ছেলেধরা

লেখক – তন্ময় সরকার

খরস্রোতা পদ্মার বুক চিড়ে তৈরি হচ্ছে পদ্মা সেতু।একবার রটে গেল, পদ্মার বুকে খাম্বা খাম্বা পিলার গুলোর প্রত্যেকটির জন্য নাকি জ্যান্ত জ্যান্ত শিশু কিশোকে বলি দেয়া হচ্ছে।খরস্রোতা পদ্মা নাকি শিশু-কিশোরেই রক্তের বিনিময়েই কেবল তার বুকে পিলার নির্মাণে শায় দিচ্ছে!সেতু নির্মাণ কর্তৃপক্ষের নিযুক্ত ছেলেধরারা নাকি দেশ জুড়ে, গ্রামে-গঞ্জে ঘুরে ঘুরে শিশু কিশোর দের ধরে নিয়ে যাচ্ছে।তাদের কেউ ফকির সেঁজে মানুষের দ্বারে দ্বারে ভিক্ষা করছে আবার কেউ কোর্ট প্যান্ট পড়ে শহরের স্কুলে স্কুলে আড়িপাতচ্ছে কিংবা কেউ আবার চালাচ্ছে রিকশা। পুরো দেশেই এক রকম ভীতিকর অবস্থা বিরাজ করছে।সবার মুখেই চিন্তার ছাপ।সবাই একরম সচেতন। অচেনা মানুষজনকে দেখলেই এখন লোকজন সন্দেহের চোখে তাকাচ্ছে।ছেলে ধরার ভয়ে পিতামাতারা তাদের সন্তানকে স্কুলে পর্যন্ত যেতে দিচ্ছেনা!ইদানীং লোকজন নিয়মিত খবরের কাগজে চোখ রাখছে।কোথায় কোনো ছেলেধরা ধরা পড়ল কিনা,কোন এলাকার কোনো শিশু-কিশোর হঠাৎ নিখোঁজ হয়েছে কিনা।কারও মনে শান্তি নেই, সব বাড়িতেই কেমন একটা ছমছম ভাব। 

এসবের মধ্যেই খবরের কাগজের এক সংবাদ পুরো দেশের মানুষের বিবেককে চরম ভাবে নাড়া দিয়ে গেলো।সংবাদটা এমন, ছেলেধরা সন্দেহে ঢাকার এক নামকরা স্কুলে এক মহিলাকে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে উত্তপ্ত জনতা।পরে জানা গেলো সেই মহিলাটি ছেলেধরা ছিলেন না!তিনি তার ছোট্ট মেয়ে টিকে স্কুল হতে নিতে এসেছিলেন।এমনি কত খবর! দেশের অলিতে গলিতে,গ্রামে গঞ্জে সন্দেহক্রমে কত নিরীহের প্রতি কত অত্যাচারের খবর, লোকের মুখে মুখে পুরো দেশ ছড়িয়ে যাচ্ছে।

এমনই যখন পুরো দেশের অবস্থা তখন গ্রামের মানুষ গুলোই বা কি করে ঠিক থাকে! 

বাংলাদেশের আর দশটা গ্রাম যেমন হয়, অন্তরাম ঠিক অমনি।চৌধুরানী বাজার হতে অজগরের মত প্যাঁচানো সাদামাটির রাস্তাটি এদিক-সেদিক না তাকিয়ে একেবারে সোজা ঢুকেছে অন্তরাম গ্রামে।সাদা রাস্তাটির দুই ধার যেমন সবুজ ঘাসের চাদঁর আবৃত্ত করেছে, তেমনি সবুজ ঘাসের চাঁদর ফেঁটে বেড়িয়ে আসা সারি সারি নীম, ইউক্যালিপটাস আর দু-চারটে তালগাছ সদা অতন্দ্র প্রহরীর মতো যেন পুরো গ্রামটিকে পাহারা দিচ্ছে!

