তোমার গল্পে আমি

>এই তুমি কালকে বাসা থেকে তারাতারি বের হবে…
>> বাবু আমি ট্রাই করবো তাড়াতাড়ি বের হতে কিন্তু অনেক প্রবলেম হয় তুমি তো জানই।
>আমি কোনো কথা শুনতে চাই না।
>> একটু বোঝার ট্রাই করো। কালকে শুক্রবার। বাসা থেকে তো কিছু একটা মিথ্যা বলে বের হতে হবে। তুমি তো জানো ছেলে মানুষ হয়েও আমার বাইরে যাওয়া নিষেধ।। কারন আমার এই জগতের সকল বিষয় সবাই জানে ।।
> কালকে আমাদের ফাস্ট valentine. আর এই দিনেও এমন করবা তুমি। ঠিক আছে আসতে হবে না।
>> রাগ করো কেনো সোন। আমি বের হবো যাও।
> এইতো আমার লক্ষীটি। কালকে আমরা অনেক ঘুরবো, অনেক মজা করবো।
>> কি কি করবা কালকে।
> কালকে আমরা বাইকে ঘুরবো, দুজন এক সাথে বসে গল্প করবো, মজা করবো। তুমি ফুসকা খাবা আর আমি তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবো।
>> আমার মনে হচ্ছে আমি এখনি বাসা থেকে পালিয়ে বের হয়ে তোমার বাইকে করে সারা রাত ঘুরি।
> সত্যি যাবা আমি আসবো তোমার বাসার সামনে।
>> এই না আসবা না ভয় লাগে । কেউ দেখলে সমস্যা হবে। তোমাকে পরে কিডনাপার বলে মারবে ।।
> তোমার শুধু সমস্যা আর সমস্যা।
>> তুমি আমার জায়গায় হলে বুঝতা যে কেনো ভয় পাই। আর কেনোই বা এতো সমস্যা।
> রাজ..?
>> হুম বলে।
> একটা ইয়ে দাও না।
>> ইয়ে কি..?
> কিস্
>> ভালো করে বলতে পরো না। ভালো করে বললেই তো দেই।
> আচ্ছা বাবা এখন একটা কিস্ দাও।
>> না দিবো না। তুমি ফাস্টে ভালো করে বললা না কেনো।
> এখন তো বলেছি এখন দাও।
>> না তাও হয় নাই। আরো ভালো করে বলতে হবে।
> কি আজব আরো ভালো করে কিভাবে বলবো।
>> তুমি যানো কিভাবে বলবা। ভালো করে না বললে আমি কিস্ দিবো না।
> রাজ তোমার ঠোঁটের special মিষ্টি টা দাও না সোনা।
>> এই নাও। umaaaaaaaaaaah
> এই টুকুই
>> হুম। আচ্ছা তুমি ফোনে এভাবে কিস্ নিয়ে কি শান্তি পাও।
> এটা তুমি বুঝবা না।
>> আরে বলোই না।
> এভাবে যখন তুমি কিস্ দাও তখন মনের মধ্যে এক ধরনের শান্তি পাই। মনটা হাজার খারাপ থাকলেও ভালে হয়ে যায়।
>> শুধু ঢং তাইনা।
> এর জন্যই তখন বললাম তুমি বুঝবা না। তোমার কাছে এটা ঢং হলেও আমার কাছে এটা অনেক মূল্যবান একটা জিনিস।
>> বুঝেছি। আচ্ছা মিষ্টি শুধু তুমিই নিবা নাকি আমাকও দিবা।
> তোমার কাছে তো ঢং মনে হয়। তাহলে এটা নিবা কেনো।
>> দিতে বলছি না তোমাকে দাও।
> আচ্ছা এই নাও। umaaaaah
>> একটা কেনো
> হুম একটাই
>> না আরো দিবা।
> না আমি দিবো না। তুমিও একটা দিছো আমিও একটা।
>> না তুমি আরো দিবা।
> না
>> কালকে কিন্তু আসবো না।
> আচ্ছা দিচ্ছি।
>> এই তো আমার সোনা বাবুটা।
> আচ্ছ রাজ কালকে একটা পাঞ্জাবি পরে আসবা। তোমার যে একটা হলুদ পাঞ্জাবি আছে ওটা।
>> গাধা ওটা আমার পাঞ্জাবি না ওটা ভাইয়ার পাঞ্জাবি।
> তাই কি ওমনি পরে আসবা।
>> কেমনে পরবো বলো। পাঞ্জাবি পড়লে বা সাজু গুজু করলে সবাই সন্দেহ করবে।

বলবে মনে হয় কোনো ছেলের সাথে দেখা করতে যাবে। বিশেষ করে ভাইয়া বেশি সন্দেহ করবে।
> এক কাজ করবা কালকে বের হওয়ার সময় ব্যাগে করে পাঞ্জাবি টা নিয়ে আসবা। তারপর তোমার কোথায় একটু দাড়িয়ে পড়ে নিবা।।
>> তা কেনো। আমি তোমার বাড়িতে আসি তারপর তুমি পড়িয়ে দাও।
> আসো তাহলে তো ভালোই হয়। আমি নিজে হাতে তোমাকে পাঞ্জাবি পরিয়ে দিবোনি। সাথে প্যান্ট ও পড়িয়ে দিবো।
