পরিত্যাক্ত পাতা থেকে

লেখকঃ রাজ চৌধুরী

(বিঃদ্রঃ গল্পটি সম্পুর্ণ কাল্পনিক। বাস্তবতার সাথে যার কোনো মিল নেই। এবং এখানে কোনো ধর্ম বর্ণকে কোনোভাবেই ছোট করা হয়নি)

শুনেই গা ছম্ ছম্ করে উঠল। আমি সোজা না করলাম। “নাহ কিছুতেই না। আমি যাবোনা ওখানে। কি সব অদ্ভুত কথা শুনি ওখানকার। আপনি একা যান। আমি যাবোনা”

আমার কথা শুনে হো হো করে হেসে উঠলো জুয়েল ভাই। বলল ” এখনো কি সেই পিচ্চিটাই আছিস। এত ভয় কিসের। কই আমিতো কিছুই দেখিনি কোনোদিন। কত্তবার গেলাম। এবার ভাবছি তোকে সাথে নেবো। তুইতো শুনেই শেষ।”

জুয়েল ভাই বিষয়টা একেবারে সহজ করে বলল। কিন্তু আমার কাছে সহজ মনে হলোনা। বললাম “ভাই আপনি আপনার প্রত্নতত্ত্ব বিষয়ে জ্ঞানের পরিধি বাড়াবেন ভালো কথা। তা বার বার কেনো ঐখানেই যেতে হবে?”

আমার কথায় আবার হাসলো । হেসে বলল ” ঠিক আছে যেতে হবেনা তোর ভিতুর ডিম। আমিই যাবো “

জুয়েল ভাইয়ের কথায় খানিকটা রাগই হলো আমার। রাগ করেই বললাম ” ঠিক আছে যাবো। আমি যে ভিতুর ডিম না তা প্রমাণ করে দেবো।

—————————–

—————————–

বিকেলে আমি আর জুয়েল ভাই চললাম।

নদীর পাড় ঘেসে। উদ্দেশ্য পরিত্যাক্ত পোড়া বাড়ি। নদীর পাশেই বাড়িটা । প্রকান্ড বাড়ি। চারপাশে ঘনজঙ্গলে ভর্তি। অবশ্য অনেকেই দেখতে যায়। যেতে যেতে পায়ে হাটা সুরু পথ হয়ে গেছে। সেই ১৯৮৯ সালে বাড়িটি পুড়ে গেছে। অথচ দেয়ালে কোনো নোনা মাটির আস্তরন নেই। ভেতরে গেলে দেখা যায় প্রায় সব রুমেই কালো কালির ছাপ লেগে আছে। অথচ আঙুল স্পর্শ করলে কোনো কালি লাগেনা।

১০ মিনিট হাটলাম। জুয়েল ভাই আর আমি। পৌছালাম গন্তব্যে। বিকেল হলেও রোদটা যেনো গিলে খাবে এত পরিমান তাপ।

জুয়েল ভাই বলল ” রাজ ভয় পাসনা আয়। “

হাটতে হাটতে বললাম ” ভয় পাবার কি আছে আমি ভয় পাইনা যান। আর সাথেতো ইতিহাস ভূত প্রেত বিষারদ আছেই ভয় পাবার প্রশ্নই আসেনা।”

হাটছিলাম। হঠাৎ পাচিল টপকে কাকে যেনে যেতে দেখলাম। ভাইকে বললাম ” ভাই দেখলেন কে যেনো ঐ পাশের পাঁচিল টপকে চলে গেলো”

জুয়েল ভাই হেসে হেসে বলল ” আরে ধুর তোর মনে ভয় যেনে বাসা বেঁধে আছে এই সময়ে কে যাবে। কেউনা আয়তো। আর কেউ গেলেইবা কি। আমাদেরমত কেউ হতে পারে। “

আমি শুধু হুঁ বললাম।

কেমন যেনো মনে মনে ভয়টা কাজ করছেই। কেমন ভূতুরে বাড়ি। আমি ভাইয়ের কাছাকাছি থাকলাম।

ভাই বললেন ” হ্যাঁরে রাজ ঐ দক্ষিণ দিকটাতে একটা ছোট্ট রুম আছে ঐ খানে নাকি কেউ যায়না তেমন। আর রুমটা একেকারে বন্ধ। আমার খুবই ইচ্ছে ওর ভেতরটা একবার দেখার। যাবি আমার সাথে।”

আমি একদম রাগের স্বরেই বললাম। ” না যাবোনা আর জানেনতো ঐ রুম থেকেই নাকি আগুনটা লেগেছিলো। কাঠের দরজা দেখেছেন! একেবারে পেরেক দিয়ে সাটা আছে। ভেতরে যাবার সাধ্য নেই কারো। আমিতো যাবোই না। “

