তুমি আছো বলে

বোনের জন্মদিনে এত্তগুলা চকলেট গিফট দিয়েছিলাম। কিন্তু সেটা তার মোটেও পছন্দ হয়নি। সে গড়গড় করে বলে গেছে তার সাজুগুজু করার জিনিস লাগবে। আর সেসব নিতেই আমার কসমেটিকসের দোকানে আসা।দোকানে তেমন একটা ভীড় নেই। আমি সব কিছুই নিচ্ছিলাম। কিন্তু চোখের নিচে যেটা দেয় সেটার কথা আর মনে করতে পারছিনা। হাজার হোক ছেলে মানুষ তো। এসব কি মনে রাখা সম্ভব? দোকানদার কে বুঝাতে গিয়ে আমার রীতিমত অবস্থা বেগতিক। এমন সময় পাশ থেকে এক মহিলা দোকানদার কে বলে উঠলো আপনি ওনাকে একটা কাজল দিন। সেই মুহূর্তে আমিও বলে উঠলাম হ্যা হ্যা এটাই।
কাজলটা নিয়ে মহিলার দিকে তাকালাম। মধ্যবয়সী। দেখতে শিক্ষিত আর মার্জিত বলেই মনে হচ্ছে। তবে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে ওনাকে। হাতে ওষুধ ভর্তি একটা ব্যাগ। এত ওষুধ কেন তার কোনো কারণ আমি খুঁজে বের করতে পারলাম না। ওনি ভ্রু কুঁচকিয়ে দোকানদারকে একটা ছেলেদের উইগ (পরচুলো) বের করতে বললেন। আমি না পেরে জিজ্ঞেসই করে ফেললাম,
-আন্টি উইগ দিয়ে কি করবেন? কোন পার্টি আছে নাকি?
আন্টি আমার কথার উত্তর দিলোনা। কেমন থমকে গেলেন। চোখ ছলছল করছিলো। কিছু একটা বলতে চাচ্ছিলো কিন্তু কণ্ঠটা খুব ভারী হয়ে আসছিলো তাই ওনি বলতে পারলেন না। আমি অনুমতি না নিয়েই ওনাকে পানির বোতল এগিয়ে দিলাম।
ওনি এক নিঃশ্বাসে পুরো বোতল খালি করে দিয়ে উইগের টাকাটা পে করে চলে যাচ্ছিলো। হঠাত পাশ ফিরে বললো এই নাও আমার কার্ডটা রাখো। আজ একটু তাড়াহুড়ো থাকায় কিছু বলতে পারিনি। সময় হলে ফোন দিয়ো কিংবা দেখা করো। সব বলবোনে। বলেই ওনি চলে গেলেন। আমি দাঁড়িয়ে আকাশকুসুম ভাবছি। হঠাত ওনি এরকম আচরণ কেন করলেন? কার্ডই বা কেন দিলেন?
কার্ডটা দেখে বুঝলাম ওনি কোনো এক প্রাইভেট স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা। আর মজার ব্যাপার হলো আমি যেখানে টিউশানি করাই সেখান থেকে ওনার বাড়ি বেশি দূরে না। তাই হুট করেই একদিন চলে যাবো ভাবছি।

