একজন কোচ আদিবাসী এবং রুপান্তরিত নারীর আত্নকথা

আর্টিস্ট- রুহ

ভিবাল কোচ

সবাইকে জানাচ্ছি স্লামালিকুম ও নমস্কার। আমি ভিবাল কোচ (ছদ্মনাম)। ‘ভিবাল’ অর্থ ফুল। আমি ময়মনসিংহ বিভাগের একটি পাহাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহন করেছি, কোচ আদিবাসী,কিন্তু বর্মণ সম্প্রদায়। আমাদের এলাকায় কোচরা ছাড়াও আরো আদিবাসী বসবাস করে। গারো, হাজং (সংখ্যায় কম), মং আদিবাসীরা থাকে। আমাদের কোচরা ‘পুরুষতান্ত্রিক’; গারো, মং রা ‘মাতৃতান্ত্রিক’। আমি যে এলাকায় থাকতাম সেখানে কোচ পরিবার প্রায় ১৫০-১৬০টি।পুরো এলাকাটি ছিল কোচ অধ্যুষিত । গারোরা থাকতেন তাদের পাশেই, আর তিন থেকে চার মাইল দূরে বাঙ্গালী এলাকা। এছাড়া অন্যান্য এলাকাতেও কোচরা বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। আসলে আদিবাসী সম্প্রদায়ের জীবনটা খুবই কঠিন।কারণ একটি স্বাধীন দেশের নাগরিকরা যেসব সুযোগ সুবিধে ভোগ করে থাকেন, আমরা আদিবাসীরা তার ছিটেফোঁটাও পাইনা।তো এমন একটি পাহাড়ি এলাকায় একজন এলজিবিটি কম্যুনিটির সদস্য হিসাবে আমাকে পরিবার ও সমাজ হতে প্রচুর চ্যালেঞ্জ ও বাধার সম্মুখীন হতে হয়েছে নানান সময়।

আমাদের কোচ আদিবাসী সম্প্রদায়ের নিজস্ব একটি ভাষা আছে; যার নাম “কোচ ভাষা” । যদিও আমি এখন বিশুদ্ধ বাংলায় কথা বলতে পারছি,কারন আমার বেড়ে ওঠায় যেসব বন্ধুর অনুষঙ্গ পেয়েছি তাদের অধিকাংশই ছিলো বাঙ্গালী। আমি যদি আপনাদের সাথে আমার ভাষায় কথা বলি,তবে আমি নিশ্চিত আপনারা তার একটি শব্দও বুঝতে পারবেন না ।সবথেকে দুঃখের ব্যাপার কি জানেন, আমাদের ভাষাটি এখন অনেকটাই বিলুপ্ত। আমরা যারা একসাথে বসবাস করি তারা এই ভাষাটা ব্যবহার করি। কিন্তু বাহিরে চলতে-ফিরতে তো বাংলা ভাষায় কথা বলতে হয়, তাই বাংলা বাধ্য হয়েই জানতেই হয়।

আমাদের নিজস্ব একটা সংস্কৃতি,সামাজিক নিয়মনীতি আছে। আমার পূর্ব পুরুষেরা বিভিন্ন রকম পাহাড়ে জংগলে বসবাস করত, তারা আমাদের এলাকাতে জুম চাষ করে আখ, ধান, কলা ,আনারস ফসল ফলিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত । আমাদের অনেকে বেত-বাঁশ দিয়ে বিভিন্ন রকম চাটাই তৈরি করে সেগুলি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করেন। আমার জীবনটা বাংলাদেশের বেশিরভাগ মানুষের চেয়ে আলাদা। কারন আমি পাহাড়ে বড় হইছি,বিভিন্ন রকম পশু পাখি দেখে, পাহাড়ে চলা ফিরা করে,বিভিন্নরকম কাজ-কর্ম করে। সেজন্য হয়ত আমার দৃষ্টিভঙ্গি আপানদের থেকে ভিন্ন হতে পারে।

আমাদের পোশাকআশাকের সংস্কৃতিটাও আলাদা । হয়ত এখন বাঙ্গালীদের সাথে চলতে চলতে আমাদের পোশাকটা বাঙ্গালীর মত ব্যবহার করে চলতে হয় বা হচ্ছে ।কিন্তু আমাদের জাতিগত ভাবে পোশাকের ধরনটা একটু আলাদা। গ্রীষ্মের মধ্যে আমরা ‘থামি’ নামের একধরণের পোশাক ব্যবহার করি।গারোদের মতই থামি, কিন্তু আমাদের নকশা গুলি, কাজ গুলি একটু আলাদা। যারা পুরুষ তারা কিন্তু এখনো ধুতি আর সাদা এক ধরনের শ্যালো কাপড় ব্যবহার করত।শ্যালো কাপড় হল এক কালারের সাদা রঙের ধুতি।কেউ কেউ থামিও ব্যবহার করত, এখন পুরুষরা থামির মত কাপড় দিয়ে বিভিন্ন রকম শার্ট, গেঞ্জি, টি-শার্টের মত তৈরি করে নিত । তবে আদিবাসীরা আগে এমন পোশাক ব্যবহার করতো না, বর্তমানে বাঙালীদের মিশেলে এমন পরিবর্তন হয়ে গেছে।

