বিস্মৃতি

ঘাসফড়িং

সামনে ঈদ।

তাই বুক ভরা আনন্দ নিয়ে বাড়ি ফিরছি।গত ঈদের সময়ে মানসিক অবস্থাটা এখনকার মত ছিল না; উল্টো চাপা কষ্টে পার করেছি সে সময়টা।

গত দুবছর বাবা-মা’কে ছেড়ে ঈদ করা হয়েছে সেটা ভাবতেই কেমন যেন অবাক লাগে।আমি আসলেই পেরেছিলাম?কিন্তু এতটা কষ্টসহিষ্ণু তো আমি ছিলাম না! পরিবারকে ছেড়ে ঈদ করা এ-আর কষ্টেরই বা কী হল মতি ভাইয়ের তুলনায়!ওনি তো গত ছ’বছরেও বাড়িমুখো হননি।আসার পথে তো জিজ্ঞাসাও করলাম,

-মতি ভাই,প্রবাস জীবন কী এতটাই ভাল লেগে গেছে?বাড়ি যেতে মন চায় না?

সে কেমন নির্লিপ্ত থেকেও ছোট একটা হাসি দেয়।খুব সাধারণ একটা হাসিতেও অনেককিছু বুঝিয়ে দেয়।কিন্তু তেইশ বছরের এই ছেলেটা বত্রিশ বছরের লোকটার কাছে নিতান্তই ছাত্র।তার ভাববহ হাসির অর্থ ঠিক বুঝে উঠাটা আমার জন্য সহজ নয়।তবে কষ্ট আর হতাশার জঞ্জালে জড়িয়ে একটা মানুষ এই অভিনয় ছাড়া আর কতটুকুই বা সুখী হতে পারে;তার ভারী ভারী মুখে অনেক অপ্রাপ্তির রেখা লেখা থাকে।সেটুকু ধরেই আমি অনেকটা এগোতে পারি-

মতি ভাই চিরন্তন কষ্ট সহিষ্ণু।

যেই মানুষটা তার নিজের জগতটায় ভীষণ একা।বুকের কষ্টের বোঝা হালকা করার মত কেউই নেই যার।পাহাড় সমান দুঃখ নিয়েও যে চলছে সুখী মানুষের ভানে।যাকে বিশ্লেষণ করলে অনেক কিছু শেখার তৃষ্ণা বেড়ে যায়।

দেশ ছেড়ে প্রথম যখন বিদেশের মাটিতে পা রাখি,তখন মনে হচ্ছিল যেন পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি। এটা আমার দুনিয়া না।মানুষ গুলোকে রোবটের মত মনে হচ্ছিল।বাস্তবতাটাকে অসম্ভব কঠিন মনে হতে লাগল।যেই মালিকের হয়ে বিদেশে এলাম,তার মাধ্যমেই মতি ভাইয়ের সাথে দেখা। ধীরে ধীরে কঠিন এক কষ্টের সাগর থেকে তীর খুঁজে পেতে লাগলাম।আপন মানুষের ছায়া পেয়ে আবারও সতেজ হয়ে উঠলাম।ঘরবাড়ি ছেড়েও মতি ভাইয়ের মমতায় স্বাভাবিক জীবনে অভ্যস্ত হতে পারলাম।

কিন্তু সেই মানুষটার জীবনের এত গভীর গ্লানির উৎস কী, তা এখনও আমার কাছে স্পষ্ট নয়।তবে মাঝেমাঝে মতি ভাইয়ের ল্যাপটপে কারো পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করার সময়টায় উচ্ছাস মিশে থাকে তার-যখন রাত গভীরতর হয়,তখন তিনি শুকনো আর স্থির দুটো দৃষ্টি নিয়ে সিগারেট হাতে বাইরে বেলকনিতে দাঁড়িয়ে থাকেন।তখন মনে হয় এই মানুষটা আমার ভীষণ অপরিচিত।ধোঁয়াশা মনে হয় ওনার সবকিছুকে।

সেসব ভাবতে ভাবতেই ফোনটা হাতে নিয়ে মতি ভাইয়ের কিছু ফটো মোবাইলের স্ক্রিনে ভাসিয়ে তুললাম।গাড়িতে আমার পাশের সিটের লোকটা হঠাৎ প্রশ্ন করল,

-কোথায় যাচ্ছেন আপনি?

-কুমিল্লাতে।আপনি?

-আমিও কুমিল্লাতেই।

-আপনি ক্যান্টনমেন্ট নামবেন?

-না।এর আগেই নেমে পড়ব।

-ওহ আচ্ছা।আমাকে ক্যান্টনমেন্ট নেমে আবারও ছিএনজি ধরতে হবে বাড়ির জন্য।

-গিয়েছিলেন কোথায়?

আমি একটা ছোট হাসি দিয়ে বলি,

-যাইনি কোথাও।বিদেশ থেকে ফিরছি।

-কেউ আসেনি এগিয়ে নিতে?