জুয়েল ভাই এবার বললেন ” শোন এত ভয়ের কিছু নেই চল অন্তত রুমের কাছে যাই। “

কি আর করব। পরেছি জমের হাতে। পিছু পিছু হাটতে থাকলাম। আকাশের অবস্থা পরিবর্তন হতে লাগলো। মনে হলো ঝর হবে। তাই আবারও বললাম ” জুয়েল ভাই চলেন ফেরা যাক আকাশের অবস্থা ভালোনা। “

জুয়েল ভাই কিছু না বলে চলতে থাকলো।

আমার শরীর কেমন ভার ভার লাগছে।

রুমের কাছে গেলাম। জুয়েল ভাই খুঁজতে থাকলেন রুমের ভেতরে যাওয়া যায় কিনা। আমি বললাম ” ভাই সত্যি করে বলেনতো এখানে কেনো আসেন। আসলে কি চান আপনি। সত্যি কি কোনো উদ্দেশ্য আছে? “

জুয়েল ভাই। মাথা নেড়ে বলল ” আছে আছে তুই বুঝবিনা”

আমি নিশ্চুপ রইলাম। হঠাৎ জুয়েল ভাই অট্টহাসিতে মেতে উঠলো আমিতো রিতিমত ভয় পেয়ে গেলাম। বললাম ” “ভাই কি হয়েছে?”

জুয়েল ভাই আঙুল মুখে দিয়ে বলল ” এই দিকটাতে দেখ লতায় পাতায় একাকার আর রুমের দেয়ালটাও ভাঙা ভেতরে যাওয়া যাবে”

জুয়েল ভাইয়ের চোখে মুখে যেন রাজ্য জয় করার হাসি।

আমি আর না করলাম না। না করে লাভ নেই ভাই ভেতরে যাবেই বুঝলাম।

ফোনের টর্চ জ্বালিয়ে ভেতরে প্রবেশ করলাম দুজনে। কি একটা ভ্যাপসা গন্ধ দম বন্ধ হবার উপক্রম। জুয়েল ভাইয়ের আমার দিকে নজর নেই। সে অন্যান্য জিনিস দেখতে ব্যস্ত। অন্য জিনিস বলতে আসলে তেমন কিছুই নেই। যা আছে তার সবটা পোড়া। অর্ধপোড়া। কিজানি এতদিন এখনো পোড়া জিনিস আছে কেমনে। এতদিনেতো পঁচে গলে যাবার কথা। মিনিট পাচেক পরে হঠাৎ আমার পায়ে কিছু একটা ধাক্কা দিলো মনে হলো। আমিতো আৎকে উঠলা। আলো ধরে দেখলাম। একটা ছোট্ট বাক্সমত কিছু। কালির আস্তরন পরে আছে। জুয়েল ভাই এসে হাত দিয়ে দেখলেন কিন্তু সত্যি সত্যি কোনো কালি লাগলোনা হাতে। বলল ” রাজ। এটা মনেহয় দামি কিছু একটা হবে । আর নাহয় না হবে আমি দেখতে চাই এটাতে আছে কি। ” বলেই তুলে নিলো হাতে। আর বলল ” চল রাজ আজ আর নয় “

আমিও বললাম ” হু সেটাই ভালো”

প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেছে। এমন সময় বের হলাম। জুয়েল ভাই বলল। ” শোন এটা তোর কাছে রাখ রাতে আসবো আমি।”

আমি নিতে চাইলাম না। কিন্তু নিতেই হলো। কেনো যানি মনে মনে দেখার ইচ্ছা আমারও হচ্ছিলো।

জুয়েল ভাই চলে গেলেন।

**

রাত ৯ টা। এদিকে বৃষ্টি হয়ে ভিজে চুপসে গেছে সব। হাল্কা বৃষ্টি হচ্ছেই এখনো। গায়ে একটু জ্বর অনুভব হলো আমার। মা ঘুমিয়ে গেছে।

এখনো জুয়েল ভাই আসলোনা। কখন আসবে। ফোন দিলাম। ফোন বন্ধ।

মাথাটাও ব্যথা করছে। কিছুই ভালো লাগছেনা। অগত্য বিছানায় নিস্তেজ হয়ে পরে গেলাম। ঘুম আসছেনা।

বৃষ্টি বুঝি বাড়লো।

কতক্ষণ ডিপ্রেশ ছিলাম মনে নেই। সময় জ্ঞানহীন সন্ধিক্ষণে মনেহয় ছিলাম। রাত প্রায় সাড়ে ১২ বাজে।

সন্ধ্যায় নিয়ে আসা ছোট্ট বাক্সটার দিকে তাকালাম। ঘড়ের হাল্কা আলোতে কেমন চক্ চক্ করছে ওটা। কিন্তু মনে হলো ওটাতো কালো ছিলো।।