*
কর্ম ব্যস্ততার দরুন ওইদিন দোকানের সব ঘটনাই প্রায় ভুলেই যেতে বসেছিলাম। আসলে ইটপাথরের এই যান্ত্রিক শহরের মানুষ গুলো হয়তো এরকমই। কেউ কাউকে মনে রাখেনা। হয়তো ব্যস্ততা নয়তো প্রয়োজন নেই বলেই। তবে ভার্সিটি থেকে ফেরার পর আজ টিউশানি করতে গেছিলাম। আর সেখানে যেতেই হঠাত ওইদিনের আন্টির কথা মনে পড়ে গেলো। ব্যাস আর পড়ায় মন বসছেনা। ছাত্রীকে বললাম আজ আর পড়াবোনা। বলে বের হয়ে আসলাম। আনমনে রাস্তার এক পাশ দিয়ে হাঁটছি। দ্বিধাজড়িত মনকে প্রশ্ন করলাম যাবো কি যাবোনা। হুশহীন হুয়েই হাঁটছি। পিছন থেকে কারো ডাক শুনে হুশ ফিরলো। পিছনে তাকিয়ে দেখি সেদিনের সেই আন্টিটা। আরে এ তো মেঘ না চাইতেই জলের মত অবস্থা। হাতে এক গুচ্ছ পলাশফুল।
-কি ব্যাপার এই দিকে কোথায় যাচ্ছো?
-আপনি আমাকে চিনতে পারছেন ম্যাডাম?
-পারবো না কেন? মেয়েদের ব্রেইন এত দুর্বল হয়না। বুঝেছো?
-হ্যা তা বুঝলাম। তবে আপনার হাতে এত পলাশফুল কেন?
-কাজ না থাকলে বাসায় চলো। খোশগল্পও করা যাবে আর তোমার মনের সব প্রশ্নের উত্তরও পেয়ে যাবে।
আমি চুপ করে আছি। একটা সংশয়ে আছি। হঠাত ওনি বলে উঠলেন ভয় পেয়োনা। আমি তোমার মায়ের মতই।
কথাটা শুনে কেন জানি খুব ভালো লাগলো আমার। আমি আর করে ওনার সাথে চললাম। দেখাই যাক ওনার না বলা কথা গুলো যদি শোনা যায়।

*
ড্রয়িংরুমে বসে আছি আমি আর আন্টি। ফ্লোরে ছড়ানো ছিটানো শুকনো পলাশফুল। তার মানে বাসায় আরো কেউ আছে। হয়তো বাচ্চাকাচ্চা। প্রথম ঢুকে আন্দাজ করেছিলাম একাই হয়তো থাকেন ওনি। কফির কাপের শেষ চুমুকটা দিয়ে আন্টি উঠে পড়লো। বললো আসো আমার সাথে। আমি একেবারে লক্ষ্মী বাচ্চার মত আন্টিকে ফলো করতে লাগলাম। বাইরে থেকে লক করা রুমটা আনলক করে একটা ঘরে ঢুকলাম ওনার সাথে। ঘরটা অন্ধকারাচ্ছন্ন। ঘরে একটা মিস্টি আর অদ্ভুত সুন্দর গন্ধ ছেয়ে আছে। বিছানায় ওপাশ করে কেউ একজন শুয়ে আছে। আমার মনটা খুব ছটফট করছে। আন্টি ঘরে লাইট জ্বালাতেই একজন ১৬-১৭ বছর বয়সী ছেলে ধড়মড় করে উঠ্র বসলো। আমাকে দেখে সম্ভবত অস্বস্তিতে পড়ে গেলো। আন্টির আঁচলে মুখ লুকালো। আন্টি শুধু বললো ভয় পেয়োনা পিহু। ও তোমার নতুন বন্ধু।
আমি অবাক নয়নে ছেলেটাকে দেখলাম। একটু শুকনা, মুখটা মলিন তবে পৃথিবীর সব মায়া যেন ওর মুখেই লুকানো আছে। ফর্সা আর লম্বা। তবে যে বিষয়টা বলতেই হয় সেটা হচ্ছে ওর মাথায় চুল নেই। তার মানে ওর জন্যই কি আন্টি উইগ কিনে এনেছিলো? ওই তো বিছানার পাশে উইগটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি। তাহলে কি ও মানসিক ভারসাম্যহীন? না আর কিছু ভাবতে পারছিনা।
হঠাত আন্টি চোখের পানি মুছে বললো তিশান এ হচ্ছে আমার একমাত্র ছেলে পিহু। আমার ছেলেটা অসুস্থ। কয়েকমাস আগেই ওর ব্রেইন ক্যান্সার ধরা পড়েছে। দ্বিতীয় কেমো চলছে। মাথার চুল গুলা সব পড়ে গেছে। আমি কিছু বলতে পারছিনা। পাশের একটা চেয়ারে ধপ করে বসে পড়লাম। এত অল্প বয়সী একটা ছেলে। ফুলের মত সুন্দর। এত দ্রুতই তার জীবনের সব আলো নিভে যেতে বসেছে।
আন্টি আবার বলতে শুরু করলো।
“জানো তিশান ওর ক্যান্সার ধরা পড়ার পর ওর বাবা পাগলপ্রায় হয়ে যায়। তারপর একদিন হুট করে সুইসাইড করে বসে। মানুষটা কত স্বার্থপর। এরকম একটা মুহূর্তে সে আমায় ছেড়ে চলে গেলো। আমি একা একা লড়াই করতে পারছিনা। আমার সোনার পাখির মত হাস্যজ্জ্বল ছেলেটা কেমন পুতুলের মত হয়ে গেছে।”
আন্টির চোখ দিয়ে অশ্রুকণা বেয়েই চলেছে। আমি সান্ত্বনা দেওয়ার ভাষা খুঁজে পাচ্ছিনা। আন্টি আবার শুরু করলো,
“ওর ক্যান্সার ধরা পড়ার কিছুদিন পর্যন্ত সব ঠিকই ছিলো। স্কুলেও যেতো নিয়মিত। তারপর প্রথম কেমোথেরাপি দেওয়ার পর আস্তে আস্তে সব কিরকম বদলে গেলো। ওর কাছের বন্ধুরা সব ওকে ছেড়ে চলে গেলো। স্কুলে কেউ মিশতোনা। তুমিই বলো তিশান ক্যান্সার কি ছোঁয়াচে? ক্যান্সার কি সংক্রামক? বন্ধুত্ব কি এতই ঠুনকো? যেসময় ওর পাশে ওদের দরকার ছিলো সেসময়ই ওরা ওকে এত একা করে দিলো। সবাই এত স্বার্থপর কেন?”

