সে ও একটি তারা

ঘরের আলো নেভানো, চারিদিকে অন্ধকার। শুধু জানালার ভাঙা অংশ দিয়ে রাস্তার ল্যাম্পপোস্টের আলো সোজা তাহমিদের ঘরে ঢুকেছে। গত রাতের ঝড়ে ভারি কিছু একটা জানালায় উড়ে এসে লাগায়, জানালার গ্লাসটা ভেঙে গেছে। এই মুহূর্তে তাহমিদের এই আলো টুকুও বিরক্ত লাগছে।
অফিসে আজ একটু ঝামেলা হয়েছে। বড় স্যারের করতে দেওয়া প্রেজেন্টেশন ঠিক সময় জমা দেওয়া হয়নি তার। বাকি সবাই প্রেজেন্টেশন তাহমিদের দুদিন আগেই জমা দিয়েছে।
বাবুল ইসলাম তাহমিদের ঘরের দরজা খুলে দেখতে পেলো ঘরের চারিদিকে অন্ধকার। সে ঘরের সুইচ টিপে দিতেই ঘরের চারিদিক আলোকিত হয়ে গেলো।
হঠাৎ আলোক রশ্মি তাহমিদের মুখের উপর পড়তেই তার মুখ কুঁচকে গেলো।
বাবুল ইসলাম দেয়াল ঘড়ির দিকে তাকিয়ে তাহমিদকে বলল, এই সন্ধ্যা বেলায় শুয়ে আছিস,শরীর কি খারাপ?
তাহমিদ বিছানার উপর উঠে বসতে বসতে বলল, শরীর ঠিক আছে বাবা, ভালো লাগছিল না তাই শুয়ে ছিলাম।
বাবুল ইসলাম চুপচাপ বসে রইলো।
তাহমিদ বলল, তুমি কি কিছু বলবে বাবা?
বাবুল ইসলাম বড়োই অস্বস্তির সাথে বলল, আমার চশমাটা ভেঙ্গে গেছে, আমাকে কিছু টাকা দিতে পারবি? তোর কাছে না থাকলে পরে দিলেও হবে।
তাহমিদ তার বালিশের পাশে রাখা মানিব্যাগ থেকে পাঁচশো টাকার একটা নোট বের করে তার বাবার হাতে দিয়ে বলল, এই নাও কাল একটা ভালো দেখে চশমার ফ্রেম কিনবে।
বাবুল ইসলাম জানে মাসের শেষে তাহমিদের হাতে টাকা থাকে না। তাই দুদিন থেকে চশমার কথাটা বলবে বলবে বলে বলা হয়নি।
বাবুল ইসলাম টাকাটা হাতে তাহমিদের ঘর থেকে বেরিয়ে গেলো।
আজ বেস অস্বস্তি লাগছে তাহমিদের। আশেপাশের কোলাহলের আওয়াজ শুনতেও ভালো লাগছে না।
তাহমিদ সিড়ি বেয়ে ছাঁদে উঠলো।এই বাড়িতে ছাঁদে ওঠার অনুমতি সবার নেই, শুধু তাহমিদের আছে। বাড়িওয়ালা তাকে একটি চাবি দিয়েছে ছাঁদে ওঠার জন্য। আগে মন খারাপ হলেই তাহমিদ ছাদে চলে আসতো। এখন আর আগের মতো আসা হয়না।
আজ আকাশ মেঘলা, আকাশে কোন তারা নেই। তাহমিদের ছাঁদের উপর পাতা বেঞ্চে বসে নিরাস চোখে আকাশের দিকে তাকিয়ে আছে। তারা হীন রাতের আকাশ বেমানান। রাতে আকাশে ঝলমলে তারা থাকলেই আকাশের রূপ ফুটে ওঠে।
কিছু সময় পর ফারাবী এসে তাহমিদের পাশে বসলো।
ফারাবী তাহমিদকে বলল, কখন এলে?
তাহমিদ ফারাবীর দিকে তাকিয়ে বলল, অল্প কিছু সময় হলো এসেছি।
ফারাবী দু’হাত দিয়ে তাহমিদের চোখ দুটো স্পর্শ করতে লাগলো।
তাহমিদ ফারাবীর হাত সরিয়ে দিয়ে তাকে জড়িয়ে ধরলো,আর নীরবে কাঁদতে লাগলো।
ফারাবী বলল, বোকার মতো কাঁদার কি আছে?
তাহমিদ বলল, আমি আর পারছিনা।
-এতো সহজে ভেঙ্গে পড়লে হবে? এখনো অনেকটা পথ বাকি। তুমি কিন্তু আমাকে কথা দিয়েছিলে সবার হাসির কারন হবে।
তাহমিদ ফারাবীর বুক থেকে মুখ সরিয়ে আনলো আর দু’হাত দিয়ে চোখ মুছতে লাগলো।
ফারাবী বলল, যাও এবার নিচে যাও।অনেক রাত হয়েছে।
তাহমিদ উঠে দাড়িয়ে হেটে যাচ্ছে আর একবার পেছনে ঘুরে তাকাল।
ফারাবী হেসে বলল,পিছু ফিরে তাকিও না, যাও।
.