কি আছে ওতে দেখার জন্য কেমন যেনো লাগছে। মনেহয় মাথায় হাতবুলিয়ে কাছে ডাকছে বাক্সটা।

আমিও সারা দিলাম। মনের ভেতরটা ভয়ে কুঁকড়ে যাচ্ছেনা। হাতে নিয়ে একটু চেষ্টা করলাম খুলতে খুলে গেলো।

আমি হতবাক হলাম না। দেখলাম দুটো মম বাতি একটা চাবি আর একটা কাগজ।

একটু কৌতুহল কাজ করলো । এসব কার এবং কেনো। সত্যি কি কোনো রহস্য আছে এসবের। জুয়েল ভাই থাকলে ভালো হতো। আসলোনা।

কাগজটা হাতে নিলাম। ভাঁজ খুলতেই কেমন একটা সুগন্ধ আসলো। একদম ঘড় ম ম করছে সুঘ্রাণে।

কিছু লেখা আছে তাতে। মোটা মোটা কালিতে লেখা। কেমন কালো কালো ছাপ লেগে আছে কালির।

পড়তে ইচ্ছে হলো। লাইট জ্বালাতে যাবো। হঠাৎ জানালাতে ঠক্ ঠক্ শব্দ। আমি বললাম কে কে ওখানে? কোনো শব্দ নেই। ভয় অভয়ের সংমিশ্রণে আছি। তবুও পড়তে ইচ্ছে হলো।

আমি পড়তে শুরু করলাম।

” হে ঈশ্বর (যদি থেকে থাকো তুমি)। তবে আজ তোমাকেই বলছি। আমার কথা শোনো। আজ আমার আমিকে মুক্তি দেবো আমার থেকে। সপে দেবো তোমায়।

হে ঈশ্বর তুমি নাকি সৃষ্টি করেছো আমায়। আমি বহুবার তার ক্ষত দেখেছি গায়। উদোম গায়ে মিররে দেখেছি সমস্ত দেহ। শরীরে কি দিয়েছো তুমি চেয়েছে তা ভিন্নপদ। উপেক্ষা করেছে নারীদেহ। অলঙ্কৃত তনুমন।

আমি পাপ করিনি কোনো ছুঁয়ে দেখেনি তা। দেখিনি কোনো পুরুষ শরীর স্পর্শ করে।

জেনেছি জনমুখে। তোমার আরশে নাকি আছে পরিরমত তরুণী। আমিতো নিষ্পাপ নিশ্চয় পাবো তা। কিন্তু তুমিতো জানো আমি কি চাই। এখনি বলে যাই তুমি সর্বজ্ঞানী এই ভাষা বুঝবে। আমি শরীর ছুঁতে গায়ে রগ জাগা রগরগে কিছু পুরুষ চাই।।

আমার পরিচয় তুমি জানো। গায়ে কেরোসিন দিয়েছি। চিঠিটা রেখে দিলাম। পাঠিও তোমার দেবদূত কে। আমায় যেনো নিয়ে চলে তোমার প্রিয় স্বর্গপুরে।

হেসোনা তুমি। লোকেও আমায় পাগল বলে।

চাবিটা আমার গুপ্ত ঘরের দেবদূতকে বলো। সেথায় আমার শেষ শয়ান। অপেক্ষায় থাকবো আমি অঙ্গ আমার হোক পুরান।

চিঠিটা শেষ করলাম। মাথা যেনো কাজ করছেনা। কিসব কি লিখেছে। সত্যি কি ও নিজেই আগুন লাগিয়েছিলো। যদি আগুল লাগায় গুপ্তঘড়ে গিয়ে। তাহলে বাইরে কি করে চাবি সব বক্স থাকবে।।

আর ঘটনাক্রমে এটা এখন আমার হাতে। নাহ আর ভাবতে পারছিনা। মাথা পুরো শূণ্য এদিকে জুয়েল ভাইয়ের আসার কথা তার ফোন বন্ধ।

মনে মনে ভাবলাম। ধুর এসবে আর নেই আমি । সকালে যদি আসে তাহলে ভাইকে বক্সটা দিয়ে শান্তি।

সব গুছিয়ে রাখলাম।।

——————————

রাত প্রায় সাড়ে ৩ টা জ্বর অনেকটা কমে গেছে। ঘুমানো উচিৎ। বিছানায় পিঠ রাখতেই জানালায় আবার ঠক্ ঠক্ শব্দ।

বললাম ” কে কে ওখানে?”

এবার ফিস ফিস গলায় শুনতে পেলাম ” নাহ কখনোই না…………..”

আমার গলা শুকিয়ে গেলো। ভয় পাচ্ছি।

তবুও সাহস করে জানালা খুলতে চাই যা হবার হবে। আমি জানালার কাছে এগিয়ে গেলাম…………………………..

