নিষিদ্ধ অসুখ

শরতের তুলোমেঘের আড়ালে ফুটে ওঠা ভোরের আলোয় ঘেরা গ্রাম তখনও ঘুম থেকে ওঠেনি। রাঙা আলোয় তখনও ভালো করে দেখা যাচ্ছে না। মাঠের ধারের ওই ঢালাইয়ের আচ্ছাদনে কৃষ্ণচুড়া ঢাকা রাস্তায় হটাতই শোরগোল পড়লো। বাইকে করে যেতে গিয়ে পিলারে ধাক্কা লেগে এক্সিডেন্ট করে উল্টে পড়েছে রেহান। রেহান; সদ্য সাইকেল থেকে উন্নিত হয়ে জীবনে প্রথম মোটরবাইক নিয়ে রাস্তায় বের হচ্ছে। এই কুড়ি বছর বয়সেও সাইকেল নিয়ে কলেজ যেতে বড়ই লজ্জা। তাই এক কথায় প্রায় গায়ের জোরেই বাড়ির অমতে নতুন বাইক কিনেছে সে। কিন্তু নড়বড়ে হাত এখনও পোক্ত হয়নি। বেশ ভালো মতোই আহত হয়েছে সে। জামা প্যান্ট ছিঁড়ে রক্তাক্ত সে। গ্রামের পরিচিত পরিজনেরা সাহায্যে এগিয়ে এসে ভর্তি করে সরকারি হাসপাতালের মেল ওয়ার্ডে (পুরুষ বিভাগ)। আহত হলেও দমে যাওয়ার মানসিকতা নেই রেহানের।

ছোটোবেলা থেকেই বর্হিবিশ্বের সাথে একটা দ্বন্ধ তার মধ্যে বিরাজ করে চলেছে। অনেক ছোটো থেকেই সে বুঝতে পারে গ্রামের বাকি ছেলেদের সাথে তার মানুষিক চাহিদা মেলে না। কখনও মেলে না তার চিন্তা ধারা। জন্মহতে অতিরিক্ত পারিবারিক নারী সঙ্গতাই হয়তো তার মধ্যেকার নারীসুলভ চিন্তা বিকাশের একটা প্রধান কারণ; এমনটাই ধারনার সাথে রেহান স্বপ্ন দেখত যে বড় হয়ে যখন অন্যান্য পুরুষদের নকল করে তাদের মত জীবন কাটাতে শুরু করবে আর তখনই হয়তো তার মধ্যেও একটা পুরুষালী ভাবের প্রকাশ ঘটবে। কিন্তু সৃষ্টির বিরুদ্ধে বলপ্রয়োগ যে শুধুই একরাশ ব্যার্থতা আর হতাশা ছাড়া কিছুই নয় সেটা রেহান তার জীবনের প্রতিটি ধাক্কায় অনুভব করে।

নারীসুলভতা রেহানের অন্তরাত্মা হলেও অচেনা নারীসঙ্গ তার অপ্রিয়। কিছুটা লাজুকতাও বটে। হাসপাতালের পুরুষ বিভাগে ভর্তি হওয়া সত্ত্বেও সেখানে সকল নার্সকর্মী মহিলা দেখে রেহানের তীব্র বিরক্তির প্রকাশ ঘটে। এক নার্স এসে রেহানের রক্ত মুছিয়ে ড্রেসিং করার চেষ্টা করায় গোল বাধায় সে। সেই নার্সের অপরাধ ছিল যে সে রেহানকে বলেছিল –“আপনার জামা কাপড় যা আছে তা খুলে ফেলতে হবে; তবেই বোঝা যাবে আর কোথায় কোথায় আঘাত লেগেছে আপনার…”। আসলে রেহানের দুপায়ের মাঝের ঊরুতে এমনই বেকায়দায় লেগেছে যে এটা ছাড়া উপায় নেই। আর তাতেই রেহান বেঁকে বসে এক প্রতিবাদী দাবি নিয়ে। রেহানের দাবি, তার জন্য পুরুষ নার্স এনে দিতে হবে, সে টাকা খরচ করে পুরুষ বিভাগে ভর্তি হয়েছে তাই এটা তার সন্মানের দাবি। হাসপাতালের বিছানায় এমন নাছোড় প্রতিবাদে রীতিমত হতবম্ব হয়ে পরে বাকি রোগীরাও। বহু ভাবেই তাকে বুঝিয়েও থামাতে পারল না তার পরিবার পরিজনেরা। সেবা প্রদানই যেখানে মুল মন্ত্র সেখানে এমন এক রোগীকে ফেলে রাখে কি করে? অতএব ডাক পড়লো ডাক্তার বাবুর।
ডাক্তার বাবু; ডঃ শেখর, বয়সে হয়তো একত্রিশ হবে… জুনিয়ার ডাক্তার হিসেবে শহর থেকে গ্রামের সরকারি হাসপাতালে বদলি হয়ে এসেছেন। গলায় টেথস্কোপ ঝুলিয়ে সঙ্গে করে আরেকজন পুরুষ স্বাস্থ্য কর্মীকে নিয়ে এলেন রেহানের কাছে। চারদিক দিয়ে পর্দা টেনে রেহানকে আড়াল করে একটু গম্ভীর ভাবেই জিজ্ঞেস করলেন…

