রাফি-দ্য ইনক্রেডিবল স্টোরি

লেখকঃ-হিমু ভাই

[আজকাল গল্প লেখা হয় না।অনেকজনকে কথা দিয়েও তাদের গল্প লিখে উঠতে পারিনি।জীবনের প্রতিটি ভাঁজে ভাঁজে ব্যস্ততা ও দায়িত্ব বাড়ছে। এসব সামলাতেই দিন পার।গল্প লেখার ফুরসতই মেলে না।তবে মনের ভেতরের তীব্র বাসনা বারবার নাড়া দেয় গল্প লিখতে।

প্রথম গল্প লিখেছিলাম প্রায় ১ মাসেরও বেশি সময় নিয়ে। এবারের গল্প লিখতে সময় লেগেছ প্রায় ৭ মাস..!!!কি বিশ্বাস হয় না??? লেখক হোন, যত্ন নিয়ে গল্প লিখুন তখন বিশ্বাস হবে।

এ গল্পের নাম Rafi: The Incredible Story।

এ গল্প রাফি নামের এক ছেলের বাস্তব জীবনের উপর আলোকপাত করে লেখা।রাফিকে আমি চিনি ২০১৬ সাল থেকে।তবে আমাদের পরিচয় হয় ২০১৮ এর মাঝামাঝিতে।

সমপ্রেম সাহিত্যে একটা জিনিস দেখিনি।তা হলো সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে লেখা গল্প।তাই রাফির গল্প লেখার ভুত চাপে আমার মাথায় ২০১৮ এর নভেম্বরের দিকে এবং তাকে প্রস্তাবও দিই। প্রথম দিকে কিছু লেখা শেষও করি এবং থার্টি ফার্স্ট নাইট এ প্রকাশের চিন্তাও করি।তবে অকস্মাৎ কিছু ঘটনার জন্য তা হয়ে উঠেনি।আবার ঠিক করি পহেলা বৈশাখ এ প্রকাশের।দুর্ভাগ্যবশত তাও হয়নি।পুনরায় নতুন করে আবার লিখা শুরু করি ২০১৯ এর মে’তে এসে।

তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা নিয়েই সাজানো এ গল্প।মানুষের জীবন নাটকের চেয়েও বেশি নাটকীয়। ততটাই নাটকীয় যতটা আমরা কল্পনা করতে পারিনা বা বিশ্বাস করিনা।এ গল্পও তেমনই এক অবিশ্বাস্য জীবন কাহিনীর প্রতিরূপ। এমন গল্পগুলো লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায় দিনের পর দিন।আর আস্তে আস্তে তলিয়ে যায় সমাজ নামক বস্তুটির অন্তরালে]

উৎসর্গঃ-দ্বিজ কানাই এবং দীপ্ত দেব।

বি:দ্র: এটি কোন বায়োপিক না।শুধু রাফির জীবনের জীবনের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উপর আলোকপাত করে আমার লেখা একটি গল্প মাত্র।

পর্বঃ-১

(১)

রুদ্র তাহসিন রাফি। নামের সাথে যথেষ্ট মিল আছে চেহারায়।রৌদ্রজ্জ্বল মুখখানি দেখে যে কেউ নিমিষে মায়ায় পড়ে যাবে।চঞ্চল জীবনের ইতি টেনে যান্ত্রিক জীবনের ভবিষ্যৎ দায়িত্ব কাঁধে নেয়ার লক্ষ্যে সাভার জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পা রাখল গ্রামীণ ছেলেটি।গানের প্রতি ভীষণ অনুরক্ত ছেলেটি অবসর কাটানোর লক্ষ্যে একটি বার রেস্টুরেন্টে গান গাওয়ার কাজ নিলো।কে জানতো এটিই তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল??যা তাকে বাকিজীবন বয়ে বেড়াতে হবে হয়তোবা..!!

নতুন বিশ্ববিদ্যালয় জীবন প্রত্যাশা অনুযায়ী ভালভাবেই কাটতে লাগল রাফির।নেই একগুঁয়েমি ধরাবাঁধা নিয়ম।বন্ধুবান্ধব, হাসি-মজা এসবের মাঝে বেশ ভালভাবেই দিন কাটছে সহজসরল ছেলেটার।দিনের বেলা প্রিয় ক্যাম্পাস, রাত নামলেই প্রিয় নেশা গান।

কদিন গান গেয়েই সবার আস্থাভাজন হয়ে উঠল রাফি।সবাই তাকে গান গাওয়ার জন্য অনুরোধ করে।হাসিমুখে সবার আবদার মেটায়।এটাই তো সে চায়।সবাই তার গানকে ভালোবাসুক।

রাফি বেশিরভাগ সময় গান করে রাত ১২টার পর।তখন বার জমে উঠে।তাই বাসায় ফিরতে ফিরতেও শেষরাত হয়ে যায়।

গান দিয়ে সবাইকে মাতিয়ে রাখতে পারে বলে বারের মালিকও বেজায় খুশি তার উপর।

বারে যোগদানের ১০-১৫ দিন পর একটা বিষয় লক্ষ্য করলো রাফি। যা বরাবরি তার নজর এড়িয়ে গিয়েছিলো।প্রায় নির্দিষ্ট কেউ একজন তাকে অনুসরণ করে।একদিন দুদিন নয়,প্রতিদিন। যখন সে বারে গান গাইতে আসে, ঠিক তখনই লোকটা আসে।

আর একনজরে রাফির দিকে চেয়ে তাকে।কিন্তু কথা বলেনা।রাফি এতে ইতস্তত বোধ করে।

একদিন রাফি লক্ষ্য করলো বারের ওয়েটার এর সাথে লোকটা কথা বলছে এবং বার বার রাফির দিকে তাকাচ্ছে। তার দিকে আঙুল দিয়ে ওয়েটারকে কিছু একটা বলছে।রাফি কিছু বুঝতে পারল না।

(২)

-আব্বু কেমন আছো?

