খুচরা সংবাদ (২০১৪-২০১৫)

*১৯মে হতে ২২মে পর্যন্ত এক সপ্তাহ ব্যাপি ছবি শেয়ার  করার মাধ্যমে রূপবান উদযাপন করলো  IDAHOT 2015 (International Day Against Homophopia & Transphobia)। সবার কাছে IDAHOT বার্তা সম্বলিত একটি ছবি বা সেলফি চাওয়া হয়েছিল, যা পরবর্তীতে ‘রূপবান’ এর অফিসিয়াল ফেসবুক পাতায় প্রকাশিত হয়। স্লোগান ছিল, ‘Respect Diversity, Support Love’। দেশ-বিদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অনেকেই এতে অংশ নেয় ছবি পাঠিয়ে। ছবিগুলোর মাধ্যমে যৌন ও লিঙ্গ বৈচিত্র্য এবং ভালোবাসার প্রতি তারা সমর্থন প্রকাশ করেন।

এছাড়াও রূপবান লিঙ্গ ও যৌন বৈচিত্র্য বিষয়ে ৫টি আলাদা পোস্টার প্রকাশিত করে তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে। পোস্টারগুলো সামাজিক গণমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলে এবং প্রশংসা লাভ করে।

* গত ১৯ই ফেব্রুয়ারী ‘বয়েজ অব বাংলাদেশ’ এর এযাবৎকালীন সর্ববৃহৎ কর্মপরিকল্পনা ‘প্রজেক্ট ধী’ এর যাত্রা শুরু হল। ‘ধী’ অর্থ জ্ঞান। ধী-গুণ বলতে আট রকমের গুণ বুঝায়। এই আটটি গুণের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চমৎকার উদ্বোধনী অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয় । অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বাংলাদেশ ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট গিবসন সহ আরও অনেক গুণী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। ‘প্রজেক্ট ধী’ এর কর্মপরিকল্পনায় আছে বিভাগ ভিত্তিক আয়োজিত বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালা। এসব আয়োজনের মাধ্যমে সমাজে সমপ্রেম সম্পর্কিত সঠিক তথ্য সঞ্চালনই প্রজেক্ট ধী এর মূল উদ্দেশ্য। এছাড়াও আগামী ৫বছরে সমকামী গোষ্ঠীর উন্নয়নের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা এতে অন্তর্ভুক্ত।

* ব্রিটিশ কাউন্সিল ও ব্রিটিশ ফিল্ম ইন্সিটিউটের যৌথ উদ্যোগে বিশ্বের প্রথম ডিজিটাল LGBT চলচ্চিত্র উৎসব ‘fivefilms4freedom’ আয়োজন করা হয়। ১৯-২৯ মার্চ, এ ১০দিন ব্যাপি চলচ্চিত্র উৎসবটি চলেছে। সারা বিশ্বের মানুষদের জন্য এই ১০দিনে ৫টি LGBT স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচিত্র অনলাইনে বিনামূল্যে প্রদর্শনের ব্যবস্থা করা হয়। এর মাঝে ২৫শে মার্চ পৃথিবীর সকল দেশে একসাথে চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শনের আয়োজন করে ব্রিটিশ কাউন্সিল। বাংলাদেশ ব্রিটিশ কাউন্সিলে ‘বয়েজ অব বাংলাদেশ’ এর তত্ত্বাবধানে চলচ্চিত্রগুলো প্রদর্শিত হয়। অনুষ্ঠানে চলচ্চিত্র প্রদর্শন শেষে ‘স্কাইপি’র মাধ্যমে সরাসরি দর্শকদের মন্তব্য নেয় আয়োজকরা। ৫টি চলচ্চিত্রে মূলত সমপ্রেম, উভপ্রেম, হিজড়া সম্প্রদায়ের ভালোবাসা, রাজনৈতিক দৃশ্যপটসহ অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ফুটে উঠে।   

* গত ৬ফেব্রুয়ারি রাজধানীর এক রেস্তোরাঁয় অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো হোমসেক্সুয়ালিটি ইজ নট এন ইলনেস/হিনাই(Homosexuality is not an illness/HINAI) এর ‘৩য় বর্ষপূর্তি উৎসব’। অনলাইন ভিত্তিক এই গ্রুপটি এ বছর ৩য় বর্ষে পদার্পণ করলো। এবারকার অনুষ্ঠানের মূল থিম ছিল, ‘ভালোবাসা’। লাল ও কালো রঙের পোশাক, ঝলমলে সজ্জা এবং সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অনুষ্ঠান ছিল ভরপুর। ‘হিনাই’ গ্রুপটি ৩বছর যাবৎ অনলাইনে সমপ্রেম সম্পর্কিত বিভিন্ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।

* রসের বন্ধুঃ খুলনা ভিত্তিক LGB গ্রুপ ভিভিড রেইনবো (Vivid Rainbow) গত ২৬শে ডিসেম্বর ২০১৪তে খুলনায় আয়োজন করেছিল ‘রসের বন্ধু’। গোষ্ঠীর বন্ধন দৃঢ় করা, বন্ধুত্ব বাড়ানো, বিনোদন, সমকামভীতি দূরীকরণের উদ্দেশ্যে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানটি উপস্থিত সবার মন জয় করে। সাংস্কৃতিক পরিবেশনা ও মজাদার খাবারের সমন্বয়ে ‘রসের বন্ধু’ দর্শকদের নজর কাড়তে সক্ষম হয়। 

