টুইংকেল

লেখক – আরিয়ান ডি ক্রুজ

এক
কপাল থেকে তখনও রক্ত ঝরছিলো। টুইংকেল রক্ত মুছিয়ে দিয়ে আমার পাশে বসলো। ওর হাত ধরলাম। ওর চোখে চেয়ে চুপি চুপি বললাম, ‘অনেক সেক্সী লাগছে আজ তোমাকে’।
এই কথা বলার সাথে সাথেই ডাক্তরের সামনেই ওর হাত ধরে পরে গেলাম। যখন নিজেকে আবিস্কার করলাম, তখন আমি হাসপাতালের বেডে।
মনে আছে আমি হাসতে হাসতে বললাম, এখানে আমি কি করে এলাম ? ও বললো, অজ্ঞান হয়ে পরে গিয়েছিলে। এরপর আমার আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব, নিজস্ব ডাক্তারও এলো। যতটা সময় ডাক্তার সেলাই করছিলো কপালে, শুধু ওর হাতটাই ধরা ছিলাম। তখন লোক লজ্জা ভয়, দ্বিধা দন্দ সব লোপাট হয়ে গিয়েছিলো।
আমার হাত ছিলো ওর হাতে।ডাক্তার বললো আর কিছুক্ষণ হলে আপনাকে বাঁচানো যেতোনা।
আমি নতুন জীবন পেলাম, টুইংকেল তোমার জন্য। আমি মুগ্ধ হলাম। সেই প্রেমে পড়লাম ওর…
সেই থেকেই ভালোবাসার শুরু। এই প্রথম ক্রাশ খেলাম কারো প্রতি। অদ্ভুত রকমের ভালোবাসা কাজ করলো ওর প্রতি।
ও মিরপুরে থাকতো…। কতটা টান থাকলে একটা মানুষ ওসুস্থ শরীর নিয়ে ছুটে আসে, সবার আগে, একটা মানুষের জীবন বাঁচাতে। তাই অবাক হই ভেবে, অথচ তার আর আমার মধ্যে কোন রকম সম্পর্ক ছিলো না। ছিলো না প্রেমের বা দেহের কোনো সম্পর্ক…
ওর কলেজ ছিলো আমার বাসার পাশেই, ফার্মগেটে। তাই প্রায় প্রতিদিনই ব্যান্ডেজ খুলে পরিস্কার করে নতুন ব্যান্ডেজ ওই লাগিয়ে দিয়ে যেতো। আমি তখন মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকতাম ওর চোখে..
দূর্ঘটনার পরের দিন ও আমার বাসায় থাকলো। সেই রাতে অনেক কথা হলো। মনে আছে অনেক রাত পর্যন্ত কথা বলে ঘুমের ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে গিয়েছিলাম। উঠে দেখি ও ঘর গুছাচ্ছে।
মনে হতে লাগলো আমার জীবনের আরেকটি অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। এটাই হবে আমাদের নতুন সংসার….
আমার অনেক শুভাকাঙ্খীরাও আসলো এরপর থেকে। কিন্তু আমি সুস্থ হলাম সে সময়, ওর ভালোবাসার ছোঁয়াতেই।
টুইংকেলের সাথে আমার পরিচয় হয়েছিলো ফেসবুকে। fake আইডিতে। প্রায় অনেকের মতো তার সাথে দু চারটি কথা হলেও প্রায় তিন বছর পর দেখা হয় ওর সাথে। তাও এই দূর্ঘটনার কয়েকটি দিন আগে। তবে সম্পর্কটা হয় এই একটি দুর্ঘটনার মধ্য দিয়ে।
দুই
মা তখন মাত্র তিন দিন হলো বাড়িতে গেছেন। তাকে গাড়িতে উঠিয়ে ফেরার পথে সে কি তুমুল ঝড় বৃষ্টি, কমছেই না। আর আসার পথে আসে পাশে কোনো ছাউনি না থাকায় বেশ ভালো ভাবেই ভিজে ফিরলাম। তারপর বাধিয়ে বসলাম জ্বর। হালকা জ্বর দেখে তেমন কাউকেই ডাকিনি। কিন্তু জ্বর আর কমছিলো না। এর মধ্যে দুদিন হয়ে গেলো।
সেদিন দুপুরে ঘরে গা মুছে বাথরুমে তোয়ালে রাখতে গিয়ে মাথা ঘুরে পরে গেলাম। প্রায় ১০/ ১৫ মিনিট পর উঠে দেখি বাথরুম জুড়ে রক্ত। পরে দেখি কপাল কেটে গেছে। তখন মাথা ঘুরছিলো খুব। মনে হচ্ছিল মৃত্যু খুব নিকটে। কারণ ছোট বাথরুমে কি ভাবে পরে গেলাম, তার বাখ্যা খুঁজে পাইনি আজও। সেই বীভৎস যন্ত্রনা থেকে নিজেকে বাঁচাতে বাথরুমে র বাইরে বের হতে গিয়ে বালতির ওপর পরে গেলাম। আবারও বেহুশ। যখন জ্ঞান ফিরলো, তখন মেইন দরজা খুলে বেড রুমে আসতেই আবারও বেহুশ হয়ে পরে গেলাম।
এই প্রথম বারের মত আমি জীবনে জ্ঞান হারালাম…. মৃত্যু কাকে বলে তাই দেখে আসলাম..