অমিতের বাস এই গ্রামে।সবে প্রাথমিক শিক্ষা চুকিয়েছে সে।বোধ বুদ্ধির উপর ভর করে চলার মত পক্বতা তার এখনো হয়ে ওঠেনি।মায়ের কোল ছাড়লেও আঁচলের ছায়া এখনো তার একমাত্র সহায়। তাইতো কেউ তাকে কোনো অপমান করলে কিংবা তার কোনো আবদার থাকলে সে দৌড়ে গিয়ে মাকে জানায়।গ্রহ উপগ্রহ পর্যন্ত তার জানাশোনা এখনো না এগোলেও,মা-ই যে তার পৃথিবী, এটা সে ঠিকই বুঝতে পারে।

অমিত তার ছোট পরিবারটির ছোট ছেলে।চৌধুরাণী বাজারে তার বাবার একটি ছোট্ট কাপড়ের দোকান আছে।আগে যদিও তিনি শুধু দর্জিগীরির কাজই করতেন।এখন দোকানের সামনেই সেই পুরাতন সেলাই মেশিনটি দিয়ে একটা দুটো অর্ডারের কাজ করেন।রমজান মাসে কিংবা নববর্ষে দোকানে কেনাকাটার চাপ বাড়লে তখন অমিতের বড় ভাই অরিনকেও তিনি সঙ্গে নিতেন।অরিন এবার মেট্রিকুলেশন পরিক্ষা দিয়েছে।পেয়েছে তিনমাসের এক দীর্ঘ ছুটি।এই অবকাশে সে ঘুরে বেড়াবে এমন চিন্তা যে তার মাথায় একবারও ঘুরপাক খায়না এমনটি নয়।কিন্তু সে জানে তার পরিবার তার এমন বিলাসী চিন্তা কখনোই সমর্থন করবেনা।যদিও তিনমাসের এই ছুটিতে মামা বাড়িতে থেকে এসেছে, হাতে গুণে মোটে চার দিন।অমিত তার সাথে মামা বাড়ি যাওয়ার অনেক অনুনয় বিনয় করলেও, অরিন এসেবের কিছুই কানে তোলে নি।তার এক কথা।সে হয় একাই যাবে, না হয় যাবেনা।তাই অমিতের মামা বাড়ি যাবার স্বপ্ন এখানেই সমাপ্ত হল।

মার্চ মাস শেষ হতে চলল।রোদের তীব্রতা যেন দিন দিন বেড়েই চলেছে।তবুও বৃষ্টির দেখা নেই।আকাশে একটুখানি সাদা মেঘ যেন সদ্যযৌবনে পা দেয়া কিশোরীর মতন লজ্জা তুর চোখে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে ফুরুৎ করে পালিয়ে যাচ্ছে।খরায় যে মাঠ-ঘাট, পুকুর, নদী,শস্যক্ষেত খাঁ-খাঁ করছে তা দেখার সময় অরিনের নেই।সকাল নেই দুপুর নেই, কাঁধে তার নিজ হাতে বানানো আমকাঠের ব্যাটটি নিয়ে দৌড় মাঠের দিকে।সোনালী রৌদ্রের তেজে তার শৈশবের গোলাপি সাদা শরীরটি এখন অনেকটাই তামাটে হয়ে গিয়েছে।সূর্য না ডুবলে তাকে বাড়িতে আনার সাধ্যি কারোরটি নেই।

অন্যদিকে অমিত বলতে গেলে ঘরকুণো।গ্রামের শিশুদের মাঝে যেমন চঞ্চলতা,উদ্দীপনা, স্বাধীচেতা ভাবটি থাকে, তার মাঝে এর কোনোটিই নেই।গ্রামের মেয়েদের সাথে এক্কাদোক্কা,বিকেল বেলা দাড়িয়াবান্ধা খেলতেই তার দিন কেটে যায়। তার বাবা সেলাই ফোড়াই এর কাজ করায়,যে কাপড় গুলো ছাট হিসেবে থেকে যেত।অমিত সেগুলো 

থেকে কিছু কাপড় কুঁড়িয়ে বাসায় আনত। তারপর সেগুলো দিয়ে সে হরেক রকম পুতুল বানাতো।পুতুলের বিয়ে দেয়া অমিতের কাছে সব থেকে মজার খেলা। 

