গার্লফ্রেন্ড বৃত্তান্ত

১.
আমার সাথে বিয়ে না হলে, ঘুমের ওষুধ খেয়ে মরে যাবে বলা মেয়েটা এখন তার স্বামীর জন্য জন্মনিরোধক ট্যাবলেট খায়।

ফার্মেসীওয়ালা বন্ধু জাহিদ খবর টা দেয় আমাকে। প্রতিবার যেদিন আমার প্রাক্তন প্রেমিকা পাপিয়ার স্বামী জন্মনিরোধক ট্যাবলেট কিনে নিয়ে যায়, সেদিনই এই বজ্জাত বন্ধুটার আমার কথা মনে পড়ে। এই ব্যাপারটা নিয়ে আমাকে খোঁচাতে ওর খুব ভালো লাগে। পাপিয়ার শশুড়বাড়ি জাহিদদের এলাকায়।

আজকেও ইতিমধ্যে কয়েকবার ফোন দিয়েছে শালায়।
ফোন কানেক্ট হওয়ার আগে থেকেই তার পিশাচময় হাসি শুরু । হাসি শুনলেই বুঝা যায় কিসের জন্য ফোন দিয়েছে।
“দোস্ত! খবর আছে!”

আমি জানি সে কি কারনে ফোন দিবে তাই বললাম,”পাপিয়ার বর আসছিলো তোর দোকানে, এটাই তো?”

”হু, দোস্ত! মোজা নিয়ে গেছে ৩ প্যাকেট।”

”মোজা মানে?”

আমার কথা আমলে না নিয়ে বন্ধু হাসির মাত্রা বাড়িয়ে দিয়ে বললো, ”আজকে মনে হয় কয়েক রাউন্ড হবে।”

আমি বললাম, ”ফার্মেসিতে আজকাল মোজাও বিক্রি শুরু করে দিয়েছিস নাকি?”

উৎসাহের মাত্রা আরো বাড়িয়ে আমার বন্ধু বললো, ”আরে ব্যাটা মোজা মানে হইলো কন্ডম। পোলাপান নতুন নতুন কোড নেইম বের করে। দোকানে বেশি মানুষ থাকলে লজ্জায় এটা চাইতে পারে না। তখন এসব কোড নেইম ব্যবহার করে।”

কাঁদো কাঁদো হয়ে বললাম,”হু, বুঝেছি,আর কতোকাল প্রাক্তনের স্বামীর মোজার গল্প শোনাবিরে দোস্ত? আমার মোজা পরার একটা ব্যাস্থা করে দেনা ভাই প্লিজ। এই সেঙ্গেল লাইফ যে আর সহ্য হচ্ছেনা। তুই তাড়াতাড়ি কিছু একটা কর নয়তো আমি কচু গাছের সাথে গলায় দড়ি দিয়া মইরা যামু কিন্তু। “

পাপিয়ার সাথেও প্রেমটা অবশ্য জাহিদ’ই করিয়ে দিয়েছিলো।কিন্তু রিলেশনের তিন মাসের মাথায় পাপিয়া এক পয়সাওয়ালা ভুড়িওয়ালা টাকলাকে বিয়ে করে আমাকে ছ্যাকা দেয়। পাপিয়ার জন্য যখন কষ্টে আমার বাড়া ফেটে যাচ্ছিলো তখন জাহিদ পাশের এলাকার এক সুন্দরী মেয়ের সাথে আমার জন্য বিয়ের সম্মন্ধ ঠিক করে। প্রেম পিরিতি ওভারটেক করে একেবারে সরাসরি বিয়ের সম্মন্ধ। দু’পক্ষই দুপক্ষকে পছন্দ করেছিলো এবং মোটামুটি বিয়ে হবে হবে ভাব৷ তারপর আমরা সেদিন স্বপরিবারে সেই মেয়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম পাকা কথা দেওয়ার জন্য। আংটি পড়িয়ে যাবো এই নিয়ত করেই এসেছিলাম। বিয়ের দিন-ক্ষণ আজকেই পাকা করে ফেলা হবে। মনে মনে লজ্জাও পাচ্ছিলাম খুব।

