এবারের পূজোয়

শরতের সকাল। নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা।এমন দিনে আজকে আমার প্রথম দেখা হবে রাজার সাথে। রাজা আমার খুব ভাল বন্ধু। ফেসবুকে তার সাথে আমার পরিচয়। তার বাড়ি কলকাতায়। কিন্তু পড়াশোনা করে আমাদের দেশের বাজিতপুর জহুরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজে। সামনে তার প্রফ পরীক্ষা। তাই পূজার ছুটিতে কলকাতা যেতে পারে নি। তার খুব মন খারাপ। তখন আমি তাকে দাওয়াত দিলাম ঢাকার পূজা দেখে যেতে।কলকাতার মত এত জাঁকজমক না হলেও ঢাকা তেও পূজার আনন্দ কম হয় না।
আজকেম মহাষষ্ঠী। আজকে থেকে রাজার মেডিক্যাল কলেজ ছুটি দিয়েছে। আমি বাস স্ট্যান্ডে অপেক্ষা করছি রাজার জন্য। রাজা এলে তাকে নিয়ে বাড়ি যাবো। বিকেলে বের হব পূজা দেখতে। রাজার ছবি আগেই দেখেছি। ৫-৭,ফরশা , স্লিম , চোখে চশমা পরে। বাস এসে থামতেই রাজা বাস থেকে নামলো। চিনতে একটুও অসুবিধা হল না। আমি যেয়ে হ্যান্ডশেক করলাম। রাজা আমাকে দেখে হেসে বলল
– তুমি ছবির থেকেও দেখতে সুন্দর।
– তুমিও তো কম সুন্দর নউ।
রাজা কেমন জানি লজ্জা পেয়ে গেলো শুনে। আমরা একটা রিকশা নিয়ে রওনা দিলাম বাসার উদ্দেশ্যে। আমার বাসা মোহাম্মাদপুরে। রাজা বলছে
– জানো এই সময় কলকাতায় উৎসব হয় চারিদিকে। কলকাতা হয়ে যায় উৎসবের নগরী।
– কি মন খারাপ লাগছে?
– কিছুটা লাগছে। কলকাতা কে খুব মিস করছি
– আরে এখানেও অনেক জমজমাট পূজা হয়। প্রায় ২১০ টা মন্ডপ হয়েছে শুনেছি ঢাকায়।
– তাই নাকি! আমরা কয়টায় যেতে পারবো।
– আগে চল বাসায় । তারপর প্ল্যান করবো।

মা আগে থেকেই জানতো রাজা আসবে। তাই দুপুরে স্পেশাল রান্না করেছে। রাজা দশমীর আগে আমিষ খাবে না। তাই তার জন্য স্পেশাল ভেজ রান্না করেছে মা। ফ্রেশ হয়ে আমরা খাবার টেবিলে বসলাম। এই কথা সেই কথা বলছি। এদিকে মা এসে ধমক দিল
– এই খাওয়া শুরু কর। ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে তো
রাজা বলছে
– আন্টি এত কিছু রান্না করেছেন?
– বাবা আমি জানি তুমি তোমার বাড়ির সবাইকে মিস করছো। তারপরও যাতে কিছুটা হলেও বাড়ির স্বাদ পাও সেই চেষ্টাই করেছি। আর কিছু না।
রাজার চোখ টল টল করছে পানি তে। মনে হয় কেঁদেই দিবে। আমি জাস্ট বললাম
– এইবারেই পূজা যাতে তোমার কাছে অন্যতম শ্রেষ্ঠ পূজা হয় সে চেষ্টা আমি করবো।
– থ্যাঙ্কস। তোমরা আমার জন্য এত কিছু করছো। আমি কৃতজ্ঞ।
অনেক কিছু রান্না করেছে মা। কয়েক রকমের ভর্তা , কাঁচা কলার বড়া , বেগুনি, বেগুনের টক । রয়েছে বেশ কয়েক প্রকার শাক। নিরামিষ পাঁচ ফোড়ন দিয়ে। আর ডাল। সবার শেসে মিষ্টি। পেট ভরে খেয়ে উঠলাম। রাজা তো বলেই ফেললো
– এত মজার খাবার অনেক দিন খাই নি। আন্টি আপনার হাতে জাদু আছে।
খাওয়া শেষে আমরা প্ল্যান করতে বসলাম আজকে কোথায় যাবো। ঠিক হল আজকে শুধু ধান্মন্ডি, কলা বাগান পূজা মন্ডপ টা ঘুরে আসবো। বিকেলে বের হয়ে গেলাম পূজা দেখতে। আমরা ২ জনই পাঞ্জাবি পরেছি।পাঞ্জাবি পূজা তে পরবো না তো কবে পরবো ।কলাবাগানের পূজা মন্ডপ টা করা হয়েছে ঢাকার কার্জন হলের আদলে। বাইরে মঞ্চে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান চলছে। গান হচ্ছে
বল দুর্গা মাই কি জয়……………………।

