হ্যাপি নিউ ইয়ার

মানুষ কখন বেশি আবেগী হয় জানেন?যখন সে প্রেমে পড়ে।প্রেমে পড়া একজন মানুষ তার প্রিয় মানুষটির জন্য সব করতে রাজি হয়।সব ধরনের ওয়াদা দেয়।কিন্তু!!!!!
এটা ভাবেনা আদৌ তা পূরন সম্ভব কিনা।প্রেমিককে ছাড়া বাচবেনা বলেও মানুষ অঙ্গীকার করে।কিন্ত,, প্রেমিক থাকেনা ঠিকই,, তবে বাচবেনা বলে কথা দেওয়া মানুষটি বাচে।সময়ের সাথে সাথে সেও পাল্টায়।ভুলে যায় হারিয়ে ফেলা মানুষটিকে।
তাই,, মানুষের পরিবর্তনের জন্য মানুষ নয়,,সময়ই দায়ী।

****
-তুই কই দুস্ত,,,,,,এখনো বাসায়?
-নাহ,,বেরিয়েছি।১০ মিনিটের মধ্যে পৌঁছাচ্ছি।
-এইনিয়ে ২-৩ বার বললি পৌঁছাচ্ছি।কই পৌছাতে তো পারলি না।
-নাহহ আসলে আমার ভালো লাগছে না তাই।
-আজ ১২ টায় আমরা নিউ ইয়ার ২০১৯ কে ওয়েলকাম করব।আর তুই ঘরে বসে থাকবি?
এখন সাড়ে সাতটা বাজে।৮ টার আগে তুকে এখানে দেখতে চাই।
-শোন,,,,

ওপাশ থেকে লাইনটা কেটে দিলো।অর্নব তানভীরের বেস্ট ফ্রেন্ড। তানভীরকে নিউ ইয়ার পার্টিতে নিয়ে যাওয়ার ব্যর্থ চেষ্টা করেই চলেছে। কিন্তু তানভীরের আগ্রহ নেই।কারন অর্নব তানভীরকে কোন এক বারে নিতে চাইছে। তানভীর জানে এসব ভালো জায়গা না।

ফোনটা পটেকে গুজে অনিচ্ছা সত্বেও প্রিয় বন্ধুর মন রাখতে বেরিয়ে পড়লো তানভীর।
বাইরে কনকনে ঠান্ডা।

****
।শীতে কাপতে কাপতে পার্টিতে এসে ঢুলল তানভীর। অর্নব অনেক জোর করেও শীতের কাপর পরাতে পারেনি।তানভীরের এক উত্তর”দেখিস,,পার্টিত­ে অত মানুষের ভিড়ে ঠিক গরম লাগবে।রাস্তাটা কষ্ট করে যাই।ওখানে ঠান্ডা লাগবে না।”
কিন্তু ভাবনা আর বাস্তব তো এক হয় না সবসময়।পার্টিতে এসেও ঠান্ডা কমেনি তানভীরের। পার্টিতে তারা একটু আগেই এসে গেছে।লোকজন আসতে শুরু করেছে মাত্র।তানভীরকে শীতে কষ্ট পেতে দেখে অর্নব বললো “তুই বস,,আমি তুর জন্য শীতের কাপরের ব্যবস্থা করি।”
এ বলে বেরিয়ে গেলো অর্নব।
অর্নব বেরুতেই নিজের পিঠে উষ্ণতা অনুভব করলো তানভীর। কেউ তার পিঠে শাল জড়িয়ে দিয়েছে।

“খুব ঠান্ডা লাগছে??শীতের কাপর ছাড়া বেরিয়েছেন কেনো?”লোকটি বললো।
তানভীর অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলো সুদর্শন মানুষটার দিকে।তানভীর লোকটার কথা শুনতে পারছে না।শুধু তাকিয়ে রইলো,,
মানুষ এত্ত সুন্দর হয়?মনে হচ্ছে বেহেস্তের গেলমান নেমে এসেছে তার সামনে।ফর্সা দেহ,,গোলাপি ঠোট,মুখে হালকা দাড়ি,।
“হা,,করে কি দেখছেন? “লোকটার কথায় সম্বিত ফিরে পেলো তানভীর। “নাহ,,কিছু না,,আপনার শালটা আমাকে দিলেন কেনো? “
“আপনাকে শীতে কাপতে দেখলাম তাই,,”তানভীরের কথার প্রতিউত্তর দিলো সে।”আপনার গায়ে তো গরম কাপর নেই এখন”
“আমি এ বারেই থাকি।আরেকটা শাল নিয়ে নিব। আর এটা চাইলে আপনি রাখতে পারেন। আর ফেরত দিতে চাইলে,,দুতলার রুম নাম্বার ২৭ এ চলে আসবেন।বাই”
আঙুল দিয়ে নিজের রুম দেখিয়ে চলে গেলো লোকটি।

তানভীর এ প্রথম এ বারে এসেছে। তাই সে কিছুই জানেনা এখানকার। শালটা ভালোভাবে গায়ে জড়িয়ে নিলো তানভীর।
বেশ মিষ্টি পারফিউমের গন্ধ শালে।
অর্নবকে খুজতে যাবে এমন সময়,,জ্যাকেট হাতে ঢুকলো অর্নব..

