ঈশ্বরের ঘৃণা

বালক

সমাজের ধর্ম-ধরম দোষায়,
বলে- এই আমি মহাপাপী!
নরকের বিষাক্ত কীট নামক,
দোযখের হিংস্র জ্বালানী।

সমাজের বর্ষিত অভিশাপ,
নিগ্রহ, লা-নত অভিরাম-
হাবিয়া-হুতামা-লাযা,
নরক-এ জাহীম-জাহান্নাম।

অগ্নিকুন্ডে ভস্মিত হবো বলে,
জাগ্রত হবো অসংখ্য বারংবার,
তরলিত রক্তে জ্বলবে অগ্নিধারা,
শুনবে না কেউ- আমার চিৎকার।

মসজিদ-মন্দির-গীর্জা-প্যাগোডা
যেথা- ঈশ্বর তোমার বসবাস
স্পর্শে আমার অপবিত্র সেথা
ক্ষমাহীন অন্তিম-অসীম সর্বনাশ।

ইঞ্জিল-বাইবেল বেদ-বেদান্ত
ত্রিপিটক তথা রামায়ণ-পুরান
ধর্ম-ধরমে নিগৃহীত আমি,
নিগৃহীত তথা হাদিসে-কুরআন।

মুসলিম হয়ে যদি করি আত্মপ্রকাশ
তোমারে খুঁজি ইশ্বর, আত্মপরিচয়
মৃতসাগরের অভিশাপে অভিশপ্ত..
কেন? কেন তবে? সে কি ঘৃণা নয়?

হিন্দুর ঘরে আমি, আমি সনাতন…
শিব তব লিঙ্গ যদি পুঁজোয় দুগ্ধস্নান
আমি কেন পাপী তবে? কেন ধিক্কার?
নরকে ঠাঁই কেন? আজন্ম অসম্মান?

ক্রিষ্টান আমি যদি, খুঁজি তোমায়
ধিক্কার ঢল নামে- গীর্জার দরজায়,
বিনা-শুক্রানু ঔরসে মেরী অন্তঃস্বত্তায়
মর্তের আলোকে যীশু কোন সে উপায়!

নিগৃহীত যদি আমি ধরনী ’পরে
যদি শুক্রানু-ভ্রুণে দিলে সমমন;
কেন? কেন? কেন তবে…
ঈশ্বর তব বিকৃত সৃষ্টি-সৃজন!

ঘুঙুরে আবদ্ধ যদি পদযুগল
হয় কি তবে নিস্তব্ধ পন্থ চলন!
পিষ্ঠদেশে যদি রোদ্রের হাসি,
সম্মুখে তবে প্রচ্ছায়ার জাগরণ।

ও ঈশ্বর, প্রকৃতি যদি তব সৃষ্টি
ধিক্কার কেন তবে আমার বীণা!
সৃজিলে যদি স্বীয় স্বার্থে আমায়
কেন? কেন তবে? কেন এত ঘৃণা?

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.