গল্পঃ “পরিত্যাক্ত পাতা থেকে – ২ “

উৎসর্গঃ প্রিয় ভাই জুয়েল।

(বিঃদ্রঃ গল্পের সকল চরিত্র কাল্পনিক। বাস্তব জনজীবনের সাথে যার কোনো মিল নাই। এখানে কোনো ধর্ম বর্নকে ছোট করতে কোনো চরিত্র রূপায়িত হয়নি। শুমাত্র পাঠক মনোরঞ্জনে রচিত)

[—– বহুদিন গল্প লেখা থেকে বিরত ছিলাম। যদিও আমি নিজেকে গল্প লেখক হিসেবে দেখিনা। “পরিত্যক্ত পাতা থেকে ” গল্পটি যেহেতু শেষ হয়নি। বলতে গেলে শেষ করতেই আবার লিখতে বসা। জানিনা আর লিখবো কি না! ভুলত্রুটি মার্জনা করবেন। সর্বপরি ভালো থাকার দোয়া রইল সবার প্রতি]

——————————————————-

।।১।।

আমার গলা শুকিয়ে গেলো। ভয় পাচ্ছি।

তবুও সাহস করে জানালা খুলতে চাই যা হবার হবে। আমি জানালার কাছে এগিয়ে গেলাম।

জানালা খুললাম। নাহ। কিছুই দেখতে পেলাম না। ডালিম গাছের নতুন গজানো পাতা জানালা বরাবর লেগে আছে।

রাত আর বাঁকি নেই। একটুতো ঘুমানো উচিৎ।

ঘুম ভাঙলো প্রায় ১১ টার দিকে। চোখ মুখে তখনো এক রাজ্যের জড়তা লেগে আছে। সকাল সকাল জুয়েল ভাইয়ের আসার কথা ছিলো। তাকে দেখলাম না। ফোন করা উচিৎ। ফোন দিলাম।

নাহ। আগেরমতই ফোন বন্ধ আসছে। কি যে হলো বুঝতে পারলাম না।

সময় গড়িয়ে প্রায় সন্ধ্যা হয়ে গেলো। বের হলাম না বাড়ি থেকে। সত্যি বলতে ভালো লাগছেনা একটুও। জুয়েল ভাইয়ের সকালে আসার কথা। আর উনারই বক্সটা নিয়ে উৎসাহ ছিলো বেশি। অথচ তার দেখা নেই। ফোনটাও বন্ধ দেখাচ্ছে। এজন্যই ভালো লাগছেনা।

শুধু শুধু ফোন নিয়ে টিপছি অকারণে। এর মধ্যে মায়ের বকাও খেলাম কয়েকবার। দুপুরে স্নান করিনি খাবার খাইনি বলে।।

শরীরে অলসতা যেনো বাসা বেধেছে। এই অসময়েও চোখ লেগে আসছে। বক্সটা আরও একবার দেখলাম। কালো কিন্তু চক চক করছে। চোখ বন্ধ করে শুয়ে পড়লাম।

।।২।।

মোবাইলের তীব্র রিংটোন আওয়াজে ঘুম ভাঙলো।খুবই বিরক্তবোধ হলো। হঠাৎ ঘুম ভাঙলে চোখ দিয়ে পানি পরে আমার।

সচারচর মোবাইল সাইলেন্ট মুডে থাকে। কখন যে নরমাল মুডে চলে গেছে বুঝতে পারিনি।

মোবাইল হাতে নিতে নিতে ফোন কেটে গেলো। নয়টা মিসড কল। জুয়েল ভাইয়ের কল। তার মানে অনেকটা সময় একদম ঘুমে ডুবে ছিলাম।

পাত্তাই পাচ্ছিলাম না এখন নয় বার কল!! অবাকই হলাম। নিশ্চয় বিশেষ দরকার।

ফোন ব্যাক করলাম। নাহ আবার বন্ধ। মেজাজটা সত্যি বিষিয়ে গেলো। রুম থেকে বের হলাম। মাকে জিজ্ঞেস করলাম। জুয়েল ভাই এসেছিলেন কিনা। না বাচক জবাব শুনলাম।

নিজের মধ্যে কেমন যেনো একটা অনুভব হলো। বুঝতে পারছিলাম না। কি করা উচিৎ।

এশার আজান শেষ হলো। চারিদিকে নিস্তেজ নিস্তব্ধ। রুমে বসে আছি। বক্সটা এখনো টেবিলের উপর। জুয়েল ভাইকে না পেলে চিঠি আর চাবির রহস্য জানা হবেনা। একটা তিব্র আকাঙ্খা জন্মে গেছে জানার জন্য।

ফোনে চার্জ না থাকায় চার্জে বসালাম। খাটে বসতেই ফোন। জুয়েল ভাই ফোন করেছে। এবার রিসিভ হলো।

——রাজ একটু বাইরে আসতে পারবি দরকার ছিলো।

——মানে কি ভাই কোথায় আপনি, আর ফোন কেনো বন্ধ আপনার?