>> ইসস খুব শখ তাই না।
> হুম অনেক শখ । আর এই পাঞ্জাবি পরানোর বাহানায় তোমার সব জায়গায় টাচ্ করবো।
>> যা দুষ্টু কি বলো এগুলো।
> একটু করে টাচ্ লাগবে আর তুমি শিউরে উঠবা। তারপর আমাকে জড়িয়ে ধরবা। আমি মিষ্টি খাবো।
>> তুমি চুপ করবা এখন। নিলয় তুমি কিন্তু অনেক দুষ্টু হয়ে গেছো এখন।
> এমন করো কেনো। আমি তোমার সাথে দুষ্টুমি করবো না তো কার সাথে করবো বলো।
>> নিলয় তুমি এমন করে বললে আমার লজ্জা লাগে না বুঝি।
> (মন খারাপ করে) আচ্ছা আর বলবো না যাও।
>> আমার বাবুটা রাগ করেছে বুঝি। দেখি আমার বাবুটাকে রাগ করলে কেমন লাগে।
> না দেখতে হবে না যাও ঘুমিয়ে পরো।
>> না ঘুমাবো না। আমি আমার বাবু টাকে দেখবো।
> কালকে দেইখো।
>> নিলয় কালকে কিন্তু তুমিও পাঞ্জাবি পরে আসবা।
> না আসবো না।
>> তাহলে আমিও কিন্তু পাঞ্জাবি পরবো না বললাম।
> আমি তো মজা করছিলাম। আসবো তো। ঐ রাজ একটু দেখাবা।
> কি দেখাবো।
> ঐযে ইয়ে মানে।
>> না বাবু এখন ই না আমাদের সম্পর্ক টা আগে দীর্ঘস্থায়ি হোক।
> না এখন একটু দেখবো।
>> নিলয় এখন কিন্তু বেশি বেশি হয়ে যাচ্ছে। আমি কিন্তু ফোন কেটে দিবো।
> আরে রাগ করো কেনো আমি তো তোমাকে দেখতে চাইছি।
>> আচ্ছা তাই না। এখন আমাকে দেখে কি হবে।
> আম্মু বলেছে ঘুমানোর আগে সুন্দর কাউকে দেখলে ঘুম ভালো হয়।
>> (রাজ হাসি দিয়ে) তাই নাকি। আচ্ছা নাও দেখ।
> তোমায় একবার দেখলে মন ভরে না।
>> আচ্চা বাবু কালকে যত ইচ্চা দেইখো এখন ঘুমাও।
> ঔ কালকে তারাতাড়ি আসবা কিন্তু।
>> আচ্ছা বাবা আসবো। এখন ঘুমাও।
> আচ্ছা।
.
( রাজের ফোনের ওপাশ থেকে নিলয়ের কথাগুলো শুনে মনে মনে হাসতেছে আর বলতেছে পাগল একটা। এই পাগলটাকে আরও কয়টা বছর আগে পাইলে আরো ভালো হতো।)
.
(এতক্ষণ যারা ফোনে কথা বলছিলো তারা হলো রাজ আর নিলয়। দুজন দুজনকে অনেক ভালোবাসে। কেউ কারো সাথে কথা না বলে থাকতে পারে না।
তাদের পরিচয়টাও অনাকাঙ্ক্ষিত ভাবেই হয়েছিলো। 31st নাইটে নিলয় তাদের বাসার ছাদে একটা পার্টি রাখে। সেখানে আসে নিলয়ের দুই বন্ধু তুহিন আর তুহিনের ফ্রেন্ড রাজ। নিলয় সেখানেই প্রথম রাজকে দেখে। আর দেখেই একদম ফিদা হয়ে যায়। রাজ একটা হোয়াইট কালার এর ড্রেস পরে ছিলো। রাতের বেলায় যেনো রাজকে দেখতে রাজকুমারের মতো লাগছিলো। নিলয় হা করে তাকিয়ে আছে রাজের দিকে।
.
>< কিরে দোস্ত কি দেখছিস।
> (বাস্তবে ফিরে) কই কিছু না তো।
>< হু হু বুঝি বুঝি।
> ছেলেটা কেরে।
>< আমার ফ্রেন্ড। নাম রাজ।
> ছেলেটা দেখতে অনেক মিষ্টি ও কি তোর মত গে।
>< হুম ও আমার মত ই । বলবো ওকে।
> না বলিস না। বললে কি না কি ভাববে।
>< ঠিক বলেছিস দোস্ত রাজ এসব পছন্দ করে না। ও মনে করে এগুলো ফেক।
> আচ্ছা তুই ওর নাম্বার আর ফেসবুক আইডিটা আমাকে দিস।
>< ওকে দোস্ত।
> চল এখন dj চালু করি।
.
ডান্স এর সময় নিলয় অনেক বার রাজের দিকে দেখেছে রাজও দুই একবার খেয়াল করেছে। হঠাৎ নিলয়ের কি যেনো মনে হয়। নিলয় একটা ফুল নিয়ে রাজের সামনে গিয়ে হাটু গেরে বসে প্রোপজ করে। তারপর রাজ……
ডান্স এর সময় নিলয় অনেক বার রাজের দিকে দেখেছে রাজও দুই একবার খেয়াল করেছে। হঠাৎ নিলয়ের কি যেনো মনে হয়। নিলয় একটা ফুল নিয়ে রাজের সামনে গিয়ে হাটু গেরে বসে প্রোপজ করে। তারপর রাজ……
.