– এই সব কি শুনছি? তুমি নাকি চিকিৎসা করতে দিচ্ছো না?
– কই না তো… আমি তো শুধু বলেছি আমার মেল নার্স লাগবে; আর তাতেই এরা এরকম করছে।
– তোমার ফিমেল নার্সে অসুবিধা কোথায়? ওরা তো সব রোগীদেরই সেবা করে চলেছেন…
– ওই, নার্স আমাকে সব জামা-কাপড় খুলতে বলছে… আমি পুরুষ বলে কি কোনও মান-ইজ্জত নেই নাকি? এ আবার কেমন নিয়ম হল?
– ওহ, বুঝলাম…(একটু হেঁসে) কিন্তু তুমি জানো তো ডাক্তার আর উকিলের কাছে কোনও কিছু গোপন রাখতে নেই।
– হ্যাঁ, জানি তো। তাই তো আপনাকে আনা হয়েছে। নার্সরা তো আর ডাক্তার নয়। আর আপনি তো…
– ব্যাস… ব্যাস… অনেক হয়েছে… তোমার সারা শরীরে রক্ত মাখা, জামা-প্যান্ট ছিঁড়ে গেছে… এগুলো কিন্তু এবার খুলতে হবে না হলে আমি কিছুই করতে পারব না।
– হ্যাঁ, এবার আর কোনও অসুবিধা নেই। আপনি আছেন তো…
ডাক্তারের সাথে থাকা আরেকটি ছেলে মানে কম্পাউন্ডারই রেহানের টি-শার্ট, প্যান্ট এমনকি আন্ডারওয়্যার টাও খুলিয়ে রেহানকে বিছানায় উন্মুক্ত ভাবে শুয়ে দিলো। খুব অল্প বয়সেই রেহানের যৌন চিহ্ন গুলো ভীষণ ভাবে প্রকট হয়ে ওঠে। গলার নিচ থেকে প্রশস্ত বক্ষদ্বয়ের দুই পাশ দিয়ে সোজা নিম্নাঙ্গের ঘন অরণ্য, পুরোটাই ঘন লোমে পরিপুষ্ট। দুপাশে মুখ উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রক্তিম বৃন্তদ্বয়। যেন সে ভেসে উঠতে চাইছে অরন্যভেদন করে। আর নাভি তো তার রূপ ঢেকেছে অরণ্য গহন অন্ধকারে তলিয়ে। বক্ষ মাঝের খাঁজ যেন আসলেই আমাজন। খুব মোহিত দৃষ্টিতে রেহানের দিকে তাকিয়ে আছেন ডাক্তার বাবু। সাথে থাকা কম্পাউন্ডারই রেহানকে ড্রেসিং করে ওষুধ লাগিয়ে দিচ্ছে। এমন দুজন পুরুষের সামনে সর্বস্ব মুক্ত অবস্থায় রেহানের সারা শরীরে তখন শিহরন জেগে উঠছে। দণ্ডায়মান তার লৌহদন্ড খুব লজ্জাজনক ভাবে অবস্থান করে দাঁড়িয়ে আছে। ডাক্তার বাবুর নরম হাতের ছোঁয়া তার শরীরের কোনও অংশেই বাদ গেলো না, শুধু ওই অংশটা ছাড়া। কিছুটা লজ্জা আর কিছুটা কামনার হতাশা নিয়েই দিন কয়েক পরে হাসপাতাল ছাড়ল রেহান।

