পতিতা

লেখক: হিমাদ্রি হিমু

আজ বহুদিন পরে আবার সেই রাস্তায় হাটছি।কোন মানুষ নেই।পুরো রাস্তা জুড়ে কেবল আমার সাথে আমি।যদিও কুকুর রয়েছে।তবে তারা নিতান্তই আমার সাথে কথা বলতে চায়না।তাই দেখেই তাড়িয়ে দিতে চায়।হয়তো ঘেউ ঘেউ করে বলে বেশ্যার ঠাই এখানে নেই। যে মানুষ অন্যের যৌন ক্ষুধা মেটায় সে আর যাই হোক সুশীল সমাজের জায়গা পাওয়ার উপযুক্ত না।।অনেক আগেই বুঝে গেছি। তাই ওদের না রাগিয়ে চলে গেলাম।হাটতে হাটতে আজ বড্ড ক্লান্ত।খুব কস্ট হয়েছে আজ।কিন্তু তাও ভালো।দিনশেষ ৩০০০ টাকা তো পাওয়া গেল।টাকাগুলো নিয়ে হাটছি।রাস্তাটা আমার বড্ড চেনা।কিন্তু নিজেকে নয়।এই রাস্তায় একসাথে হেটেছি আমরা।কিন্তু সে আজ আমার থেকে দূরে চলে গেল।কয়েক বছর আগেও সে আমার হত শক্ত করে রেখেছিল।বলেছে সমাজ মেনে না নিলেও আমরা একসাথে থাকবো,একসাথে লড়বো সব কিছুর বিরুদ্ধে।আজ আর সে মানুষটা নেই।তাই মিত্যে আশ্বাসগুলো মনে করে নিজেকে কষ্ট দিয়ে কি হবে,এটা ভাবতে ভাবতে চোখের জল মুচলাম।সামনে একটা পানির কল থেকে চোখে পানি দিয়ে আবার হাটা শুরু করি।অনেক রাত তাই গাড়ি পাওয়া যাবে না। পরিবার যখন আমাকে জানলো তার সন্তান বাকীদের মতো স্বাভাবিক না তখন তারা আর মেনে নিতে পারলো না। সন্তান খারাপ হলেও নাকি সন্তানই হয়।তাহলে আমার সমকামী সত্তা কেন আমাকে সবার থেকে দূরে সরিয়ে দিল।কই আমিতো তাদের সন্তান।দোষ হলো,আমি একজন ছেলেকে ভালবাসছি। আর তার থেকেও দোষ তার চলে যাওয়ায় আমি কষ্টে ছিলাম,নিজের মধ্যে শেষ হয়ে যাচ্চিলাম তখন,তোমাদের সব বলছি।এটা আমার দোষ?? আমাদের সম্পর্ক হলো ২ বছর।একই ভার্সিটিতে পড়াশুনা করি।পরিচয়, প্রেম স্বাভাবিক হলেও পরিনামটা ভয়াবহ ছিল।একসাথে প্রায় ২ বছর ছিলাম। আমরা আলাদা বাসা নিয়ে থাকতাম।আমার পরিবার তাকে বড় ছেলে হিসেবেই দেখতো আমার ২ ব্যাচ সিনিয়র ছিল সে।তাই আমার অনার্স ২য় এ থাকতে তার অনার্স শেষ হয়।ওও বলতে ভুলে গেছি সে কিন্তু উত্তরবঙ্গের আর আমি দক্ষিণবঙ্গের।তার পড়াশোনা শেষ তাই সে চলে যাবে।আমি হাজার বারন করলেও সে শুনবে না জানি।কথা দিয়েছিল একসাথে থাকার।কিন্তু চলে যাওয়ার কিছুদিন পর থেকেই দূরত্ব তৈরি হয়।সেও কল দেয়া কমিয়ে দিল,কথা বলা কমে গেল।চ্যাট করাও কমতে থাকলো। একদিন সে প্রস্তাব দিল ব্রেকআপের । বলল” -মোহন আমার একটা কথা বলার ছিল। -হ্যা বল,কি? -তুমি ভুল বুজবে নাতো? -না বলো। -মোহন,আমার পরিবারের অবস্থা খুব ভালো না সেটা তুমি জানো,আর তোমার সাথে সারাজীবন থাকলে আমার ছোট ভাইদের চোখে আমার জন্য ঘৃনা দেখব।আমি পারবো না সেই ঘৃনা নিয়ে থাকতে।আমাকে ভবিষ্যতে বিয়ে করতে হবে।আর তোমাকেও। -এগুলো কি বলছো?আর তুমি ভালো করেই জানো আমি সারাজীবন এই সম্পর্ক নিয়ে বাচতে চাই। -আমি আমার কথা জানিয়ে দিলাম।বাই। এই বলে ফোনটা কেটে দিল। বুঝতে পারিনি সে আচ্ছা বলাটা আমার জন্য এতটা খারাপ হবে।এরপর একদিন জানলাম সে নতুন রিলেশনে গেছে,তখন হাত পা ধরেও আর কোন কাজ হলো না। অনেক কষ্টে তার সাথে দেখা করলাম কারন সে এখন অন্য মানুষের।বিষয়টা মেনে নিতে পারলাম না,নিজের মধ্যে শেষ হতে থাকলাম, যখন আর পারছিলাম না তখন পেন কিলার ও ঘুমের মেডিসিন নিতে শুরু করি।পরিবার একসময় জানতে পারে আমি ড্রাগ নিচ্ছি। একদিন সন্ধ্যায় মা রুমে আসলো, সুয়ে ছিলাম তখন।মা এসে মাথায় হাত বুলিয়ে বলতে লাগলো তুই জানিস তুই আমাদের পরিবারের ছোট সন্তান।তোর কিছু হলে আমাদোর কি হবে ভেবেছিস কখনো?? আমি বুজতে পারছিলাম না কি বলবো।একসময় মায়ের জোরাজুরিতে বলে দিলাম সব। মা সব জানার পর আস্তে করে একপাশে বসে রইলো।আজও সবটা মনে আছে। রাতে খাবার টেবিলে মা নিচ দিকে তাকিয়ে সবাইকে খাবার দিচ্ছে,এক কোনায় গিয়ে দাড়াই।বাবা বলে খেতে বসতে,বললাম খুধা নেই। বাবা অনেকটা ধমকের সুরে বলল “খেয়ে নে,নাহলে শরীর খারাপ করবে” আমি আস্তে করে চেয়ার টেনে খেতে বসি।মা খাবার দিল।খাবার শেষ করে রুমে শুতে যাবো,তখন বাবা বল”মোহন আমার রুমে আসিস তো” আমি কিছু বললাম না কেবল হ্যা সূচক মাথা নাড়লাম।বাবা রুমে গিয়ে টিভি অন করে বসে আছে।বাইরে থেকে কিছুটা শব্দ শোনা যাচ্ছে। আমি খুব ভয় পাচ্ছিলাম।পা টেনে টেনে রুমের ভেতর যাই,,,