একটু হুশ ফিরতেই ডায়াল লিস্টের নাম্বার গুলোতে এলোমেলো চোখে এক ম্যাসেজ অনেককে সেন্ড করলাম। আমার চোখে তখন ভীষণ ঘুম, ওদিকে বিছানার বালিশে রক্ত গড়িয়ে পড়তে থাকলো। আমার করার মত কোনো শক্তি তখন ছিলো না।
আবার যখন জ্ঞান ফিরলো তখন নিজেকে আবিষ্কার করলাম হাসপাতালে।
আমার হাত ধরে দাঁড়িয়ে আছে টুইংকেল। যাকে আমি কখনো কল্পনাও করিনি.. সেই এলো। ওকে আমি একদিন হার্ট করেছিলাম এর আগে। অভিমান করেছিলো, তাও এলো।
এর আগে ও আমার বাসায় এসেছিলো মাত্র । শুধু আড্ডা, আর একটি মাত্র চুমু।
মনে আছে তোমার, কি মনে করে ওকে সেদিন তোমাকে বলেছিলাম, একটা চুমু খেতে পারি ? ও মাথা নেড়ে সায় দিয়েছিলো। সেদিনের ভালো লাগাটা ছিলো অন্য মাত্রায়। অন্যরকম। অব্যাক্তহীন।
তিন
স্বপ্নে দেখা রাজপুত্রের জন্য অপেক্ষা করি নি … অপেক্ষা করে ছিলাম এমন একটা মানুষের জন্য, যে মানুষটার চোখের দিকে তাকালেই প্রাণ খুঁজে পাবো …
এক জোড়া চোখের মধ্যে দু জোড়া চোখ দেখতে পাবো … মানুষটার হাতের স্পর্শে গায়ে শিহরণ জাগবে … আমি দিনের পর দিন এমন একটা মানুষের জন্য অপেক্ষা করে যাচ্ছিলাম । পেলাম তাকে মন ভরে ।
আমি বিশ্বাস করে বসেছিলাম, সেই মানুষটা হুট করে একদিন আমার সামনে এসে চমকিয়ে দিবে … আমাকে নিয়ে বৃষ্টিতে ভিজবে … পার্কে পার্কে হাত ধরে ঘুরে বেড়াবে … এমনকি এত দিনের জমানো না বলা এলোমেলো ভাবনাগুলো খুব মনোযোগ দিয়ে শুনবে !! সবটাই পেয়ে ছিলাম, সেদিনগুলোয়।
আমি তাকে পেলাম। আমার করে পেলাম।
আমরা প্রতিদিন অনেক কথা বলতাম। ও অনেক ছোট বিধায় লুকিয়ে ছুপিয়ে কথা বলতো। সকাল হয়ে যেতো। ওর শরীর খারাপ , সকালে ক্লাশ তাও কথা বলতো।
নিষেধ করলে বলতো, আর একটু কথা বলি ?
আমি না করতে পারতাম না।
ফেসবুকে ওর আমার স্টাটাস আর স্ট্যাটাস। আমরা সুখের মহা সমুদ্রে ভেসে গিয়েছিলাম।
(চার)
সবার স্বপ্নই অপেক্ষার প্রহর গুনতে গুনতে একটা সময়ে এসে, সমুদ্রের তীরে আছড়ে পড়া ঢেউয়ের মতো ধাক্কা খেতে থাকে বিশ্বাস …
কালবৈশাখী ঝড়ের মতো দুমড়ে মুচড়ে যায় দীর্ঘদিনের সাজানো স্বপ্নগুলো … কোনো এক সময়ে হারিয়ে যায় গভীর অন্ধকারে !! যা আমাদের জীবনেও ঘটেছিলো তাই….