-ভালো আছি মা।তুমি কেমন আছে?

-আমি ভালো আছি আব্বু।অনেকদিন হলো তুমি বাড়ি নেই।বাড়িটা কেমন খাঁ খাঁ করছে আব্বু।

-আমার বাড়ি যেতে ভয় করে আম্মু।

-আমি আছি তো।আমি থাকতে কারো সাহস হবেনা আমার ছেলেকে কিছু করার বা বলার।তুমি আসো। একমাস হয়ে গেলো দেখিনা আমার চাঁদটাকে।

-আচ্ছা,আসব

-ঠিক আছে আব্বু,সাবধানে থেকো।

-আর শোন আম্মু,

-হ্যা বলো

-আমি যে আসব কাউকে বলোনা কিন্তু?

-ঠিক আছে।

মাকে ভয়ে ভয়ে কথাগুলো বললো রাফি।ঢাকায় এসে যেন হাফ ছেড়ে বেঁচেছে সে।গ্রামে থাকলে হয়তো এতদিনে সে…..

রাফির পাশের বাড়িই গ্রামের চেয়ারম্যান এর। বেশ প্রভাব প্রতিপত্তি তার। তার ছেলে হিমেল। হয়েছে দাম্ভিক।যা চাইবে,তা তার চাই চাই।মদ,মাদক উন্মাদ চলাফেরা এসবই তার স্বভাব।তাই গ্রামের মায়েরা তাদের যুবতি মেয়েদের তার থেকে আড়াল করার চেষ্টা করে।পাছে যদি সে কুনজর দেয়?কার কাছে চাইবে বিচার?

তবে সে বাইরে দেখতে যেমন ভেতরে ঠিক তেমন না।

(৩)

আজ বারে গান শেষ করতে করতে বেশ দেরি হয়ে গেলো রাফির।ঘড়ি দেখলো, ৪:১৫ বাজে।রাস্তাঘাট একেবারে নীরব না হলেও কিছুটা থমথমে পরিবেশ। গাড়ির জন্য রাস্তায় এসে দাড়ালো রাফি।কোন গাড়ি পাওয়া যাচ্ছেনা।রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছে কয়েকটা সিএনজি ও রিক্সা। ওগুলোও যাচ্ছেনা।

মনে মনে নিজের উপর বেশ রাগ হচ্ছে তার।কখন যে এত রাত হয়ে গেল খেয়ালি করেনি।

কাল সকালে বন্ধুরা মিলে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে ঠিক করেছে।এখনো সেখানে যাওয়া হয়নি রাফির।শুনেছে এটি নাকি জঙ্গল, আর সবুজ প্রকৃতি দ্বারা ঘেরা।যে কেউ আকর্ষিত হবে।পাহাড় আর জঙ্গল রাফির প্রিয়।তাই সে বন্ধুদের এক কথায় রাজি হয়ে গিয়েছিলো।

এখন কোন গাড়ি পাওয়া যাচ্ছেনা।খানেক পর ভোর হবে।চোখ ভারি হয়ে আসছে ঘুমে।এমন সময় পেছনে বাইকের হর্ণ শুনে ঘুরে দাড়ালো রাফি।কেউ একজন তার সামনে এসে কষে ব্রেক ধরে বাইক থামালো।মাথা থেকে হেলমেট সরালো সে।

এইতো সেই লোকটা..!! যে প্রায় তাকে বারে অনুসরণ করে।এখন রাফির মনে হলো আজ লোকটাকে সে বারে দেখেনি।অর্থাৎ সে আজ আসেনি।

চাপদাড়িওয়ালা শ্যামলা ছেলেটিকে বেশ লাগল রাফির।দেখতে কিছুটা গুন্ডা গুন্ডা ভাব আছে।

একেবারে হিরো স্টাইলে এসে তার সামনে বাইক থামালো।উচ্চতা প্রায় ৬ ফিট হবে।শরীরের গড়ন দেখে মনে হয় জিম করে।বেশ ফিটফাট দেখতে।

কথার স্টাইলেও গুন্ডা গুন্ডা ভাব আছে।রাফি তাকিয়ে আছে তার দিকে। এতদিন তাকে বারে দেখেছে।অথচ একবারের জন্যেও তাকে ভাল করে লক্ষ্য করেনি।রাফির নীরবতা দেখে সে কথা বলতে শুরু করলো।কোন সৌজন্যতা ছাড়াই।

-রাফি,

বাসায় ফিরবা?

-হুঁ

-গাড়ি পাচ্ছোনা তাই তো?

-হুঁ

-উঠো

-কোথায়?

-আমার বাইকে

-কেন?

-পৌঁছে দিব তোমার বাসায়।

-নাহ দরকার নেই।আমি যেতে পারব।

“লোকটার কথা সুবিধের মনে হচ্ছেনা। বিশ্বাস করে বাসা অবধি নিয়ে যাওয়া ঠিক হবেনা।এতদিন যেহেতু লক্ষ্য করছে নিশ্চয় ঠিকানা জানার জন্য এ ফন্দি। আমি এ ফাঁদে পা দিচ্ছি না”মনে মনে ভাবল রাফি।

কিন্তু রাফিকে চমকে দিয়ে রাফির বাসার ঠিকানা বলে দিল সে।রাফি হা করে তাকিয়ে আছে তার দিকে।

-আচ্ছা ঠিক আছে আমার সাথে যেতে যখন ভয় পাচ্ছো।ওকে যেতে হবেনা

– না,,তা না।আমি একাই পারব।

– হুঁ বুঝেছি।

হাতের ইশারায় দাড়িয়ে থাকা একটা সিএনজি ডাকল সে।রাফি অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো।এতক্ষণ এ সিএনজিগুলা যেতে রাজি হলোনা।অথচ এ ছেলের ইশারায় যাওয়ার জন্য চলে এলো।রাফিকে চোখের ইশারায় গাড়িতে বসতে বললো সে।

