এলজিবিটি কমিউনিটি এবং মানসিক স্বাস্থ্য

অরণ্য রাত্রি

সাধারণত হেটারোসেক্সুয়াল বা বিষমকামী মানুষদের তুলনায় লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার মানুষেরা মানসিক রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। আমরা যদি একটু ইতিহাসের দিকে তাকাই, তাহলে দেখতে পাই, সমকামিতাকে একসময় মানসিক রোগ হিসেবে ধরা হতো। ১৯৭৩ সাল থেকে ডিএসএম (DSM) এ সমকামিতাকে আর মানসিক রোগ হিসেবে গণ্য করা হয় না। আর, ১৯৯০ সালে আইসিডি (ICD) থেকেও সমকামিতাকে মানসিক রোগের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়। এরপর অনেকদূর জল গড়িয়ে গিয়েছে। এখন ট্রান্সজেন্ডার মানুষদেরকেও মানসিক রোগী বলা হয় না। কিন্তু, অনেক হেটারোসেক্সুয়াল মানুষ এই ব্যাপারটা বিশ্বাস করে না, বরং কেউ কেউ এলজিবিটি (LGBT) মানুষদেরকে অসুস্থ এবং পাপী বলে গণ্য করে। তাদের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গির কারণে এলজিবিটি মানুষরা নানা ধরণের মানসিক রোগে আক্রান্ত হয়।

(লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার, কুইয়ার, ইন্টারসেক্স, এসেক্সুয়াল কমিউনিটির মানুষদেরকে সংক্ষেপে এলজিবিটি লিখে সম্বোধন করছি। কারণ এই টার্মটা বার বার আসবে।)

এছাড়া নিম্নলিখিত কারণগুলোর জন্য এলজিবিটি কমিউনিটির মানুষেরা অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন।

  • সহিংসতা, বৈষম্য এবং কুসংস্কার অনেক মানুষকে নিজের আইডেন্টিটি প্রকাশে নিরুৎসাহিত করে।
  • কেউ কেউ নিজের প্রতি তাদের সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশনের কারণে নেতিবাচক ধারণা পোষণ করে।
  • একাকীত্বে ভুগে অনেকেই।

নিম্নে এই ব্যাপারগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা রয়েছে।

পোস্ট-ট্রমাটিভ স্ট্রেস ডিসঅর্ডার (PTSD)

এলজিবিটি মানুষদের অনেককেই বিভিন্ন ধরণের শারীরিক বা মানসিক চাপের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। কেউ কেউ বুলিং এর শিকার হয়। স্কুলে আমাদের কমিউনিটির কিশোর-কিশোরীরা কখনোই বুলিং এর শিকার হয়নি এমন দৃশ্য অনেকটাই অস্বাভাবিক। এছাড়া, জীবনের ধাপে ধাপে তারা বৈষম্যের শিকার হয়। কেউ কেউ সমাজের অন্য মানুষদের দ্বারা বিভিন্ন ক্ষেত্রে হয়রানির শিকার হয়। কেউ কেউ শারীরিক ভাবে আঘাত প্রাপ্ত হয়। আবার ছোট বেলায় কেউ কেউ যৌন নির্যাতনের শিকার হয়। আবার ছোট বেলায় একটু মেয়েলি আচরণ থাকার কারণে বাবা-মা দ্বারা কঠোর শাস্তি ভোগ করে থাকেন অনেকেই। এসকল কারণে অনেক এলজিবিটি মানুষেরা একটা মানসিক ট্রমার মধ্যে থাকে। এবং, এই মানসিক ট্রমা যখন দৈনন্দিন কাজ-কর্মে বাধার সৃষ্টি করে তখন এটাকে একটি মানসিক রোগ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। একে বলা হয় পোস্ট-ট্রমাটিক স্ট্রেস ডিসঅর্ডার। 

বিষন্নতা

এলজিবিটি মানুষদের মাঝে বিষণ্ণতার হার অনেক বেশি। শতকরা ৩১ ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক এলজিবিটি মানুষ বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। অনেকেই কাম আউট (Come Out) করার পর পরিবারে এক ঘরে হয়ে যায় কিংবা তাদের বাসা থেকে বের করে দেয়া হয়। আর সমাজে জানাজানি হয়ে গেলে ব্যক্তি শুধু নিজে নয়, তার পরিবারও সমাজে আর মুখ দেখাতে পারে না। তারা পদে পদে অপমান, সহিংসতা আর বৈষম্যের শিকার হয়। 