রেহানের কিন্তু তিন জায়গায় সেলাই পড়েছে, তাই দিন দশেক পরেই তাকে আবার আসতে হবে। কিন্তু বাধ সাধল রেহান। ওই হাসপাতালে সে আর যাবে না। ওর মনে হচ্ছে ওখানে গেলেই ওই নার্স গুলো ওর দিকে ড্যাব ড্যাব করে তাকিয়ে থাকবে আর হাসবে। অগত্যা রেহানের বাবা ডাক্তারের কাছে গিয়ে তার অসহয়তার কথা বলে ডাক্তারকে বাড়িতে আসার অনুরোধ করে। কিন্তু ডঃ শেখর স্পষ্টতই জানিয়ে দেয় সে কারোর বাড়ি যেতে অপারগ। অতএব উপায়? … ডাক্তার বাবু অনুরোধ জানালেন রেহানকে তার কোয়াটারে পাঠাতে। হাসপাতালের পিছনের দিকেই ওই ব্রিটিশ আমলের একতলা বাংলো বাড়িটাই তার কোয়াটার। সময় ধার্য করে দিলেন। যথা সময় রেহান উপস্থিত হল। কালো গেঞ্জি আর ব্লু জিন্স পরে এসে গেট খুলে অভ্যর্তনা জানালো ডাক্তার।
সরাসরি রেহানকে জিজ্ঞেস করলো ডাক্তার…
– এখানে আসতে কোনও অসুবিধা হয়নি তো?
– না, তবে আসতে তো আমাকে হতোই…
– তাহলে রেহান, তুমি এতো জেদ ধরো কেন?
– ক্ষমা চাইছি আপনাকে অসময়ে বিরক্ত করার জন্য… ওই হাসপাতালে আমার এখন যেতে বড়ই লজ্জা করছে, সবাই আমার দিকে ড্যাব ড্যাবিয়ে তাকিয়ে দেখবে যে…
– (হা… হা… হা… করে হেঁসে উঠে) বুঝলাম! তবে রেহান এখানে আমি এখন তোমায় যা বলব তুমি শুনবে তো। এখানে কিন্তু মান গেলো বলে চিৎকার করলে আমি তোমায় সুস্থ করতে পারব না।
– (লজ্জায় লাল হয়ে উঠলো রেহান) না, না… আপনাকে আমি কিছু মনে করি না। আপনার সামনে আমার আর কি গোপনীয়তা। আপনি তো হলেন ডাক্তার।
রেহানকে একটা সরু বেডে শুয়ে ডাক্তারের যাহা করণীয় তিনিই সেটাই শুরু করলেন। কিছু সময়ে অন্তরই রেহান অল্প অল্প চেঁচিয়ে উঠছে আবার শান্তও হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষন পরে ডাক্তার রেহান কে বলল – “তুমি এখন মোটামুটি সুস্থ হয়ে গেছো … আর কিছু দিন বিশ্রামে থাকতে হবে”। রেহান সম্পুর্নই নিশ্চুপ। সে উপরের সিলিং ফ্যানটার দিকে এক দৃষ্টে তাকিয়ে। তার চোখ দুটোয় তখন একরাশ প্রশ্ন আর হতাশার প্রতিচ্ছবি ভেসে উঠছে। ডাক্তার আবার বলল…
– কি হল? শুনছো আমার কথা…
– হ্যাঁ, শুনছি… আপনি বলুন।
– তবে উত্তর দিচ্ছো না কেন আমার কথার?
– ডাক্তার, ও ডাক্তার…
– হ্যাঁ, বলো কি বলবে… কি অসুবিধা হচ্ছে তোমার?
– ডাক্তার, আপনি পারেন না আমাকে সুস্থ করে তুলতে… আমার রোগটা সারিয়ে দিতে…
– হ্যাঁ, আমি তো বললাম তুমি এখন ভালো হয়ে উঠেছো…
– না না… আমি এই সারানোর কথা বলছিনা না ডাক্তার। আমার যে আরেকটা মস্ত বড় রোগ আছে ডাক্তার। সবাই বলে তার নাকি কোনও ওষুধ নেই।
– কেন রেহান? তোমার আবার কি হয়েছে?
– ডাক্তার, ও ডাক্তার… আমি যে বাঁচতে চাই ডাক্তার! সবার মত করে বাঁচতে, সমাজের মত করে বাঁচতে চাই… পুর্ন মানুষ হয়ে বাঁচতে চাই …… সত্যিকারের পুরুষ হয়ে বেঁচে উঠতে চাই।
– এ কেমন কথা বলো রেহান। আমি যে সর্বাঙ্গ মুক্ত রেহানকে দেখছি সে তবে কে?
– ও ডাক্তার, ডাক্তার… আপনি কি বোঝেন না আমার কি হয়… সেই ছোট্ট বেলা থেকে ইস্কুলের সব বন্ধুরা তো আমারে দেখেই বুঝে যেত আমি দ্বৈত সত্তার। আমার যে মনের রোগ আছে ডাক্তার। জানেন ডাক্তার… আমার শরীর এক, দেখতে এক আর আমার মন, আমার আত্মা আরেক। তার চাহিদা অন্য। আইন বলে আমি পুরুষ, কাগজ বলে জেন্ডার আমার মেল। আর আমার মন বলে আমি যে সে নই। আমি যে অন্য কেউ, আমি অন্য মানুষ।
– ওহ… বুঝলাম। তাই তোমার মনে এতো কষ্ট… তাই তুমি সময়ে সময়ে রাগ দেখাও; আসলে নিজেকে লুকিয়ে রাখো। আমি ঠিক বলছি তো রেহান?
– জানি না ডাক্তার আমি কেন এমন? ও ডাক্তার…, ডাক্তার… তুমি তো কত্তো বড় ডাক্তার… এত্তো এত্তো মোটা মোটা বই পড়েছো… ! শহরের ওই ইইয়া বড় হাসপাতাল গুলোতে তো তোমরা মরা মানুষের চোখ দিয়ে অন্ধকে দৃষ্টি দাও, হৃদয় বদলে প্রাণ দাও… কিডনি, লিভার সবই তো নাকি বদলে দাও… তবে দাও না আমাকে বদলে। তুমি পারবেনা বদলাতে আমার মনটাকে… আমার স্বত্তাটাকে।
– রেহান… আমি যে তোমার আশা মেটানোর মত ওত্তো বড় ডাক্তার নই রেহান। আমার যে ক্ষমতা নেই তোমার এই অসুখটা সারানোর। তবে তুমি কষ্ট পাও কেন… কিসের অভাব তোমার? তোমার আছে দুটো মন। দুটো চিন্তা। এই বা কম কিসের?
– আপনি যে কি বলেন ডাক্তার? সেই কোন ছোটো বেলা থেকে আমি যেন একটা চরিত্রে অভিনয় করেই চলেছি… জোকার। আমার নাকি চলন বাঁকা। তাইতো লোকের হাসি পায় আমারে দেখে। ইস্কুলে ওরা আমাকে দেখে মজা পেত। আমার যেন আরও বেশি করে রাগ আর লজ্জা দুটোই একসাথে জন্ম নিত। জানেন ডাক্তার… কত বার চেষ্টা করেছি নিজেকে বিসর্জন দিতে। শরীরটা নয়, আমার এই সত্তাটাকে। ছোটো বেলায় ভাবতাম… বড় যখন হবো, ওদের মতন করে পুরুষ পুরুষ নকল করে চলব। বিড়ি , সিগারেট, মোটরবাইক… বুক ভরা কালো লোম, গাল ভরা দাঁড়ি হলেই বুঝি ঘুচিয়ে ফেলব সব। দেখিয়ে দেবো ওদের, আমিও পারি সবার মত করে, সবার মত হতে। কিন্তু হায়! সে যে আর আমার জন্য নয়। ডাক্তার… ও, ডাক্তার… আমি কি হবো কোনও দিন সত্যিকারের পুরুষ; দাও না আমারে একখান ওষুধ… দাও না ফুটিয়ে একখান ইঞ্জেকসান, আমিও হবো ওদের মত পুরুষ।
– হায় রে এই পোরা দুনিয়ার ভবিতব্য, আমি যদি হতেম তোমার সত্যিকারের ডাক্তার রেহান, এইক্ষনে তোমায় সারিয়ে দিতাম, বদলে দিতাম তোমায় জাদুকাঠি দিয়ে। কিন্তু আমি যে এক অসহায় বই মুখস্ত করা ডাক্তার রেহান। আমার বইতে যে তোমার অসুখের অধ্যায়টা নেই। তবে তোমায় একটা কথা বলব… তুমি কথা দিবে আমায়…?
– বলুন, ডাক্তার… কি কথা?
– তোমার আজ অবধি যেটা লজ্জার বিষয়, কাল থেকে তুমি সেটা করবে গর্বের বিষয়। তুমি কথা দাও রেহান, তুমি আমার কথা রাখবে। তুমি আর কষ্ট নয়, এবার গর্ব করবে নিজেকে নিয়ে। একদিন খোলা ছাদে জামার বোতাম খোলা হাওয়ায় দুহাত উন্মুক্ত করে চিৎকার করে তুমি বলবে- তুমি গর্বিত তুমি সমকামী কারণ তুমি আলাদা, সবার থেকে আলাদা।
– ডাক্তার……, এয়োও কি করে সম্ভব ডাক্তার! এই সমাজ যে আমার জন্য নয়, এই দুনিয়া যে আমার জন্য নয়। আর আমিও যেন আমার জন্য নয় ডাক্তার।
– ভুল রেহান… ভুল। আমাদের মত মানুষদের জন্যও সব কিছু আছে। কেন সম্ভব নয় বলতো? তুমি কষ্ট পেতে স্কুলের সবাই আলাদা বলে। তুমি কখনও কি ভেবেছ রেহান… ওরা তো সবাই একই রকম। ওদের কি কোনও বিশেষত্ব আছে…? নেই। তোমার আছে সেই বিশেষত্ব। তুমি কি কখনও ভেবেছ যে তুমি তো দশ জনের একজন, একশ জনের একজন, হাজার জনের মধ্যে একজন মানুষ যে কিনা আলাদা। সবাই তো সবার মত। কেউ কি কাউকে চেনে, কেউ কারোর খবর রাখে? … চেনার দরকার পরে না। । কিন্তু যে সবার মধ্যে একজন সেই তো স্পেশ্যাল। তুমিও তো স্পেশ্যাল। তবে কেন গর্ব করে বুক ফোলাবে না। কেন চিৎকার করে দুনিয়াকে জানাবে না যে তুমি সাধারণ নও, রেহান শর্মা অসাধারনের অধিকারী। তুমিও ভালবাসতে পারো, প্রেম দিতে পারো, মনের কথা বলতে পারো…
– ডাক্তার, ও ডাক্তার… আপনি কি সুন্দর করে আমারে অনুভব করলেন আজ। জানেন কেউ বলে না এমন কথা। কেউ তো আছে যাকে আমি কিছু বলতে পারলাম। এবার যে আমায় উঠতে হবে, ফিরতে হবে ঘরে।
– ঘরে ফিরে জানলা খুলে দেখো, আজ যে অপেক্ষা করছে নতুন দিনের আলো। এবার তুমি জন্ম নাও সেই রেহান হয়ে যে রেহান বেঁচে আছে তোমার মনের কোণে। নকল করে, অভিনয় দিয়ে চালানো যায় দিন কয়েক, তবে বাঁচতে যদি চাও বাঁচার মত, তবে নিজের আসল স্বত্তা নিয়ে বাঁচো। ভুলে যাও সেই অসুখের কথা যা আমাদের নিষিদ্ধ, মনে কর ওটাই তোমার জীবনের শ্রেষ্ঠতম বৈশিষ্ঠ্য।

