
ব্রাত্যজ্যন
প্রতিভাবান সমকামী কিশোর হুবার্ট মিলেন (জেভিয়ার ডোলান) মন্ট্রিয়ালের শহরতলিতে আটকে থাকা একজন শৈল্পিক বোহেমিয়ান। মাকে ছেড়ে সহপাঠী ও প্রেমিক অ্যান্টোনিনের সাথে একটি অ্যাপার্টমেন্টে একসাথে থাকার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে সে। এর পেছনের কারণটি হ’ল, মায়ের সাথে তার সম্পর্কের টানাপোড়েন। সম্প্রতি তার মায়ের সাথে তার ক্রমাগত মতবিরোধ তাদের অন্তর্গত সম্পর্ককে এমন এক খাদের কিনারায় নিয়ে এসেছে, যেখানে একে অপরের সাথে চেঁচামেচি করা, সর্বদা পরস্পর পরস্পরের সমালোচনা করা এবং দ্বিপাক্ষিক শত্রু ভাবাপন্নতাই অবশিষ্ট রয়েছে। তবে এই বৈপরীত্যের রেখা প্রায়শই ঘুচে যেতে দেখি মা-ছেলের সম্পর্ক উদ্ভূত ভালোবাসার বাইরে এক ভিন্নতর স্তরের ভালোবাসার মধ্যদিয়ে। বিষয়টি আরো স্পষ্ট হয় হুবার্টের এই সংলাপের মাধ্যমে, “আমি তাকে ভালোবাসি, তবে এটি কোনও ছেলের ভালবাসা নয়” হুবার্ট এবং তার মায়ের (অ্যান ডরভাল) মধ্যেকার তর্ক এবং লড়াইয়ের দৃশ্যগুলি বেদনাদায়ক, তবে ফ্রান্সোইস অ্যানটোনিনের সাথে কোমল প্রেমের দৃশ্যগুলি চলচ্চিত্রটিতে স্বাগত বৈপরীত্য সৃষ্টি করেছে। হুবার্ট মনে করে, তার মা তাকে বুঝতে পারে না এবং বাস্তবিক অর্থেই তার ধারনা সঠিক। তবে হুবার্টের গোপন সমকামী জীবন সম্পর্কেযখন তার মা জানতে পারেন এবং উপলব্ধি করেন তার বোধগম্যতার বাইরে ছেলের জীবন পরিবর্তিত হয়েছে, নিজেকে সংশোধন করার প্রয়াস দেখা যায় এই সত্যটি গ্রহণ করার চেষ্টার মধ্য দিয়ে। কিন্তু পুরানো অভ্যাস এবং পুরানো ঘৃণা অদৃশ্য হয় না। যুক্তি ফোটে, হুবার্ট পালিয়ে যায় এবং তার মা তাকে বোর্ডিং স্কুলে রাখতে বাধ্য হন। হুবার্টের সমকামী হওয়ার বিষয়টি আসলেই কিছু যায় আসে না, কিংবা যার সাথে সে লড়াই করছে সে তার জন্মদাত্রী মা, অথবা তার বয়সও এখানে গুরুত্বপূর্ণবিষয় ছিল না। গল্পটিতে এমন কিছু ছিল যা আমরা প্রত্যেকে অনুভব করেছি স্ব স্ব পারিবারিক আবহে; রাগ, বিরক্তি, একঘেয়েমি, আটকা পড়ার অনুভূতি। আর সেই আবেগগুলিই চলচ্চিত্রের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিল, প্লটের বিবরণ নয়।
“জাই তুই মা মেরে” জেভিয়ার ডোলানের একটি উস্কানিমূলক ফ্রয়ডিয়ান ভিজ্যুয়ালাইজড ডায়েরি যা এর দর্শকদের ব্যক্তিগত জীবনের সাথে সংযোগ স্থাপনে সক্ষম।
লেখক একজন ইন্ডেপেন্ডেন্ট ফিল্ম ডিরেক্টর।
প্রথম প্রকাশ
ঠাহর (দ্বিতীয় সংখ্যা)
মন্দ্র থেকে প্রকাশিত জেন্ডার, সেক্সুয়ালিটি এবং কুইয়্যার বিষয়ক ম্যাগাজিন

Leave a comment