—–বাইরে আয় মাত্রতো ৯ টা বাজে। বেশিক্ষণ না। এসে চলে যাবি।

বাইরে গেলাম। জুয়েল ভাই দাঁড়িয়ে। কোনো প্রশ্ন করার আগেই বলল ” বক্সটা খুলেছিস? “

আমি বললাম ” হুম খুলেছি। এবং দেখেছি কি কি আছে । বাসায় চলুন দেখবেন। আর ওটা আমার কাছে রাখতে চাইছিনা। আপনি নিয়ে যান। আর আরও কিছু কথা আছে। রুমে গিয়ে বলব”

আমার কথায় ভাই না বলল।

—না রাজ। আমার একটু কাজ আছে। তোর সাথে দেখা করার কথা ছিলো। করতে পারিনি। আর কাল একটু বের হবো তৈরি থাকিস। ফোনেও বলতে পারতাম। কিন্তু ভাবলাম দেখা করেই বলি।

—কোথায় বের হবেন। যেতে হবে কোথায়।

—তৈরি থাকিস ফোন দেবো।

জুয়েল ভাই চলে গেলেন। একদিনের মধ্যেই কেমন পরিবর্তন লাগলো ভাইকে। চোখ মুখ কেমন হতাশায় ভরা।

।।৩।।

দুই দিন কাটলো। তার পরে ফোন দিলো জুয়েল ভাই। রাত প্রায় ৯ টা। মা বাসায় নেই। একা আছি। আমি সোজা বাসায় আসতে বললাম। এমনিতেই কয়েকটাদিন ধরে কেমন যেনো কাটছে সময়গুলো। এর মধ্যে মা গেলেন নানু বাড়ি।

জুয়েল ভাই বাসায় এলেন। আজ একদম ভিন্ন মনে হচ্ছেনা। স্বাভাবিক।

আমি বললাম

—-ভাই বলেন তো আসলে কি হয়েছে কয়েকদিন হলো ঠিকমত আপনার দেখা নাই। আর ফোনেও পাইনা ব্যাপার কি?

জুয়েল ভাই খুব স্বাভাবিক হয়ে বললেন ” না তেমন কিছুনা। এমনিতেই একটু ঝামেলায় ছিলাম। মোটামুটি এখন ঠিক আছি। সমস্যা নেই আর। আচ্ছা বক্সটা দেখাতো।

আমি টেবিল থেকে বক্সটা জুয়েল ভাইয়ের হাতে দিলাম। জুয়েল ভাই মৃদু হেসে বলল। বাহ ঐরকমই আছে দেখছি।

আমি বললাম ” ভাই এতে হাসির কি হলো। ঐরকমইতো থাকার কথা”

ভাই বলল ” তুই বুঝবিনা “

বুঝিয়ে বললেইতো হয়। ব্যাপার কি?

আর ঐ চাবির রহস্য কি। আর মোমবাতিও আছে। আর চিঠিতে যে তথ্য আছে তারই বা কূল কিনারা কি জানতে চাই”

জুয়েল ভাই বললেন ” হুম আমিও চাই আসলে এর রহস্য কি? কি করে এটা সামনে এলো? তবে এখান থেকে হবেনা আবার যেতে হবে ওখানে “

আমি বললাম “ঠিকই বলেছেন। যেতে হবে তবে সন্ধ্যায় না। একদম সকালের দিকে যেতে চাই “

জুয়েল ভাই হেসে বললেন ” ভিতুর ডিম ভিতুই থাকলি এখন গেলে কি হবে? এখনি যাবো “

আমি একবাক্যে বললাম ” না না কিছুতেই না এখন কি করে যাবো রাত ৯ টা পার হয়ে গেছে আর মাও বাসায় নেই”

জুয়েল ভাই বললেন ” বলেছি যাবো মানে যাবো তুই যদি না যাস না যাবি আমি যাবোই “

জুয়েল ভাই কথাটা বলেই উঠে যেতে লাগলো। আমি থামিয়ে বললাম ” ভাই আজ এই সময় না গেলে হয়না? আমিও জানতে চাই কিন্তু এখন না “

জুয়েল ভাই বলল ” বললামতো যাবো বলেছি যাবো “

নাছরবান্দা জুয়েল ভাইকে মানানো অসম্ভব জানি। সেজন্য আর কিছু বললাম না। যা হবার হবে সিদ্ধান্ত নিলাম।

টর্চ আর ফোন সাথে নিলাম।

দড়জা লক করে বের হলাম জুয়েল ভাইয়ের সাথে। ঘুটঘুটে অন্ধকার। ভাই সামনে চলছে আমি পেছনে পেছনে। কেমন যেনো একটা ভূতুড়ে ভুতুড়েপরিবেশ লাগছে। তবে মনে মনে একটু ভাবলাম যে জুয়েল ভাই থাকলে আমার কোনো সমস্যা নাই। জুয়েল ভাইয়ের হাতে কালো বক্সটা অন্ধকারেও যেনো দেখা যাচ্ছে।