হঠাৎ করে ভেতর থেকে মাঝবয়েসী এক মহিলা দৌড়ে এসে আমাদের সামনে দাড়ালেন। চিৎকার চেচামেচি শুরু করে দিলেন। গলার স্বরে যতসম্ভব জোর এনে বললেন, ”এই লুচ্চার বাড়িতে আমাদের মেয়ের বিয়ে দিবো না।”, ওনার আঙুল আমার কাকার দিকে তাক করা ছিলো। তারমানে কাকাকে নিয়ে কোনো সমস্যা!

পরে জানতে পেরেছিলাম উনি মেয়ের পিসি। মেয়ের বাবা আতংকিত হয়ে উনাকে জিজ্ঞেস করলেন,”মেহমানদের সামনে উল্টাপাল্টা বকছিস কেনো? তোর কোনো ভুল হচ্ছে বোধহয়।”

মেয়ের পিসি গলার স্বরে আরো উঁচু করে বললেন,”ভুল হবে কেনো? এই লম্পটকে আমি ভুলবো না কোনোদিন।কচি বয়সে আমার কচি মনটাকে কচকচ করে খেয়ে ছেড়ে দিয়েছে এই শালায়।আজ আসছে আমাদের মেয়ের জীবনটা নষ্ট করতে।”

আমার কাকা এবার মুখ খুললেন, ”তোমার মতো বজ্জাত মহিলার বাড়িতেও আমাদের ছেলের বিয়ে করাবো না।আমার উঠতি যৌবন তো জলে মিশিয়ে দিয়েছো,এবার আমাদের ছেলেরটা যাতে ভেসে না যায় সেই ব্যাবস্থা করতেছি।”

বুঝলাম কচি বয়সে আমার কাকা আর মেয়ের পিসির মধ্যে কোনো একটা গন্ডগোল ছিলো।যে কারনে আমাকে আরো একবার ছ্যাকা খেতে হলো।

ছ্যাকা খেতে খেতে আমি যখন একেবারে বাকা হয়ে গেলাম তখন আমাকে নানারকম রসিকতায় ভুলিয়ে রাখতো আমার এই বন্ধু জাহিদ। সারাক্ষণ আঠার মতো আমার পিছনে লেগে থাকে। সত্যি বলতে মাঝে মাঝে মনে হয় জাহিদ একটা গে। নইলে আমি একটা ছেলে, আমার জন্যে ওর এত প্রেম কেন? সেদিন রাতে বলল আমার বাসায় থাকবে। ভয়ে শঙ্কায় বললাম, দোস্ত বাসায় গেস্ট আসছে, বাবা আমার সাথে ঘুমাবে।

জাহিদ ভাবলেশহীন ভাবে বলল, “ভালোই, তুই একপাশে আমি একপাশে
মাঝে তোর বাপ।”

শেষ পর্যন্ত সে আমার বাসায় গেছে। সে একপাশে, আমি একপাশে মাঝখানে বাবার জায়গায় শুধু কোলবালিশ। ভয়ে আমি কোলবালিশের যে দেয়াল দিয়েছি, সে দিব্যি সেই কোলবালিশ ধরে ঘুমাচ্ছে। অদ্ভুত অদ্ভুত চিন্তায় এদিকে আমার ঘুম নাই। কখন ঘুমিয়েছি জানি না, সকালে উঠে দেখি জাহিদ আমাকে জড়ায় ধরে ঘুমায় আছে। আমার গা গুলিয়ে উঠল।
মানুষের শরীরে হাড় ২০৬ টা। আর ঘুম থেকে উঠতেই পুরুষের হাড় হয় ২০৭ টা। জাহিদের সেই ২০৭ নাম্বার হাড় আমার পাছার সাথে লাগতেই চিল্লায় উঠলাম, “শালার্পো, ছাড় আমারে।”

জাহিদ আরো টাইটলি জাপরায় ধরে আমাকে। আমি আরো জোড়ে চিল্লায় উঠি, “শালা তোর নানীর কসম, দাদীর কসম, এক্স গার্ল্ফ্রেন্ডের কসম, কাজের মেয়ের কসম ছার আমারে। মা বাঁচাও। “

২.
ঘুম ভাঙলো জাহিদের ফোনে। ফোন রিসিভ করতেই ওপার থেকে ঘূর্ণিঝড়ের বেগে আর বজ্রপাতের শব্দে ঝাড়ি ভেসে আসলো। “তুই কি আজ ডেইজির সাথে দেখা করবি নাকি না?”