আমাদের কোচ আদিবাসীদের অধিকাংশই হিন্দু ধর্মাবলম্বী। পাশাপাশি অনেকেই আছেন,যারা খিস্ট্রান। যদিও ইদানীংকালে দু,একজন রূপান্তরিত হয়ে মুসলিম হয়েছেন।আমি যেই স্কুলে পড়াশুনা করেছি সেটা ছিল খিস্ট্রানদের দ্বারা পরিচালিত। আমার স্কুলে গারো, হাজং, মং আর বাঙালী দের সাথে আমি একসাথে পড়াশুনা করেছি।

ট্রান্স-উইমেনদের মধ্যে জন্মগত ভাবেই হরমোনের একটা প্রভাব আছে। আমি যখন ক্লাস ওয়ান অথবা টু তে পড়ি। আমার ক্লাসমেট যারা ছিল,তারাই কিন্তু আমাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিত যে, আমার চাল চলন ,আমার হাঁটা-চলা , আমার কথা-বার্তার প্রকাশভঙ্গী সব কিছুতেই যেন ভিন্নতার ছাপ। আমার ঠিক মনে আছে ; আমি যখন ক্লাস ফাইভে, তখন থেকেই একটু একটু করে আমার নিজের মধ্যকার ভিন্নতা ও আমাকে নিয়ে অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি বুঝতে শুরু করি। যখন আমি ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি, তখন আমি নিজেও অনুভব করতে পারতাম, সত্যি তো আমি একটু আলাদা। আমার ভাবতে ভাল লাগত যে, আমি জন্মিয়েছি ছেলে হিসাবে কিন্তু আমার মধ্যে ছেলেদের মত পরিবর্তন হচ্ছে না, পরিবর্তন হচ্ছে মেয়েদের মত। আমার মনটাও যেন মেয়েদের মত । যে সময় আমার একটা মেয়েকে ভাল লাগার কথা, সে সময় আমার একটা ছেলেকে ভাল লাগে। আমার মেয়েদের সাথে বন্ধু হিসেবে খেলতে ভাল লাগত, কিন্তু তাকে একজন জীবন সঙ্গিনী হিসাবে কিংবা তার সাথে সেক্সুয়াল রিলেশন করতে আমার মন মোটেই সায় দিত না। আমার ভাল লাগত একটা ছেলেকে ,আমার ভাল লাগত একটা ছেলের সাথে সেক্সুয়াল রিলেশন করতে ,তার সাথে বন্ধুত্ব করতে কিংবা তার কাছে যেতে। ভাল ছেলে দেখলে মনে হত , ঈশ ছেলেটা কত সুন্দর! তার সাথে যদি কথা বলতে পারতাম! তার সাথে যদি সম্পর্ক করতে পারতাম, প্রেম করতে পারতাম। দিন দিন এমন মানসিকতা নিয়ে বেড়ে উঠছিলাম যে,আমার মনে হত আমি ছেলে নই! তবে আমি কখনো কোনো মানুষকেই পোশাক দিয়ে বিবেচনা করিনি যে, তিনি মেয়ে হবেন নাকি ছেলে হবেন। এখন তো মেয়েদের পোশাকও ছেলেরা পরেন আবার ছেলেদের পোশাকও মেয়েরা পরেন।

আমি ছোট থেকে নাচ খুবই পছন্দ করতাম। আমার একজন ম্যাম ছিল ,সেখানে আমার মত আরও দু-একজনের সাথে পরিচয় হয়। নাচের স্কুলে ভর্তি হই ক্লাস ফোর অথবা ফাইভে। ঐ সময়ে আমি বুঝতে পারতাম আমার ছেলেদের ভাল লাগত। আমি যখন ক্লাস ফাইভে পড়তাম তখন একজনকে পছন্দ করতাম কিন্তু বুঝতাম না। কিন্তু আমি যখন ক্লাস এইটে পড়ি তখন আমার এক চাচাতো ভাই লাগে দুঃসম্পর্কের, তার সাথে আমার একটা ভাল বন্ডিং হয় ,মানে রিলেশনের মত। সে ও আমার কোচ সম্প্রদায়ের। ও আমাকে ছাড়া কিছু বুঝত না, আমিও ওকে ছাড়া কিছুই বুঝতাম না। এটাই আমার প্রথম প্রেম,একজন ছেলের প্রতি আমার তীব্র আবেগের বহিঃপ্রকাশ।

