হেলো! শুনতে পাচ্ছ?

লেখিকা : গ্রিফিন

রোজ নিয়ম করে তোমার পাঠানো শেষ লিখাটা পড়ি! প্রতিটি পয়েন্টের উত্তর দিই মনের ভেতর, তোমাকে লিখিনা আর কারন তুমি চাওনা এবং যা লিখি সেগুলোর ভুল ব্যাখ্যা দাঁড় করাও তুমি! আমি বোঝাতে পারিনা, ব্যর্থতা আমারই! ডাক্তারের প্রেসক্রিপশন এর নিয়মে তাই রোজ এই যন্ত্রণার ডোজ নিই! এতে করে যদি তোমার মনে হয় সব ঠিক হবে, তবে হোক না!

খুব জানতে ইচ্ছে করে, কেমন আছ! আমি বিশ্বাস করি, তুমি ভাল আছো! আমার জীবনে তোমার এই স্বল্প বিচরণ এবং অকস্মাৎ প্রস্থানকে আমার দুর্বলতা নয় বরং ঢাল বানাবার চেষ্টা করে যাচ্ছি প্রতিনিয়ত! কোথাও বাঁধা পরে গিয়েছিলাম, ধীরেধীরে জীবনের  সকল বাঁধন হতে মুক্ত হবার চেষ্টা করছি!

আমার খবর নেবার আগ্রহ নেই তোমার হয়ত, আমার মত দু-চারজনকে তোমার মত কারোর জন্য পেছনে ফেলা ওই পয়েন্টগুলোর মতই সহজ! অথচ হতবাক করে দেয় ওই কথাগুলো! খুব বেশী দিন কি? যখন কফি খেতে খেতে গল্প করার আবদার করতে, অনেক ঘোরার স্বপ্ন দেখাতে কিংবা আলতো করে হাত ধরতে চাইতে? দুর্বলতা নাকি শুধু আমারই ছিল! কি অনায়াসে লিখলে, তাই হয়ত এখনো শুনি “হেলো”! কি ভীষণ মিষ্টি করে বলতে তুমি!

আচ্ছা, শেষবার যদি কথা বলতে তবে কি ঠিক ওভাবেই অত্যন্ত আদর করে “হেলো” বলতে? স্বভাবগত কৌতুহল আমার! কখনো ভাবিনি কথাগুলো লিখতে বসলে চোখ ঘোলা হয়ে আসবে আমার! ভালোই করেছ কথা বলোনি, তোমার সুন্দর স্মৃতিগুলো আর ওই আদুরে কন্ঠটা জীবিত থাকুক আমার কানে! ওগুলো শুধুই আমার, কেউ কেড়ে নিতে পারবেনা, ডিলিট করতে পারবেনা, একান্ত আমার! কেউ সেখানে বলতে পারবেনা, ‘ইটস নট রাইট থিং টু ডু এন্ড আই কম্পলিটলি ডিসএগ্রি টু বি এ পার্ট অফ ইট’!

তোর  প্রেমেতে অন্ধ হলাম,

কি দোষ দিবি তাতে…

বন্ধু তোরে খুজে বেড়াই,

সকাল দুপুর রাতে…

আগুন জ্বেলেও পুড়লাম আমি,

দিলাম তাতে ঝাপ…

তোর আমার প্রেমে ছিলো রে বন্ধু,

ছিলো পুরোটাই পাপ…

কেমন করে সইবো আমি,

প্রেম আগুনের তাপ…

প্রেমের নামে কিনলাম আমি,

নিঠুর অভিশাপ…

তোর আমার প্রেমে ছিলো রে বন্ধু,

ছিলো পুরোটাই পাপ…

ঘর খালি হলে কিংবা ভাগ হলে সবাই দেখে অথচ হৃদপিন্ড টুকরো হলে কেউ বোঝেনা! তবু ভালো এই মুহূর্তে টুকরো হওয়া ভেতরটাকে কিছুটা হালকা করতে পারছি!  রোজ কয়েকবার ফোন নম্বরটা চেক করি! অকারণে ভাবতে থাকি, হারাতে থাকি পুরনো দিনে,পুরনো কথায়! মাঝেমাঝে মনে হয় একছুটে চলে যাই অথচ কয়েক হাজার মাইলের ব্যবধান আর তুমি হয়ত আমার ছায়াও মাড়াতে চাওনা কখনো!  ভাবতে থাকি, তুমি কি আমাকে ঘৃণা করো? তার মাত্রাটা কেমন, ঠিক কতটুকু ঘৃণা?

যুক্তি- তর্ক, সঠিক-ভুল দিয়ে কি মনকে ঘেরাও রাখা যায়? তোমরা পারো, আমি তো ভুল মানুষ! জন্মেছি ভুল সময়ে, আজীবন তাই ভুলেভরা সব আমার! এই ভুলটাকে কিভাবে শুধরে নেবো বলোতো? তুমি তো অনেক সঠিক, তাই তোমাকে জিজ্ঞেস করা! আমি অপরাধী, তোমাদের বিচারকেন্দ্রে!

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.