টলতে টলতে শোয়া থেকে উঠে বসলাম। বসতেই পশ্চাৎদেশে ফুলেফেঁপে উঠা ফোঁড়াটা টনটন করে উঠলো বিছানার সাথে ঘষা খেয়ে। উঁহ করে একটা চিৎকার দিতে গিয়েও চেপে গেলাম। ফোঁড়া হওয়ার আর জায়গা পাইলোনা, একেবারে জায়গামতো হইতে হইলো। নিশ্চই ঐ শালা জাহিদের ২০৭ নাম্বার হারের ছোঁয়া লেগেছিলো বলে ফোঁড়াটা উঠেছে।নইলে এমন জায়গাতেও কারো ফোঁড়া ওঠে নাকি! বাবারে কি ব্যাথা!এমন জায়গায় ফোঁড়া হয়েছে যে ঠিক মতো শুতে পারিনা আর বসা তো একেবারে অসম্ভব। হয় উল্টো হয়ে শুয়ে থাকতে হয় না হয় সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। গত চারদিন ধরে জীবন আটকে গেছে এই দুই স্টাইলে।

জাহিদ দুদিন ধরে এক মেয়ের সাথে দেখা করানোর জন্য পাগল করে ফেলছে। আমি কোনরকমে গাঁইগুঁই করে এড়িয়ে যাচ্ছি। এখন দেখা করতে বের হওয়া মানে কোথাও গিয়ে বসা আর বসা মানে বেড়ে উঠা ফোঁড়াটায় চাপ লাগা, আর তাতে আত্মা বের হয়ে যাবার উপক্রম হয়। আজ সে মেয়ের সাথে দেখা না করে উপায় নেই।জাহিদ ফোনে বললো,”শালা তুই যদি আজ ডেইজির সাথে দেখা করোস তাইলে আমি আজকে রাত্রে তোর সাথে ঘুমামু।”

আমি ২০৭ নাম্বার হাড়ের ভয়ে বলেই ফেললাম আজকে দেখা করতে যাবো।আজ যদি দেখা না করি, তবে ওর ২০৭ নাম্বার হাড়টা আমার পুরুষত্বের জন্যে হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

অনেক প্ল্যান করে ডেইজিকে বিকাল তিনটায় ঢাকা জাতীয় জাদুঘরে আসতে বললাম।ডেইজি ঠিক দেড় ঘন্টা দেরী করে আসলো।মেয়েটা বেশ সাজগোজ করে এসছে। সুন্দর করে শাড়ি পরেছে। আমাকে পূর্বে ছ্যাকা দেওয়া দুই ললনার থেকে এই মেয়ে অনেক বেশি সুন্দরী। আমি তার সাথে কথা বলবো কি, আমার নিজের অবাধ্য ২০৭ নাম্বার হাড় নিয়ে টেনশনে পড়ে গেলাম।
আসার পর থেকে ডেইজি বারবার এক প্রশ্ন করে চলেছে “এতো পার্ক, রেস্তোরাঁ থাকতে আপনি আমাকে জাদুঘরে নিয়ে আসলেন কেন?” ডেইজিকে বললাম,” সারাজীবন তো ওসব ফালতু জায়গায়ই গেলাম।আজ একটু ভালো জায়গায় আসলাম, এখানে বাংলার কতো ইতিহাস আছে,দেখুন শিখুন, হাঁটুন।”