আবার গ্রামের সব ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা মিলে যখন “খুঁটি-মশলাই” খেলতো, তখন সে বৌ সাঁজত।খুঁটি-মশলাই খেলাটি এমন, এখানে এক দল ছেলে আর এক দল মেয়ে থাকে।পরিবার সামলানো, রান্না-বান্না করা এগুলো মেয়েদের কাজ।আর চাষাবাদ করা,ব্যবসা বাণিজ্য করা,গৃহস্থালির জন্য বাজার-খরচ করা এগুলো ছেলেদের কাজ।এই খেলায় অমিত তার মায়ের ব্লাউজ ছাড়া একটা পুরাতন ওড়না তার শরীরে পেঁচিয়ে শাড়ির মতন করে পরে।আর মাটিতে পরে থাকা লাল লাল পলাশ ফুলগুলো হতে একটি পাপড়ি থু-থু দিয়ে কপালে আকটায়।অতি সাধারণ,তবুও তার কাছে এটিই গ্রাম্য বধূর সাজ।তখন গ্রাম্য মেয়ের পুরো অবয়ব যেন তার শরীরের প্রতিটি কোণে কোণে ফুটে ওঠে।

অরিন তার ভাইয়ের এই সবকিছুই ছোট থেকেই দেখে এসেছে।কিন্তু ইদানীং কালে তার কি যেন হয়েছে,অমিতের এই সব কান্ডকারখানা তার এক দমই ভালো লাগছেনা।বন্ধু দের সাথে আড্ডাদেবার কালেই হোক কিংবা খেলাধুলার সময়।কেউ না কেউ অরিনকে তার ভাইয়ের কথা তুলে খোঁটা দিচ্ছেই।তাই ছেলে হয়েও অমিতের মেয়লীপনা অরিনের চোখে বিষ ঠেকছে!

প্রায় প্রতিদিনই তাকে শুনতে হচ্ছে,

“কিরে অরিন,তোর ভাই ক্যানা সারাদিন চেংড়ী গুলার মতন করি,কমর দুলি দুলি হাটি বেড়ায়।গায়োত শাড়িও পেন্দে ।আবার দেখনু টিপও দেয়!তোর ভাইয়োক কিছু কবার পাইস না হে?”

আরেকজনত বলেই বসল, “আরে অমিত হইতোছে হিজলা। আর এইতো হিজলার ভাই।তো উয়্যার কতা আর কি শোনবেন?”

ভাইয়ের জন্য তার এমন অপমান সে মেনে নিবে কি করে?সে দিন রাত্রি বেলা অমিত একটি নতুন পুতুল বানিয়েছেন।কেমন হল তা জানতে সে অরিন কে বলল-

“এ ভাই দেখত,পুতুল কোনা দ্যাখতে কেদোন হইছে?”

প্রশ্ন শোনা মাত্রই অরিন স্বজোরে একটা চড় অমিতের গালে বসিয়ে দিয়ে বলল-

“শালা হাফলেডিস।সারাদিন ঘরত থাকপু আর এগলাই করবু।”

হাফলেডিস শব্দটার সাথে অমিত পরিচিত না হলেও।তার ভাইয়ের এই আচরণ তাকে গভীর ভাবে ব্যথিত করল!সে অসহায়ের মত এক দৌড়ে তার মাকে জড়িয়ে ধরে কু-কু করে কাদতে থাকে।সে যে নির্দোষ,বিনা কারনে তার ভাই তাকে মেরেছে এই অভিযোগ দেবার মত ছেলেও অমিত না।তাই মাকে জড়িয়ে ধরে কান্না করা ছাড়া তার আর কিছুই করার রইল না! তার মা তাকে জিজ্ঞেস করে বলে-

“ময়না, কান্দিস ক্যানে?কায় কি করিল তোক?”

“কিছু নোয়ায় মা।”

ছেলেধরার কথা সে বার অনন্তরাম গ্রামেও লোকের মুখে মুখে রটে গিয়েছিল।ছেলে ধরার ভয়ে গ্রামের ছোট ছোট শিশু থেকে বড়রাও বাড়ি থেকে বের হওয়া একরকম বন্ধই করে দিয়েছে।গ্রামের যে মাঠ গুলো সকাল দুপুর বিকাল বিভিন্ন খেলায় মেতে থাকত সেখানে এখন শুধুই রৌদ্রের খেলা।পুকুর গুলোয় নেই গ্রাম্য ছেলে মেয়েদের লাফিয়ে লাফিয়ে গোসল করার দৃশ্য।সব খানেই বিরাজ করছে এক বিশাল শুন্যতা।এমনকি বাচ্চাদের কান্নার আওয়াজ মায়েরা কেমন করে যেন রুখে দিয়েছে!এখানে রাত্রিগুলো আরও ভয়ঙ্কর।চারিদিকে অন্ধাকের মিছিল যেন পুরো গ্রামটিকে অবরোধ করে ফেলেছে।চন্দ্র তারা ছাড়া আর কারোর দাপট যেন রাত্রি কাছে তুচ্ছ।