আমরা মন্ডপে ঢুকলাম প্রতিমা দেখবো। আজকে ষষ্ঠী তাই লোক সমাগম কম। রাজা প্রণাম করলো। আমি মুসলিম । কিন্তু আমি বিশ্বাস করি
– ধর্ম যার যার,উৎসব সবার।
সন্ধ্যা হয়ে গেলো। চারিদিকে আলোক সজ্যা করা হয়েছে। সন্ধ্যা হতেই সেগুলো জ্বলে উঠলো। মনে হচ্ছে রুপকথার জগতে চলে এসেছি। যারা পূজা দেখতে এসেছে সবাই জমকালো পোশাক পরে এসেছে। বলা হয় ষষ্ঠীর দিন দেবী দুর্গা কৈলাস যাত্রা শেষ করে মর্ত্যে এসে পৌঁছান।
বাড়ি ফিরে ছাদে যেয়ে বসলাম আমি আর রাজা। রাজা তার কলকাতার ঘটনা বলছে। কলকাতায় তার বফ ছিল।তার নাম জিতু। কিন্তু বাংলাদেশে পড়তে আসার পর আস্তে আস্তে জিতুর সাথে তার সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে যায়। আসলে জিতুই সম্পর্ক ছিন্ন করেছে। জিতুর হয়তো কলকাতায় নতুন বফ হয়েছে। কিন্তু রাজা এখনো জিতু কে মিস করে। আমার এই কথা শুনে কেমন জানি হিংসা লাগছে। রাজা আরেক জন কে মিস করে তাতে আমার কি! আসলে আমি অনেক আগে থেকেই যখন ফেসবুকে চ্যাট করি তখন থেকেই রাজার প্রতি দুর্বল। এখন সামনাসামনি দেখার পর আরও দুর্বল হয়ে পরেছি। কিন্তু কক্ষনো বলার সাহস হয় নাই। যদি রিজেক্ট করে দেয় সেই ভয়।

আজ মহা সপ্তমী। সকাল বেলা গোসল করে নতুন আরেকটা পাঞ্জাবী পরে বের হলাম আজকে।আজ যাবো বনানী পূজা মন্ডপে। সেখান থেকে দিয়াবাড়ি।ঢাকার সবচেয়ে জমজমাট আর জাঁকজমক পূর্ণ পূজা মণ্ডপ হল বনানী পূজা মন্ডপ। এখানে সিকিউরিটি খুব কড়া। ব্যাগ নিয়ে ঢুকতে দিচ্ছে না। ভাগ্যিস আমরা কোন ব্যাগ আনি নাই। বনানী পূজা মন্ডপ করা হয়েছে রাজবাড়ির আদলে। মানুষের ভিরে মুখরিত মন্ডপ।ঢাকের বোল , কাঁসরের শব্দ আর উলু ধ্বনি তে চারিদিক মুখরিত। কোন ক্রমে ভির ঠেলে মন্ডপে ঢুকলাম আমরা। জমকালো প্রতিমা। আমরা প্রতিমা দর্শন শেষে রওনা দিলাম দিয়াবাড়ির উদ্দেশ্যে। আজ বিকাল টা ওখানেই কাটাবো। শরৎকালে দিয়াবাড়ি সাদা কাশফুলে ছেয়ে যায়। আর কাশফুল দেখানোর জন্যই রাজা কে নিয়ে এসেছি দিয়াবাড়ি। কাশফুল ফোঁটার সাথে সাথে পূজার আগমনী ধ্বনি বেজে উঠে,। আর রয়েছে শিউলি ফুল। সেটা আমাদের বাসা তেই রয়েছে।কাশ ফুলের বনের মাঝে মাঝে চায়ের টং , রেস্টুরেন্ট।দূরে নতুন নতুন এপার্টমেন্ট তৈরি হচ্ছে। একসময় হয়তো এই সুন্দর কাশফুলের বন অদৃশ্য হয়ে যাবে। তৈরি হবে নতুন শহর। সন্ধ্যা হয়ে আসছে।পশ্চিম আকাশ লাল হয়ে গিয়েছে। আমরা গল্প করছি কাশবনের ফাঁকে। আমার খুব ইচ্ছা করছে রাজার হাত ধরতে। কিন্তু সে হাত সরিয়ে নিবে না তো। আমি সব শঙ্কা ঝেড়ে ফেলে রাজার হাত ধরলাম। দেখলাম রাজা মুচকি হাসছে।আমাকে বলল
– আমি এই মুহূর্তের জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। আজকে তুমি হাত না ধরলে আমিই ধরতাম তোমার হাত।
আমি তো তাজ্জব। আমি ভাবছি অন্য কথা। আচ্ছা আমি যা ভাবছি রাজাও কি তাই ভাবছে। কাশবনের চারিদিক জনমানব শূন্য। রাজা হঠাত করে তার ঠোঁট আমার ঠোঁটে স্পর্শ করালো। তার মানে আমি যা আবছিলাম রাজাও তাই ভাবছিল। আমি রাজার ঠোঁটে চুম্বন দেয়ার কথাই ভাবছিলাম। আমার প্রথম চুম্বন। আমার ঠোঁট আদ্র হয়ে গেল রাজার ঠোঁটের স্পর্শে। প্রাণ ভরে নিলাম রাজার ঠোঁটের স্বাদ।
সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। দূরে একটা পূজা মণ্ডপ রয়েছে। ওখান থেকে ঢাকের শব্দ শুনছি। মনে হয় আরতি হচ্ছে। বাড়ি ফিরতে হবে। নাহলে অনেক রাত হয়ে যাবে। নীরে ফিরে গেলাম আমরা দুটি লাভ বার্ড।

