দ্বৈততা

পত্রঃ তুমি ‘বাইসেক্সুয়াল’ সেটা কবে বুঝতে পারলে? 

সমুদ্রঃ ক্লাস টেনে। তখন আমার বয়স ছিল ১৬ বছর।

পত্রঃ কিভাবে বুঝলে? 

সমুদ্রঃ আমার ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের ভাল লাগত। সেটা শারীরিক বা মানসিক দুটো ক্ষেত্রেই। ছোটবেলায় মনে করতাম একটা মেয়ের শুধু ছেলেদের প্রতিই আকর্ষণ থাকে। তবে যখন মেয়েদের প্রতি ঝুঁকতে থাকলাম তখন মনে হল এসব কিছুই না। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আপনা আপনি চলে যাবে। আমি কখনো ব্যাপারটিকে গুরুত্ব সহকারে নেইনি। তবে ক্লাস টেনে আমার পার্টনার যেহেতু ফিমেল টু মেল, অর্থাৎ ট্রান্সমেন ছিল তখন আমি বুঝতে পারি যে, ও যদি সামাজিক এবং দৈহিকভাবে মেয়ে হিসেবেও থাকে তাহলেও আমার যৌন বা মানসিক আকর্ষণে কোন বাঁধা পড়বে না। এরপর আমার পার্টনার এবং আমার এই অবস্থার কারনে আমি ঐ সময় সেক্সুয়ালিটি, জেন্ডার নিয়ে পড়াশোনা করায় আমি নিজেকে আরও ভালোভাবে বুঝতে পারি।

পত্রঃ চমৎকার। আসলে আমরা যদি এই ব্যাপারগুলো নিয়ে আরও পড়াশুনা করি তাহলে ভ্রান্ত ধারণাগুলো থেকে নিস্তার পাওয়া সম্ভব। তুমি তো জানো, উভকামীতা নিয়ে বেশ কিছু মিথ চালু আছে। তো তোমার কাছে কোনটা হাস্যকর মনে হয়?  

সমুদ্রঃ আমার এক ক্লাসমেটের ধারণা ছিল উভকামী মানুষেরা কখনো একজনের সাথে সেক্স করতে পারে না। তাদের সবসময় দুইজন লাগে। একজন ছেলে একজন মেয়ে!

পত্রঃ এই মিথগুলো বন্ধ করতে কি করা দরকার আমাদের?

সমুদ্রঃ মানুষকে সচেতন করতে হবে। মিথগুলো যারা ধারণ করে তাদেরকে বুঝিয়ে বলতে হবে। আমাদের সমাজে আমরা এখনো বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে সচেতনতা ছড়াতে পারছি না তাই নিজেরা ব্যক্তি হিসেবে যতটুকু পারি, তাই করতে হবে।

পত্রঃ অবশ্যই। আমাদের নিজেদের মধ্যে যখন সচেতনতা ছড়াবে তখনই আমরা সবার মধ্যে সঠিকভাবে ছড়াতে পারবো। আচ্ছা, যখন তুমি কাউকে বল ‘আমি উভকামী’ তখন মানুষের প্রতিক্রিয়া কেমন হয়? কোন অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতা আছে? 

সমুদ্রঃ অনেকেই অদ্ভুত আচরণ করে। আমি সেটাকে স্বাভাবিক হিসেবেই নিয়েছি। একটা কমন রিঅ্যাকশন হল সে যদি মেয়ে হয় তাহলে ভেবে বসে আমি উভকামী বলে তার প্রতি রোমান্টিক আকর্ষণ আছে। এটা বেশ বিরক্তিকর! কিন্তু হেসে উড়িয়ে দেওয়া ছাড়া আর পথ নেই। যারা বোঝে না তাদের আমি ভালোভাবে বুঝিয়ে বলি। আর যারা অদ্ভুত আচরণ করে, তাদের আমি বলে দেই যে আমার অবস্থা, মানা না মানা তার ব্যাপার। কিন্তু তুমি আমাকে কিছু বলো না, আমিও কিছু বলবো না। নিজে বাঁচো এবং বাঁচতে দাও। 

পত্রঃ উভকামীরা সামনে আসতে চায় না কেন?

সমুদ্রঃ LGBT কমিউনিটির বেশীরভাগ মানুষই সামনে আসতে ভয় পায়। কারণ, উগ্রপন্থীদের দৌরাত্ম এতো বেশী যে, সম্মুখে আসা রীতিমত লাইফ রিস্ক। এছাড়াও উভকামীদের একটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তারা দুইদিক থেকেই জাজমেন্টের শিকার হয়। বিষমকামীরা উভকামীদের মানতে চায় না আবার সমকামীরা অনেক ক্ষেত্রে আপত্তি জানায়। কারণ তারা ভাবে, উভকামীরা শেষ পর্যন্ত বিপরীত লিঙ্গের সাথেই জীবন কাটাবে। তাই LGBT স্পেক্ট্রামে উভকামীদের বেশী সতর্ক থাকতে হয়। নিজেদের জায়গা অর্জন করতে বেশি সংগ্রাম করতে হয়।

পত্রঃ যাইহোক না কেন আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আচ্ছা তুমি কিভাবে পরিবর্তন আনতে চাও?

সমুদ্রঃ আমি ব্যক্তিগতভাবে ভিজুয়াল আর্ট, আমার পেইন্টিং এর মাধ্যমে এবং সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। 

পত্রঃ এভাবেই একই সঙ্গে আমরা চালিয়ে যাবো আমাদের সংগ্রাম। 

প্রথম প্রকাশঃ ঠাহর (প্রথম সংখ্যা)

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.