প্রেসক্রিপশন

লেখকঃ-ফাহিম হাসান

আচ্ছা, হারপিকের স্বাদ কেমন? যেসব মানুষ হারপিক খেয়ে সুইসাইড করে, তারা কি এই তরল পদার্থের স্বাদ কেমন হবে এটা কখনও ভেবেছিল? যদি স্বাদ বর্ধনের জন্য- দুধ চায়ের সঙ্গে হারপিক মিশিয়ে খাই, তাহলে কি এর পাওয়ার কমে যাবে? ওটা খেয়ে কি আমি মারা যাবো না? এরকম আজগুবি চিন্তাভাবনা প্রায়ই আমার মাথায় আসে।
এই মুহূর্তে আমার হাতে আছে ডাঃ অনির্বাণ রায় এর ভিজিটিং কার্ড। উনি মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। মানসিক রোগীদের চিকিৎসক। মানসিক রোগের চিকিৎসকদের একটা হেভিওয়েট ইংরেজি নাম আছে। সাইকিয়াট্রিস্ট। আর মানসিক রোগটা হয়েছে আমার।
উত্তরার দিকে উনার চেম্বার। আমি ভিজিটিং কার্ড প্যান্টের পকেটে ঢুকিয়ে মেস থেকে বের হলাম।
মেস থেকে বেরিয়েই দেখি রাস্তায় আতিক ভাই হাঁটাহাঁটি করছেন। তিনি তাকিয়ে ছিলেন আমাদের মেসের দিকেই। আমাকে দেখে অতি দ্রুত চোখ সরিয়ে অন্য দিকে তাকালেন। মনে মনে বললাম, “আর কতোদিন আতিক ভাই? গত ৭ মাস ধরে এই একইভাবে তাকিয়েই যাচ্ছ। কথা বলতে সমস্যা কী?”
উত্তরা যেতে যেতে দুইবার জ্যামের মধ্যে পড়লাম। অনেক কষ্টে খুঁজে খুঁজে অনির্বাণ রায়ের চেম্বার পেলাম। ঘিঞ্জি টাইপ অবস্থা চেম্বারের। চারপাশের বড় বড় দালানের জন্য তাঁর চেম্বারে সবসময় ছায়া পড়ে থাকে। এরকম একটা পরিবেশে কয়েকদিন থাকলে তো সুস্থ মানুষই পাগল হয়ে যাবে। সেখানে, তিনি এই জায়গায় বসে মানসিক রোগীদের চিকিৎসা করান?
আমি চেম্বারের বাইরে জুতা খুলে ভেতরে ঢুকলাম। কী আশ্চর্য! চেম্বারের ভেতরের রোগীদের জন্য রাখা চেয়ার খাঁ খাঁ করছে। রিসিপশনে কি কেউ নেই? আমি আশেপাশে তাকালাম। এখানে বোধহয় রিসিপশন-ই নেই।
আমি ডাকতে লাগলাম, “কেউ কি আছেন? ডাক্তার সাহেব!”
এই পর্যায়ে কোত্থেকে যেন মধ্য বয়সী একজন ভদ্রলোক বেরিয়ে এলেন। লোকটা তালগাছের মতো লম্বা। দাড়িগোঁফ কামানো। ঘিয়া রঙের শার্ট পরেছেন। নাকের উপর মোটা ফ্রেমের চশমা। উড়ুউড়ু মাথার চুল। যথেষ্ট সুন্দর দেখতে।
আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, “কে?”
উনার গলার স্বর টিভির সংবাদ পাঠকদের মতো। সুন্দর।
আমি বললাম, “আমি অনির্বাণ রায়ের কাছে এসেছি। এটা উনার চেম্বার না?”
উনি বললেন, “আমিই অনির্বাণ। তোমার চোখ দেখে বোঝা যাচ্ছে তুমিই বোধহয় রোগী। তুমি বললাম বলে রাগ করলে না তো আবার?”
আমি বললাম, “না রাগ করি নি। আমার চোখ দেখে কীভাবে বুঝলেন আমি রোগী?”
উনি বললেন, “তোমার চোখের নিচে কালচে হয়ে গেছে। আর চোখের সাদা অংশের লাল শিরা-উপশিরা গুলো দেখা যাচ্ছে। ডিপ্রেশনে থাকলে এমনটা হয়। আর তোমার ঘুমেরও সমস্যা আছে যতসম্ভব।”
মনে মনে মুগ্ধ হলাম।
উনি বললেন, “আসো, চেম্বারে বসো।”
বলে উনি পাশের রুমে আমাকে নিয়ে গেলেন। তেমন বিশেষ কিছু নেই উনার চেম্বারে। একটা ডেস্ক। তিনটা চেয়ার। ওজন মাপার যন্ত্র। একটা তাকের মধ্যে সাজানো ওষুধের শিশি। এই তো।
আমি চেয়ারে বসলাম। উনি বললেন, “কী দিয়ে শুরু করবো বলো তো? আচ্ছা তোমার নামটা বলো।” বলে উনি হাতে কলম আর খাতা নিলেন। খেয়াল করলাম উনার খাতার কভারে মীনা কার্টুনের ছবি আঁকা। উনার কি ছাপানো প্যাডও নেই?