আজকে মহা অষ্টমী। আজকে কুমারী পূজা। রাম কৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আমরা ঠিক করলাম সকাল ১০ টায় রাম কৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা দেখে শাঁখারি বাজার , তাঁতি বাজার যাবো। সেখানে ঢাকার সবচেয়ে বেশি পূজা মণ্ডপ তৈরি হয়। শাঁখারি বাজারের রাস্তা খুব সরু।মানুষের এত ভিড় যে এক দিক দিয়ে ঢুকলে আর পিছন ফেরার কোন উপায় নেই। মানুষ ঠেলে ঠেলে সামনে নিয়ে যাবে। এখানে অগনিত পূজা মন্ডপ। একেক টা একেক থিমের উপর তৈরি করা হয়েছে। রাজা অবাক হয়ে দেখছে। এত পূজা মন্ডপ যে ঢাকায় হতে পারে তা তার ধারণায় ছিল না। উচ্চস্বরে হিন্দি গান বাজছে। আর মানুষের কলরব তো রয়েছে। অনেক পণ্য বিক্রি হচ্ছে রাস্তার পাশে।

শাঁখারি বাজার পূজা দেখে এসে একটা রেস্টুরেন্টে খেতে বসলাম। রাতে আবার কৃষিবিদ ইন্সটিউটে সন্ধি পূজা আর ধুনুচি নাচ দেখতে যাবো। এই সময় হটাত রাজার একটা ফোন আসলো।ফোনের নাম্বার দেখে রাজা কেমন জানি অপ্রস্তুত হয়ে পরেছে। আমাকে এক্সকিউজ মি বলে ফোন টা নিয়ে রেস্টুরেন্টের বাইরে গেল। কি এমন কথা যে আমার সামনে বলা যায় না। আমার খুব অবাক লাগছে আবার খারাপও লাগছে। প্রায় ১৫ মিনিট পর রাজা ব্যাক করলো। এতক্ষণ যাবত কার সাথে কথা বলেছে!রাজা এসে বলল
– সরি বাসা থেকে ফোন এসেছিল।
– সরি বলার কিছু নেই। বাসা থেকে তো ফোন আসবেই।
এরপর রাজা কথা ঘুরিয়ে অন্য প্রসঙ্গে চলে গেলো।
সন্ধ্যায় সন্ধি পূজা দেখতে গেলাম। অষ্টমী তিথির শেষ ২৪ মিনিট ও নবমী তিথির প্রথম ২৪ মিনিট মিলিয়ে মোট ৪৮ মিনিট সময়ের মধ্যে সাঙ্গ করতে হয় সন্ধি পুজো।১০৮ টি পদ্ম নিবেদন করতে হয় আর ১০৮ প্রদীপ জ্বালিয়ে মায়ের কাছে প্রার্থনা করতে হয়।তারপর শুরু হল আরতি আর ধুনুচি নাচ। ঢাকের তালে তালে নাচলাম আমরা। বাড়ি ফিরে গোসল করে ফ্রেশ হয়ে গল্প করতে বসলাম। রাজা ফেসবুকে ফটো আপলোড করছে। হটাত করে রাজা বলল
– তোমাকে একটা কথা বলা দরকার।
– কি কথা।
– জিতু ফোন দিয়েছিল দুপুরে । বাসা থেকে নয়। সে আবার প্যাচ আপ করতে চায়।
– কি বল! কি করবে তাহলে?
– জানি না। দেখি