ছলছল করে ওঠে দুজনেরই চোখের কোল। বিছানা থেকে নেমে নিজেকে আবৃত করে নেয় তার পোশাকের আবরণে। পকেট থেকে একটা পাঁচশো টাকার নোট বাড়িয়ে দেয় ডঃ শেখরের দিকে। কিছুটা অবাক করেই সেটা প্রত্যাখ্যান করেন ডাক্তার। রেহানকে বলেন তিনি টাকা নিতে পারবেন না। ঘর থেকে বেড়িয়ে সামনের রেলিং ঘেরা বারান্দায় জুতো পরে বাগানের দিকে নেমে যায় রেহান। গ্রিলের গেটে মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে ডঃ শেখর। কি মনে হল রেহানের… ঘুরে এসে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করে ~
– আপনি টাকাটা নিলেন না কেন? এটা তো আপনার পারিশ্রমিক।
– আমি কি সত্যিই কিছু পরিশ্রম করেছি যে পারিশ্রমিক নেব…
– সেকি…! এতো সময় ধরে যে আপনি আমার আঘাতের জায়গা গুলোয় সেলাই কেটে… (থামিয়ে দিলেন ডাক্তার)
– তুমি আমার কাছে আরও একটা অসুখ নিয়ে আজ এসেছিলে রেহান। যেটা তোমার জীবনের অসুখ। আমার সেই যোগ্যতা নেই এর নিরাময় করার। আমিও যে তোমারই মত এক মস্ত বড় ডাক্তার খুঁজছি নিজেকে সারিয়ে তোলার জন্য। যেদিন তার খোঁজ পাবো সেদিন আমার সাথে তুমিও থাকবে।
– ও ডাক্তার… আপনি বলেন কি? আপনি তো নিজেই একজন ডাক্তার। আপনার আবার কি রোগ হল…
– ওহ! ডাক্তার বলে বুঝি আমাদের কিছু হবে না। আমরা বুঝি মানুষ নই। আজ নয়, তুমি আরেকদিন আসো আমার কাছে… সব বলব তোমায়। সেদিন না হয় আমি আমার কথা বলব। তুমি আসবে তো আমার কাছে?
– তাহলে এবার আমি আপনার মত করেই বলি… ডাক্তার উকিলের কাছে যত কম আসা যায় ততই ভালো।
– হা… হা… হা… হা… সে বেশ বলেছ। তবে ডাক্তার কি কখনও বন্ধু হতে পারে না বুঝি?
– আচ্ছা আসব। আপনি আমাকে এখনও দিন পনেরো বাইক চালানোর অনুমতি দেননি। যেদিন বাইক চালানো শুরু করবো সেদিনই প্রথমেই এখানে আসব।