রুমে ঢোকার পর বাবা আমাকে আবারও জানতে চাইলো আমার এ অস্বাভাবিক ব্যবহারের কারন কি? আমি বললাম মা সব জানে,তুমি মায়ের কাছ থেকে জেনে নিও।। বাবা বলে উঠল আমি তোমার কাছে জানতে চাইছি তুমি বলো,তোমার মায়ের কাছ থেকে পরে জানবো। বাবার ডাকাডাকিতে মা রুমে ছুটে আসে,আর তাকে শান্ত করে ও আমাকে রুমে যেতে বলে। আমি চুপচাপ রুম থেকে বেরিয়ে গেলাম।। টেনশনে আর কিছু করতে পারলাম না তাই মেডিসিন না নিয়েই শুয়ে পরলাম আর ভাবতে লাগলাম বাবা কি সব জেনে গেছে?? জানার পর কি বাাবা আমাকে আর মেনে নিবে? ভাবতে ভাবতে সুয়ে পরলাম।। পরেরদিন সকালে, বাবা দরজায় নক দিল,রাতে ওষুধ না খাওয়ার জন্য সকালে ঘুম থেকে উঠে আমার প্রিয় অ্যাকুরিয়াম নিয়ে বেলকুনিতে বসে আছি।বাবার ডাক শুনে দরজা খুলে দিলাম।কিছু বুঝে ওঠার আগেই আমাকে থাপ্পর বসিয়ে দিল,বেল্ট খুলে প্রচুর মারতে শুরু করে।মার সহ্য করতে না পেরে মাফ চাইতে থাকলাম আর না মারার জন্য,কিন্তু কোন কিচুতে কোন লাভ হলনা।।মার খেতে খেতে একসময় জ্ঞান হারিয়ে ফেলি। জ্ঞান হতে দেখি হাসপাতালে ভর্তি। একজন নার্স এসে একটা কাগজ দিয়ে গেল আর বলল আপনার মেডিসিন। কাগজ খুলে দেখি বাবার একটা চিরকুট। লেখা ছিল আশা করব আর এ বাসার দিকে ফিরে তাকাবে না।তোমার মতো সন্তান আমাদের দরকার নেই। কি করবো কিছু বুজতে পারছিলাম না,হাতে টাকাও নেই আর হাসপাতালের বিল মেটাবো কেমনে সেটাও জানি না।শুনলাম আজ নাকি কাল সকালে আমাকে ছুটি দিয়ে দেয়া হবে।কোথায় যাবো কি করবো জানি না। ইসসস আজ ও পাশে থাকলে কি ভালোই হতো!! কিছুক্ষনেই মনে হলো,আরে ধুর বাল ছাল কি মনে করছি আমি,সে তো আজ অন্য মানুষের সাথে সুখে আছে।ভাবতে ভাবতে শরীর আরও খারাপ লাগছে। ভাবলাম মা হয়তো সকালে আসবে একবার হলেও। পরেরদিন সকালে ৭ টা বাজতেই রুমে ঢোকার শব্দ হল, ভাবলাম মা এসেছে, তাই হকচকিয়ে দরজার দিকে তাকাই।দেখি নার্স এসে কিছু কাগজ ধরিয়ে দিয়ে চলে গেছে। কাগজ খুলে দেখার ইচ্ছে ছিল না তাই না খুলে পাশে রেখে দিলাম। ৮ টা বাজে ঘড়ির দিকে বারবার তাকাতে তাকাতে মনে হয় ঘাড়টা ভেঙে যাবে।কিন্তু এখনো কারো আসার নামই নেই।।।হতাশ হয়ে রুমের মাজে হাটা চলা শুরু করি।আর সাথে ১ ২ উল্টোদিক হতে গুনতে শুরু করি। মনে হয় এই বুঝি তারা আসলো।কিন্তু না তাদের আসার কোন নামই নেই। বিরক্ত আর অভিমানে গিয়ে বেডের এক পাশে বসি,হঠাৎ কাগজের খামটার দিকে নজর যায়।মনে হল, খুলে দেখি কি আছে। দেখি আরেকটা চিঠি আর সাথে কয়েকটা হাজার টাকার নোট।চিঠিটা দেখে বুকের মধ্যে ধুপ করে উঠলো।মনে হল আবার কোন খারাপ খবর। যাই হোক চিঠিটা পড়ে দেখা দরকার।কাপা কাপা হাতে চিঠিটা খুললাম।দেখি লেখা “আশা করি এই কটা টাকার মধ্যে কয়েকদিন চলতে পারবি।আর তারপর নিজের জন্য কিছু একটা নিজেই করতে পারবি।তুই বুদ্ধিমান,তাই কঠিন পরিস্থিতি সামলাতে ঠিক পারবি আশা করি। বিদায়” এই বলে চিঠির সমাপ্তি টানা হল।এর মধ্যে আরেকজন কর্মচারী এসে একটা ব্যাগ দিয়ে গেল।খুলে দেখি আমার ল্যাপটপ, ফোন, চার্যার আর কিছু দরকারী সার্টিফিকেট ও কিছু জামাকাপড়। বুঝলাম আমাকে আমার মতো কিছু একটা করতে হবে।যাহোক এত কিছুর মাজেও এটা ভালো যে আমার চোখে পানি আসছে না।হাজার চেষ্টায়ও একফোটা পানি গড়ালো না। রেডি হয়ে রেসিপশনে গেলাম বিল পেমেন্ট করার জন্য।ওখানে গিয়ে শুনলাম বাবা আর মা সব পেমেন্ট করে চলে গেছে।কথাটা শুনে খুব হাসি পাচ্ছিলো।আজ তাদের কাছে সন্তানের থেকে নিজেদের আত্মসম্মান বড়।তোমাদের সন্তান ভুল করলেও সে তো তোমাদেরই নাকি।কেন একবারও দেখতে গেলে না।সে কি এতটাই খারাপ হয়ে গেছে তোমাদের কাছে? যাহোক কোন ভাবে হাসপাতাল থেকে বের হয়ে রাস্তায় হাটছি আর ভাবছি এই শহরটা আমার বড্ড চেনা, তবে কোথায় যাব তার নেই ঠিকানা। হাটতে হাটতে সকালের রোদ মাথার ওপর।শরীরটাও ঠিকমতো সুস্থ হয়নি আর মুখেও কেমন তেতো তেতো একটা ভাব রয়েছে।থাকার জন্য কোন জায়গা নেই।এত বড় শহরে কত বড় বড় দালান।কিন্তু আমার মতো একটা মানুষ থাকার জায়গা হবে না এ দালানগুলোতে।বাবা বলে দিয়েছে,এ শহর থেকে চলে যেতে।যাতে তাদের সাথে কোনদিন দেখা না হয়।তাদের কথাকে সম্মান দিয়ে আমি ঢাকা চলে আসি।শুরু হয় আমার জীবনের নতুন অধ্যায়। একটা হোটেল এ রুম ভাড়া নিলাম,আর নিজের জন্য একটা চাকরি খুজতে থাকলাম। দেখতে দেখতে প্রায় সপ্তাহ খানিক কেটে গেলো।আজও কোন চাকরি পাওয়া গেল না।টাকা আর কিছু আছে হাতে কি করবো বুজতে পারছি না।টাকাগুলো শেষ হলে কি হবে কে জানে? আজ অষ্টম দিন,বাসার জন্য মনটা কুব খারাপ ছিল।কিন্তু তারা দিব্যি দিয়ে রাখছে তাই দেকতে যাওয়া যাবে না।। দূর থেকে প্রার্থনা করি তারা যেন ভালো থাকে।ভবিষ্যতের জন্য না হলেও সাময়িক সময় ভালো থাকার জন্য নিজেকে নেশার মধ্যে ডুবাতে চাই।কিন্তু পকেট তো প্রায় খালি।কি হবে এখন? রুমের ভাড়া মেটাবো কি দিয়ে?আর খাবারের টাকাই বা কোথা থেকে ম্যানেজ হবে? ভাবতে ভাবতে অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছিলো।