>> একি আপনি এটা কি করছেন। (রাজ রাগী লুকে)
> রাজ প্রথম দেখাতেই আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। তোমাকে দেখার পর আমি অন্য সব ভুলে গেছি। এখন আমার সবটা জুড়ে শুধু তুমিময়। অনেক অনেক ভালোবাসি তোমাকে। (নিলয়)
>> না আপনার সাথে আমার আগে কখনও দেখা বা কথা হয়েছে , না আমি আপনাকে চিনি বা আপনি আমাকে চিনেন তাহলে এখানে love টা কেমনে হলো।
> ভালোবাসতে কোনো সময় এর প্রয়োজন বা দেখা বা কথা বলার দরকার হয় না রে পাগলু । ভালোবাসা একটা মূহুর্তের ব্যাপার। এটা হুট করেই হয়ে যায়।
>> না আমি এসব মানি না। আমি এসব পারবো না।
> কেনো পারবা না। একবার ভালোবেসেই দেখো আমি তোমার পৃথিবীটা বদলে দিবো।
>> দেখুন নিলয় আমি যেমন আছি অনেক ভালো আছি। আর যেটা হুটহাট করে তাড়াতাড়ি হয় সেটা ভাঙ্গতেও সময় লাগে না।
> তুমি চাইলে সব সম্ভব। তুমি চাইলে আমাদের সম্পর্কটা হবে একদম ফেবিকল আঠার মতো। কখনও ভাঙ্গবে না।
>> আপনার মতো ছেলেদের আমার জানা আছে। প্লিজ আমাকে আর এসব বলবেন না। (রাজ )
> রাজ তুমি কি তোমার চোখটা কতটা গভীর। আর তোমার সেই গভীরতায় ডুব দিতে চাই। (নিলয়)
>> রাখেন আপনার ফালতু কথা। এসব কথা যাকে বলে কাজ হবে তাকে গিয়ে বলেন আমাকে বলছেন কেন। স্টুপিড,,,
.
এই বলে রাজ ওখান থেকে হনহন করে বেড়িতে চলে গেলো। আর নিলয় রাজের যাওয়ার দিকে তাকিয়ে রইলো অসহায় এর মতো।
.
<> কিরে দোস্ত এমন করে গালে হাত দিয়ে বসে আছিস কেনো। পাখি ধরা দিলো না।
> নারে পাখি টা পাখনা মেলে উড়াল দিয়ে চলে গেলো। একবার পিছন ফিরে দেখলও না।
<> হা হা হা হা হা হা
>নিলয় তুহিনের কান ধরে
<> আরে ছাড় লাগছে তো।
> তোর জন্যই এমন হলো।
<> আমি কি করলাম আবার।
> তুই আগে বলিস নাই কেনো রাজ এতো রাগি একটা পোলা। আর ও এসব লাইক করে না।
<> বললে কি হত। তুই কি শুনতি আমার কথা।
> না শুনতাম না বাট অন্য স্টাইলে প্রোপজ করতাম।
<>হইয়ে হইছে৷ এই নে এটা রাজের ফোন নম্বর। এখন দেখ পারিস কিনা।
.
তারপর তুহিনের থেকে রাজের নাম্বার টা নিয়ে নিলয় রুমে চলে গেলো। রুমে গিয়ে ভাবতে লাগলো ফোন দিবে কি দিবেনা৷ এটা ভাবতে ভাবতে নিলয় কখন ঘুমিয়ে গেছে বুঝতেই পারে নাই। নিলয় সকালে ঘুম থেকে উঠে তুহিনকে ফোন দিলো।
.
> তুহিন বন্ধু আমার কি করিস, কেমন আছিস, শরীর ভালো আছে।
<> কিরে হনুমান আজকে এত ভালো ব্যবহার।
> না মানে হয়েছে কি..
<> মানে মানে বলে ফেলো হনুমান।
> রাজ বাসা থেকে বের হবে কখন৷
<> ও এইটা। একটু পরেই বের হবে। আমি আর রাজ এক সাথে প্রাইভেটে যাবো।
>সময় টা বল
<> ৮ টা
>( নিলয় ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখে ৭ঃ৩০ বাজে) ঠিক আছে এখন বাই দেরি হয়ে গেলো।
<> এই হনুমান হ্যালো হ্যালো।
.
নিলয় ফোনটা কেটে দিয়ে ফ্রেস হতে চলে গেলে। ফ্রেস হয়ে এসে দেখে ৮ টা বাজে। নিলয় দৌড়ে রাজদের বাসার সমনে চলে গেলো। তখনি রাজ আর তুহিন বাসা থেকে বের হয়েছে। নিলয় রাজের পিছন পিছন যাচ্ছিলো এটা রাজ ভালো ভাবে খেয়াল করলো। তারপর রাজ পিছন ঘুরে নিলয়ের দিকে এগিয়ে গেলো।
>>আপনার সমস্যা কি বলেন তো? (রাজ)
>কেন বলুন তো? (নিলয়)
>>আপনি আমাকে ফলো করছেন,, কিন্তু কেন?? (রাজ)
> ধন্যবাদ আপনাকে,, (নিলয়)
>>কেন??(রাজ )
>আমি আপনাকে ফলো করতেছি এটা খেয়াল করার জন্য ,,(নিলয়)
>> কিন্তু কেনো করবেন। (রাজ)
> এমনিতেই আপনাকে ভালো লাগে তাই,,(নিলয়)
>> ন আর ফলো করবেন না। এটা আমার ভালো লাগে ন। (রাজ)
> এভাবে রাগ করেন কেনো। একটা কথা ছিলে শুনেন না একটু। (নিলয়)
>> কি কথা তাড়াতাড়ি বলে ফেলেন আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। (রাজ)
>আপনাকে তো সেই রাতের আধারে সাদা ড্রেসটাতে
দেখেই ক্রাশ খাইছি (নিলয়)
>> বাট আমি আপনাকে এই রকম লুঙ্গি পড়া অবস্থায় দেখে ক্রাশ খাইনি। (রাজ)
.