রাফিকে গাড়িতে তুলে দিয়ে চলে গেলো সে।রাফিকে বাসায় এনে দিয়ে কোন ভাড়াই নিল না সিএনজিওয়ালা।এতে রাফি বেশ অবাক হল।

(৪)

বাসায় এসে ঘন্টাখানেক ঘুমিয়ে নিল রাফি।ঘুম থেকে উঠে লম্বা সময় ধরে গোসল করল।কলিং বেলের শব্দ পেয়ে বাথরুম থেকে বেরিয়ে এলো রাফি। কোমরে টাওয়েল জড়ানো অবস্থায় দরজা খুললো।

দিপ্ত এসেছে। সেও রাফির মত বার সিঙ্গার। রাফির সাথে একি বারে গান গায়।যেদিন রাফির শিডিউল থাকেনা, সেদিন ওর শিডিউল থাকে।

-স্যরি রাফি, তোমাকে অসময়ে বিরক্ত করার জন্য

– ইটস ওকে ম্যান,বিরক্ত কিসের??ভেতরে এসো

-মনে হয় শাওয়ারে ছিলে,কোথাও বেরুবে নাকি?

-হ্যা,, বন্ধুদের সাথে জাহাঙ্গিরনগর ইউনিভার্সিটি যাব।ঢাকায় এসেছি পর্যন্ত এখনো যায়নি ওখানে।

-ওহ আচ্ছা, তাইলে আমি আর সময় নষ্ট না করি।তোমার লেইট হয়ে যাবে। যে দরকারে এসেছি সেটা বলে যাই।

-কি দরকার বলো?

-গতকাল আমার ফোনটা হারিয়ে ফেলি।নতুন ফোন কিনেছি আজ।তবে সিম লাগাইনি এখনো।

তাই কল করতে পারিনি।সেজন্য নিজে চলে এলাম।

-আচ্ছা,, ঠিক আছে। কি দরকার আমার সাথে বলো?

-আগামীকাল শুক্রবার চিটাগাং যাব।আমার গ্রামের বাড়ি।মা অসুস্থ ।হাসপাতালে ভর্তি।তাই শনিবার থেকে আমি বারে গান গাইতে পারব না।তুমি যদি আমার শিডিউলেও গান গাও তবে খুব উপকার হয়।মালিক কিছুতেই ছুটি দিচ্ছে না।শেষে এ বললো যদি আমার জায়গায় কেউ গান গায় তবে ছুটি দেবে।তাই তোমার কাছে এলাম।

-ওহ আচ্ছা ঠিক আছে।তুমি চিটাগাং মায়ের কাছেই যাও।তোমার শিডিউলেও আমি গান গাইব।চিন্তা করো না।

-থ্যাংকস রাফি। আমাকে নিশ্চিন্ত করলে।

-ঠিক আছে। ধন্যবাদ লাগবে না।

দিপ্তকে বিদায় দিয়ে দ্রুত তৈরি হয়ে নিল রাফি।

বন্ধুরা ফোন করছে।তাড়াহুড়ো করে বের হয়ে গেল সে।

জাহাঙ্গিরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে অভিভূত হলো সে।যা দেখছে তা কল্পনার চাইতেও বেশি।এত সুন্দর ক্যাম্পাস সে আগে কখনো দেখেনি।চারদিকে সবুজ আর সবুজ।দেখলেই মন জুড়িয়ে যায়।রাফি,নাহিয়ান,তুহিন,আবিদ এসেছে। সাথে আছে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের দুজন ছাত্র।অর্নব ও পাপ্পু।

তারা তুহিন ও আবিদ এর বন্ধু।তারা সব কিছু চিনিয়ে দিচ্ছে তাদের।তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা কাহিনী আর ঘটনা বলছে। এটা ওটা চিনিয়ে দিচ্ছে।আর রাফিরা মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তা শ্রবণ করছে।

রাফিরা একটা খোলা জায়গায় এসে বসল আড্ডা দিতে।যথারীতি গল্প চলতে লাগল।রাফির আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু এ বিশ্ববিদ্যালয়।”এত সুন্দর এটি তা আগে জানলে এখানে ভর্তির চেষ্টা করতাম”মনে মনে ভাবছে রাফি।

তারা যেখানে বসে আছে তার পাশেই একটি রাস্তা।রাস্তার দিকে মুখ করেই বসেছে রাফি।

একটুপর সে খেয়াল করলো, একজন বাইক নিয়ে এদিক ওদিক ঘোরাঘুরি করছে অনেকক্ষণ ধরে।আশপাশের স্টুডেন্ট গুলা তাকে সালাম দিচ্ছে।দেখে মনে হয় সে এখানকার ক্ষমতাবান কেউ।

এবার সে বাইক নিয়ে রাফির সামনের রাস্তা দিয়েই আসছে।যথেষ্ট দূরত্বে আসার পর রাফি তাকে চিনতে পারলো।এ লোকটাকে সে অনেকদিন ধরেই চেনে..!!

(৫)

লোকটা রাফিদের সামনে আসতেই অর্নব, পাপ্পু দাড়িয়ে তাকে সালাম দিল।রাফিদেরও ইশারা করলো।তারাও দাড়িয়ে সালাম দিল।রাফি এমন ভান করলো যেন সে তাকে চেনেনা।সেও রাফির দিকে দুএকবার নজর দিয়ে চলে গেলো।

রাফি:অর্নব ও কে? যে দাড়িয়ে সালাম দিতে বললে?