এভাবেআর চললে তো সব শেষ হয়ে যাবে।সব শেষ হয়ে যাবে কি ভাবছি আমার তো সব আগেই শেষ হয়ে গেছে।নতুন শহর,অচেনা পরিবেশ,সবকিছুর ভিড়ে নিজেকে আরও একা লাগছে।বুজতে পারছি না কি করবো।
ভাবতে ভাবতে রুমে চলে গেলাম।হাতে আর কয়েকটা টাকা আছে।রুম ছেড়ে দিতে হবে।সবকিছু গোছাচ্ছিলাম।এরই মাঝে একটা হোটেলের ম্যানেজমেন্ট এর জন্য যে এপ্লাই করেছি সেটার জন্য আমাকে ডেকেছে।যাহ হোক বারবার ব্যর্থ হয়ে নিজের প্রতি আর ভরসা পাচ্ছি না।তাও একবার যাই,গিয়েই দেখি কি হয়।
এক বিশাল ৫ স্টার হোটেল।কোনভাবে ভয়কে জয় করে অফিস রুমের ভিতর গেলাম।
-মে আই কাম ইন,স্যার?
-ইয়াহ কাম,
-স্যার আই অ্যাম মোহন।
-ওও গুড।টেইক ইউর সিট।
-থ্যাংক ইউ স্যার।
-ওয়েলকাম,অ্যান্ড ইউ সো মি ইউর বায়ো-ডাটা।
-ইয়াহ স্যার।অল দ্যা ইনফরমেশন আর হিয়ার স্যার।
-গুড।(কিছুক্ষন দেখার আমার কাগজ পত্র দেখার পর) নাও ইউ টেল মি, হোয়াই ইউ ওয়ান্ট টু ডু দা জব?
-স্যার আই ওয়ান্ট বেয়ার মাই কস্ট।
-আর ইউ সিওর, ইউ হ্যান্ডেল ইউর ইডুকেশন প্লাস নিউ জব।এন্ড ডোন্ট ফরগেট ইউ আর সিলেক্টেড ফর ফুল টাইম জব নট পার্টটাইম।
-ইয়েস স্যার।আই নো এভরিথিং। আই ক্যান হ্যান্ডেল মাই নিউ জব প্লাস এডুকেশন। এন্ড আই অলসো নো দ্যাট ইট ইজ মাই ফুল টাইম জব।
-সামটাইমস ইউ হ্যাভ টু ডু ওয়ার্ক ইন নািট সিফ্ট।হ্যাভ ইউ এনি প্রবলেম?
-নো স্যার আই হ্যাভ নো প্রবলেম।আই এগ্রি উইথ ইওর অল টার্মস এন্ড কন্ডিশন।
-ওওও গ্রেট।
(নিজেদের মাঝে কিছুক্ষন কথা বলছে,এতোটাই আস্তে বলছে কিছুই বোঝা যাচ্ছে না,চাকরিটা হবে কিনা সেটাও সিওর হতে পারছি না।বুজতে পারছি না তারা আমাকে সিলেক্ট করবে কিনা)।
নাও ইউ আর সিলেক্টেড ফর দিস পোষ্ট।
-ওয়াও,স্যার।থ্যাংক ইউ সো মাস।দ্যা জব ইজ টু মাস নেছেছারি ফর মি।
-ইউ ক্যান জয়েন দ্যা জব ফ্রম টুমোরো।প্লিজ ফিল আপ দিস ফর্ম এন্ড সিগনেচার দিস স্টাম্প।অল দ্যা টার্মস আর রিটেন ইন দিস স্ট্যাম্প।
-(কিছু না দেখেই সব কাগজে সই করে দিলাম।আসলে চাকরিটা এতটাই দরকার ছিল যে কিছু ভাবতেই পারিনি।না দেখেই ফর্মটি পূরন করে দিলাম।আর সইও করে দিলাম).
স্যার আই সিগনেচার দিস স্ট্যাম্প এন্ড ফিল আপ দিস ফর্ম।হিয়ার দিস।।
-ওকে মি.মোহন।ইট ইজ ইওর নিউ এড্রেস। রেসপেক্ট ইউর ওয়ার্ক এন্ড লাভ টু অল।
-ইয়া স্যার।আই উইল ট্রাই মাই বেষ্ট।।
-টুমোরো কাল এট ৯ এট মর্নিং।ইউ উয়িল মিট উইথ ইউ টু অল।
-ওকে স্যার।
-নাও ইউ মে গো।
-ওকে স্যার।গুড বাই।
রুম থেকে বেরিয়ে এসে অনেকটা স্বস্তি লাগছে
আজ অনেকটা স্বস্তি ফিরে পেলাম।একটা চাকরী হয়ে গেছে।এখন আর কোন সমস্যা নেই।এত কিছুর মধ্যে অন্তরকে খুব কল দিতে ইচ্ছে হল।জানাতে ইচ্ছে ছিল যাকে ভালবেসে দুটো বছর সংসার করেছি,আজ তার জন্য আমার সব হারিয়ে গেছে।
এরজন্য তুমি দায়ী না হলেও তোমার চলে যাওয়াটা খুব দায়ী।তবে আজ আর মরতে ইচ্ছে করে না,ইচ্ছে করে তোমাকে দেখিয়ে দেয়ার।আমিও দমে যাইনি।
ভাইবা দিয়ে সারাদিন পার্কে হাটাহাটি করলাম আর ভাবতে থাকলাম সবই ঠিক আছে তবে আমি অন্তরের জীবনে কি তবে #রক্ষিতা হয়ে ছিলাম??
যার কাজ মন রক্ষা করে থাকা।আর যখন সেটা না পারবে তখন ছুড়ে ফেলে দিবে.?
ভাবতে ভাবতে মনটা খারাপ হলো। অবশ্য এর মাঝে কয়েকবার বাদাম কিনে খেলাম।টাকা কম ছিল তার ওপর নতুুন চাকরি।মাস না গেলে টাকা আসবে না।তাই বাদাম খাচ্ছি।কারন ১০ টাকার বাদামে প্রচুর শক্তি পাওয়া যাব😁
সন্ধ্যা নেমে এলে রুমে গিয়ে হাত মুখ ধুয়ে বসলাম।আসার পথে বাইরে থেকে খাবার নিয়ে আসলাম।খাবার খেতে খেতে ফেসবুকিং করছি।হঠাৎ দেখি আমার এক্স এর নতুন বিএফ এর সাথে পিক আপলোড করা।আজই তারে কল দেয়ার কথা মনে পড়ছে আর আজই এটা দেখতে হলো!!
খাবার আর পেটে দিয়ে নামছে না।বাধ্য হয়ে রেখে দিয়ে সুয়ে পড়লাম।সাত পাচ না ভেবেই নক দিলাম।
-হাই,

-হাই

-কথা বলছো না যে?
– আমি বিজি ছিলাম।ওর সাথে কথা বলছি।
– (কথা বলার সব সখ মিটে গেছে)ওওও আচ্ছা বলো।
-আচ্চা,বাই
-(একটা লাইক দিয়ে চলে গেলাম)
সকালের এলার্ম দিয়ে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকাল ৬ টায় ঘুম ভাঙল।অনেক আগেই গোসল সেরে নিলাম।তারপর শার্ট প্যান্ট জুতো পড়ে টাই বাধছিলাম।বরাবর ও বেধে দিত তাই আজ বাধতে খুব কষ্ট হচ্ছে।তাও ট্রাই করে বেধে নিলাম।এরপর বাইরে বের হয়ে হালকা করে নাস্তা করে বাসে উঠলাম অফিসের উদ্দেশ্যে। কিন্তু বাসে উঠেই মনে পড়লো, বরাবরের মতো আজও ঘড়ি পড়তে ভুলে গেছি।আগে তো সে নিজে হাতে ভাইবার জন্য রেডি করে দিত।তাই বুল হবার চান্স কম ছিল।এখন একাই।তাই একটু তো হবেই।এই ভেবতে ভাবতে চলে এলান অফিসে।যাক ৯ টার আগেই পোছানো গেল।প্রথমদিনেই স্যার ইমপ্রেস হয়ে যাবে ভেবেই মনটা খুশি খুশি লাগছিলো।হোটেলে ঢুকে স্যারের রুমে গেলাম।ভাবলাব স্যারের সাথে একবার দেখা করে যাই।আর আমার কাজ কি সেটাও তার থেকে জেনে নেব।
-স্যার মে আই কাম ইন?
-ওহহহ মোহন।কাম কাম।
-সরি ফর ডিস্টার্ব স্যার।
-ওহ নো মি.(বলতে বলতে চেয়ার থেকে উঠে আমার পিছনে এসে দাড়ালো।কাধে হাত রেখে বলল)হাউ ক্যান আই হেল্প ইউ?
-স্যার আই ওয়ান্ট টু নো মাই ওয়ার্ক।সরি টু টেল দ্যাট বাট আই থিংক ইটস বেটার টু নো ফ্রম ইউ।
-(কাধে হাত বুলাতে বুলাতে বলতে লাগলো)ওও নো প্রবলেম।আই ক্যান হেল্প ইউ।
-(খুব বিরক্ত লাগছে কিন্তু কিছু করার ছিল না)থ্যাংকস স্যার।
তারপর সে তার ম্যানেজারকে ডেকে বলল আমাকে সব দেখিয়ে দিতে।
ম্যানেজার আমাকে নিয়ে বাইরে যেতে লাগলো কিন্তু কেন জানি না তার মুখটা কুব কালো দেখাচ্ছিলো।মনে হয় আমাকে তার ভালো লাগেনি।কিন্তু তার কি বা করার, বসের কথা তো ফেলতে পারে না তাই বাধ্য হয়েই আমাকে সবার সাথে পরিচয় করিয়ে দিল।
সে আমাকে বলতে লাগলো-
-আপনি এখানে নতুন তাই আপনার কাজের সম্পর্কে কিছু ধারনা দেই।
-হুম অবশ্যই বলুন।
-আপনি জানেন আপনার স্যালারি কত?
-হুমমম জানি।ত্রিশ হাজার টাকা স্যার কেন?
-খুব ভালো।স্ট্যাম্পে দেখে সই করেছেন?
-না আসলে চাকরিটা আমার খুব দরকার ছিল।আর এভাবে পেয়ে যাবো ভাবিনি।তাই কোনকিছু না দেখে সই করে দিয়েছি।কেন স্যার কোন সমস্যা হয়েছে?
-সমস্যা নয় তবে পরবর্তীতে এমন কাজ করার আগে ভেবে নিও।
-কি হয়েছে বলুন প্লিজ স্যার।
-কিছুনা।তুমি আমার ছোট ভাইয়ের মতো,তাই বললাম।আচ্ছা শোন এখানে ম্যানেজমেন্ট বলতে তোমাকে সবই করতে হবে।
-সব মানে কি কি?

-গেষ্টদের অ্যাপায়্যান করা।দেখাশোনা করা।তাদের খুশি রাখা।আবার কাজের জন্য মাঝে মাঝে তোমাকে বাইরেও যেতে হবে।আর তোমার কাজ সকাল থেকে বিকাল নয় রাত ১০ টা পর্যন্ত।কখনো কখনো সারারাত থাকা লাগবে। -কিন্তু স্যার, বস তো বললো বিকেল ৫ টা পর্যন্ত। -বাট কন্ডিশন পড়োনি তুমি।মুখের কথার থেকে কলমের জোড় বেশি। -(যদিও সমস্যা ছিল না তাও ভয় হতে লাগলো এরকম আরও কি কি আছে কে জানে!ভয়ে ভয়ে জানতে চাইলাম) স্যার আমি কি কন্ডিশনগুলো এখন একবার দেখতে পারি?