রাজের কথা শুনে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে টিশার্ট আর লুঙ্গী পরে আসছে। লজ্জায় আর তাকতে পারছিলো না নিলয়। তারপর লুঙ্গীটা ধরে এক দৌড়ে বাসায় চলে গেলো।
.
<>এই হনুমান কই যাস শোন শোন। (তুহিন)
> না এখন শোনার টাইম নাই। (নিলয়)
.
নিলয় এর কান্ড দেখে তুহিন আর রাজ হাসতে লাগলো।
রাজের কথা শুনে নিজের দিকে তাকিয়ে দেখে টিশার্ট আর লুঙ্গী পরে আসছে। লজ্জায় আর তাকতে পারছিলো না নিলয়। তারপর লুঙ্গীটা ধরে বাসার দিকে দৌড়৷
.
<>এই হনুমান কই যাস শোন শোন। (তুহিন)
> না এখন শোনার টাইম নাই। (নিলয়)
.
নিলয় এর কান্ড দেখে তুহিন আর রাজ হাসতে লাগলো।
.
<> রাজ আমার বন্ধু কিন্তু অনেক ভালো।
>> হ্যা ভালো কিন্তু একটু বোকাও আছে।
<> তোর বন্ধুকে ভালো লাগে না।
>> একটু একটু লাগে বাট আমি এই সব রিলেশন করতে চাই না।
<> কেনো। রাজ তো তোকে অনেক ভালোবাসে।
>> বাট আমি বাসি না। আর তুই আমাকে এসব কথা বলবি না ওকে।
<> আচ্ছা চল.
.
বিকেলে নিলয় আবার সেই রাস্তার পাশে দাড়িয়ে আছে। নিলয় দেখতে পেলো রাজ আসছে। রাজকে দেখেই নিলয় ডাক দিলো।
.
>রাজ তোমার সাথে আমার কিছু কথা ছিলো।
>> বাট আপনার সাথে আমার কথা নাই৷ আর এভাবে রাস্তায় আমাকে ডাকবেন না।
> কেনো এমন করছো একটু ভালোবাসলে কি হয় বলবা।
>> ভালোবাসা কখনও একটু হয় না। ভালোবাসলে সবটুকু দিয়েই ভালো বাসতে হয়।
> তাহলে সবটুকুই দিয়ে ভালোবাসো না।
>>না পারব না,,,
>কেনো পারবা না তুমি।
>>কারণ আপনাকে আমার একদম সহ্য হয় না,,
>আমি জানি তুমি ফাজলামো করছো,, আমাকে তোমার একটু হলেও ভালো লাগে।
>> আপনার মনে হয় না আমি বিরক্ত হচ্ছি,,
>কই,, আমি তো জানি তোমারও ভালো লাগে,,
>>ভুল জানেন আপনি,,, প্লিজ দয়া করে আর বিরক্ত করবেন না,,
>তুমি অনেক সুন্দর সেটা জানো??
>>তো কি হইছে
>অনেক ছেলে তোমাকে ভালবাসতে চায়,,
>>তো আমি কি করতে পারি,,??
>সবাই কে রেখে আমাকে ভালবাসবে,, কারন আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি,,,
>>দেখুন আমাকে এখন বাসায় যেতে দিন। না হলে কিন্তু ভালো হবে না বলে দিচ্ছি।
>আমি কি অনেক খারাপ।
>>আমি তো আপনাকে খারাপ বলিনি।
>তাহলে কেন বললে আমাকে তোমার সহ্য হয় না??
>>আপনি যে বারবার বিরক্ত করেন সেটা সহ্য করার মত না,
> আমি কি করেছি বলো। আমার মনটা তোমাকে বড্ড বেশি ভালোবেসে ফেলেছে। বার বার শুধু দেখতে চায় তাই দেখতে চলে আসি।
>> আমার মন আপনাকে চায় না,
>আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব,,শুধু একটু ভাবো আমার কথাটা।
>> আমি আপনাকে আমার জন্য অপেক্ষা করতে বলছি না,,আর আমি ভাবতেও পারবো না।
> কিন্তু আমি অপেক্ষা করে থাকব,,
>> যদি পরিশেষে অন্য কারো হয়ে যাই আমি তখন কি করবেন৷
> ভাগ্য কে মেনে নিব,, সেদিন হয়তো নিজেকে বলতে পারব অপেক্ষা করেছি কিন্তু আমার কপাল খারাপ ছিল,,, কিন্তু তার আগে যদি পিছনে সরে যাই তবে তো নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারব না,,
>> দেখেন আমি আর আপনার সাথে একটা কথাও বলতে পারবো না। আর আমাকে বিরক্ত না করলে খুশি হতাম,,
> বিরক্ত আগেও করিনি এখনো করবনা,,, শুধু ছায়া হয়ে ভালবেসে যেতে চাই৷ প্লিজ রাজি হয়ে যাও না।
>>দেখুন আপনি আমার চোখের সামনে থেকে দূর হবেন নাকি আব্বু কে ডাকবো।
> থাক তোমার খাটাস মার্কা আব্বুকে ডাকার দরকার নাই আমি যাই।
> কি বললেন আপনি৷
> কই কিছু বলিনি তো
>>আপনার মতো শয়তান ছেলেকে একদম সহ্য হয় না।
> রাজ ঔ দেখো তোমার আব্বু।
>> কই কই
.
