How to be properly GAY in Dhaka

শিরোনাম দেখে হয়তো আপনাদের মনে হতে পারে ঠিকঠাক ভাবে আবার গে হয় কি করে? সব কিছুর যেমন ভাল খারাপ আর পরিমিত দিক আছে, গে ব্যপারটা কিন্তু সব কিছুর উর্ধ্বে নয়। আমি নিজে যখন জানতে পারলাম আমি এই গোত্রীয়, তখন আমার বয়স ১৪, পড়ি ক্লাস টেনে। বড় হয়েছি মফস্বলের বাংলা মিডিয়াম স্কুল আর কলেজে পড়ে। তাই সেখানে আমার ডাকনাম ছিল হাফ লেডিস, শুধু আমি একা না, আমার মত অনেকের ডাক নাম থাকে হাফ লেডিস। সে যাই হোক, ফোন হাতে পেয়ে Google এ “Boy to boy kiss” এবং “Boy to boy sex” খোঁজ করে জানতে পারলাম আমি আসলে গে/সমকামি, হাফ লেডিস নই। এই নতুন জানা জ্ঞান নিয়ে  ইন্টারমিডিয়েট  পরীক্ষা শেষে ঢাকায় পারি দিলাম ২০১২ সালে। এই ইন্ডাস্ট্রি তে আজ আমার প্রায় ৮ বছর হতে চললো। কেও কেও আমাদের সমাজকে গে কম্যুনিটি বললেও, মাঝে মাঝে আমার কাছে এটা একটা ইন্ডাস্ট্রি-ই মনে হয়। কারন এখানে আছে হরেক রকম টপ, বটম অ্যান্ড ভার্সেটাইল। এত এত মানুষ আর এত এত প্রতিযোগিতার মাঝে যাতে নতুনরা হারিয়ে না যায়, তাই আমার ৮ বছরের সফলতা থেকে কিছু একটা করার প্রয়াস। 

১) Fake it till you make it: সারাজীবন কাছের মানুষের অবহেলার পাত্র হয়ে যারা আমাদের দেখা পেয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচতে চেয়েছেন, তাদের জন্য দুঃসংবাদ। এখানে চলে চরম প্রতিযোগিতা, এক মুহূর্ত সময় নেই আপনার চোখের জল ফেলার। নিজের আইডেন্টিটি সম্পর্কে জানার সাথে সাথে নিজের হাঁটা চলা, বাচনভঙ্গি ও চাহনির ঢঙ্গি পরিবর্তন করার চেষ্টা করুন। আপনি আপনাকে আপনার মত মেনে নিয়েছেন দেখে আমি বা আমরা আপনাকে মেনে নিব এমনটা ভাবার অবকাশ নেই। আপনাকে অবশ্যই অনেক লাউড হতে হবে। আপনার হাসির শব্দে বা চিৎকারে যদি মরা মানুষ জেগে না উঠে তাহলে আপনি গে না। রোলের ক্ষেত্রে কিছু বিষয় আপনাকে নজরে রাখতে হবে। আপনার রোল যদি বটম হয়, একটু ন্যাকা হওয়ার চেষ্টা করুন। নিতম্ব ছোট হলে অবশ্যই বড় করায় মনোনিবেশ করতে হবে। আর যদি আপনি টপ হন, নিজের সকল ন্যাকামি, মেয়েলিপনা ঝেড়ে ফেলুন। লিঙ্গ ছোট হলে বাজারে এক মাস ও টিকবেন না। আর যারা ভারসাটাইল, I am sorry, you guys are hypocrite, nobody wants you. 

২) English is a life saver: আপনি আমি বাঙালি, তো কি? তাতে কারো কিছু আসে যায় না। এখানে ইংলিশে দু’একটা লাইন কথা বলতে কিংবা গালি দিতে না পারলে কেও ফিরেও তাকাবে না। আপনাকে পুরো অভিধান মুখস্থ করতে হবে না, বেসিক ইংলিশ জানলেই হবে। উদাহরন নিচে দেওয়া হলঃ

1. oh my god/OMG/Oh my fucking god

2.  What the fuck

3.  Are you kidding me?

4.  Darling

5.  Bitch

6. have place/ have place?