-আমার পরিবারে বাবা আর মা ছাড়া কেউ নেই।দুজনই ভীষণ দুর্বল আর অজ্ঞ।শহরের মাটিতে ওনাদের কখনওই পা রাখা হয়নি।

-ওহ আচ্ছা।

জানালার ফাঁক দিয়ে আমি বাইরের দিকে তাকিয়ে রইলাম।ঢাকা থেকে কুমিল্লা গামী বাসটা দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে।জানালা দিয়ে প্রবেশ করা বাতাস আমার চুল পুরো এলোমেলো করে দিচ্ছে।পাশের সিটের লোকটাকে একটু রসিকই মনে হল।দেখতে যুৎসই;সুদর্শন।কথাবার্তাতেও বেশ গোছালো।বয়স ত্রিশের কাছাকাছি!ভদ্র লোকের পছন্দের তারিফ করতে হয়।সাদা শার্টের সাথে গাঢ় কালো রঙের একটা জিন্স।অদ্ভুত সুন্দর ভাবে মানিয়েছে ওনার সাথে।যাত্রাটা কথায় কথায় পার করে দেওয়া যাবে।

জ্যামে পড়ায় ব্যাঘাত ঘটল বাসের নির্বিঘ্নে চলায়।বাসের লোকজন নেমে পড়ল কিছুক্ষণের জন্য। আমার পাশের লোকটা আমাকে বাস থেকে নামব কিনা জিজ্ঞাসা করে ওনি নেমে পড়লেন।আমি বসে রইলাম,কখন বাড়ি পৌছব সেই কথা ভাবতে ভাবতেই সময়টা পার করতে লাগলাম।জ্যাম মুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তড়িঘড়ি করে লোকজন যে যার সিটে বসে পড়তে লাগল।বাস আবারও ছুটতে থাকল।

পাশের লোকটা হাতে করে দুটো ডাব নিয়ে এল।একটা আমার দিকে এগিয়ে বলল,

-নিন।দেশে নেমে এই প্রথম দেশের খাবার আমার দ্বারাই খান।

বলেই একটু রসিক ভঙ্গিতে হেসে উঠল।

আমি ওনার হাত থেকে ডাবটা নিয়ে খেতে শুরু করলাম।

কিছুক্ষণ পর অনিচ্ছা সত্তেও আমার চোখদুটো লেগে আসতে শুরু করল।গাড়িতে ঘুমানোর অভ্যেস নেই,তারপরও ঘুম-ঘুম ভাবে সারা শরীর গুটিয়ে আসতে লাগল।

‘ভাই,উঠেন!কুমিল্লা-ক্যান্টনমেন্ট আইসা গেছে,আর একটু সামনেই।উঠেন,উঠেন।’

কন্ট্রাক্টরের ধাক্কায় ঘুম ভাঙল।খুব কষ্টে চোখদুটো মেলে রাখতে চেষ্টা করে যেতে থাকলাম।প্রায় বেশখানিকটা সময় নিয়ে স্বাভাবিক হলাম।পাশের ভদ্রলোক নেমে পড়েছেন।আমি ফোনটা হাতে নিয়ে সময় দেখব বলে পকেটে হাত দিয়েই হকচকিয়ে উঠি।মোবাইল নেই যে ওখানে!চটপট করে বাকি পকেটগুলোতে খোঁজা শুরু করি।কিন্তু নেই।ব্যাগেও পেলাম না।ওদিকে কন্ট্রাক্টরের অনবরত ডাকাডাকিতে বাস থেকে নেমে পড়তে বাধ্য হলাম।

ফোনটা কি আমার সাথের ভদ্র লোকটাই নিয়ে গেল?কারণ পকেট থেকে মোবাইল পড়ে যাওয়ার কোনও চান্স নেই।

কাঁধে ব্যাগ আর হাতের সুটকেস নিয়ে রাস্তার একপাশে দাঁড়িয়ে চিন্তার ঘোরে আটকে রইলাম।হঠাৎ মনে হল,লোকটার দেওয়া ডাবেই বা কী ছিল!খাওয়ার সাথে সাথেই আমার চোখ জড়িয়ে এল যে!

আমার পুরো শরীর হঠাৎ কেঁপে উঠল।আমি ব্যাগের টাকাগুলোর নিশ্চয়তা নিয়ে একমুহূর্তের জন্য দিশাহীন হয়ে গেলাম।

ব্যাগে হাত দিয়ে নিশ্চিন্ত হলাম-

না,টাকাগুলো নেয়নি।শুধুমাত্র মোবাইলটাই চুরি করল লোকটা!