যখনি রাজ অন্যদিকে ঘুরেছে তখনি নিলয় রাজের গালে একটা কিস করে দৌড়।
.
>> আপনাকে আমি ছাড়বো না৷
> আমিও তোমাকে ছাড়তে চাই না।
>>শয়তান ছেলে একটা৷
তারপর রাজ বাসায় চলে গেলো।রাতে রাজ নিলয় কথা ভাবলো। ছেলেটা কি আসলেই ভালোবাসে নাকি মজা করে। না এভাবে কেউ মজা করে না। বাট আজকে আমার সাথে যা করলো এর শোধ আমি নিবই।এক মাস হয়ে গেলো রাজের পিছনে ঘুরি ছেলে টা আমাকে পাত্তাও দেয়না ভাবা যায়। এত করে বলি তাও ছেলেটা শোনে না। মনে হয় কিডনাপ কইরা নিয়া যাই । না থাক সেটা করা যাবে না। আমি তো ভালো ছেলে৷
রাজকে আমার খুব ভালোলাগে৷ কেনো জানি না ওকে ছাড়া কিছু ভাবতে পারি না৷ , রাজ আমার জন্য
পারফেক্ট একটা ছেলে। নিলয় বাইরে টোং দোকানে বসে এগুলো ভাবতেছে আর সিগারেট টানছে। সিগারেট খাওয়ার সময়
আশপাশটা ভালোভাবে দেখে নিচ্ছে যদি কেউ দেখে ফেলে। নিলয় সিগারেট খায়না আজকে কেনো জানি মনে হলো তাই খাচ্ছে। আসলেই সিগারেট বোঝে একটা মানুষের কষ্ট।
নিলয় হঠাৎ কি ভেবে পিছনে তাকাতেই
দেখে
একটা ছেলে নিলয়ের দিকে তাকিয়ে আছে।
নিলয় তেমন গুরুত্ব না দিয়েই সিগারেট খাচ্ছে।
এমন সময় পিছন
থেকে ছেলেটি নিলয়ের কাছে চলে আসলো।
.
~এইযে (ছেলেটি)
-জ্বী
.
( পিছন ফিরে তাকাতেই মনে হয় নিলয় যেনো ভূত দেখে ফেলেছে। আরে এতো রাজ। হায় হায় আজকে শেষ৷)
.
>> আপনি সিগারেট খান
> না মনে জ্বী মানে হ্যা । মানে হয়েছে কি..নিলয়)
>> আমাকে আর বোঝাতে হবে না। আমি আপনাকে ভালো ভাবতাম।
> রাজ আমি সিগারেট খাইনা৷
>> তাই তো আজকে আমি নিজের চোখে দেখলাম।
> কেমতে বোঝামু তোমাকে আমি।
>> আমাকে বোঝাতে হবে না। আপনি আর কখনো আমার সাথে কথা বলবেন না। আর আমার পিছনে আসার ট্রাই করলে মেরে নাক ফাটিয়ে দিবো।
.
এটা বলেই রাজ চলে যেতে গেলো। আর নিলয় দাড়িয়ে দাড়িয়ে রাজের চলে যাওয়া দেখলো।
বিকেলে নিলয় বাসার ছাদে দাড়িয়ে আছে। হঠাৎ খেয়াল করলো
রাস্তা ধরে এক রাজকুমার আসছে বাট ছাদ থেকে ভালো ভাবে দেখা যাচ্ছে না
ছেলেটি কাছাকাছি আসতেই নিলয়ে চিনতে ভুলো হলো না যে এটা রাজ।
রাজকে পাঞ্জাবি পরলে যে এত ভয়ংকর
সুন্দর লাগে সেটা নিলয়ের জানা ছিলো না।
রাজ তুহিনের সাথে হাত
নেড়ে
নেড়ে কথা বলছে আর নিলয় তাকিয়ে
আছে
এমন সময় ফোনের রিং এর শব্দে বাস্তবে ফিরলো নিলয়। ফোন টা হাতে নিয়ে দেখে শাকিলের ফোন। শালার ফ্রেন্ড গুলাও ফোন দেওয়ার সময় পায় না।
.
> হ্যালো শাকিল বল।
– দোস্ত বাইরে আয় এক জায়গায় যাবো।
> কোথায়।
– দোস্ত নীল তো আমার সাথে রিলেশনশিপে রাজি হইছে। এখন দেখা করতে যাবো।
.
( নিলয় মনে মনে ভাবলো শালার আমি মনে হয় একমাত্র বলদ যে এখনও একটা ছেলেও পটাইতে পারি না।)
.
> শাকিল তুই একা যা না।
– আয় না আগে তুই। তোরে ছাড়া যামু না।
.
কি আর করার এক প্রকার জোড় করেই নিয়ে গেলো। সন্ধ্যায় বাসায় ফিরে নিলয় দেখে ওর আব্বু আম্মু বসে আছে।
যেতেই আব্বু বললো।
.