মেয়েটা খানিকটা হতাশ হয়ে বললো “আপনার সাথে কি শিক্ষাগ্রহণ করার জন্য আমি দেখা করতে এসেছি ? কেউ সাক্ষাতের জন্য জাদুঘরে আসে তা আপনাকে না দেখলে আমি বিশ্বাস করতাম না”।আমি মনে মনে বললাম “আমারো যেন কতো শখ তোমারে নিয়ে জাদুঘরের মতো বোরিং জায়গায় ডেটিং করা কিন্তু জাদুঘরে বসা-বসির কোন প্যারা নাই। আমার জন্য এই মুহূর্তে এর চেয়ে ভালো জায়গা আর হতে পারেনা”
জাদুঘর থেকে বের হওয়ার পর জেইজি আমাকে কফি খাওয়ার অফার করে। কফি খেতে হলেই আবার রেস্টুরেন্টে বসতে হবে ভেবে আমি ওকে আইসক্রিম খাওয়ার কথা বললাম। বললাম তার থেকে বরং দুজনে হাটতে হাটতে আইসক্রিম খাই।আমার জোড়াজুড়িতে মেয়েটা অগত্যা গরম কফির বদলে ঠান্ডা আইসক্রিম নিতে বাধ্য হলো।হাটতে হাটতে ডেইজি আমাকে জিজ্ঞেস করলো,”তারপরে আপনার জবের কি খবর? “
আমি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলাম,”কোন জব?”
ডেইজি কনফিউজড হয়ে বলল,”জাহিদ তো বললো আপনি আপনার কোন এক আন্টির অফিসে জব হয়েছে?”
আমি হো হো করে হেসে বললাম, “ওহ মালিহা আন্টি! শী সাকড মি।”
ডেইজির হাতের কাঠি থেকে আইসক্রিম খসে পরে গেলো, “কি! শী সাকড ইউ?”
আমি কাচুমাচু হলে বললাম, “আসলে উচ্চারণ ভুল। শী স্যাকড মি ফ্রম জব। আসলে ঠিকমত অফিসে যেতামনা তাই।”
ডেইজি মিষ্টি করে হেসে বলল,” আমি ভয় পেয়েছিলাম।”

আমি জানি ডেইজি কি ভেবে ভয় পেয়েছে। আসলে কোন মেয়ে চায়না সেই ২০৭ সাত নাম্বার হাড়ের ভাগ কাউকে দিতে। আমি ইদানিং খুব মীন হয়ে গেছি। মীন চিন্তাভাবনা মাথায় আসে শুধু।

জেইজি চলে যাওয়ার মিনিট পনের পরে জাহিদ এসে পেছন থেকে আমার পাছায় একটা বারি দিয়ে দিয়ে বলল, ” ঐ ফকিন্নির পুত,তুই নাকি ডেইজিরে সারা বিকাল হাটাইছোস?মেয়েটা আমাকে ফোনে বকাঝকা করে বললো যে আমি নাকি একটা বলদের সাথে তাকে দেখা করতে পাঠাইছি।তোর সমস্যাটা কি?”

ওদিকে ফোঁড়ার ওপর বারি খেয়ে আমার পাছা দিয়ে জান বের হবার উপক্রম। কোনোরকমে কাঁদো কাঁদো হয়ে ওকে সব খুলে বললাম।সবকিছু শুনে জাহিদ হাসতে হাসতে বললো,” চল হাসপাতাল নিয়ে যাই। চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখায় মেডিসিন লেখায় নিয়ে আসি।”

হাসপাতাল এসে মন খুশি হয়ে গেল, চর্ম বিশেষজ্ঞ ডাক্তার বিশাল রকমের সুন্দরী তরুণী মেয়ে। মনে হয় সবে মাত্র এফসিপিএস শেষ করে জয়েন করেছে। সে হিসেবে বয়সে আমার থেকে তিন চার বছরের বড় হবে সর্বোচ্চ। এমন সুন্দরি সিনিয়র আপু দেখলেই ক্রাশ খেতে মনে চায়। আমিও আমার ব্যথা ভুলে ক্রাশ খেলাম। আমার ক্রাশ বলে উঠলো “কী সমস্যা” আমি কিছু বলার আগেই জাহিদ বলে উঠলো “আমার বন্ধুর হোগায় ফোঁড়া উঠসে! বিশাল বড় ফোঁড়া। কমানের ব্যবস্থা করেন।”

