না বলা ভালোবাসা

রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন,”পঞ্চশরে দগ্ধ করে করেছ এ কী সন্ন্যাসী –

বিশ্বময় দিয়েছ তারে ছড়ায়ে।”

মাঝে মাঝে এটা মনে উঁকি মারে এই ভালোবাসা ব্যাপারটা না থাকলেই বোধহয় ভালো হত,গুমরে ওঠা মনের কথার জ্বালা সইতে নারি আর!!

উপলব্ধি করার শুরু যেদিন থেকে,সেদিন থেকেই ব্যাপারটা লক্ষ্য করি যে,মেয়েদের প্রতি আমার আকর্ষণ অন্য রকম।আর ভালোলাগার শুরু যে বয়স থেকে সেখানটাও জায়গা করে আছে যে,সেও একটা মেয়েই।

নিজের সম্পর্কে হালকা পাতলা কিছু বিবরণ দেওয়া যাক।

দেশের খুব নামকরা গার্লস স্কুল,কলেজেই আমার বিদ্যাশিক্ষার পাট চুকিয়ে ঢাকার অন্যতম সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের চৌকাঠে পা দিয়েছি ৩বছর হলো।

কিন্তু,সত্য হলো।আজ অবধি কাউকে মনের কথা গুলো বলতে পারলাম না।

বলতে পারলাম না,তোমাদের মত ভাবতে আমি পারিনা।

নীল শাড়ি পরা সেই মেয়েটা যে আজো চোখে আছে লেগে,হৃদয় বাতায়নে যার গন্ধ আসে ভেসে, বলতে পারিনি ভালোবাসি।

ষষ্ঠ শ্রেনীতে ছিলাম,সে ছিল অষ্টম শ্রেনীতে অধ্যয়নরতা।

সেই যে প্রেমের শুরু বিশ্ববিদ্যালয়ও শেষ হয়ে যাবে কিছুদিন পর,আজো বলিনি ভালোবাসি।

কারণ সবসময় সব কথা বলা হয় না, বলা যায় না।

পরিবার-সমাজ এসবের বাঁধার কথা বলে আর কি লাভ।এগুলো তো আমাদের জানাই আছে।

” তবে পরানে ভালোবাসা কেন গো দিলে

রূপ না দিলে যদি বিধি হে!

পূজার তরে হিয়া উঠে যে ব্যাকুলিয়া,

পূজিব তারে গিয়া কী দিয়ে! “

Source: BAH ( Bangladesh Against Homophobia )

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.