ভালোবাসা খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন এই ধোঁয়াসার জীবনে। হয়ত কেউ সমাজিক কারনে পেরে ওঠে না, কেউবা পেরে ওঠার আগেই হার মেনেছিল কেউ কেউ পরিবারের ইচ্ছার কাছে বিকিয়ে দেয় ভালবাসা। আমার কাছে তাই ভালবাসা হচ্ছে খড়ের গাঁদায় সুচ খোঁজার মত৷ পেলেও পাওয়া যেতে পারে। তবে না পাওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। বহুকাল ধরে খুঁজতে থাকা ভালবাসার সন্ধান মেলনি এখনো। হয়ত মিলবে। সে আশায় বাঁধি খেলাঘর বেদনার বালুচরে। জ্ঞানীগুণী জন বলে ভালবাসা খুঁজতে নেই। যে আসার সে এমনি আসবে। সমকামী হয়ে কিভাবে এটা মেনে নেই যে আসার সে এমনিই আসবে? আসলেও বা কি। সেকি আর যুদ্ধ করবে আমার সাথে? থাকবে আমার সাথে? হয় তার পরিবার পরাধীন করবে, না হয় সে আমার ভালোবাসা সস্তায় বিকাবে প্রতারণার কাছে। নয়ত প্রেমিকার বুকে শুয়ে প্রাক্তনের শরীরের ঘ্রান হাতরে বেড়াবে। এমনটা আমি বলছি না। এমন টাই তো হয়ে এসেছে। এ বাজারে ভালবাসাও বিকে যায়। সমাজ স্বীকৃত না বলে প্রতারণার কোন শাস্তি হয়না।

আবার অনেকেই ভালো আছেন। টোনাটুনির মত এক ঘরে নিজের মত সংসার করছেন। দেখতে বেশ লাগে। আবার কষ্ট হয়। ভাবি যে, কপালের ঠিক কোন অংশের দোষে আমি তা পাচ্ছি না যা ওনারা পাচ্ছেন। নিজের স্বপ্ন অন্যের জীবনে বাস্তব হতে দেখা বড় কষ্টের তা আমাকে যতই বলুন হিংসাপরায়ণ। হিংসা একটু হয় বৈকি৷

সমকামী হয়ে বেঁচে থাকা খুব কঠিন। মানুষ এ ভালবাসাকে অনিশ্চিত মনে করে৷ পড়াশুনা চলাকালীন কাউকে স্বপ্নে বেঁধে শেষে হাত পা ছেড়ে দিয়ে বলে, আমার পক্ষে তোমার সাথে সম্পর্ক রাখা সম্ভব না। আমি বাবা মায়ের কথা ফেলতে পারবনা৷ খুব জিজ্ঞেস করতে ইচ্ছা করে তাহলে প্রেমটা করার সময় তোমার মা বাবাকে জিজ্ঞেস কেন করোনি? করেও কি হবে? লাভ আছে কি তর্কাতর্কিতে? একবুক শান্তনা দিয়ে নিজেকে বুঝাই যা আমার না তা তো চলে যাবেই। আসলেই কি দোষ কপালের? নিজেকে অভিশপ্ত মনে হয়। না পারবো স্ট্রেইট জীবন যাপন করতে, না পারি একাকীত্বটাকে মেনে নিতে। মেয়ে হয়ে চিরকুমারী জীবনযাপনে পরিবারের আত্মীয় সজনদের কথা শোনা তো আছেই।

এ শহরে কেউ ভালবাসা পেয়ে ঠকাচ্ছে, কেউ ভালবাসা পেয়েও পাশে থাকতে পারছে না, কেউ বা ভালবাসার জন্য আজীবন অপেক্ষা করছে। আমি শেষের দলে। পরিবারের কাছে হার না মানলেও হার মেনে গেছি মানুষের অনিশ্চিত ভালোবাসার কাছে। ভেবে দেখলে তো আমাদের পুরো জীবনটাই অনিশ্চিত। সেখানে ভালোবাসার নিশ্চয়তার চাই কেমন করে? তবুও আমরা একটা গন্তব্য পৌঁছানোর জন্য চেষ্টা করে যাই। চাকরী করে কি হবে একদিন তো মরেই যাবো। কিন্তু যতদিন বেঁচে আছি ততদিন ভালো থাকতে চাই৷ একটা মানুষ চাই আমৃত্যু পর্যন্ত। হয়ত পাবো না। তবুও চাই। আশা সহজে মরে না। মৃত্যু সজ্জায়ের ব্যক্তিটিও বাঁচার আশা করে। আর আমিতো জলজ্যান্ত খেয়ে পরে বেঁচে থাকা মানুষ। প্রেমিকার ভালোবাসার স্বপ্নে বেঁচা থাকা একটা মানুষ। আদৌও কি কখনো পাবো সেই ভালবাসা? প্রেমিকার স্নিগ্ধ আদর আর আমার বহু বছরের স্বপ্নের পূর্নতা? পেলে অবশ্যই আপনাদের জানাবো।

লেখাটা বড় হয়ে গেল। ভাবতে বসলে আর থামাতে পারি না৷ বিরক্ত করলাম বোধয়। সবাই ভাল থাকবেন।

Source: BAH ( Bangladesh Against Homophobia)

mondroadmin Avatar

Posted by

Leave a comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.