কী চেয়েছিলাম ?? এক বিন্দু খাঁটি ভালোবাসা … দোষ তো আমার না … দোষ বোধহয় কপালের … কপালের লিখন না যায় খন্ডন !!”
কৃতজ্ঞতার বোঝাটা বড় ভারী, মানুষ বেশিদিন বইতে পারেনা। তাই সম্পর্কটা সামান্য অজুহাতেই শেষের পথে হাটতে থাকে…..
রোমাঞ্চ ফোন দেয় টুইংকেল কে…
“ইদের সব কেনাকাটা তাহলে শেষ?”
হুঁ।
“টিকেটও কাটা হয়ে গেছে?”
হুঁ।
ফোনটা কেটে দেয় টুইংকেল……
(পাঁচ)
দু রাত না ঘুমিয়ে বাস স্টান্ডে গেলো রোমাঞ্চ।
“আমাকে দাওয়াত দিবে না?” টুইংকেল অনেক কষ্টে মুখে হাসি ফুটিয়ে তোলে। বলে, নাহ।
রোমাঞ্চ বলে, “একা থাকি। তারপর তুমিও হাত ছেড়ে চলে যাচ্ছো। এই শহরে পাশের বাড়ীর লোকের সাথেই দেখা হয় না, আর তোমার সাথে ? হাসে রোমাঞ্চ …
দীর্ঘশারাস ফেলে অন্য দিকে তাকিয়ে…
টুইংকেল কোনো জবাব না দিয়ে নিচের ঠোঁট কামড়ে অন্যদিকে দৃষ্টি ফেরায়। বাম চোখ থেকে একটা ফোঁটা পানি টুপ করে মাটিতে পড়ে।
অনেক কষ্টে আটকে রাখা আবেগগুলো হঠাৎ যেন বাঁধ ভেঙে বেরিয়ে আসতে চায়।
নতুন জীবনের শুভকামনা। ভালো থেকো।”
আর কখনও দেখা হবে না?
“যদি হয়েও যায়, আমি তোমাকে চিনেও চিনবো না। তুমিও দৃষ্টি অন্যদিকে ফিরিয়ে নিও।”
যদি মাঝরাতে ঘুম ভেঙে তোমার কন্ঠ শুনতে খুব ইচ্ছে হয়? রোমাঞ্চ আবার সেই হাসিটা দেয়। অপারগতার হাসি।
আমি তোমাকে আর ভালোবাসি না। একটুও না।”
ফুটপাথে বাসের জন্য দাড়িয়ে থাকা আশেপাশের অন্য মানুষগুলো অবাক দৃষ্টিতে তাকায় আমাদের দিকে। দ্রুত নিজেকে সামলে নিয়ে টুইংকেল উঠে দাঁড়ায়।
তারপর ফুটপাথের অদূরে পার্ক করে রাখা বাসটার দিকে মন্থর পায়ে এগিয়ে যায়।
(আট)
আমার বর্তমান জীবনের গল্প…..
আমার জীবনে একজন রুপার মতো কাউকে ভীষণ দরকার ছিল?
কিন্তু কেন, আরে আমিতো হিমু না। হিমু হওয়ার যোগ্যও নই। কারণ তার আর আমার জীবন ধারা সম্পূর্ণই আলাদা এখন।
আমার সোনা রুপা দিয়ে কাজ কি?
আমার পছন্দ এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন। আমার এতটুকু জীবনে বাবা মা বাদে যাদের সাথে আমার সম্পর্ক ছিলো, আজ তার উল্টো পথে হাটছি আমি।
আজ রুপাদের সান্নিধ্য অসহ্য লাগে, এক রুপার কারণে। ডক্টরের শরণাপন্ন হয়েও না।
এ এক অন্য আমি। হাজার তো ভালো কথা, লাখেও মেলে কিনা জানা নেই। জানার ইচ্ছে ও নই।
একটা মানুষের সাথে প্রতিনিয়ত প্রতারণা করে ঘর সংসার করা যায় জীবনের সাথে। মনের সাথে নয়। আর আমিতো আমার মনের নিয়ন্ত্রক, আমার সামাজিকতার নিয়ন্ত্রক।
তাই মনকে সাজাই প্রতিদিন মনের মতো করে। ঢেলে দেই উজাড় করে। হোঁচট খাই, ধুলো ঝেড়ে উঠে পড়ি। মানুষ দেখি। মানুষের চোখ দেখি। তারা অবলীলায় হাসে, করুনা করে। সহানুভূতি জাগায়। আহা উহু করে। আমি মজা পাই। ভেতরে ভেতরে উল্লাসে ফেটে পড়ি।
আচ্ছা তারা হোঁচট খেলে পরে কি এমনি আমার মতো আশপাশটা দেখে? জীবনের হিসেব মেলায় ??