বিদায় বেলায় দুজনেই দুজনকে জড়িয়ে ধরে। ডাক্তারের গায়ের ওই পৌরষত্বের ভারী গন্ধটা রেহান প্রাণ ভরে একশ্বাসে শুষে নেয়। কি যে আরাম এই গন্ধে লুকিয়ে আছে তা আজও অজানা রহস্য।
শেখর ওকে অনুরোধ করেছিলো ওর কাছে যেতে, রোগী হিসেবে নয়, বন্ধু হিসেবে। রেহান কিছুটা নিশ্চুপ। আবার একই কথা ডাক্তারের মুখে। ঘুরে দাঁড়িয়ে রেহান উত্তর দিলো – “যেদিন তোমার কথা মত লজ্জা ছেড়ে গর্ব অনুভব করবো, সেদিন তোমার কাছে আসব…”।
কিন্তু সশরীরে বিদায় হলেও মনের থেকে কিছুতেই এই বিদায়টা মেনে নিতে পারেনি রেহান। বার বার তার মনে চায়, ছুটে যেতে ওই ডাক্তারের ছায়াতলে; মনের মধ্যে বাড়ে বাড়ে ইচ্ছে জাগে আরও কিছু কথা বলতে, আরও কথা বলতে… এমন কথা যা কাউকে কখনও সাহস করে বলে ওঠা হয়নি। এমন কথা যা কেউ কখনও বোঝার চেষ্টাই করেনি।
দিন পনেরো গড়াতেই কোয়াটারের গেটের সামনে এসে দাঁড়ালো রেহানের বাইক। কবে সে বোতাম খোলা জামায় খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে চিৎকার করতে পারবে তার অপেক্ষা করার ধৈর্য রেহানের নেই। তাকে যে আরও অনেক কথা বলতে হবে, অনেক কিছু জানতে হবে। বিকেলের পরন্ত রোদে গেট তালা বন্ধ দেখে ইতি উতি ঘোরা ফেরা করতে করতেই সাঁঝের আঁধার নেমে এলো। কখন যে ঘণ্টা তিনেক পার হয়ে গেছে একের পর এক সিগারেটের ধোঁয়ায় তার টেরই পায়নি সে। রেহান ভেবেছিলো ডাক্তার হয়তো ডিউটি তে বেড়িয়ে গেছে। কিন্তু সময় বয়ে যাওয়ায় কিছুটা ছটফটে রেহানকে দেখে এক দোকানদার জিজ্ঞেস করলো তার অস্থিরতার কারণ। রেহানের মুখে ডাক্তারের খোঁজ শুনে কিছুটা অবাক হয়েই জানালো ডাক্তার তো আর সেখানে থাকেন না। দিন দুয়েক আগেই তিনি শহরের হাসপাতালে বদলি হয়ে গেছেন। ভেঙে পড়া আয়নার মত তছনছ হয়ে গেলো রেহানের মন। মানসিক ভাবে মৃতপ্রায় অবস্থায় তার। তার কাছে কোনও যোগাযোগের নম্বর, ঠিকানা কিছুই যে নেই। কবে ফিরে আসবে সে তারও নেই কোনও উত্তর। আছে শুধুই একরাশ আশা আর হতাশা।