আবার কাম আউট না করলে নিজের আইডেন্টিটি যাতে প্রকাশ না হয় সেজন্য অন্য এলজিবিটি মানুষের কাছ থেকে অনেকেই বিচ্ছিন্ন থাকে। এর ফলে অনেকেই একাকীত্বে ভুগে এবং বিষণ্ণতায় আক্রান্ত হয়।  

স্কুলে একজন এলজিবিটি কিশোর বা কিশোরী যখন বুলিং এর শিকার হয় তখন অনেকেই বুঝতে পারে না কেন তাদের বুলিং করা হচ্ছে। বাসায় আসার পর স্কুলে ঘটে যাওয়া অপমানগুলো তাদেরকে কুঁড়ে কুঁড়ে খায়। তারা এই অপমানের ভয়ে আর স্কুলে যেতে চায় না। তাই অনেকেই ড্রপ আউট হয়ে যায়। এবং, এই কারণে তারা তীব্র বিষন্নতায় আক্রান্ত হতে পারে।

সাইবার বুলিং এখন এইক্ষেত্রে নতুন সংযোজন। ইন্টারনেট, সোশ্যাল মিডিয়াগুলোতে কাউকে নিয়ে মর্যাদাহানিকর ছবি, ভিডিও পোস্ট করা, কিংবা কোন নতুন ভিডিও বা ছবি ভাইরাল করে দিবে এমন হুমকি দেয়া এখন প্রায়ই দেখা যাচ্ছে। আর এসকল  ব্ল্যাকমেইল আজকাল এলজিবিটি মানুষদেরকেও ব্যাপক হারে করা হচ্ছে।

কোন ব্যক্তি যদি শুধুমাত্র এলজিবিটি ছাড়াও অন্য কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়, যেমন: বৃদ্ধ, আদিবাসী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু কিংবা নিম্ন আর্থসামাজিক সম্প্রদায়ের অংশ হয়, তাহলে তারা আরো তীব্রভাবে বৈষম্যের শিকার হয়। ফলে তাদের মাঝে বিষণ্ণতার হারও বেশি থাকে। 

আত্মহত্যার প্রবণতা 

এলজিবিটি মানুষদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল এবং ট্রান্সজেন্ডার মানুষদের আত্মহত্যার হার হেটারোসেক্সুয়াল মানুষদের থেকে প্রায় দ্বিগুণ। বিষণ্ণতায় আক্রান্ত এলজিবিটি মানুষদের আত্মহত্যার হার প্রায় ৩৯%। যখন বিষণ্ণতা গভীরভাবে আঁকড়ে ধরে তখন এক পর্যায়ে অনেক এলজিবিটি মানুষ আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বিশেষ করে যাদের এলজিবিটি কোন বন্ধু নেই। যাদের নিঃশ্বাস নেবার মত কোন জায়গা নেই, তারা আত্মহত্যার মাধ্যমে এই দম বন্ধ করা পৃথিবী ছেড়ে চলে যেতে চায়। কেউ কেউ পরিবারের চাপে বিয়ে করে এবং পরবর্তীতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। বাংলাদেশে যেহেতু সামাজিক, ধর্মীয় এবং আইনগত কারণে সমকামিতা নিষিদ্ধ, সেহেতু পরিবার এবং সমাজের কাছে কাম আউট করলে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে বাবা-মা এবং আত্মীয় দ্বারা নির্যাতিত হয় তারা। যারা স্বাবলম্বী নয় তাদের যাওয়ার কোন জায়গাও থাকে না। এরকম টক্সিক পরিবারেই থাকতে বাধ্য হয়। এক পর্যায় তাদের অনেকেই আত্মহত্যা করে বা আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আবার অনেক ট্রান্সজেন্ডার মানুষ চাকুরী, স্বাস্থ্য এবং অর্থনৈতিক অবস্থা  নিয়ে বিপাকে পড়ে। বাবা-মায়ের সাপোর্ট তারা পায় না। আত্মীয়স্বজন, বন্ধুদের দ্বারা মানসিকভাবে নির্যাতিত হয়। এক পর্যায়ে তাদের অনেকেই আত্মহত্যার চেষ্টা বা আত্মহত্যা করে। 

