মৃতের মৃত্যু

নীলের নিমন্ত্রণ নীলাম্বর

সাদা মেঘের ভেলা গুলো দেখলেই
ভালো ভাবে বোঝা যায়,
আগমনীর আর বেশি দেরি নেই।
চারিদিকে শুভ্র কাশফুল ছেয়ে গেছে,
জলে জলে শাপলা পদ্মের প্রস্ফুটিতের সময় সমাগত।

ধনী থেকে দরিদ্রে আনন্দের বাতাবরণ।
কাশ আনতে বেরিয়েছি সূর্যাস্তে।
কালো পিচ ঢালা রাস্তা ছেড়ে ভাঙা ইটের রাস্তায় চলতে,
চোখ আটকে গেল অদূরের শিবানী মন্দিরে দাঁড়িয়ে কিশোরে।

হাত উঁচিয়ে কিসব যেন বলছে, করুন দৃষ্টিতে, মায়েরে।
একটু কাছে যেতেই, শোনা যাচ্ছে তার স্পষ্ট আর্তনাদ।
তার চোখে সেকি ভিষণ আকুতি।
মায়েরে বলছে,
মা, তুই তো অন্তর্যামী মা;
তবে তুই আমারে কেন বুঝিসনা।

গর্ভধারিনীর মত তুই ও দিলি আমায় পর করে !!!
সকলের থেকে পর হয়ে মা বল তুই, বাঁচি কেমনেরে।
বল মা কি ছিল আমার দোষ, কি বা অপরাধ।
তা খুঁজে খুঁজে, আজও আমি অসহায়, নির্বোধ।

জন্ম থেকেই তো মৃত, যখন জেনেছি নিজেরে।
সত্ত্বা যখন জেগেছে, চাহিদা দিয়েছে সাড়া অন্তরে।
সংসার, পরিবার ছেড়ে ভালবাসার তরে হয়েছি ঘরের বার।
তখন মৃত্যু আমরে দংশেছে আবার।

বেঁধেছিলাম সংসার বাঁধন, হয়েছিল সুখের বন্যা।
পুনঃমৃত্যু হল তখন, যখন তার জীবনে এলো সুন্দরী, ধনী কন্যা।
সর্বহারা, নিঃস্ব হয়ে এসেছি তোর দ্বারে,
করতে তোর পায়ে নিজেরে সমর্পণ।
গ্ৰহণ কর, আমার এ আকুতি,নিবেদন।
জানি মা তুই ও ত্যজেছিস মোরে, মতো সকলের।

আগেই ক্ষয় হয়েছি,এখন মৃত্যু হবে এই মৃতের।
মৃত ই তো ছিলাম, পরেও মরেছি বারবার
সকলের প্রত্যাখ্যানে মৃত্যু দরজায় কড়া নাড়ছে পুনর্বার।
এত কিছুর পরও,অস্বীকার করতে পারিনি নিজের সত্বাকে।
তাই নির্ভাবনায় গ্ৰহণ করেছি মৃত্যুকে।

মৃত্যুর মৃত্যু হয়েছে বারবার,
ফিরতে চাইনা এপৃথিবীত আবার।
তোর চরণে এই মোর প্রার্থনা,
এ পৃথিবী, এ সমাজ যে, আমার যোগ্য না। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.