শেষ চিঠি

সেদিন অনুপম তার পড়ার টেবিলে বসে ডায়ারির ভিতর স্বযত্নে রাখা অনির্বাণের ছবিটা দেখছিল।আর অঝোড় ধারায় কাঁদছিল।সে অনেক দিন ধরে অনির অপেক্ষায় দিন কাটিয়েছে। সে ভেবেছিল আজ হয়তো অনি তার কাছে নিশ্চয় ফিরে আসবে। আজ যে সেই দিন যেদিন অনুপম আর অনির্বাণের মিলনোৎসব রচনা করা হয়েছিল। এরপর অনেক দিন হয়েগেছে অনি আর অনুপম দুজনের থেকে অনেক দূরে।কিন্তু অনুপম আজো বোকার মত অনি ফিরবে না জেনেও অনির প্রতীক্ষায় দিন কাটায়। আজ হয়তো তার প্রতীক্ষার দিন শেষ হতে চলেছে। অনুপম আজ আর সহ্য না করতে পেরে আত্মহত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সে এক শিশি ঘুমের বড়ি হাতে নিয়ে অনেক কাঁদছিল আর অনি সাথে কাটানো দিনের কথা গুলো ভাবছিল। হঠাৎ কি মনে করে ও একটা চিঠি লিখতে বসল। তারপর তার জীবনে অনির জন্য লেখা শেষ চিঠিটা সে লিখতে শুরু করল।

প্রিয় অনির্বাণ,
তোমার মনে আছে ? সেদিনের সেই ফাগ্লুনী বিকেলে তুমি আমি পদ্মাপাড়ে ঘুরছিলাম।দুজনে হাতে হাত রেখে তুমি আমি মনের কথা বলতে বলতে নদীপাড়ে হাঁটছিলাম।
তখন কোথাথেকে হঠাৎ ঘন কালো আঁধারের
মতো মেঘে চারিদিক ছেয়ে গেল। অন্ধকার নেমে এল পদ্মার বুকে।
পশ্চিম থেকে ছুটে এল কালবৈশাখী ঝড়।তুমি আমার হাতটা শক্ত করে ধরলে এবং আমাকে নিয়ে ছুটতে শুরু করলে।
ঝড়ের মধ্যে ছুটতে ছুটতে আমরা
এসে পড়লাম সেই ভাঙা শিবমন্দিরে। যেখানে পুজো দিতে এসেই আমাদের প্রথম আলাপ। সেদিন ছিল শিবরাত্রি পূজা। আমি প্রথমবার শিবরাত্রী ব্রত রেখেছিলাম। মনের মানুষ পাওয়ার আশাতেই এই ব্রত রাখা। সেদিন পূজার নৈবদ্যে আমার কাছে পলাশফুল ছিলনা।আমি হয়ত তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে পলাশফুল নিতে ভুলে গিয়েছিলাম। আমি তখন পলাশের ফুলের
জন্য অস্থির হচ্ছিলাম।পলাশ ফুল বাবাকে অর্ঘ্য না দিলে যদি আমার মনের বাসনা পূরণ না হয় এইভেবে চিন্তিত হচ্ছিলাম।

তখন পিছন থেকে একটা পুরুষালী কন্ঠ বলে উঠল “কি চায় পলাশ ফুল?” আমি পিছন ফিরেই দেখলাম এক অতিসুন্দর পুরুষ বেশ লম্বা শক্ত সুঠাম শরীর তোমার যা তোমার পরনের ওই সাদা পাঞ্জাবি দিয়ে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল, আর মুখে সুন্দর পাগলকরা হাসি যা তোমাকে আরো সুন্দর করে তুলছিল।ঠিক যেন রাজপুত্র লাগাছিল তোমাকে শুধু পক্ষীরাজই ছিলনা তোমার সাথে। আমি চোখ ফেরাতে পারছিলাম না অবাক চোখে তোমার দিকে তাকিয়েই ছিলাম।মনে মনে ভাবলাম ইনি কে ইনি কিভাবে বুঝলেন আমার কি চায়। উনি কি মানুষের মন পড়তে পারে নাকি! তুমি আবারো বললে, “কি চায় পলাশ ফুল।” তারপর আমার চোখের সামনে হাত নেড়ে বললে, আমাকে এতদেখার কি আছে? আমি কোন যাত্রার সঙ নাকি? আমি লজ্জায় মুখ নামিয়ে নিলাম। তারপর জিজ্ঞেস করলাম, আপনি কি করে জানলেন আমার পলাশফুলই চাই? তুমি বললে, “সেটাতো বলা যাবে এটা একটা সিক্রেট।তোমার এত জেনে কাজ নেই পলাশফুল চাই কিনা বলো?” আমি মাথা নেড়ে হ্যাঁ বললাম। তুমি কথা না বাড়িয়ে তোমার ডালি থেকে একগুচ্ছ রক্তিম পলাশফুল আমার হাতে তুলে দিচ্চিলে।সে যেন এক রাজপুত্র আমার হাতে তার রক্তমাখা হৃদয় খানা তুলে দিল।