এতো রাতে কারো জেগে থাকার কথানা। সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে। শুধু তাহমিদের বড় বোনে মিতুর ঘরে আলো জ্বলে আছে।
মিতুর বিয়ে হয়েছিল চার বছর আগে। বাসা থেকে পালিয়ে বিয়ে করেছিল সে। তখন মিতুকে পিতৃ ভিটা ছাড়তে হয়েছিল। কিন্তু এক বছরের মাথায় তার স্বামী মাইনুল হোসেন লঞ্চ ডুবিতে মারা যায়। তখন সবার লাশ নদী থেকে তোলা হয়। কিন্তু মাইনুল হোসেনের লাশ পাওয়া যায়নি। মাইনুল হোসেনের মৃত্যুর পর মিতুর আর তার শ্বশুরবাড়ি থাকা হয়নি। তাই আবার তাকে ফিরে আসতে হয়েছে তার পিতৃ ভিটায়।
তাহমিদ মিতুর ঘরে ঢুকলো।
মিতু তাহমিদকে দেখে বলল, ছাঁদে গিয়েছিলি?
তাহমিদ বলল, হ্যাঁ আপা। কিন্তু তুমি এখনো জেগে আছো কেন?
মিতু চুপ করে রইলো। কোন উত্তর দিলো না।
তবে তাহমিদ এই প্রশ্নর উত্তর জানে।
মিতু এখনো প্রতিরাত তার স্বামীর ফোনের অপেক্ষা করে। মিতুর বিশ্বাস, একদিন হঠাৎ তার স্বামী ফোন করে বলবে, মিতু আমি এসেছি,দরজাটা খুলে দাও!
তাহমিদ মিতুকে বলল, এভাবে রাত জাগলে শরীর খারাপ হবে আপা। দুলাভাই ফেরার হলে এতোদিনে অবশ্যই ফিরতো।
মিতু চুপ করে বসে রইলো।
.
সকাল হয়েছে।
ঢাকার এই এক সমস্যা। সকাল হতে না হতেই কর্ম ব্যাস্ত মানুষ গুলো ছোটে কর্মের তাগিদে। তখন গাড়ি বা বাসে ওঠা খুবই মুসকিল। রোজ মনে হয় যেন প্রতিযোগিতা হচ্ছে, একজনার থেকে একজনার আগে যাওয়া প্রতিযোগিতা।
তাহমিদ বাসের জন্য দাড়িয়ে আছে। রোদে চারদিক ঝলঝল করছে। তার মুখে শরীর ভেদ করে ফোটা ফোটা ঘাম জমা হয়েছে। সেই ঘামে রৌদ্রের আলো পড়ে চিকমিক করছে। মনে হচ্ছে প্রত্যেকটা ঘামের ফোটা যেন এক-একটা হীরের খন্ড।
ফারাবী অবাক হয়ে তাকিয়ে সেই দৃশ্য দেখছে।
তাহমিদ বলল, এতো কি দেখছো?
-অপূর্বের মধ্যে অপূর্বতা দেখছি।
-কি সেটা?
-তোমার মুখের মধ্যে জমে থাকা ফোঁটা ফোটা ঘাম।
তাহমিদ হাসিমুখে ফারাবীর দিকে তাকিয়ে বলল, তুমি কি সব সময় আমার তুচ্ছ জিনিসেই মুগ্ধতা খুঁজে পাও?
ফারাবী বলল, ইহা তুচ্ছ জিনিস নয়, ইহা মহামূল্যবান হীরক খন্ড।হঠাৎ একটা স্কুটি বাইক তাহমিদের সামনে দাড়াল।
তাহমিদ কৌতুহলের সাথে বলল, নুসরাত আপনি!
-হ্যাঁ দূর থেকে আপনাকে দেখলাম, নিশ্চয়ই বাস পাচ্ছেন না?
-সত্যি বলতে হ্যাঁ।
-তাহলে আমার স্কুটির পেছনে উঠে বসুন।
-না না আপনি চলে যান, আমি বাস পেয়ে যাবো।
-বাস পেয়ে যাবেন নাকি আমার স্কুটির পেছনে বসতে সমস্যা?
-না সেটা কেন হবে?
-তাহলে বসুন।
তাহমিদ ফারাবীর দিকে তাকাল।
ফারাবী চোখের ভাষায় সম্মতি জানালো।
নুসরাত বলল, কি হলো ওদিকে কি দেখছেন? চলে আসুন।
তাহমিদ উঠে বসলো। ফারাবী হাসিমুখে দাঁড়িয়ে তাহমিদকে দেখছে। বাইক স্টার্ট দিলো। তাহমিদও ফারাবীর দিকে তাকিয়ে রইলো।
নুসরাত বাইক চালাচ্ছে আর বলছে, আপনি উঠতে চাচ্ছিলেন না কেন বলুন তো?