পিহু যেন এক মূর্তি। কোনো কথাই বলছেনা। হয়তো নিজের অসুস্থতা আর বন্ধুদের স্বার্থপরতা তার হৃদয়টাকে পাথর করে দিয়েছে। সে শুধু আন্টির চোখের পানি মুছে দিচ্ছে।
আন্টি আবার বলা শুরু করলো,
“পিহু খুবই চঞ্চল আর প্রফুল্ল ছিলো। ও সবসময় নাচ গান নিয়ে। মেতে থাকতো। ওর গানের গলা খুবই চমৎকার ছিলো। আর ও সবচাইতে বেশি ভালোবাসতো ওর চুল গুলোকে। চুল গুলো ওর কাছে ওর জীবন ছিলো। আর বিধির কি লীলা দেখো। ওর চুল গুলোই ওর কাছ থেকে কেড়ে নিলো। প্রথম কেমোথেরাপির পরই ঝরতে শুরু করে। আর এখন একেবারেই নেই। আর তাই আমি ওর জন্য উইগ আনতে সেদিন দোকানে গেছিলাম। অন্তত একটু সান্ত্বনা তো দিতে পারি।”
আন্টির বলা শেষ না হতেই উঠে পড়লাম। চোখের কোণে পানিটা কোনোমতে মুছেই আসি বলে বের হয়ে আসলাম। আন্টি আটকালোনা।

*
সোডিয়াম বাতির নিচ নিয়ে আনমনে হাটছি। মাথায় পিহুর ভাবনা। ওর মুখটা বারবার চোখে ভাসছে। নিষ্পাপ মুখটায় কি ভীষণ মায়া। প্রাণহীন, নির্জীব চোখটায় যেনো অবাধ ছেলেমানুষি খেলা করছে। এত বিষাদ, এত যন্ত্রণা এই অল্প বয়সেই যেন গুমরে গুমরে মারছে। আমি যেনো শুনতে পাচ্ছি ওর মাঝরাতে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কান্নার শব্দ। ওর কান্নার শব্দের সাথে ব্যস্ত শহরের যান্ত্রিক শব্দ গুলো যেনো এক করুণ ভায়োলিনের শব্দে পরিণত হচ্ছে। জানালার কাচে বৃষ্টি ফোঁটার সাথে পিহুর কান্নার জলের ফোঁটা যেনো আমার চোখের সামন্য দৃশ্যমান হচ্ছে। আমি ওর পাশে দাঁড়াবো। আমি ওর শক্তি হবো। বেঁচে থাকার কারণ হবো। হবোই

