অনুভূতি

এমডি ইসলাম

( এই গল্পের কাহিনী আমার জীবনে ঘটে যাওয়া অংশবিশেষ। গল্পের সময়কাল ২০০৭ সাল।)

– আজ যেভাবে বৃষ্টি ঝড়ছে তাতেতো মনে হয়না বাড়ি ফিরতে পারবো, কি বলেন এমডি সাহেব?

– ঠিকি বলেছেন সফিক সাহেব। মনে হচ্ছে আকাশ ফুটো হয়ে গেছে। সেই দুপুর থেকে ঝড়ছেতো ঝড়েই যাচ্ছে। ঢাকা শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থার কথা মনে পড়লেই বৃষ্টিকে অসহ্য মনে হয়। দেখেন অবস্থা! হাঁটু পর্যন্ত পানি জমে গেছে। মহাখালীর মত জায়গার যদি এই অবস্থা হয় তাহলে আমি শাহজাহানপুরে যাব কি করে? আমাকে যে শান্তিনগর পারি দিয়েই যেতে হবে। এতক্ষণে মনে হয় নদী হয়ে গেছে। সেই নোংরা পানির কথা মনে হলেই গা গুলিয়ে উঠে। সিএন্ডজি ওয়ালারাও এই সুযোগে মিটার বাদ দিয়ে কয়েকগুণ ভাড়া হাকিয়ে নিবে।

– চলেন বসে না থেকে বাসার উদ্দেশ্যে বের হই।

– ঠিকি বলেছেন। চলেন যাওয়া যাক।

দিনটি ছিল ২০০৭ সালের আগস্ট মাসের তৃতীয় বৃহস্পতিবার। আমি সে সময়ে একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকুরী করি। অফিস সময় ১০টা থেকে ৬টা হলেও সেদিন বৃষ্টির কল্যাণে রাত প্রায় ৯টা অবধি বসেছিলাম। বৃষ্টি না কমাতে আমার অফিস সহকারী সফিক সাহেবের সাথে ভিজেই বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হই।

কথিত আছে বৃষ্টি হচ্ছে রহমতের প্রতীক। মুরুব্বীদের কাছে জেনেছি আল্লাহ যখন খুশী হন তখন কোন পরিবারে কন্যাসন্তান দান করেন। যখন আরো বেশী খুশী হন তখন কোন পরিবারে মেহমান দান করেন। আর যখন খুব বেশী খুশী হন তখন বৃষ্টি দান করেন। যখন এই কথা ভাবছিলাম তখন আল্লাহ এর খুশী হওয়া নিয়ে বেশ ভাবছিলাম। তখন ভাবছিলাম আল্লাহ আমার কোন কিছুতে খুশী হয়ে এমন বৃষ্টি দিচ্ছেন।

তখন আমার বয়স কেবল ২৭ চলে। তখন অবধি মনের ঘর খালি ছিল। খুব বেশী অনুভব করতাম কেউ আমাকে প্রবলভাবে ভালোবাসুক। বলতে গেলে ভালোবাসার কাঙ্গাল ছিলাম। দেখতে যে খুব খারাপ ছিলাম তেমনও না। তারপরও কারো ভালোবাসার আগমন তখনও আমার জীবনে ঘটেনি।

সফিক সাহেব খুব ভাগ্যবান ছিলেন বিধায় খুব দ্রুত তিনি তার মিরপুরের বাসার জন্য সিএন্ডজি পেয়ে গেলেন। আমি দীর্ঘ প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করছিলাম, একটা সিএন্ডজিও শাহজাহানপুর যেতে রাজি হচ্ছিলনা। অবশেষে একটা পাই সেটাও পানির অযুহাত দেখিয়ে যেতে চাচ্ছিলনা। তখন সেখানে ট্রাফিক সার্জেন্টের সহায়তায় অবশেষে সিএন্ডজি ওয়ালাকে রাজি করাই। ভাড়ার কথা নাই বললাম, যা বর্তমানের প্রায় হাজার টাকাই হবে। হবেনা কেন তখনকার ৫০০ টাকা আজকের হিসাবে তাই হবে। ট্রাফিক সার্জেন্টকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিএন্ডজিতে উঠে বসলাম। এমন সময়-