এই উত্তর শুনে আমার চোখে পানি চলে এলো। আমি চোখের পানি ঢাকার জন্য অন্য দিকে মুখ ঘুরিয়ে বসলাম।কারণ আমি রাজা কে অনেক ভালবেসে ফেলেছি। সারা রাত ঘুমাতে পারলাম না। এপাশ ওপাশ করলাম। আমি কি তাহলে রাজা কে হারাতে যাচ্ছি?

আজকে মহা নবমী। আমি সারা রাত ঘুমাই নাই। তাই চোখের নিচে কালি পরে গিয়েছে।রাজা কে দেখলাম খুব খুশি। তাহলে জিতু কি আর ফোন দিয়েছিল রাজা কে?আমি জিজ্ঞেস করলাম রাজা কে
– জিতু কি আর ফোন দিয়েছে?
– হম
– তা কি ঠিক করলে তুমি কি জিতুর সাথে আবার রিলেশনে যাবে?
– মনে হয়। ওকে আসলে আমি খুব ভালবাসি। আমি জানি জিতু আমার সাথে অন্যায় করেছে। কিন্তু আমি অন্ধ ভাবে ভালবেসে যাচ্ছি। ওকে ছাড়া থাকতে কষ্ট হবে।
– ওহ। কিন্তু ভাল মত চিন্তা করে যেও।
– হম
আমার কিছু ভাল লাগছে। আর পূজা দেখার মন নেই। কিন্তু আমি কথা দিয়েছি রাজা কে এইবারের পূজা তার শ্রেষ্ঠ পূজা হবে।তাই তাকে নিয়ে বের হতেই হবে।সকাল থেকেই আকাশ মেঘলা হয়ে আছে। মনে হয় বৃষ্টি হবে। আজকে আমাদের প্ল্যান ঢাকেশ্বরী মন্দির আর জগন্নাথ হলের পূজা দেখতে যাওয়া।

বের হতেই বৃষ্টি শুরু হল। আমরা রিক্সা করে রওনা দিয়েছি। ঢাকার বৃষ্টি আগে দেখেনি রাজা। ওর ইচ্ছা বৃষ্টি তে ভিজবে। ওর কথায় রিকশার হুড ফেলে আমরা যাচ্ছি। রিকশাওয়ালা তো অবাক। ও তো আর জানে না আমরা বৃষ্টি বিলাস করছি। এই বৃষ্টি বিলাসের সাথে ইচ্ছা করছে রাজার হাত ধরতে। এমন সময়ে তো প্রিয় জনের হাত ধরতে হয়। কিন্তু আজকে আমি দূরত্ব বজায় রেখে বসেছি। কারণ রাজা তো আর আমার নয়। জিতুর। আচ্ছা সেদিনের চুম্বন আর হাত ধরা কি শুধু টাইম পাস ছিল! আমার ভারি অভিমান হচ্ছে। কিন্তু তা প্রকাশ করা যাবে না। দেখাতে হবে আমি অনেক খুশি।

