প্রেমহীন আমি

লিখেছেনঃ আরভান শান আরাফ।

সেই আমি এমন করে কবে হতে যেন পাল্ঠাতে শুরু করলাম তা এই পঁচিশ ছাব্বিশ বছরের ক্রান্তি লগ্নে পা ফেলে ও বুঝতে পারলাম না । তবে আজ বারে বারে নিদ্রা ভঙ্গের ফলে আমার ছোট হৃদয়ে এই কথায় জাগ্রত হচ্ছে যে আমি পাল্ঠে গেছি ।গত কিছু দিন আগে এক সহকর্মী বলেছিল আমি পাল্ঠে গেছি ,আজকে রাত্রে আমার এই মনে হচ্ছে যে আমি পাল্ঠে গেছি । কিন্তু কার দায়ে ,কোন দোষে অথবা কোন অনিহাতে যে পাল্ঠালাম তা আমার পুরোয় অজ্ঞাত।

আজ অনেক দিন পর পুরনো একটা দুঃস্বপ্ন দেখে মাঝ রাতে ঘুম ভেঙে গেল ।আমি চোখ খোলে ভাবতে লাগলাম সেই চেহারা সেই হাসি আর তার সাথে কাটানো প্রতিটা দিন ।চোখের কোণে কয়েকফোটা অশ্রু আর কিছু পুরানো স্মৃথি আমার হৃদয় পটে । রাত তখন তিনটা ,আমি নিদ্রাভঙের দায়ে জাগ্রত ।রাস্তার পাশের কুকুরগুলোর চিৎকার আর দারোয়ানের পায়ের শব্দ ।আমার চোখে কিছু প্রিয় মুখ,অন্তরে চেপে রাখা রুক্ষ কষ্ট আর ঘুম পলাতক । বিছানা ছেড়ে ওঠে বসে একটা সিগারেট ধরালাম ।সিগারেটে দীর্ঘটান দিতেই মনে পড়তে লাগল ,ফেলে আসা স্বপ্ন আর আমার দুঃস্বপ্ন । আমি রোহান ।

তখন ছিল আমার পরিপূর্ণ যৌবনকাল ।আজ থেকে তিন বছর আগের কথা ।ব্রাহ্মনবাড়ীয়ার ছেলেরা একটু গুণগ্রাহী আর ভদ্র হয়ে থাকে ।কিন্তু ,জিনেটিক গত কারনে আমি ভদ্র ও ছিলাম না আর গুনগ্রাহী ও না ।যতেষ্ট ফ্যাশন সচেতন ছিলাম তখন ।বন্ধুদের মধ্যে আমার যে গুনটা সবার আগে অন্যদের দৃষ্টি কাড়তো তা ছিল পরোপকারিতা । তাই একটু আলাদা ব্যক্তিত্ব হিসেবেই ছিলাম আমার বন্ধু আর প্রতিবেশী সার্কেলের মধ্যে । তখন থেকে যে অভাবটা আমি ফিল করতাম তা ছিল ভাল একটা বন্ধু যে আমার গুনে নয় রুপে মুগ্ধ হবে ।

যে আমাকে ঠোটে কিস করবে আর রাতের পর রাত আমার বুকে মাথা রেখে শুয়ে রবে ।সহস্র ছেলে দেখেছি কিন্তু ,এমন করে কাউকেই পায়নি । আগেই বলেছিলাম ,আমি একটু উপকারী ছিলাম ।সেই সুবাদেই ওর সাথে পরিচয় ।ওর নামটা আজ ভুলার চেষ্টা করছি ।কিন্তু ,যে নামটা হুদয়ের উপর খোদায় করে লেখা সেটা কি আর ভুলা যায় এতো সহজে ।তার নাম ছিল রাফি ।আমি অবশ্য তাকে অন্য নামে ডাকতাম ।সোনাপাখি ।সেই সোনাপাখি কবে খাঁচা ভাঙল কিন্তু তার রেখে যাওয়া স্মৃথি নামের পলক গুলো আজো হৃদয় নামের খাঁচাতে পড়ে রইল ।