আমি বললাম, “আমার নাম শুভ্র।”
উনি জিজ্ঞেস করলেন, “শুধু শুভ্র? নাকি পুরো নাম বলতে ইচ্ছা করছে না?”

  • মাহফুজুর রহমান শুভ্র।
  • আচ্ছা। এবার বলো ঘুম হচ্ছে না কেন? বিশেষ কোনো চিন্তায়?
  • এবার থেকে আমি যা বলবো তাই কি নোট করবেন?
  • না। দরকারি কথা গুলো নোট করবো। তুমি বলো।
  • ইদানীং খুব বেশি হতাশ লাগে। একটা বিষয় নিয়ে খুব বেশি টেনশনে থাকি।
    আমাকে থামিয়ে দিয়ে উনি বললেন, “গার্লফ্রেন্ডের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। তোমার চাকরি হচ্ছে না এই জাতীয় কোনো সমস্যায় আছ?”
    আমি বললাম, “আমার গার্লফ্রেন্ড নেই।”
    “তাহলে বয়ফ্রেন্ড?”, উনি জিজ্ঞেস করলেন।
    আমি মনে মনে থতমত খেলাম৷ অতিরিক্ত জোর দিয়ে বললাম, “আপনার কি মনে হয় আমি ওই রকম? আমার এমনিতেই গার্লফ্রেন্ড নেই।”
    উনি বললেন, “বয়ফ্রেন্ড থাকতেই পারে। এটা এমন কী ব্যাপার? ঢাকায় থাকি। আর এই বিষয়গুলোর খোঁজখবর রাখবো না। তা কি হয়?”
  • আমি সিঙ্গেল। ফরেভার সিঙ্গেল। কোনোদিনই কারো সঙ্গে রিলেশনে যাই নি।
  • আচ্ছা বুঝলাম। তোমার টেনশনের সঙ্গে এই সিঙ্গেল থাকার কোনো সংযোগ আছে কি?
  • থাকতে পারে। আপনি সাইকিয়াট্রিস্ট। আপনি ভালো জানবেন।
  • আচ্ছা। এবার একটু খোলাসা করে বলো। কিসের জন্য মানসিক চাপের ভেতর থাকো?
  • মানসিক চাপের কারণটা বলতে ইচ্ছা করছে না। আপনি শুধু ওষুধ লিখে দিন। দরকার পড়লে কিছু উপদেশ দিন। শুনবো।
  • দেখো কারণ না জানলে তো কিছু করা সম্ভব না। ওষুধ লিখে দিতেই পারি। কিন্তু, ওষুধ খেলে উপর উপর দিয়ে কাজ করা হবে। আমাদের ঘটনার গভীরে যেতে হবে।
  • তাহলে উপর উপর দিয়েই কাজ করুন। ওষুধ লিখে দিন।
  • তোমার সমস্যাগুলা হচ্ছে- হতাশা, দুশ্চিন্তা, রাতে ঘুম না হওয়া এই তো।
  • হ্যাঁ।
    আমাদের কথার এই পর্যায়ে উনি একটা প্যাডে ওষুধের নাম লিখে দিলেন। যাক বাবা, প্যাড দেখছি আছে!
    উনি গম্ভীর বললেন, “শোনো। তুমি যদি তোমার সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে চাও, তাহলে অবশ্যই তোমাকে কারণ খুঁজতে হবে। আমি তোমাকে সাহায্য করতেই পারি।”
    আমি বললাম, “আচ্ছা। ওষুধগুলো কিছুদিন খাই। তারপর না হয় আবার আসবো।”
    উনার চেম্বার থেকে বের হয়েই শপথ করলাম এই ব্যক্তির কাছে কোনোদিন আর আসবো না।
    *
    শপথটাকে সাত দিনের বেশি টেকাতে পারলাম না। মানসিক অবস্থা আরো জঘন্য হচ্ছিল।
    অনির্বাণ রায় তার চেম্বারেই ছিলেন। যথরীতি চেম্বার জনশূণ্য। আমাকে দেখে তিনি বলে উঠলেন, “আরে আরে শুভ্র মশাই দেখছি। বসো বসো।”
    আমি চেয়ারে বসলাম। তিনি উৎসাহী গলায় বললেন, “কী খবর বলো। এখনও ডিপ্রেশনে আছ?”