।।৪।।

মাথায় প্রচন্ড ব্যাথা অনুভব করলাম। চোখ খুলতে পারছিনা। শরীর যেনো পুরো অবশ হয়ে গেছে। চোখ না খুলেই বুঝতে পারলাম বাসায় অনেক মানুষের ভিড়। বেশ শোরগোল হচ্ছে। দু একটা কথাও কানে আসছে। কেউ বলছে কি করে সম্ভব এটা। অসম্ভব ব্যাপার। যা জানার বা বলার তা রাজ বলতে পারবে।

আমি চোখ খুলতে চাইলাম। কিন্তু এখনো পারছিনা। মা পাশে আছে বুঝলাম। কয়েকবার ডাকলো আমায়। আমি সাড়া দিতে পারলাম না। কিছুক্ষণ পরে মা বাইরে গেলেন মনেহয়। কোনো কথা শুনতে পাচ্ছিনা আর কারও।

চোখ খুললাম। বাড়ি থেকে সবাই চলে যায়নি। বরং আমার ঘুম ভাঙার জন্য বসে ছিলো। মাকে ডাকলাম। সাথে সাথে কান্না জড়িত গলায় মা এসে আমায় ধরলেন। চেনা অচেনা অনেকেই আসলো। নানু এসেছে। কত কত মুখ। কিছুই বুঝতে পারলাম না। সবার ঐ একই প্রশ্ন কি করে ওখানে ছিলাম। কি কি ঘটেছে জানতে চায় সবাই।

কিন্তু আমি কিছুই বলতে পারছিলাম না। মনে হলো কালই রাতে ঘুমিয়েছিলাম। তাহলে এসব প্রশ্ন কেনো কি হয়েছে। আমার কথায় সবাই আরও অবাক হলো। মা শান্ত করলেন সবাইকে। আমার রেস্ট দরকার বলে। সবাই চলে গেলো।

মা বললেন ” রাজ গোসল করে নে বাবা “

গোসল শেষে রুমে আসলাম।

হতবাক হয়ে তাকালাম নিজের দিকে। এটা কি সত্যি আমি নাকি অন্য কেউ। হাতের নখগুলো অনেকটাই বড় হয়ে গেছে। দাড়িতে মুখ ভর্তি। মনে হচ্ছে কতযুগ যে দাড়ি কাটা হয়নি । চোখের নিচে কালি।

অনেকটা সময় নিয়ে নিজেকে দেখলাম।কিন্তু না কিছুই মনে পরছেনা।

খাবার খেয়ে আবার শুয়ে পরলাম। মা অনেকবার জিজ্ঞেস করলো কি হয়েছে তোর কি হয়েছিলো। আমি কিছুই বলতে পারছি না। কিছুই মনে হচ্ছেনা। মা বললেন। কিছুতো বল। কি হয়েছে তোর সাথে।

আর ঐ পোড়া বাড়িতে কি করছিলি। তোকে ওখানেই পাওয়া গেছে। প্রায় তিন মাস ধরে তুই নিখোজ। কত খুঁজেছি জানিস। তোর আশাই ছেড়ে দিয়েছিলো সবাই।

মায়ের কথায় আরও একবার শকড হয়ে গেলাম তিনমাস ধরে আমি পোড়া বাড়িতে ছিলাম। কেউ কোনো খোঁজ পায়নি। কিন্তু কি করে সম্ভব।

আমি মাকে বললাম মা মাথাটা ব্যাথা করছে। তুমি এখন যাও ঘুমাবো। মা চলে গেলেন। আমি ঘুমোতে চাইলাম। কিন্তু না ঘুম আসছেনা।

সবার কথা। মায়ের কথা। সব মিলিয়ে যেনো আমার পুরো পৃথীবিটা এলোমেলো হয়ে গেলো। কি সব কথা বলছে।

।।৫।।

রাত ১০ টা পার হয়েছে। বৃষ্টি হচ্ছে বেশ। রুমে ডিম লাইট জ্বলছে। বিছানায় গা এলিয়ে বসে আছি। মাথা ব্যাথাটা কমেছে অনেকটাই।

তিন মাস বাসায় ছিলাম না। বিষয়টা মাথা থেকে যাচ্ছেনা। কেমন যেনো ডিপ্রেশন লাগছে। পুরো রুমটাতে কেমন ঝিম ধরা ভাব। দেয়ালে একটা টিকটিকি আটকে আছে। নড়ছেনা।