…ছয় মাস পরে…

এই কটা দিনে বার বার রেহানের মনে পরে শেখরের কথা গুলো। মাত্র দুবার দেখেছে তাকে। সাক্ষাতের সময় ছিল নগন্য, সাথে ছিল শরীর জুড়ে জ্বালা আর ব্যাথা। তবুও তার সামান্য উপস্থিতি আর স্পর্শই রেহানের জীবনে এক কালবৈশাখী নিয়ে এলো। ধ্বংস নাকি সৃষ্টি; কি ঘটবে কি ঘটতে পারে, কিছুই হিসাব রাখতে মন চায় না রেহানের। ভোরের শিশিরের আলোয় সূর্য কিরণের হীরকছটা, কুয়াশার আবছায়া আলোয় ওই দূরে হেঁটে যাওয়া লোকটার মাঝে ভেসে ওঠে ডঃ শেখরের আবছায়া প্রতিচ্ছবি। কখনও খোলা জানলার উত্তুরে হাওয়ায়, কখনও বাজারের ভিড়ের মাঝে বা ওই হাসপাতালের মানুষগুলোর মাঝে রেহান খুঁজে বেড়ায় তাকে। এই ছয়টি মাসে বোধহয় ছ’শ বার হাসপাতালে খোঁজ নিয়েছে রেহান। প্রতিবারই জীবনে তাকে একটাই উত্তর দিয়েছে, ‘সে আসেনি’।