অর্নব:এখানকার নেতা।নাম তাওফিক এলাহি।

রাফি:-ছাত্রনেতা?

অর্নব :-তারও উপরে।ওর বাবা সরকারের উচ্চশ্রেণীর একজন মন্ত্রী।তাই এখানে সবসময় ক্ষমতা দেখিয়ে বেড়ায়।

রাফি:-ও কে এখানে ক্ষমতা দেখানোর?এটা পড়ার জায়গা।ওকে দাড়িয়ে সালাম দেওয়ার জায়গা না

পাপ্পু :-এটা তুমি আমি বুঝলে কি হবে??ওদের কে বুঝাবে?জোর যার মুল্লুক তার।দেখবে ওর বাবার ক্ষমতা চলে গেলে ওরও ক্ষমতা শেষ।

রাফি- তোমরা কি সবসময় ওকে দেখলে সালাম দাও।

পাপ্পু : হ্যা,,,

রাফি- না দিলে কি হয়?

অর্নব-ওর সাঙ্গপাঙ্গরা এসে মারে,র্যাগ দেয়।

তুহিন: আচ্ছা,ওর কথা বলতেই কি এখানে এসেছিস?

রাফি: নাহ রে,,ব্যাপারটা খারাপ লাগল তাই বললাম।

তুহিন :-হয়েছে,, আর না।আমাদের কে তো আর ওর আন্ডারে থাকতে হচ্ছে না।সো এটা নিয়ে মাথা না ঘামিয়ে চল চা কফি খেতে যাই।

সারাদিন ঘুরাঘুরি শেষ করে সন্ধ্যায় ফিরল রাফি।

(৬)

আজ শনিবার। দিপ্তর শিডিউল আজ।কিন্তু তার অনুরোধ রাখতে রাফি এলো গান গাইতে।আজকে বারের পরিবেশটা অন্যরকম।নতুন করে সাজানো হয়েছে পুরো বার।ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করে জানতে পারলো আজ রাতের জন্য কেউ একজন পুরো বার বুকিং দিয়ে দিয়েছে।সে তার বার্থডে উপলক্ষ্যে পার্টি এরেঞ্জ করেছে।

তার মানে আজ বাইরের কেউ বারে আসতে পারবে না।

রাফির কেন যেন মনে মনে অস্বস্তি হতে লাগল।

একে একে গেস্টরা আসতে লাগল।বেশিরভাগ অল্প বয়সী ছেলে মেয়ে।পোশাক ব্যাবহারে মনে হয় বেশ বড়লোক পরিবারের সন্তান সব।রাফি গানের প্রস্তুতি নিচ্ছে।কয়েকজন এসে কয়েকটা গানের অনুরোধ করে গেল গাওয়ার জন্য।

জন্মদিনের গান দিয়ে শুরু করলো রাফি।

সব শেষে যার জন্মদিন সে এলো।রাফি গান থামালো।সবাই হ্যাপি বার্থডে টু ইউ বলে তাকে সম্ভাষণ জানাতে লাগল।এ লোকটাকে রাফি চেনে।

এ সেই লোক যে রাফিকে প্রায় বারে অনুসরণ করে,তার দিকে তাকিয়ে তাকে।এ সেই লোক যে তাকে কদিন আগেই বাইকে লিফট দিতে চেয়েছিলো।তার নাম তাওফিক এলাহি।

শেষ রাতের দিকে পার্টি শেষ হলো।মদ্যপ হয়ে একেকজন একেক দিকে পড়ে আছে।অনেকের গাড়ির ড্রাইভাররা এসে তাদের ধরে ধরে গাড়িতে তুলে নিয়ে যাচ্ছে।কেউ মাতাল হয়ে উল্টাপাল্টা বলছে আর তাল হারিয়ে এদিক সেদিক পড়ে যাচ্ছে।

তাওফিক এক গ্লাস ওয়াইন এনেছিলো রাফির কাছে।রাফি সৌজন্যতা দেখিয়ে নেয় তবে পান করেনি।

রাফি জিনিসপত্র গুছিয়ে নিতে লাগল চলে যাওয়ার জন্য।এমন সময় পেছনে এসে তাওফিক দাড়ালো।কিছুটা মাতাল হয়ে আছে সেও

-চলে যাচ্ছো নাকি?

-জ্বি স্যর, পার্টি তো শেষ। তাই

-ওয়াইন দিলাম।নিয়ে পাশে রেখে দিয়েছো।এক চুমুকও দাওনি দেখছি

-আসলে স্যর আমি এলকোহল নিইনা।

-উফফ,,স্যর স্যর করো না তো।

-এটাই তো নিয়ম এখানের স্যর।

-তুমি জানো আমি তোমাকে প্রায় দেখি এ বারে

-জ্বি

-প্রায় তাকিয়ে তাকি তোমার দিকে

-জ্বি

-আমি কিন্তু প্রতিদিন আসিনা।যেদিন তোমার শিডিউল থাকে সেদিনই আসি শুধু।

-জ্বি খেয়াল করেছি।

-আজ চাইলে আমি ভাল কোন সিঙ্গার আনতে পারতাম পার্টিতে।কিন্তু তোমাকে আনার জন্য আজ তোমার ফ্রেন্ডটাকে কদিন আগে এক সপ্তাহের ছুটি দিয়ে দিয়েছি।

-কাকে?? দিপ্ত কে?

-হ্যা।ওকে বলেছি তোমার কাছে রিকুয়েস্ট করতে। যেন তুমি ওর শিডিউলেও গান গাও।

-তাহলে ও আমাকে মিথ্যা বললো?

-হ্যা,,কারন আমি টাকা দিয়ে ওকে কিনেছি।

-এসব কেন করছেন?

-বুঝো না তুমি?