মাদকগ্রহণ 

এলজিবিটি মানুষদের মধ্যে মাদকদ্রব্য গ্রহণের হার হেটারোসেক্সুয়াল মানুষদের থেকে বেশি। বর্তমানে অ্যালকোহল থেকে শুরু করে ইয়াবা, হেরোইন এসকল মাদকদ্রব্য বাংলাদেশের অনেকেই গ্রহণ করে থাকে। এলজিবিটি মানুষদের ক্ষেত্রে দেখা যায় বিষণ্ণ, হতাশাগ্রস্ত হয়ে অনেকে মাদকদ্রব্য নেয়া শুরু করে। আবার অনেকের ইন্টারনালাইজড হোমোফবিয়া থাকে। অনেকে নানা বৈষম্যের শিকার হয়। এবং এই সকল নেতিবাচক চিন্তা দূর করার জন্য অনেকেই অ্যালকোহল এবং মাদক দ্রব্য নেয়। এবং যখন কেউ নেশাগ্রস্ত হয়ে যায় তখন সে অস্থায়ী একটা আনন্দ পেয়ে থাকে। কিন্তু, এর ভবিষ্যৎ পরিণতি খুব ভয়াবহ। অনেকেই তখন আর মাদক ছাড়তে পারে না। 

এছাড়া অন্যান্য কিছু মানসিক এবং শারীরিক অসুখে কেউ যখন আক্রান্ত হয় তারা অনেকেই মাদকদ্রব্য নেয়। বিশেষ করে এলজিবিটি মানুষদের ক্ষেত্রে মুড ডিসঅর্ডার, ইটিং ডিসঅর্ডার কিংবা কিছু মারাত্মক অসুখ যেমন এইডস, হেপাটাইটিস এবং অন্যান্য যৌন রোগের কারণে অনেকেই সাময়িক রিলাক্সেশনের জন্য মাদক নিয়ে থাকে। কিন্তু, এর পরিণতি ভয়াবহ। সে এবং তার পুরো পরিবার বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে এতে করে।

মাদকের পুনর্বাসনের জন্য চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রেও অনেকে বৈষম্যের শিকার হয়। যে ডাক্তার বা কাউন্সেলর এর কাছে যাওয়া হয় সে হোমোফোবিক হলে  তির্যক মন্তব্য, অবহেলা কিংবা দুর্ব্যবহারের স্বীকার হতে হয় অনেককেই।। 

ইটিং ডিসঅর্ডার 

ইটিং ডিসঅর্ডার একটি মানসিক রোগ। এ ক্ষেত্রে ২টা রোগকে সাধারণত ইটিং ডিসঅর্ডার বলে থাকি আমরা। তার মাঝে একটি হল এনরেক্সিয়া নারভসা (Anorexia Nervosa), আরেকটি হল বুলিমিয়া নারভসা (Bulimia Nervosa)।

এনরেক্সিয়া নারভসা

এনরেক্সিয়া নারভসার ক্ষেত্রে একজন মানুষের ওজন স্বাভাবিকের কম থাকা সত্ত্বেও খুব কম খাবার খান। ওজন বেড়ে  যাবে এই ভয়ে তারা খাবার গ্রহণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। এর ফলে শারীরিক নানা সমস্যা দেখা দেয়। 

বুলিমিয়া নারভোসা

এ ক্ষেত্রে মানুষের ওজন বেশি হয় কিন্তু ব্যক্তি অনেক পরিমাণে খাদ্য গ্রহণ করে। পরবর্তীতে অনুতপ্ত হয় এবং গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করে। 

এলজিবিটি মানুষের মাঝে  ইটিং ডিসঅর্ডার  অনেকেরই হয়ে থাকে। কারণ,

  • বেশির ভাগ এলজিবিটি মানুষের মাঝে বাহ্যিক সৌন্দর্যের গুরুত্ব অনেক বেশি। তাই, বাহ্যিক সৌন্দর্য ভাল না হলে অনেকেই ভালবাসার মানুষের দ্বারা রিজেক্টেড হয়। এইভাবে রিজেক্ট যাতে পরবর্তীতে না হতে হয় সেজন্য অনেকে সুঠাম শারীরিক অবয়ব রাখার জন্য ইটিং ডিসঅর্ডার এ আক্রান্ত হন।
  • অনেকে বাহ্যিক সৌন্দর্যের জন্য বুলিংয়ের শিকার হয়।
  • ট্রান্সজেন্ডার মানুষদেরকে তাদের আকাঙ্ক্ষিত শরীর পাওয়ার জন্য, বাহ্যিক গড়ন পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়। এর জন্য অনেকেই সেই বাহ্যিক গড়ন পাওয়ার জন্য নানা ধরণের ব্যবস্থা নেয়। কেউ কেউ তখন ইটিং ডিসঅর্ডার এ আক্রান্ত হতে পারে। 
  • কারো টার্গেটে যাতে না পড়ে সে জন্য অনেকেই খুব সাধারণ ফেস এবং বডি ফিগার মেইন্টেইন করতে চায়। এবং এর জন্য অস্বাভাবিক ডায়েট এবং ব্যায়াম করে। এককথায় ইটিং ডিসঅর্ডার এ আক্রান্ত হয়। 