-কিরে,,, তুই শাল কই পেলি?
-আমাকে কাপতে দেখে একটা লোক দিয়েছে।
-অমনি নিয়ে নিলি।এখন ফেরত দিবি কেমনে?
-ফেরত দিতে ইচ্ছে না হলে দিতে মানা করেছে। আর ইচ্ছে হলে দুতলার রুম নাম্বার ২৭ এ যেতে বলেছে।
-এখানে থাকে বলেছে?
-হ্যা,,
-শোন,,তুকে একটা কথা মিথ্যা বলেছি।এটা কোন সাধারণ বার না।এখানে দেহ ব্যবসা হয়।ছেলে মেয়ে উভয়েই এখানে ব্যবসা করে।
যে লোকটা তুকে শাল দিয়েছে সেও এখানেই দেহ ব্যবসা করে।
-তুই এসব জানলি কেমনে?
-আমি প্রায় আসি তাই।
-এখান থেকে বেরুই।তুকে আজ খুন করে ফেলব।
-আমাকে খুন করার আগে নিজেকে বাচা।
যাহ,,জ্যাকেট টা পর।আর ২৭ নাম্বার রুমে গিয়ে শালটা দিয়ে আয়।আর ইচ্ছে হলে..
– থামলি কেন? ইচ্ছে হলে কি?
-ইচ্ছে হলে নিজের যৌবনটাও দিয়ে আসিস।
-যাহহ ভাগ।আমি অইরকম নই।

****
দুতলার ২৭ নম্বর রুমে গেলো তানভীর।ভেতরে আলো আঁধার অন্ধকার আর মাতাল হওয়া গন্ধ।কিন্তু কেউ নেই।কয়েকবার ডাক দিলো।কাউকে পেলো না।হঠাৎ দরজা বন্ধ হওয়ার শব্দ পেয়ে পেছনে তাকালো তানভীর।একজন লোক দাড়িয়ে আছে দরজার সামনে।অর্ধনগ্ন হয়ে।
পাতলা একটা কাপর কোমড়ে জড়ানো।নেশার দৃষ্টিতে তানভীরের দিকে চেয়ে আছে। তানভীর চিনতে পেরেছে। এ সেই লোক।যে একটু আগে তাকে শাল দিয়েছে।
-আপনি,,,এরকম অদ্ভুত হয়ে আছেন কেনো?
-অদ্ভুত। এখানে এভাবে থাকাটা স্বাভাবিক।
-আপনি দেহ ব্যবসা করেন?
-এ প্রশ্নটাও তোমার মত অদ্ভুত।এখানে এসেছো অথচ কি হয় এখানে তা জানোনা।
-আপনার শাল ফেরত দিতে এসেছি।
-ওটা তুমি রাখো,, আমার স্মৃতি হিসেবে।
-আপনার স্মৃতি? আপনার সাথে এমন কিছুই হয়নি যে স্মৃতি হয়ে যাবে।
-হয় নি।হবে। তোমাকে আমার ভালো লেগেছে। আমরা নিজে থেকে ক্লাইন্ট পছন্দ করিনা। ক্লাইন্ট আমাদের পছন্দ করে।কিন্তু এখন আমি ক্লাইন্ট পছন্দ করেছি।তোমাকে।
আমি জানি তুমার আমাকে ভালো লেগেছে।শাল দেওয়ার সময় তোমার দৃষ্টি দেখে আমি বুঝেছি।
-কি সব বলছেন। আমি যাচ্ছি।
-রাহুলকে আজ অবধি কেউ রিজেক্ট করেনি।
-আপনার নাম রাহুল?
-হ্যা।তোমার নাম তানভীর। আমি জানি।