দেখলাম ডাক্তার ম্যাডাম হাসি গোপন করার চেষ্টা করছে। জাহিদটাও না কী যে করে। বুঝেওনা একটু,এতো সুন্দরী মেয়ের সামনে এভাবে বলে কেউ!ইজ্জত একেবারে ধুলিতে মিশিয়ে দিলো, আমার ক্রাশ একদম পাছা দিয়ে ছুটায় দিলো।

ডাক্তার ম্যাডাম নিজেকে সামলে নিয়ে বললেন “রোগীকে আমার ভালো করে দেখতে হবে, ইনফেক্টেড এরিয়া দেখে বুঝতে হবে কতোটা সিরিয়াস অবস্থা”। জাহিদকে ইশারা দিয়ে বললো “আপনি বাইরে গিয়ে দাঁড়ান”। আমি ঢোঁক গিলে বললাম, “দেখতে হবে মানে কী। আপনি না দেখে মেডিসিন দেন”। ডাক্তার হেসে বললো “আরে ডাক্তারের কাছে লজ্জা পেলে হবে? আমি তো আন্দাজের উপর মেডিসিন দিতে পারবোনা। আপনার ফোঁড়ার অবস্থা কতোটা সিরিয়াস দেখতে হবে,ইনফেকশন হয়েছে কিনা তাও দেখতে হবে”। আমি করুণ দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললাম “ম্যাডাম এভাবে মেডিসিন দেয়া যায়না? এটা কি সম্ভব নাকি আপনি ই বলেন! আমার ইজ্জত বলে একটা কথা আছেনা”।
সে এবার খানিকটা বিরক্ত হয়ে বললেন “আপনি কিন্তু অযথা আমার সময় নষ্ট করছেন, সুন্দর করে স্ট্রেচারে উল্টো হয়ে শুয়ে পড়ুন। না হয় বিদায় হোন”।

আমি মাথা নিচু করে ডাক্তারের চেম্বার থেকে বের হয়েছি। জাহিদ বারবার জিজ্ঞেস করছে কী হয়েছে!কী হয়েছে। আমার বলার কোন ভাষা নেই। ইজ্জত আজ পাছা দিয়ে বের হয়ে আকাশে উড়ে গেছে। ডাক্তার ম্যাডাম ভালো করে আমার পাছা হাতিয়ে মানে পাছার ফোঁড়া হাতিয়ে টিপেটুপে দেখে আমার ইজ্জত ফুটা করে দিয়েছে মানে ফোঁড়াটা ফুটো করে দিয়েছে।

ফোঁড়ার ব্যথা ধীরে ধীরে কমে আসছে। সেই সাথে বেড়ে চলেছে মনের ব্যথা। কাউকে মুখ দেখানোর অবস্থায় রইলাম না আর। ঈশ্বর’কে ডেকে বললাম,”প্রভু শত্রুকেও যেখানেই ফোঁড়া দাওনা কেন পাছায় ফোঁড়া দিওনা। প্রাণ চলে যাক তবুও ইজ্জত টা থাক।”

৩.
টুং করে বেজে উঠলো ফোনটা।
স্ক্রিনে জেসমিনের ম্যাসেজ।এই ২৩ বছরের জীবনে প্রথমবার জাহিদের সাহায্য ছাড়া নিজে কোনো মেয়েকে পটিয়েছি। নিজেকে খুব সুপুরুষ বলে মনে হচ্ছে । যারা আমাকে মফিজ,বলদা বলে ক্ষেপাতো তাদের মুখে ঝামা ঘসে দিতে ইচ্ছে করছে। দুই সপ্তাহের মতো হলো জেসমিনের সাথে পরিচয়।যেদিন বিকালে ডেইজির সাথে দেখা করে বাসায় ফিরলাম তার ঠিক পরের দিন।