    অনেক চাপের ভেতরে থেকেও বললাম, “আমি গে। গে মানে জানেন তো? সমকামী।”
    উনি থতমত খেয়ে বললেন, “তুমি সমকামী?”
    আমি বললাম, “হ্যাঁ। পুরো পৃথিবীতে মাত্র তিনজন জানে আমি এমন। আমার চাচাতো ভাই, কলেজের এক ফ্রেন্ড আর আপনি।”
  • আচ্ছা আচ্ছা।
  • আপনার কাছে এরকম কেস এই প্রথম তাই না?
  • হ্যাঁ। তা তো বটেই।
    উনি দীর্ঘশ্বাস নিলেন। আমি বলতে লাগলাম, “আমি কেন এরকম হলাম প্লিজ বলতে পারবেন? যখন থেকে বুঝতে পেরেছি আমি এরকম, তখন থেকেই আমার ভেতরে অপরাধবোধ কাজ করে। মনে হয় কী এমন পাপ কাজ করেছিলাম যে আমাকে এভাবে আল্লাহ সৃষ্টি করলেন। আশেপাশের স্ট্রেইটরা কতো সুখে আছে। ওদের দেখুন লুকিয়ে থাকতে হয় না। ওরা জোর গলায় নিজেদের প্রকাশ করে। আর আমার সবসময় নিজেকে নিজের বশে রাখতে হয়। কোনোভাবে কেউ জেনে গেলে তো শেষ। অথচ আমারও তো ইচ্ছা করে স্বাধীন একজন মানুষ হতে। ইচ্ছা করে কাউকে ভালোবাসি এটা জোর গলায় বলতে। সবদিক দিয়ে আমরা বন্দী। ধর্মের আশ্রয়ে যাবো সেই উপায়ও নেই। এতো কষ্ট লাগে। যদি এরকম করে সৃষ্টিই করবেন- তাহলে কেনো পূর্ণ অধিকার দিলেন না সৃষ্টিকর্তা? মাঝে মাঝে তো মনে হয় গলায় দড়ি দেই।”
    উনি মাথা নিচু করে শুনছিলেন। আমার কথা শেষ হলে উনি আমার দিকে তাকালেন। বেশ কিছুক্ষণ চুপ থেকে ব্যাঙ্গাত্মক স্বরে বললেন, “আমি তো ভেবেছিলাম সমকামীরা কোমর টোমর দুলিয়ে দুলিয়ে হাঁটে, টেনে টেনে ন্যাকা করে কথা বলে। আর ফোঁৎ ফোঁৎ করে কাঁদে। তুমি দেখছি সেরকম নও।”
    বলে উনি মুখ টিপে হাসতে লাগলেন। আমার হঠাৎ করে অসহ্য লাগতে শুরু করলো উনাকে। বললাম, “আপনি সম্ভবত এই সমস্যার সমাধান দিতে পারবেন না। ভালো থাকবেন। বিদায়।”
    আমি উঠে চলে যেতে চাইলাম। উনি বললেন, “শুভ্র শোনো। তোমার হাতে কি এক ঘন্টার মতো সময় হবে?”
    আমি পেছন ফিরে উনার দিকে তাকালাম। চোখের দৃষ্টিতে উনাকে ভস্ম করতে চাইলাম।
    উনি ভস্ম হলেন না। বরং হেসে বললেন, “টেনশন কোরো না। আমি তোমার সঙ্গে ডেটে যেতে চাইবো না। তুমি শুধু আমার সঙ্গে এক ঘন্টা রাস্তা ধরে হাঁটবে। আমি তোমাকে কিছু জিনিস দেখাবো।”
    আমি হাতঘড়ি দেখলাম। বললাম, “হ্যাঁ সময় হবে। আজ আমার সব টিউশনি সন্ধ্যায়।”
    হাঁটতে হাঁটতে খেয়াল করলাম অনির্বাণ রায় মানুষটা যথেষ্ট গোছালো। হ্যারি পটারের চশমার মতো চশমা পরলেন বের হওয়ার আগে। তার মুখ খুশিতে ঝলমল করছে। মনে হচ্ছে পছন্দের কোথাও বেড়াতে যাচ্ছেন। আনন্দ বিষয়টা সংক্রামক মনে হয়। আমারও খুশি লাগছে। উনি বললেন, “শুভ্র, তুমি কি ফুচকা খাবে?”