– কিছু মনে না করলে আমাকে সিএন্ডজিতে নেওয়া যাবে? খুব বিপদে পড়ে গেছি। আমার বাসা শান্তিনগরে। আপনিতো ওখান দিয়েই যাবেন, যদি আমাকে নিতেন। প্লিজ।

বৃষ্টির জোর এত বেশী ছিল যে সবাই কাঁক ভেজা হয়ে গেছিলাম। নিজের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নিলাম লোকটাকে লিফট দিব। তাই-

– ঠিক আছে, দ্রুত উঠে পড়ুন।

– (লোকটি সিএন্ডজিতে উঠেই) আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমি মোঃ সাগর ইসলাম (ছদ্মনাম)। আপনি?

– আমি এমডি ইসলাম। আপনি কি করেন?

– আমি ব্র্যাক ব্যাংকে জব করি। আপনি?

– আমি এরেনাতে জব করি।

– আপনার সাথে পরিচিত হয়ে খুব ভালো লাগছে।

– আমারও খুব ভালো লাগছে। সাগর ভাইয়া, আপনার বাসায় কে কে আছেন?

– আমার মা, স্ত্রী আর এক ছেলে আরীব। আপনার?

– আমি আর মা। আরো ভাই-বোন আছেন, তারা যে যার মত নিজ নিজ পরিবার নিয়ে আছেন। মা-ই আমার সব।

– আসলেই মায়ের তুলনা নাই। এখনো মা রাতে যেমন আজকের মত রাতে এসে আমাকে গায়ে কাঁথা দিয়ে ঢেকে দিয়ে যায়। (দীর্ঘশ্বাস ফেলেন)

কথা বলতে বলতে সিএন্ডজি শান্তিনগর বাজারের সামনে চলে আসলে-

– ড্রাইভার ভাই রাখেন, আমাকে( সাগর) এখানে নামিয়ে দেন।

সাগর ভাইয়ের কথামত সিএন্ডজি ড্রাইভার বাজারের সামনেই থামালো। তিনি নামার সময়-

– যদি কিছু মনে না করেন আমি ভাড়াটা দিয়ে দেই?

– কি বলেন? আপনি এসব না ভেবে জলদি বাসায় যেয়ে মাথা পুছে কাপড় বদলে নিন। নাহলে জ্বর-সর্দি আপনাকে বারোটা বাজিয়ে দিবে।

– আপনি খুব সুন্দর করে কথা বলেন। সত্যি অল্প কিছুক্ষণ সময় আপনার সাথে কাটলো যা কিনা খুব ভালো ভাবেই কেটেছে। কিছু মনে না করলে আপনার মোবাইল নাম্বার পেতে পারি?

– সিউর। ০১৯১………….৫ এটা আমার নাম্বার।

– ধন্যবাদ। ০১৭১১…….২ এটা আমার নাম্বার। কথা হবে ইনশা আল্লাহ।

– ইনশা আল্লাহ। ভালো থাকবেন।

যে মানুষটার সাথে গত প্রায় এক ঘন্টা যাবত বসে কথা বলছিলাম সেই মানুষটার চেহারার দিকে একটিবারের জন্যও খেয়াল করে দেখিনি। তিনি সিএন্ডজি থেকে নেমে যাবার সময় তাকে খেয়াল করলাম। তার মুখভর্তি খোঁচা খোঁচা দাঁড়ি যেন বৃষ্টিসিক্ত চেহারাতে দিয়েছিলো আরো মাদকতা। খুব মায়া ভরা ছিল তার চোখদুটিতে। আমি চোখের পলক না ফেলেই তাকে দেখছিলাম আর ভাবছিলাম- যদি তিনি সত্যি আমার সাথে অতিবাহিত সময়কে অনুভব করে থাকেন তাহলে তিনি আমাকে একবার হলেও ঘুরে দেখবেন। আমার ভাবনা শেষ হবার আগেই দেখি তিনি আমার দিকে ঘুরে দেখছেন আর মিটি মিটি হাসছেন। তার এই ঘুরে দেখা আমার কাছে তখন কেন যেন স্বর্গীয় সুখের ন্যায় মনে হচ্ছিলো।