তারপর একসাথেই আমরা পুজো করলাম। শিবঠাকুরের মাথায় দুধ গঙ্গাজল অর্পণ করলাম। ঠাকুর মশাই আমাকে জিজ্ঞেস করলেন, “কার মঙ্গলকামনায় পুজো দিচ্ছো বাছা?” আমার মন চাইছিল তোমার জন্য পুজা দিই কিন্তু আমি তোমার নামই তো জানিনা। আমি ঠাকুর মশাইকে বললাম, যাহ! ঠাকুর মশাই আমি তো তার নামই জানি না।” তুমি মুচকি হাসলে আর বললে, “ঠাকুর মশাই উনি জানেন না উনি কার জন্য পুজো দিচ্ছে। আপনি এক কাজ করুন ওনার পুজোটা আমার নামে দিয়ে দিন।” আবারো আমার মনের কথা তুমি কি করে বুঝে নিলে আমি টেরও পেলাম না। তারপর মন্দিরের বাইরে আসতেই আমি তোমায় জিজ্ঞেস করলাম, “আপনি আমার পুজোটা আপনার নামে দেওয়ালেন কেন? তুমি হো হো করে হেসে উঠলে আর বললে, “তুমি তো তাই চাইছিলে তাই না?” আমি অবাক এবং লজ্জিত হয়ে যেই ছুটতে যাব পিছন থেকে একটা টান অনুভব করলাম পিছন ফিরেই দেখি আমার পরনের উত্তরিওটা তোমার হাতঘড়ির লকে আটকে গেছে কোনভাবে। আমি ওটা ছাড়ানোর চেষ্টা করছি, তুমি বলে উঠলে, “তুমি বাঁধা পড়ে গেছ আর এত সহজে ওটা ছাড়াতে পারবে না।” আমি চমকে উঠলাম তোমার এই কথা শুনে আমি বাক্যহারা হয়ে স্ট্যাচুর মত স্তম্ভিত হয়ে গেলাম।তারপর তুমি বললে, “কি হল বাবুমশাই কোথায় হারালেন?”
আমি চুপ করেই আছি। তুমি বললে, “আচ্ছা তোমার যেই মনবাসনা নিয়ে পুজো দিতে আসা তা কি পূরণ হলো??” আমি বললাম জানিনা, আপনার হয়েছে কিনা সেটা বলুন।

তুমি তোমার হাতঘড়িতে আঁটকে থাকা আমার উত্তরীয় ধরে বললে, “হয়েছে বলেই তো মনে হচ্ছে।!”. আমি লজ্জায় রাঙা হয়ে উঠলাম তার পর তুমি আমাকে বললে, “দেখছো না কেমন তোমার উত্তরীয় আমার হাতে আটকা পড়ে আছে।ঈশ্বর যে আমাদের একসুত্রে বেঁধেদিয়েছে তুমি বুঝতে পারছো না??” আমি দুর্বল হয়ে পড়লাম। আমার দুচোখে জল ভরে এল আমি কাঁদো কাঁদো সুরে জিজ্ঞেস করলাম। “তাহলে এত দিন কোথায় লুকিয়ে ছিলে?, আগে কেন আসোনি? তুমি জানো আমি কত রাতদিন শুধু তোমার আসার প্রতীক্ষা করেছি?” এই বলেই আমি কাঁদতে শুরু করলাম । তুমি খুব যত্ন সহকারব আমার চোখের জল মুছে দিয়ে নিজেও কান্না ভরা সুরে বলে উঠলে, “পাগল কাঁদিস না এখনতো আমি এসে গেছি।আর জিসের দুঃখ তোর? ” ” বাবু চুপ কর শান্ত হ।”