    আমি অবাক হলাম। বললাম, “ফ্রীতে খাওয়ালে অবশ্যই খাবো। ফ্রীতে পাওয়া জিনিস কখনও হাতছাড়া করতে নেই।”
    উনি হোহো করে হাসলেন। বললেন, “মোড়ের কাছে একটা টঙে ভালো ফুচকা পাওয়া যায়। চলো।”
    ফুচকা খেলাম। আসলেই স্বাদ অসাধারণ। অনির্বাণ দা যখন ফুচকার দাম দিতে ক্যাশিয়ারের কাছে গেলেন তখন খেয়াল করলাম দোকানদারের এক হাত নেই। কোনো অ্যাক্সিডেন্টে কেটে গিয়েছে মনে হয়।
    হাঁটতে হাঁটতে উনি বললেন, “আচ্ছা, তোমাদের ভালোবাসার ব্যাপারটা কী রকম? সব ছেলেদেরই কি তোমার পছন্দ হয়?”
    আমি বললাম, “আপনাদের ভালবাসার ব্যাপারটা যেরকম, আমাদের ব্যাপারটাও একই রকম। আর না। সব ছেলেদের কোন দুঃখে পছন্দ হতে যাবে? আমার তো লম্বা ছেলেদের পছন্দ। ছেলের গলার স্বর সুন্দর হতে হবে। আর যদি তার গলার স্বর আপনার গলার স্বরের মতো হয়, তাহলে তো কথাই নেই।”
    উনি হেসে বললেন, “আমার গলা সুন্দর? কী যে বলো। হাহাহা।”
  • হ্যাঁ সুন্দর। আর, ছেলেদের চোখ বিষয়টা আমার অনেক বেশি পছন্দ। কিছু কিছু ছেলের তো হৃদয় হরণ করার মতো চোখ থাকে।
    আমার এই কথা শুনে আমার পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া এক যুবক হতভম্ব হয়ে বড় বড় চোখ করে আমার দিকে তাকিয়ে রইলো। খেয়াল করলাম ছেলেটারও চোখ দুটো সুন্দর।
    অনির্বাণ দা বললেন, “তা কখনও এরকম কাউকে পেয়েছ?”
  • পেয়েছি। কিন্তু কিছু বলার সাহসটা হয় নি। আর নিজেকে নিয়ে হীনমন্যতা তো আছেই।
  • তোমার কি মনে হয় না যে তুমি নিজেকে একটু বেশিই ছোট মনে করো? এতোটা নগণ্যও কিন্তু তুমি নও বুঝলে?
  • আমি তো নগণ্যই! যেই ছেলে সমকামী হয়ে বাংলাদেশে জন্মায়, তার চেয়ে তুচ্ছ আর কে হতে পারে বলুন তো?
    এই সময়ে উনি আড়চোখে একবার তাকালেন আমার দিকে। তিনি কি বিরক্ত হচ্ছেন?
    চারদিকে বিভিন্ন রকমের মানুষ। কেউ ব্যস্ত হয়ে রিকশায় করে কোথাও যাচ্ছে। কেউ বা কাঁধে ব্যাগ নিয়ে স্কুল কলেজে৷ কিছু মেয়ে খিলখিল করে হাসতে হাসতে রাস্তা পার হচ্ছে।
    অনির্বাণ দা বললেন, “আসো ওই ছায়ায় একটু দাঁড়াই। আমাদের আজকের শিক্ষাসফর সম্পন্ন।”
    আমরা ছায়ায় দাঁড়ালাম। আশেপাশেই কোথাও বকুল ফুল গাছ আছে। অসম্ভব সুন্দর সুবাস আসছে। আচ্ছা, কেক বানানোর সময় কেকের ভেতরে কিছু বকুল ফুলের পাপড়ি ছড়িয়ে দিলে কেমন স্বাদ হবে?
    উনি বললেন, “তোমার মূল সমস্যাটা হলো, তুমি নিজের মূল্যটা জানো না। তুমি সবসময় একটাই কাজ করো। আর সেই কাজটা কী জানো? নিজেকে নিয়ে অভিযোগ করা। আমি এমন কেনো, আমি হতভাগা, আমি অন্যরকম, কেনো এমন হলাম এসব প্রশ্ন তুমি সবসময় নিজেকে করতে থাকো। সত্যি বলতে তুমি সে সব বিষয় নিয়ে অভিযোগ করো, যেগুলোর নিয়ন্ত্রণ তোমার হাতেই নেই। জন্মের আগে যদি তোমাকে নিজের সেক্সুয়্যালিটি বেছে নেওয়ার সুযোগ দেয়া হতো, তাহলে নিশ্চয়ই তুমি স্ট্রেইট হতে চাইতে। চাইতে কিনা বলো?”
    এই সময় পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়া একজন মহিলা বোরকার ভেতর দিয়ে অগ্নি দৃষ্টিতে অনির্বাণ রায়ের দিকে তাকালেন। হয়তো, তিনি অনির্বাণ দা’র কথা শুনে ফেলেছিলেন।
    আমি ক্ষীণস্বরে বললাম, “হ্যাঁ।”
    উনি বললেন, “অথচ দেখো আমাদের কাউকেই সেই সুযোগটা দেয়া হয় নি। তার অর্থ কী জানো? তার অর্থ হলো, সৃষ্টিকর্তাই আমাদের এভাবে বানিয়েছেন। এবং তিনি তাতেই খুশি।”
  • হু। তো?