পিহুদের বাড়িতে যাতায়াত বেড়ে গেছে আমার। ওর কাছে না গেলে মনটা কেমন জানি ছটফট করে। টিউশানিটা ছেড়ে দিয়েছি। বিকেলটা ওর সাথেই কাটাই এখন। বাসায় জানাইনি কিছুই। ওর সাথে বন্ধুত্বটা অল্প ক’দিনেই গড়ে উঠেছে এবং বেশ আপনও করে নিয়েছে সে আমায়। এখন আর ওর ঘরটা অন্ধকার থাকেনা। আলোয় আলোয় ভরপুর থাকে সবসময়। দখিনের জানালাটা আর বন্ধ থাকেনা। শুনেছি সকাল হতেই পিহু দখিনের জানালা খুলে দেওয়ার অর্ডার দিয়েছে। সকালের মিস্টি আলো আর হাওয়ায় ওর ঘুম ভাঙে। মাঝে মাঝে নাকি পিহু ভোরে উঠে তার মিস্টি গলায় রবীন্দ্রসঙ্গীত চর্চা করে। আর তার সব কৃতিত্বই আন্টি আমায় দিয়েছে।

সময় গড়ানোর সাথে পিহুকে কখন সে ভালোবেসে ফেলেছি তা বুঝতেই পারিনি। আমি জানি পিহুও আমাকে ভালোবাসে। মুখে স্বীকার না করলেও বুঝি। সংকোচ কিংবা ভয়ে আমাকে বলতে পারছেনা। পৃথিবীর সবচাইতে সুখকর আর মধুর একটা মুহূর্ত হলো দুজন দুজনকে ভালোবাসে কিন্তু কেউ কাউকে বলতে পারেনা। অথচ দুজনই ব্যাপারটা জানে বোঝে।

*
আজকে বাসায় মেহমান আসার দরুন পিহুর কাছে যেতে একটু বেশিই লেট হয়ে গেলো। পিহুর টেক্সট, আন্টির কল সব কিছুই জানান দিচ্ছে আজ পিহুর রাগ ভাঙাতে আমার বেগ পেতে হবে।

ঠিক যা ভেবেছিলাম তাই। জনাব পিহু রাগ করে গাল ফুলিয়ে বসে আছে। দখিনের জানালাটা বন্ধ। আমি গিয়ে প্রথমে জানালাটা খুললাম। তারপর পাশে এসে বসলাম। সে আমার দিকে ফিরেও তাকাচ্ছেনা। বুকে সাহস নিয়ে যেই ছুঁতে যাচ্ছিলাম অমনি সে চলে যেতে লাগলো ঘর থেকে। আমি এক ঝটকায় ওকে টান দিয়ে একেবারে আমার বুকে নিয়ে আসলাম। ওর গরম নিশ্বাস আমার বুকে লাগছে। খুব শক্ত করে জড়িয়ে ধরলাম। তারপর আচমকাই পিহুর ঠোঁটে আমার ঠোঁটের উষ্ণ পরশ ছুঁইয়ে দিলাম। সমস্ত শরীরে যেনো আমার শিহরণ খেলে গেলো। তারপর পিহু এক ঝটকায় আমাকে ধাক্কা দিয়ে ওপাশে সরে গেলো। লজ্জায় একেবারে লাল হয়ে গেলো। আমারো কেমন লজ্জা লাগছিলো। তারপর দুজনই একেবারর নিশ্চুপ।
মিনিট পাঁচেক পরঃ
-স্যরি পিহু (আমি)
-ভালোবাসেন আমায় খুব। তাইনা? (পিহু)
-হ্যা বাসিতো।
-কিন্তু আমার যে…
কথাটা বলার আগেই ওর মুখ চেপে ধরে বললাম তোমায় ভালোবাসি এটাই বড় সত্য। কেন বাসি, তোমার কি হয়েছে সেসব নয়। এসব নিয়ে ভেবোনা পিহু। আমি তোমার শক্তি হতে চাই, বেঁচে থাকার কারণ হতে চাই। আমি তোমার রঙহীন জীবনে রঙ হতে চাই। কথা গুলো বলে পিহুকে আবার বুকে টেনে নিলাম। আর সেও ছোট বাচ্চার মত আমার বুকে লুকিয়ে গেলো। আর অস্ফুটে বললো তুমি আছো বলেই আমি আছি। ওকে বুকে টেনে নিলে এতটা প্রশান্তি কেন লাগে তা আমি জানিনা। মনে হয় স্বর্গসুখ আমি পেয়ে গেছি। পিহু ক্যান্সার আক্রান্ত। ওর অনিশ্চিত জীবনে আমাকে যে ঠাঁই দিয়ে সেই ঢের। পিহুর লাইফের কোনো নিশ্চয়তা নেই জেনেই আমি এই আশায় বুক বেধেছি যে ওর কিছুই হবেনা। ঈশ্বর ওকে কিছুতেই আমার কাছ থেকে কেড়ে নিবেন নাহ।

