অনুসন্ধিৎসু

চুপিচুপি দরজা খুলে ঘর থেকে বেরিয়ে উঠোনে এলো সৌম্য।চারিদিকে একবার চোখ বুলিয়ে দেখে নিল কেউ আছে কী না।নাহ্!কেউ নেই।সৌম্য হাঁটা ধরল রাজেশের বাড়ির উদ্দেশ্য।রাজেশ বলেছে তাকে একটা গোপন জিনিস শেখাবে।আর সৌম্য কে বলেছে রাতের বেলা চুপিচুপি তার কাছে যেতে।যেন কেউ না জানে।তবে রাজেশ সৌম্য কে নির্দিষ্ট কোন রাতে যেতে বলেনি।কিন্তু সৌম্যের আজ রাতটাই উপযুক্ত বলে মনে হল।কেননা,তার মায়ের আজ খানিকটা শরীর খারাপ।তাই তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়েছে।এটাই মোক্ষম সময় ভেবে রাজেশ বেরিয়ে পড়েছে।ঘুটঘুটে অন্ধকার ভেদ করে দৃপ্ত পায়ে সৌম্য হাঁটতে লাগল।সৌম্যের বয়স পনেরো শেষে ষোলোতে উন্নীত হল মাত্র।সবে নবম শ্রেণিতে উঠেছে সে।আর ঠিক এই সময়ই সৌম্যের মাঝে কিছু পরিবর্তন সে লক্ষ করল।অন্যদের কাছে তেমন গুরুতর কিছু না।কিন্তু সৌম্যের মত সদ্য যৌবনে পা দেওয়া কিশোরের কাছে এটা বেশ গুরুতরই বৈ কী!সৌম্যের নাকের নিচে এবং ঠোঁটের ঠিক ওপরে গোঁফের রেখা দেখা দিচ্ছে।শুধু যে এটাই হচ্ছে তাই নয়।তার বগলের নিচে এবং নাভির নিচেও অনাকাঙ্ক্ষিত লোম গজাচ্ছে।এটা ছাড়াও,কয়েকদিন আগে সৌম্য সকালবেলা ঘুম থেকে জেগে দেখে তার পুরুষাঙ্গ থেকে কিছু একটা বেরিয়ে তার লুঙ্গি ভিজে আছে।প্রথমে সৌম্য ভেবেছিল এটা প্রসাব হবে হয়ত।কিন্তু পরে ভালভাবে লক্ষ করে দেখল জিনিসটা সাদা আঠালো গন্ধযুক্ত।এসব দেখে সৌম্য কিঞ্চিৎ ভীতসন্ত্রস্ত।এমনকি ভয়ে এবং লজ্জায় কাউকে বলতেও পারছে না নিজের এই অমোঘ পরিবর্তনের কথা।কখনও কোন কারণে খালি গায়ে থাকতেও তার বেশ বেগ পেতে হচ্ছে।পাছে হাত নড়াচড়ায় তার বগলের নিচের দিকে কারো নজর পড়ে।কিংবা হঠাৎ করে নাভির নিচের দিকে যদি চোখ যায়!তাই সে সচরাচর খালি গায়ে থাকেনা।এমনকি লুঙ্গিও পরে নাভির বেশ খানিকটা উপরে।কিন্তু বিপত্তি ঘটল সেদিন নদীতে গোসল করতে গিয়ে।সৌম্য একাই গোসল করছিল।কিন্তু কোত্থেকে রাজেশ এসে পড়ল।রাজেশের হঠাৎ আগমনে সৌম্য খানিকটা হকচকিত হয়ে নিজেকে কোনভাবে সামলানোর চেষ্টা করছিল।কিন্তু রাজেশের শকুনের দৃষ্টি কিছুতেই এড়াতে পারল না সৌম্য।রাজেশ সৌম্য কে উদ্দেশ্য করে বলল,
-আরে এত লজ্জা পাওয়ার কী আছে সৌম্য?এই বয়সে এসব হয়।এটা তোমার বড় হওয়ার লক্ষণ।
-মানে কী রাজেশ দা?কী বলছেন আপনি?
-আরে সৌম্য আমি তোমার শারীরিক পরিবর্তনের কথা বলছি।এই যে বগলের নিচের লোম,নাভির নিচের লোম এসব তো একদিন সবারই গজায়।এটা নিয়ে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।
সৌম্য লজ্জায় একেবারে লাল হয়ে গেলো।তার মুখ দিয়ে কোন কথা বেরোচ্ছিল না।সে অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে নিল।রাজেশ তাকে আরেকটু সহজ করার জন্য হঠাৎ করে একটা অদ্ভুত কান্ড করে বসল।রাজেশ নিজের হাত উপরের দিকে তুলে নিজের বগল উন্মুক্ত করে সৌম্যের সামনে ধরল,
-এই দেখো সৌম্য,আমারও আছে এটা।দেখো দেখো।
সৌম্য প্রথমে কিছুটা লজ্জা পেলেও কিছুক্ষণ পর গভীর মনোযোগ দিয়ে দেখতে লাগল রাজেশের বগলের নিচের ঘন লোমের জঙ্গল।সে একটু ছুঁয়ে দেখতে চাইছিল,কিন্তু রাজেশের বগল থেকে ঘামের একটা ভোঁটকা গন্ধ বেরোচ্ছিল।যার জন্যে সৌম্য আর সেটা ছোঁয়ার আগ্রহ দেখাল না।তারপর রাজেশ নিজ থেকেই বলল,
-সৌম্য তোমার নিজের মাঝে কী আর কোনো পরিবর্তন হচ্ছে?
-ইয়ে মানে রাজেশ দা…!
রাজেশ ঠিকই বুঝতে পারল।কিন্তু সৌম্যের মুখ থেকে কথা বের করার জন্য সে সৌম্য কে চাপ দিতে থাকল।
-আরে বলো সৌম্য।অত লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই।আমরা আমরাই তো।আমাদের না বললে কাকে বলবে!