সেই দিন অঝোরে বৃষ্টি ঝড়ল ঝড়ছিল সারাবেলা ।আমি একটা রিক্সাতে চড়ে বসে কোথায় যেন যাচ্ছিলাম ।সারা রাস্তার কোথা কোন রিক্সা নেই ।খেয়াল করলাম দূরে একটা দোকানের ছত্র ছায়াতে আমার বয়সী একটা ছেলে দাঁড়িয়ে বৃষ্টি থামার অপেক্ষায় বারবার আকাশের দিকে তাকাচ্ছে ।রিক্সার দিকে তার দৃষ্টি পড়তেই সে হাত দিয়ে রিক্সা থামার ইশারা করলো ।আমি চাইলেই না থামিয়ে চলে যেতে পারতাম ।কিন্তু ভাগ্য ঐদিন আমাকে প্রেমে পড়িয়েই ছাড়লো এক অচেনা যুবকের ।সে এসে বসলো ঠিক আমার পাশে ।বৃষ্টিতে আমি সহ সে ও ভেজা ,।

তার ভেজা টিশার্টে চুপষে ছিল তার দেহ ।দু দুজনেই খনিকবাদে বাদে বাকা চোখে পরস্পরকে দেখতে চেষ্টা করলাম ।সে নেমে গেল কিন্তু আমি তাকিয়েই ছিলাম । যা হওয়ার ছিল ,তা হলো রাত্রে যখন আমার ঘুম আসছিল না ,চোখ দুটি বুঝতেই যখন তার চেহারাটাই ভেসে ওঠছিল তখন মনে হলো যে ,বাবা রোহান তোমার বারোটা বাজছে ।। আরেকদিন ,আকাশে ছিল টগবগে জলন্তসূর্য ।আমার সারা শরীর ঘামে ঘর্মাক্ত আর সেই ঘাম চু চু করে পিঠের মেরুদন্ড বেয়ে নিতব্ব বেয়ে ঝড়ছে ।ঠিক তখনি তার পানে আমার চোখ ।সে আমার দিকে তাকিয়ে ছিল ।

আমার দৃষ্টি তার দিকে পড়তেই সে ইশারা করে ডাকতে লাগলো আর আমি হাওয়ায় ভেসে ভেসে তার কাছে গেলাম । তারপর সে যে কতো কথাই বললু ,সে বলল ঐদিন টাকা না দিয়ে রিক্সা ওঠে টাকা না দেওয়ার কারন ,তার পৃর্ণ পরিচয় আর তার ফেবু ,মোবাইল আইডি ইত্যাদি ইত্যাদি ।ঐদিন কথা বলতে বলতে সূর্য বিদায় নিয়ে মেঘ ওঠলো ,বৃষ্টি ঝড়লো ।আমি আর রাফি বৃষ্টিতে ভিজলাম ।সেই আমার প্রথম বন্ধু যাকে এতো কাছ থেকে দেখতে পেয়েছিলাম । মনের ভালবাসায় প্রাণের খায়েশে আর মস্তিষ্কের সুখানাভূতির জোয়ারে ভেসে আমি কবে যে তার জীবনের সাথে জড়িয়ে পড়লাম তার হিসেব পায়নি আদৌ ।

প্রতিভোরে ,সে আমায় ফোন করে ঘুম ভাঙাতো ।আমি নাস্তা করে রাস্তার মোড়ে তার জন্যে দাঁড়াতাম আর সে আসলে দুজনে একি রিক্সায় করে অফিসে যেতাম । কত কথা হতো !হাসি হতো ,দুষ্টমী হতো আর জীবনের গল্প হতো ।আবার ফিরতাম এক সাথে তবে ফেরার পথে পার্কে বসে বাদাম খেতাম ।তার দুষ্ট মিষ্ট চেহারা আর প্রাণোচ্ছল হাসি আমার হৃদয়ে ভালবাসার উত্তাল ঝড় বয়ে দিত ।হ্যা আমি তাকে ভালবেসেছিলাম ।কিন্তু সেই ভালবাসার কথা তাকে তখনো বলতে পারিনি ।বলতে পারিনি তখনো তাকে আমার ভালবাসার কথা ।বলতে পারিনি আমার মনে লুকানো তুচ্ছ গুপ্ত প্রেমের কথা গুলো ।