  • তাহলে, অভিযোগ করে কী হবে? তুমিই বলো, লাভটা কোথায়?
    আমি চুপ থেকে বললাম, “লাভ নেই৷ কিন্তু, তিনি কি আর কাউকে পান নি? আমিই কেনো?”
    তিনি বললেন, “দেখো এই প্রশ্নের উত্তরটা আমরা কেউই দিতে পারবো না। এই আমাকেই দেখো। আমার খুব ইচ্ছা লেখালেখি করার। কিন্তু অদ্ভুত বিষয় কী জানো? আমি এক কলমও লিখতে পারি না। এখন আমি কি আহাজারি করে বেড়াবো যে- আমি কেন লেখালেখি পারিনা? আমাকে দিয়ে জগতের কিচ্ছু হবে না? করবো বলো?”
  • আপনি বিষয়টাকে অন্য দিকে নিয়ে যাচ্ছেন।
  • অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছি না। কেন জানি না মনে হচ্ছে, তোমার সৃষ্টিকর্তার উপর অনেক বেশি রাগ। এটা কিন্তু ঠিক না। আমি তো বললামই এই বিষয়গুলোর উপর আমাদের কারোরই নিয়ন্ত্রণ নেই। তাই, এই পরিস্থিতিতে তুমি দুইটা কাজ করতে পারো। এক- বাকি জীবনটাও এভাবেই আহাজারি করে কাটিয়ে দিতে পারো। আর দুই- তুমি যেরকম, ওরকমই নিজেকে গ্রহণ করতে পারো। পুরোপুরিভাবে। তারপর, সবকিছু আবার নতুন করে শুরু করতে পারো।
    বলে উনি আমার দিকে তাকালেন। উনার মুখ গম্ভীর। অথচ, কোথাও যেন আনন্দ আছে মুখে। ঠিক ধরতে পারছি না।
    উনি বললেন, “ওই ফুচকার দোকানের ক্যাশে যে লোকটা বসে ছিল তাকে খেয়াল করেছ? অ্যাক্সিডেন্টে উনি তার এক হাত হারিয়েছেন। এখন তিনি কি আহাজারি করে বেড়াচ্ছেন? তিনি কি বলে বেড়াচ্ছেন কেন এমন হলো? তার সাথেই এমন কেন হলো? তিনি কিন্তু ঠিকই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন। পরিবারের জন্য রোজগার করছেন। আহাজারি, হা-হুতাশ করে আসলে কোনো কিছু হয় না। নিজের যা আছে, তাই নিয়েই বাঁচতে শিখতে হয়।”
    আমি কিছু বলতে পারলাম না। তিনি তো সবকিছু ঠিকই বলছেন। হঠাৎ করেই, সবকিছু সহজ লাগতে শুরু করলো। আসলেই হয়তো নিজের সমস্তটা গ্রহণ করে নিলে আর কোনো সমস্যা থাকে না।
    উনি আবার বললেন, “এরকম পরিস্থিতি সম্পর্কে তোমাদের প্রফেট একটা অসাধারণ একটা কথা বলেছেন। যেটা আমরা সাইকিয়াট্রিস্টরাও বলে থাকি। শোনো! নিজেকে কখনও কারো সঙ্গে তুলনা করার বৃথা চেষ্টা করবে না। বিশেষ করে তাদের সঙ্গে- যারা তোমার থেকে উন্নত বৈশিষ্ট্যের অধিকারী। সবসময় তোমার থেকে যারা খারাপ আছে, তাদের দিকে তাকাবে। এখন, তুমি সমকামী। কিন্তু, তুমি তিনবেলা পেট ভরে ভাত খাচ্ছ৷ দিব্যি হাঁটাহাঁটি করছো৷ কতো শান্তিতে আছো৷ অথচ, তুমি কি জানো সারা পৃথিবীর কতো মানুষ আজ না খেয়ে আছে? কতো মানুষ অসুস্থতার জন্য হাঁটতেও পারছে না? সামান্য এক গ্লাস পানির জন্য কতো মানুষ আজ মারা গেছে জানো? জানো না৷ ওই মানুষগুলোর বেসিক অধিকার গুলোই নেই। আর আমাদের সব আছে। তবুও আমাদের আরো চাই। আসলে আমি, তুমি, আমরা সবাই অনেক বেশি ভালো আছি৷ কিন্তু, সমস্যা হচ্ছে আমরা দুঃখবিলাসী। দুঃখের পাহাড় বানিয়ে আমরা কাঁদতে ভালোবাসি। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছ্যাকা খাওয়া গানের লাইন পোস্ট করে বেড়াতে ভালোবাসি। এতে কিন্তু কোনো কাজই হয় না। তাই বলছি তোমার থেকে যারা কষ্টে আছে তাদের কথা ভাবো। তাদের কষ্টের কথা ভাবো। দেখবে, তখন মনে হবে তুমি অন্য অনেকের চেয়ে ভালো আছ। “
    আমি বললাম, “আচ্ছা, আপনি কখনও বকুল ফুল দিয়ে বিরিয়ানি রান্না করে খেয়েছেন?”