দিনটা ছিল ফাল্গুন মাসের পয়লা তারিখ। প্রকৃতি মেতেছে তার রঙের খেলায়। বাগান ভরা ফুলের রাশি, গাছে গাছে ফুলের সারি। কোকিল যে তার সুর তুলেছে, পাখিরা কহে বসন্ত এসে গেছে। উদাসীন এক বাউল মন নিয়ে ঘর ছেরেছে রেহান। কি কারণে সেদিন যেন তার একান্তই এক ব্যার্থ চাতক পাখি মনে হচ্ছে নিজেকে। একটুকরো ভালোবাসার জন্য হাপিত্যেশ করে আকাশপানে চেয়ে থাকতে থাকতে এবার মনে হয় তার দিন ফুঁড়ানোর সময় আগত। নিজেকে সবার থেকে সরিয়ে রাখতেই ভোর বেলা ঘর ছেড়ে সে আশ্রয় নিয়েছে ইচ্ছামতীর ধারে। শূন্য বেঞ্চিতে বসা রেহানকে মাথার উপর রক্তরাঙ্গা কৃষ্ণচূড়া যেন আগলে রেখেছে পৃথিবীর সকল অপশক্তির দুর্দ্যন্ডপ্রতাপ প্রভাব থেকে। কিন্তু প্রকৃতি সাথে থাকলেও মন যে তার থেকে মুখ ফিরিয়েছে, ঠিক যেমন সমাজ মুখ ফিরিয়েছিল তার সম্বিত হওয়া থেকে। আজ অভুক্ত রেহান যতবার দেখছে একঝাঁক ছেলে মেয়ে হাতে হাত রেখে তাদের জীবনের রূপরেখা তৈরি করছে ততবারই তার মনে পড়ছে শেখরের কথা। অপ্রকাশিত বেদনার হাহাকার আর নিরব আর্তচিৎকারে বুকটা চৌচির হয়ে যাচ্ছে। না পাওয়া জিনিসগুলো, না বলা কথাগুলো পৃথিবীর কাছে অজানাই থেকে যাবে। হয়তো কেউ জানবেনা,কেউ দেখবেনা সেই শ্মশান মূহুর্ত। একঝাঁক ফুলে ওঠা সিল্কি চুলের মাথা, দুধে-আলতা গায়ের রঙে রাঙিত মুখখানি, গালে চাপা দাঁড়ির আবছা অনুভূতি, রক্তিম ঠোঁটের কোলের আলতো স্নেহশীল হাসি আর চওড়া বুকের দ্বায়িত্বশীলতা; ডঃ শেখরের এই ছবিটাই সেদিন মনের ভিতর প্রতি মুহুর্তে ফুটে উঠছে রেহানের। শুধু একটাই আর্তনাত তার, “যদি সে একবার এসে দাঁড়ায়”।

কখন যে পুর্ব থেকে পশ্চিমে ঢলে গিয়েছে সূর্য, তার খেয়াল করেনি রেহান। আকস্মিত পিছন থেকে “রেহান ভাইয়া… ও রেহান ভাইয়া…” চিৎকারে সম্বিত ফেরে তার। পিছন থেকে ছুটে আসছে রিজু, পাশের বাড়ির পাড়াতুতো ছোটো ভাই। হাঁপাতে হাঁপাতে এসে দাঁড়িয়ে পড়লো রেহানের পিছনে। রেহান জিজ্ঞেস করলো-
– কি হয়েছে তোর? আমি এখানে তোকে কে বললো?
– আর কি হয়েছে? তোমাকে সারাদিন ধরে গোটা গ্রাম খুঁজে বেড়িয়ে আমি ক্লান্ত হয়ে পরেছি। তুমি মোবাইলটাও ফেলে এসেছ… তোমার কি শরীর খারাপ?
– কেন? না তো? আমাকে কে খুঁজতে পাঠিয়েছে… আমার বাড়ি থেকে।
– না, না… তোমার বাড়ি থেকে নয়। জানি না লোকটা কে… শহর থেকে এক ডাক্তার এসেছিলো। ইয়ায়া লম্বা, ফর্সা টুকটুকে… তোমাকে খুঁজছিল… তাকে নিয়ে গোটা গ্রাম চষে ফেললাম, তবুও তোমার দেখা পাইলাম না। অগত্যা ওই ডাক্তার আমার হাতে এই মুখবন্ধ খামটা দিয়ে তোমাকে দিয়ে দিতে বলে চলে গেলেন।
– ডাক্তার… শহর থেকে এসেছে…? তবে কি শেখর এসেছে… ওই ডাক্তারের নাম কি? আমাকে কেন খুঁজছে?
– এই যাঃ… নামটা তো জিজ্ঞেস করা হয়নি। তবে তুমি নিজেই দেখে নাও এর ভিতর কি আছে। হবে হয়তো তোমার মল, মূত্র, থুতু পরীক্ষার রিপোর্ট!
– ইয়ার্কি হচ্ছে এখানে দাঁড়িয়ে। যা এখন এখান থেকে… আর কেউ জিজ্ঞেস করলে বলবি আমি আসছি একটু পরে।