ডেইজির কাছে বলদ উপাধি পেয়ে আর ডাক্তার আপুর পাছা টিপুনি খেয়ে মন খারাপ করে উপুর হয়ে ফেসবুক হোমপেইজ স্ক্রল করছিলাম।এক বন্ধু লিখেছে, “হুররে, আমি বাবা হয়েছি।”
আরেক বন্ধু দেখলাম কমেন্ট করেছে, “হাউ পছিবল? আকামডা কে করল?”
আরেকজন কমেন্ট করেছে, “ভুত মনে হয়।”

ছি ছি! কি অশ্লীল! এসব জিনিস দেখাও পাপ! আমি তাড়াতাড়ি হোমপেজের নিচে নামতে থাকলাম। এক পেজ দেখি একটা ছবি আপলোড দিয়েছে, একপাশে তালগাছ আরেকপাশে কলাগাছ। তালগাছটা স্লিম, উপরের একগোছা তাল দেখা যাচ্ছে। তালগাছের ডগায় বসে লুঙ্গি পরা এক লোক হাত উঁচিয়ে আছে। সম্ভবত বিজয়সূচক “V” চিহ্ন দেখাচ্ছে সে। তবে তার লুঙ্গিটা অস্বাভাবিকভাবে উপরে উঠে আছে।

কলাগাছের ছবিটায় মোটা একটা কলাগাছের গায়ে ঝুলে আছে হালি হালি কলা। হলুদ হলুদ কলা। ইনসেটে একটা কলার ছবি দেয়া, বেশ নধরকান্তি। দেখে মনে হয় এখনই ছুলে খেয়ে ফেলি।

ছবির নিচে লেখা,’ তালগাছ=লাইক আর কলাগাছ=কমেন্ট।’ মেয়েরা দেখি সমানে কমেন্ট দিচ্ছে। লাইকের সংখ্যা কম।

সাতদিনে আগে একটা নোট লিখেছিলাম। নাম “মন বসে না চেয়ার টেবিলে”; কিছুক্ষণ Loading সহ্য করে ঢুকলাম ওটায়। বাহ, দারুণ তো! ১২৩৪৫ টা লাইক মাত্র সাত দিনে! কিন্তু ব্যাটা জুকারবার্গ ফেসবুকের কি ভুয়া ডিজাইন করেছে, ১ এর পরে ২৩৪৫ মুছে গেছে। দেখাই যাচ্ছে না। হয়তো কোন স্প্যামের আক্রমণে এটা হয়েছে। হয়তো শত্রু Yahoo বা Google এই কাজ করেছে। নাহ, জুকারবার্গকে সাবধান করে একটা ইমেইল আজকেই পাঠাতে হবে।

যার লাইক দেখাচ্ছে, সেই ১ জনই বা কে? হবে কোন বড় ফ্যান, কে জানে কোন বড় পত্রিকার সম্পাদক কি না। বলা তো যায় না। হয়তো জুকারবার্গ নিজেই। আচ্ছা, জুকু কি বাংলা পড়তে পারে? না পারলে লাইক দেবে কেন? নাহ, ওকে একটা কড়া ঝাড়ি মারতেই হবে। অবশ্য বড় লেখকদের লেখায় পাঠকরা না পড়ে না বুঝেই লাইক মারে। এও কি সেরকম কেস নাকি?

বলতে না বলতেই লাইক কে করেছে দেখার জন্য রিলোড দিলাম পেজটা। হ্যাঁ, এবার দেখা যাচ্ছে। স্পষ্ট লেখা, You like this। You কে? জুকুর ফেইক আই ডি নাকি? নাকি অন্য কেউ? যেই হোক, নিশ্চয়ই আমার অনেক বড় ফ্যান, হে হে।