    হঠাৎ এরকম খাপছাড়া প্রশ্নে উনি হয়তো অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। মুখ বিকৃত করে বললেন, “বকুল ফুল দিয়ে বিরিয়ানি? ওই বস্তু কি খাওয়া যায়? ভাবতেই কেমন জানি লাগছে।”
    মেসে ঢোকার আগে আবার দেখি আতিক ভাই মেসের সামনের হাঁটাহাঁটি করছে৷ মানুষটাকে ভড়কে দিতে ইচ্ছা করছে। যদি একটা ঢিল উনার মাথায় ছুঁড়ে মারি, তাহলে উনি কী করবেন?
    *
    সাতদিন পর এক বক্স বিরিয়ানি রান্না করে উত্তরার দিকে রওনা দিলাম। বিরিয়ানির উপর বকুল ফুল ছড়িয়ে দিয়েছি। অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ আসছে।
    বিরিয়ানি খেয়ে উনি হতভম্ব। “তুমি এতো ভালো রাঁধতে জানো?”, উনি বললেন।
    খাওয়ার পর আবার তার সঙ্গে কথা বলতে আরম্ভ করলাম। বললাম, “আচ্ছা, আমি তো নিজেকে মেনে নিলাম। কিন্তু ধর্ম, পরিবার আর সমাজ নিয়ে কী করবো? আল্লাহ তো সমকামিতা পছন্দ করেন না। লূত (আঃ) এর জাতির ইতিহাস কি আপনি পড়েছেন?”
    উনি বললেন, “না। পড়ি নি।”
  • এখন বলুন যদি আমার কোনো ছেলের সঙ্গে রিলেশনে যেতে ইচ্ছে করে তাহলে কী করবো? ধর্ম তো মানবে না।
  • দেখো, তোমাদের ধর্মে বিয়ের আগের রিলেশন বিষয়টা সবসময়ই নিষিদ্ধ। সে দুইজন ছেলে আর মেয়ের মধ্যে হোক আর দুইজন ছেলের মধ্যে হোক না কেন৷ এখন তো দেখি অনেক ইমাম সাহবেরা গার্লফ্রেন্ড নিয়ে পার্কে বেড়াতে আসে। এসব কিন্তু নিষেধ।
    আমি হেসে বললাম, “তাহলে একটা কাজ করি। একটা ছেলে বাছাই করে বিয়েটা সেরে ফেলি। বিয়ে করলে তো আর নিষেধাজ্ঞা থাকবে না। তাই না?”
    উনিও হাসলেন। বললেন, “দুইজন ছেলের মধ্যের বিয়ে তো আরো বেশি নিষেধ।”
  • তাহলে কি সম্পর্ক করবো না?
  • করতেই পারো। তবে, সুখী হতে গেলে ধর্ম আর রিলেশন দুইটা জিনিস ব্যালেন্স রাখার চেষ্টা করবে। সত্যি বলতে, আমি আসলে সঠিক জানি না তোমাদের ধর্ম এই বিষয় নিয়ে কী বলে। কোনো আলেম ভালো জানবেন। যদ্দুর মনে হয় তারা হারাম-ই বলবেন। তারপরেও বিষয়টা পুরোপুরি তোমার উপর নির্ভর করছে। আমার মনে হয় সৃষ্টিকর্তার সঙ্গে আমাদের প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সম্পর্ক আছে। যেমন, তোমাদের আল্লাহ্ কিন্তু শুধু মসজিদের ইমামদেরই সম্পদ না। আল্লাহর উপর সব মুসলমানদের একই রকম অধিকার আছে। তুমি তোমার সমস্যাগুলোর কথা তাঁর কাছে বলতেই পারো। একটা ব্যক্তিগত সম্পর্ক তৈরি কিন্তু করাই যায়। তবে সাবধান। তোমাদের ফরজ কাজগুলো কখনও বাদ দিবে না। আরেকটা কথা। এসমস্তই কিন্তু একান্তই আমার ধারণা। আলেমরা সবসময়ই ভালো জানবেন।
  • আচ্ছা বুঝলাম৷ এবার বলুন পরিবার নিয়ে কী করবো? পরিবারের লোকজন তো বিয়ে দেয়ার জন্য উঠেপড়ে লেগে যাবে। কবে দেখবো, মেয়ে-টেয়েও ঠিক করে রেখেছে
  • শোনো, বাসায় পরিষ্কার বলে দাও এখন বিয়ে করবে না। প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করো। ভালো কোনো চাকরি করার চেষ্টা করো। এখন থেকেই উচ্চ শিক্ষা নিবে, এই মানসিক প্রস্তুতি নাও। যখন তুমি একটা ভালো পজিশনে চলে যাবে তখন দেখবে বাসার সবাই তোমার কথা শুনবে। তোমাকে বুঝবে। আর ভালো পজিশনে না গেলেই বা কী? পরিবারে নিশ্চয়ই তোমার চেয়ে তোমার বিয়েটা বেশি জরুরি নয়?