-নাহ

-আসো আমার বাইকে করে তোমাকে পৌঁছে দিই।যেতে যেতে বুঝিয়ে দেব।আমি তো জানি তোমার ঠিকানা।

-তা দরকারে হবেনা স্যর।আমি একাই পারব।

এক প্রকার তাড়াহুড়া করেই বেরিয়ে এলো রাফি।তাওফিকের হাবভাব ভাল লাগছে না।তাওফিক আটকানোর জন্য কয়েকবার চেষ্টা করেছিলো। মদ্যপ থাকায় ঠিক মতো হাটতে পারছিলো না।

(৭)

বাসে বসে আছে রাফি।গ্রামে যাচ্ছে।আজ রবিবার। রাফির যাওয়ার কথাই ছিলোনা গ্রামে।মাকেও জানায়নি যে সে আসছে।গতরাতের পর এখনো রাগ কমেনি রাফির।রাগ এলাহির উপর না।দিপ্তর উপর।

বারে প্রায় কমবেশি তাকে সাহায্য করে রাফি।বন্ধুর মতই ভাবে।আর সে কিনা এলাহির টাকার কাছে নিজেকে বিক্রি করে দিলো??রাফিকে মিথ্যা বললো??

রাফি ভেবেছিলো একবার দিপ্তকে ফোন দেবে।পরে ভাবে নাহ থাক।যা কথা হবে ও ফিরে এলে সরাসরি হবে।

জানালার বাইরে মাথা কিছুটা বের করে দিলো রাফি। পশ্চিম আকাশে মেঘ জমেছে।মনে হয় ভারি বৃষ্টি হবে।বৃষ্টি রাফির খুব প্রিয়।গুড়গুড়ি বৃষ্টি হতে শুরু করেছে।মনে মনে গান গাইতে চেষ্টা করতে লাগল রাফি।গান গাইলে রাগ কমে যায়।

“এক্সকিউজ মি ভাইয়া,,,,আপনার পাশে বসতে পারি?”

শান্ত গলার স্বরটা শুনে ফিরে তাকালো রাফি।একটা যুবক দাড়িয়ে অনুমতির অপেক্ষা করছে। বৃষ্টিতে কিছুটা ভিজে গেছে। হাঁপাচ্ছে লোকটা। মনে হয় বৃষ্টি থেকে বাঁচার জন্য দৌড়েছে। বয়স ২৪-২৫ বছর হবে আনুমানিক ফর্সা গায়ে সাদা শার্ট।বৃষ্টিতে ভিজে গায়ের সাথে কিছুটা লেপ্টে আছে বলে গা দেখা যাচ্ছে।! চোখে মোটা ফ্রেমের চশমার জন্য মুখে মায়া মায়া একটা ভাব এসেছে।পারফিউমের মিষ্টি গন্ধ আসছে ওর থেকে। ভেজা চুল এসে কপাল চোখ ঢেকে দিয়েছে কিছুটা। চুল সরাতে সরাতে আবার,

– কি হল ভাইয়া?বসব?

-ওহ,,, হ্যা হ্যা বসুন।আমি তো বাসের মালিক নই যে অনুমতি লাগবে

-তা না আসলে,,জানালা দিয়ে তাকিয়ে আছেন,,মনে হচ্ছে কারো পথ চেয়ে আছেন।তাই ভাবলাম পাশের সিটটা হয়তো কারো জন্য রেখেছেন।

-হ্যা রেখেছি

-ওহ,,স্যরি স্যরি।তাইলে আমি অন্য সিটে বসি।

-নাহ নাহ বসুন।সিটটা আপনার জন্যই রেখেছি।

-বুঝলাম না।

-মজা করছিলাম। আমি একা যাচ্ছি।কারো জন্য রাখিনি সিট

-ওহহ,,,এমনভাবে বলছো মনে হলো সত্যি সত্যি….ওহ স্যরি তুমি করে বলে ফেলেছি

-ইটস ওকে,,বয়সে আপনি আমার বড় হবেন।সো,,তুমিতে সমস্যা নেই।

-ওকে তুমিই বলি,,

-আপনি ভিজে গেছেন।মাথাও ভেজা।আমার কাছে রুমাল আছে,, দিবো?

-হ্যা দাও,,

-এই নিন

-থ্যাংকস

-ওকে,,,আপনার নামটা?

-আশিক,,পুরো নাম আশিক মনোয়ার। তোমার?

-রুদ্র তাহসিন রাফি।

-নওগাঁ যাচ্ছো?

-জ্বি,,আপনি?

-আমিও।

সারাটা পথ আড্ডা দিতে দিতেই কাটালো। যেন অনেক দিনের বন্ধুত্ব।এরমধ্যে রাফি জেনে নিয়েছে সে কি করে,কোথায় থাকে, ফ্যামিলিতে কে কে আছে।রাফিও শেয়ার করেছে নিজের কথা।

(৮)

পুরো একটা দিন ঘরে ঘুমিয়ে কাটালো রাফি।অনেকদিন পর নিজের ঘরে ফেরা।সন্ধ্যার দিকে নাস্তা করে বের হলো রাফি।মা বারণও করেছিলো।তবুও ভয় নিয়ে এভাবে থাকার কোন মানে হয়না।তাই ভয় উপেক্ষা করেই বের হলো রাফি।বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিবে বলে।

রাফির বাড়ি পেরিয়ে কিছুদূর এগুলেই চেয়ারম্যানের বাড়ি।মূলত রাফিদের আসা যাওয়ার প্রধান রাস্তাটাই চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে।চারদিকে অন্ধকার নেমে আসছে। বিশেষ করে চেয়ারম্যানের বাড়ির জায়গাটা বেশি অন্ধকার। বাড়ির সামনে সারি সারি গাছ।তাই অন্ধকার বেশি এখানে।রাফি ফোনে চ্যাট করতে করতে হাটছে।হঠাৎ কারো সাথে ধাক্কা খেল রাফি।

-ওহহ,, স্যরি দেখিনি আমি।

-দেহোনাই ক্যান?চক্ষের মাথা খাইছো নাকি?