— নিলয়ের আম্মু নিলয়কে বাসার ঢুকতে না করো। ও আজকে সারা রাত বাসার বাইরে থাকবে।
>কেনো কি হইছে।
— কি হইছে তাই না। রাস্তায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে সিগারেট খাইছে।
>> (শেষ আজকে আর রক্ষা নাই) কি জানি কে সিগারেট খাইছে আমি কেমনে কমু।
— হারামজাদা তুই মিথ্যা বলিস। আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন।
> আব্বা বিশ্বাস করো আমি সিগারেট খাই নাই। হয়তো ভুল দেখেছো।
.
তখনি পাশের রুম থেকে রাজ বলতে লাগলো।
>> না আংকেল আমি নিজের চোখে দেখেছি সিগারেট খাইতে।
.
আমি রীতি মতো থ। দেখি তুহিন আর রাজ দাড়িয়ে।আব্বু এসে আমার কানটা ধরে বল আরো খাবি….
.
> না আব্বু আমি আর খাবো না।
– নিলয়ের আব্বু ছাড়ো ওকে।
তারপর আব্বু কান ছেড়ে দিলো।
নিলয়ের আম্মু নিলয়কে বাসার ঢুকতে না করে। ও আজকে সারা রাত বাসার বাইরে থাকবে।
>কেনো কি হইছে।
— কি হইছে তাই না। রাস্তায় দাড়িয়ে দাড়িয়ে কে সিগারেট খাইছে।
>> (শেষ আজকে আর রক্ষা নাই) কি জানি কে সিগারেট খাইছে আমি কেমনে কমু।
— হারামজাদা তুই মিথ্যা বলিস। আজকে তোর একদিন কি আমার একদিন।
> আব্বা বিশ্বাস করো আমি সিগারেট খাই নাই। হয়তো ভুল দেখেছো।
.
তখনি পাশের রুম থেকে রাজ বলতে লাগলো।
>> না আংকেল আমি নিজের চোখে দেখেছি সিগারেট খাইতে।
.
আমি রীতি মতো থ। দেখি তুহিন আর রাজ দাড়িয়ে।আব্বু এসে আমার কানটা ধরে বল আরো খাবি….
.
> না আব্বু আমি আর খাবো না।
– নিলয়ের আব্বু ছাড়ো ওকে।
তারপর আব্বু কান ছেড়ে দিলো। আর দেখি রাজ হাসতেছে।
-নিলয় এদিকে আয় তো? (আম্মু)
>হ্যাঁ আম্মু (কাছে গিয়ে)
-তোর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই এই
হচ্ছে
এ হচ্ছে রাজ তুহিনদের বাসায় ভাড়া থাকে!
আর রাজ , এটা আমার একমাত্র
ছেলে
নিলয়
>>হাই (রাজ)
>হ্যালো (নিলয়)
এভাবেই রাজের সাথে নিলয়ের পরিচয়।
পরে নিলয়
জানতে পারে রাজ ইন্টার ফাস্ট ইয়ারে পড়ে
মোটামুটি ভালো ছাত্র
.
আজ শুক্রবার ছুটির দিন তাই নিলয় ভাবলো আজ
সারাটা দিন ঘুমাবে কিন্তু
সকাল হতেই আম্মুর ডাক।
.
– নিলয় বাবা ওঠ ফ্রেস হয়ে নাস্তা করে নে।
> আম্মু আজকে ছুটির দিন শান্তিতে একটু ঘুমাতেও পারবো না
– নাস্তাটা করে ঘুমা। আর তোর আব্বু ডাকছে।
> ধুর ভালো লাগে না।
.
তারপর নাস্তা সেরে আবার ঘুমালো নিলয়। বিকেলে উঠে বাহিরে ঘুরতে যাওয়ার জন্য বের হতেই নিলয় দেখে রাজের বাসার ফাকা জায়গাটায়
দাড়িয়ে ছোটদের সাথে কি যেনো করছিলো। রাজ নিলয়কে
দেখে
ডাকলো।
.
>> কি নিলয় সাহেব এভাবে তাকিয়ে আছেন যে।
> খুব দেখতে ইচ্ছে করলো তো তাই।
>> ও তাই বুঝি৷ তো কই যাচ্ছিলেন।
> এইতো ঘুরতে।
>> ঘুরতে নাকি আবার লুকিয়ে লুকিয়ে সিগারেট খেতে।
> এই না না আমি ওসব খাই না৷ সেইদিন এমনি একটু খাইছি।
>> আপনাকে এখন কেমনে বিশ্বাস করবো বলেন।
>আমি সত্যি খাই না৷
>> এক কাজ করি চলুন আমিও আপনার সাথে যাবো।
.
কথাটা শুনে নিলয়ের মনে লাড্ডু ফুটে৷ এতো মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি৷ যাকে পাওয়ার এতো ট্রাই করছি আজকে সেই আজকে আমার সাথে ঘুরতে যাবে। নিলয় মনে মনে ভাছে৷
.
>> এই যে মিঃ নিলয় কি ভাবছে হুম।
> কই কিছু নাতো৷
>> আমি জানি আপনি কি ভাবছেন৷
> কি ভাবছি বলো শুনি৷
>> আপনি আমাকে না নিয়ে যাওয়ার ফন্দি আটছেন। কারন আমাকে নিয়ে গেলে তো আপনি সিগারেট খাইতে পারবেন না৷
> আচ্ছা চলো আমার সাথে।
>> হেঁটে যাবো নাকি একটা রিক্সা নিবেন।
> নিলয় রাজের দিকে হা করে তাকিয়ে আছে৷
>> এমনে হা করে আমাকে দেখার কি আছে চলুন তো।
.