-(ম্যানেজার কিছুটা হেসে বলল)অবশ্যই।আসো আমার সাথে। -(আমার গলা তো শুকিয়ে শেষ,ভাবতে লাগলাম প্রথমদিনেই এ কোন বিপত্তি)জি স্যার চলুন। -(রুমে ঢুকে একটা পেপারের ফটোকপি বের করে আমাকে দিল) এই নাও এখানে সব আছে। -আমি বড় বড় চোখ করে দেখতে থাকলাম। শর্তগুলো ছিলঃ ১.নিজের দায়িত্বের প্রতি অনুগত থাকতে হবে। ২.কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন আদেশ পালন করতে হবে। ৩.৫ বছরের নিচে চাকরি ছেড়ে যাওয়া যাবে না। ইত্যাদি ইত্যাদি। মনে মনে ভাবতে থাকলাম যাক বেতন টা ঠিক আছে।এখন আর কোন সমস্যা নেই। ম্যানেজার বলল সব ঠিক আছেকিছু কথা বলার ছিল।এরই মাঝে ম্যানেজার ও আমার ডাক পড়ল স্যারের রুমে।স্যার বলল আমাদেরকে রুমে যেতে।ভাবলাম ওসব বিষয় তুলবো না।আর চাকরিটা ঠিক ঠাক মতো পালন করবো।ভাবতে ভাবতে রুমে চলে গেলাম।ম্যানেজার- -আসবো স্যার? -হ্যা আসো।শোন আজ তোমাদের দুজনকে রাতে থাকতে হবে।আর মি.মোহন, -(কিছুটা অন্যমনস্ক ছিলাম,ডাক শুনে তড়িঘড়ি হয়ে বলে উঠলাম জি স্যার) -(বস)মি মোহন ট্রাই টু ইউজ বাংলা। -(আমি)ওকে স্যার। -ম্যানেজর) স্যার মোহন কি কাজ শেষে আমার সাথে থাকবে? -(বস) না তোমার পাশের আরেকটা রুম খালি আছে,ওটা পরিষ্কার করার ব্যবস্থা কর, আর আজ থেকে মোহন ওখানে থাকবে। -(বস) মোহন তোমার কোন সমস্যা আছে? -(আমি) না স্যার।আমার কোন সমস্যা নেই। স্যারকে যতটা খারাপ মনে হল ততটা খারাপ আসলে তিনি নন।আমার ভুল চিন্তা ভাবনা। দেখতে দেখতে দুপুরের ব্রেক টাইক চলে এলো।স্যার বলল মোহন তুমি বাসায় যাও গিয়ে জিনিসপত্র নিয়ে আজই চলে এসো।আজকের রাতটা আমার রুমেই থাকবে। আমি দুপুরে হোটেলে খেয়ে বাসায় যেতে যেতে ভাবলাম ভালোই তো হলো যে কটা টাকা আছে তাতে অন্তত এই কয়েকটা দিন খাওয়া দাওয়া করা যাবে।হোটেল ভাড়া দেয়ার কষ্ট থাকলো না। গিয়ে সব গুছিয়ে একটা একুরিয়াম কিনতে গেলাম।অনেকদিন হলো আগের একুরিয়ামটাকে খুব মিস করি।একুরিয়ামটা কিনে অফিসে গেলাম।যেতে যেতে সন্ধ্যা হল, এক স্টাফ বলল স্যার আমি এখানকার কর্মচারী।চলুন আপনার রুমটা দেখিয়ে দেই। আমি বললাম হুম চলুন। সে বলল-স্যার আপনি দেখতে অনেক সুন্দর আর মিষ্টি। -ধন্যবাদ আপনাকে।আপনার নামটা জানা হলো না।। -আমার নাম রুবায়েত। -আপনি কত বছর একানে চাকরি করেন? কথা বলতে বলতে রুমে চলে এলাম।রুমে ঢুকে তো পুরাই অবাক,এসি, টিভি,ফ্রিজ কি নেই রুমে।টেবিলের ওপর আমার একুরিয়ামটা রাখলাম আর ভাবতে লাগলাম স্যার আসলেই অনেক ভালো।রাতে স্যারের রুমে গিয়ে ধন্যবাদ জানিয়ে আসবো। এরই মধ্যে ডিনারের জন্য আমাকে ডাকা হল।স্যার রাতে আমার সাথে পারসোনাললি মিটিং করতে চায়।। রাত ৯ টা বাজে,রুবায়েত এসে নক দিল। আমি ট্রাওজার ও টি শার্ট পড়ে ল্যাপটপে আমার আগের একুরিয়ামের ছবিগুলো দেখছিলাম।শব্দ পেয়ে দরজা খুলে দিয়ে বললাম আপনি বসুন আমি রেডি হয়ে আসছি। তিনি বললেন এই পোষাকে গেলেই হবে।স্যার বলেছে নাইট ড্রেস এ গেলে সমস্যা নেই।ওখানে আপনারা দুজন থাকবেন আর হয়তো ম্যানেজার স্যারও থাকবে। ভাবলাম যখন সমস্যা নেই তখন আর কি বলার।তার সাথে গেলাম।স্যারের বাসায় গিয়ে দেকি আমি ম্যানেজার আর স্যার।সকলেই প্রায় সেম পোষাকে।কথা বলতে বলতে ১০ টা বেজে গেছে।স্যার বলল আমরা খাবার খেয়ে নেই। -ম্যানেজার বলল জি স্যার। খাবার খেতে খেতে স্যার বলল তা মোহন নতুন জায়গা কেমন লেগেছে? -জি স্যার অনেক ভালো।আমি আসলেই এতটা ভাবতে পারিনি। স্যার ও ম্যানেজার দুজনে হেসে উঠল। -ম্যানেজার বলল) শুনলাম তোমার নাকি একটা একুরিয়াম আছে। -জি স্যার। বিভিন্ন আড্ডায় কাজের কথাই ভুলে গেলাম। খাবার শেষ করে ম্যানেজার বলল স্যার আমি তাহলে যাই।ক্লায়েন্ট বসে আছে। -হুমমম অবশ্যই।আর তাকে খুশি করো ভালো মতো। বস বলল তো মোহন চলো রুমে গিয়ে কথা বলি। -জি স্যার চলুন। -দুজনে সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে থাকলাম,,,,, স্যার আর আমি কথা বলতে তার রুমের সামনে গেলাম।ভিতরে প্রবেশ করতে পুরাই অবাক।।নীল আলোয় পুরাে রুম আলোকিত হয়ে আছে সাথে রবেলকনিতে পর্দা দিয়ে হালকা বাতাস আসছে।এসি বন্ধ মনে হয়।তাও রুমটা কতটা ঠান্ডা। স্যার বলল, রুম কেমন লাগলো.? জি স্যার, অনেক ভালো।সত্যিই অসাধারন।ডেকোরেশন যার পছন্দে করা হয়েছে তার সত্যিই পছন্দ আছে। স্যার হেসে বলল আচ্ছা তাই বুঝি। দেন স্যার দুটো ড্রিংকস নিলো।একই বোতল থেকে নিয়ে একটি আমায় দিলো ও আরেকটি নিজে নিল।আমাকে বলল বেলকনিতে গিয়ে বসতে।সেও যাচ্ছে ওখানে। আমিও মনে মনে একটু বেশিই খুশি হলাম কারন আমিও ওখানে যেতে চাইছি।। ড্রিংকস খেতে খেতে আমি আগে গেলাম।সেখানে দুটো চেয়ার ছিল।একটিতে বসে বসে জুস খাচ্ছি। স্যার এরমধ্যে এসে আরেকটি চেয়ারে বসল।বলল কেমন লাগলো জায়গা।। -সত্যিই অসাধারন কথা বলতে বলতে চোখ কেমন লেগে আসছিলো।বুঝতে পারছিলাম না কি হচ্ছে।কিছু বুঝতে না পেরে শেষ মেষ তারে বললাম স্যার আমি রুমে যাচ্ছি।শরীরটা কেমন জানি লাগছে।আপনি কিছু মনে না করলে আমরা কাল কথা বলবো। স্যার বলল-শরীর খারাপ লাগলে একটু বসো,দেখো আরাম পাবে। আমি-না স্যার ঠিক আছে,আমি চলে যেতে পারবো।(কথাগুলো বলতে বলতে চোখ বন্ধ হয়ে এল।আর খুলতেই পারছিলাম না). সকাল ৮ টা বাজে গুম ভাঙল,সারারাত কি হল কিছুই বুজতে পারলাম না।গায়ের চাদর সরিয়ে উঠতে গিয়ে দেখি গায়ে কিছু নেই।মনের মধ্যে ডাক দিয়ে উঠল।কাল সারারাত তাহলে আমি কি খালি গায়ে ছিলাম?কিন্তু আমিতো গায়ে থেকে কিছু খুলি নি।যাই হোক সোফার ওপর জামাকাপড় দেখে তাড়াহুড়ো করে উঠে জামা কাপড় পড়ে নিলাম।বিছানা ছেড়ে ওঠার সময় মলদ্বারে খুব ব্যাথা করছিল আর সারা গা খুব ব্যাথা করছিল।খোড়াতে খোড়াতে ওয়াশরুমে গেলাম। বুজতে পারছিলাম না কি হচ্ছে আমার সাথে।আর হঠাৎ করে কোথা থেকে কি হয়ে গেল।সব কিছু যেন মাথার ওপর দিয়ে গেল।ওয়াশরুমে গিয়ে জামাকাপড় খুলতে খুলতে আয়নার দিকে নজর গেল।দেখলাম ঘাড়ে কামড়ের দাগ।বুকেও রয়েছে,নাভির চারদিকটা লাল হয়ে আছে।বুঝতে বাকী রইল না কি হয়েছে সারারাত আমার সাথে।