কারো সাথে সেক্স করার সময়ও কখনো বাংলা ব্যাবহার থেকে বিরত থাকুন। ওরে বাবা, আল্লাহ্‌ গো, বাবা/মা গো, আস্তে আস্তে কিংবা জোরে জোরে এধরণের বাংলা সেক্স নয়েজ খুবই টার্ন অফ। এই শব্দগুলি ইংলিশে বলেই আপনি ইন্ডাস্ট্রি তে একটি পাকাপোক্ত জায়গা করতে পারবেন। আরেকটা কথা, Grindr অ্যাপ টার শুদ্ধ উচ্চারণ হল গ্রাইন্ডার/গ্রাইন্ডাহ। কখনো ভুল করেও গ্রিন্ডার বললে সারা জীবনের জন্য ব্ল্যাক লিস্টে নাম চলে যাবে। 

৩) Care the foreigner: ধরুন, আপনি এক দাওয়াতে গিয়েছেন, ওখানে আপনার মত অনেকেই আছে কিন্তু আছে দুই তিনজন সাদা চামড়ার বিদেশী (আমেরিকান)। ভুল করেও কখনো ভাববেন না যে আপনাকে এবং ঐ বিদেশী কে এক ভাবে ট্রিট করা হবে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি অনেক রেসিস্ট তাই এখানে টিকতে হলে হাসি মুখে এসব মেনে নিতে হবে। উচ্চবাচ্চ না করে নিজেকে খাপ খাইয়ে নেয়াই শ্রেয়। চেষ্টা করুন ফরেইনারদের খুশি রাখতে। উনারা হলেন চাড়া গাছ, নিয়মিত পানি দিন, যত্ন করুন সময় হলে ফল, ফুল, ছায়া সব পাবেন। গাছের কাঠ শক্ত হলে দোলনা বেধে ঝুলতেও পারবেন। এই ক্যাটাগরি তে ভালো করতে হলে, ২য় পয়েন্টটা মন দিয়ে পালন করুন।

৪) Brag about your wealth: এই ইন্ডাস্ট্রি তে কর্ম শিক্ষার কোন মুল্যায়ন নেই। আপনি কোথায় পড়ছেন, কোন বিষয়ে পড়ছেন, কোথায় চাকরি করছেন, কোন পজিশনে আছেন এবং কর্মক্ষেত্রে আপনার গ্রহণযোগ্যতা আছে কিনা এসব ঠুনকো বেপারে কেও মাথা ঘামাতে চাবে না যদি আপনার বাবার ঢাকায় বাড়ি গাড়ি কিংবা জমি না থাকে। আপনার রিচ গে বন্ধুর বাবার নতুন কেনা ফ্ল্যাট বাসায় এয়ারকন্ডিশন নষ্ট হয়ে যাওয়ার গল্প আপনার মত গরীবের সিজিপিএ ৩.৫০ পাওয়ার থেকে বেশি মুল্যবান। তাই চেষ্টা করুন বাবাকে বড়লোক বানানোর। কোন পার্টি তে যেতে হলে অবশ্যই উবার গাড়ি করে যাবেন Because cars are HS, Bikes are not.  পার্টিতে  লেখা পড়ার গল্প না করে আপনার iphone XXX কিভাবে নষ্ট হল সেই গল্প করুন। ওয়েস্টিন এর খাওয়া ফোর পয়েন্টস এর থেকে ভালো না খারাপ, কিংবা ছুটি তে নেপাল না ভুটান এই বিষয়ে তর্ক করুন। 