এসবের মাঝেই আমি একসময় আমার স্কুলেই একজন দু’জনকে আবিষ্কার করলাম, যারা আমার মতন। তাদের সঙ্গে মিশতে গিয়েই বুঝতে পারলাম যে,আমার মত আরো অনেকেই এ পৃথিবীতে আছেন।আমি আর দশজনের থেকে আলাদা হলেও, মোটেও একা নই! তো আমাকে অন্য সবার মত বাঁচতে হবে।লড়াই করেই হোক কিংবা যুদ্ধ করে।যেভাবেই হোক আমাকে টিকে থাকতে হবে।

আগেই বলেছি যে, ছোটবেলা থেকেই আমি আলাদা ছিলাম। আমার বন্ধুবান্ধব, আশেপাশে সবাই আমাকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিত, এই ছেলেটা একটু আলাদা। মেয়েরা বলত, তুই তো আমাদের মত না, ছেলেরা বলত তুই তো আমাদের মত না। তাহলে বলেন আমি কোন দিকে যাব? এই দ্বিধা-দ্বন্দ্বের মাঝেই আমার ছোট থেকে বড় হওয়া। মেয়েলি হবার সাথে কোচ আদিবাসী হওয়াতে রাস্তাঘাটে চলাফেরা করতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন জায়গাতে বঞ্চনা-লাঞ্ছনা আর হয়রানির সম্মুখীন হতে হত। আমার কোচ এলাকায় সবাই পরিচিত ছিল দেখে বেশি অবহেলা না করলেও কিছুটা তো করতোই । স্কুলে গেলে স্যাররা বাজে কথা বলতেন। আমার বন্ধুবান্ধবরা হাফলেডিস, খাস বাংলায় মাইজ্ঞা বলত, হিজড়া বলে ডাকত। বিভিন্ন খারাপ ভাষা দিয়ে আমাকে উত্ত্যক্ত করতেন। আমার মনে হত যে আমি তো আসলেই আলাদা। একসময় আমি ভাবতাম আমার এ জীবনটা বোধ হয় কোনো জীবনই নয়, তো কি লাভ এই জীবন রেখে? তখন বিভিন্ন রকম হতাশায় ভুগতাম। মাঝে মাঝে ভাবতাম হয়ত আমার আত্মহত্যা করাটাই শ্রেয়। একসময়, নিজেই নিজের অস্তিত্বকে ঘৃণা করতে লাগলাম। এ জীবনটাকে তখন তুচ্ছ বলে মনে হত।

তো এসবের মাঝেই আমি একসময় আমার স্কুলেই একজন দু’জনকে আবিষ্কার করলাম, যারা আমার মতন। তাদের সঙ্গে মিশতে গিয়েই বুঝতে পারলাম যে,আমার মত আরো অনেকেই এ পৃথিবীতে আছেন।আমি আর দশজনের থেকে আলাদা হলেও, মোটেও একা নই! তো আমাকে অন্য সবার মত বাঁচতে হবে।লড়াই করেই হোক কিংবা যুদ্ধ করে।যেভাবেই হোক আমাকে টিকে থাকতে হবে। এক্ষেত্রে আমি প্রচুর পরিশ্রম করেছি নিজেকে শিক্ষিত করার জন্য । গ্রামে তেমন কোনো ভালো কলেজ ছিলো না।

তো এস.এস.সি (S.S.C) এর পরে আমার মামা ও মা দু’জনে পরামর্শ করে, আমাকে ময়মনসিংহ শহরের একটি কলেজে ভর্তি করালেন। সেখানে দেখলাম, আমার মত আরও অনেকেই আছেন। তাদের সাথে চলাফেরা করে বুঝতে পারলাম ,আমরাও চাইলে সমাজের আর সব মানুষের মত চলতে পারি, ভাল কাজে অংশগ্রহণ করতে পারি। আমার মধ্যে সে সময় একটি জেদ কাজ করল যে, আমাকে কিছু করতে হবে। এই সমাজে টিকে থাকতে হলে আমাকেও আয়-রোজগারের একটা ব্যবস্থা করতে হবে। ভাল কোন জায়গাতে প্রতিষ্ঠিত হতে হবে যেন আমার এলজিবিটি কম্যুনিটিকে নেগেটিভ ভাবে কেউ না দেখে। আমি যেন আমার কম্যুনিটিতে থেকে ভাল কিছু করতে পারি, সেই প্রচেষ্টায় আমি আজ মাস্টার্সে পড়াশুনা করছি।

