হারিয়ে ফেলা ভালবাসা’

লেখকঃপ্রান্তিক

(জানিনা এটাকে গল্প বলা ঠিক হবে কিনা, কারন এটা আমার জীবনের একটা ঘটনার কিছু অগোছালো অংশ, যদি গল্প লিখতে পারতাম তাহলে হয়ত বাস্তব ঘটনাটাকে গল্পের মত সুন্দর করে সাজাতে পারতাম)

তখন ২০০২ সাল, আমি এলাকার স্কুল থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ভাল রেজাল্ট করে ক্লাস সিক্সে উঠি, এলাকার স্কুল তুলনামূলক ভাল না হওয়ায় আমার জন্য নতুন স্কুল খোজা শুরু হল। অবশেষে দূরের একটি প্রতিষ্ঠানে সিক্সে ভর্তি হলাম, স্কুল দূরে হওয়ায় সঙ্গত কারনেই আমাকে স্কুলের হোস্টেলে থাকতে হবে। ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসের শুরুতেইআমাকে হোস্টেলে পাঠিয়ে দেয়া হয়, আমি তো কখনো আম্মাকে ছাড়া থাকিনি তাই হোস্টেলে যাবার কথা শুনেই কান্নাকাটি শুরু,হোস্টেলে যাবার পর থেকে তো সারাদিন কান্নাকাটি করা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে, এ জন্য সকল স্যার ও বড় ভাইয়ারা আমাকে যথেষ্ট সময় দেয়, বুঝানো, এলাকায় ঘুরতে নিয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে সব রকম চেষ্টা করছে সবাই। কিছুদিন পর এক পড়ন্ত বিকেলে আসরের নামাজ পড়ে সবাই যখন খেলতে মাঠে চলে গেছে তখন আমি রুমে শুয়ে কান্নাকাটি করছি, এক সময় দেখলাম পাশের রুমের এক বড় ভাই এসে আমার পাশে বসলেন, বললেন আমি শাওন, ক্লাস এইটে পড়ি, তোমার পাশের রুমেই থাকি, তোমার কান্না শুনে আসলাম, কাদঁছ কেন?? আমি বললাম আমি বাড়ি যাব, হোস্টেলে থাকবনা, আমার এখানে ভাল্লাগেনা, এমন অনেক কথা বললাম। উনি বলল আচ্ছা বাড়ি যেও, তুমি তো একা যেতে পারবেনা, আর একদিন পরেই বৃহস্পতিবার, তোমার ভাইয়া তো আসবে তোমাকে নিতে, তখন চলে যেও, এখন আস আমরা ঘুরে আসি। আমি বললাম আমি যাবনা, উনি জোড় করেই রাজি করালেন, আমি চেন্জ করেই উনার সাথে বেরুলাম। উনি আমাকে নিয়ে হাটছেন গ্রামের রাস্তায়, রাস্তার পাশে খালে পানিতে অনেকে মাছ ধরছে, মহিশের গাড়ি দেখলাম প্রথম, রাস্তার দুপাশে গাছের সাড়ি, দুজন হাটছি পাশাপাশি। নিরবতা ভাঙলেন শাওন ভাই, বললেন এখন ভাল লাগছে?? হ্যা সূচক সাড়া দিলাম। তখন উনি কথা শুরুকরলেন,

-আচ্ছা তোমার নাম কি??

-অভি।

-অনেক সুন্দর নাম তো।

-কে রেখেছে তোমার নাম?

-আমার দাদি।

তারপর ফ্যামিলিতে কে কে আছে, বাড়ি কোথায়, পড়াশোনা কেমন হচ্ছে ইত্যাদি নানান প্রশ্ন করে আমাকে ব্যস্ত রাখলেন। তারপর উনার সবকিছু বললেন। এক পর্যায়ে মাগরিবের আজান হল, আমরা পার্শ্ববর্তি মসজিদে নামাজ পড়ে হোস্টেলে ফিরলাম, উনি আমাকে রুমে পৌছে দিয়ে পড়ার টেবিলে বসিয়ে বললেন এবার ভাল ছেলের মত কালকের ক্লাসের পড়াগুলো শেষ করে নাও। তারপর উনি তার রুমে চলে গেলেন।আমি আজ প্রথম একটু পড়লাম, কিভাবে যেন সময় গড়িয়ে গেল, এশার আজান হলে উনি দরজায় নক করলেন,

-অভি, অনেক পড়েছ, এবার আস, নামাজ পড়ে খেয়ে আসি।

-আসছি ভাইয়া।

বলেই টুপিটা হাতে নিয়েই উনার সাথে হাটতে শুরুকরলাম মসজিদে। নামাজ শেষে একত্রেই ডাইনিং এ খেতে গেলাম, হোস্টেলের খাবার আমার একটুও ভাল লাগতনা, তাই অধিকাংশ সময় বাড়ি থেকে পাঠানো ড্রাই কেক, বিস্কিট আর ফলই খেতাম। উনি বললেন কয়েকমাস একটু কষ্ট হবে, তারপর অভ্যাস হয়ে যাবে।

-ভাইয়া এসব খেলে আমি মরেই যাব!!

