কুইয়ার শহীদত্ব নিয়ে পাঁচ কথা

লিখেছেনঃ ইসায়েদ

“হ্যাঁ, যেভাবে সাংগঠনিক কাজ করছি তা সেফ না। কিন্তু আমি ভয় পাই না। একদিনতো মরতে হবেই। কি জন্যে এখন ভয় করবো?” – নামহীন, গে সংগঠক, বাংলাদেশ, ২০২০ 

“Yes, the way we organize is not safe. But I am not afraid. We have to die one day. Why should I be afraid now?” – Anonymous, gay organizer, Bangladesh, 2020

“মধুর চেয়ে মৃত্যু আমার কাছে মিষ্টি” – ইমাম হাসান

1) What led up to the battle of Karbala? Some say, it was because Husayn was talking to a non-responsive audience and he realized martyrdom was the only means through which he could get them to listen.
Bangladeshi queers can argue, prove the case for their rights in a court of law, construct complex discourses of desire, and embody those narratives across villages and cities. But here is the situation – in a heterosexist Bengali Muslim society, under a heterosexist Bangladeshi state, arguments for queerness are met with brute force. Queer narratives are muffled, silenced, left alone in the corners of homes to remain forever unspoken. How do they who cannot speak express themselves? Through putting their bodies up for execution, through performing their will to die. Dying as a queer is the only self-expression left sanctioned in Bangladesh. 
When Bangladeshi queer organizers run to their deaths, screaming, “We are ready to die,” what they are really saying is, “We are already dead. Let’s die again.”

১) কারবালার যুদ্ধ কেন হলো? কেউ কেউ বলেন হোসেন কিছু অপ্রতিক্রিয়াশীল দর্শকদের সাথে কথা বলছিলেন। তিনি তখন সিদ্ধান্ত নিলেন যে শাহাদাতই একমাত্র উপায় তার কথা ওই দর্শকদের  শুনানোর।
বাংলাদেশি কুইয়াররা আদালতে তাদের অধিকারের ন্যায্যতা প্রমাণ করতে পারে। তারা পারে যৌনতা, আকাঙ্ক্ষা নিয়ে জটিল চিন্তা করতে। গ্রাম-শহর জুড়ে তারা পারে সেই চিন্তাগুলোকে নিজেদের দেহে ধারণ করতে। কিন্তু পরিস্থিতিটা এইরকম — হিটরোসেক্সিস্ট বাঙালি মুসলিম সমাজে, হিটরোসেক্সিস্ট বাংলাদেশী রাষ্ট্রের অধীনে, কুইয়ারদের যুক্তির বিরুদ্ধে নিষ্ঠুর ও চিন্তাহীন এক শক্তি প্রয়োগ করা হয়। কুইয়ার চেতনাকে চুপ করিয়ে দেয়া হয়। চিরকালের জন্য বাড়ির কোণায় অব্যক্ত হয়ে পরে থাকে কুইয়ার কথা। 
যারা কথা বলতে পারে না তারা কীভাবে নিজেদের প্রকাশ করবে? নিজেদের মৃত্যুদণ্ড দেয়ার মাধ্যমে। তাদের মরণেচ্ছা বাস্তবায়ন করার মাধ্যমে। বাংলাদেশে কুইয়ার হয়ে মরে যাওয়া আত্ম-প্রকাশের একমাত্র অনুমোদিত উপায়। তাই যখন বাংলাদেশী কুইয়ার সংগঠকরা তাদের মৃত্যুর দিকে ছুটে যায় এই বলে যে, “আমরা মরতে প্রস্তুত,” তারা আসলে যা বলছে তা হ’ল, “আমরা ইতিমধ্যে মারা গেছি। আসুন আমরা আরেকবার মরি।”
2) Everyone dies one way or another. But not all deaths ignite revolutions, uprisings, re-evaluations of social values. Bouazizi’s death sparked the Arab Spring. Xulhaz and Tonoy’s deaths float around in the forlorn backwaters of Bangladeshi government’s bureaucratic neglect.