আমি আর ভাবলাম না সেসব নিয়ে।একটা ছিএনজি করে বাড়ির রাস্তা ধরলাম।

আমাদের বাড়িটা ভীষণ ছোট।গ্রাম এলাকার অন্য সব বাড়িগুলোর মত জনবহুল নয়।আমার আর কাকাদের দুটো ঘর সহ মিলিয়ে ছ-সাতটা ঘর নিয়েই ছোটখাটো একটা বাড়ি।তবে বাড়িটার বিস্তৃতি অনেক।আমাদের বাড়ির পেছনে শানবাঁধানো বড় এক পুকুর।পুকুরটার চারপাশে সুপারি আর নারকেল গাছে ভরা।

পুকুরের বামদিকেই কাকাদের কলা বাগান।বাড়ির সামনের ডান দিকেই একটা মাঠ।মাঠের পাশ দিয়েই এলাকার রাস্তা চলে গেছে।

বাড়ি ফিরেছি-এ নিয়ে আমার মায়ের আনন্দের শেষ নেই।খাবার খেতে বসলে চোখ কপালে ঠেকে মায়ের হাতের বিভিন্ন রকমের খাবার দেখে।

কাকা আর বাবা মিলে গরুর হাটে যাবে।সাথে আমাকে সহ নিল।ভাল দেখে একটা গরু কেনা হল কুরবানির জন্য।

ঈদের পর বাবার এক মতপ্রকাশে আমার টনক নড়ে উঠল প্রায়।

-মনির,একটা বিয়ে করে নে এবার।

-বাবা,এসব কী বলছ!

-আমি জানি তুই অবাকই হবি,বাবা।কিন্তু তোর মায়ের শরীরটার দিকে দ্যাখ একবার।

-আমি জানি সেসব।কিন্তু আমি চাইছিলাম বাবা আরও দুএকবছর পর বিয়েটা করতে।

-সেটা আমারও ইচ্ছে ছিল।কিন্তু তোর মা সংসারের বোঝা আর টানতে পারছেনা।মুখ খুলে সেসব না বললেও তার দেহের অবনতি দেখে সেসব স্পষ্টই বোঝা যায়।

-বাবা দু মাসের ছুটিতে এসেছি।এরই মাঝে বিয়ে….!

-তোর কাকার কাছে একটা ভাল সম্বন্ধ আছে।তুই বললে আমরা গিয়ে মেয়ের পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আসতাম।

আমি আমার নীরবতা কাটিয়ে বাবাকে বললাম,

-আচ্ছা,দেখো।

হঠাৎ করেই এমন একটা সিদ্ধান্তে আমি থতমত খেয়ে যাবার উপক্রম।বাবার নেওয়া সিদ্ধান্তে আমি নিজেই কেমন অপরিনামদর্শী হয়ে পড়লাম।শত হোক,বিয়ের জন্য পূর্বপ্রস্তুতির অবশ্যই প্রয়োজন।

মা আমার নীরবতা দেখে কি বুঝতে পারল কে জানে!আমি ঘাটের পাড় বসা দেখে কাছে এল।বলল,

-তোর বাবাই এই সিদ্ধান্তটা হঠাৎ নিয়েছে।আমি না করেছিলাম-ছেলেকে আরও দুএকবছর পার করতে দাও।কিন্তু সে তার কথাতেই অটল।

মা কথা বলতে বলতে কেমন হাঁপিয়ে এল।চেহারার দিকে চেয়ে দেখি মায়ের চোখের নিচে কালো ছোপ পড়া।আমার অদ্ভুত ভাবেই কেন জানি খারাপ লাগল ভীষণ।চোখগুলোও ছলছল করে উঠল।আমি বললাম,

-বিয়ে তো আমার মতেই হচ্ছে,মা।বাবাকে কেন দোষারোপ করছ।আমিই বলেছি মেয়ে দেখতে।

যেদিন বিয়ে বাড়িতে গেলাম,আমার চোখ দুটো হন্নে হয়ে বোকার মত সেই অপরিচিতাকে খুঁজতে লাগল,যাকে সেদিন কাকার মোবাইলের একটা ফটোতে এক নজর দেখেছিলাম।সেই অপরিচিতার মধ্যে বিশেষ কিছু ছিল না বটে,কিন্তু তার নিষ্পাপ মুখটা দেখে কিছুক্ষণের জন্য মনে হয়েছিল,এই পুষ্প আমার জন্যেই ফোটা।

এত হৈচৈ-এর মাঝে আমাকে ঘিরে বাড়ির মেয়েদের উল্লাসের অন্ত নেই।সব ঝুক ঝামেলা পেরিয়ে সেই অপরিচিতা মেয়েটাকে আমার পাশে এনে বসানো হল।সাথে করে লোকজনের ভিড় জমতে শুরু করল আমাদেরকে ঘিরে।এখন বিয়ে পড়ানো হবে।কাজী সাহেব মেয়ের ঘরের অভিভাবকদের ডাকতে লাগলেন উপস্থিত হওয়ার জন্য।কাকা আর বাবা আমার পাশেই বসা।লোকজনের হরগোলের মাঝেও আমার চোখ গিয়ে ঠেকল একটা লোকের উপর।লোকটা আমার পাশে বসতেই আমি আমার মুখ থেকে রুমাল নামালাম।লোকটা পুরো চমকে উঠল।মনে হল এতটা হতভম্ব সে আর কখনওই হয়নি।কলরবে ভরা এই জনরোষের মধ্যেই বলে উঠি,