তারপর রাজ নিলয়ের হাত টা টানতে টানতে নিয়ে যাচ্ছে আর নিলয় রাজের দিকে তাকিয়েই আছে। তারপর একটা রিক্সা নিয়ে দুজনে উঠলো৷ তারপর দুজন অনেক ঘুরলো। বাসায় যাওয়ার সময় নিলয় বললো।
.
> কাল কেউ কি যেতে পারি আবার।
>> কই যাবেন। কি বলছেন৷
> না মানে আজকের মতই আবার যদি যাওয়া যেত৷
>> খুব শখ তাই না৷
> হুমমম অনেক।
>> তাহলে ভেবে দেখবো।
> সত্যি তো।
>> হুম এখন বাই৷
> কালকে বিকেল চারটায় এখানে এসো।
>> বললাম না ভেবে দেখবো।
> ওকে।
.
তারপর রাজ চলে গেলো আর নিলয় ও বাসায় চলে আসলো। পরের দিন বিকেলে নিলয় একটা পাঞ্জাবি পরে ঔখানে গেলো। গিয়ে দেখে রাজ আসেনি। তখন নিলয়ের মনটা খারাপ হয়ে গেলো। নিলয় সেখানে মন খারাপ করে যেই আসতে নিয়েছে ওমনি পিছন থেকে রাজের কণ্ঠ শুনতে পেলো। নিলয় তো পিছনে তাকিয়ে রাজকে দেখে আবার নতুন করে ক্রাশ খেলো। রাজ নীল একটা ড্রেস পড়েছে হাতে ঘড়ি ,চোখে কালো চশমা। এ যেনে এক কিউট এর ডিব্বা।
.
> বাহ আজকে তো তোমাকে একদম আকাশের ঔ চাঁদটার মতো লাগছে।
>>আপনাকেও এই সাদা পাঞ্জাবিটাতে অনেক সুন্দর মানিয়েছে
> রাজ আমি তোমাকে
দেখে আবার নতুন করে
ক্রাশ খাইছি
>> হিহি
> হাসছো কেন?
>> আপনি আবার ক্রাশ খেলেন তো তাই একটু হাসি পেলো।
>হ্যা খেয়েছি তোমার কোন সমস্যা
আর হাসবা না।
>> হ্যা সমস্যা তো। কারন আপনি কেমন জানি ডেব ডেব করে তাকিয়ে থাকেন৷
>কি বলবো কেনো তাকিয়ে থাকি৷
>> হুম বলেন এমন ভাবে তাকিয়ে থাকেন কেনো।
> এমনভাবে তাকিয়ে থাকার কারন টা হলো তুমি৷ তুমি এত সুন্দর কেনো যা বলার
মতো না এরকম সুন্দরের দিকে তাকানো
উপেক্ষা
করা আমার পক্ষে সম্ভব না তাই আমি
তাকিয়ে থাকি।
>> এই যে এবার একটু বেশি হয়ে গেলো না।
> না মোটেও না।
.
তারপর নিলয় আর রাজ একটা লেকের ধারে গিয়ে বসলো।
> আচ্ছা রাজ এখনো কি আমাকে ভালোবাসা যায় না।
>> জানি না।
> এমন করো কেনো একটু ভালোবাসো না।
>> চুপ করেন তো। চলেন ফুসকা খাবো।
.
তারপর নিলয় আর রাজ একটা ফুসকার দোকানে গেলো।
.
>> মামা একটু ঝাল বেশি দিয়ে ফুসকা দেন তো।
> ঝাল খাবা তুমি৷
>> হ্যা কেনো আপনি খেতে পারেন না।
> না মানে হ্যা পারি।
.
তারপর রাজ ফুসকা নিয়ে একটার পর একটা খাওয়া শুরু করলো আর নিলয় তাকিয়ে তাকিয়ে রাজের খাওয়া দেখছিলো।
.
>> আপনি আবার হা করে তাকিয়ে আছেন।
> (নিলয় মাথা নিচু করে) ঔ একটু দেখছিলাম৷
>> আপনি যে ভাবে দেখছিলেন বুঝছি আমার আজকে পেট খারাপ হবেই৷
> কি বলো দেখলেই পেট খারাপ হয়।
>> আপনি শুধু দেখছেন না। চোখও দিচ্ছেন।
> না না আমি ওভাবে দেখি নাই৷
>> হইছে নিন এবার একটা খান৷
> না আমি খেতে পারবো না৷ ঝাল তো৷
>> কি এত বড় হইছেন তো ঝাল খেতে পারেন না। নিন খান৷ (রাজ রাগি লুকে বলল কথাটা)
.
রাজের ধমক খেয়ে অতঃপর নিলয় ফুসকা খেলো। একটা খেয়েই নিলয়ে অবস্থা খারাপ। মানুষ এতো ঝাল খাইতে পারে। নিলয়ের চোখ মুখ একদম লাল হয়ে আছে। আর রাজ নিলয়কে দেখে হাসতিছে।
.
> হু হা হুস কি ঝাল। পানি পানি৷ আমি পানি খাবো।
>> কি এইটুকু ঝালে আপনার এই অবস্থা।
> এটা এই টুকু ঝাল হলো।
>> হুম তাই তো৷ এইটুকু ঝাল খাইতে পারেন না আর আমাকে ভালোবাসতে আসছেন৷
> ঝাল খাওয়া আর ভালোবাসা এক হলো নাকি।
>> হুম একি তো৷
> তাহলে মামা আর এক প্লেট ফুসকা দাও ঝাল বেশি করে।
.