২) প্রত্যেকেই কোন না কোন ভাবে মারা যায়। তবে সব মৃত্যু বিপ্লব, বিদ্রোহ, সামাজিক মূল্যবোধগুলির পুনর্মূল্যায়ন জ্বালিয়ে তোলে না। বোয়াজিজির মৃত্যু আরব বসন্তকে উজ্জীবিত করেছিল। জুলহাজ ও তনয়ের মৃত্যু বাংলাদেশ সরকারের আমলাতান্ত্রিক অবহেলার বদ্ধ জলে ভেসে বেড়াচ্ছে।
3) “If I need to give my life, then I will,” some Bangladeshi gay activists are prone to promising. 
This unrealized queer martyrdom is irony par excellence. 
Religious traditions such as Christianity, Judaism, and Islam, valorize martyrdom. Men of faith must go to war to protect their babies and women, so that those women and babies can make more babies. Because queer life does not justify itself through making babies, queer life is often at odds with these traditions that sacrifice the beautiful present in the name of the sacred future. Queers, freed from the ideological burden of making babies, can make the present both beautiful and sacred. 
“If I need to give my life, then I will,” some Bangladeshi gay activists are prone to promising. 
Queer martyrdom re-turns to the religious traditions in a secular guise. Queer revolutionaries join the ranks of ideological martyrs, and strive for a sacred future — LGBTQ+ rights.
Perhaps, Bangladesh’s madrasas and mosques would be more well-suited to serve as centers of LGBTQ+ rights in Bangladesh! 

৩) “যদি আমার জীবন দেওয়ার দরকার হয়, তবে আমি তা দিবো,” কিছু  বাংলাদেশী গে সংগঠকের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়।
এই অবাস্তবায়িত কুইয়ার শহীদত্ব এক কথা বলতে গিয়ে আরেক কথা বলে ফেলে। খ্রিস্টান, ইহুদী ও ইসলামের মতো ধর্মীয় প্রথায়  শাহাদাতকে বীরত্ব হিসেবে দেখা হয়। ধর্ম-বিশ্বাসী পুরুষদের তাদের বাচ্চা এবং মহিলাদের সুরক্ষার জন্য যুদ্ধে যেতে হয়, যাতে ওই মহিলা এবং শিশুরা আরও বাচ্চা তৈরি করতে পারে। যেহেতু কুইয়ার জীবন শিশু তৈরির মাধ্যমে নিজেকে বেঁচে থাকার ন্যায্যতা দেয় না, তাই কুইয়ার জীবনের সাথে এই ধর্মীয় প্রথাগুলির মিল হয় না। কুইয়ার জীবন বুঝতে পারে না কেন সুন্দর এই বর্তমানকে কোন এক পুণ্যের ভবিষ্যতের নামে উত্সর্গ করা লাগবে। বাচ্চা-তৈরির মতাদর্শ থেকে বিচ্ছিন হওয়ায়, কুইয়াররা বর্তমানকেই বানাতে পারে সুন্দর এবং পবিত্র। “যদি আমার জীবন দেওয়ার দরকার হয়, তবে আমি তা দিবো,” কিছু  বাংলাদেশী গে সংগঠকের মধ্যে এই প্রতিশ্রুতি দেয়ার প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। 
কুইয়ার শহীদত্ব ধর্মনিরপেক্ষতার ছদ্মবেশে ধর্মীয় প্রথাকে ফিরিয়ে আনে। কুইয়ার শহীদদের জান্নাতঃ এলজিবিটিকিউ+ অধিকার বাস্তবায়ন।
সম্ভবত, বাংলাদেশের মাদ্রাসা মসজিদগুলি বাংলাদেশের এলজিবিটিকিউ+ অধিকার কেন্দ্র হিসাবে চালানোর জন্য অনেক বেশি উপযুক্ত!
4) Irony number two — it is queer-sensical to celebrate the body, unlike in the heterosexist world of myriad repressions that hold the body and its pleasures at a distance with contempt. Queerness is the realm of the flesh. Arms, legs, pussies, fists, assholes, pubic hair, fat bodies, penises, curves, clitoris, bones, sweat and cum and kisses and shit, threaded with ambiguities, impulses, instincts, all that which affirms our animality among animals. We were never the “humans” that colonizers thought we were.
The amorphous Bengal delta with its diverse life forms is a better metaphor for us. We have always been animals just like the rest of humanity. “I will eat you up,” as we like to say.  “If I need to give my life, then I will,” some Bangladeshi gay activists declare. 
Queer martyrs target their bodies as objects of annihilation for the greater cause of LGBT+ rights. The ghost of Abraham sacrificing his son haunts the queer martyr. The Bengali Muslim society, which wishes the death of queers, is not a benevolent deity. This society does not conjure up a sheep at the last minute. 
The irony folds in on itself. Queer martyrs wish to take up and deploy the Bangladeshi heterosexist world’s desire to annihilate queer subjects against the heterosexist world itself. 
Queer martyr says, “I will die, so what?” The Bengali muslim world smiles and says, like the mothers and fathers of many queers, “Yes, so what? If you were dead, perhaps it would have been better. I would be freed from your burden.” The queer martyr replies, “Fine, I will die. And you will miss me. I will leave you in a torture cell made with my absence. Just wait.”