আমার বন্ধু অভ্রর আবার মেয়ে হয়েছে, তার বয়েস এখন দুই বছর হওয়ার কথা, তবে কম বেশি হতে পারে, ইদানিং মনে হয় আমার অনুমান শক্তি মাইনাসে চলে গেছে। হটাৎ অনেক জরুরি জিনিস মনে থাকে না অন্য সবার মতো।
মিলি খালার মেয়ে দেখতে কেমন জানিনা।
মা বলছিলো, মেয়ে ভালো হয় নাই। বিয়া দিতে একগাড়ি টাকা লাগবো । সেই টাকার জোগান তার বাপকেই দিতে হবে? কালা নাকবোচা মেয়ে পয়দা করছে। তার থেকে ওরে তুই বিয়া কর। তোর তো কোনো জিনিস ই পছন্দের হয় না।
মাকে বলছিলাম তাইলেতো খালার বিরাট বিপদ, তার মধ্যে শুনছিলাম খালাদের অবস্থা ভালো না। খালুর মাথায় নতুন ভুত চাপছে। সে নাকি নাটকের বই পড়ে সজোরে সংলাপ বলে
-কে দিবে আশা কে দিবে ভরশা, এই জাতীয় কিছু।
তার ব্যবসাপাতি হিমালয়ের চূড়ায় উঠে পরেছে মুসা ইব্রাহীমের মতো। খালা হিসাব চায় (জনগনের মতো)। খালু খালি সংলাপ আওড়ে যান।
খালু সংবাদ সম্মেলন করে বলে তুমি বিশ্বাস করো, আমি একদিন বড় অভিনেতা হবো….
খালা বিশ্বাস করে না।
খালার বড় মেয়ের জামাই সম্পর্কে আমার কি হয়, ভুলে গেছি। হাতে সময় নিয়ে ভাবলে মনে হয় কাজে দিবে। পরে ভাববো।
এক মেয়েকে ভালোবাসতাম। ১০ বছর… নেই। পরপারে। তারপরও তার প্রেমে পরে বসে আছি। আজ তার জন্যই কোনো মেয়েকেই ভালোবাসতে পারিনা ।
স্মৃতি সব জমা আছে। মেমরিকার্ড লাগে না। যখন যা ইচ্ছা মনে করতে পারি। মনে হয় তরতাজা আমার সামনে পদ্মাসনে বসে আছে দারুন মুখমণ্ডল তার । যতবার দেখি দেখতেই ইচ্ছা হয় ?
অনেকের সাথে ইদানিং ফেসবুকে কথা হয়।
ইস্পাত কঠিন একটি ছেলে টুইংকেলকে ভালোবাসতাম। এখন এসএমএস সিন করে ও উত্তর দেয়না।
পৃথীবির সমস্ত অবহেলা সে আমার জন্য জমা রাখছে। রাখুক।
আর একজনের কথা না বললেই নয়। তারে আমার একাকীত্বের গল্প শোনাই ।
আমার মাথা অটো সিস্টেমে চলে।
ব্যাপার না তবুও প্রেম। প্রেম সম্পর্কে আমার বিখ্যাত উক্তি
বয়স একট সংখ্যা মাত্র। তাই যে কোনো সময়ই প্রেমে পড়ার বয়স।
দুঃখের বিষয় এই কথা কোথাও লেখা থাকবে না।
লেখা থাকবে প্রেম। প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বলতে কিছুই নেই ।
সবই প্রেম।
যাকগা সে কথা, খালাকে দেখার ইচ্ছা হচ্ছে খুব।
শীতকালে খালাকে দেখতে যাবো ফাইনাল।
বেশ কবার ফাইনাল করছি যাবো, কিন্তু সেমি ফাইনালেই আউট হয়েছি।
বাড়ি গিয়ে মাকে বলবো মিলি খালার প্রিয় খেজুররসের পিঠা বানাইতে।
মা রেগে বলবে তুই পিঠা খাস না আমাকে বোকা বানাবি। ‘আমি রাত জেগে পিঠা বানামু তুই সকালে কবি আমার পেট খারাপ’।
মাকে কিভাবে বুঝাই মাযের কাছে আসলে আমার সবার কথা মনে হয়।
বাড়িতে পিঠা খাইনা ঠিক আছে, শীতকালে চিতোইপিঠা নিয়মিতই খাই।
আর মায়ের কথা ভাবি। বাড়ি গেলে পিঠা বানায় আমি খাই না, অথচ টাকা দিয়ে কিনা খাই।
আর ভাবি রাত জেগে আমার জন্য পিঠা বানায় কি কস্ট করে। ছেলের প্রতি কি ভালোবাসা।
পিঠা খাই আর চোখ দিয়ে পানি পরে টপটপ
দোকানদারি বলে কাঁদেন কে?