আমার পরিবারের আর্থিক অবস্থা ছিলো নাজুক। তাই নিজে নাচ করে, টিউশনি করে, বিভিন্ন রকম হাতের কাজ করে ,পার্লারে কোর্স করে বিভিন্ন কাজ শিখে আবার সেখানে কাজ করে বিভিন্ন রকম ভাবে নিজের খরচ চালিয়েছি।

ও হ্যাঁ আমি কিন্তু ময়মনসিংহ শহরে, আমার হিজড়া বোনদের কম্যুনিটীতেই থাকতাম। কিন্তু অন্যান্যদের মত হিজড়া কালচার করতাম না। তবে আমি আমার হিজড়ে কম্যুনিটির সংস্কৃতিকেও অনেক শ্রদ্ধা করি, সম্মান করি। আমার অনেক বোনরা এসব করেই তাদের জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছেন । আমার সেটা করা হয় নাই, কারণ আমি পড়াশুনা করেছিলাম।আমার অন্যান্য কাজ করার একটা সুযোগ ছিল বলেই ওইদিকে যাওয়া হয়নি। আর হ্যাঁ, নাচটা আমাকে সব সময় সাহায্য করত, তার পাশাপাশি পার্লারে বিভিন্ন রকম অনুষ্ঠানে সাজগোজের কাজ করতাম। এভাবে আমার পড়াশুনা খরচ, হাত খরচ কোনো রকমে চলে যেত।পরে আমি ময়মনসিংহে একটা এন.জি.ওতে একজন কর্মী হিসেবে টানা চার বছর চাকরি করি।

এভাবেই আমার শিক্ষা-জীবনের পুরো সময়টাই কেটেছে এই ময়মনসিংহ শহরেই। এরপর পড়াশুনার পর্ব চুকিয়েই ঢাকায় এলাম একটি চাকরির খোঁজে। একসময় ঢাকায় এসে গুলশানে একটা বায়িং হাউজে, এসিস্ট্যান্ট মার্চেন্ডাইজার হিসাবে আছি। আমি নিজেকে এখন মোটামুটি গুছিয়ে নিয়েছি। একটা সুন্দর জব করছি। আমার অফিসে যিনি ম্যাম আছেন, উনি ইউরোপে থাকে।আমার ম্যামও এলজিবিটি কম্যুনিটির এবং উনি খুবই আন্তরিক। তিনি প্রতিটা মুহূর্তে আমার পাশে থেকে সাহায্য করেন। কিভাবে একজন উদ্যোক্তা হতে হবে, মার্চেন্ডাইজার হতে যেয়ে যে সব কাজ শিখতে হবে যেমন ইংলিশে স্পিকিংয়ে আমার ভালো দখল থাকতে হবে ইত্যাদি নানান বিষয়ে তিনি আমাকে পরামর্শ দেন। এখানে মাসিক একটা ভাল বেতন পাচ্ছি, সেটা নিয়ে আমি ঢাকাতে ভালই আছি। এটাও সম্ভব হত না, যদিনা আমার সেই ময়মনসিংহের এনজিওটি সুপারিশ করত। তারা দেখেছে এখানে ট্রান্সজেন্ডার কম্যুনিটির কাউকে নিয়োগ দেবে কিনা, আমি এখানে সিভি জমা দিলাম সেভাবে আমার জবটা পাওয়া। তার পাশাপাশি আমার স্টাডিটাও চালিয়ে যাচ্ছি, মিডিয়াতে কাজ করছি আর নৃত্য শিল্পী হিসাবে কাজ করছি।

আমি বিভিন্ন রকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও আজ আমি এখানে এসেছি, আমার ইচ্ছে আছে আমি এলজিবিটি কম্যুনিটি নিয়ে কাজ করব। একটা ভাল পার্লার দেব। এখনো মাঝে মাঝে কাজ করি পার্লারে। এই প্রতিভাটা আমার ছোট বেলা থেকে ছিল।

তবে দুঃখের বিষয়, আমার পরিবারের সমর্থন সব সময়ই কম ছিল। আমাকে তখন কেউ যে মানসিক ভাবে সাহস দেবে মা ব্যতীত তেমন কেউই ছিল না। ভাইয়া, বাবা, আশেপাশের যারা ছিলেন, তারা প্রতিটা মুহূর্তে আমাকে মানসিক ভাবে পীড়া দিতেন। তবে আমার পরিবারের চেয়ে আমার সমাজ বেশি সমস্যা করত। তুমি এমন কেন, তুমি মেয়েদের মত সাজো কেন? তুমি শাড়ি, চুড়ি পড়ো কেন ? তুমি লিপস্টিক দাও কেন ? এমন বিভিন্ন কথা বলে প্রতিটা মুহূর্তে আমাকে মানসিকভাবে অত্যাচার করত।