তাহমিদ বলল, এমনি কোন কারন নেই।
-কারন তো একটা আছেই। তবে আমি কিন্তু ড্রাইভার হিসেবে একদম খারাপ নই।
-ও হ্যাঁ, না ওঠার কারনটা খুঁজে পেয়েছি।
-কি?
-আপনাকে আমার ড্রাইভার বানানোর কোন ইচ্ছাই ছিল না।।
নুসরাত আর তাহমিদ দুজনেই হেসে উঠলো।
.
অফিস টাইম শেষ!
তবুও তাহমিদ তার চেম্বারে টেবিলের উপর মাথা নিচু করে বসে আছে।
কিছু সময় পর ফারাবী তাহমিদের টেবিলের সামনে রাখা চেয়ারে বসে বলল, বাসায় যাবে না? অফিস তো ছুটি।
তাহমিদ চমকে উঠে ফারাবীকে দেখে বলল, বাসায় যেতে ভালো লাগছে না।
-তাহলে চলো কোথাও ঘুরে আসি। সন্ধ্যা হতে এখনো অনেক সময় বাকি।
.
হালকা বাতাস বইছে।
তাহমিদ ফারাবীর দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে হাটছে।
কিছু সময় পর ফারাবী দেখলো তাহমিদের চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছে।
ফারাবী বলল, কাঁদলে তোমাকে অনেক নিষ্পাপ লাগে। মনে হয় সেই মূহুর্তে তোমার মতো কেউ নিষ্পাপ নেই। কিন্তু তুমি কি জানো তখন আমার সব থেকে বেশি কষ্ট হয়?
তাহমিদ চোখের জল মুছে বলল, কেন বলো তো, যেটা চাই সেটা কখনোই হয় না?
-মানুষের সব চাওয়া পূর্ণ হয় না।
তাহমিদ আর ফারাবী কথা বলতে বলতে হাটতে লাগলো।
কিন্তু তাহমিদের পাশ দিয়ে যে-ই হেটে যাচ্ছে, সে-ই অবাক হয়ে তাহমিদের দিকে একবার তাকিয়ে যাচ্ছে।
ফারাবী তাহমিদকে বলল, সবাই দেখো তোমার দিকে অবাক হয়ে তাকাচ্ছে। সবাই কি ভাবছে জানো?
তাহমিদ বলল, হু জানি, ভাবছে আমি হয়তো পাগল।
ফারাবী একটু মুচকি হাসলো আর বলল, চলো এবার বাসায় ফেরা যাক।
.
তাহমিদ বাসায় ঢুকতেই মেঝেতে থালাবাসন পড়ার শব্দ শুনতে পেলো।
সারা বাড়ি বাবুল ইসলামের চেচামেচির শব্দ শোনা যাচ্ছে।
মিতু ঘরের এক কোনে ভয়ে বসে আছে।
বাবুল ইসলাম মিতুকে বলছে, আপদ বিদায় হয়েছিল ভালো হয়েছিল। আবার এসে জুটেছে। তোমাকে তিন বেলা খাওয়ানো হয় এটাই অনেক।
তাহমিদের মা কিরন বেগম বাবুল ইসলামকে বলছে, তুমি একটু শান্ত হও। মেয়েটার মনের অবস্থাটা বোঝ। এই অল্প বয়সে ও স্বামী হারিয়েছে।
-স্বামী হারাতে কে যেতে বলেছিল?
-ছি সামান্য তো একটা সেলাই মেশিন কিনতে চেয়েছিল,নিজের পায়ে দাড়াতে চেয়েছিল, তার জন্য তুমি মিতুকে এতো কথা শোনাচ্ছ?
– কথা শোনাবো না তো কি করবো? আমার রিটায়ার্ডের পর ছেলেটা একা হাতে সংসার চালাচ্ছে।
তাহমিদ দরজার সামনে দাড়িয়ে মিতুর জায়গায় নিজে অনুভব করছে।
চার বছর আগে ঠিক এভাবেই তাকেও অনেক কথা শুনতে হয়েছে। নিজেকে তখন তাহমিদের বড় অসহায় মনে হতো। সামান্য একটা চাকরির জন্য কতো ছুটতে হয়েছে তাকে।
হঠাৎ তাহমিদকে দেখেই বাবুল ইসলাম শান্ত হয়ে বলল, তুই কখন এলি?
তাহমিদ কোন উত্তর না দিয়ে সোজা তার রুমে ঢুকে পড়লো।
.