হঠাৎ টেবিল থেকে একটা সাদা বেড়াল লাফ দিলো মেঝেতে। খেয়ালই করিনি কখন বিড়ালটা টেবিলে বসেছে।

হঠাৎ চোখ পড়লো টেবিলে থাকা কালো বক্সটাতে। এখনও দিব্যি চক চক করছে।

মনে মনে হাজার প্রশ্ন ঘুরছে। তার মধ্যে এই বক্সটা আছে। আমি তিন মাস যদি বাইরে থাকি। তাহলে বক্সটা এখনো এখানেই কেনো। কেউকি আমার রুমে আসেনি? দেখেনি কেউ।

বিছানা থেকে নেমে বক্সটা হাতে নিলাম। অদ্ভুত একটা ফিল হলো। মনে হলো যেনো খুব আদর দিয়ে আমায় ডাকছে। ওটা খুলার জন্য। আমি বক্সটা নিয়ে বিছানায় বসলাম।

আবারও খুলতে চাইলাম। কিন্তু না এবার খুলতে পারছিনা। হতে পারে শরীর দুর্বল হাতটা অবশ মনে হলো।

আমি হাতে নিয়ে বসে রইলাম। বৃষ্টি কমেনি তখনো।

তাকিয়ে আছি বক্সের দিকে।

কিছুক্ষন পরেই শরীরে ঘাম জমতে শুরু করলো। আমার ভয় লাগছেনা।

মনে হলো পোড়া বাড়ির কথা। কি করে সেখানে গেলাম। মনে করার চেষ্টা করতে করতে মনে হলো। প্রথমবার গেছিলাম জুয়েল ভাইয়ের সাথে। এবং শেষবারও গেছিলাম জুয়েল ভাইয়ের সাথে। জুয়েল ভাই বলতে পারবে সব। কিন্তু জুয়েল ভাই কোথায়। এত কিছু ঘটলো। কিন্তু তার কোনো খবর নাই কেনো। মাকে জিজ্ঞেস করবো ভাবছিলাম। কিন্তু মা ঘুমিয়ে গেছেন। সকালে জিজ্ঞেস করবো ভেবে বসে রইলাম।।।।।

।।৬।।

★★”তাড়াতাড়ি আয়। সময় চলে যাচ্ছে। আমার পেছনে কেনো তুই। সামনে আয়। নাহয় সাথে চল” জুয়েল ভাই বলল।

আমিতো ভিতুর ডিম। তাই পেছনে। আপনি যান সাথে আছি।

কিছুক্ষন হাঁটার পরে………

——বাহ অসাধারন জায়গা। এমনটাতো আগে কখনো দেখিনি ভাই? এখানেতো আগেও আসছি।

—–দেখবি কি করে আগে তো এখানে নিয়ে আসিনি।

——না মানে সত্যি ভাই। চারিদিকে এত ফুল। সাদা ধবধবে দেয়াল। গাছে গাছে পাখি। আন কত ফলের গাছ। ভাবতেই পারছিনা। এটা আসলে পোড়াবাড়ি।

—–পোড়া নয়। কি বলিস। সবার চোখে কি পোড়া বাড়ি?? সবার চোখ কি একই জিনিস দেখে।

—– না তা নয়। কিন্তু ভাই সত্যি অসাধারন। আমার কাছেতো পুরো ব্যাপারটা স্বপ্নই মনে হচ্ছে।। যতই দেখছি মুগ্ধ হচ্ছি।

জুয়েল ভাই মৃদু হেসে বলল-

—–চাবিটা দেতো।।

আমি চাবি দিলাম।

জুয়েল ভাই একটা রুমে ঢুকে আরেকটা দরজার তালা খুলে দিলেন।

ভেতরে যা আছে দেখে আরও অবাক হলাম। সেই পুরোনো দিনের রাজা বাদশাদেরমত তৈজস পত্র। একটা মোখমোখল বিছানা। পাশে বেশ উজ্বল একটা প্রদীপ জ্বলছে।

পেয়ালায় শরবত। ঝুঁড়িতে হাজার রকমের ফল।

জুয়েল ভাই বলল–

—-রাজ এই সকল তোর জন্য।

—–আমার জন্য?

—–হুম তোর জন্য। এই প্রাসাদ। সম্পদ। ফল ফুল সব সব তোর।

—-সত্যি নাকি।

—-হুম সত্যি।

আমি বিছানায়।

প্রচন্ড ঘুম পাচ্ছে আমার। একটু ঘুমাই?