ফ্যামিলিতে আমার মা ছিল, আমার সহায় হিসেবে। মা তো বুঝতে পারে তার সন্তান কেমন। কিন্তু আমার বাবা, ভাই তারাও আন্তরিক ছিলেন ,কিন্তু ছোট বেলায় তারা ভাবত যে আমার সন্তান নাচ করে, তাই একটু আলাদা। আমার ফ্যামিলিতে আমি আর আমার বড় ভাই। আমার কোন বোন ছিল না। ছোট থেকে আমাকে মেয়ের মত করেই তারা বড় করছেন।বিশেষ করে, আমার বাবার টেইলার্সের দোকান ছিল। আমাকে মেয়েদের ড্রেস বানিয়ে দিতেন, আম্মু আমাকে সাজিয়ে দিতেন, আমিও তখন সে সবে সায় দিতাম, পছন্দ করতাম। আমিও সেজেগুজে পুরো এলাকা ঘুরতাম । নাচ করতে যেতাম। আমার ফ্যামিলি তখনও নেগেটিভ ছিল না, কিন্তু বর্তমানে তারা এখন নানান বিষয়ে আপত্তি জানায়,রাজ্যের ক্ষোভ ঝারে আমার উপরে বিশেষ করে ,আমার ভাই, ও বেশি অবহেলা করে। আমাকে ফোন দিয়ে বেশ মানসিক ভাবে পীড়া দেয়।আমি কেন চুল বড় করি ,আমি কেন এই কম্যুনিটির সাথে থাকি , আমি কেন মেয়েদের মত পোশাক পড়ি, আমি কেন ছেলেদের মত থাকার চেষ্টা করি না, মানুষ এতে খারাপ বলে। কিন্তু আমি ছেলেদের মত কিভাবে থাকব? আমি নিজের মত করে বাঁচতে চাই।মাঝে মাঝে আমার মা বাবা ঢাকায় এসে আমাকে দেখে যায়।

আমি ঢাকায় যে এলাকায় থাকি সে এলাকায় অনেকেই আমাকে মেয়ে হিসাবে চিনে। আমাকে অনেকে আপু ডাকে । আমি যে ট্রান্সজেন্ডার অনেকে সেটাও জানে না, অনেকে জানে আমি মেয়ে। গ্রামের কোচ এলাকায় জানে যে আমি ছেলে কিন্তু আমি একটু আলাদা। সবচে বড় সমস্যা হল, আমার গ্রামটা পাহাড়ি এলাকায়, সেখানে শিক্ষার হার কম। সেখানে ট্রান্সজেন্ডার কি এটাই জানে না।তারা ট্রান্সজেন্ডার মানে এটাই জানে যে তারা হিজড়া এবং তারা হিজড়া কালচার করে। গ্রামে একটা ছেলে চুল বড় করলে তাকে তুচ্ছার্থে হিজড়া,মাইজ্ঞা কটু শব্দ হিসাবে শুনতে হয়। এখন আমার গ্রামে গেলে প্রচুর সমস্যাতে পড়তে হয়। গ্রামে গেলে আমার নিজেরি ভয় লাগে যে আমার মা বাবাকে কে কখন খারাপ কিছু বলে। এই ভয়ে আমার গ্রামে আমি যেতে পারি না। বছরে একবার যাই, গিয়ে একরাত দুরাত থেকে চলে আসি । থাকতে মন চায়, বাবা মা র কাছে থাকতে কার না মন চায়। কিন্তু আমি আমার বাবা মায়ের মান সম্মানের ভয়ে বাসায় থাকি না। আমি কাউকে কক্ষনো বলি না এটা, যে কেন আমি গ্রামে গিয়ে থাকতে চাই না, মা বাবার কাছে কেন গিয়ে থাকতে চাই না। গ্রামে এক দিন থাকব, দু দিন থাকব, তিন দিনের দিন আশেপাশের কেউ বলে ফেলল ,আল্লা অমুকের সন্তান মাইজ্ঞা, এখন তো একদম হিজড়া হয়ে গেছে, এমন নানান কথা। শহরে আমার ব্যাপারে জানলেও আমাকে অনেকে সামনা সামনি বলে না। কিন্তু গ্রামে সরাসরি বলে ফেলে যে তুই তো হিজড়া হয়ে গেছছ। এটা চুপ করে মেনে নেয়াটা খুবই কঠিন।