বাইরে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। কিছু সময় পরপর আকাশে বিদ্যুৎ চমকে উঠছে।
তাহমিদ আলমারি থেকে তার টাকা জমানোর ব্যাংটা বের করলো। সেই ছোট বেলা থেকে তাহমিদ টিফিনের টাকা বাচিয়ে ব্যাংকে টাকা রাখতো। ব্যাংটা অনেক আগেই পূর্ণ হয়ে হিয়েছিল।
তাহমিদ মাটির ব্যাংটা মেঝেতে আঘাত করতেই, ব্যাংটা ভেঙে গেলো আর খুচরা টাকা গুলো চারিদিকে ছিটিয়ে পড়লো।
আকাশে বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে, তাহমিদ টাকা গুলোর দিকে তাকিয়ে রইলো।
.
.
সন্ধ্যায় ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়ে।
ফারাবী ঔষধের ব্যাগ হাতে ছাতা মাথায় বাসায় ফিরছে।
আকাশে মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকে উঠছে, আর চারিদিক দিনের আলোর মতো ফর্সা হয়ে যাচ্ছে।
হাঠাৎ ফারবী লক্ষ্য করলো, সে যে ফ্লাটে থাকে তার ছাদের কার্নিসে কে যেন একজন বসে আছে।
ফারাবী কিছু সময় দাড়িয়ে ভাবতে লাগলো, সখ করে ছাদের কার্নিসে বসে সন্ধ্যে বেলায় কারো বৃষ্টিতে ভেজার কথা না, তাহলে কি সুইসাইড!
আবার আকাশে বিদ্যুৎ চমকে উঠলো আর ফারাবী স্পষ্ট দেখতে পেলো, কেউ একজন সত্যি সুইসাইড করতে যাচ্ছে।ফারাবী দ্রুত হাটতে লাগলো। বৃষ্টিতে সে ভিজে যাচ্ছে, তবুও দ্রুত হাটতে লাগলো। ফারাবী দৌড়ে একের পর এক সিড়ি বেয়ে উপরে উঠতে লাগলো।
ফারাবী ছাদে উঠেই হাপাতে লাগলো আর নিজেকে শান্ত করার চেষ্টা করলো।
ফারাবী আস্তে করে ছেলেটার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যাতে সে টের না পায়।
ফারাবী ছেলেটার পেছনে দাড়িয়ে হঠাৎ করে তাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরে ছাদের কার্নিস থেকে নামিয়ে আনলো।
ছেলেটা ছাদের মেঝেতে পড়ে আছে।
আকাশে এখনো বিদ্যুৎ চমকাচ্ছে।
ফারাবী দাড়িয়ে আছে আর ছেলেটাকে বলছে, কি করছিলেন এখানে? আর একটু হলেই তো নিচে পড়ে যেতেন।
ছেলেটা উঠে দাড়াতে দাড়াতে বলল, পড়ে যাওয়ার জন্যই তো বসে ছিলাম। নিজের প্রিয় মানুষ গুলোর কাছে আর বোঝা হয়ে থাকতে চাচ্ছি না। সবার সব সমস্যার সমাধান হয়ে যেতো।
ফারাবী বলল, মৃত্যু দিয়ে কোন কিছুর সমাধান হয়না, বরংচ সব কিছুর জট বাঁধে। আচ্ছা আপনার নাম কি?
ছেলেটা বলল, তাহমিদ।
ফারাবী বলল, আমার নাম ফারাবী।
হঠাৎ ফারাবীর কাশি শুরু হলো।
তাহমিদ বিদ্যুৎ চমকানোর আলোয় দেখতে পেলো ফারাবীর মুখ থেকে রক্ত পড়ছে।
তাহমিদ চমকে উঠে বলল, আপনার মুখ থেকে তো রক্ত পড়ছে। কি হয়েছে আপনার?
ফারাবী বলল, কিছু হয়নি। এটা সেরে যাবে।
তাহমিদ ফারাবীকে ধরে বলল, চলুন আপনাকে পৌছে দেই।
তাহমিদ ফারাবীর এক হাত তার কাদে দিয়ে আস্তে আস্তে নিচে নামতে লাগলো।
তাহমিদ ফারাবীকে বলছে আপনার কি বেশি কষ্ট হচ্ছে?
ফারাবী মুখের রক্ত মুছছে আর হেসে বলছে, তুমি এখন মরে গেলে আমার কষ্ট আর দেখতে হতো না।
তাহমিদ চুপ করে রইলো, কোন উত্তর দিলো না।
ফারাবী আবার হাসতে লাগলো।
তাহমিদ ফারাবীকে বলল, আপনার বাসা কোন ফ্লোরে?