-হিমেল তুমি?

-হ,,আমি।,,কহন আইলা।খবর পাইলাম না যে?

-তোমাকে বলে আসব নাকি?

-না কইলেও,, সব বুঝি আমি।গ্রামের সক্কলে ভাবে মাইয়াগো দিকে আমি কুনজর দেই।তাই হেতারা ঘরের মাইয়াগো আমার থেইকা আড়ালে রাখবার চায়।কিন্তু আমি কি চাই হেইডা সারা গ্রামের মধ্যে শুধু তুমি আর তোমার মা-বাপে জানে।

-পথ আটকে দাঁড়িয়েছ কেন?সরো আমি বাড়ি যাব

-খাড়াও খাড়াও কথা এহনো শেষ অয় নাই।বাড়ি যাইবা তো।এত তাড়া কিসের?তয় যা কইতাছিলাম,

গ্রামের মাইনষেরা ভাবে আমি মাইয়া চু**।হেতারা ত জানেনা।আমি আমার বড় ভাইয়ের লাহান মাইয়া চু** পাগল না।আমি খাই পোলা।তোমার লাহান লাল টুকটুকে পোলা। হেইডা তো তুমি জানো,,,জানো না?

-তোমার ভাষা এত নোংরা ক্যান?

-ভাষা হইল নিজের মত কইরা কওনের জিনিস।আমি আমার মত কইরা কই,,,।তাই তোমার এমন নোংরা লাগতাছে।

-কথা শেষ হলে পথ ছাড়ো,, আমি যাব

-আহা,,,মেলা দিন পর তোমারে দেখতাছি।একটু খাড়াও।দিলটা ঠান্ডা করি।কবছর আগের কথা মনে কইরা কি লাভ? যা হইছে ভুইলা।যাও।তুমি জানো আমি কি চাই।আমার চাওয়া পূরণ হইলেই আর আসুম না তোমার সামনে।কি দিবা?

হিমেলকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে বাড়ি চলে এলো রাফি।এসে নিজের রুমে দরজা বন্ধ করে বসে রইল।

হিমেল চেয়ারম্যানের বখাটে সন্তান।আগে রাফির সাথে তার কোন শত্রুতা ছিল না।কয়েকবছর আগের একটা ঘটনার পর সে এখন রাফির চক্ষুশূল…

পর্ব ৩

(৯)

বছর খানেক আগের কথা।সদ্য কৈশোর পেরুচ্ছে রাফি।সারাদেহে চঞ্চলতা।সহজে সবার সাথে ভাব করে ফেলতে পারে বলে সবার প্রিয় পাত্র সে।

চেয়ারম্যানের দুই ছেলে। বড়টা বাবার ডানহাত। বলতে গেলে কুচরিত্রগুলা ভালই আয়ত্ব করে নিয়েছে। মদ্যপান, পতিতালয় গমন, ধর্ষণ এসব তার নিত্য অভ্যাস।তার ভাই হিমেল তার মত বখাটে হলেও একটা দিক দিয়ে সে আলাদা।সে ভাইয়ের মত পতিতালয় যায়না।সে সমকামী। কৈশোর পেরুনো ছেলেরাই তার আকর্ষণের বস্তু।গ্রামের অনেক ছেলের সাথে সে শারীরিক সম্পর্ক গড়েছে ও অনেককেই ধর্ষণ করেছে। তাদের পরিবার মুখ খোলেনি শুধু চেয়ারম্যানের ক্ষমতার আর আর আত্মসম্মান এর ভয়ে।

রাফি সমকামী। সে নিজেই তা বুঝতে পেরেছে।সে জানে তার আকর্ষণ নারীতে নয়,পুরুষে। সে চায় তার সুন্দর একটা সম্পর্ক। যেখানে সব থাকবে তার।

হিমেল রাফিকে উত্ত্যক্ত করছে অনেকদিন ধরেই।তার লক্ষ্যবস্তু রাফি।কথার চলে গায়ে হাত দেওয়া,পাছায় হাত দেওয়া,গোপনাঙ্গে হাত দেওয়া এসব প্রায় করে হিমেল।এসবের পর সে সরাসরি রাফিকে সেক্স অফার করে। বরাবরের মতই রাফি না করে দেয়। কারন সে চায়না এভাবে কারো সাথে শারীরিক সম্পর্ক করতে।সে এমন সম্পর্ক চায় যেখানে প্রেম শারীরিক চাহিদার উর্ধ্বে থাকবে।

কোন কিছুতে কাজ না হলে পরে হিমেল হুমকি দিতে থাকে।সে জোর করে করবে বলেও হুমকি দিতে থাকে।রাফি এসবে পাত্তা দেয়না।

(১০)

একদিন রাত্রিবেলা ঘরে ফিরতে রাফির রাত হয়ে যায়। রাত প্রায় সাড়ে ১২ টা।এক বন্ধুর জন্মদিন ছিলো। তার বাসায় গিয়েছিলো। জন্মদিন উপলক্ষ্যে অনুষ্ঠানের আয়োজন ছিল।তাই কবে যে এত রাত হয়ে গেল বুঝতে পারেনি সে।

একে তো গ্রাম্য এলাকা তার উপর প্রায় ইলেক্ট্রিসিটি থাকে না।তাই রাস্তা প্রায় অন্ধকার থাকে।এই অন্ধকারে একা একা বাড়ি ফিরছে রাফি।পুরো অন্ধকার অবশ্য না।চাঁদের আলোতে দেখা যাচ্ছে সব।