ঠিক তার কিছুক্ষণ পরেই ‘অ্যাঞ্জেল জেসমিন’ নামে একটা একাউন্ট থেকে আমার পোস্টটায় কমেন্ট আসলো, ‘ পড়ার টেবিলে মন বসানের কি দরকার? মনটা একটু আমার দিকে কনভার্ট করলেও তো পারেন।’
নারীর একাউন্ট থেকে কমেন্ট এসেছে দেখে তাড়াহুড়ো করে প্রাফাইলটা ভিজিট করলাম। প্রফাইল ফটোতে সুন্দর এক নারীর ছবি।আহা! দেখেই মন প্রাণ জুড়িয়ে যায়। কিন্তু একি! সেতো আমার বন্ধু তালিকাতেই নেই। অনুরোধ পাঠাবো! এতো সুন্দরী মেয়ে কি আমার রিকোয়েস্ট এক্সেপ্ট করবে!ভাবতে ভাবতে অ্যাঞ্জেল জেসমিনের একাউন্ট থেকে একটা ম্যাসেজ আসলো,”আপনার ফেসবুক ফ্রেন্ড হতে পারি? অনুমতি দিলে অনুরোধ পাঠাব, একবার পাঠালে কিন্তু ফেলতে পারবেন না।”

একই সাথে দুই রকম অনুভূতি কাজ করতে লাগলো আমার ভিতরে। এক, কোন অপরিচিত মেয়ের সাথে খাতির করার সাহস বা ইচ্ছা বা অভিজ্ঞতা, কোনটাই আমার নেই। কিন্তু এত সুন্দরী মেয়ে, কথা বলে এত সুন্দর করে, চেহারাটা কত মায়াকাড়া…

অবশেষে লিখেই ফেললাম, “দিলাম অনুমতি। আপনার মত সুন্দরীর বন্ধু হলে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করব।”
ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসল। একসেপ্ট করলাম। না করার কোন কারণ ছিল না।

আস্তে আস্তে মেসেজের মাধ্যমে আমরা পরস্পরের আরও কাছে আসতে থাকলাম। একসময় এমন হল, ওর সাথে চ্যাট না করে এক ঘন্টাও থাকতে পারতাম না আমি। অস্থির লাগত।

আমরা পরস্পরের অনেক কিছু জেনে গেলাম অচিরেই। ওর বাবা মুদি দোকানদার , মা গৃহিণী, একটা বড় ভাই আছে, বেকার। ও পড়ে ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারে। প্রিয় রঙ নীল । খেতে ভালোবাসে আলুভর্তা দিয়ে মাখানো ভাত, সাথে মরিচ আর লবণ।

দুদিনের মধ্যে আমাদের সম্মোধন ‘আপনি’ থেকে ‘তুমি’তে এসে গেলো।জেসমিন আমাকে আদর করে জিজ্ঞেস করতো,” বাবু খাইসো?”
আমি আবেগে আত্মহারা হয়ে বলতাম,” কখনো খাইতে দিসো?”
ও বলতো,”কাছে আসলেই খেতে দেবো সোনা।”

আমাদের প্রেম একদম জমে ক্ষীর হয়ে গিয়েছে।জেসমিন কেমন রহস্যময়ী এক ললনা।সে আমার সবকিছু কিভাবে টের পায়?সারাদিন এই ভাবনায় মগ্ন থাকি আমি।কারণ কিছুদিন যাবৎ আমার সবকিছু আগেভাগেই বলে ফেলছে জেসমিন।এই যেমন সেদিন ম্যাসেজে কথা বলতে বলতে জেসমিন হঠাৎ বলল, “আচ্ছা,তুমি আজ নীল ট্রাউজারটা পরে ছাদে আসো নি কেন? তোমাকে না বলেছি নীল আমার প্রিয় রং,তুমি নীল ট্রাউজারটা পরে আজ ছাদে আসবে।” আমার মাথায় যেন বাজ পড়ল।সে আশেপাশে তাকালাম।কোন ছাদে তো কোন মেয়েকে দেখা যাচ্ছে না।তাহলে জেসমিন কিভাবে জানল? আর জেসমিন এখানেই বা আসবে কিভাবে সে তো মিরপুর থাকে।বনবন করে ঘুরতে থাকা মাথা নিয়ে আমি জেসমিনকে জিগ্যেস করল, “তুমি কিভাবে জানলে?” ওপাশ থেকে উত্তর ছিল ভালবাসা থাকলে সব জানা যায়,জানতে হয়।

ম্যাসেজিং শেষে জাহিদ আমার দিকে একটু রহস্যময় ভাবে তাকাল।তারপর উচ্চ স্বরে হেসে উঠে বলল, ” কিরে বেটা, আজকাল প্রেম ট্রেম করছিস নাকি? এত কিসের কথা ফেসবুকে?”