সৌম্য কিছুটা ভরসার আশ্বাস পেয়ে সেদিনের স্বপ্নদোষের কথা রাজেশ কে হড়হড় করে বলে দিল।রাজেশ কৌতূহলী দৃষ্টি নিয়ে কিছুক্ষণ সৌম্যের দিকে তাকাল।তারপর অনেকটা কৌঁসুলির ন্যায় সৌম্যকে উদ্দেশ্য করে বলল,
তোমাকে এই ব্যাপারে বিস্তর প্রশিক্ষণ দিতে হবে।তোমার এই পরিবর্তন কে বয়ঃসন্ধিকাল বলে।প্রত্যেকের জীবনে এই ধাপটা আসে।এটা বড় হওয়ার প্রথম পর্যায়।তোমাকে জানতে হবে আরও।
-কিন্তু রাজেশ দা,কীভাবে কী হবে?
-সৌম্য তুমি এক কাজ করো।একদিন রাতে আমাদের বাড়িতে এসো।খবরদার যেন কেউ জানতে না পারে।বোঝোই তো,এসব কেমন লজ্জার ব্যাপার।
সৌম্য কিছুক্ষণ ভাবল।তারপর রাজি হয়ে গেল।যদিও সে রাজেশের বাড়িতে যেতে চাচ্ছিল না।কারণ রাজেশ কে তার একটুও পছন্দ না।কেমন কেমন করে তাকায় রাজেশ তার দিকে।আর সুযোগ পেলে সৌম্যের শরীরের স্পর্শকাতর জায়গা গুলোতে হাত দিতে থাকে।তৎক্ষনাৎ সৌম্যের কেমন জানি শিহরণ জাগে শরীরে ঠিকই আবার একটু অস্বস্তিও হয়।তাই সে রাজেশের কাছে ঘেঁষতে চায় না।কিন্তু কী আর করা!তাকে নিজের সম্পর্কে জানতে হলে,বুঝতে হলে যেতেই হবে।তাই সে কোনকিছু না ভেবে রাজি হয়ে গেল।

এসব কথা ভাবতে ভাবতে সৌম্য রাজেশের বাড়ির সামনে চলে এলো।চারিদিকে সুনশান নিরবতা।যেন কেউ কোনকালে এই এলাকায় আসেনি,আসেনা।কোন লোকসমাগম নেই যেন।যদিও খুব বেশি রাত হয়নি এখন অব্দি।কিন্তু গ্রামাঞ্চলে এটাই অনেক বেশি।সৌম্য রাজেশের ঘরের সামনে আসতেই হালকা গোঙানি এবং মৃদু চিৎকারের আওয়াজ শুনতে পেল।গোঙানি যে রাজেশেরই এটা সৌম্যের বুঝতে বাকি রইল না।কিন্তু অন্য কন্ঠটা কার?