তারপর মন্দিরের সামনেই একটা বটগাছ ছিল তুমি বললে, “চল ওই বটগাছের নিচে গিয়ে একটু বসি । তোর সাথে অনেক গল্প করার আছে।” আমি বললাম, চলো। তারপর বটগাছের ছায়ায় বসে আমরা দুজনে নিজেদের জীবন নিয়ে নানা কথা বলছিলাম। তারপর আমি জানতে পারলাম তুমি ভালো গান গাইতে পারো আমি তোমাকে গান গাওয়ার জন্যে আবদার করতে লাগলাম। তুমি কত্ত বাহনা করছিলে গান না গাওয়ার জন্যে শেষে তুমি আমার খুব প্রিয় একটা গান ধরলে।
“আমারো পরাণো যাহা চাই
তুমি তাই তুমি তাই তুমি তাই….গো।”
আমি অবাক হয়ে মন্ত্রমুগ্ধের মত তোমার গান শুনতে শুনতে কোথায় যেন হারিয়ে গেলাম। তারপর আবারো তুমি আমার চোখের সামনে হাত নাড়িয়ে আমার চেতনা ফেরালে। আর হাসতে হাসতে বললে, “তুই কি শুধু হারিয়েই যাস নাকি?”
আমি বললাম,”আমার মনটাইতো আজ কোথায় হারিয়ে গেল?” গল্প করতে করতে কখন যে সন্ধ্যা নেমে এল টেরই পেলাম না। তারপর বললে চল আজ অনেক বকবক করা হল এবার বাড়ি চল নিজের নিজের।নাহলে বাড়ির সকলে ভাববে আমরা বুঝি শিব পুজা করতে সোজা কৈলাশ চলে গেছি। আমি খুব হাসলাম আর বললাম, “তুমি তো বেশ মজার কথা বলো দেখছি।” তুমি মুচকি হেসে বলে তোর এই হাসি টা আমি সারাজীবন ধরে রাখতে চাই। কাল বিকেলে ঠিক ৪টের সময় পদ্মার পূর্ব ঘাটের সামনে যে মাঠ আছে ওখানে চলে আসিস একদম লেট করবি না।” তোকে একটা সারপ্রাইস দেব। আমি বললাম কি সারপ্রাইস? তুমি বললে, “যখন দেব তখনই টের পাবি।” পরদিন তোমার কথা মত ওখানে গেলাম। আমাকে লেট করতে বারণ করলে আর এদিকে তোমার ই কোন পাত্তা নেই। ৪টে পেরিয়ে সারেচারটে বাজে ৫টা বাজে বাবুর পাত্তাই নেই। আমি রেগেমেগে যেই পালাতে যাব অমনি দেখি তুমি আমার সামনে এসে হাটু গেড়ে বসে একগুচ্ছ পদ্মফুল আমার সামনে বাড়িয়ে দিয়ে বললে, “রাগ করিস না গোলাপ খুজতে খুজতে দেরী হয়ে গেলো। শেষে গোলাপ না পেয়ে পদ্ম নিয়ে এলাম তোর জন্য।” আমি হেসে বললাম,”পাগল একটা তুমি পারোও বটে। পদ্ম দিয়ে প্রোপোশ বাপের জন্মেও শুনিনি।” বলেই হো হো করে হেসে উঠলাম। তারপর তোমার চেয়ে দিকে তুমি কেমন যেন অপরাধীর মত চুপ করে আছো। আমি বললাম, “কি হল চুপ করলে কেন?” তুমি বললে কেন আমার আনা ফুল তোমার পছন্দ হয়নি? আমি জানতাম তুমি পছন্দ করবে না আমারই পোড়া কপাল একটাও গোলাপ পেলাম না।” আমি বললাম, তোমাকে কে বললো পছন্দ হয়নি? তুমি এনেছো আর আমার পছন্দ হবেনা তাই কি হয়? তুমি জানো পদ্ম আমার কত প্রিয় ফুল? আমার কত ভাগ্য আমাকে সবার চেয়ে আলাদাভাবে প্রোপোজ করলে।”