-বাবা,আমি এই বিয়ে করব না।

কথাটা শোনার সঙ্গে সঙ্গেই বিয়ে বাড়িটা পুরো নিস্তব্ধ হয়ে গেল।লোকজনের মুখগুলোর দিকে তাকানো যাচ্ছিল না।সবাই শুধু হতবাক হয়ে একে অপরের দিকে তাকাচ্ছে।বাবা আমার কাছে এসে কিছুটা ফিসফিসিয়ে বললেন,

-হঠাৎ এই কথার মানে!কিছু ভেবে বলছিস?

আমি আমতা আমতা করে কিছু বলতে যাচ্ছিলাম তখনই সেই ভদ্রলোকটা আমাকে টেনে নিয়ে গেল একটা ঘরে।কিছু বুঝে উঠবার আগেই লোকটা আমার পায়ে পড়ে মিনতি শুরু করল।

-আমি জানি তুমি আমাকে কী ভাবছ।কিন্তু পুরো ব্যাপারটা তোমাকে খোলে বললে তুমি কখনওই আমাকে নিকৃষ্ট মনের ভাবতে পারবে না।একটা সুযোগ অন্তত দাও।এই বিয়েটা তুমি ভেঙ্গো না।আমার বোনের জীবনটা এখন তোমার হাতে।সেদিন কেন আমি শুধু তোমার মোবাইলটাই চুরি করেছি তা আমি বলব তোমাকে।তুমি একটু দয়া করো শুধু।

-কী এমন কথা আপনার?আর আপনি যে আমাকে কথাগুলো বলবেন,সেটাই বা বিশ্বাস করি কোন যুক্তিতে?

-যুক্তি বা ভিত্তি কোনোটাই হয়ত এখন আমি দাঁড় করাতে পারবনা।কিন্তু বিশ্বাস জিনিসটা আমি তোমার কাছে এখন ভিক্ষে চাইছি।একটু বিশ্বাস কর,আমি তোমাকে আমার চির-গোপন সেই বিষয়টা বলতে একটুও পিছ-পা হবোনা।

আমি বেশ কিছু মুহূর্ত ঘোরের মধ্যে কাটাতে লাগলাম।আমার রাগ বা ক্ষোভ ততটা তীব্র প্রকৃতির নয়।তার উপর লোকটার এই মায়া ভরা আকুতি শোনার পর আমি প্রায় স্বাভাবিক হয়ে যেতে থাকলাম।সেই অপরিচিতাও মনের পাতায় ভেসে উঠল।সবকিছু ভেবেচিন্তে আমি বিয়ের মঞ্চে গিয়ে আবারও বসি।

বিয়ের পর একসপ্তাহ পেরিয়ে গেল।আমার অর্ধাঙ্গিনী-রুমিকে সাথে নিয়ে আজ আমি শ্বশুরবাড়িতে।রুমিদের দুই ভাই।দুভাই চাকরি-বাকরি করছে।তার মধ্যে ওর বড় ভাই-ই ছিল আমার মোবাইল চুরি করা লোকটা।তার সাথেই আমি এখন হেঁটে চলছি।

একটা নির্জন পুকুর ঘাটে সে আমাকে নিয়ে এসে বসল।তার রাখা কথাগুলো তিনি বলা শুরু করলেন,

-তুমি আমার ছোট ভাইয়ের মত।সেদিনের ঘটনায় হয়ত তোমার আর কিছু বোঝার বাকি নেই।আমাকে তুমি কেমন প্রকৃতির লোক ভাবছ তা আমি বুঝতে পারছি।তোমার জায়গায় যে কেউ থাকলে এমনই ভাবত।তোমার থেকে আরও বেশি হিংস্রও হয়ত হয়ে যেত।

আমি চুপচাপ বসে থাকলাম।বস্তুত,আমি বুঝতে পারছিলাম না আমার কী বলা উচিত,কী বলতে পারি!

