প্রথম পাওয়া

১.
৩০ শে চৈত্র,১৪২৪
সূর্যোদয় হলেই একটি নতুন বছর। বাংলা সনের প্রথম মাসের প্রথম দিন।অর্থাৎ যাকে আমরা পহেলা বৈশাখ নামে চিনি। এটি বাঙালীর অন্য সব উৎসব গুলোর মধ্যে একটি অন্যতম উৎসব। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানে এটি উদযাপিত হয় ঘটা করে। স্কুল,কলেজে হয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, প্রতিযোগিতা।
আবির।
এই গল্পের প্রধান চরিত্র। আবির বাংলাদেশের এক স্বনামধন্য কলেজের মেধাবী ছাত্র। সে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অঙ্গনে তার পদচারনা উল্লেখযোগ্য বলে সবাই তাকে কমবেশি চিনে ।অার সেও বেশ বন্ধুসুলভ, তাই সবার সাথেই তার ভালই সুসম্পর্ক রয়েছে। তার অান্তরিক হাসি ও অমায়িক ব্যবহার ও ইশ্বরপ্রদত্ত রূপ যে কাউকে কাছে টানতে বাধ্য ।এমনকি তার রূপে মুগ্ধ হয়ে অনেক মেয়ের রাতের ঘুম হারাম হয়ে গেছে।সে বুঝলেও পাত্তা দেয় না কাওকে।কারন তার মনে প্রানে বাস করে একজন পুরুষ। এমনি তাকে পেয়েও যায় এই নবর্বষেই।

২.
অর্ণব। আবিরের কলেজের আরেক মেধাবী ছাত্র।আবিরের ১ বছরের জুনিয়র। অর্ণবের একটি বিশেষ গুণ হল,সে সহজেই সবার সাথে মিশে যেতে পারে।আর সেও মনে প্রাণে একজন সমপ্রেমি।
অর্ণব কখনো কোন কালচারাল প্রোগ্রামে নিজেকে যুক্ত করেনি।প্রথমবারের মত কলেজে এসে নিজেকে এইরকম কাজে নিজেকে যুক্ত করল।এর মাধ্যমে আবিরের সাথে পরিচয় হয় তার।কাজের মধ্যেই তারা অনেকটাই ক্লোজ হয়।বলতে গেলে বেস্ট ফ্রেন্ড এর মত।অর্ণব কোন কিছু না পারলে আবির দেখিয়ে দিত।এক পর্যায়ে অর্ণব আবিরকে বলে,
-আচ্ছা ভাইয়া,কাল কি রংয়ের ড্রেস পরবেন/?
-সবাই পহেলা বৈশাখে যা পড়ে তা।
-না মানে,সবাইতো আর লাল সাদা পরে না।অনেকে সাদা পায়জামার সাথে নীল,সবুজ,হলুদ ইত্যাদি রংয়ের পাঞ্জাবি পরে।
-আমি লাল পাঞ্জাবি আর সাদা পায়জামা পরব।
-আমিও।
কিছুক্ষন থেমে
-ভাইয়া আপনি অনেক সুন্দর। আল্লাহ আপনাকে অনেক সুন্দর করে বানিয়েছেন।
-হাহাহা,,,,আল্লাহ সবাই কে সুন্দর করে বানান।তুমিও অনেক কিউট।
কথাটা শুনে অর্ণব লজ্জায় লাল হয়ে যায়।এভাবে কথা বলতে বলতে সব কাজ শেষ করে।