-ফাস্ট ফ্লোর।
তাহমিদ নিচের ফ্লোরে নেমে ফারাবীদের বাসার সামনে দাড়িয়ে কলিং বেলর সুইস টিপ দিলো।
কিছু সময় পর ফারাবীর মা দরজা খুলে, ফারাবীকে দেখে চমকে উঠে বলল, তোর এই অবস্থা কি করে হলো। তোকে না ডাক্তার বৃষ্টিতে ভিজতে নিষেধ করেছে? এবার তো জ্বর উঠবে।
ফারাবী বাসায় ঢুকে তাহমিদকে বলল, তুমি তাহলে এখন যাও, পরে দেখা হবে।
তাহমিদ ভাবছে হঠাৎ করে কি হলো তার।
.
সকাল হয়েছে।
ভোরের আলো তাহমিদের চোখে পড়তেই ঘুম ভাঙ্গলো।
তাহমিদের গতরাতের কথা মনে পড়তেই ফারাবীর কথা মনে পড়লো। তাকে একবার দেখতে যাওয়া উচিৎ। সে না থাকলে আজকের সকালটা আর দেখতে হতো না।
.
সকাল গড়িয়ে বিকেলে পড়লো।
তাহমিদ ফারাবীদের দরজার সামনে দাড়িয়ে দুবার কলিং বেল বাজালো, কিন্তু কেউ দরজা খুলছে না।
তাহমিদ চলে যাবে ভাবছে, ঠিক এমন সময় ফারাবীর মা দরজা খুলল।
তাহমিদ বলল, আন্টি ফারাবী, উনি কি বাসায় আছে?
-হ্যাঁ বাসায় আছে, আসো ভেতরে আসো। জানো তো গতরাতে ভেজার পর ওর জ্বর এসেছে।
-তাহলে তো ডাক্তার দেখানো উচিৎ।
ফারাবীর মা হতাশ হয়ে বলল, সব রোগ যদি ডাক্তার সেরে দিতে পারতো! এসো তোমাকে ওর রুমে নিয়ে যাই।
তাহমিদ ফারাবীর রুমে যেতেই ফারাবী বিছা থেকে উঠে বসে বলল, তুমি?
-হ্যা, ভাবলাম আপনাকে দেখে যাই।
-ভালো করেছেন এসেছেন, একা একা ভালো লাগছিল না।
-তাহলে ছাদে যাবেন? ছাদে গেলে আপনার ভালো লাগতে পারে।
-চলো তাহলে।
-জ্বর নিয়ে আপনি যেতে পারবেন?
-আশা করি সমস্যা হবে না, আর তুমিতো আছোই।
-আচ্ছা চলুন।
.
ছাদে উড়তেই ফারাবী দু হাত ছড়িয়ে নিশ্বাস নিতে লাগলো। আর চোখ বুঝে কিছু একটা অনুভব করতে লাগলো।
তাহমিদ ফারাবীর দিকে তাকিয়ে রইলো।
কিছু সময় পর ফারাবী তাহমিদকে বলল, মানুষ পৃথিবী থেকে চলে গেলে কতো কিছু মিস করে তাইনা? এই খোলা আকাশ, বাতাস, সবুজ পাতার ঘ্রান, বৃষ্টি, জোৎসনা। মৃত্যুর পর সব কিছু শেষ, চাইলেও আর প্রিয় মানুষটিকে স্পর্শ করে দেখা যায় না। আচ্ছা তুমি সুইসাইড করতে চেয়েছিলে কেন?
তাহমিদ মাথা নিচু করে বসে রইলো।
ফারাবী তাহমিদের পাশে এসে কাঁদে হাত রেখে বলল, তুমি চাইলে বলতে পারো।
তাহমিদ হঠাৎ ফারাবীর মুখের দিকে তাকালো। এই মুখের মাঝে ভরসা লুকিয়ে আছে। চাইলেই এই মানুষটিকে বিশ্বাস করা যায়।
তাহমিদ কিছু সময় পর বলল, কখনো কখনো নিজেকে খুব তুচ্ছ মনে হয়। ছোটবেলা থেকে বাবা মায়ের ঝগড়া, নিজের বেকার জীবন নিয়ে আর ছুটতে পারছিনা। সবার কাছে নিজেকে বোজা মনে হয়।
ফারাবী হাসি চেপে রাখতে রাখতে হঠাৎ হাহা করে হেসে দিলো।
এবার ফারাবীর হাসি দেখে তাহমিদের রাগ হচ্ছে।
ফারাবী তাহমিদের চোখের দিকে তাকিয়ে বুঝতে পারছে সে রাগ করছে।
তাহমিদ বলল, আচ্ছা চলুন আমি নিচে যাবো।
ফারাবী তাহমিদেকে বলল, কাল আমার সাথে একটা জায়গায় যাবে? সকালের নাস্তা ঐখানে গিয়ে করবো আমরা, যাবে?