-হা হা হা

-আমার কষ্টে আপনি হাসছেন??

-না এমনি, আসলে সবাই এমনই মনে করে, কিন্তু একসময় সব অভ্যাস হয়ে যাবে।

খাওয়া শেষে একত্রে এসে আমাকে রুমে দিয়ে উনি তার রুমে গেলেন। এভাবে উনি নিয়মিত আমাকে সময় দিচ্ছেন, খোজ খবর রাখছেন, পড়াশোনা যা না বুঝি উনি এসে বুঝিয়ে দিয়ে যায়, আমার যে কোন সমস্যায় তাকে বড় ভাইয়ের মত পাই, তারপ্রতি দিন দিন আমার শ্রদ্ধা বেড়ে যায়, তিনি আমাকে ছোট ভাইয়ের মত দেখেন, আমিও তাকে বড় ভাইয়ের মত দেখি, এইভাবে চলতে থাকে আমার ২০০২ সাল পুরোটা। ২০০৩ সাল, আমি ক্লাস সিক্স থেকে সেভেনে উঠি, আমার ক্লাসে সবাই ভাল স্টুডেন্ট, তাই ভয় ছিল আমি অনেক পেছনে থাকব, আমি প্রাইভেটও পড়িনি, শাওন যতটুকু পড়াতো তাই, দেখলাম আমার রোল হল ০৭!!! আমি খুশিই হলাম, কারন ০১ থেকে ০৯ পর্যন্ত সবার নাম্বারের ব্যবধান ২/৩ করে। এটা এসএসসি পর্যন্ত ছিল। এবার আমি শাওন ভাইয়ার আরও ভক্ত হয়ে গেলাম, এখন রুমচেন্জ করে আমি উনার রুমে চলে আসছি। আমাদের রাতে ছাদে বসে গল্প করা, সবাই ঘুমিয়ে পড়লে বাহিরে রাস্তার ধারে বসে বা রুমেই নানান গল্প করা শুরু হয়। ২০০৩ সাল, শাওন নবম শ্রেণি ও আমি সপ্তম শ্রেণিতে পড়ি, একরাতে আমরা হাটতে বের হলাম, জোৎস্না রাত, চারদিকে রাতের নীরবতা, আজ শাওন ভাই একদম চুপ, কোন কথা নেই, চাঁদের আলোর তার সুন্দর কোমল চেহারাটা দেখা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে তিনি আমাকে কিছু বলতে চাইছে কিন্তু সাহস হচ্ছে না।

-ভাইয়া আপনি লাল হয়ে যাচ্ছেন কেন?

-কই? না তো!!

কাপা কন্ঠে।

-আচ্ছা আমি তো আপনাকে সব বলি, আপনি কেন আমার কাছে লুকাচ্ছেন??

-না, কিছুনা।

-বলেন প্লিজ। অনেকক্ষণ পর, বিশাল ভূমিকা বললেন, আমাকে তার প্রথম দেখা, ভালোলাগা, ছোটছোট অনেক স্মৃতি বলে তারপর বললেন,

-অভি, আমি তোমাকে অনেক ভালবেসে ফেলেছি, তোমাকে ছাড়া আমি চলতে পারিনা, আমার সবটুকু দিয়ে আমি তোমাকে ভালবাসি।

-ভাইয়া এটা এভাবে নতুন করে বলার কি হল?? আপনি আমাকে আপন ভাইয়ের মত ভালবাসেন সবসময়ই। উনি আমাকে তখন অনেক কিছু বুঝালেন, আমি তখন সমপ্রেম না বুঝার কারনে এসব কিছুই বুঝিনি, তবে বুঝতে পারলাম উনি প্রেমের কথা বলছে। তাই আমি না করলাম, বললাম দেখেন আপনি আমার ভাইয়ের মত, আপনার সাথে প্রেম করব কিভাবে? মানুষ কি বলবে?? আমি পারবনা।আমি উনাকে প্রত্যাখ্যান করায় উনি অনেক কষ্ট পেলেন, প্রতিদিন আমাকে রাজি করানোর চেষ্টা করছেন, খাওয়াদাওয়া করছেননা ঠিকমত, পড়াশোনা তো না ই, অনেক কান্নাকাটি করেন। একই রুমে থেকে এসব দেখে আমার কষ্টও হত, আবার বিরক্তিও লাগত, আমি উনাকে বলি

-আপনি আমার ২ বছরের সিনিয়র, আপনি আমার ভাইয়ের মত, এটাই তো ভাল, বন্ধু হবার কি দরকার?