সেদিন বাড়ি আসতে আমার রাত প্রায় সাড়ে এগারটা বেজে গিয়েছিলো। বাসায় এসেই আধঘন্টা ব্যাপী গোসল করলাম। করবোই না কেন, রাস্তার সেই নোংরা পানি পারাতে হয়েছিলো। খুব ক্ষুধা লেগেছিল। তাই দেরী না করেই খাবার খেয়ে টিভি দেখতে বসলাম। হঠাৎ মোবাইলের এসএমএসের নোটিফিকেশনের শব্দ শুনতে পেলাম। দেখতে পেলাম সাগর ভাই পাঠিয়েছেন। যাতে লেখা ছিল-

“বাসায় কি ঠিক মত পৌঁছেছেন? অনেকক্ষণ ভিজে ছিলেন, পারলে রাতের খাবার খেয়ে একটা প্যারাসিটামল খেয়ে নিবেন। জ্বর-সর্দি শুধু যে আমাকে বারোটা বাজাবে এমন কিন্তু নয়। আপনাকে ধরলে তেরটা বাজিয়ে দিবে। আপনি যে তেমনি একজন।’’

তার এসএমএস পড়ে মনে হচ্ছিলো তিনি আমার কত আপনজন। আমি দেরী না করে তাকে উত্তরে লিখলাম-

“আমি ঠিক মত বাসায় পৌঁছেছি। জ্বর-সর্দি না ধরলেও অন্য কিছু আমাকে ধরেছে সেটা খুব ভালোই বুঝতে পারছি। আপনাকে খুব মিস করছি।’’

মিনিট কয়েক বাদেই তার পালটা উত্তর পেলাম-

“ কেন মিস করছেন আমায়?’’

আমি প্রতিউত্তরে লেখলাম-

“আপনিও যে তেমনি একজন, তাই। আগামীকাল আপনার সময় হলে বিকেলে আমরা কোথাও মিট করি, কি বলেন?’’

মিনিট দুয়েকের মধ্যেই তার উত্তর আসলো-

“ঠিক আছে। কাল সন্ধ্যা ৬ টায় আমরা বসুন্ধরার লেভেল-৮ এ দেখা করছি। গুড নাইট।’’

কেন জানি তখন আমার খুব ভালো লাগা অনুভব হচ্ছিল। প্রেম-ভালোবাসার দিকে না হাটলেও সেটার টান যে কি তা খুব ভালোভাবে টের পাচ্ছিলাম। খুশীতে আমার ঘুম যেন উধাও হয়ে গেল।

পরের দিন বিকাল ঠিক সাড়ে পাঁচটায় বসুন্ধরাতে লেভেল-৮ এ যাই। গিয়ে দেখি আমার আগে সাগর ভাই এসে বসে আছেন। ভদ্রলোককে জিন্স আর টিশার্টে দারুন লাগছিল। আমি যেতেই-

– তুমিও এত দ্রুত চলে আসবে ভাবতে পারিনি। সরি তুমি করে বলে ফেললাম।

– হইছে আর ভনিতা করতে হবেনা। তুমি করে বলতে চান আবার অনুমতিও চান।

– তুমি বেশ পাজি ছেলে। আমাকেও তুমি করে বলতে পারো। মুভি দেখবে?

– চলেন…।। সরি। চলো পাইরেটস অফ দ্যা ক্যারিবিয়ানের সেকেন্ড পার্টটা দেখি।

সেদিন সিনেমা দেখে বসুন্ধরার ফুডকোর্ট থেকে খাবার খেয়ে রাত ১০ টার দিকে বের হতে যাব এমন সময় সাগর ভাই-

– আমাকে ভুলে যাবেনাতো?