তাহমিদ সম্মতি জানালো।
.তাহমিদ শুয়ে আছে। চারিদিকে আলোর ছড়াছড়ি। ফারাবী আস্তে আস্তে তাহমিদের দিকে এগিয়ে আসছে। তাহমিদ স্পষ্ট ফারাবীকে দেখতে পাচ্ছে। তাহমিদ হাত দিয়ে ফারাবীকে স্পর্শ করতে যাবে এমন সময় চারিদিকে অন্ধকার হয়ে গেলো।
তাহমিদ বিছানা থেকে চমকে উঠলো,আর ঘামতে লাগলো। এখন চারিদিকে আলো দেখতে পাচ্ছে সে। তাহমিদ বুঝতে পারলো এটা স্বপ্ন ছিলো। ঘড়িতে সকাল সাতটা বাজে।
পাশের ঘর থেকে বাবুল ইসলামের চেচামেচি শোনা যাচ্ছে।
সকালে উঠে তাহমিদ জানতে পারলো তার মা কিরন বেগম বাসা থেকে বের হয়ে গেছে। এখন কিরন বেগম ঢাকায় তার বোনের বাসায় স্থান নেবে। সন্ধ্যা বেলায় বাবা অফিস থেকে ফেরার পথে তাকে নিয়ে আসবে। তার আগে সে এবাড়িতে আর পা রাখবে না।
এমন ঘটনা মাঝে মধ্যেই ঘটে।
.
তাহমিদ আর ফারাবী পাশাপাশি হাঁটছে।
তাহমিদ একটু চুপচাপ, কোন কথা বলছে না।
ফারাবী বলল, তোমার মন খারাপ?
-না।
-তাহলে?
-আমরা কোথায় যাচ্ছি?
-কেন আমার সাথে হাটতে ভয় লাগছে?
তাহমিদ থমকে দাড়িয়ে ফারাবীর দিকে তাকিয়ে, ফারাবীর হাতটা ধরে বলল, আমি আপনার পাশে থাকলে খুব সাহস পাই।
ফারাবী তাহমিদের হাত আরো শক্ত করে ধরে বলল, তাহলে চলো।
দুজনেই হাতের বাঁধনে আবদ্ধ হয়ে হাটতে লাগলো।
.
ফারাবী একটা খাবার হোটেলে ঢুকলো। তাহমিদ আর ফারাবী মুখোমুখি টেবিলে বসে আছে।
কিছু সময় পর একটা ছোট্ট ছেলে দৌড়ে এসে ফারাবীকে বলল, ওস্তাদ কি খাইবেন কন?
ফারাবী বলল, আমাদের দুজনকে পরোটা আর ডিম মামলেট করে দেতো।
ছেলেটা চলে যাওয়ার পর ফারাবী তাহমিদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলল, ওর নাম সুজন। আগে টোকাই ছিলো। এই হোটেলের চাকরিতে আমিই ওকে ঢুকিয়ে দিয়েছি। ছেলেটা খুব অসহায়, টোকাইর থেকে এই কাজটা ভালো। তুমি কি জানো তোমার থেকে এই বাচ্চাটার মরে যাওয়ার কথা আগে?
তাহমিদ চমকে উঠে বলল, মানে?
ফারাবী বলল, ওর বাবা নেশা গ্রস্ত। সারাদিন কাজ করে ও যদি ওর বাবার হাতে টাকা না দিতে পারে তাহলে ওর মায়ের উপর শুরু হতো অমানুষিক নির্যাতন। চাইলেই কিন্তু ও নিজে মুক্তি নিতে পারে, কিন্তু নিচ্ছে না কেন জানো? কারণ ওর মুক্তি হলে ওর মায়ের মুক্তি কখনোই হবে না। তাই রোজ লড়াই করে বেঁচে আছে।
তাহমিদ চুপ করে বসে রইলো আর চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো।
কিছু সময় পর ছেলেটা পরোটা নিয়ে হাজির হলো।
তাহমিদ চোখের জল মুছতে মুছতে ছেলেটাকে বলল, সুজন আজ তুমি আমাদের সাথে নাস্তা করবে।
ছেলেটা মুখ ভর্তি একটা হাসি দিলো।
.
নাস্তা শেষ ফারাবী আর তাহমিদ বাসায় ফিরছে।
তাহমিদ অপলক ভাবে ফারাবীর দিকে তাকিয়ে হাটছে।
ফারাবী বলল, এভাবে আমার দিকে তাকিয়ে হাটতে থাকলে হোচোট খেয়ে পড়ে যাবে।
তাহমিদ এবার ফারাবীর হাত ধরে হাটতে লাগলো। রৌদ্রে ঝিকমিক করছে চারিদিক। আশে পাশের গাছ গুলো থেকে মৃত পাতা গুলো ঝড়ে পড়তে লাগলো।
.
কয়েক মাস পর।
.