তিনি আমার একপাশে এসে বসলেন।আমার হাতদুটো তার হাতের মুঠোয় চেপে ধরে ভেজা চোখে বললেন,

-জানিনা তুমি আমার বিশ্বাসের মর্যাদা রাখবে কিনা।কিন্তু সত্যটা তো বলতেই হয়।

-তোমার মোবাইলের শত ফটোর মাঝেও যখন সেদিন বাসে একটা মানুষের ফটো ভেসে উঠল,সে আমার ভালবাসার মানুষটা।বহুদিন-বহুবছর পর এত আবর্তন-বিবর্তনের মধ্যেও তাকে চিনতে আমার একটুও ভুল হয়নি।

মতি।আমার পুরো সত্তা জুড়ে যার অবাধ বিচরণ ছিল।আমার কল্পনায় যে জুড়ে থাকত সারাক্ষণ।

আমরা একই স্কুল-একই কলেজে লেখাপড়া করি।আমার শৈশব আর কৈশরের একান্ত সাথী মতি-ই ছিল।আমরা যখন যুবকে পরিণত হতে লাগলাম,তখন কাকতালীয় এক ঘটনার ফলে বুঝতে পারলাম আমরা একে অপরের বন্ধুত্বের সিঁড়ি পেরিয়ে প্রেম নামক ধাপটাতে পৌছে গেছি।সময় আমাদের ডুবিয়ে দিয়েছে অনুভূতির এক জগতে।প্রকৃতি বদলে দিয়েছে দুটো মানুষের ভালবাসার ধরণকে-সত্তাকে।

পরিবার আর সমাজ বিরোধী হয়ে নিজেকে ভীষণ অসহায় মনে হল।আমাদের এই সম্পর্কের পরিণতি কতটা দুর্বিসহ হতে পারে তা ভাবতে গেলেই আমার চোখ দিয়ে জল চলে আসত।তখন মতি বুকে জড়িয়ে বলত,

“ধ্যাত বোকা!আমাদের অনার্স শেষ হোক,এরপর তুই আর আমি মিলে বিদেশ চলে যাব।ওখানে আমাদের হয়ে কেউ কথা বলার না থাকুক,আমাদের বিরোধে গিয়েও কেউ কথা বলার থাকবেনা।তখন আমরা নিজের মত করে থাকতে পারব।”

মতির কথায় এক গভীর আত্মপ্রত্যয় খুঁজে পেতাম আমি।আমি কখনও হতাশ হয়ে পড়লে সে আমায় বুকে জড়িয়ে বলত,”এইসব দিনরাত্রির সমাপ্তি একদিন আসবে।গ্লানি ঠিকই অন্তিমত হবে।ভালবাসা কিন্তু তখনও থাকবে।ভালবাসা জনমে জনমের।এর সৎকার নেই।”

তখন দুয়েক মুহূর্তের জন্য নিজেকে সুখী মনে হত।মনে হত,ভালবেসে সত্যিই আমি সুখী।

তোমার ভেতরে হয়ত একটা প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে মনির।তবে একটা কথা জেনে রাখা উচিত তোমার,ভালবাসা জাতভেদে,ধর্মভেদে কিংবা লিঙ্গভেদে হয়না।তুমি কি তোমার রক্তের সম্পর্কের মানুষ ব্যতীত কাউকে ভালবাসোনা?যে ভালবাসায় কোনও স্বার্থ নেই;নেই কোনও জৈবিক চাহিদা।ভালবাসা বলতেই ভালবাসা।ভালবাসার অন্য কোনও হিসেব নেই।

আমি রুমির ভাইয়ের কথায় নির্বাক হয়ে বসে রইলাম।ঘোর লাগা এক চাউনি আমি উপেক্ষা করে মতি ভাইকে নিয়ে ভেবে যেতে থাকলাম।অদ্ভুত ভাবেই আমি চারপাশ ঝাপসা দেখতে শুরু করলাম।চোখে কী জল চলে এল

-মতি ভাইয়ের কথা মনে পড়তেই?কিন্তু সে তো আমার রক্তের কেউ না!

ভালবাসার পরিচয়টা এখন আমার কাছে সুস্পষ্ট হয়ে উঠল।

কথার বিরাম শেষ করে তিনি আবারও বলতে লাগলেন,

-অনার্স শেষ হতেই গ্রামের প্রাইমারি স্কুলে বাবা চাকরির জন্য তাগাদা দিতে থাকলেন।ওনার স্কুল,

-প্রতিষ্ঠা করেছেন ওনি নিজেই।তাই আমাকে স্কুলের দায়িত্বটা দিতে চাইছেন।একটা বিয়ে করছিনা কেন এ নিয়েও তিনি মত কষাকষি করছেন।

কিন্তু মতির আর আমার ভবিষ্যতের কথা চোখে ভাসতেই আমি বাবার প্রস্তাবকে ছুঁড়ে ফেলতাম।এতে পরিবারের সবার মনঃক্ষুন্ন হলো।তারপরও আমি মতিকে নিয়েই স্বপ্ন দেখে যেতে থাকলাম;আমরা যেখানে নিজেদের ইচ্ছে মত থাকতে পারব আমাদের এই অস্বীকৃত সম্পর্কে কেউ আগাছা হতে পারবেনা।

