অপেক্ষা কিংবা হঠাৎ দেখা

লেখক: ফাহিম হাসান

আজ ৩ বছর পর তার সাথে দেখা। আরো সুন্দর হয়েছে সে!
মাথার বাবরি চুলগুলো আর নেই। যে চুলগুলোয় হাত গলানো ছিল আমার নিত্য অভ্যাস। ৩ বছর পর তার সাথে দেখা।
.
তবে সে একা ছিলো না।
রূপসী একজন তরুণীও ছিল তার পাশে। মেয়েটার মুখভর্তি ছিলো সুখের ঝংকার, কিন্তু আমায় দেখে ও কেমন যেন অস্বস্তিতে পড়ে গেলো! বারবার ভয়ার্ত চোখে দেখছিল আমায়! আমি তখন মনে মনে খুব হেসেছিলাম। “তুমি পারোও বটে।”
৩ বছর পর তার সাথে দেখা।
.
৫ বছর আগের কোনো এক পৌষে তার সাথে প্রথম দেখা, কতো সুন্দরই যে সে ছিল তখন। শীতের রঙিন জ্যাকেটে তাকে বরপুত্র বলেই মনে হচ্ছিল। আমি অবাক হয়ে তার হাসিমুখটা দেখছিলাম। তারপর বহুদিন কেটে গেছে, বুড়িগঙ্গায় আরো দূষিত পানি বয়ে গেছে। কিন্তু, একেবারে মধুর ছিল আমাদের সম্পর্ক। ৩ বছর পর তার সাথে দেখা। হয়তো সে সুখেই আছে!
.
বৈশাখের এক রৌদ্রজ্জ্বল দিনে সে আসলো মুখ কালো করে, চোখে করে এনেছিল সেই কারণটা যেটা দেখতে আমি ভয় পেতাম। আমি চুপ করে ছিলাম।
সে অস্থির হয়ে ছিল,
ছিল প্রচন্ড দিশেহারা। যেমনটা অস্থির সে আজ!
আমি কিছুই বলতে পারি নি সেদিন। কিই বা বলতাম?
কিন্তু সে কিছু একটা শুনতে বড়ই আগ্রহী ছিলো। একটা শব্দ!
কিন্তু আমি কিছুই বলি নি। এরপর তিনটি বছর কেটে গেছে। আমি আর অপেক্ষা করি নি। কাউকে পাঁজরের আসনে বসতেও দিই নি। তবে ব্যবহৃত হয়েছি অনেকবার! অনেকবার!
তবে সে কি জানে,
সে ভাসত আমার চোখের কোণার জলে? সে কি জানে সে ছিল আমার প্রতিটা আর্তনাদে! সে ছিল আমার ভেতরেই!
আমার সত্ত্বায়! অন্তরাত্মায়…
৩ বছর পর তার সাথে দেখা!
.
আজ কিন্তু আমি হাসি নি, কাঁদিও নি। তবে চোখ ভরে তাকে দেখেছি! কতো সুন্দর হয়েছে সে!
বাবরি চুলগুলো এখন আঁচড়ানো! যে চুলে অধিকার শুধু আমারই ছিল। আমি আজও তাকে কিছু বলিনি। কিন্তু, ওর চোখে ছিলো স্পষ্ট ভালোবাসা! হয়তো আমার চোখের কোণেও সামান্য অশ্রুবিন্দু এসেছিল। তবে, আজ কিন্তু আমি কাঁদি নি। হাসিও নি।
কিন্তু, গোপনে তাকে ঠিকই ভালোবেসেছি। মুখ ফুটে বলবো না কখনো।
.
থাক না ও আমার কষ্টভরা রাতের আর্তনাদের সুখ হয়ে! থাক না সে আমার ব্যাথায় কুচকানো চোখের স্বপ্ন হয়ে! থাক না হয়ে সে আমার। একান্তই আমার।
৩ বছর পর তার সাথে দেখা।
তবে, আমি কিন্তু কাঁদি নি আজকে!

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.