সন্ধ্যায় তাহমিদ ছাদে বসে আছে। আজ আকাশ বেশ পরিস্কার। ছাদে দাড়িয়ে শহরের আলো গুলো দেখা যাচ্ছে। আজকাল তাহমিদ একা থাকলেই ফারাবীকে খুব বেশি অনুভব করে,আর সব সময় তাকে পাশে পেতে ইচ্ছে করে।
কিছু সময় পর ফারাবী এসে বলল, আমি জানতাম তুমি এখানে। বাসায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারলাম তুমি বাসায় নেই, তাই ছাদে চলে এলাম।
তাহমিদ বলল, দেখুন শহরের আলো গুলো কতো সুন্দর! ভেবে দেখুন একটা অন্ধকারের কাছে আলো কতোটা গুরুত্বপূর্ণ।
– আলো, অন্ধকার দুটোই গুরুত্বপূর্ণ। অন্ধকার না থাকলে আলোর মূল্য নেই, আর আলো না থাকলে অন্ধকার।
কিছু সময় পর তাহমিদ ফারাবীর মুখের দিকে তাকিয়ে বলল, আমরা কি আলো-অন্ধকার হতে পারি না?
ফারাবী বলল, মানে?
তাহমিদ কথাটা ঘুরিয়ে নিয়ে সংকোচের সাথে বলল, না কিছু না।
ফারাবী তাহমিদকে বলল, তুমি কি আমার একটু কাছে আসবে?
তাহমিদ ফারাবীর মুখোমুখি এসে দাড়ালো।
ফারাবী বলল, আরো আছে আসবে?
তাহমিদ ফারাবীর বুক বরাবর দাড়ালো।
ফারবী তার দু’হাতে তাহমিদকে জড়িয়ে নিলো।
মূহুর্তেই তাহমিদের পৃথিবীটা পাল্টে গেলো। আর নীরবে সে ফারাবীর বুকে জড়িয়ে আছে।
ফারাবী তাহমিদকে বুকে জড়িয়ে নিয়ে বলতে লাগলো, আমার বাবা মারা গিয়েছে সাত বছর হয়েছে। তার ব্লাড ক্যান্সার ছিলো। জানো তাহমিদ আমি প্রথম একজনকে ভালোবেসেছিলাম। যখন সম্পর্কটা আর থাকলো না, তখন বাঁচতে ইচ্ছে হয়নি। আজ তোমাকে বুকে জড়িয়ে খুব বাঁচতে ইচ্ছে করছে। জীবনটা এতো ছোট কেন বলতে পারো তাহমিদ?
তাহমিদ ফারাবীর বুক থেকে মাথা সরিয়ে বলল, আপনার কি হয়েছে?
ফারাবী চোখের জল আটকে রাখতে পারছেনা। বারবার চোখ গড়িয়ে জল পড়তে লাগলো।
তাহমিদ দু’হাত দিয়ে ফারাবীর মুখে হাত দিয়ে বলল, কি হয়েছে আপনার?
ফারাবী বলল, আমি আর এই পৃথিবীতে বেশি দিন নেই। আমার বাবার একই রোগে আমিও ভুগছি।
তাহমিদ হাঁটু গেড়ে নিচে বসে পড়লো।
কিছু সময় আগেই মনের আকাশটা পরিস্কার ছিলো। আর এখন মূহুর্তেই মেঘ জমা হয়ে গেলো।
তাহমিদ চোখ মুছতে মুছতে বলল, আপনি একটু বসুন, আমি এক্ষুনি আসছি।
তাহমিদ ছুটে নিচে নেমে গেলো।
কিছু সময় পর তাহমিদ একটা বড় মাটির ব্যাংক হাতে ফারাবীর সামনে দাড়িয়ে বলল, আপনাকে বাঁচতে হবে, প্লিজ আমার জন্য আপনাকে বাঁচতে হবে। আপনি ছাড়া আমি বাঁচতে পারবো না।
ফারবী তাহমিদের কপালে চুমু দিয়ে বলল, আমার বাঁচার সব রাস্তা বন্ধ। কিন্তু তোমাকে বাঁচতে হবে। তোমাকে সবার অবলম্বন হতে হবে। তাহলেই তুমি আমাকে তোমার মাঝে খুঁজে পাবে। আর এই ব্যাংকটা তোমার কাছেই রাখো, আজ হয়তো এটা তোমার মুখে হাসি ফোটাতে পারলো না। কিন্তু কাল এটা হয়তো অন্য কারো হাসির কারণ হবে। আর নিয়তিকে মেনে নিতে শেখো।
.
.
.
হঠাৎ বিদ্যুৎ চমকে উঠলো।
তাহমিদ চোখের জল মুছতে মুছতে মেঝে থেকে টাকা গুলো তুলতে নিলো।
.
সকাল হয়েছে।
তাহমিদ অফিসে চলে এসেছে অনেক সময় হয়েছে।
আজকাল অফিসের কাজের চাপ খুব কম।
তাহমিদ কিছু সময় পর নুসরাতের চেম্বারে নক করে বলল, আসবো?
নুসরাত হাসি মুখে বলল, আরে তাহমিদ , আসুন, আসুন। কিছু বলবেন?