৫)  Wear fancy clothes: গে হতে হলে অবশ্যই সুন্দর কাপড় পড়তে হবে এ কথা কারো অজানা নয়। কিন্তু সুন্দর কাপড় কোথা থেকে কিনছেন সেটা ইম্পরট্যান্ট। আমরা সবাই নুরজাহান থেকে কম বেশি কাপড় কিনি। কিনলেই নুরজাহান মার্কেট থেকে কেনা কেন বলতে হবে? জীবনে দু’একটা মিথ্যা বেশি বললে খুব বেশি ক্ষতি হবে না। কাপড় নিউ মার্কেট থেকে কিনলেও বলবেন “My pant is from H&M and shirt is from Zara”। গুলশান-বনানি বা যেকোনো বড় মার্কেটে প্রায়‌ই ডিস্কাউন্ট দেওয়া হয়, তখন কম খরচে বেশি কেনাকাটা করে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ। গে ইন্ডাস্ট্রতে আড়ং এর একটা ভালো কদর আছে। দেশি পণ্য গায়ে দিয়ে বিদেশী ভাষায় কথা বলার আরেক নাম সফিস্টেকেশন। কখনো কোন ইভেন্টে এক কাপড় দ্বিতীয় বার পড়ে যাবেন না। 

৬) Do it with the right guy: হারভে ওয়েইনস্টেইন কি শুধু হলিউডেই আছে নাকি। আমাদের ইন্ডাস্ট্রিতেও আছে বেশ কিছু। আপনি নতুন, আপনার চেহারা সুন্দর, উচ্চতা সুন্দর, পেটানো শরীর এবং আগ্রহ আছে মডেলিং করার। আপনার কোন ধারনাও নেই যে আপনি কতো ভাগ্যবান। বেছে বেছে শুয়ে পড়ুন নামকরা স্টাইলিস্ট/কোরিওগ্রাফার কাম হারভে দাদা বা দিদিদের সাথে। খেলতে থাকুন তাদের খেলা, মিস্টার ওয়ার্ল্ড এর মত প্লাটফর্মেও জায়গা হয়ে যেতে পারে।

৭) Be a bitch:  এই ইন্ডাস্ট্রিতে কেও আপনার বন্ধু না। কেও যদি আপনার বন্ধু হতেও চায় তাহলে মাথায় রাখবেন এমনি এমনি চাচ্ছে না। এখানে সবাই স্বার্থপর তাই টিকে থাকার লড়াইয়ে আপনাকেও বাকিদের মত হৃদয়বিহিন হতে হবে। হৃদয় নামের কিছু যদি থেকে থাকে তাহলে তা অপারেশন করে ফেলে দিন আপনারই ভালো হবে। যেহেতু ক্যারিয়ারের শুরুতে আপনাকে মানুষ কথা শুনিয়েছে/বুলি করেছে। এখন মানুষকে বুলি করার গুরুদায়িত্ব আপনার। জুনিওরদের মনে কষ্ট দিয়ে তাদের জায়গা চিনিয়ে দিতে ভুলবেন না। কোন কোন পার্টিতে চেঁচিয়ে অপমান করবেন। অতিরিক্ত না একদম যথেষ্ট পরিমানে যাতে সুইসাইড না করলেও মনোবল ভেঙ্গে যায়। আর সব সময় অন্যকে ছোট করার সময় নিজের অ্যাচিভমেন্ট মাইকিং করবেন। প্রয়োজনে কাছের বন্ধুদের পিঠে ছুরি মারবেন কারন দিন শেষে আপনি একা।

আমি কিন্তু আমার উইসডম আপনাদের মাঝে বিলিয়ে দিলাম তাও বিনা পয়সায়। মানা, না মানা আপনার ওপরে। কিন্তু আমি আপনাকে কথা দিতে পারি, উপরের ৭ টা পয়েন্ট মন দিয়ে মানলে আপনাকে সবাই খুব তেল দিয়ে সমিহ করে চলবে। আপনি গে হিসেবে বেশ নাম করবেন। মোদ্দাকথা, ঢাকার মত জায়গায় প্রোপার ডাকসাইটের গে হিসেবে গড়ে উঠবেন আপনি। আপনাকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হবে না। ভালো মানুষ হয়তো হবেন না কিন্তু তাতে কি? ভালো মানুষের যে ভাত নাই সেটা তো আমারা সবাই জানি।
বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ এই লেখাটা নিতান্তই মজা করে লিখা। কাওকে আঘাত করার জন্য নয়। কিন্তু কোন পয়েন্ট যদি আপনার মনে পীড়া দেয়, তাহলে আপনার অভ্যাস পরিবর্তনের চেষ্টা করুন।

লেখকঃ তুমিল

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.