কানে ইয়ারফোন লাগিয়ে গান শুনছে।চারদিকে শুনশান নীরবতা।মাকে বলেছিলো সে বন্ধুর বাসাতেই থাকবে। যেন চিন্তা না করে।পরে দেখে বন্ধুর বাসায় জায়গায় সংকুলান হচ্ছে না।তাই সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে ফিরে আসে রাফি।

হাটতে হাটতে মেইনরোড পেরিয়ে নিজের বাড়ির রাস্তা ধরে রাফি। দূরেই চেয়ারম্যানের বাড়ির গেইট দেখা যাচ্ছে।গেইটের সামনেই বিশাল বিশাল কতগুলা আমগাছ।যেগুলা বাড়ির ফটকটা অন্ধকার করে রেখেছে।আমগাছ গুলার নিচেই বৈঠকখানা হিমেলের।বন্ধুদের নিয়ে প্রায় রাতেই এখানে সে আড্ডা দেয় আর নেশা করে।

এর কিছুদূর পর রাফির বাড়ি।হঠাৎ বুক কেঁপে উঠে তার।অজানা ভয় করে মনে।

চেয়ারম্যানের বাড়ির সামনে এসেই বাঁ দিকে তাকায় রাফি।পুরো বাড়ি অন্ধকার। সারাগ্রামে ইলেক্ট্রিসিটি গেলেও চেয়ারম্যানের বাড়ি সবসময় আলোকিতই থাকে।আজও থাকার কথা।তবে আজ কি বাড়িতে কেউ নেই নাকি?রাফি ধরেই নিয়েছে এবাড়িতে আজ কেউ নেই।হয়তো কোথাও গেছে।যেদিন তারা সপরিবারে কোথাও যায়,সেদিন এ বাড়ি অন্ধকার থাকে।হালকা স্বস্তির নিশ্বাস ছাড়ে রাফি।মুহুর্তেই এ স্বস্তি আবার ভয়ে রুপ নিতে দেরি করেনা।বাড়ির দুতলায় হিমেলের ঘরে আলো জ্বলছে।তার মানে হিমেল আছে বাড়িতে।ছোটবেলায় অনেকবার এ বাড়িতে রাতে থেকেছিল সে।তাই পুরো বাড়িই তার চেনা। রাফি দ্রুত পা চালাতে থাকে।চেয়ারম্যানের বাড়ি পেরুনোর আগেই পেছনে একটা অপরিচিত ডাক শুনতে পায় ।থেমে যায় সে।পেছনে ফেরার আগেই কেউ একজন তার মুখ চেপে ধরে। ধস্তাধস্তি করার সুযোগ পায়না রাফি।তার আগেই জ্ঞান হারায়।

(১১)

জ্ঞান ফেরার পর সে নিজেকে আবিষ্কার করে হিমেলের ঘরে।তার দু হাত খাটের দুপাশে বাঁধা।দুপা ও বাঁধা খাটের দুপাশে।মুখ বাঁধা সে শব্দ করতেও পারছে না।নড়তেও পারছে না।সামনেই হিমেল উলঙ্গ হয়ে চেয়ারে বসে আছে।কামদন্ড উত্থিত হয়ে আছে তার।হাতে মদের গ্লাস। তার চোখ লাল হয়ে আছে।একটু পর পর গ্লাসে চুমুক দিচ্ছে আর রাফির দিকে দেহের দিকে তাকাচ্ছে।এবার রাফির খেয়াল হয়,তার শরীর উলঙ্গ। কাপড় নিচে পড়ে আছে।হিমেল চোখ দিয়ে গিলে খাচ্ছে তাকে।গ্লাসের মদ শেষ হলে।গ্লাস রেখে উঠে দাড়ায় হিমেল। এসে বসে রাফির পাশে.

– জ্ঞান ফিরছে,,,??দেহো আমি কিন্তু তোমার গায়ে

একটা টোকাও লাগায় নাই।তোমার অজান্তে তোমারে কিচ্ছু করিনাই।তোমারে আমি ভোগ করুম আর তুমি টের পাইবা না,, তাই কি হয়?

-ওঁ…….ওঁ

-ওঁ ওঁ কইরা কিচ্ছু হইবো। মুখ তো বাঁধা। তাই কথা কওনের চেষ্টা না কইরা আমার কথা শুনো।

নিজের ইচ্ছায় যদি আইয়া পড়তা আমার কাছে।

তাইলে আমারে এত্ত কষ্ট করন লাগত না।।তুমারে অনেকদিন ধইরাই চাইতেছি।তুমি তো সতি সাইজা আছো।তাই বাধ্য হইয়া অজ্ঞান কইরা নিয়া আইছি।

দেহো,,তোমার শরীলখান কেমনে আমারে আকর্ষণ করতাছে। আইজকা চিল্লাচিল্লি করলেও কেউ আইবো না। চিৎকারও কেউ শুনবো না।আইজকা আমি তোমারে…….

কথা শেষ না করে উঠে দাড়ায় হিমেল।আরেকগ্লাস মদ নিয়ে শেষ করে নিমিষে। তারপর এগিয়ে যায় দরজার দিকে।তালা লাগায়।

তারপর এগিয়ে আসে রাফির কাছে।মুখের বাঁধন খুলে দেয়।রাফি।চিৎকার করার চেষ্টা করে লাভ হয় না।দরজা জানালা সব বন্ধ। আওয়াজ বাড়ির বাইরেও যাবেনা।আর এত রাতে কে শুনবে তার আওয়াজ?পুরো এলাকা তো ঘুমে আচ্ছন্ন। রাফি কাঁদতে কাঁদতে হিমেলে কাছে ক্ষমা চায়।ছেড়ে দিতে বলে।কাউকে কিচ্ছু না বলার প্রতিজ্ঞা করে।হিমেলের মন গলেনা তবুও। রাফি অনবরত কাঁদতে থাকে আর মিনতি করে ছেড়ে দেওয়ার।