ইদানীং আমার বড় ভাই অনেক সমস্যা করছে আমার বাবা মায়ের সাথে। তার অভিযোগ আমি এরকম কেন হয়ে গেছি। কেন এরকম মেয়েদের মত থাকি, কেন আমার মেয়েদের মত গেটাপ, চুল, সবকিছুই মেয়েদের মত কেন? প্রায় আমার বাবা মায়ের সাথে ভাইয়ার ঝগড়া লাগে। আমার বাবা মা জানে তার সন্তান কি রকম। তারা বুঝে এখন আমাকে তো বলেও লাভ নেই ।এখন চাইলেও কি তারা আমাকে পরিপূর্ণ ছেলে বানাতে পারবে? আমার জন্ম হতে আমি কেমন এটা তো তারা জানে। আমি কিভাবে এখন নিজের মত আছি তারা তো সেটা বুঝে। এটা কোন দিন সম্ভব না একটা মেয়েকে বিয়ে করে সংসার করা। আর আমি তো স্বাবলম্বী ,সেটার জন্য আমার মা বাবা এখনো মানসিক টর্চার করে না। আগের মত আমার ভাই ও আমাকে এত জোর করতে পারে না। তারপরও লজ্জার কথা যে, আমার ভাইয়া সুযোগ পেলেই অনেক কিছু বলে, তুই এমন করলে তোর জমি কেড়ে নেব। তুমি গ্রামে এসে ছেলেদের মত থাক, বিয়ে কর। তার মধ্যে এই বিষয়ে জ্ঞান নেই, যার কারনে মনে করে যে আমার এমন হওয়া কিভাবে সম্ভব। আমার ভাই ভাবে যে, আমার চুল কাটালে, বিয়ে করালে, ছেলের মত রাখলে আমি ছেলে হয়ে যাব। সে বোঝার চেষ্টা করে না, এটা কোন রোগ না, এটা স্রষ্টা প্রদত্ত। সে তো বলেই, আবার ভাবিকে দিয়ে বলায়। তবে ভাবি খুবই পজিটিভ একজন মানুষ, খুবই ভাল। মা বাবা ভাবি তিন জনই ভাল, শুধু আমার ভাইয়াটা সমস্যা। তবে আমার সাথে হাতাহাতি মারামারি ওরকম কিছু করেনি, শুধু এরকম মানসিক ভাবে টর্চার করে আমাকে আর বাবা মা কে। এটাই আমার সমস্যা ফ্যামিলিতে, কিন্তু আমার ফ্যামিলিতে এমনিতে কোন সমস্যা নেই।

আমি ঢাকায় থাকি, ফোনে আমাকে না পেয়ে কিছু বলতে না পারলে তখন আমার বাবা মাকে বকা দেয়। এর মাঝে এক দিন আমাকে নিয়ে ঝগড়ার মাঝে ভাইয়া বাবাকে বলছে যে তাদের বিষ খাওয়ায়ে মেরে ফেলবে কারন আমাকে কেন শাসন করে না। আব্বা তখন নিজে বিষ খেয়ে ৪-৫ দিন হাসপাতালে ছিল। ভাইয়া কোন দেখভাল করে নি।, আমি নিজে ঢাকা থেকে গিয়ে হাসপাতালে থেকে আব্বার দেখাশোনা দেখেছি। আমি এখন আমার বাবা মাকে একটা মাসিক টাকা দিচ্ছি। আমি আমার বাবা মাকে বলেছি যে তোমাদের যদি কোন সমস্যা হয় তবে চলে আসো ঢাকায়, ঢাকায় আমি তোমাদের রাখব। তোমরা যত দিন পারো মৃত্যুর আগে পর্যন্ত আমার কাছে থাকবা। কিন্তু আমার বাবা মা ঢাকায় আসে না, কারণ তাদের গ্রামে আত্মীয় আছে দুজন। তাদের ছাড়া থাকতে পারে না, তাদের প্রতি ভালবাসা আর তাদেরকে দিয়ে সময় কাটে এই জন্য তার গ্রামে থাকেন।

ফ্যামিলিতে যতটা না তার চেয়ে আমার সমাজ অনেক বেশি মানসিক টর্চার করে। অনেক বাজে কথা বলে আমার বাবা মাকে। সেজন্য গ্রামে আমার যাওয়া হয় না। আমি কিন্তু ময়মনসিংহে গত ১০ বছর ছিলাম। ওখান থেকেও যাওয়া আসা করতাম খুব কম।

এই সমস্যা গুলি বাদে, আমি এখন খুবই সুখী। ঢাকায় একজন মানুষের চলতে গেল একটা ভাল পরিমাণের টাকার দরকার। সে টাকা ছাড়া কিন্তু থাকা সম্ভব না। আমার চাকরি আছে, সে টাকায় আমি নিজের খরচ বহন করতে পারছি। আমি আমার হিজড়া কমিউনিটিতে মিশলেও সেই কালচারটা করি না। সেই কালচারটা করলেও হয়ত সেরকম অভাব হত না। আমার বোনরা যারা করে তারা তারা ভালই আছে।