—-আয় ঘুম পাড়িয়ে দেই।

কপালে কয়েকটা চুমু খেয়ে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলো। একটা প্রশান্তির ঘুম চোখ জুড়ে ছড়িয়ে পরতে থাকলো। তন্দ্রামত ভাব চলে এলো।

পাশে বসে রইল জুয়েল ভাই। তখনো শুনতে পেলাম জুয়েল ভাই বলছে।

রাজ খুব ভালোবাসি তোকে। খুব ভালোবাসি। তোর সবটা জুড়ে থাকতে চাই আমি। আমার সবটা জুঁড়ে তুই।

চোখ না খুলে খুব সুখ অনুভব হলো। একটা ভরসার হাত আরও একবার কপাল স্পর্শ করতে থাকলো। আমি ঘুমের সাগরে ডুবে গেলাম””★★★

রাজ…….. রাজ………উঠ বাবা।

মায়ের ডাকে ঘুম ভাঙলো আমার। গতরাতে কখন যে ঘুমিয়ে পরেছিলাম। মনে নেই। বুকের কাছে বক্সটা এখনো আছে। একটা হাত বক্সের উপর।

আধ ভাঙা গলায় মাকে বললাম ” উঠেছি মা। আসছি “

গতরাতে কখন ঘুমিয়েছি মনে নেই।

গত রাতের স্বপ্নটা স্পষ্ট মনে পড়লো। জুয়েল ভাইয়ের সাথে যাওয়া। মোখমোখল বিছানায় ঘুমানো। সব সবটা। মনের ভেতরটা কেমন যেনো করছে। খুব জানতে ইচ্ছে করছে। সত্যি কি জুয়েল ভাই আমাকে ভালোবাসে? খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।

মায়ের কাছে গেলাম।।জিজ্ঞেস করলাম। জুয়েল ভাইয়ের কথা।

মা যা বলল সত্যি অপ্রস্তত হয়ে গেলাম।

জুয়েল ভাই নাকি ৩ মাস আগে মারা গেছেন বাইক এক্সিডেন্টে।

চোখ থেকে যে কখন পানি গড়িয়ে পড়লো জানতে পারলাম না। ভেতরটা দুমড়েমুচড়ে যেতে লাগলো।

কি হচ্ছে আমার সাথে কিছুই বুঝতে পারছিনা।।

রুমে এলাম।

একেক করে সব জট পাঁকাতে লাগলো মনের প্রশ্নগুলো। জুয়েল ভাইয়ের সাথে প্রথম পোড়া বাড়িতে যাওয়া।

হঠাৎ আলাদা রুম খুঁজে পাওয়া। বক্স পাওয়া। আমার হাতে আসা। মোমবাতি। চাবি, চিঠি পড়া। তিন মাস আগে নিখোঁজ। স্বপ্নে দেখা মাত্র একদিন ঘুমানো। তিন মাস কেটে যাওয়া। জুয়েল ভাইয়ের মৃত্যু। অজানা প্রেম ভালো লাগা স্বপ্নে জানা। বক্সটা এখনো আমার রুমে থাকা। নাহ। কোনো কিছুরই সঠিক জবাব পেলাম না।

কতক্ষণ কেঁদেছি মনে নাই।

একটা শূণ্যতার সৃষ্টি হলো মনের কোণে।

।৭ শেষ-পর্ব।

বছর চারেক পার হয়ে গেছে। মায়ের কাছে শুনেছি। আমাকে খুঁজে পাবার রহস্যটা। পোড়া বাড়িটা ভাঙা হচ্ছিলো। প্রজেক্টে থাকা কর্মিরা আমাকে আবিষ্কার করে। তবে আমার স্বপ্নে দেখা যায়গাটারমত ছিলোনা আমার বিছানা। স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে শুয়ে ছিলাম।

বাড়িটা এখন নেই আর।

পড়াশোনা শেষ করলেও মা কোনো জব করতে দেয়নি আমায়। বাড়িতেই থাকি। দূরে যেতে দেয়না মা।

জুয়েল ভাই গত হয়ে যাবার পরে অনেকবার বক্সটা নষ্ট করতে চেয়েছি। পানিতে ফেলে দিতে চেয়েছি। কিন্তু পারিনি। কেনো যেনো মনে হতো এটা কাছে থাকলে জুয়েল ভাইয়ের ছোঁয়া পাই। মনে হয় আশে পাশেই আছেন তিনি। এই অনুভূতির কথাটা কেউ জানেনা। শুধুই আমি জানি। মাঝে মাঝে মাঝ রাতে বক্সটা বের করি কথা বলি কালো বক্সটার সাথে। নাহ একটুও ভয় লাগেনা আমার।

আমার বাড়িটার একটু পরিবর্তন করেছি। মাঝে মাঝে ছাদে যাই। জোৎস্নালোকে দেখি জুয়েল ভাইয়ের হাসি। মনে হয় যেনো এইতো আমার কাছেই আছে।

মনে মনে দোয়া করি ভালো থাকার। মাঝে মাঝে রাত গড়িয়ে ভোর হয় আকাশের দিকে তাকিয়ে।

এই অনুভূতিগুলো শুধুই আমার।

——————-সমাপ্ত———–

সমপ্রেমের গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.