১লা বৈশাখ,১৪২৫।
আজ পহেলা বৈশাখ। বাংলা বছরের প্রথম দিন।বাঙালীর জাতীয় জীবনে অন্যতম দিন।অন্যতম উৎসব।আবিরদের কলেজে সবাই আজ বৈশাখী সাজে সেজেছে। আজ লাল পাঞ্জাবি তে আবিরকে দেবদূত এর মত লাগছে। অর্ণবকেও কম সুন্দর লাগছিল না!সেও লাল সাদায় পাঞ্জাবি আর সাদা রংয়ের পাজামা পরে কলেজে এসেছে।
অর্ণব খুব ভাল গান গাইতে পারে।কলেজের মেয়েরা নৃত্য পরিবেশন করার পর অর্ণব বৈশাখের গান গায়।বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এসো হে বৈশাখ গান টি গেয়ে শেষ করে।
অনুষ্ঠান টি সঞ্চালনা করে আবির।অবশ্য সেও একটি কবিতা আবৃত্তি করে। অর্ণব আবিরের কবিতা আবৃত্তি শুনে তার প্রেমে পড়ে যায়।অসাধারণ কণ্ঠস্বর তার।
৫।পুরো অনুষ্ঠান শেষ করে এক সঙ্গে বাড়ি তারা সময় কাটায়।তারা দুজনই উপলব্ধি করতে পারে যে তারা একে অপর কে ভালবাসে।কিন্তু বলতে পারে না হারিয়ে ফেলার ভয়ে।আসলে,সমপ্রেমি জীবনে কেউ কাওকে তার মনের কথা বলতে পারে না।যার কারনে ভেতরে থাকা ভালবাসাটা মরে যায়।অপূর্ণ থেকে যায় মনের অব্যক্ত বাসনা।

৩.
বাড়ি ফেরার সময় হলে একে অপরের মোবাইল নাম্বার নেয়।
বাড়ি ফিরে অর্ণবের বার বার আবিরের কথা মনে পড়ে।বার বার তার অমলিন হাসিটা চোখের সামনে ভেসে উঠে।রাতে ডিনার করে ফোন দেয় আবির। ওপাশ থেকে হ্যালো বলার সাথে সাথে আবির তার পরিচয় দেয়।বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলে অর্ণব।আর আবির মুগ্ধ হয়ে শোনে তার কথা।এত সুমধুর কন্ঠস্বর তার!আবির মন দিয়ে কথা শোনে।কথা শেষ করে একে অপর কে শুভ রাত্রি বলে কথার ইতি টানে।
পরের দিন কলেজে তারা দেখা করে।আবার গত রাতের মত অর্ণব কথা বলতে শুরু করে। আর আবির মুগ্ধ চোখে তাকিয়ে থাকে তার দিকে।
এক পর্যায়ে অর্ণব বলে,
-কি দেখছেন ভাইয়া?
-তোমাকে।
-আমাকে!কিন্তু কেন?
-তুমি অনেক সুন্দর! তাই চেয়ে থাকি।সৃষ্টিকর্তার অপরূপ সৃষ্টি তুমি!
-হাহাহা!! কি যে বলেন না!তবে আপনিও অনেক হ্যান্ডসাম!!
-সত্যি?
-হুম
কিছুক্ষন থেমে তার হাতটা ধরে বলে
-অামি কি অাজীবন এ হাতটা ধরে রাখতে পারি আবির ভাইয়া?
কথা টা শুনে আবিরের চোখ রীতিমত ছানাবড়া হয়ে যায়।হতভম্ব হয়ে যায় সে!
খুশিতে চোখে পানি এসে যায়!
অর্ণবকে জড়িয়ে ধরে বলে,
– হা পারো অর্ণব!
অর্ণব নিজেকে ছাড়িয়ে আবিরের চোখের পানি মুছিয়ে বলে,
-আজ থেকে আমরা এক সাথে চলব!নতুন বছরে,আমি আমার জীবনে নতুন করে, নতুন মানুষ পেলাম!
-কক্ষনো আমাকে ছেড়ে যেওনা অর্ণব!কথা দাও?
-কথা দিলাম!
এভাবেই তাদের ভালবাসা এগিয়ে যায়।একে অপরের হাত ধরে!নতুন বছরের নতুন পাওয়া!আর তাদের জীবনে প্রথম পাওয়া ভালবাসা!

লেখকঃঅন্তিমে অন্তু

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.