“আমি প্রেম করছি” এই কথাটা জাহিদের কাছে বলতে পারার মধ্যেও একটা গর্ববোধ কাজ করে।এতদিন যে আমাকে নিয়ে উপহাস করে এসেছে আজই শ্রেষ্ঠ সময় সেটার সমুচিত জবাব দেওয়ার।আমি বেশ গর্বের সাথে জাহিদকে বললাম, “আই হ্যাভ আ গার্লফ্রেন্ড।”

জাহিদ তখন তার পিঠ চাপড়ে দিয়ে অভিনন্দন জানাল।জাহিদ জিগ্যেস করল, “দোস্ত,তোর গার্লফ্রেন্ড কোথায় পড়ে? দেখতে কেমন?” গার্লফ্রেন্ড সম্পর্কে বিস্তারিত বলার পর জাহিদ বলল, ” আজো দেখিস নি?,তাহলে যা একদিন গিয়ে দেখা করে আয়।”

দেখা করার বিষয়ে জেসমিনের সাথে সবকিছু ফাইনাল করলাম,পরদিনই দেখা করবো।প্রচন্ড সেজেগুজে, দুইতিনবার বডি স্প্রে
ইউজ করে রুম থেকে বের হতে যাবো,এমন সময় পেছন থেকে জাহিদ ডাকল,দোস্ত দাড়া।

– দিলি তো পিছে ডেকে? অলক্ষুণে
-কোথায় যাচ্ছিস?
-শাহবাগে,জেসমিনের সাথে দেখা করতে।
-আচ্ছা যা তাইলে।

একঘন্টা বাদে আমি শাহবাগে গিয়ে পৌছলাম।যেইখানটাতে জেসমিনের সাথে দেখা করার কথা ছিলো সেখানটায় গিয়ে দেখি জাহিদ বসে আছে।

-কিরে শালা,তুই এখানে কি করোস?
-দোস্ত, ‘অ্যাঞ্জেল জেসমিন’ আমার ফেইক আইডি, তোর সাথে একটু মজা নিচ্ছিলাম।মাইন্ড খাইস না প্লিজ।

কিছু না বলার সুযোগ দিয়ে জাহিদ আমাকে জরিয়ে ধরলো।মনের মধ্যে অরিজিৎ সিংয়ের স্যাড সং বেজে উঠলো।নিজের বন্ধুর সাথে ইনবক্সে কিসব কথা বলেছি সে এটা ভেবেই লজ্জায় আমার মুখ বুলবুলির পাছার মতো লাল হয়ে গেল।তারপর কোনরকমে লজ্জা উপেক্ষা করে জাহিদকে বললাম,” যা হবার হইছে,কিন্তু আমি তো ফেসবুকে চ্যাট করে আসলেই অ্যাঞ্জেল জেসমিনের প্রেমে পরে গেছি।এখন এই অ্যাঞ্জেলটা যেহেতু তুই সেহেতু তোকেই আমার সাথে প্রেম করতে হবে। আমি হবো এক্টিভ আর তুই হবি পেসিভ। আইলাভইউ দোস্ত।”

“শালা গে কোথাকার!” বলেই জাহিদ আমাকে ছেড়ে দিয়ে আমার পাছায় একটা লাথি মারলো।কাত হয়ে রাস্তায় পরে যেতে যেতে শুনলাম জাহিদও চিৎকার করে বললো,” আই লাভ ইউ ঠু দোস্তওওও….”

লেখকঃ মৃন্ময় রায়

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.