“কই কাদি মিয়া “
পিঠায় ঝালে চোখ দিয়ে পানি পড়ে।
ছোট কালে অনেক মারামারি করতাম। বড় হয়ে উলটা হলাম।
বড় হওয়া যে কতবড় অন্যায়, মাঝেমধ্যে টের পাই।
বড় হয়ে কারো খোঁজ খবর নেই না ।
দুই জন আমার মা। পাশাপাশি বাড়ির। দুইজন দুই ঘরের। দুই ধর্মের। মা স্কুল এ যেতেন। তাই আম্মুর কোলে বড় হয়েছি। এখন দুজন অন্য শহরের বাসিন্দা। আম্মু কে মনে পরে।
জানি ইতিহাসে সবার ঠাঁই হয়না। হয় মনে। মন থেকে সরিয়ে না নিলেই ভালো। এতে আমার আত্মা শান্তি পায়। আমি তার কাছে শান্তি খুঁজি।
শান্তি খুঁজতে টুইংকেল কে নিয়ে একটা কবিতা লিখলাম…. সম প্রেমের উপাখ্যান।
ছয়)
আজ রোদের তেজ অন্যান্য দিনের চাইতে অনেক বেশী। সকাল থেকে রোমাঞ্চের পেটে দানা-পানি কিছু পড়েনি। রোদের তেজে মাথাটা একটু একটু ঘুরছে। দু’মাসের ভাড়া বাকী পড়েছে। টুইংকেলকে বলা হয়নি, তিনটা টিউশনির মধ্যে কয়েকদিন আগে একটা ছুটে গেছে। তাদের মেয়েকে তারা আর ইয়াং কোনো টিচারের কাছে পড়াবে না। আফসোস! ওই টিউশনির বেতনটাই সবচেয়ে বেশী ছিলো।
গত রাতে রোমাঞ্চের মা ফোন দিয়েছিলেন। তাড়াতাড়ি কিছু টাকা পাঠাতে বলেছেন। রোমাঞ্চের ছোট ভাইটার এইচএসসি’র ফর্ম-ফিলাপের টাকা জমা দেয়ার জন্য হাতে আর মাত্র কয়েকটা দিন সময় আছে।
রোমাঞ্চ জানে, যত কষ্টই হোক একটা সময় টুইংকেল নিজেকে সামলে নিতে পারবে। কারো হাত ধরে রিলেটিভদের বাসায় দাওয়াত খেতে গিয়ে রোমাঞ্চ নামের ছেলেটার কথা আর মনেই পড়বে না।
তারপর একদিন কোনো এক অলস দূপুরে নরম বিছানায় গা এলিয়ে ফেসবুকে কারও স্ট্যাটাস পড়তে গিয়ে পুরনো স্মৃতি মনে পড়ে যাবে। ঠিক ওই মুহূর্তে টুইংকেলের চোখের কোণে জমে ওঠা মুক্তো দানার মত এক বিন্দু জলটাই রোমাঞ্চের অনেক বড় পাওয়া হবে।
(সাত)
(টুইংকেল আর আমার সম্পর্কের মধ্যে অনেক কিছুই বাদ দিতে হলো, খাপ ছাড়া মনে হতে পারে। কারণ ডায়রীর পাতা কিছু উল্টে গেলাম, বাকীটা বুঝে নিবেন আশা করি)
যা শিখলাম…
যে মানুষটি তোমাকে ছাড়াই দিব্যি বেঁচে আছে, ভাল আছে, শান্তিতে নিঃশ্বাস নিচ্ছে, সেই মানুষটির জন্য দম বন্ধ করে মরে যাওয়ার তো কোনো মানেই হয় না! কই সে তো তোমার জন্য এখন আর একবারও চোখের জল ফেলছে না। তাহলে তুমি কেন বোকার মত তার জন্য কাঁদছ ??
