পতিতা

কবিঃ- প্রেমেন্দ্র মিত্র

ওরা আমাকে পতিতা বলে,

আমি নাকি হাজার পুরুষের সঙ্গ খুঁজে বেড়াই–

কিন্তু তুমি বলো তো,সেদিনকার ছেলেটার চোখদুটো কেন তোমার হয়ে গিয়েছিল?

আমি তো একটু ছুঁয়ে দেখেছি শুধু।

তোমার ঘর্মাক্ত শরীরের গন্ধ যদি বাসের পাশের সিটের ছেলেটার থেকে পাই,

তাহলে আমি কেন তার ঘাড়ে মাথা রেখে মাতাল হবোনা,বলো?

সমস্বরে সবাই আমাকে বেশ্যা বলে,

কিন্তু আমি তো জানি,

পাশের ছাদের ছেলেটার লোমশ বুকের দিকে তাকিয়ে আমি কী খুঁজি!

তোমার মনে পড়ে?

যখন তোমার পশমের চাদরে আমি লুকোতে চাইতাম–

দুশ্চরিত্রের মত সেদিন টঙ দোকানের ছেলেটার নিকোটিন-মিশ্রিত কালো ঠোঁটে আমি পরশ বুলিয়ে দিলাম,

সবাই আমাকে চরিত্রহীনের কাতারে ফেলে দিল!

তার বিপদডাকা গোঁফ-দাড়িতে তুমি কেন নেশা হয়ে মিশেছিলে?

আচমকাই তুমি সেদিন পার্কের এক কোণে বসে রইলে,

আমি তোমার দোলায়িত চুলগুলোর দিকে অভিভূত হয়ে চেয়ে থেকে হাত বুলাতেই অন্য কেউ হয়ে গেলে!

ঘোরটা কেটে যেতেই দেখলাম তোমার একটা অবয়ব ঐ তরুণটা চুরি করেছে–

তুমি তো জানো,

আমি পতিতা নই,

আমি রাতজাগা-নিশাচর নই;

রাত জেগে আমি আকাশের তারা গুণি তোমাকে পাড়ি দিতে–

সাধ্যতীত তারা গুণতে গেলে আমার তীব্র-সাধ্যতীত রাতটা যে পেরিয়ে যায়!

সমপ্রেমের গল্প

December 24, 2018

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.