– ভুলে যাবার কি হল। মাঝে মাঝেই আমাদের হয়ত দেখা হবে, ঘুরাও হবে। আপনি কি আমাকে সময় দিতে পারবেন?

– আমি নিজেও ভাবতে পারছিনা এত অল্প সময়ে তোমার খুব ঘনিষ্ঠ হয়ে যাব। মনে হচ্ছে তুমি আমাকে এমন যাদু করেছ যে তোমার বশবর্তী হয়ে গেছি।

– শুধু কি আমি করেছি? মনে হচ্ছে তুমি সেটা করেছো। সেই জন্যই আমি সারারাত তোমার কথা ভেবে ঘুমাতে পারিনি।

কিছু বুঝে উঠার আগেই আমি আমার ঠোঁটে তার ঠোঁট দুটো অনুভব করতে পারলাম। ভাগ্যিস তখন আমরা এস্কেলেটর দিয়ে নামছিলাম এবং সেই সময়টাতে লেভেল-৫ এ ছিলাম। আমি অপ্রস্তুত হয়ে যাওয়ায় সে আমাকে সরি বলে হাটতে থাকে।

রিক্সা দিয়ে যাওয়ার সময় যেন দুজনের মুখ তালাবদ্ধ ছিল। দুজনেই বেশ খানিকক্ষণ চুপ করে থাকি। তিনি প্রথম নীরবতা ভেঙ্গে-

– বিশ্বাস কর তুমি প্রথম ও একমাত্র পুরুষ যাকে আমি চুমু দিয়েছি। কখনই আমি কোন পুরুষের ভালোবাসাকে কল্পনা করিনি। কিন্তু তোমার মধ্যে কি যেন এক মায়া আছে যা আমাকে তোমার কাছে বেশ টেনে আনে। এই টান দেহের নয়, এটা মনের। আমিও গত রাতে তোমার কথা অনেক ভেবেছি। সামান্য কয়েকঘন্টা কাটিয়েছি তোমার সাথে, তাতেই আমি তোমাকে ভুলতে পারছিনা। এর জন্য আমার অনুশোচনাও হচ্ছেনা। বরং তুমি পাশে আছ বলে আমার স্বর্গীয় সুখ অনুভব হচ্ছে। এটাকি ভালোবাসার অনুভব নয়।

– (আমি দীর্ঘশ্বাস ফেলে) এভাবে বলছো কেন? আমিতো বিন্দুমাত্র তোমাকে অবিশ্বাস করছিনা। আমিও তোমাকে অনেক অনুভব করছি। আমি নিজেও ভেবে পাচ্ছিনা কিভাবে সব হয়ে গেল।

সেদিন দুজনে আর তেমন কথা না বলেই যে যার বারিতে চলে আসি। এসেই আমি সাগরের ভাবনায় ডুব দেই। লোকে ঠিকি বলে, ভালোবাসা মানুষকে অন্ধ করে দেয়। তেমনি আমি সাগরের ভালোবাসায় অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, ভুলেই গিয়েছিলাম সাগর বিবাহিত, তার একজন জীবনসঙ্গী আছে, আছে ২ বছরের সন্তান আরীব। নিজের ভালোবাসার কাছে মানবতাকে হার মানিয়ে সিদ্ধান্ত নিলাম সাগরের ভালোবাসায় সাড়া দিয়ে নিজের জীবনকে রঙিন করে তুলবো।

ধীরে ধীরে সাগরের সাথে আমার যোগাযোগের মাত্রা বেশ বাড়তে থাকে। প্রতিদিন আমাদের মাঝে দেখা না হলেও সাড়াদিনে কয়েকবার মোবাইলে কথা হতো। সেবার ঈদে দুজনে মালয়েশিয়াতে ট্যুর দিয়ে আসি। সাগর দিনে দিনে আমার প্রতি খুব দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। এমন কোন উৎসব ছিলনা যে সে আমাকে দামী উপহার না দিত। আমিও তাকে দিতাম, কিন্তু তার তুলনায় আমারটা নগন্য ছিল। যখন মালয়েশিয়াতে আমরা দুজন ঘুরতে গেছি তখন-