কিন্তু উনি কোনভাবেই নিজেকে সামলাতে পারছেননা, তাই বাধ্য হয়ে আমি রুমচেন্জ করে অনেক দূরের রুমে চলে আসলাম। আমি নতুন রুমে যাওয়ার পর উনি অনেক কান্নাকাটি করছে, মসজিদে বা ডাইনিং এ একসাথে বসছি, শাওন চাচ্ছে আমি তার সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়াই, আর আমি তাকে বুঝাচ্ছি যে এটা সম্ভব নয়, আমি এসব পছন্দ করিনা। এভাবে দিনের পর দিন যাচ্ছে, এক পর্যায়ে আমি শাওনের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেই, সে আমার সাথে কথা বলতে আসলে তাকে বার বার অপমান করা, রুমে আসলে স্যারের কাছে নালিশ করা, বন্ধুদের দিয়ে তাকে বুঝানো অনেক বার হয়েছে। কিন্তু শাওন কিছুতেই পিছু হটতে নারাজ, কারন তার ভালবাসায় ছিলনা যৌনাকাঙ্ক্ষা, কোন স্বার্থ, বা মোহ যা সামান্য বাতাসেই উড়ে যাবে। বরং আমার প্রতি তার ভালবাসা ছিল শিশাঢালা প্রাচীরের মত, যা ভাঙার শক্তি ছিলনা কোন ঘূর্ণিঝড়, টর্নেডো বা সাইক্লোনের। কিন্তু তার সে হৃদয় উজাড় করা ভালবাসা বুঝার ক্ষমতা ছিলনা ছোট্ট অভির, বরং অভি মনে করত শাওনের কারনে সবাই তাকে নিয়ে নানান কথা বলে, সবার কাছে সে ছোট হচ্ছে শাওনের পাগলামির কারনে। শাওন দীর্ঘদিন আমার ভালবাসা পাবার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে সিদ্ধান্ত নিল সে আর ভালবাসা পাবার আশা করবেনা, শুধু ভালবেসেই যাবে, তাই শাওন আমার বেস্ট ফ্রেন্ডকে হাত করে ওর মাধ্যমে আমার বিভিন্ন উপকার করে দিত, কারন আমি শাওনের কোন হেল্প নিতে রাজি হতাম না। একদিক শাওন আমার রুমে আসলে আমি স্যারকে ডেকে ওকে কথা শুনিয়েছি যা আমাকে আজও কষ্ট দেয়। এভাবে চলে গেল আরও দুই বছর, আমি অষ্টম শেষ করে নবমে উঠলাম, আর শাওন এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা চলে আসল। শাওন ঢাকা চলে আসার সময় আমার কিছুটা খারাপ লেগেছে, তবে দুই/তিন দিন পর সব ঠিক হয়ে গেছে। কিন্তু যতই সময় যাচ্ছে আমি শাওনকে মিস করতে লাগলাম, তার শূণ্যতা আমার হৃদয়ের ভিত্তিকে নাড়িয়ে দিতে লাগল, এখন আর কেউ মসজিদে নামাজের ফাঁকে লুকিয়ে আমাকে দেখেনা, ডাইনিং এ কেউ আমি না যাওয়া পর্যন্ত না খেয়ে বসে থাকেনা, বিকেলে আমি যে রাস্তায় বন্ধুদের নিয়ে হাটতে যেতাম সে রাস্তায় কেউ দাড়িয়ে থাকেনা। এভাবে যতই সময় যাচ্ছিল আমার মাঝে শাওনের অবস্থান আরও স্পষ্ট হচ্ছিল, অবশেষে আসল সেই ক্ষণ, ও চলে যাবার এক বছর পর ২০০৬ সালে তার নাম্বার সংগ্রহ করে তাকে কল করলাম।

-আস-সালামু আলাইকুম

-ওয়া-আলাইকুমুস-সালাম

বলেই অপর প্রান্তে চুপ হয়ে গেল শাওন। কারন কন্ঠ শুনেই সে বুঝতে পারছে তার সবচেয়ে আপন মানুষের অপ্রত্যাশিত কল, তাই সে আনন্দে বাকরুদ্ধ হয়ে গেল।

-কেমন আছ শাওন?? এই প্রথম তুমি বললাম।

– আল-হামদুলিল্লাহ ভাল। তুমি?