ঢাকেশ্বরী মন্দির বাংলাদেশের জাতীয় মন্দির। এখানে অনেক সিকিউরিটি নেয়ে হয়েছে। এখানকার প্রতিমাটাই সবচেয়ে বড়। প্রতিমা দেখে রাজা মন্দির টা ঘুরে দেখতে চাইলো। অসম্ভব সুন্দর এই মন্দির। এই মন্দিরে বহু শত বছর আগেই প্রতিষ্ঠা হয়েছে। এরপর গেলাম জগ্ননাথ হলে,। আমার কাছে জগ্ননাথ হল কেই ঢাকার সবচেয়ে সুন্দর হল মনে হয়। বিশালা একটা পুকুর আছে। আর আছে শান বাঁধানো ঘাট। একটা বিশাল বুদ্ধ মূর্তিও রয়েছে। যখন আমরা জগ্ননাথ হলে পৌঁছে গেলাম তখন সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। প্রতিমা দর্শন শেষে আমরা ঘাটে যেয়ে বসলাম। চারিদিক লাল নীল আলোয় সজ্জিত। আমার এই সুন্দর দৃশ্য দেখার মন নেই। আমার কেবল মনে হচ্ছে আমি রাজা কে বলি যে তাকে ছাড়া আমার জীবন অসম্পূর্ণ হয়ে থাকবে। কিন্তু পরক্ষণে মনে পরে যাচ্ছে রাজার কথা সে জিতু কে অন্ধ ভাবে ভালবাসে।

আজকে বিজয়া দশমী। আজকেই বিসর্জনের মাধ্যমে পূজা শেষ হয়ে যাবে। আর আমার দায়িত্ব শেষ হবে। রাজা ফিরে যাবে। জিতুর সাথে রাজার আবার রিলেশন হবে। আমার এই ব্যাপার টা আর সামনে থেকে দেখতে হবে না।চোখের আড়াল হলেই মনের আড়াল। এই একটা কথা আছে। কিন্তু সত্যি কি রাজা কে ভুলতে পারবো। আমি সকালেই হাসি মুখে রাজা কে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানালাম। এই হাসি মুখ টা আনতে আমার যে কি কষ্ট করতে হয়েছে।কিন্তু ভিতরে তো অনেক কষ্ট। রাজা কে হারানোর কষ্ট। আমি খুব ভাল অভিনেতা। তাই রাজা আমার কষ্ট দেখতে পারছে না। আসলে আমরা সকলেই কখনো না কখনো অভিনয় করি। এই পৃথিবী তে টিকতে হলে অভিনয় করতেই হয়।
বিকেল তিনটা সময় ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে শোভা যাত্রা বের হল। আমরা ঢাকের তালে তালে দেবী প্রতিমা কে নিয়ে সদর ঘাট নৌ টার্মিনালে গেলাম। সেখানেই প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হল। আর সাথে সাথে শেষ হল দুর্গা পূজার আনুষ্ঠানিকতা।

এবার রাজা কে বিদায়্ দেবার পালা। তাকে বাসে উঠিয়ে দিব। আমার খুব খারাপ লাগছে। কষ্ট হচ্ছে । কিন্তু কিছুই করার নেই। বাসে উঠার আগে রাজা বলল
-তোমাকে একটা কথা বলার ছিল
– কি কথা?
– তুমি একটা বোকা ছেলে।তুমি কি করে ভাবলে আমি আবার জিতুর কাছে ফিরে যাবো
– মানে?
– আমি জিতুর কাছে ফিরে যাচ্ছি না। জিতু ফোন দিয়েছিল ঠিকই। কিন্তু আমি সরাসরি না করে দিয়েছি।
– তাহলে আমাকে মিথ্যা বললে কেন?
– আমি শুধু তোমাকে পরীক্ষা করতে চেয়েছি।তুমি বলেছিলে আমার এবার পূজা টা শ্রেষ্ঠ পূজা হবে। দেখতে চেয়েছিলেম তুমি তোমার কমিটমেন্ট রাখতে পারো কিনা।আমি তোমার চোখের পানি দেখেছি। কিন্তু তারপরও শত কষ্টের পরও শুধু আমার খুশির জন্য তুমি অভিনয় করে গিয়েছ। এর থেকে ভালবাসার প্রমাণ আর কি করে হয়। তুমি আমার জন্য চোখের পানি ফেলেছও। আমি জনম জনম তোমার জন্য চোখের পানি ফেলবো। আমি তোমাকে ভালবাসি ।
আমি কি বলবো বুঝতে পারছি না। আমার চোখ থেকে পানি পরছে। এবারের কান্না আনন্দের। আমি রাজা কে জড়িয়ে ধরলাম আর বললাম
– আমিও তোমাকে অনেক ভালবাসি রাজা।

মাঝে মাঝে জীবন টা কে অনেক সুন্দর মনে হয়।

লেখকঃ অরণ্য রাত্রি 

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.