তারপর তোমার হাত থেকে পদ্মগুলো নিলাম। তুমি বললে,”সারাজীবনের জন্য তোর হাতটা আমাকে ধরতে দিবি?” আমি তোমাক তুলে তোমাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, “আমায় তুমি কখনো ছেড়ে যাবেনা তো??” তুমি বললে,” ছাড়ার হলে কি আজ এখানে তোকে ডাকতাম পাগল?” এরপর আমরা কতদিন কতসময় একসাথে কাটিয়েছি তার কোন হিসেব নাই। তোমার মনে আছে? সেই ঝড়ের রাতে যখন আমাকে মন্দিরে নিয়ে এলে। সামনেই ছিল সেই বটগাছটা যার তলে আমরা আশ্রয় নিয়েছিলাম। সেদিন মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। তুমি হঠাৎ কি মনে করে
আমার হাতটা চেপে ধরে
টেনে নিয়ে আসলে বৃষ্টির মধ্যে।
তারপর আমরা বৃষ্টিতে ভিজে
বৃষ্টিধারা উপভোগ করছিলাম। তখন সজরে একটা বজ্রপাত হল। আমি আচমকা ভয়ে পেয়ে তোমায় শক্ত করে জাপটে ধরলাম। আমি তোমাকে ছাড়তে চাইছিনা তুমি বললে, “কি রে ছাড় আমায়!” আমি বললাম,”না ছাড়ব না।” তুমি বললে, “আমিও চায় যাতে তুই আমায় কোনদিন না ছাড়িস।”এই বলে তুমি আমার মুখটা তুলে ধরে আমার দিকে বোকার মত চাইছিলে।হঠাৎ আমার বৃষ্টি ভেজা ঠোটে তোমার চোখ পড়ল।তুমি বললে,”কিরে তোর ঠোটে অনেক তৃষ্ণা জমে আছে তো। আয় আজ তোর সব তৃষ্ণা মেটাব।” আমি অবাক চোখে তোমার পানে চাইলাম।

দেখলাম তোমার মুখেও তৃষ্ণার ছায়া।তোমার চোখগুলো কেমন যেন ঘোলাটে হয়ে আছে তোমাকে দেখে মনে হচ্ছে তুমি ক্ষিপ্ত কোন বাঘ যেন একনিমেষেই আমায় শেষ করে ফেলবে।আমি লজ্জা পেয়ে ছুটতে যাচ্ছি এমন সময় পিছন থেকে আমার হাতটা টেনে ধরে, আমাকে এমন ভাবে জাপটে ধরলে আমি শিহরিত হয়ে পড়লাম। আমাকে কাদার মধ্যে ছিটকে ফেলে দিয়ে তুমি ঝাঁপিয়ে পরলে আমার উপর। বললে, কি”রে এত লজ্জা পাওয়ার কি আছে?”
আমি তো শুধু তোরই।”এই বলেই তোমার তৃষ্ণার্ত ঠোট ডুবিয়ে দিলে আমার তৃষ্ণার্ত ঠোটে।আমরা এক তালে তালমিলিয়ে দুজন দুজনের তৃষ্ণা নিবৃত্তি করতে মত্ত হয়ে উঠলাম।পরষ্পর পরষ্পরে লীন হয়ে গেলাম। আমরা যেন এক আদিম অকৃত্তিম খেলাই মত্ত হয়ে পড়লাম। এদিকে প্রকৃতিও যেন আমাদের মিলনোৎসব পালনে রত হয়ে আছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ যেন সেই উৎসবের আলোর রোশনাই আর মেঘের গর্জন যেন নানা বাদ্যযন্ত্রের মিলিত সুর সে রচনা করছে। এরপর ঝড় থামলো মেঘ সরে গিয়ে জোৎস্নার আলো এসে পড়ল আমাদের উপর।বটগাছের তলায় আমরা একে অপরের হাতে রেখে আছি।