-আমিও ভাল। এভাবে দীর্ঘ কথা বলার পর আমি তাকে বললাম,

-আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি, সম্ভব হলে ক্ষমা করবেন, আর যে জন্য আজ কল করছি তা হল, আপনি এখানে থাকতে না বুঝলেও এখন আপনাকে অনেক মিস করি, খুব কষ্ট হয় আপনাকে না দেখে, কেন চলে গেলেন?? এই বলে কাঁদতে কাঁদতে কল কেটে দিলাম। তারপর আমাদের প্রতি মাসেই একবার কথা হত, কুশলাদি বিনিময়, পড়াশোনা এসব নিয়েই কথা হয়, কিন্তু কারো মুখেই ভালবাসার কথা নেই। ২০০৭ সালে আমি এসএসসি পরীক্ষা দিয়ে ঢাকা চলে আসি, শাওন তখন এইচএসসি পরীক্ষার্থী, তখন দীর্ঘ দুই বছর পর আমাদের দেখা হয়, অনেক কথাবার্তা, তবে এবার ভাই নয়, বন্ধুত্ব হয়। আমি এসএসসি পাশ করে উত্তরায় একটা কলেজে ভর্তি হই, আর শাওন ভর্তি হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে, তবে আমাদের ফোনে নিয়মিত কথা হলেও দেখা কম হত, আর দেখা হলেই আমার কমন প্রশ্ন, তুমি এখনো আমাকে আগেরমত ভালবাস?? এভাবে দুই বছর কেটে গেল, আমি এইসএসসি পাশ করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হলাম, আমার মনে তার জন্য ভালবাসা তৈরি হয়ে গেছিল অনেক আগেই, কিন্তু তা আমি প্রকাশ করিনি। ২০১২ সাল, শাওন আর আমার পরিচয়ের দশ বছর, সেই ছোট্ট ছেলেগুলো আজ পূর্ণ যুবক, আজ ভালবাসা সম্পর্কে দুজনেই বুঝে, আমার বিশ্বাস শাওন আজও আমার অপেক্ষারত, আমি বললেই সে আমাকে বেধে নেবে তার বাহু বন্ধনে। তাই আমি তাকে কল করলাম,

-কই তুমি?

-হলে। তুৃ্মি?

-আমি বাসায়।আচ্ছা শুন, কাল কোন কাজ রাখবানা, কাল আমি তোমার ক্যাম্পাসে আসব, খুবই জরুরী।

-আচ্ছা আস, তুমি আসবা আমি কি করে ব্যস্ত থাকি?? পরদিন গেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, তার সাথে দেখা, কলা ভবনের সামনে বসে অনেক কথা বললাম, প্রতি সাক্ষাতের মত এবারও ছোট বেলার না বুঝে করা অন্যায়গুলোর জন্য ক্ষমা চাইলাম। অবশেষে, তাকে বলেই ফেললাম আমার হৃদয়ের গহীনে লুকিয়ে থাকা তার জন্য আমার অনুভূতি গুলো, আজ বলছি, সত্যিই আমি তোমাকে অনেক ভালবাসি, যা তুমি বেসেছিলে দশ বছর আগে। আমাকে কি গ্রহণ করবে শুরুর মতকরে,শাওন?

– হ্যা, আজ আমি স্বার্থক, আমার ভালবাসা আজ আমি পেয়েছি।তবে তা আর সম্ভব নয়, কারন অনেক দেরি হয়ে গেছে, সময় বদলে গেছে, বদলে গেছে দৃষ্টিভঙ্গী, আমি আমার অতীতকে ফেলে এসেছি গোমতীর ঐ তীরে। কথাগুলো শুনে আমার মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পরছিল, নিজেকে সামলে নিয়ে তার কাছে একটা সুযোগ চাইলাম, কিন্তু তার একই কথা অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি আর জোর করিনি, কারন যে যন্ত্রণা শাওন দশ বছর পেয়েছে, তার কিছুটা আমার প্রাপ্য।আজ নাহয় একটু দেখি এতটা বছর সে কি যন্ত্রণা পেয়েছে। তার বন্ধুত্বটাকে বন্ধুত্বেই সীমাবদ্ধ রেখে আজও আমরা এগিয়ে যাচ্ছি। আর মাঝে মাঝে ভাবি—হারিয়ে খুঁজেছি তোমায়!

সমপ্রেমের গল্প ফেসবুক পেজ থেকে সংগৃহীত

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.