আমি ট্রান্সউইমেন। ট্রান্সজেন্ডার ও হিজড়া কমিউনিটির মধ্যেও রেষারেষি হয়। হাতের দশ আঙ্গুল সমান হয় না। এখানে অনেক ট্রান্সউইমেন বড় পজিশনে গেলে অন্যদের সাহায্য করে না। নিজের লাভের জন্য সব কিছু করে। বাকি ট্রান্সউইমেনদের হেনস্তা করে। আমি একটি সংগঠনের হয়ে নাচ করতাম। কেন অন্য সংগঠনে নাচ করতে গেছি সে জন্য আমাকে জিম্মি করে মারধোর করেছিল প্রচুর। আমার নামে অনেক বাজে কথা বলে মানসম্মান হেয় করার চেষ্টা করেছিল। হাসপাতালে ভর্তি ছিলাম সাত দিন, আর বিছানাতে বিশ্রামে ছিলাম এক মাস। এরপরে আমি তাদের বিরুদ্ধে কেস করি, মামলা হয় । পরে আমি ক্ষতিপূরণ পাই।

আমাদের কমিউনিটিতে যারা ট্রান্স-উইমেন আছে তারা বেশিরভাগ হিজড়া কালচার করে। যারা করে না এই সংখ্যা টা খুব কম,মানে শিক্ষিত যারা তারা কেবল করে না। তারা পড়াশুনা করেছে চাকরি করছে, বিজনেস করছে, তবে এটা খুবই কম। আমিও বিভিন্ন সাক্ষাৎকারেও বলেছি যে আমাদের কমিউনিটিকে যদি সুযোগ দেয়া হয়, তবে অনেকেই হিজড়া কালচার করবে না। অনেকেই এই কালচার থেকে বেরিয়ে আসছে। অনেকে আমাকে দেখে অনুরোধ করে কাজ দেবার জন্য। আমি নিজেও একটা বায়িং হাউজে জব করছি, শুধু যে আমি মারচেন্ডাইজার হিসাবে কাজ করছি সেটাই না ,এখানে আমার দুটা প্রজেক্ট আছে যারা এলজিবিটীকিউ নিয়ে কাজ করে।

এই যে আমাদের ম্যাম উনি আমাদের এলজিবিটী কমিউনিটির। আমাদের ইউরোপের মালিকরা এখানে বিভিন্ন কারখানাতে ট্রান্সউইমেনদের চাকরি দিচ্ছে। ম্যাডামের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা হল, একটা বাংলাদেশে গার্মেন্টস দিবেন ,সেখানে শুধু মাত্র আমাদের এলজিবিটীকিউ কমিউনিটিরাই কাজ করবে। এজন্য উনার একটা বড় প্লান আছে। আমাদের জন্য সুখবর এটা।

আমার বর্তমান কাজের জায়গাতেও আমি সহ আমার বন্ধুও এপ্লাই করেছিল। এই চাকরিতে ট্রান্সউইমেন যারা শাড়ি চুড়ি পড়ে তাদের জন্য অগ্রাধিকার দেয় সিসজেন্ডার গেদের তুলনায়, আমাকে তাই এখানে চাকরির সুযোগ দেয়। আমার ম্যাডামের যে ভবিষ্যৎ উদ্যোগ সেখানে উনি সবাইকে চাকরি দিবেন। সে গে ,লেসবিয়ান, ট্রান্সজেন্ডার যাই হোক না কেন। আমাদের ইতিমধ্যে কাজ শুরু হয়ে গেছে।আমাদের সোশাল মিডিয়াতেও উপস্থিতি আছে।

আমি সর্বশেষ আমার এলজিবিটিকিউ কমিউনিটির জন্য এটাই বলতে চাই যে, আমি যে প্রতিষ্ঠানে কাজ করছি, এসব প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে একটা শিক্ষাগত যোগ্যতা লাগে। তো আমি আমার কমিউনিটিকে এসব প্রতিষ্ঠানে যেভাবে হোক জবের ক্ষেত্রে সাহায্য করতে চাই। ভবিষ্যতে যত সুযোগ সুবিধা আসুক আমি আমার কমিউনিটিকে সুযোগ দেব। আরেকটা পরিকল্পনা ,আমি একটা পার্লার দেব আমার কমিউনিটিকে নিয়ে, সেই পার্লারে তারা নিজেরা কাজ করবে। আরেকটা ইচ্ছা, কমিউনিটির জন্য নাচের একাডেমী দেব যেহেতু আমি নাচ নিয়ে আগে অনেক কাজ করেছি। আর যারা হেটেরোসেক্সুয়াল সিসজেন্ডার যারা আমাদের পাশে দাড়াতে চায় এবং আমাদের সাপোর্ট করতে চায় ভাই বোন বন্ধু হিসাবে তাদেরকেও নেব।