লোকটার সাথে তর্কে যেতে পারল না তানভীর। তার নেশা আর মায়া জড়ানো কথায় মুগ্ধ হচ্ছিলো সে।তার চেয়ে বেশি মুগ্ধ হলো তার রুপে।একটু আগে লোকটার শুধু চেহারা দেখেছে সে।এখন দেখছে পুরো দেহ।দেহের প্রতিটি ভাজে যৌনতা উপচে পড়ছে।রাহুলের সারা দেহে খুব হালকা লোম। তাকে যেনো ডাকছে। নিজের অজান্তেই তার মন চাইছে রাহুলকে পেতে।,দুটো দেহ এক করতে।রাহুল নিজের অবশিষ্ট কাপরটা কোমড় থেকে খুলে ফেলে দিলো।এখন সে একজন নগ্ন পুরুষ। রাহুল এক পা দু পা করে এগিয়ে আসছে তানভীরের দিকে।তানভীর ঠাই দাঁড়িয়ে রইলো। মন থেকে সে হার মানলো সুদর্শন রাহুলের কাছে।তানভীরের মুখে হাত রাখলো রাহুল।নিজের ঠোট এগিয়ে দিলো তানভীরের দিকে।আবেশে চোখ বন্ধ করলো তানভীর। রাহুলের গোলাপি ঠোটের পরশ পেলো তানভীর। আস্তে করে দুহাতে তানভীরের কোমড় জড়িয়ে ধরলো রাহুল।নিজেকে আর আটকালো না তানভীর। সায় দিলো রাহুলের ডাকে।নিজের কাপর খুলতে রাহুলকে সাহায্য করলো সে।এখন দুজনই নগ্ন।দুজন নগ্ন পুরুষ একে অপরের দিকে তাকিয়ে আছে।
যে নগ্নতায় মিশে আছে কাম আর ভালোবাসা। নিজের ঠোট তানভীরের কানে এগিয়ে দিলো রাহুল।ফিস ফিস করে বলো”I love You Tanveer.. really.. ” I love u too বলে প্রতিউত্তর দিলোনা তানভীর। শুধু নিজেকে উজাড় করে দিলো সামনে নগ্ন দাড়িয়ে থাকা পুরুষটার কাছে।তানভীরকে কোলে তুলে এনে বিছানায় শুইয়ে দিলো রাহুল।তারপর তানভীরের পা থেকে চুমু দিতে দিতে এগিয়ে আসছে অগ্রভাগে।উত্তেজনায় রাহুলকে জোরে জড়িয়ে ধরলো তানভীর।আবারো তানভীরের ঠোটে ঠোট লাগালো রাহুল।সাথে তানভীরের সারা দেহে নিজের ঠোটের উষ্ণতা দিলো।সুখে উত্তেজনায় মরে যেতে ইচ্ছে করছে তানভীরের।
রাহুলের কাছেই নিজের দেহটা সপে দিলো সে।পারলো না নিজের কামনা আটকে রাখতে এ সুদর্শনের আবেদনে।ঘন্টাব্যাপি সুখ সাগরে ভাসলো দুজন।নিজের যৌবনের রস তানভীরের কাছে সমর্পণ করলো রাহুল।
রতি শেষেও তানভীরকে ছাড়তে চাইছে না রাহুল।গায়ে চাদর জড়িয়ে নগ্ন দেহ নিয়ে শুয়ে আছে দুজনে।দুজনই ক্লান্ত সুখ সাগরে সাতার কেটে।
-জানিনা,, কি থেকে কি হয়ে গেলো।
-অবাক লাগছে?
-হুম,,,,আমি সত্যি তোমাকে ভালোবেসে ফেলিনি তো রাহুল?
-ফেলেছো।আমাকে ভালোবেসে ফেলেছো তুমি।কিন্তু আমার কাজ তো কাম বাসনা পূরন করা।ভালোবাসা নয়।
-আমি বুঝতে পারছি। আমি তোমায় ভালোবেসে ফেলেছি রাহুল।তুমিও আমাকে।
-নাহহ,,মিথ্যা
-সত্য। তোমার সাথে দেহমিলনে আমি শুধু কাম খুজে পাইনি রাহুল।ভালোবাসাও পেয়েছি।
-আমি কেমনে ভালোবাসব তোমায়?আমার যে কোন পরিচয় নেই।কেউ নেই এই দুনিয়ায় আমার।আমি একজন পুরুষ পতিতা।
-তুমি কি চাওনা ও কাজ ছেড়ে সুন্দর জীবন গড়তে।
-চাইলে কি হবে। আমি যে জড়িয়ে গেছে এ কাজে।
-আমায় যদি মন থেকে ভালোবেসে থাকো।
তাইলে আমি পারি তোমার হাত শক্ত করে ধরে রাখতে আর সুন্দর জীবন গড়তে সাহায্য করতে।
-………
-চুপ করে আছো কেনো? কাঁদছো কেন?
-আমি ভালোবাসি তোমায় তানভীর। এটা যেমন সত্য। সাথে এটাও সত্য আমি একজন পতিতা।
-এসব আমার কাছে ম্যাটার করেনা।আমার কাছে ইম্পরট্যান্ট মানুষটা।তার ব্যাকগ্রাউন্ড নয়।
-সত্যি এ জগৎ থেকে মুক্তি দিতে পারবে?
-পারব কিনা জানিনা।তবে এতটুক কথা দিতে পারি।এ পতিতালয় ছেড়ে সুন্দর জীবন গড়তে তোমার হাত ধরে রাখব আমি।

তানভীরের মায়াজড়ানো কথায় হার মানলো রাহুল।সে এমন একজন পেয়েছে যে কামবাসনা শেষ হওয়ার পর তাকে ছুড়ে ফেলে দেয়নি।তাকে এ জগৎ ছাড়াতে বদ্ধপরিকর। সে আর কিছু বললো না।চোখের জল মুছে তানভীরের কোলে মাথাটা রাখল।

নিচ তলা থেকে আওয়াজ আসছে”হ্যাপি নিউ ইয়ার*
~~~~~~~~~~~~~সমাপ্ত~~~~~~~~~~~~~

লেখকঃ অপরাহ্নের কাব্য

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.