অপেক্ষার হাতে একমুঠো রোদ

কবিঃ শব্দকর

মুঠোয় পুরেছি তাজা খানিকটা সকালের রোদ,

তার বাহু আঁকড়ে ধরে নরোম গালে মাখিয়ে দেবো বলে।

তার চমকে যাওয়া চোখ কপট রাগে বলবে-“ডাকাত একটা!”

মুঠোর ভেতর বন্দী রোদ ছটফটায়,

সূর্যের শরীর থেকে নিজেকে আলগা করার পর

সে চেয়েছিলো পায়রার ঝাঁকে আছড়ে পড়ে ঝিক করে উঠতে।

স্থবির আমার পাশ কেটে চলে যায় অসংখ্য জোড়া চোখ, অপরিচিত,

আর দৃষ্টি বিদ্ধ করে সাঁত করে ছুটে আসা শরের মতোন।

কারো গ্রীবা, কারো চাহনী,

কারো এলোমেলো হাঁটতে হাঁটতে হঠাত কাঁধ ঝাঁকানোর ভঙ্গীটা,

আমায় পাশ কাটানো প্রতিটা মুখ “সে” হয়ে ওঠে,

টুকরো রোদটা বলে-“এইবার??”

আঙুল গলে পিছলে বেরিয়ে যাবার সমস্ত চেষ্টা

বিফল করে দিয়ে, আমি রোদটাকে সারাদিন আটকে রাখি।

হেলে পড়া সূর্য ডাকে “ফিরে আয় রোদ, কাল আবার আসিস?”

আঙুলের বাঁধন আমি আলগা করে দিই।

ক্ষয়ে আসা বিকেলে বড়ো বেমানান ভোরের চকমকে তাজা ঘ্রাণের রোদ।

তবুও চলে যাবার আগে,

কি ভেবে রোদটা

আমার কাঁধের ওপর সান্ত্বনার উষ্ণ স্পর্শ রেখে যায়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.