কাল রাতের সবকিছু মনে করার চেষ্টা করছিলাম আর শিউরে উঠছিলাম।ভাবছি এগুলো কি হয়ে গেল আমার সাথে।মলদ্বার ফেটে গিয়েছে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।কি না বুঝে গোসল করে নিলাম।গোসল করতে করতে খুব কান্না পাচ্ছিল।আমার সাথে এগুলো কেন হল,আজ আবারও একবার ঠকলাম আমি।আমি কি কখনো ভালো মানুষ ভেবে বিশ্বাস করতে পারবো না।রথমবার ঠকলাম অন্তরকে বিশ্বাস করে।পরে মাকে বিশ্বাস করে। আর এবার তো!!! নিয়তি কেন আমার সাথে এমনটা করছে।আমি কি এতটাই খারাপ? কই আমি তো সবসময় সবার ভালো চাইছি।তাহলে আজ কেন এমনটা হতে হল আমার সাথে।ভাবছি আর কান্না করছি। গোসল শেষ করে বের হলাম।কােনরকমে খোড়াতে খোড়াতে নিচে নামছি আর ভাবছি কি করবো।

কাল রাতের সবকিছু মনে করার চেষ্টা করছিলাম আর শিউরে উঠছিলাম।ভাবছি এগুলো কি হয়ে গেল আমার সাথে।মলদ্বার ফেটে গিয়েছে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।কি না বুঝে গোসল করে নিলাম।গোসল করতে করতে খুব কান্না পাচ্ছিল।আমার সাথে এগুলো কেন হল,আজ আবারও একবার ঠকলাম আমি।আমি কি কখনো ভালো মানুষ ভেবে বিশ্বাস করতে পারবো না।রথমবার ঠকলাম অন্তরকে বিশ্বাস করে।পরে মাকে বিশ্বাস করে। আর এবার তো!!! নিয়তি কেন আমার সাথে এমনটা করছে।আমি কি এতটাই খারাপ? কই আমি তো সবসময় সবার ভালো চাইছি।তাহলে আজ কেন এমনটা হতে হল আমার সাথে।ভাবছি আর কান্না করছি। গোসল শেষ করে বের হলাম।কােনরকমে খোড়াতে খোড়াতে নিচে নামছি আর ভাবছি কি করবো।

কাল রাতের সবকিছু মনে করার চেষ্টা করছিলাম আর শিউরে উঠছিলাম।ভাবছি এগুলো কি হয়ে গেল আমার সাথে।মলদ্বার ফেটে গিয়েছে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।কি না বুঝে গোসল করে নিলাম।গোসল করতে করতে খুব কান্না পাচ্ছিল।আমার সাথে এগুলো কেন হল,আজ আবারও একবার ঠকলাম আমি।আমি কি কখনো ভালো মানুষ ভেবে বিশ্বাস করতে পারবো না।রথমবার ঠকলাম অন্তরকে বিশ্বাস করে।পরে মাকে বিশ্বাস করে। আর এবার তো!!! নিয়তি কেন আমার সাথে এমনটা করছে।আমি কি এতটাই খারাপ? কই আমি তো সবসময় সবার ভালো চাইছি।তাহলে আজ কেন এমনটা হতে হল আমার সাথে।ভাবছি আর কান্না করছি। গোসল শেষ করে বের হলাম।কােনরকমে খোড়াতে খোড়াতে নিচে নামছি আর ভাবছি কি করবো।