৪) কুইয়াররা দেহকে সম্মান করে, দেহের সত্যকে উদযাপন করে। হিটরোসেক্সিস্ট দুনিয়া দেহকে এবং তার আনন্দগুলিকে অবজ্ঞার সাথে দূরে রাখে। কুইয়ার বাস্তবতা হল জৈবদেহ-জৈবপ্রকৃতির রাজ্য। হাত, পা, ভোদা, মুষ্টি, পায়ু, পাছা, পিউবিক চুল, চর্বি, মোটা শরীর, নুনু, থুতু, হাড়, ঘাম, এবং বীর্য এবং চুমু এবং বিষ্ঠা, অস্পষ্টতা, আবেগ, সহজাত প্রবৃত্তি, যা যা আমাদের পশুপ্রকৃতি প্রমাণ করে।
উপনিবেশকারীরা আমাদেরকে যেভাবে “মানুষ” বলে রাষ্ট্র দিয়েছিল আমরা কখনই সেই “মানুষ” ছিলাম না। “মানুষ” না, বিচিত্র জীবনে ভরপুর বঙ্গীয়-বদ্বীপ আমাদের অস্তিত্বের আরও ভাল রূপক। আমরা বরাবরই বাকী “মানুষদের” মতো ক্ষুধার্ত প্রাণী। আমরা অনেকে যেরকম বলি, “আমি আপনাকে খেয়ে দিবো।” 
“যদি নিজের জীবন দেওয়ার দরকার হয় তবে আমি তা দিবো” কিছু বাংলাদেশী গে সংগঠকরা ঘোষণা দেয়।
কুইয়ার শহীদরা এলজিবিটি+ অধিকার আদায়ের উদ্দেশ্যে তাদের দেহকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে রাজি। ইব্রাহিমের ভূত বসে আছে কুইয়ার শহীদদের ঘাড়ে। বাঙ্গালী মুসলিম সমাজ, যা কুইয়ারদের মৃত্যু কামনা করে, কোনও দানশীল খোদা নয়। এই সমাজ শেষ মুহুর্তে কুইয়ারদেরকে হাতে ভেড়া ধরিয়ে দেয় না। বাংলাদেশী কুইয়ার শহীদরা হিটরোসেক্সিস্ট দুনিয়ার বিরুদ্ধে কুইয়ারদের নির্মূল করার যে হিটরোসেক্সিস্ট কামনা তাকে ব্যবহার করতে চায়। কি প্যাঁচ! কুইয়ার শহীদ বলে, “আমি মরে গেলে মরে যাবো, তাতে কি?”বাঙালি মুসলিম সমাজ হেসে বলে (অনেক কুইয়ারদের মা-বাবার মত), “হ্যাঁ, তাতে কি? তুই যদি মরতি তাহলে ভালই হত। আমি তোর বোঝা থেকে মুক্তি পেতাম।” কুইয়ার শহীদ জবাবে বলে, “ঠিক আছে! আমি মরে যাব, আর রেখে যাবো আমি তোমাকে আমার অনুপস্থিতির কারাগারে। দেখে নিও।”
5) For the Bangladeshi queer revolutionary, the problem is this — if you visibly embody your committment to LGBT+ rights, you might die. And if you abandon your commitment to visible struggle you will live but without the self-image of a queer revolutionary that anchored you to your life. Here the queer subject comes face to face with the unruly meaninglessness of a world where nobody can generate perfect harmony between belief and action.৫) বাংলাদেশী কুইয়ার বিপ্লবীদের জন্য সমস্যা হল — আপনি যদি এলজিবিটি+ অধিকারের প্রতি আপনার প্রতিশ্রুতিকে জন-দৃশ্যমান রূপ দেন তবে আপনি মারা যেতে পারেন। আবার যদি আপনি দৃশ্যমান সংগ্রামের প্রতিশ্রুতি ত্যাগ করেন তবে আপনি বেঁচে থাকবেন কিন্তু থাকবে না আপনার কাছে সেই বিপ্লবী স্ব-চিত্র যা আপনার জীবনকে অর্থপূর্ণ করে। এখানে কুইয়ারদের মুখোমুখি হতে হয় সারা দুনিয়ার এলোমেলো অর্থহীনতার সাথে, যেখানে কেউই কখনো তার বিশ্বাস ও কর্মের মধ্যে নিখুঁত মিল, ত্রুটিহীন সমন্বয় তৈরি করতে পারে না।

পরের পর্ব পড়ুন এখানে

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.