এসব ভেবে ভেবেই পরিবারের সমস্ত প্রস্তাব উড়িয়ে দিতে লাগলাম।মতি বিদেশ যাওয়ার জন্য আমাকে প্রস্তুত হতে বলল-সে নিজেও টাকাপয়সার ব্যবস্থা করে ফেলেছে প্রায়।আমি বাবাকে আমার ভাগের কিছু জমি বিক্রি করতে বললে এতে ওনার খিপ্ত প্রতিক্রিয়া স্বরূপ থাপ্পড় পর্যন্ত খেলাম।তারপরও আমি ভেঙে না পড়ে জমি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করলাম।কিন্তু তারই মাঝে হঠাৎ মতির মায়ের শরীর ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়ল।তাদের পরিবারের লোকজনের মধ্যে তাকে মমতা মাখা চোখে শুধু তার মা’ই দেখত।তিনভাইয়ের সংসারে বড় ভাই ছিল ক্ষমতাধর।তার কথাতেই সংসারের সব কলকাঠি নড়ত।হতভাগ্য মতির মা আচমকাই সবাইকে হতবাক করে দিয়ে মারা গেল।মতির বাবার মানসিক আর শারীরিক অবস্থা শোচনীয় হয়ে পড়ল।

কিন্তু এদিকে আমার পরিবারের লোকজনের অবস্থাটাও আমার জন্য আতঙ্কের ছিল।এসব আমি মতিকেও জানাতে পারছিলাম না।বাবা মায়ের চোখের কাঁটা হয়ে জমি বিক্রি করলাম-তাদের সব আশা-ভরসাকে ফুয়ের সাথে উড়িয়ে দিলাম।এখন তাদের সম্মুখে আমার থাকাটাই আমার জন্য অপমান আর লজ্জার মনে হতে লাগল।খুবই সংকোচে মতিকে জানালাম সবকিছু।আমার এমন করুণ পরিস্থিতি মতিকে যেন স্পর্শই করল না।সে কেমন পাথরের মত নিষ্প্রাণ হয়ে রইল।আমার পরিবারের দিকটা সে বিবেচনা না করেই নিস্তব্ধ ভাবে আমাকে তার মৌনতার মাধ্যমেই প্রত্যুত্তর দিল।

সে তার পাষাণ পরিবারের শিকার হয়ে আমাদের করা পরিকল্পনা থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়ল।বিদেশ যাওয়ার মত মানসিক প্রস্তুতি সব তার ধুলিসাৎ হয়ে গেছে।

কিন্তু আমার দিকটা সে একবারও ভাবল না!আমার চারপাশ ঘোর এক আঁধারে ছেয়ে যেতে থাকল।আমার মনে হচ্ছিল সবকিছু হারিয়ে ফেলেছি আমি।ভালবাসার স্বপ্ন পূরণের পথে হাঁটতে গিয়ে আমার পেছনের সব রাস্তা বন্ধ করে দিয়েছি আমি।

ভালবাসার জন্য এতকিছু করেও মতির কাছে এর কোনও মর্যাদাই পেলাম না।সে তার মায়ের মৃত্যু-

শোক আর বাপ-ভাইদের চাপে পড়ে আমাকে এতটুকু মূল্য দিলনা!

আমি মনোবলকে শক্ত করে পরিবর্তন করে নিলাম নিজকে।নিষ্ঠুরই হতে চেষ্টা চালিয়েছিলাম- বললে ভুল হবে না!

বাবার ইচ্ছেনুযায়ী তার প্রাইমারি স্কুলে যোগ দিলাম প্রধান শিক্ষক হিসেবে।মায়ের চোখে হয়ে গেলাম সুপুত্র।বিয়ের জন্য আমার অগোচরে মেয়েও দেখছিলেন বুঝি বাবা।বোঝাশোনার পর কোনও এক মেয়ের সাথে বিয়ের কথা পাকাপাকি হয়ে গেল।

যেদিন আমার বিয়ে,ঠিক তার আগের দিন মতি যেন কোনও এক ঘোর কাটিয়ে উঠে এল।বাস্তবতাকে মানতে গিয়ে সে তার জরাজীর্ণ আবেগের কাছে আবারও হেরে গেল।

বিয়ের আগের দিন রাতে আমার ঘরের জানালার ধারে ফোলা লাল দুটো চোখ নিয়ে আচমকাই উপস্থিত হয় সে।আমি তাকে উপলব্ধি করতে পেরেও স্বাভাবিক হয়ে থাকার চেষ্টায় পর্যবেশিত তখন।এক টুকরো আবর্জনার মত তার চোখের জল আর তার ছলছল চোখে রাখা শেষানুভূতিতে জড়ানো মিনতি টুকু ফেলে দিলাম।

আমার বিয়ে হল।সংসারী হয়ে উঠলাম আমি।

মতির সাথে আমার আর কোনও রকম যোগাযোগ রইল না।এসব কিছুকে একটা দুঃস্বপ্নের প্রতিকৃতিও বলা যেত।অলৌকিক ভাবেই যেন সব ঘটে যাচ্ছিল।