হিমেলে সজোরে তাপ্পড় দেয় রাফির গালে।রাফি: কান্না থামায়।কথাও থামায়। শুধু চোখ দিয়ে জল।গড়ানো থামেনা।চোখের জলেও থাকে তার করুন মিনতি।

হিমেলে নিজের ঠোট এনে লাগায় রাফির ঠোটে।প্রচন্ড মদের গন্ধ। রাফির গা গুলিয়ে আসতে চায়।সে মাথা ঝাঁকিয়ে নিজের ঠোট আলাদা করার চেষ্টা করে।কিন্তু হিমেল থামেনা।সে প্রচন্ড জোরে চুষতে থাকে রাফির ঠোট। আর দিতে থাকে কামড়।প্রচন্ড ব্যথা করতে থাকে রাফির।

অবশেষে হিমেল উঠে দাড়ায়।হিমেলে ঠোট রক্তে লাল হয়ে আছে।রাফির ঠোটের ব্যাথা বাড়ে।কামিড়ে ঠোট কেটে দিয়েছে হিমেল।

হিমেল আরেকগ্লাস মদ ঢালে।খেতে খেতে রাফির হাত পায়ের বাঁধন খোলে দেয়।রাফি ছুটে যায়।দরজা ধাক্কাধাক্কি করে।লাভ হয় না।দরজা তালা বদ্ধ।হিমেল আস্তে আস্তে মদের গ্লাস শেষ করে।পেছনে জড়িয়ে ধরে রাফিকে।রাফি ছিটকে সরে যায়।আবার হিমেল আসে।জড়িয়ে ধরে।

এবার সজোরে ধরে।রাফি নিজেকে ছাড়ানোর চেষ্টা করে।পারেনা। ৫-৭ বছরের বয়সে বড় একজনের শক্তির সাথে সে পেরে উঠেনা।

হিমেল রাফিকে ধাক্কা দিয়ে খাটে ফেলে দেয়।এরপর নিজে উঠে রাফির গায়ে।তার দুহাতে রাফির দুহাত চেপে ধরে।দুপায়ে রাফির দুই পা। রাফির দম বন্ধ হয়ে আসছে মনে হয়। সে নড়তেও পারছে না।একে একে রাফির সারা গায়ে ঠোট লাগায় হিমেল। আর কামড় দিতে থাকে।রাফির কষ্টের দিকে তার ভ্রুক্ষেপ নাই।সে এখনে কামে বশীভূত হয়ে আছে। বিবেক লোপ পেয়েছে। তার কাছে শারীরিক তৃপ্তিই মূখ্য।

এবার রাফিকে উল্টো করে শুইয়ে দেয় সে।রাফি বুঝতে পারে কি ঘটতে চলেছে।সে সর্বোচ্চ শক্তি প্রয়োগ করতে থাকে নিজেকে ছাড়ানোর। পারেনা। হিমেল নিজের কামদন্ড এগিয়ে আনে।সজোরে ঢুকিয়ে দেয় রাফির পায়ুপথে।প্রচন্ড ব্যথা আর কষ্টে চিৎকার দিয়ে জ্ঞান হারায় সে।

ফজরের আজানের শব্দে রাফির জ্ঞান ফেরে।বুঝতে সময় লাগে তার সবটা।চোখ মেলে দেখে হিমেল এখনো থামেনি।আস্তে আস্তে রাফির চেতনা ফিরে আসে।সাথে প্রচন্ড ব্যথা।হিমেলের কামদন্ডের প্রতিটি ধাক্কা প্রতিটি মাংসপেশি যেন ছিড়ে ফেলছে। রাফি দেখে তার সারা গায়ে লেগে আছে বীর্য।হিমেলের বীর্য।বিছানার সাদা চাদর রক্তে মাখামাখি।

হিমেলে তাকায় রাফির দিকে।আর স্ফিত হাসি দিয়ে আবার নিজের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে।

রাফি আর চিৎকার করেনা।ব্যথা সয়ে এসেছে।শুধু চোখের জল থামছে না।

শেষ বারের মত রাফির গায়ে বীর্য ফেলে হিমেল থামল।

“এ নিয়া ৫ বার হইল।তোমার তো জ্ঞানই নাই।নইলে তুমিও মজা পাইতা”;বলেই ঘর থেকে বেরিয়ে যায় হিমেল।

রাফির সেদিকে ভ্রুক্ষেপ নেই।সে পড়ে আছে বিছানায়।গায়ে বিন্দুপরিমান শক্তি নেই যে উঠে বসবে।হিমেল খানিকক্ষণ পর ফিরে আসে।রাফির সামনে আসে একটা রুমাল নিয়ে।”সাবধানের মার নাই”বলেই রুমাল।চেপে ধরে রাফির নাকে। তৃতীয়বারের মত জ্ঞান হারায় রাফি।..

…………………সমাপ্ত……………

কিছু কথা: (১) হিমেল দ্বারা রাফির ধর্ষণ হওয়ার ঘটনাটা সত্য। তবে গল্পের মত করে উক্ত ঘটনা ঘটেনি।মূল ঘটনাকে শুধু আমি নিজের মত করে সাজিয়েছি।এ ঘটনার পর গ্রামে সালিশি হয়।হিমেল পালিয়ে গিয়েছিলো।ক্ষমতা আর প্রভাবের জোরে হিমেলের তার শাস্তি হয়নি।এরপরে আরো অনেকবার রাফিকে পুনঃ ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলো হিমেল।তবে আর সফল হয়নি।

(২) এই ঘটনাতেই Rafi:the incredible story শেষ নয়। এই ঘটনা তো সবে শুরু।এরপরেরর রাফির ঘটনাগুলা আরো রোমহর্ষক ও বিভীষিকাময়।

সমপ্রেমের গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.