আস্তে আস্তে নিচে নামছি,চোখ দিয়ে যেন সব অন্ধকার দেখছি।মনে হয় আমার ভরসা বলে কেউ একজনও যদি থাকতে।আমি আজ এগুলো কি করে ফেললাম।শরীরে খুব ব্যাথা ছিল।নিচে নামার পর একজন বুড়ো করে লোক এসে আমার হতে একটা বক্স ধরিয়ে দিল।দেখলাম বক্সের কিছু মেডিসিন রয়েছে।বুঝলাম সব ব্যবস্থা আগে থেকেই করে রেখেছে।ওষুধগুলোনিয়ে হাটতে শুরু করছি এমন সময় একজন ভদ্রমহিলা ডাক দিল।ফিরে তাকাতে এসে সালাম দিয়ে বলল স্যার আমি এ বাসায় কাজ করি।স্যার বলে গেছে আপনি যাওয়ার আগে আপনাকে সকালের খাবার দিয়ে দিতে।কোন কথা বলার ভাষা খুজে পাচ্ছিলাম না।কি করবো সেটাও ভেবে পাচ্ছিনা।চুপচাপখাবারটি হাতে নিয়ে রুমে গেলাম।।।রুমে গিয়ে বক্স দুটো টেবিলের ওপর রেখে আমিসব জামাকাপড় খুলে ফেললাম। সারা গায়ের দাগগুলো দেখতে থাকলাম আর কান্না করতে থাকলাম। অনেকভেবে মনে মনে সিধান্ত নিলাম আমি আর এই চাকরিটা করবো না। কোনরকমে জামা কাপড়গুলো গায়ে পড়লাম আর বের হলাম রিজাইন লেটার দেয়ার জন্য। মাথা নিচু করে পা বারাচ্ছি স্যারের রুমের দিকে আর সিধান্ত নিচ্ছি যে আমি এভাবে নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারবো না।আমি এখান থেকে বের হয়ে কি করবো।ইত্যাদি। ভাবতে ভাবতে স্যারের রুমের সামনে চলে এলাম।স্যার দেখে বললো, -ও মোহন কেমন আছো?এখন কেমন ফিল করছো।কাল এতটা জোর করে না করলেই পারতে।কতবার বললাম এগুলা অন্যায় তাও জোড় করে আমাকে দিয়ে এসব করলে।যা হোক কেমন আছো এখন? আমাকে কিছু বলার সুযোগই দিল না সে।আমি কথাগুলো শুনে তো পুরাই থ হয়ে গেছি।আমি এমনটা করেছি সেটা হলে আমার তো সব মনে থাকতো।কিন্তু কই আমার তো কিছু মনে পড়ছে না।কি হচ্ছে এসব আমার সাথে। কিছু জানর ইচ্ছা ছিল না বলে আমি স্যারকে বললাম -স্যার আমি এসব বিশ্বাস করি না।আপনার কাছে কোন প্রমান আছে? -স্যার হেসে বলল ওসব কথা বাদ দেও,এখন কি কিছু বলবে নাকি রুমে গিয়ে রেস্ট নিবে? -আমি আর এ চাকরিটা করবো না,এইযে আমার রিজাইন লেটার(লেটার টা টেবিলের ওপর রাখলাম) -স্যার বলল তুমি চুক্তিবদ্ধ। আর জানো তো তোমাকে আমি চাইলে আইনি ঝামেলায় জড়াতে পারি,আর তার থেকে বড় আরও একটা বিষয় রয়েছে। -কি বিষয়?আবার নতুন কোন বিষয়? -(ড্রয়ার থেকে একটা পেনড্রাইভ বের করে আমায় দিয়ে বলল)এটা নাও আর আমাকে বলো তুমি কি করবা। -এটায় কি আছে? -দেখোই না গিয়ে কি আছে এটায়। -হেয়ালি না করে প্লিজ বলুন কিআছে এটায়। -তুমি রুমে যাও গিয়ে রেষ্ট নাও আর সময় নিয়ে এটা দেখো। আমি বুঝলাম রিজাইনের কথায় সে আমায় ব্লাকমেইল করছে।আমায় নিজেকে কিছু করতে হবে।পেনড্রাইভটা নিয়ে রুমে আসলাম। খুব ক্লান্ত আর হতাশা আজ আমাকে চেপে ধরেছে। বুজতে পারছি না কি করবো? নতুন চাকরি হারালে কি করবো আর তার থেকে বড় কথা আমার এখানে থাকলে নিজেকে পতিতা হয়ে থাকতে হবে।।কি করবো আমি?? ভাবতে ভাবতে ল্যাপটপটা ওপেন করলাম।আর পেনড্রাইভটা লাপটপে নিলাম। ফাইলগুলো সব আমার নামেই সেভ করা ছিল।ভাবলাম হয়তো আমার সব ডকুমেন্টের সফট কপি।ওপেন করতে দেখি কিছু ছোট ছোট ভিডিও।বুজতে পারছিলাম না এগুলো কিসের ভিডিও,ভাবতে ভাবতে একসময় একটা বেশি এমবির ভিডিও পেলাম।ওপেন করতে দেখি আমি সুয়ে আছি।কিছু সময় পর সে আসে আর আমারে ডাক দেয়।আমি উঠে কিছু বললাম বলে মনে হল, দেন আমারে কিস করল।তারপর সে চলে যেতে চাইলো।আমি জোর করে তাকে আটকে রাখি ও ফোর্স করি তাকে।এক পর্যায়ে সে আমার সাথে সেক্স করে।ভিডিওটি দেখে আমি পুরাই হা করে আছি।এসব কেমন হলো তাই ভাবছি।আমিতো নিজেই বুজতে পারছি না এসব আমার সাথে কি হচ্ছে।রাতে আমিতো ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তাহলে এগুলো কেমনে করলাম।আমি তাকে ফোর্সই বা কখন করলাম।আর যদি করেও থাকি তাহলে মনে পড়ছে না কেন।ভাবতে ভাবতে মাথা খারাপ হয়ে যাবার মতো অবস্থা।এর মধ্যে অফিসারের ফোন আসলো। আমি-হ্যালো স্যার, আসসালামু আলাইকুম। স্যার-হ্যা,ওয়ালাইকুম আসসালাম।ভিডিওটি আশা করি দেখছো।এরপরেও কি সন্দেহ আছে? -দেখুন এসবের আমি কিছুই জানি না।আর আমা কেন মনেও পরছে না কিছু। -নাটক করে কাজ হবে না।তুমি এখন সবদিক থেকে আটকে আছো।তাই আমাদের সাথে তুমি কাজ করতে বাধ্য। -উপায় না পেয়ে বললাম আমি তো এমনিতেও আপনাদের এখানে কাজ করবো।তাহলে এগুলোর কেন দরকার পরলো জানতে পারি? -হ্যা অবশ্যই।কেন নয়।তবে সেগুলো এখন নয়।সময় আসুক ঠিক জানতে পারবে।এখন এটুকু জানো আমাদের সাথে কাজ করতে না চাইলে তুমি বাচতে পারবে না। -হুমমম সেটা তো বুজতে পারছি।কিন্তু আমি যে ভিডিওটা মাত্র দেখেছি সেটা কেমনে জানলেন? -(হা হা করে হেসে উঠল)তোমার রুমে সিসি ক্যামেরাটাই এখনো চোখে পড়লো না? -সিসি ক্যামেরা মানে?আপনি আমার রুমে হিডেন ক্যামেরা সেট করেছেন কেন? -এটা আমার বিষয়।তোমার এতকিছু জানতে হবে না।তুমি কেবল এটা জেনে রাখো কাজ তোমাকে করতে হবে। মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো অবস্থা হল।কি করবো তাও বুজতে পারছিলাম না।অবশেষে কোন উপায় না পেয়ে আার কথায় রাজি হলাম। খুব ভালো করেই বুজতে পারলাম আমি খুব খারাপ ভাবে ফেসে গিয়েছি। কয়েকদিন কেটে যাওয়ার পর আমিও সুস্থ হয়ে উঠলাম।ব্যাথাটাও আর তেমন।আস্তে আস্তে আমি কাজ করতে থাকলাম অফিসে।সবকিছু ঠিকঠাকই চলতে থাকলো। কিছুদিন পর আবার একরাতে স্যার আমাকে রুমে ডাকলো।আমি সরাসরি৷ নাকোচ করে দিতে চাইলাম।পরে ভাবলাম এতে হিতে বিপরীত হতে পারে।আর এর মধ্যে তিনি আমার প্রতি এমন কোন কুপ্রস্তাব করেন নি।তাই আমি ডিনারের নিমন্ত্রনে রাজি হলাম।বললাম আমি যাবো। আগের দিনের মতো সেদিনও আমরা ৩ জন ছিলাম।খাবার খাওয়ার পর আমি বললাম স্যার আমিও তার সাথে তাহলে আসি।সে বলল কেন? আজ সে যাচ্ছে না। আমি ম্যানেজারকে জিজ্ঞেস করলাম আপনি কি আজ এখানেই থাকবেন? তিনি উত্তরে হ্যা বলল। ভাবলাম তাহলে কোন সমস্যাই নেই।যদহ তিনি থাকেন তাহলে অফিসার কোন কিছু করার সাহসই পাবে না। তিনজন তার রুমে গিয়ে বসলাম।আজ যেন রুমটা অন্যরকম লাগছে।নীল রংটা রুমে আজ নেই।আজ পুরো রুম জুরে সাদা আলোয় ভর্তি। জানতে চাইলাম আজ রুমটা অন্যরকম কেন? রুমের নীল আলোটা আজ নেই কেন? স্যার বলল কেন এটা ভালো লাগছে না? আমি বললাম না তা নয় তবে ওটায় বেশি ভালো লাগে।। স্যার ম্যানেজারকে বলল যাও ফ্রেশ হয়ে আসো।আর আমাকেও নিয়ে যেতে বলল। আমি বললাম না ঠিক আছি।আমার ফ্রেশ হবার দরকার নেই।আমি এমনি ঠিক আছি। তাও ম্যানেজারের জোড়াজুড়িতে তার সাথে গেলাম।

।কিছু নাইট ড্রেস দেখালো আমাকে।সেখান থেকে একটা নিলাম আর সেও একটা নিল।।ড্রেস পড়ে রুমে গেলাম।তিনজনকে নাকি আজ একসাথে থেকে আড্ডা দিব।আমার ভয়ও লাগছিলো আবার এটা জেনে সাহস পাচ্ছিলাম যে ম্যানেজার তো রয়েছে।আর আজ কোন জিনিস খেতে দিলে আমি খাব না। ভাবতে ভাবতে তিনজন খাটে বসেই আড্ডা দিচ্ছিলাম।আড্ডার একসময় আমার খুব ঘুম পেল।তাকে বললাম স্যার আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।কথাটা শুনে দুজনে হাসতে লাগলো। আচমকা স্যার আমাকে কিস করলো। আমি তো লজ্জায় শেষ,কারন আমাদের সাথে আরও একজন আছে।তারপর তারা দুজন কিস করতে শুরু করলো। বুজলাম আমার ধারনা পুরোটাই ভুল ছিল।তাই সেখান থেকে চলে যেতে চাইলাম।রুম থেকে যখন বের হবো তখন স্যার বললো তুৃমি যেতে চাইলে যাও তবে কাল তোমার ভিডিও সবার হাতে থাকবে।কথাটি শুনে তো পুরাই ত হয়ে গেলাম।আর মনে রেখো তোমার আজ এখানে থাকার অনেক কারন আছে।তোমার অনেক প্রশ্নের উত্তরও আজ হয়তো তুমি পেয়ে যাবে