সে কেমন আছে তখন আমি জানতাম না-কিন্তু আমি সুখী ছিলাম না।সুখ নামক বস্তুটাকে সেই কবেই তো বিলীন করা হয়ে গেছে ভালবাসার ধ্বংসস্তূপে।

আমি পরিবার-স্ত্রী-একসন্তানের সম্ভাব্য বাবা হয়ে উঠলাম।কিন্তু মতি!সে একা রয়েই গেল।পরে একজনের কাছ থেকে শোনা,সে দেশ ছেড়ে চলে গেছে।

তখন অভিমানের ঝুলি থেকে সব ক্ষোভ যেন হাওয়ায় মিলিয়ে গেল।দুচোখের সাথে বুক ফেটেও মনে হচ্ছিল জন্মান্তরের কান্না বেরোবে।এত কষ্ট-এত শূন্যতা আমাকে বিষাদে-বিষাদে ঝাঁঝড়া করে দিতে লাগল।আমি অনুভব করলাম,

রাগ আর ক্ষোভ থেকেও,ভালবাসা আর টানই বেশি-ভালবাসার জোরটাই বেশি।

মতিই আমার ভালবাসার একমাত্র মানুষ।

রুমির ভাই বেশখানিক্ষণ নীরব হয়ে থাকলেন।অশ্রুসিক্ত চোখকে আড়াল করার কোনও তৎপরতা দেখলাম না তার।একটা দীর্ঘশ্বাসের সমাপ্তি ঘটিয়ে তিনি বললেন,

-এরপর সেদিন ঢাকা থেকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ তোমার মোবাইলের দিকে আমার চোখ গেল।তোমার ফোনে মতির ছবি দেখতে পেয়েই আমার বুকে এক হাহাকারের দাঙ্গা শুরু হয়ে গেল।মতির সাথে এই সাতবছরে একবারও যোগাযোগ হয়নি।এত গভীরভাবে যেই মানুষটাকে ভালবেসেছি-জীবনে এমন দীর্ঘ সময় তাকে এই দু-নয়নে একবারও দেখার ভাগ্য হয়নি।প্রতিটা মুহূর্ত হয়ত তাকে মনে পড়েনি,কিন্তু আমার দেহের প্রতিটা অনু-অস্তিত্ব তার হয়ে কথা বলে-

তাকে ভালবাসার নিপীড়ণ আমার প্রকোষ্ঠ সেই মন প্রতিনিয়তই পেয়ে যায়।

ভালবাসার পরিণতি আমাদের মিলন-সমাপ্তি না টানতে পারলেও, এক জীবনের ষোল আনা দুঃখই কপালে লিখিয়ে নিতে পেরেছে।

মতিকে নিয়ে কিছু জানতে চাইলে,তার পরিবারও তার হয়ে কিছু বলতে চাইতনা।

অবশেষে তোমার ফোনে মতির অবয়ব-তার দুটোফটো দেখে মনে হল যেন প্রাণ খুঁজে পেয়েছি আমার।তুমি মতির পরিচিত কেউ বলেই তোমার ফোনে ওর ফটো-সেই ধারাবাহিকতায় তোমার ফোনের কন্টাক্টসেও হয়ত আরও কিছু পেতে পারি।তোমার থেকে মতির ফটো গুলো নেওয়ার মত কোনও উপায়ও তখন মাথায় আসছিল না।অস্থিরতার বশে যা মনে এল ক্ষণিকের জন্য, সেটাকে কাজে লাগিয়েই তোমাকে ঘুম পাড়িয়ে দিলাম। স্টেশনে পৌছে এক অপরাধীর মত চুপচাপ নেমে গেলাম তোমার ফোনটা নিয়ে।

আমি জীবনের অভিজ্ঞতার কাছে পরাজিত হলাম।এ কেমন সত্যতার মুখোমুখি আজ হলাম তা ভেবেই আমি নিস্তব্ধ-আমি নিশ্চুপ,বিষাদমাখা দুটো মানুষের ভালবাসার অসহায়ত্ব আর পরিণতি শুনে।আমার চোখ দুটো শীতল হয়ে রইল বেশ কিছুক্ষণ।কিছু কিছু মুহূর্ত নীরব হয়ে কাটাতে হয়।অনুভব করতে হয়-বৈচিত্রময় জীবনের বৈচিত্রময় বাস্তবতাকে-প্রকৃতিকে।

‘বড় ভাই,বড় ভাই!’