রিজু চলে গেলে খামের ভিতর থেকে একটা চিঠি পায় রেহান। সে যেটা ভাবছে এটা কি তবে সেই; এই উৎকণ্ঠা নিয়েই পড়তে শুরু করলো চিঠিটা। হ্যাঁ, সত্যিই তাই। ডঃ শেখরের চিঠি। অঝোর অশ্রুধারায় ঝরে পড়ে সে। কখনও কল্পনাও করতে পারেনি এমন একটা সময় তার কাছে আসবে। আবেগ প্রবন রেহান সেদিন একটানা কোয়াটারে শুধু নিজের কথাই বলে গেছে শেখরকে, কিন্তু একবারও জানতে চায়নি সে কি, কেমন, কি তার চাহিদা। আজ সেটাই বলতে চায় শেখর। একফালি কাগজে সে জানিয়ে দিয়ে গেলো, রেহান একা নয়; তার সাথে রয়েছে আরও এক স্বার্থহীন ভালোবাসা। শেখরের ভালোবাসা। মর্মে মর্মে রেহান অনুভব করছে সেদিন কি হাতছাড়া করে এসেছে সে। আসলে ডাক্তার নিজেও এক সমপ্রেমী। হ্যাঁ, সমপ্রেম; যেটা নাকি সামাজিক ন্যায়দন্ডে নিষিদ্ধ, যেটা নয় কোনও রোগ, নয় কোনও অসুখ, নেই তার কোনও ওষুধ, নেই কোনও মুক্তি। কারণ সমপ্রেম একান্তই প্রেম; যার শুরুতে প্রেম, মাঝে প্রেম আর শেষেও সেই প্রেম আর ভালোবাসা।

কাগজের সামনে পিছনে কোথাও শেখরের কোনও ঠিকানা বা ফোন নং নেই। কিছুটা বিস্মিত আর আফসোস হল তার। এতোটা কাছে এসেও চলে গেলো অথচ একপলক চোখের দেখারও সুযোগ পেলো না। তবুও মনটা আজ তার বড়ই আনন্দে আত্মহারা। শেষ অবধি একজনকে কেউ অন্তত আছে যে তার সমসঙ্গী। নতুন আকাশ, নতুন বাতাস, নতুন পৃথিবী; নতুন জীবন, নতুন ভাবনা, নতুন শুভাকাঙ্ক্ষী।

(প্রায় তিন মাস পর) রীতিমত হাইস্পিডে হাইরোড দিয়ে বাইকটা চালাচ্ছে রেহান। চোখের সামনে প্রতিবারে ভাসছে শেখরের মুখের ছবিখানি। কিছুতেই মন থেকে ভুলতে পারছে না তাকে। এতো চেষ্টা করেও এতো দিনে শেখরকে খুজেও পেলো না সে। যেন এক অদৃশ্য মানব তাকে সর্বদা ঘিরে রাখে। বিধাতার কি অদ্ভুত ললাটের লিখন। কে খণ্ডাবে তারে! নিজের গ্রাম থেকে প্রায় নব্বই কিলোমিটার পেরিয়ে চলে এসেছে একেবারে শহরের দোরগোড়ায়, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটিতে ফর্ম তুলতে। অচেনা পথে অন্য মনস্ক রেহানের জীবনে আবারো সেই পুনরাবৃত্তি। আবার মোটরবাইক নিয়ে পড়লো বড় গাড়ির সামনে। রক্তাত এক অজ্ঞাত পরিচয় যুবককে স্থানীয় বেসরকারী মেডিকেল কলেজে ভর্তি করতে নিয়ে গেলেন পথের জনতা। সংজ্ঞাহীন রেহানের স্মৃতিতে ফ্ল্যাশব্যাকের মত ভেসে উঠছে একবছর আগের গ্রামের হাসপাতালের দিনটা। স্ট্রেচারে শুয়ে রক্তে ভেসে যাওয়া শরীরে শুধু একটা চোখের ঝাপসা দৃষ্টিতে দেখতে পাচ্ছে সিলিঙের ঝুলন্ত আলো গুলোকে। শুনতে পাচ্ছে ওই স্থানীয় জনতার সাথে বেসরকারী হাসপাতাল কর্মীদের মতবিরোধ হচ্ছে ভর্তি করানো নিয়ে; ওরা টাকা চাইছে। স্বভাবতই কেই এই অজানা ছেলের দ্বায়িত্ব নেবে। অগত্যা রেহানকে নিয়ে বেড়িয়ে যেতে শুরু করলো তারা। সবাইকে কিছুটা অবাক করেই পিছন থেকে এসে স্ট্রেচারটা থামিয়ে দিলো এক ডাক্তার। বাকিরা জানতে চাইলে তাদের উচ্চ কণ্ঠে উত্তর দিলো- “ ইনি আমার… আমি ওর দ্বায়িত্ব নিচ্ছি”। কিছুটা স্তম্ভিত আর একে অপরের মুখের দিকে চেয়ে সবাই সরে গেলো। রক্তে ভেসে যাওয়া মাথায় আলতো করে হাত দিয়ে বলল-

– “একবার আমার দিকে তাকিয়ে দেখো, আমি এসে গেছি রেহান… তোমার শেখর…”

লেখকঃ অরুণ

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.