যে তোমাকে সত্যি ভালবাসবে সে কখনোই তোমাকে ছেঁড়ে যাবে না। আর যদি সে চলেই যায় মনে করবে তুমি বেঁচে গেছ , কারন তুমি একটা ভুল মানুষকে জীবন সঙ্গী হিসাবে বেছে নিয়েছিলে। যে মানুষটি তোমার কষ্টের সময়ে তোমার পাশে নেই, তুমি ভাবছ কী করে যে সে মানুষটি সারাজীবন তোমার পাশে থাকবে ?? তুমি যদি ভেবেই বসো সে ছাড়া আর কেউ তোমার জীবনে আসবে না তাইলে এ ধরনের বাজে চিন্তা-ধারা থেকে বের হয়ে আস। তুমি পঙ্গু, কানা নাকি বোবা ?? কোথায় সমস্যা তোমার ?? মনে রাখো যে যাবার সে চলে যাবে। তুমি হাজার চেষ্টা করেও তাকে ধরে রাখতে পারবে না। তাই ধরে রাখার বৃথা চেষ্টা না করাই ভাল। .
যে মানুষটির কাছে তোমার কোনো গুরুত্বই নেই, সে মানুষটির জন্য কখনোই তুমি একটা বর্ণও বাজে খরচ করবে না। ভেবে দেখো তো, তুমি যার জন্যে ইনবক্সে সারাদিন অপেক্ষা করো শুধুমাত্র একটা টেক্সটের আশায়, সে কি তোমার জন্যে অপেক্ষা করে ?? তোমার টেক্সটের কি কোনই মূল্য নেই, নাকি ?? তোমার প্রতিটি টেক্সটই অনেক দামি। ওতে তোমার আবেগ জড়িয়ে আছে। নিজের আবেগকে এতোটা মূল্যহীন হতে দিচ্ছ কেন? .
যার জন্যে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন সবকিছু ছেড়ে চলে আসো সে কি তোমার এই ছেড়ে আসার মূল্য দিতে জানে ?? সে যদি মাঝপথে এসে তোমার হাত ছেড়ে দেয় তখন তুমি কোথায় যাবে ?? ছেড়ে আসার আগে তোমার সেটাও তো ভাবতে হবে, নাকি ?? . যে মানুষটা এখন চোখ-মুখ বন্ধ করে বলছে তুমিই সব, সেই মানুষটা এভাবেই আজীবন তোমায় মূল্য দিতে পারবে কিনা সেটাও তোমার বুঝতে হবে। না জেনে, না বুঝে ভুল একবার করে বসলে, সেই ভুলের মাশুল কিন্তু আজীবন তোমাকেই দিতে হবে। ভালবাসার মানুষটির কাছ থেকে, আমি তোমাকে ভালবাসি শুনার আগে আমি তোমাকে বিশ্বাস করি শুনতে পাও কিনা সেই দিকটাতে খেয়াল করো, ভালবাসি সবাই বলতে পারে, আমি তোমাকে বিশ্বাস করি খুব কম সংখ্যক মানুষ-ই বলতে পারে। কেউ তোমাকে ছেড়ে গেলে তার জন্য জীবন-লীলা শেষ না করে, নতুন করে বাঁচতে শিখো। হয়তো তোমার জন্য ভালো কিছুই অপেক্ষা করছে, কেননা সৃষ্টিকর্তা কাউকে নিরাশ করেনা।
প্রেমে পড়লে মানুষ, শুনেছি সমুদ্রের কাছে যায়…
পাহাড়ে গিয়ে দু’ হাতে দাঁড়ায়…
আমি কেবল তোমার কাছে যেতে চেয়েছিলাম…
তবে কেনো ফেরালে আমায় ?

প্রেমে পড়লে মানুষ, শুনেছি স্বর্গে যায়..
নরকে গিয়ে বসে সেজদায়…
আমি কেবল তোমার কাছে যেতে চেয়েছিলাম 😔

কেনো এমন করে দূরে গিয়ে মুছে দিলে সব পরিচয় ??

প্রথম প্রকাশ- সাতরঙ

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.