*
দিন গড়াচ্ছে। পিহু এখন আমার একটা অংশ। ওকে ছাড়া আমি অসম্পূর্ণ। দ্বিতীয় কেমোথেরাপির পর পিহু খুব অসুস্থ হয়ে গেছিলো। সেবাশুশ্রূষা আর ঈশ্বরের কাছে আন্টি আর আমার ফরিয়াদের জোরেই হয়তো পিহুর অসুস্থতা কিছুটা কমে যায়। মাথার যন্ত্রণায় ও যখন অস্থির হয়ে যায় ও তখন শুধু আমাকেই খুঁজে। তাই আমি ওকে এখন এক মুহূর্তের জন্যেও আড়াল করিনা।

পিহু অনেকটাই সুস্থ। আন্টির কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে আজ ওকে নিয়ে একটু ঘুরতে যাবো। পুরোটা বিকেল আজ ও আর আমি প্রকৃতির সঙ্গে কাটাবো। এই যান্ত্রিক শহরের অলিগলি নয়। যাবো সবুজ ঘেরা কোনো গ্রামে। পাখিদের কলকাকলি মুখরিত এমন কোনো জায়গা যেখানে গেলে পিহুর মনটা ভালো হবে। ও আনন্দ পাবে।

পিহুকে নিয়ে আমি এমন একটা জায়গায় এসেছি যেখানে শুধু সবুজের সমারোহ। চারদিকেই শুধু সবুজ গাছপালা আর রঙিন বুনো ফুল। ও কেমন বাচ্চাদের মত প্রফুল্লিত। আমার হাত ধরে হাঁটছে আর এটা ওটা দেখাচ্ছে। আবার বিভিন্ন প্রশ্নও করছে। আমি সব প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছি। হঠাৎ এক জায়গায় এসে সে আমার হাত ছেড়ে দিলো। তারপর ইশারা করে কিছু একটা দেখালো। একটা পলাশবন। পলাশফুলে ছেয়ে গেছে দিগন্ত। পিহুর প্রিয় ফুল। তারপর একরকম দৌড়েই সে আমায় সেখানে নিয়ে গেলো। চোখেমুখে দিগ্বিজয়ের আনন্দ। আমি একটা গাছের নিচে বসে আছি আর পিহু পলাশফুল কুড়িয়ে জড়ো করছে। ও এতটাই আনন্দিত যে হয়তো সে ভুলেই গেছে তার অসুখের কথা। সে যে আর কয়টা মুহূর্ত কিংবা কয়টা মাস এ সুন্দর পৃথিবীতে আছে সেই পরোয়া তার নেই। সে গুণগুণ করে গান গাইছে,
“তোমার প্রজাপতির পাখা
আমার আকাশ চাওয়া মুগ্ধ চোখে রঙিন স্বপন মাখা!”

ভালোবাসা বাঁচতে শেখায়, ভালোবাসা হাসতে শেখায়। আসলে মানুষ যখন অসুস্থ হয় তখন তার সাথে তার মনটাও অসুস্থ হয়ে যায়। অসুস্থ হয়ে যায় তার অনুভূতি গুলাও। শারীরিক অসুস্থতার থেকেও ভয়াবহ মানসিক অসুস্থতা। মানুষ যখন অসুস্থ হয় তখন শারীরিক অসুস্থতা থেকেও বেশি মানসিক অসুস্থ থাকে। তাই সেসময় দরকার অধিক ভালোবাসা, অধিক যত্ন আর অধিক মানসিক সাপোর্ট। আর ভালোবাসাই মানুষকে মানসিক শক্তি জোগায়। বেঁচে থাকার মানে খুঁজে দেয়। তাই মৃত্যু পথযাত্রীও মানসিক ভাবে শক্ত থাকলে অসুখের সাথে লড়াই করতে পারে!

লেখকঃ শাফিন রাজ

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.