আর তার গলাও সৌম্যের কাছে বেশ অদ্ভুত ঠেকছে।যেন ঐ মানুষটা অত্যাচারিত হচ্ছে।বারবার বলছে রাজেশ দা ছাড়ো,আমার লাগছে,ব্যথা পাচ্ছি।সৌম্যের বেশ কৌতূহল জাগল ভেতরে কী হচ্ছে তা দেখার জন্য।সে চুপিসারে আড়ি পাতল রাজেশের ঘরের বেড়ার পাশে।
বাঁশের তৈরি বেড়ার ফাঁক দিয়ে ঘরের ভেতরের কুপির আলো বেশ বোঝা যাচ্ছে।সৌম্য বেড়ার ফুটো দিয়ে ভেতরে দৃষ্টি রাখতেই তার চোখ ছানাবড়া হয়ে গেল।রাজেশ দা তাদের পাশের বাড়ির সৌরভের সাথে কী যেন করছে।তবে এটা যে নিষিদ্ধ কোনকিছু সৌম্যের বুঝতে বাকি রইল না।কারণ রাজেশ এবং সৌরভ দু’জনেই একেবারে দিগম্বর অবস্থায়।রাজেশ সৌরভের উপর একরকম চড়াও হয়েছে বলা যায়।সে তার পুরুষাঙ্গ সৌরভের পায়ুপথে প্রবেশ করছে আর বের করছে।এদিকে তার মুখও থেমে নেই।ক্রমাগত সৌরভকে বিশ্রী ভাষায় গালাগাল করছে তো করছেই।খুব কাছ থেকে শুনছে বলেই সৌম্য সবটা পরিষ্কার শুনতে পাচ্ছে।সৌম্য এসবের মানে অতটা না বুঝলেও এটা নিশ্চিত বুঝতে পেরেছে রাজেশ বেশ জঘন্য একটা কাজ করছে।সৌরভের যে এই কাজে সম্মতি নেই তা সৌরভের আচরণ দেখেই সৌম্য বেশ বুঝতে পারছে।কারণ সৌরভ বারবার রাজেশ কে তার উপর থেকে সরাতে চাইছে।কিন্তু রাজেশের বলিষ্ঠ দেহের সাথে কোনমতেই পেরে উঠছেনা।রাজেশ সেদিন সৌম্যকে বলেছিল,তার কাছ থেকে অনেকেই নাকি নিজেদের বয়ঃসন্ধিকাল সম্পর্কে জেনেছে এবং রোজই নাকি জানতে আসে।তার মানে রাজেশ দা এসব করে বেড়ায়! সৌম্য মনে মনে ভাবল।সৌম্যের নিজের প্রতিই কেমন যেন ঘৃণা চলে আসল!নিজেকে জানার এবং অনুসন্ধান করার তাগিদে সে কী ভয়ানক ভুলটাই না করতে যাচ্ছিল।রাজেশ দা নির্ঘাত সৌম্যের সাথেও এমন করবে ভেবে সৌম্যের ভয়ে এবং ঘৃণায় কেমন গা গুলিয়ে এলো।

সৌম্য আর এক মূহুর্তও সেখানে দেরি না করে,দিলো এক ছুট নিজের বাড়ির উদ্দেশ্যে।সে বুঝতে পেরেছে বয়ঃসন্ধিকালের এইসব ব্যাপার যারতার কাছে বলতে নেই।নিজেকে নিজের অনুসন্ধান করার কৌতূহল তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছিল এখন তার টনক নড়েছে।সৌম্য আর কিছু ভাবতে পারছিল না।সে ছুটতে ছুটতে নিজের বাড়ির উঠোনে এসে ধপাস করে বসে পড়ল।যেন সে এক ভয়ঙ্কর রাক্ষসের মৃত্যুপুরী থেকে বেঁচে ফিরে এসেছে। যাক এ বিচিত্র জীবনে কতইনা বিচিত্র অভিজ্ঞতা হয়।

লেখকঃ পৃত্থুজ আহমেদ

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.