* অমর একুশে গ্রন্থমেলায় গত ২৭শে ফেব্রুয়ারি রূপবান প্রকাশিত করলো বাংলাদেশের সর্বপ্রথম সমপ্রেমি কবিতার বই ‘রূপঙক্তি’। অনলাইন লেখালেখিতে হাতপাকানো বেশ কজন কবির পাশাপাশি একেবারে নতুন কিছু কবিদের কবিতা স্থান পেয়েছে ‘রুপঙক্তি’তে। মূলত জীবনদর্শন, লিঙ্গবৈচিত্র্য, প্রকৃতিপ্রেম, বিদ্রোহ, সমপ্রণয় সহ আরও নানা বিষয় উঠে এসেছে কালি আর কলমে। মোড়ক উন্মোচনের ঠিক আগের দিন ২৬শে ফেব্রুয়ারি লেখক ও ব্লগার অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হয়। তাই প্রতিকূল পরিস্থিতির কারণে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি সঠিকভাবে সম্পাদন করা সম্ভব হয়নি। সেজন্য ২৫শে মার্চ, ২০১৫ তে রূপবান আয়োজন করে ‘কবিতা পাঠের আসর’। যেখানে ‘রূপঙক্তি’ থেকে উপস্থিত কবি ও  দর্শকবৃন্দ কবিতা পাঠ করে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গুণী ব্যক্তিত্বসহ সমপ্রেমি গোষ্ঠীর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

* বন্ধু সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি(BSWS) এবং ইউনিএইডস (UNAIDS) বাংলাদেশ এর যৌথ উদ্যোগে ‘NO H8’ নামক একটি প্রচার কার্যক্রম আয়োজন করে। এই প্রচারণা চলে ১মে হতে ৩০মে পর্যন্ত। No H8 এর অর্থ হল No Hate। প্রচারণাতে মূলত কিছু পোস্টার ব্যবহার করা হয়। পোস্টারে দেখা যায় একটি মানুষের মুখ টেপ দিয়ে আটকে রাখা হয়েছে যার অর্থ দাড়ায় যে তাকে বাকরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। মূলত হিজড়া, সমপ্রেমিদের অধিকার সম্পর্কিত কথা বললেই সমাজ বাগড়া দেয়, নানা ধরণের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। পোস্টারগুলোতে এ ব্যাপারগুলো সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

* Pink Flamingo: ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে ১৪ই ফেব্রুয়ারি রাজধানীর একটি ক্যাফেতে ‘আড্ডা- দ্যা ফ্রেন্ডস কমিউনিটি’ গ্রুপটি আয়োজন করেছিল ‘Pink Flamingo’। এই আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল ‘স্পীড ডেটিং’ যা বাংলাদেশী সমপ্রেমিদের জন্য ছিল প্রথম অভিজ্ঞতা। ২০জন অংশগ্রহণ করে এতে। অংশগ্রহণকারীদের কাছ থেকে জানা যায় তারা অনেকেই জানতেন না স্পীড ডেটিং কি। কিন্তু, নতুন এই আয়োজন তারা বেশ পছন্দ করেছেন। ‘স্পীড ডেটিং’ হল খুব অল্প সময়ের মধ্যে অনেকের সাথে পরিচিত হবার ডেটিং বা ‘ম্যাচমেকিং’ পদ্ধতি।  

* বাংলাদেশের LGBT জনগোষ্ঠীর বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিষয়ে আলোচনা হয়ে গেলো বাংলাদেশ অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসে। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন সংস্থার মানবাধিকার কর্মীরা। আলোচনা সভাটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশের মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাশা স্টিফেন্স বার্নিকাট। বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে তিনি এলজিবিটি ফোরাম গঠনের কথা বলেন। ফোরামটি মানবাধিকার কর্মীদের নিয়ে গঠিত হবে।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সকল জায়গায় প্রত্যেক বছর জুন মাসে ‘প্রাইড’ উদযাপন করা হয়। সে অনুসারে বাংলাদেশের মার্কিন দূতাবাসেও জুন মাসের ২৪ তারিখ প্রাইড উদযাপিত হয়ে গেলো। রূপবান এতে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্যতা রেখে বিভিন্ন পরিবেশনা করেছে।

* তৃতীয় লিঙ্গ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর ২০১৪ সালে হিজড়া জনগোষ্ঠী আয়োজন করে ‘হিজড়া প্রাইড’।  হাজার খানেক হিজড়াদের অংশগ্রহণে ‘ঘুচলো কলঙ্ক, বৈষম্য ও ভীতি, আমরাও মানুষ পেলাম তৃতীয় লিঙ্গের স্বীকৃতি” এই স্লোগানে মুখরিত ছিল পুরো প্রাইড। রঙবেরঙের পোশাক, বিভিন্ন উজ্জ্বল অনুষঙ্গের মাধ্যমে নিজেদের সংস্কৃতিকে তুলে ধরেছিল তারা। হিজড়া ছাড়াও অন্যান্য মানুষ এতে অংশগ্রহণ করে। শোভাযাত্রা ছাড়াও বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছিল। এরমধ্যে ‘সৌন্দর্য প্রতিযোগিতা’, ‘প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা’ অন্যতম ছিল।  

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.