আর একে অপরের দিকে দেখে অবাক চোখে দেখছি।জোছনার আলোয় তোমাকে অনেক মায়াবী অনেক সুন্দর লাগছিল। তারপর তুমি হঠাৎ করে উঠে দাঁড়িয়ে চিৎকার করে বললে,”আমি তোকে ভালোবাসি খুব ভালোবাসি।” আমি তোমাকে জড়িয়ে ধরে বললাম,”আমাকে এই ভাবেই সারাজীবন ভালোবাসবে তো কখোনো ছেড়ে চলে যাবেনা তো?” তুমি বললে, না এই তোকে তোর হাতধরে কথা দিচ্ছি আমি তোকে কোনদিনো ছেড়ে যাবোনা।” কিন্তু তুমি তোমার দেওয়া কথা রাখোনি। চলে গেলে আমার থেকে অনেক দূরে। জানো আজো সেই পবিত্রদিন টা যেদিন আমরা প্রথম মিলিত হয়েছিলাম।শুনেছি তুমি এখন বিদেশে ছেলে-বউ নিয়ে বেশ সুখেই আছো। সেদিন বিকেলে তুমি আমাকে এসে বললে, তুমি নাকি বিয়ে করছ। আর বিয়ে সেরেই নাকি বিদেশে পড়তে যাবে। আমাকে বললে আমি যেন তোমাকে ভুলে যায়। আমার মাথার উপর যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। তুমি তোমাকে কত অনুরোধ করলাম। তুমি শুনলে না আমার কথা। তারপর বিদেশে চলে গেলে আমাকে ছাড়খাড় করে দিয়ে। আমি তোমাকে কত চিঠি লিখেছি। কত দিন তোমার উত্তরের আশাই দিন গুনেছি। একটা চিঠিরও উত্তর পাইনি। উত্তর দেবে কি করে শুনেছি তুমি এখন মস্ত অফিসার।এখন তোমার কত্তকাজ। হয়তো আমার চিঠি খুলে দেখার সময়ই হয়নি তোমার। তবুও আমি আজ অবধি শুধু তোমার আশায় অপেক্ষারত ছিলাম।কিন্তু আজকের পর আমাকে আর তোমার জন্য অপেক্ষা করতে হবে না। আর তুমি চাইলেও আমার এই চিঠির উত্তর দিতে পারবে না। আর আমার এই চিঠি পেয়ে যখন আমার কাছে ছুটে আসবে। দুর্ভাগ্যবশত তখন তুমি আর আমায় পাবেনা। যাইহোক তুমি ভালো থাকো সারাজীবন এইটাই চেয়েছি আজো তাই চাই।হয়ত আজকের রাতটাই আমার জীবনে শেষরাত।কাল যদি তুমি খবর পাও যে আমি আর নেই তাহলে একবার খোলা আকাশের নিচে সেদিনে মত করে বোলো।যে তুমি আমায় আজো ভালোবাসো। ভালো থেকো বিদায়।।
ইতি
তোমার অনুপম

এই বলেই অনুপম কলম ফেলে দিয়ে বাম হাতের মধ্যে রাখা ঘুমের বড়ির শিশি টা হাতে নিয়ে, কাঁদতে কাঁদতে ” মরন রে তুঁহু মম শাম সমান” বলেই হো হো করে হেসে উঠল এবং একটা একটা করে সব ঘুমের বড়ি খেয়ে ফেললো। এবং কিছুক্ষনের মধ্যেই অনুপম চিরশান্তির চিরনিদ্রার কোলে ঢুলে পড়ল। তখন রেডিয়োয় তার সেই প্রিয় গানটা বেজে উঠলো,
“তুমি সুখ যদি নাহি পাও
যাও সুখের সন্ধানে যাও।
আমি তোমারে পেয়েছি হৃদয় মাঝে আর কিছু নাহি চাইগো।আমার পরাণো যাহা চাই তুমি তাই তুমি তাই গো।”
————-সমাপ্ত————–

লেখকঃশ্রী বুদ্ধদেব চট্টোপাধ্যায়

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.