আমার সকল প্রশ্নের উত্তর মানে? -হ্যা তোমার সকল প্রশ্নের উত্তর। -কিন্তু আমার কোন প্রশ্ন নেই,দয়া করে আমাকে এখান থেকে যেতে দিন। -এখানে এখনো কিছু হয়নি যা দেখতে তোমার খারাপ লাগছে।আর সেদিন তোমার সাথে কিছুই হয়নি। -আমার সাথে কিছু হয়নি,তাহলে আমার মতো কে ছিল ওখানে? -কে ছিল সেটা এখন জানতে পারবে আর কেন তোমাকে এখানে নিয়োগ করেছি সেটাও জানতে পারবে। সবকিছু আমার কাছে ধোয়াশা হয়ে গেল।আমি বুজতে পারছিলাম না কি হচ্ছে আমার সাথে।কোন গোলকধাঁধায় পরে আছি আমি। কিছুক্ষন পর স্যার ডাক দিয়ে বলল তোমাকে আজ আমরা কিছুই করবো না।তবে এখানে যা হল সেটাতো ট্রেলার ছিল। -ট্রেলার মানে?আর কি হবে? -দেখো কি হয়!! -আপনি প্লিজ সবটা খুলে বলুন,আমার খুব জানতে ইচ্চে করছে যে কি হবে। -হুমমম বলবো।চলো আমরা ৩ জন বেলকনিতে বসে আড্ডা দেই। -না ওখানে দুটো চেয়ার।তিনজন বসার জায়গা নেই তাই এখানে বসে বললেই ভালো হয়। -আচ্ছা আজ গিয়ে দেখো।তিনটে চেয়ারই রয়েছে। -গিয়ে দেখি হ্যা সত্যিই তিনটে চেয়ার। (তিনজন বসে দেন আছি, সামনে তিনটি জুসের গ্লাস,তারা দুজনে দুটো নিল আর আমাকেও একটা নিতে বললো কিন্তু সেদিনের কথা মনে করে আর নেইনি স্যার হেসে বললো আজ এতে কিছু নেই,ভয় পেও না আজ সব সত্যি কথা তোমাকে জানাতে এসেছি) স্যার বলতে শুরু করলো- -দেখো তোমার থেকে খুব ভালো রেজাল্টধারী ব্যক্তি এখানে এপ্লাই করেছে আর ভালো রেজাল্টও করেছিল।তবে আমরা দেখতে সুন্দর পরিপাটি ও মায়াবী চেহারার কাউকে চেয়েছি।আর সেটা তুমি ছিলে।এখন বিষয় হলো এগুলো কেন, আমাদের এখানে মূল ব্যবসা কাষ্টমারদের কুশি করা।এখানে কাস্টমারদের ইচ্চে মতো ছেলে/মেয়ে দেয়া হয়।কোন কাস্টমার ছেলে পচন্দ করলে তার সাথে সেক্স করতে ছেলেদের পাঠানো হয় আবার মেয়ে পছন্দ করলে মেয়ে। -মানে আমাকেও এসব করতে হবে? -হ্যা অবশ্যই।তুমি এখানে সেভাবেই চুক্তিবদ্ধ।আর তোমাকে কোন কাস্টমার পচন্দ করলে তোমাকে তার কাছে যেতে হবে।তোমার মাজে মেয়েলি একটা ব্যাপার আছে।আর দেখ তুমি না চাইলে তোমার এই ভিডিও তো রয়েছেই। -কিন্তু আমার সাথে এটা করার কি দরকার আপনাদের।আমিতো কারো সাথে সেক্স করতে ইন্টারেস্ট নাও হতে পারি। -তাও করতে হবে।আর সেটা নিজের অনিচ্চায় হলেও।আর শোন কোন কাজই খারাপ না।যা করবে সেটা নিজের প্রয়োজনে করবে।এটা মনে রাখলেই হবে। -(কিছুই ভাবতে পারছিলাম না।একদিকে নিজেকে বাচানোর জন্য চাকরিটা দরকার আর অন্যদিকে নিজের চাকরির জন্য নিজের অস্তিত্বকে াস্বীকার করা।ভাবতে পারচি না কি করবো) আর আমার নকল ভিডিওর ব্যাপারে বলুন। -হুম দেখো আমরা চাইলে তোমার সাথে যা খুশি করতে পারতাম।কিন্তু তাতে সবটাই আমাদের জন্য একটা ভুল হয়ে যেত।ঘুমের মধ্যে করা আছে এটা দেখলে তোমাকে আমরা ব্ল্যাকমেইল কি করবো উল্টো তুমি আমাদের করতে। -তাহলে ভিডিওতে আমাকে কেন দেখাচ্ছে।পুরো বিষয়টা যদি একবার ক্লিয়ার করে বলেন। -হ্যা। সবই সত্য ছিল।তবে কিছু ক্ষেত্রে আলাদা ছিল।রুমে ঢুকতে তোমাকে দেখা গেছে।আর বাকী সব জায়গাও তোমাকেই দেখা গেছে।কিন্তু যখন জামাকাপড় খুলছো তুমি সেখান হতে আর তোমাকে দেখানো হয়নি।কারন অন্য একজন ওই জামাকাপড় পরে ভিডিও করেছিল।আর সব তার সাথেই করা হয়েছিল।! -তাহলে আমার শরীরে এতো দাগ কেন হয়েছিল।আর আমার এনালে এত ব্যাথাই বা কেন করছিল? -কারন তোমার নগ্ন শরীরে দাগ না করলে তুমি বিশ্বাস করতে না।আর ফটোও তুলতে পারতাম না।আর এনালে ব্যাথা সেটাএকটা বিষয় হলো তোমার সারা শরীর ব্যাথা করছিল।আর তোমার উরুতেও অনেক দাগ করা হয়েছিল।আর প্রচুর ব্যাথা করার জন্য হাত পায়ের ওপর অনেক অত্যাচার করা হয়েচিল বলতে পারো।আর উরুর ব্যাথাতেই তোমার এনালে ব্যাথা হচ্ছিল মনে হয়েছে। কিন্তু সত্যি কথা এটা যে তোমার সাথে কিছু করা হয়নি। -তাহলে সবটাই মিথ্যে ছিল। -হ্যা।তবে আমাদের সাথে কাজ তোমাকে করতে হবে। -আপনারা এতসময় যা বললেন।সেগুলো আমি ভেবে দেখতে চাই।তারপর আপনাদের সিধান্ত জানাবো। -আচ্ছা তাহলে রুমে গিয়ে চিন্তা করো।। এতক্ষন আমাদের মাঝে যা কথা হয়েছে সব রেকর্ড করে রাখা হয়েছে।মোবাইলে সবটা রেকর্ড করে নিলাম। মনে মনে বললাম আমাকে দিয়ে আর কি করবে আগে নিজেরা তো বাঁচো। তারপর আমাকে ফাঁসাবে। মনে মনে আজ খুব খুশি। শয়তানগুলোকে শিক্ষা দিতে পারবো। ভাবতে ভাবতে রুমের দরজা খুলে দেখি কয়েকজন আমার রুমের সামনে দাড়িয়ে আছে।আনি বললাম কি চাই আপনাদের। তারা বলল রেকর্ড টা আমাদের দিন। আমি বললাম-কিসের রেকর্ড -যেটা আপনি স্যারের রুমে বসে করেছেন। -আমি কোন রেকর্ড করিনি।আপনারা আসতে পারেন। -আপনি ভুলে যাচ্ছেন স্যার এতোটা বোকা নয় যে আপনকে রেকর্ড করার সুযোগ দিবে আর কিছু বলবে না। -আপনদের হয়তে কোথাও ভুল হচ্ছে।আমি সত্যি কোন রেকর্ড করিনি। -দিলে ভালো না হলে আমাদের যা করার তাই করতে হবে। -কি করবেন আপনারা? (দেখবেন, বলে আমার মুখ চেপে ধরে রুমের ভেতর চলে গেল।কোন কিছু বলার সুযোগ পেলাম না) রুমের ভেতর নিয়ে একটা চেয়ারে হাত পা বেধে বসিয়ে দিল।হাতে একজনের ছুড়ি। আমার কাছে লক জানতে চাইলো। কোন উপায় না পেয়ে লক বলে দিলাম।ফোন ঘেটে সব রেকর্ড সহ যা ছিল সব ডিলিট করে দিয়েছে। আমার আর অন্তরের ছবিগুলো না দেখেই ডিলিট করে দিয়েছে। তারপর সবাই রুম থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিল।আমি ডাক দিয়ে বললাম আমার হাত পায়ের বাধন খুলে দিতে। সবাই রুম থেকে বেরিয়ে গেলেও একজন রুমে থেকে গেল।আর সে দরজা লক করে দিল।কাছে এসে আমার বাধন খুলে দিল।আর জোর করে খাটে নিয়ে গেল।নিজের সমস্ত শক্তি দিয়ে চেস্টা করলাম তার হাত থেকে নিজেকে মুক্ত করার।কিন্তু পারলাম না।তার কাছে হেরে গেলাম। খাটে নিজের পুরুষ্যত্ব দেখানো শেষ করে শুয়ে রইলো।আর আমি একটা নষ্ট ফুলের মতো একপাশে পরে রইলাম।একবার ফিরেও তাকালো না। খুব কান্না পাচ্ছিলো।আজ সত্যি সব হারালাম।নিজের সম্নানটাও আজ আর নেই। অনেকক্ষন কাদতে কাদতে ঘুমিয়ে পড়লাম।ঘুম থেকে উঠে দেখি সে তার বেল্ট আটকাচ্ছে।নিজেকে আবার একজন সুশীল ব্যক্তির ন্যায় সাজিয়ে রুম থেকে চলে গেল।একবার ফিরেও তাকালো না।হয়তো কাজ শেষে একজন বেশ্যার দিকে ফিরে তাকানোর প্রয়োজন পড়ে না। চুপচাপ রুমে বসে আছি।সকাল হয়ে গেছে।কাল রাত থেকে আমার ওপর দিয়ে অনেক ঝড় গেছে।সকালে গোসল করে চুপচাপ অফিসে গেলাম।আজ আবার স্যার ডাকলো।রুমে গিয়ে বললাম

