
কবিঃ তারাশঙ্কর সুন্দর করে সাজানো এক হলঘরে বিচার-সভাটা বসেছিল, আমার বিচার সভা। বড় শক্ত অভিযোগ! অন্যায়কে একেবারেই সহ্য করা হবে না, ওরা বলছিল। ‘ঝুলিয়ে দে ব্যাটাকে, শখ কত!’- একটি সুদর্শন যুবক চিৎকার করে উঠল। আমি ওর দিকে ফিরে একটু মুচকি হাসলাম, কিছুটা বা বিভ্রান্ত হয়ে চোখ নামিয়ে সে সরে গেল। গম্ভীর বিউগলের ভাষায় বিচারকদের আগমন-ধ্বনি
কবিঃ তারাশঙ্কর জড়ায়ে ধোরো আমায় যেদিন মরণের দেখা পাই, যেদিন আমি মাটির ঘরে একলা শুয়ে কাটাই, জানবে তুমি সেদিন আমার ভালবাসা ছিল সত্য, সেদিনও আমি রইব কেবল তোমার জন্য উষ্ণ!
কবিঃ তারাশঙ্কর উদ্ভিন্নযৌবনা তরুণীর বুকের ভাঁজ আমার শরীরে কাঁপন তোলে না। যুবকের শার্টের ফাঁকে উঁকি দেয়া বন্যতা আমাকে উন্মাদ করে তোলে। পেশল দৃঢ় খোলা বাহু তলোয়ার হয়ে আমাকে কুচিকুচি করে। ওই চোখ, ওই দৃষ্টি- ঘাম, সিগারেট আর পারফিউম এর মিলিত নেশা মস্তিষ্কের প্রতিটি নিউরনে ঝড় তোলে। তখন যুবকের ভালবাসা আমাকে শান্ত করে। নি:শেষ হতে হতে,
কবিঃ তারাশঙ্কর এখনো সূর্য ওঠে, প্রজাপতিরা আনন্দে খেলে ফুল থেকে ফুলে, নীলাকাশ মেঘদল ভেসে যায় উত্তরে, পর্বতের চুম্বনে নামে অঝোর বর্ষা, স্বচ্ছ জলের নিচে চিকচিকে সোনা বালি- আমি ভুলতে বসেছি আদিম বনের গন্ধ-মাতাল হাওয়া, সোঁদা মাটির ঘ্রান, রুপালি জোছনায় হাজার তারার বাতি- কী এক অবসন্ন মায়ায় ক্লান্ত আমি তবু দিন গুনি, ফিরে যাই,তারপর; তোমার হাতে
কবিঃ তারাশঙ্কর আমার আকাশ এখন খুব ছোট, খুব সহজেই জানলার ফ্রেমে আটকা পড়ে যায়। হলদে-রোদ এসে জানলার কাঁচে ধাক্কা খায়, আলোটা আসে না ঠিক- কিন্তু তীব্রতাটা বুঝে নেই। দৃষ্টিপথকে ঘোলাটে করে আকাশ জুড়ে কান্না নামে। বৃষ্টির রাতে আঙ্গুল দিয়ে জানলার কাঁচের ময়লা সরিয়ে, তোমার নাম লিখি ইচ্ছেমত ভাষায়, অক্ষরে। এই বৃত্তবন্দী নাগরিক জীবনে ওটুকুই আমার
কবিঃ তারাশঙ্কর আমি চুপি চুপি খুন হই প্রতিদিনই; আমার লাশের ‘পরে লক্ষ কীটের আবাস- সে সব গলিত শবের হিসাব কে রাখে? অতৃপ্ত কামনারা তাই জেগে থাকে সারারাত, যেখানে ফুলের বিছানায় মনোহর কালো সাপ তোমার চারপাশে রংধনুর সাত রঙ;- আমার চোখে খেলা করে অনন্ত বিষাদ।
কবিঃ তারাশঙ্কর আমার সামনে পড়ে আছে একখণ্ড মাংসপিণ্ড। নিথর, নিশ্চুপ- রক্ত আর ছেঁড়া চামড়ায় মেখে সে আমার দিকে চেয়ে আছে কী তীব্র অনিঃশেষ বেদনায়! ওর চোখ দুটো বন্ধ করে দেয়া দরকার। আমার ভয় করছে… অ্যাই, কে আছিস? চোখগুলো বন্ধ করে দে তো! না না…শুধু চোখ না, ওর মাথাটাও ঢেকে দে! ওর নাক চেপে ধর! মুখে কাপড় গুঁজে দে!
কবিঃ তারাশঙ্কর আমি এখন তোমায় ছাড়া বাঁচতে পারি বাঁচতে পারি। শ্যাওলা পরা রাস্তা ধরে একলা হেঁটে চলতে পারি। এখন আমি ভয় করি না রাত্রিবেলা একলা শুতে, এখন আমার অনেক সাহস ভয় করি না মামদো ভূতে। তোমায় ছাড়া এখন আমি একলা খেয়ে নিতে পারি, জোছনা রাতে একলা ছাদে সুখের গান গাইতে পারি। এখন আমি ছাত্র ভাল

আমার সম্পর্কে নিজের একটা অভিযোগ হল অনেক বেশি ভাবুক স্বভাব এর আমি। কোন একটা বিষয় নিয়ে এতো বেশি চিন্তা করে ফেলি যে পরে আর সেটা বাস্তবে রূপ দেয়ার সাহস আর করা হয়ে উঠে না। কিন্তু আসলে মূল কথা হল আমি খানিকটা ভিতু চরিত্রের মানুষ। নিজেকে ভিতু পরিচয় দিয়ে কি কেউ আর লেখার শুরুটা করতে চায়