– হ্যাঁ, আসলে একটা সাহায্য লাগবে।
– কি সাহায্য?
– আমার বোনের জন্য একটা সেলাই মেশিন কিনবো। মেয়েরা এসব ভালো চেনে,যদি আপনি সাহায্য করতেন!
-হ্যাঁ অবশ্যই। বসকে বলে এখনই চলুন। আমাদের অফিসের পাশেই একটা ভালো মেশিনের দোকান আছে।
– চলুন।
.
.
হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠলো।
মিতু দরজা খুলে দেখতে পেলো দুজন লোক দাড়িয়ে আছে। তাদের সামনেই দুটো বক্স রাখা।
মিতু বলল, আপনাদের কাকে চাই?
– এটা কি তাহমিদ সাহেবের বাসা?
– হ্যাঁ
– এই সেলাই মেশিনটা সে পাঠিয়েছে তার বোনের জন্য।
মিতু খুশিতে তার মাকে ডাকতে লাগলো, মা মা দেখো তাহমিদ কি করছে দেখো।
.
বিকেল গড়িয়ে পড়লো, আর কিছু সময় পরই সন্ধ্যা নামবে।
তাহমিদ অফিস থেকে বের হবে এমন সময় নুসরাত বলল, একটা কথা বলবো?
-হ্যাঁ বলুন।
– চলুন আজ বাইরে কোথাও ঘুরে আসি।
– কিন্তু!
-প্লিজ।
-আচ্ছা চলুন।
.
তাহমিদ আর নুসরাত বেরিয়ে পড়লো।
তাহমিদ মনে মনে আজ বড় খুশি।
নুসরাত বলল, তাহমিদ, আপনাকে আজ বেশ অন্যরকম লাগছে।
তাহমিদ বলল, হ্যাঁ, আমার পরিবারের মানুষ গুলোর মধ্যে আমার আপাকে সব থেকে বেশি অসহায় লাগতো।
-কেন?
-আসলে ওর স্বামী মারা গিয়েছে অনেক বছর হয়েছে। তারপর থেকে আমাদের সাথেই থাকে। কখনো দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাবেনি। আজ সেলাই মেশিনটা পাওয়ার পর আপা অনেক খুশি হবে জানেন? ভাবতেই আমার ভেতরটা যে কেমন লাগছে,আমি আপনাকে বলে বোঝাতে পারবো না।
নুসরাত তাহমিদের দিকে তাকিয়ে বলল, আপনি এতো ভালো কেন? সেই চাকরির শুরু থেকে আপনাকে দেখছি। কখনোই আপনার কোন কথা ভুল মনে হয়নি।
তাহমিদ বলল, চলুন কোথাও গিয়ে বসি।
তাহমিদ আর নুসরাত রাস্তার পাশে একটা বেঞ্চে বসলো।
নুসরাত কিছু সময় পর বলল, তাহমিদ আমি আপনাকে একটা কথা বলতে চাই।
-হ্যাঁ বলুন।
নুসরাত তাহমিদের হাতেই উপরে হাত রাখলো,আর তাহমিদের চোখের দিকে তাকালো।
তাহমিদ লক্ষ্য করলো দূরে দাড়িয়ে ফারাবী হাতের ইশারায় বলল, Best of luck!
তাহমিদ নুসরাতকে বলল, আচ্ছা ভালোবাসার মানেটা কি বলুন তো?
নুসরাত লজ্জা পেয়ে বলল, ভালোবাসার মানে হলো অনুভব, দূরে থাকলেও অনুভবে মিশে থাকার নামই ভালোবাসা।
তাহমিদ বলল, হুমমমমম, চার বছর থেকে আমি করো স্মৃতি আগড়ে ধরে বেঁচে আছি। তাকে আমি প্রতি মূহুর্ত আমার অনুভবে খুঁজে পাই।
নুসরাত শব্দ হীন ভাবে বসে রইলো, কিছুই বলতে পারলো না।
তাহমিদ বেঞ্চ থেকে উঠে হাটতে লাগলো।
পরিবেশটা কেমন থমকে গেছে।
নুসরাত তাহমিদকে পিছু ডাকতে গিয়েও ডাকলো না। হয়তো তার আর না বলা কথাটি কখনোই বলা হবে না।
তাহমিদ হাটছে আর নীরবে চোখ থেকে জল গড়িয়ে পড়তে লাগলো। আজ আকাশে কোন মেঘ নেই, কোন চাঁদ নেই। শুধু একটি উজ্জ্বল তারা জ্বলজ্বল করছে। আসেপাশের কোলাহল থমকে গেছে। তাহমিদ হাটছে, বাতাসও যেন থমকে গেছে। শুধু একটি তারাই টুকরো টুকরো মেঘের খন্ড ডিঙ্গিয়ে তাহমিদের সাথে চলছে।

লেখকঃ নিশো

প্রকাশেঃ সাতরঙা গল্প

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.