-মে আই কাম ইন স্যার। -হুমমম আসো। -(আমি চুপচাপ রুমে গেলাম।কোন কথা না বলে দাড়িয়ে রইলাম) -বসো। -(এবারও কোন কথা না বলে চেয়ারটা টেনে বসলাম) -তো বলো কাল রাত কেমন কাটলো। -ভালো। -যাক তাহলে তুমি সব পজিটিভলি নিয়েছো। -কোন উপায় নেই আমার। -উপায় আছে।সুসাইডও তো করতে পারতে। -সেটা হলে অনেক আগেই করতাম। -কেন কি হয়েছে? -স্যার আপনি আমার অফিসের বস।পার্সোনাল বিষয়ে আমি আপনার সাথে কথা বলতে চাইনা। -অনেকদিন হল এখানে আছো তোমার বাবা মা এখানে আসে না।আর তুমি যাও না।কোন সমস্যা? -তারা আমাকে সন্তান হিসেবে পরিচয় দিতে চায় না।আর এখানে আমি #পতিতার চাকরি নিয়েছি।নিজের দেহের বিনিময়ে টাকা পাবো।তাই অযথা কথা বলে কি লাভ বলুন? -হুমমম গুড।সব কিছু খুব ভালো ভাবেই মেনে নিয়োছো।কাল রাতে নিতে কোন কস্ট হয়নি? -আমার কোন কিছুতে কষ্ট হয়না। -কেন? -আমি বিশ্বাস করি কষ্ট এক প্রকারের অনুভব।আর আমার অনুভব করার ক্ষমতা বহুদিন আগেই নষ্ট হয়েছে। -আচ্চা ঠিক আছে।তোমার বাসা তো বরিশাল তাই না? -হিম।কেন? -কাল সেখানে একটা মালদার পার্টি আসবে।তাকে খুশি করতে তোমাকে সেখানে যেতে হবে।সমস্যা আচে? -না।আর থাকলেও কিছু করার নেই। কারন বেশ্যার সমস্যা থাকলে সেটা কারো কিছু না।

আজ থেকে আমার সাথে যা হবে সবটা নিয়তির খেলা বলে মেনে নেব।আর চাইনা লড়াই করতে।যা হবার হোক আমি আর কাদবো না।হারবো না আর। রাতে লঞ্চ এ আমার বরিশাল যাবার কথা ঠিক হয়েছে।সুন্দরবন ১০ এ ৩১৯ নাম্বার রুমে আছি।আমি সারারাত নিজেকে এটা বুঝাইছি যে একজন বেশ্যার নিজেকে নিয়ে খুশি থাকতে পারে না। আজ এমন একজনের সাথে বেড শেয়ার করতে যাচ্ছি যাকে জীবনেও দেখিনি,চিনিও না।আমাদের জীবানটা হয়তো এমনই। ভাবতে ভাবতে লঞ্চের এমাথা ওমাথা কয়েকবার করা হয়ে গিয়েছে।স্যার অবশ্য আমাকে দেখাতে চেয়েছিল কার কাছে যাব।আমিই বারন করেছি।কারন সে যেমনই হোক নিজের দেহ দিতে যাচ্ছি মন নয়।আর যে মন বুঝবে না বীর্যপাতের সাথে সাথে ভালবাসাও শেষ হয়ে যাবে তার ছবি দেখে কি আর করবো। অনেকক্ষন হাটার পর রুমে গেলাম।খুব ঠান্ডা লাগছিল তাই রুমে গিয়ে চাদর মুড়ি দিয়ে সুয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙার পর রুমের দরজা খুলতেই নিজের চিরচেনা শহরের বাতাস যেন প্রান ছুয়ে গেল।সবকিছুর মধ্যেও একটা টান অনুভব করছি। লঞ্চ থেকে নেমে সোজা হোটেলে গেলাম।আমার জন্য যে রুম ভাড়া করা হয়েছে।ডিল হয়েছে এডভ্যান্স করা হয়েচে আর বাকীটা এখানে বসে দিবে।বিনিময়ে সারারাত তার ভোগের পন্য হতে হবে।রুমে গিয়ে ব্যাগ রেখে হাটতে বের হয়েছি।অনেক পরিচিত লাগছে শহরটা। সারাদিন বাইরে হাটাহাটি করে সন্ধ্যায় রুমে আসলাম।এসে নিজেকে রেডি করছিলাম ভোগ্যপন্য হিসেবে তৈরি করার জন্য। এর মধ্যে নক দিল দরজায়।আমার মালিক নাকি চলে এসেছে।দরজা খুলে ভেতরে আসতে বললাম। ভেতরে আসতে দেখি সেই চিরচেনা একটা মানুষ যার নাম অন্তর। -(অন্তর) তুমি এখানে? -(কিছুটা অবাক হলাম তবে প্রকাশ না করে) হুম আমি। চলুন সবকিছু রেডি আছে। -দাড়াও এখানে।তুমি এখানে কি করো?আর যাকে দেখানো হয়েছিল সে কই? -সে এক্সিডেন্ট করেছে। -কিন্তু তুমি এটা কি করছো? -কেন কি হয়েছে? -নিজেকে পতিতা বানাচ্চো কেন? -কোনদিন বা আমার সতীত্ব ছিল?একসময় ছিলাম রক্ষীতা এখন হয়েছি পতীতা। জানো তো রক্ষীতার কাজ কি? যতদিন সে রক্ষকের মন রক্ষা করতে পারবে ততদিন সে রক্ষিতা হয়ে থাকতে পারে। আর পতিতা হয়ে সে অসুবিধে নেই।কারো মন রক্ষার কোন দরকার নেই,কাউকে ভালবাসার দরকার নেই। -আমি তোমাকে কখনো রক্ষিতা মনে করিনি।বিশ্বাস করো। -আপনি আজ একরাতের জন্য আমার মালিক।যেভাবে খুশি আপনি আমাকে ভোগ করতে পারেন বারন করবো না।তবে দয়া করে আমার অতীত টেনে আমাকে কষ্ট দিবেন না। -বেশ তাই হোক।তবে একটা কথা জানার ছিল।বলবা? -কি কথা? -তোনার পরিবারের অবস্থা খুব ভালো আমি জানি।তাহলে এ চাকরির কেন দরকার পড়লো? -যখন কারো হারায় সবটা হারায়। এর বাইরে কিছু জানতে হবে না। বাই দ্যা ওয়ে আপনি কি ওয়াইল্ড সেক্স করতে লাইক করেন? কোন ড্রেস এ আপনার সামনে আসবো? একটানা অনেকক্ষন কথা বলতে থাকলাম।অনেকবার অন্তর থামতে বললো।না শুনে একাই বলতে থাকলাম। শেষমেষ অন্তর একটা থাপ্পর দিয়ে বুকে নিল।চোখ বেয়ে জল গড়িয়ে পরলো।আজ স্যারকে মনে মনে অনেকটা ধন্যবাদ দিলাম।অন্তত একবার হলেও তার বুকে আসতে দিয়েছে।জানি সকাল হলেই চলে যেতে হবে তাও এটাই অনেক। একবার অন্তরের চোখের দিকে তাকালাম।দেখিন ওর চোখেও জল।আমাকে কোলে নিয়ে বিছানায় গেল অন্তর।আমাকে বুকে নিয়ে সুয়ে আছে।বহুদিন পর সেই চিরচেনা বুকে জায়গা পেলাম।অনেকগুলো চুমা দিল আমার মুখে। নিজেকে শক্ত করে বললাম আমার বাকীটা পেমেন্ট করলে ভালো হয়।না হলে আমাকে জবাবদিহি করতে হবে। ব্যাগ থেকে বের করে ১০০০০ টাকা দিল।আমি গুনে ৩ হাজার টাকা নিয়ে বাকীটা ফেরত দিলাম।বললাম আমার বাকী তিনহাজার।১০ হাজার নয়। সে আমাকে চলে যেতে বললো।বললো তার এখানে না থাকতে।আমি বললাম আপনি আমার মালিল তাই আপনি না চাইলে আমাকে চলে তো যেতেই হবে। ক্ল্যায়েন্টকে খুশি করতে পেরেছি কিনা জানি না তবে আমার কাজ শেস।তাই রাত ১ টার সময় টাকা নিয়ে বের হলাম।অনেকষন হেটে এলাম। একজন পতিতার জায়গা কারো বিছানায় হতে পারে মনে নয়।সমাজে একজন বেশ্যার দাম না থাকলেও সবার যৌনক্ষুধা মেটাতে তাদেরই দরকার হয়।বেশ্যা পুজোয় যেতে পারে না তবে বেশ্যালয়ের মাটি না হলে পুজোয়ই হয়না। সমাজ তাকে খারাপ বলে কিন্তু তার জন্যই এই সমাজে ইভটিজিং রেপ ধর্ষণ কমেছে দিন দিন। কিন্তু রাতের অন্ধকারে সেও হারিয়ে যায়।অন্ধকার ঘিরে থাকে থাকে। একটা প্রদীপ যেমন পুরো ঘর আলোকিত করে রাখে তেমনি একজন বেশ্যাও সকলের মনের চাহিদা মিটিয়ে থাকে।কিন্তু প্রদীপ কখনো নিজের অন্ধকার দূর করতে পারে না তেমনি আমাদেরও মনের চাহিদা কখনো পূরন করতে পারি না।কেউ জানতেও চায় না আমরা কি চাই।।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.