  • আচ্ছা, এটাও বুঝলাম৷ এবার সমাজ?
  • একটা মজার ঘটনা শোনো৷ আমি যখন ক্লাস নাইনে পড়তাম তখন দেখতাম আমার ছোট কাকা তার ছেলে বন্ধুকে তার রুমে নিয়ে গিয়ে ভেতর থেকে দরজা লক করে দিত। আমরা সবাই ভাবতাম তারা পড়াশোনা করছে৷ কিন্তু, আমি একদিন খেয়াল করলাম যে তাদের রুম থেকে বিচিত্র সব আওয়াজ আসছে। হাহাহা।
  • সিরিয়াসলি?
  • হ্যাঁ৷ তাহলে দেখো আমাদের ভেতরে কমবেশি সবাই এটা নিয়ে জানে। তাহলে বলো সমস্যাটা কী? মানুষ তোমাকে অনেক কথাই বলবে। এখন তারা কী বলছে সেটা গুরুত্ব দিবে কি না তা তুমি ঠিক করো। আর, পাড়ার লোক গুলোর অনেকের জীবনের একমাত্র কাজই হলো পরচর্চা করা। ওদের নিয়ে ভেবে লাভ নেই। আসলে সবকিছুই নির্ভর করছে তোমার উপর।
    আমি হাসলাম। মাথা থেকে একটা ভার নেমে গেলো মনে হলো। বললাম, “চলুন, আজকে আপনাকে বেড়াতে নিয়ে যাই “
    অনির্বাণ দা বললেন, “হঠাৎ? আমি কিন্তু ভাই স্ট্রেইট। আমার উপর চান্স নিও না। হাহাহা।”
    আমিও হেসে ফেললাম৷ বললাম, “আপনাকে ডেটে নিয়ে যাচ্ছি না। অনেক বড়ো একটা উপকার করলেন তো। এইজন্য আপনাকে ট্রিট দিতে ইচ্ছা করছে৷ আসুন৷ নাকি যাবেন না? আর কারো অ্যাপয়েন্টমেন্ট আছে?”
    উনি বললেন, “ওরকম কিছুই নেই। আচ্ছা চলো যাই।”
    আমরা হাঁটতে বের হয়েছি। উনি আজকেও হ্যারি পটার চশমাটা নিলেন। তবে, ওটা পরলাম আমি।
    বেকারি থেকে কেক কিনে দুজন খেলাম। মিষ্টির দোকান থেকে রসমালাই।
    খেতে খেতে উনি বললেন, “তোমাদের জীবনটা কিন্তু অনেক বেশি অ্যাডভেঞ্চারাস। এটা হয়তো তোমাদের মনে হয় না। জানলে অবাক হবে, স্ট্রেইটদের একাংশ তোমাদের দুই চোখে দেখতে না পারলেও- অনেক স্ট্রেইটদের কাছে তোমাদের জীবনটা স্বপ্নের মতো। অনেকেই আছে যারা কিনা সমকামী হতে চায়।”
  • ওরা কেনো এমন হতে চাইবে? এগুলা কি সত্যি?
  • হ্যাঁ সত্যি। আসলে ঘটনাটা “নদীর এ পাড় কয় ছাড়িয়া নিঃশ্বাস, ওপারেতে সর্বসুখ আমার বিশ্বাস” টাইপ। তুমি চাও স্ট্রেইট হতে। আবার অনেক স্ট্রেইট চায় তোমাদের মতন হতে।
  • আচ্ছা আপনি এতো সুন্দর করে কথা বলেন কীভাবে? স্পষ্টভাবে, গুছিয়ে?