পুরো গ্রামে যখন এমনই অবস্থা অরিন আমিতের আর কি করার থাকে।বাসাতেই অনেকটা বন্দি জীবন কাটাতা হচ্ছে তাদের।

মার্চের এই সময়টাতে গ্রামে গ্রামে আলু তোলার হিড়িক পরে যায়।আলুর তৈরি নাম না জানা কত সব তরকারি গ্রামগুলোতে এই সময়টাতে রান্না হয়ে থাকে।

অন্তরাম গ্রামেও এবার এক ভিনদেশী গেরস্ত কয়েকশ একর জমিতে আলু চাষ করেছে।এখন সেই আলু তোলার কাজ চলছে।গেরস্তের নিযুক্ত কর্মচারীরা জমি গুলোতে পলিথিন দিয়ে পিরামিডের মত ছোট ছোট তাবু তুলেছে।রাত্রি বেলা এখানে থেকেই, তারা আলুর বস্তাগুলো পাহারা দেয়।কারণ গ্রামের ছোট ছোট ছেলে মেয়েরা আলু চুরি করে আইস্ক্রিম,চকলেট, চানাচুর, বাতাসা এটাওটা খায়।অনেকটা মজার ছলেই তারা এই আলুচুরির কাজটি করে থাকে!

ছেলেধরা নিয়ে এই যখন অবস্থা,একদিন অমিত তার বাড়ির পাশের আলুর জমিতে পলিথিনের তাবু গুলো দেখতে যাওয়ার সখ হল।শিশু মন সবে কৈশরে পা দিতে চায়।এমন দ্বৈত মানসিক অবস্থা যার, তাকে কি আর ঘরে বন্দি করে রাখা যায়?

তাবুর কাছে যেতেই সে আবিষ্কার করল,সেটির ভিতরে একজন পুরুষ মানুষ বিড়ি খাচ্ছে।মধ্যবয়সী হবেন তিনি।আমিত কে দেখে লোকটি বলল-

“এ চ্যাংড়া, আলু চুড়ি কইরবার আসছিস নাকি রে?”

তার কন্ঠস্বরের এমন রুক্ষতা, আমিকে ভীত করে দিলো।সে ভয়ে ভয়ে বলল-

“নোয়ায়,নোয়ায়।মুই এতি এমনি ঘুরবার আসছোং।”

মেয়েলী কন্ঠের এমন জবাবে লোকটির আর বুঝতে অসুবিধে হল না যে,এই ছেলের মাঝে এক মেয়েলি সত্ত্বা আছে। অমিত কে বলল-

“এ চ্যাংড়া, এতি আয়।কতা কই।আলু নিয়া যাইস য়্যালা।”

এমন প্রশ্নে আর না বলার শক্তি অমিতের ছিলো না। কাছে যেতেই লোকটি আমিতের হাতটি ধরল। শৈশব থেকে কৈশরে সবে পা দেয়া ছেলেটির নরম নরম গোফ কেবল মাথা চাড়া দিয়েছে।গোলাপের পাপড়ির মত চিকন দুটি ঠোঁট আর শুপাড়ি কাটার মত দুটি চোখ যেন সেই মধ্যবয়সী লোকের কামনাকে দিগুণ বাড়িয়ে দিল।পাশে রাখা একটা গামছা দিতে অমিতের দুই হাত তিনি বেঁধে ফেললেন।এক সময় টেনে হিঁচড়ে তার প্যান্টটিও তিনি খুলে ফেললেন।তারপর দুই পা উপর করে লোকটির শিশ্নটি আমিতের নিতম্ব গহ্বরে ঢুকিয়ে দিলো!এই অবস্থায় অমিত ব্যথায় কাতরাতে থাকল।এমন অসহায়ত্ব তাকে আর কখনো গ্রাস করেনি।

