যাস্ত ……… সে এখন নতুন সেই ছেলেটা কে নিজের প্রেমে ফাঁসাচ্ছে। আর ইনবক্সে আমি তাই দেখতে পেলাম। আমার চোখ আজ কোনো বাধ মানছে না, পুরো পৃথিবীটা যেনো আমার মাথায় ভেঙে পড়েছে। যাকে নিয়ে এতো স্বপ্ন দেখেছি সে যে আমাকে এভাবে ঠকাবে তা আমি জীবনে ও ভাবতে পারিনি। একবার ভাবলাম জীবনটা কে শেষই করেদেই। কিন্তু পারলাম নাহ্, কারন আমি পরিবারের বড় ছেলে। আমাকে ঘিরে আমার বাবা মায়ের অনেক স্বপ্ন রয়েছে, তাই তাদের কথাটা ও একটু ভাবলাম। আর এটাও ভাবলাম যে অামি কেনো অন্যের জন্য নীজের জীবনটা কে শেষ করেদেবো? যে কি না আমাকে ছেড়ে অন্য কাউকে চাইছে। যাইহোক প্রায় এই সপ্তাহখানেক সায়মনের সাথে কোনো প্রকার যোগাযোগ রাখিনি, ঘরের বাইরেও তেমন একটা যাওয়ার প্রয়োজন বোধ করছি না। শুধু মসজিদ ছাড়া আর কোথাও যাই না,বন্ধুরা মসজিদে আসলেও তাদের কে এড়িয়ে যাই। কিন্তু প্রায়শই আমার সিজদাহ্ করার স্হানটা দুচোখের পানিতে ভিজে যায়।তাই সবার পিছনের কাতারে গিয়ে নামাজে দাড়াই, এবং নামাজের শেষে আগে অাগেই চলে আসি। কারন আমি চাইনা যে আমার কষ্ট টা কেউ জানতে চাক্। আর কেউ জানতে চাইলেও আমি আমার এই দ্বৈত সত্তার কথা কাওকে বলতে পারবোনা। আজ বিকেলবেলা আসরের নামাজের পরে চলেগেলাম সেই আমাদের নদীর ধারে যেখানে গেলে আমার মনটা ভালো হয়ে যায়। তারপর ফোনের সুইচ্ টা অর করলাম, তার ঠিক ১৫-২০ মিনিট পরেই সায়মন ফোন করলো। আমি ফোনটা রিসিভ করলাম, তারপর ওপাশ থেকে বললো

____হ্যালো এ্যানি, কেমন আছো? কি ব্যাপার এতোদিন কোথায় ছিলে, আর তোমার ফোনটা ই বা অফ ছিলো কেনো?তুমি কি জানোনা তোমার সাথে কথা না বললে আমার কোন কিছুই ভালো লাগেনা …………

_____আমি ম্লান হেসে বললাম কি দরকার এসব নাটক করবার

____কি ব্যাপার এ্যানি তুমি আমার সাথে এমন করছো কেনো? আর সেদিন আমার ফেইসবুক আইডি টাও আর খুজে পাচ্ছিলাম না। তাই আবার নতুন একটা খুলেছি ( ওহ্ বলতে ভুলেই গেছিলাম যে,সেদিন তার আইডিতে ওসব দেখার পর আইডিটাকেই রিমুভ করে দিয়েছিলাম )।

____অামি আর চুপ থাকতে পারলাম না, তখন বলেই দিলাম ব্যাপারটা। ঐ ছেলেটার সাথে তোমার কি সম্পর্ক?

____দেখো এ্যানি তুমি ব্যাপারটা এভাবে নিচ্ছ কেনো? জীবনে চলার পথে তো আমাদের অনেক বন্ধুদের ই প্রয়োজন আছে।

____আমি অারো নির্বাক হয়েগেলাম, কথাটা শুনে। তারপর আমি বললাম দেখো মি. সায়মন আসলে সত্তি কথা বলতে কি, শহরের মানুষদের মনটা ইট পাথরের মতো যেখানে কোনো ভালোবাসা ই জন্মায় না।

_____হ্যা মি.এ্যানি, তোমাদের গ্রামের প্রেম ভালোবাসা কেমন জানো, অনেকটা সেই পলি মাটির মতো যা একটু বৃস্টিতেই ধুয়ে-মুছে যায়। এসব কথা যেনো আমি আর বেশিক্ষণ সহ্য করতে পরছি না। যে মানুষটাকে আমি এতো ভালোবাসি সে আজ আমার সাথে এইভাবে কথা বলছে। ভেবেছিলাম ও হয়তো এ ভুলের জন্যে আমার কাছে ক্ষমা চেয়েনিবে। আর আমিও ওর সব ভুলকে ক্ষমা করে দিয়ে ওকে আপন করে নেবো, কারন ও যে আমার প্রাণ, আমার বেচে থাকার স্বপ্ন ও।কিন্তু নাহ্ নিয়তি আজ আমার অন্তরায়, প্রকৃতি আজ অামার বিপক্ষ। তাই এতো কষ্ট সহ্য করতে করতেই আমি কিছুটা অসুস্থ হয়েপড়লাম। আমি নীরবে অনেক কেঁদেছি, আর শুধু এটাই বলেছি বার বার যে, তুমি কেনো এসেছিলে আমার এ জীবনে, আর কেনোই বা নষ্ট করে দিলে আমার সাজানো গোছানো সুন্দর এ জীবনটাকে। কেনো ভালোবাসতে শেখালে আমায়, ভালোই তো ছিলাম আমি তোমার ভালোবাসা ছাড়া। আর কি এমন দোষ করেছি বলো তো যার কারনেই তুমি আমাকে এতো কষ্টের মাঝে একা ফেলে চলে গেলে। এসবের ১০-১৫ দিন পরে দেখি সায়মন একটা নতুন ফেইসবুক আইডিতে আমাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট দিয়েছে, আমি তা একসেপ্ট করি। কারন এখনো তার জন্যে মনের কোনে একটু জায়গায় ভালোবাসা টুকু জমা ছিলো, কিন্তু সে তার মিথ্যে বলোবাসা দেখাতে চাইলো কিন্তু আমি তা গ্রহরাজ করতে পারছিলাম না। তাই সে একদিন আমাকে ফোন দেয়া বন্ধ করে দিলো, এবং ফেইসবুক থেকেও ব্লগ করে দিলো। আর আমিও সেদিন ই শেষবারের মতো কেঁদেছিলাম। আর এভাবেই শেষ হয়ে গেলো গ্রামের একটি সহজ সরল ছেলের ভালবাসা, যার সব আশাই বিনষ্ট হয়ে পরিনত হলো ধোঁয়াশায়। কেনো হলো এমনটা, আর কেনোই বা আমার মনটা নিয়ে খেলা করলে। অবশেষে দুঃখ একটাই রয়েগেলো কোনদিন সায়মন কে দেখার সুযোগ হলোনা, আর না পারলাম তাকে একটু ছুয়ে দেখতে। আমি কখনোই তোমার খারাপ চাইনি তাই অাজকে ও চাইবো না, আমি চাই তুমি সবসময় সুখে থেকো ……

সমপ্রেমের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.