সেইবার ঈদের দিন ,সারা দিন দুজনে খুব মজা করলাম ।এক সাথে ঘুরলাম ,খেলাম আর ফিরতে ফিরতে রাত হয়ে গেল ঢের ।তাই আর আমার বাড়ি গেলাম না ।ঐদিন তার বাড়িতেই থেকে গেলাম । দুজনে এক বিছানায় এক সাথে পাশাপাশি শোলাম ।প্রাণে এক অন্য আবেদন ।দেহের প্রতিটা রন্ধ্রে রন্ধ্রে কামুক প্রেম ।চোখ দুজনেরি ঘুম নেই । রাত যত বাড়ছিল আমরা ততো প্রেমাসক্ত হতে লাগলাম ।জানি না কী হয়েছিল ।কবে ,কে আগে ভালবাসার স্পর্শে শরীর ছোল ।আমাদের প্রেমের গল্প ঐদিন ঐ রাত্র থেকে যৌবন লাভ করেছিল । রাফির প্রতিটা চুম্মন আর যৌনাঘাত আমার মধ্যে এক চির কাঙ্কিত সুখ জাগ্রত করেছিল ।সেই ছিল আমার প্রথম প্রেমের প্রথম বাসর ।

আমি আর রাফি ।আমরা ছিলাম এক অনবদ্য প্রেমের গল্পের দু তরুণ ।আমার ইচ্ছা মনের প্রতিচ্ছা আর তার প্রেম আমাদের সম্পর্কের এক পূর্ণতা দিয়েছিল ।এক পরিতৃপ্ত সম্পর্ক ছিল আমার আর রাফি । দু চোখ ভর্তি স্বপ্ন ছিল ।দুজনে এক সাথে থাকার অভিপ্রায় ছিল ।ভালবাসার ঘর বাঁধার লোভ ছিল । ভুলেই গিয়েছিলাম যে ,স্রষ্টা সবার জন্যে সব কিছু রাখেনি ।আমার জন্যে ও হয়তো রাফি সৃষ্ট ছিল না ।রাফি হয়তো আমার জন্যে কিছু সময়ের জন্যেই ছিল ।তায়তো আজ সে হারিয়ে গেল কালের আবর্তনে ,মাত্র এক সময়ের ব্যবধানে । ঐদিন ,আমি আর রাফি এক সাথে হাত ধরে বাসায় ফিরছিলাম ।রাত তখন একটা হবে ।রাস্তায় যান অনেকটা হালকা হয়ে গিয়েছিল ।পথচারী ও ছিল না ।রাস্তা ছিল একেবারে ফাঁকা ।

আমাকে বিদায় দিয়ে রাফি সামনে তাকিয়ে পিছন দিকে হাঁটতে লাগলো ।আমি বারবার তার দিকে ফিরে তাকাচ্ছিলাম আর হাসছিলাম ।হঠাৎ আমার অন্তর আত্মা কেঁপে ওঠল সামনে হতে ছুটে আসা একটা মাইক্রোকার দেখে ।আমি রাফিকে মাঝ রাস্তা হতে সরতে বলতে না বলতে রাফির একটা তীব্র আর্তনাদ ।আমি দৌড়ে তার কাছে গেলাম ।গিয়ে দেখি রাফির রক্তাক্ত দেহ ,তার মাথাটা ছিটকে গেছে ।আমি সেখানেই পড়ে যায় জ্ঞান হারিয়ে । জ্ঞান ফিরে প্রায় এক সপ্তাহ পড়ে ।তখন আর আমার রাফি পৃথিবীতে নেই ।সে চলে গেছে আমাকে ছেড়ে ।আমার বুক শূন্য করে । আমি তাকে আজো ভুলতে পারিনি ।যখনি তার কথা মনে আসে চোখ থেকে অশ্রু ঝড়ে ।পাগলের মতো হয়ে যায় ।মাঝে মাঝে স্বপ্নে যখন তাকে দেখি তখন সারা রাত জেগে থাকি ।তাকে ভুলে থাকার জন্যে সব ছেড়ে এই অচেনা দেশে পড়ে আছি কিন্তু আজো তাকে ভুলতে পারিনি ।তার স্মৃথি আমাকে আজো তাড়িয়ে বেড়ায়।

সমপ্রেমের গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.