রুমির ডাক শুনে আমাদের সম্বিৎ ফিরে এল।আমি একটু নড়েচড়ে বসলাম।রুমির ভাই তার এই অতীত সে বিশ্বাস করে আমাকে জানিয়েছে-এর মর্যাদা অন্তত আর দশটা সাধারণ কাহিনীর ক্ষেত্রে যেরকম দিতাম,সেরকম করেই দিতে হবে।কিংবা তার থেকেও উত্তমরূপে।কেননা,ইতিহাসে এমন সব ভালবাসার ঠাই না মিললেও,এই আকাশ,এই প্রকৃতি-এই ভালবাসার সাক্ষী।

এখানকার এয়ারপোর্ট আমাদের দেশের এয়ারপোর্টের সাথে পুরোপুরিই ভিন্ন।সবকিছুই উঁচু মানের।বিমান থেকে নামার পর চিরাচরিত ভাবেই এয়ারপোর্টের জমকালো আলোকসজ্জায় চোখ জ্বলজ্বল করে উঠে।কিন্তু আমার চোখ মিটমিট করে একজনকে খুঁজছে।আমাকে এগিয়ে নিতে মতি ভাইয়ের আসার কথা।সে কোথায় রইল?

একটা ট্যাক্সি থেকে হঠাৎ কেউ নেমে এল।চেনা সেই মমতা মেশানো কণ্ঠ-পরিচিত সেই দরদ মেশানো বুকে আমাকে জড়িয়ে ধরল।মতি ভাইয়ের বুকের উষ্ণতাকে এখনকার জন্য অসংজ্ঞায়িত কিছু মনে হল আমার।সেটা হয়ত তাকে প্রেমিক নামে মনে মনে ভূষিত করে দিয়েছি বলেই।

কারণ,তারা শুধু ভালবাসতেই জানে-তাদের পরিচয় তারা শুধুই প্রেমিক।

সিঙ্গাপুরে সাধারণত হুটহাট করেই বৃষ্টি হয় না।কিন্তু আজকের আকাশটা একটু ব্যতিক্রম।কেমন ভ্যাপসা গরম বইছে চারিদিকে।তার উপর আকাশেরও অবস্থা কেমন ধূসর।

কাজ শেষে হোটেল থেকে বাসায় ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা নেমে এল।বাসায় এসে গোসল-টোসল সেরে মতি ভাই আর আমি খাবার খেয়ে নিলাম।মতি ভাইকে কি জিজ্ঞাসা করব-তুমি কাউকে ভালবাসতে?

না, থাক।কিছু প্রশ্ন অগোচরে থাকার জন্যই জন্মায়।এগুলো প্রকৃতির বিধান।এই বিধানের ব্যতিক্রম আমি কেন করব!

দিনের ক্লান্তি শেষে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই আমার চোখ দুটো লেগে এল।

মধ্যরাতে আমার ঘুমে বিরতি আসার কারণটা খুঁজে পেলাম না।অন্ধকার রুমে চোখ মেলে রেখে ঘুমটা ভাঙার কারণ সন্ধানরত চোখে অনেকদিন পর মতি ভাইকে বেলকনিতে দাঁড়ানো দেখি।

তার হাতে একটা সিগারেট-আর সেই শুকনো দৃষ্টি।

রাত তখন থমথমে।পরিবেশের নির্জনতা রাতটার অন্ধকার আরও গাঢ় করে দিয়েছে।

তখন বাইরে ঝুম বৃষ্টি।

আমি বিছানা ছেড়ে সন্তর্পণে বেলকনির দিকে পা বাড়ালাম।মতি ভাইয়ের কাঁধের একপাশে দাঁড়িয়ে আমি নীরবতা ভাঙলাম।

-অতীতকে আজ খুব মনে পড়ছে।খুব নিকটেরই কিছু মনে হচ্ছে সেসব অতীতকে-যেন সেদিনকার কিছু স্মৃতিই,যখন ভালবাসতে ইচ্ছে হত;স্বপ্ন দেখতে ইচ্ছে হত।

মতি ভাই নির্বাক নয়নে আমার দিকে তাকায়।রাস্তার সোডিয়াম লাইট গুলোর অস্পষ্ট আলোয় মতি ভাইয়ের শুকনো চোখদুটো হঠাৎ চিকচিক করে উঠে।আধো আলো-আধো অন্ধকারে আমি মতি ভাইয়ের মুখাবয়বের দিকে এগিয়ে যাই।হাত দিয়ে তার চোখের কোণের অশ্রুতে আমার আঙুলের কোমল স্পর্শ দেই।বলি,

“এইসব দিনরাত্রির সমাপ্তি একদিন আসবে।গ্লানি ঠিকই অন্তিমত হবে।ভালবাসা কিন্তু তখনও থাকবে।ভালবাসা জনমে জনমের।এর সৎকার নেই।

রাগ আর ক্ষোভ থেকে-ভালবাসার জোরটাই যে বেশি।”

মতি ভাই তার ভেজা চোখদুটোকে আর আড়াল করে না।পরম পিপাসায় তার প্রশস্ত বুকে আমাকে মিশিয়ে নিতে চাইলেন।

যেই বুকটায় শুধুই ভালবাসা।

সমপ্রেমের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.