
লেখকঃ সাবিল আহমেদ
ভার্সিটি লাইফে একবার ক্লাসের রোমান্টিক বয় এর খেতাব পেয়েছিলাম এক বান্ধবীর কাছ থেকে তাও আবার স্যারের প্রশ্নের উত্তরে বলেছিলো সে।তো আজ সেই কথার প্রেক্ষিতেই এক ঘটনা ঘটলো। এই রোমান্টিক বয় নামটা দুই একজন বন্ধু বা ব্যাচমেট(ছেলে) দেখা হলেই ডাকে। আমার আরেকটা ব্যাচমেট( ছেলে) বিগত কিছুদিন আমার সাথে দেখা হলেই জড়িয়ে ধরে গলায় ঠোঁট লাগায় আর নিপল টাচ করে। মানে বলা যায় এক ধরনের ঈশারা বা ইঙ্গিত। আমি ব্যাপারটাতে ইতস্তত বোধ করেছি প্রতিবারেই। কিন্তু আমি ইয়ারকি হিসেবেই ধরে নিতাম। যাই হোক, আজকে ভার্সিটির সিড়িতে শরীর টাচ করা ব্যাচমেট আর আমার আরেক ব্যাচমেটের সাথে দেখা। হাতে অনেক খাতা সহ উঠছে। প্রতিদিনের মত আজকে জড়িয়ে ধরার সুযোগ নেই কিন্তু কথায় একটা কামনা জাগার ছল। পিছে থাকা বন্ধুটি আমাকে দেখে দুষ্টামি করে বলছে, কে এইটা??তখন সেই বডি হাতানো ব্যাচমেট বলছে আরেহ চিনিস না? এতো আমাদের সাবিল(রূপক নাম)।এটা বলতে বলতে তারা উপরের দিকের কয়েক সিড়ি উঠে গেলো।আমি তাদের সম্পূর্ণ কথপোকথন শুনতে পাচ্ছিলাম।তো আমার আরেক বন্ধুটি বলছে ওকেতো সাজু ক্লাসে একবার রোমান্টিক বয় বলেছিলো। এটা শুনে বডি হাতানো ফ্রেন্ডটা তাকে বললো আরেহ ওতো গে,জানিস না? অপর বন্ধুটি বললো, তুই কি সিউর? বডি হাতানো জন বললো, ১০০%। আমি কিন্তু সবই শুনতে পেলাম।কথাগুলো শোনার পর আমি কেমন যেন থমকে গেলাম। মনে হলো ওরা আমার কাছ থেকে অনেক দূরে চলে গেলো।হাত পা ঠান্ডা হতে লাগলো। ফাকা রুমের এক কোনার একটা চেয়ারে গিয়ে বসলাম,প্রেজেন্টেশন আজকে। ওটাতে কিভাবে সামনে দাড়িয়ে বলবো সেটাই রেডি করছিলাম। কথাগুলো এতোটাই আঘাত করলো আমি শুধু ওটাই ভাবছিলাম বসে। মনোবল হারালাম আর ভাবলাম আজকের প্রেজেন্টেশনটা মনে হয় আমি আর দিতে পারবো না।স্যারকে বলে দিবো ভাবছিলাম যে প্রেজেন্টেশনটা দিতে পারবো না।তারপর আরো কিছুক্ষণ বসে থাকলাম চুপ করে। সিকিউরিটি গার্ড একজন মামা এসে রুমে উকি দিলেন আমি তার মুখের দিকে তাকিয়েই আছি কোন কথা বের হচ্ছে না। তিনি ঘুরে গেলেন এবং আবার এসে উকি দিলেন। বললাম, কি হয়েছে মামা? তিনি বললেন, ক্লাস আছে কি মামা? আমি বললাম, না মামা। হয়তো আমার মুখ দেখে কিছু আন্দাজ করেছেন নাহলে এভাবে জিজ্ঞেস করার কথা না।কিছুক্ষণের মধ্যে দেখলাম আমার কিছু জুনিয়র ব্যাচমেট (মেয়ে)যাদের সাথে আজকে প্রেজেন্টেশন তারা উঠে আসছে। আমাকে দেখে হাসি দিলো। আমিও হেসে ক্লাসে গেলাম। কিছুক্ষণের ভেতর স্যার আসলেন।প্রথমেই আমার ডাক পড়লো।প্রিপারেশন নেই কোন। মনে যা এলো বললাম। সিটে গিয়ে বসে আছি আর সবার প্রেজেন্টেশন দেখছি। কিন্তু মাথায় কিন্তু ওই ঘটনাটাই ঘুরছে। প্রেজেন্টেশন দিয়ে ফেলেছি ভেবে ভালো লাগছিলো। শেষে যখন স্যার মার্ক ঘোষণা করলেন, আমি সর্বোচ্চ নম্বর পেয়েছি। মার্ক পেলাম বটে কিন্তু মাথার ভেতর ওটাই ঘুরছে। বাসায় ফিরবো বাসে উঠেছি। মানুষগুলো যা দেখছি সবাইকে খুব দূরের আর অপরিচিত লাগছে। আমার কান কেন যেন বন্ধ। কারো দিকে দেখছি না। সন্ধ্যা হয়ে গিয়েছে। অন্ধকারে ঢাকা শহররের আলো গুলো দেখছিলাম। জানালার গ্লাসে নিজেকে দেখতে পাচ্ছি কিন্তু স্পষ্ট নয়। শ্যামলী এসে নামলাম।আবার সাভারের বাসের অপেক্ষায়। কিন্তু রাস্তায় দাড়িয়ে কেন জানি খুব একা লাগছে। মনে হচ্ছে কেউই আমার না। আম্মুর কথা ভাবছি।মনে হচ্ছে আমার ব্যাচমেট গুলো আমার মেরেছে, আর আম্মু সেটা জানতে পেরে খুব কষ্ট পেয়েছে। বাসের হেড লাইটের আলোগুলো সব ঘোলা হয়ে আসছে। হঠাৎ এক লোক এসে হাত ধরলেন। বললেন, ভাই শিশু হাসপাতাল কোথায়? আমি ওনার দিকে তাকালাম, ঘোলা হতে থাকা চোখ স্বাভাবিক হলো। কথা বলতে গিয়ে খেয়াল করলাম কন্ঠ জড়িয়ে যাচ্ছে কান্না জড়িত কন্ঠের মত। তারপরও বললাম, ভাই ওইযে ফুট ওভার ব্রিজ দেখতে পাচ্ছেন ওটা পার হয়ে একটু সামনে গেলেই শিশু হসপিটাল।।।।।

Leave a reply to J Cancel reply