অন্তর্দহন

মেঘ রাজ সাইমুন

জানি ভালোবাসো না আমায়!খারাপও তো বাসলে না কোনদিন?
দুটোর কিছু একটা দিতে আমায়-
সেদিন পাবলিক বাসে দেখলাম তোমায়,
ঘাম নোনাজলের বিন্দুকণা নাকের ডগায়,
নয়নে বিরক্তির ছাপ স্পষ্ট!রক্তিম ঠোঁট রাগে কাঁপছে বিরামহীন।
কত লোকের ভিড়ে চোরা চোখে দেখলাম।
খুব ইচ্ছে করল গিয়ে তোমার ঘামের গন্ধ নেই।
কিন্তু বুকে এত সাহস কই?
যা ছিল তোমার তরে দিয়েছি নিলাম।
সোহাগের ভরা পূর্ণিমাতিথিতে নগ্ন শরীরে সমুদ্র সঙ্গম,
তোমার মনে আছে সেই কামনার রস স্নান?
আমি আজও খুঁজে পেলাম না তোমার অভিমানের কারন।
কত সহজ দৃষ্টিতে সেদিন প্রশ্ন করলে,”তুমি ভালো আছো তো?”
কি করে বলতাম আমি!যে তোমার আমি ভালো নেই।
নীরবতায় তখন ছিল আমার,চাপা মনের গুঞ্জন শত।
রাতের আঁধারে নিকোটিনের ধোয়া উড়ায় কত!
কোলাহল এ শহরে আমি যে বড্ড একা।
এখনো আমায় ভেবে কাঁদো বালিশে মুখ লুকিয়ে-
তবে কোন মন দহনে বলো “ভালোবাসো না!”
পারবে কি আড়াল করতে তোমার ঐ ভালোবাসা পূর্ণ আঁখি?
মিছে এ অভিনয়!না করলে কি নয়?
এ তোমার ভারী অন্যায় নীলপাখি!
বড় অকারনে শাস্তি দিচ্ছো আমায় তুমি।
“আহ!” অন্তর্দহন কি যে অসহ্য যন্ত্রণাকর!
পাথার সমান অনলে পোড়ে সারা দেহ,
কখনো বৃষ্টি ভেজা শরীরে আত্মচিৎকার-
হয়তো কিছু দায়িত্ব-কর্তব্যে চলে এ মৃত্তিকা তনু।
তুমি জানো কি,নীলপাখি?
প্রতিটি প্রহর আমি মরার মতো করে বাঁচি!
একবার এসে দেখে যাও আমি কত সুখে আছি।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.