যদি স্রষ্টা আমাকে সেই অর্থ সম্পদ শক্তি দেয় কোন দিন, তাহলে আমার নিজের আদিবাসী গ্রামের এলাকাতে যেখানে শিক্ষার হার কম, এলজিবিটিকিউ মানে কি কিছুই বুঝে না সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান করব। সেখানে অনেক মানুষ গরিব নুন আনতে পান্তা ফুরায়, দিন আনে দিন খায় তাদের নুন্যতম এসএসসি পর্যন্ত শিক্ষার জন্য স্কুল দেব। সেখানে অন্যরাও পড়বে তবে এটা করব মূলত আদিবাসীদের জন্য। কারণ পাহাড়ে তারা খুবই কষ্ট আছে ,সেখানে শিক্ষার সুযোগ পাওয়া যায় না। তাদের কর্মসংস্থান নেই । তাদের খাদ্য বস্ত্র নিয়েও বিভিন্ন রকম সমস্যা। এজন্য আমার ইচ্ছা আছে স্কুল কলেজ করবার। শিক্ষিত জাতি হিসাবে যদি আমার কোচ জাঁতির মানুষরা গড়ে উঠতে পারে তাহলে তারা যে কোন কাজ করা সুযোগ পাবে, নিজের জীবন চালাতে পারবে।

খুব কষ্ট করে আজ এ পর্যন্ত এসেছি। কিছু মানুষ আছে যারা আমাকে সাহায্য করেছে। কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করি আমার এনজিওকে, যেখানে আমি কাজ করেছি। আমাকে প্রচুর আশ্বাস দিয়েছে যে এই কমিউনিটির মানুষ হয়েও আমি কিছু করতে পারব। আমি যে এখানে এসেছি তার জন্য বিশেষ অবদান তাদের।

নাচ নিয়ে যদি বলি, আমি সত্যিই অন্তরের অন্তঃস্থল থেকে নাচকে ভালোবাসি এবং একটি সময় ছিল যখন আমার পাশে কেউ ছিল না তখন নাচ আমাকে দিয়েছে সম্মান এবং নিজের জীবনকে পরিচালনা করার জন্য অর্থ দিয়েছে । এক সময় ভাবতাম আমার জীবনটা হয়তো জীবন না, জানিনা কিভাবে নিজেকে পরিচালনা করব। আদিবাসী সমাজে জন্ম আমার তারপর আবার হিজরা কমিউনিটিতে থেকেছি। অনেক কষ্ট করে এসএসসি, ইন্টার, অনার্স পাশ করে এখন মাস্টার্স করেছি। সাথে একটি এনজিওতে পাঁচ বছর জব করে নিজে স্বাবলম্বী হয়েছি এখন একটি বাইং হাউস এ কর্মরত আছি। আমি একটি ময়মনসিংহে স্কুলে নাচের শিক্ষিকা হিসেবে পাঁচ বছর কর্মরত ছিলাম। এছাড়া আমার জেলার শহরে আমার একটি একাডেমী আছে। আমি ময়মনসিংহ শহরে আমার কমিউনিটির মানুষেরদের নিয়ে একটি সংগঠনে নাচের শিক্ষিকা হিসেবে ছিলাম। বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেছি। এছাড়াও আমি ময়মনসিংহ শিল্পকলা থেকে চার বছরের কোর্স কমপ্লিট করে আমার গুরুর মাধ্যমে দেশে বিদেশে নাচ এবং নৃত্য নাট্য করেছি। এরপর টিভি চ্যানেলে নাচের অনুষ্ঠান করেছি। এছাড়াও আমি বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে অনেকবার পুরস্কৃত হয়েছি। নাচ করে আমি বুঝতে পেরেছি যে শিল্পীর কতটা সম্মান। সে যেই কমিউনিটির হোক না কেন সত্যিকারের প্রতিভা থাকলে সকলেই তাকে গ্রহণ করে। আমি চাই ভবিষ্যতেও নাচের মাধ্যমে আমার কমিউনিটিকে উপস্থাপন করতে এবং নিজেদের প্রতিভা প্রকাশ করতে। আমার নাচের অবস্থানের জন্য জন্য আমি সর্বদাই আমার নাচের আপু কে ধন্যবাদ জানাবো, আমাকে এত সুন্দর সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। সকলের কাছে এই প্রার্থনাই করি যে আমাদের কমিউনিটিকে সহানুভূতি নয় একটু ভালোবাসা দেন এবং আপনাদের নিজের ভাই বোন মনে করে কাছে টেনে নেন। আমরা তো সমাজের মানুষ আপনার এবং আপনার আশেপাশে কোন পরিবারের সন্তান।

মৌখিক গল্প হতে লিখিত প্রতিলিপি করেছেন- ফ্লিন রাইডার

লুডুঙ- আদিবাসী কুইয়ার ঝুলি,আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষ্যে আদিবাসী লিঙ্গ ও যৌন বৈচিত্র্যময় মানুষের লেখা নিয়ে বিশেষ সংকলন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.