কিন্তু হঠাৎ এক আলু কুড়ানি এই সমস্ত ঘটনাটি আবিষ্কার করল।তার চেঁচামেচিতে সেখানে একটা ছোটখাটো জনসমাবেশ হয়ে গেলো।গ্রামের লোকজন সেই লোককে ইচ্ছা মত পিটিয়ে গ্রামথেকে তাড়িয়ে দিল।এবার সবার নজর গেলো অমিতের দিকে।

এমনি অমিতের চালচলন মেয়েদের মতন তার উপর এমন ঘটনা যেন তার হিজলা নামটিকে একেবারে পাকাপোক্ত করে দিলো।অমিতকে এই সব অপবাদ, অপমান আদৌ ছুঁয়েছে কিনা তা জানা নেই।কিন্তু তার জন্য তার পরিবার আর বাড়িতে থেকে বের হতে পারছেনা।

হিজরার বাবা,হিজরার মা আর হিজরার ভাই এই সব শুনতে শুনতে তারা একে বারে নাজেহাল। এই সমাজ মেয়ের সাথে ছেলের এমন কু-কীর্তি বেড়ে ওঠা সময়ের সাথে সাথে ঠিকই মেনে নিতে পারে।কিন্তু ছেলে সাথে আরেক ছেলের এমন যৌনতায় লিপ্ত হওয়া, এ-তো ধর্মের বিরোধ। ধর্মান্ধ গ্রামীণ সমাজে তা কি সহজে মেনে নিবে?

এই যখন অবস্থা, ভাইয়ের জন্য বন্ধু সমাজে অরিনের এই অপমান, সে কিছুতেই মেনে নিতে পারল না।

তার বাবাও সে রাত্রে অমিতকে অনেক মেরল। দু হাত দিয়ে গলা টিপে ধরে তিনি অমিতকে বললেন

“আগোত যদি জাননু হয় তুই হিজলা হবু,তাইলে তখনে তোক নুন খিলি মাড়ি ফেলানু হয়।”

বাবার মুখ থেকে এমন কথাটি শোনার জন্য সে প্রস্তুত ছিলো না।তার জন্ম, তার চলা বলা সবকিছুই সে অস্বাভাবিক এবার সেটি তার ছোট মস্তিকটি বুঝতে পারছিলো।

সদ্য কৈশরে পা দেয়া এই অবুঝ কিশোরেরও যে প্রতিটি বেতের আঘাতে কষ্ট হয় তা হয়ত তার বাবা ভুলেই গিয়েছিল। তার মেয়েলি কন্ঠের অনুরোধ “আব্বা মোক মাইরেন না!” সেই আগুনে আরও নতুন করে ঘি ঢেলে দিচ্ছিলো। 

এবার আর তার মা তা চুপ থাকতে পারলে না।দৌড়ে গিয়ে ছেলেকে জড়ায় ধরে বিলাপ করে কাঁদতে লাগলেন।

“মোর ময়নাটাক তোমার আর মাইরেন না। ছোট্ট ছাওয়াটা মরি যাইবে!তোমরা ছাড়ি দাও!”

ক্লান্ত অমিতের বাবা এবার হাল ছাড়ে।পুরো দিনের এই সমস্ত অভিজ্ঞতা যেন অমিতকে বুড়ো করে দিয়েছে।নব্য কিশোর সেই অভিজ্ঞতার ভারে তার মায়ের কোলে একে বারে নুয়ে পরেছে!

অমিতের ঠোঁট ফেটেছে।ঠোঁটের রক্ত গুলো সাদা সাদা দাঁত গুলোতে মিলেমিশে যেন এক রক্তিম আভা তৈরি করেছে।পুরো শরীরে মারের চিহ্ন গুলো চাকাচাকা হয়ে আছে।ব্যথায় কাতরনোর শক্তিটাও হয়ত সে হারিয়েছে।বাকি আছে তার জীবনটা!আঙিনার এক কোণে মায়ের কোলে শুয়ে থাকা অমিত হঠাৎ-ই এক সময় অস্ফুটস্বরে বলল,

“ও মা,মুই ছাওয়া ধরা নোয়ায় গো। মোক আর মারিস না তুই?”

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.