    উনি হাসলেন। বললেন, “তুমিও সুন্দর করে কথা বলো। তোমার গলার স্বরও সুন্দর। তুমি হয়তো সুন্দর গান গাইতে পারবে। জানো, আমি খেয়াল করেছি সমকামীদের অনেক রকম প্রতিভা থাকে। কেউ অসম্ভব সুন্দর ছবি আঁকে, কেউ সুন্দর রান্না করে, কেউ খুব ভালো লেখে, কেউ সাজগোজের বিষয়ে পারদর্শী আবার কেউবা পড়াশোনায় ভালো৷ আর এখন যে যুগ চলছে, তাতে এসব সৃজনশীলতার অনেক বেশি মূল্য। দরকার শুধু একটু পরিশ্রম।”
  • হ্যাঁ। তবে, আমি দেখেছি বেশিরভাগ গে- রাই বয়ফ্রেন্ডের অভাবে কাতর হয়ে থাকে। তাদের ভেতরে হতাশা কাজ করে।
  • স্বাভাবিক। তবে একটা বিষয় কী জানো? জীবনটা শুধু ভালোবাসা বা রিলেশন করে কাটিয়ে দেওয়ার জন্য নয়। এর বাইরেও অনেক কিছু করা যায়। নিজের ট্যালেন্টের উপর কাজ করা যায়। নিজেকে আগের চেয়ে উন্নত করে তোলা যায়। আর বয়ফ্রেন্ডের যখন আসার তখন ঠিকই আসবে। এই নিয়ে বেশি মাতামাতি করলে দুঃখ বাড়বে বৈ কমবে না। তুমি হয়তো ভাবছ মুখে এগুলা বলা সহজ কিন্তু করা কঠিন। আসলেই কঠিন। তারপরেও জীবনটাকে সহজভাবে নিতে হয়।
    আমি হাসি মুখে বললাম, “আমার যদি সামর্থ্য থাকতো তাহলে আপনাকে কোহিনূর এনে দিতাম। সামর্থ্য নেই।”
    তিনিও হাসলেন। বললেন, “শোনো, উপহারকে মূল্য দিয়ে বিবেচনা করতে হয় না। বরং, উপহারের সঙ্গে কী পরিমাণ ভালোবাসা মিশ্রিত আছে সেটা দেখতে হয়।”
    বিকাল পার হয়ে আসছিলো। সন্ধ্যায় আমার টিউশনি। তাই, উনার কাছ থেকে বিদায় নিতে হলো। চলে আসার সময় তিনি হাসিমুখে বললেন, “ভালো থাকবে শুভ্র। আর আমার ফোন নম্বর তো রইলোই তোমার কাছে। প্রয়োজন পড়লে কল কোরো। আর ওষুধগুলো নিয়মিত খাবে। নিজে ভালো থাকার চেষ্টা করবে।”
    আমি হ্যাঁ সূচক মাথা নাড়লাম।
    *
    মেসে আসার পর দেখি আতিক ভাই মেসের পাশের পুকুরপাড়ে দাঁড়িয়ে আছেন। এবং যথারীতি বারবার আড়চোখে তাকাচ্ছেন। ঠিক করলাম আজ উনাকে ভড়কে দেবোই।
    আমি তার দিকে হাঁটতে লাগলাম। তার দিকেই হাঁটছি দেখে তিনি মনে হয় কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে গেলেন। তিনিও পেছন ফিরে হাঁটতে শুরু করলেন। আমি হাঁটার বেগ বাড়ালাম। তিনিও জগিং করার স্পিডে হাঁটতে শুরু করলেন।
    উনি জগিং করতে করতে বারবার পেছনে তাকাচ্ছেন। এই পর্যায়ে আমি উনার দিকে একটা দৌড় দিলাম। আমার দৌড়ানির শব্দ শুনে তিনি স্তম্ভিত হয়ে গেলেন৷ দাঁড়িয়ে পড়লেন রাস্তার পাশে। আমি গিয়ে দাঁড়ালাম তার সামনে। বললাম, “আতিক ভাই, আপনার সমস্যাটা কী বলেন তো? এভাবে তাকিয়ে থাকেন কেনো?”
    উনি আমতা আমতা করতে লাগলেন। আমি বললাম, “ভাইয়া, আপনাকে কিন্তু আমার ভালোই লাগে। এরকম একটা বয়ফ্রেন্ডই তো আমি চাইতাম।”
    কথাটা বলেই আমার হাসি পেয়ে গেলো। আমি হোহো করে হাসতে লাগলাম। আতিক ভাই হাসতেও পারছেন না। কাঁদতেও পারছেন না। দেখার মতো একটা অবস্থা তখন উনার।
    একসময় তিনিও হাসতে শুরু করলেন। স্নিগ্ধচোখে আমার দিকে তাকালেন। খেয়াল করলাম তার চোখ দুইটা হৃদয় হরণ করার মতো।
    তখন হঠাৎ করে মনে হলো- আসলেই, জীবনটা অনেক বেশি সুন্দর।

সমপ্রেমের গল্প পেইজ হতে নেয়া

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.