নিলয় আর এক প্লেট ফুসকা নিলো যার পুরো টাই ঝাল। নিলয় চোখ অফ করে একে একে সব ফুসকা খাচ্ছে। রাজ নিলয়ের দিকে হা করে তাকিয়ে। নিলয় ঝালে ঘামতিছে আর খাচ্ছে।
.
>> আরে আরে কি করছেন থামেন থামেন।
> কি করবো ভালোবাসার পরীক্ষা দিচ্ছি।
>> হইছে আর দিতে হবে না।
> তাহলে এখন তো বল ভালোবাসো।
>> ভেবে দেখবো। নিন পানি খান।
.
এইটুকু বলে রাজ হাসতে হাসতে উঠে চলে আসলো।
আর নিলয় ভাবতিছে কি ছেলেরে বাবা এত কিছু করেও কাজ হলো না। বাপও যেমন খাটাস ছেলেও হইছে তেমন।
একে ভালোবাসতে গিয়ে শুধু শুধু আমার সময় টা নষ্ট হচ্ছে কিন্তু কাজের কাজ হচ্ছে না। যাই হোক এত দূর এসে হাল ছাড়া যাবে না।
.
>> কি হলো যাবেন না৷
> (রাজের ডাকে ভাবনার ছেদ পরলো নিলয়ের) হ্যা যাবো চলো।
>> আমি ভাবলাম ঝাল খেয়ে আবার অজ্ঞান হয়ে গেলেনি নাকি তাই দেখতে আসলাম।
> না আমি এটাও দূর্বল না৷
>> তা তো নিজের চোখেই দেখলাম। চলুন পরে একদিন মিষ্টি খাইয়ে দিবনি।
> মানে…?
>> মানে বুজতে হবে না এবার চলুন তো।
.
তারপর দুজন চলে আসলো। একদিন ভার্সিটি শেষে বাসায় আসার সময় নিলয়ের সাথে রাজের দেখা৷ রাজ নিলয়কে দেখতে পাইনি তাই নিলয় রাজকে ডাকলো।
.
> রাজ একটু শুনবা।
>> ও নিলয় সাহেব। বলেন বলেন।
>আমি তোমাকে ভালোবাসি৷
>> নতুন কিছু বলেন এটা অনেক বার বলেছে।
> আমি তোমার সাথে সারাটা জীবন কাটাতে চাই প্লিজ এবার আর ফিরিয়ে দিও না৷
>>আমি তো ওই দিন আপনাকে পাঞ্জাবিতে দেখেই ক্রাশ খাইছি৷
> সেদিন বলো নাই কেনো।
>> দেখলাম আপনি বুঝতে পারেন কি না। কিন্তু আপনি বুঝলে নি না। মাথা মোটা একটা। আর সব কথা মুখে বলতে হয় না কিছু কথা বুঝে নিতে হয়।
> এখন বুঝলাম
>> কি বুঝলেন শুনি৷
> বুঝলাম যে তুমিও আমাকে ভালোবাসো৷
>> বুঝলেন যখন তাহলে জড়িয়ে ধরেন না কেনো।
> এই মাঝ রাস্তায়।
>> তো কি আড়ালে যেতে চাও।
> পরে ধরবো৷ আর এত দিন আমি তোমাকে পাগলের মতো
ভালোবাসেছি সেটা কি তুমি বুঝলেও না।
>> এখন সব শোধ করে দিবনি৷ এখন রাস্তায় কেউ নাই জড়িয়ে ধরোনা।
.
তারপর আসে পাশে তাকিয়ে নিলয় রাজকে জড়িয়ে ধরলো।
.
>>সরি
> কেনো
>>তোমাকে ভুল বুঝেছি অথচ তুমি
আমাকে
অনেক ভালোবাসো
> তুমি তো আর আমাকে
ভালোবাসতা না তখন।
>>হ্যা ভালোবাসতাম না কিন্তু এখন
বাসি
> কি?
>>ভালোবাসি
> সত্যি তো?
>> হুম তিন সত্যি
.
তারপর দুজন দুজন কে ছেড়ে দিয়ে রাজ বলতে লাগলো।
.
>> নিলয় শুনো
>বলো
>>তুমি কিন্তু আর পাঞ্জাবি
পরবে না ঠিক আছে?
>কেন পরবো না।
>>এইযে মি. নিলয় আমি থাকতে অন্য
ছেলের
সাথে প্রেম করার ইচ্ছা আছে নাকি?
যদি থাকে
বলো এখনি ঠ্যাং ভেঙ্গে
হসপিটালে
ভর্তি করিয়ে দেবো।
> নিলয় রাজের দিকে তাকিয়ে আছে।
>>তুমি পাঞ্জাবি পড়লে
অনেক কিউট লাগে বুঝেছো তাই বললাম।
> না না তোমার মতো একটা রাজকুমার
থাকতে আর
কারো দরকার নেই
>> হুম তবে যখন আমি বলল শুধু তখনই পাঞ্জাবি
পড়বে
>আচ্ছা
>>অনেক ভালোবাসি
>আমিও


লেখকঃ বৃত্রসংহার কাব্য(তাসিত)

প্রথম প্রকাশঃ Boy’Z-Magazine

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.