– ভাবছি একটা ফ্ল্যাট নিব শুধু তোমার আর আমার জন্য।

– ওয়াও। দারুন হবে। কিন্তু……

– কোন কিন্তু নেই। ভাবছি দেশে গিয়েই একটা বুকিং দিব। তুমি আমাকে যে তাবিজ করেছো সেটা সেই ফ্ল্যাটে গেঁথে আমরা ভালোবাসার স্বর্গ গড়ে তুলবো।

– বাহ! ভালো বলেছো। ভালোবাসার স্বর্গ। ভাবতেই দারুন লাগছে।

ভালোবেসে একজন আরেকজনের যত কাছে আসতে পারে আমরা দুজনেই ঠিক ততই কাছে এসেছিলাম। খুব সুখেই কেটে যাচ্ছিল আমাদের সময়। দুজনেই নিজেদের হ্যাপী কাপল ভাবতে শুরু করি।

সাগর কখনোই আমাকে ধোকা দেয়নি, তেমনি আমিও। তারপরেও ভালোবাসার সুখ আমি বেশী দিন ধরে রাখিনি। যদিনা ডিসেম্বরের ১৭ তারিখ আমি আরীবের জন্মদিন উপলখ্যে সাগরদের বাসায় না যেতাম। আরীব দেখতে ঠিক তার বাবার মত হয়েছে। সেদিন ছিল আরীবের ২য় জন্মদিন। ফ্যামিলি প্রোগ্রাম ছিল, যাতে শুধু আমি বাইরের কেও। আমি যখন আরীবকে কোলে নিয়ে আদর করছিলাম তখন নিজেকে বাবা মনে হচ্ছিল। সাথে সাথে দেখছিলাম আরীবেরও তার বাবাকে খুব দরকার, যাকে আমি আমার ভালোবাসায় বেঁধে রেখেছিলাম। তখনি সাগরের মাকে আর তার স্ত্রী স্নিগ্ধাকে দেখে নিজের মনের সাথেই যুদ্ধে নেমে গেলাম। ভাবতে লাগলাম আমি কিভাবে পরগাছা হয়ে একটা পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছি। নিজেকেই প্রশ্ন করছি কি দোষ স্নিগ্ধা আর মাসুম বাচ্চা আরীবের। নিজের অবচেতন মনের কাছে আমি সেদিন হেরে গেলাম। খুব ছোট মনে হচ্ছিলো নিজেকে। সিদ্ধান্ত নিলাম সাগরকে আমার জীবন থেকে সরিয়ে দিব।

সিদ্ধান্ত মোতাবেক সাগরকে এভয়েড করতে থাকি। সেও আমাকে পাগলের মত ভালোবেসেছিল। তাই আমার হঠাৎ বদলে যাওয়া তাকে একটা ধাক্কা দেয়। অনেকটা সিনেমার মত মাহিদ নামে একজনের সাথে মিথ্যা সম্পর্কে জড়াই যাতে সাগর আমাকে ভুলে যেতে পারে।

২০০৮ সালের ফেব্রুয়ারীতে আমি জিপি তে জয়েন করি। আমার অফিস কলাবাগানে হওয়ায় অফিস সময় বা শেষে সাগরের সাথে দেখা হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। সে সময় আমি নিজের মোবাইল নাম্বারও বদল করে ফেলি।

হয়তো সাগর আমাকে ঘৃণা করে। আমার কথা মনে আছে কিনা সেটাও জানিনা। তার এবং তার পরিবারের ভালোর জন্য আমি আমার নিজের ভালোবাসাকে গলা টিপে হত্যা করতেও দ্বিধা করিনি। তখন তার প্রতি আমার নিখাদ ভালোবাসার পবিত্র অনুভূতি আমাকে সেই সময় স্থির থেকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করেছিল। নিখাদ ভালোবাসার পবিত্র অনুভূতি সকল প্রেমীকেই সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করে বলেই আমার বিশ্বাস।

*****(সমাপ্ত)*****

উৎস: অন্যভুবন

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.