উদ্বিগ্নতা (Anxieties)

বিষণ্ণতার সাথে সাথে অনেকেই উদ্বিগ্নতায় আক্রান্ত হয়। অনেকে কাম আউট করবে কি করবে না সেই দ্বিধাতে ভুগে। আবার নিজের সুরক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা করে অনেকেই। কারণ, আমাদের দেশে এক বিশাল সংখ্যক মানুষ সমকামিতাকে পাপ মনে করে। এবং, যারা সমকামিতায় লিপ্ত হন তাদের বিরুদ্ধে ঘৃণাত্নক আচরণ করে। তাই অনেকেরই সুরক্ষার জন্য অনেক ব্যবস্থা নিতে হয়। কখন কে তার ক্ষতি করে বা আঘাত করে সেই বিষয় নিয়ে উদ্বিগ্নতায় থাকতে হয় তাদেরকে। 

ইন্টারনালাইজড হোমোফোবিয়া

অনেক এলজিবিটি মানুষই নিজের জেন্ডার আইডেনিটিটি বা সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন নিয়ে সমাজ, দেশ বা পরিবার দ্বারা চাপের মাঝে থাকে। আবার কিছু কিছু এলজিবিটি মানুষ নিজেরাই নিজেদের সেক্সুয়াল অরিয়েন্টেশন বা জেন্ডার আইডেন্টিটির কারণে নিজেদের প্রতি একটা নেতিবাচক ধারণা পোশণ করে। তারা মনে করে যে তারা অন্যদের থেকে ভিন্ন। এই ভিন্নতার কারনে তারা নিজেদেরকে অপরাধী মনে করে। মনে করে যে তাদের চিন্তাধারা সঠিক নয় এবং এসকল কাজ যারা করে তারা সমাজের কাছে, নিজের কাজে ঘৃণ্য। নিজেকে তখন অসম্ভব পাপী মনে করে তারা। 

জেন্ডার ডিস্ফোরিয়া  

একটা মানুষের যখন বায়োলজিক্যাল সেক্স এবং জেন্ডার আইডেন্টিটি ভিন্ন হয়, তখন সেই মানুষটি কিছু অস্বস্তি এবং যন্ত্রনার মধ্য দিয়ে যায়। এই অবস্থা বা পরিস্থিতিকে জেন্ডার ডিস্ফোরিয়া বলা হয়।

জেন্ডার ডিস্ফোরিয়া মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বাধা তৈরি করতে পারে। যেমন, স্কুলে যাওয়া বন্ধ করা, চাকুরী ছেড়ে দেয়া। পূর্বে জেন্ডার ডিস্ফোরিয়া কে জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার বলা হত। কিন্তু, পরবর্তীতে জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার নামটি পরিবর্তন করে নতুন করে নাম রাখা হয়েছে জেন্ডার ডিস্ফোরিয়া। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাব(WHO), ইন্টারন্যাশনাল ক্লাসিফিকেশন অফ ডিজিজ-১১ (ICD-11) ভার্সনের সেক্সুয়াল হেলথ চ্যাপ্টারে জেন্ডার ডিস্ফোরিয়াকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। কিন্তু, পূর্বে ১০ (ICD-10) ভার্সনে জেন্ডার আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার ছিল মেন্টাল ডিসঅর্ডার চ্যাপ্টারে। সুতরাং, জেন্ডার ডিস্ফোরিয়া কোন মানসিক রোগ কিংবা অন্য কোন রোগ নয়। এটা একটি মেডিক্যাল কন্ডিশন মাত্র। 

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় এলজিবিটি  কমিউনিটি উপেক্ষিত। সাধারণত মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় এলজিবিটি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খুব বেশি কিছু পড়ানো হয় না। ট্রেনিং এর ক্ষেত্রেও এলজিবিটি মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে খুব অল্প আলোচনা করা হয়। এর ফলে অনেকে মানসিক ডাক্তাররাই এলজিবিটি কমিউনিটির ব্যপারে পরিষ্কার ধারণা রাখে না। ফলে চিকিৎসা করতে গিয়ে অনেকেই পর্যাপ্ত চিকিৎসা দিতে অক্ষম হয়। আবার ধর্মীয় ব্যপার নিয়ে চিন্তা করলে অনেকে দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পরে। এটা আসলেই দুঃখজনক। এর ফলে অনেক এলজিবিটি মানুষ সু-চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হয় এবং তারা যেসকল মানসিক রোগে আক্রান্ত হয় তার সঠিক চিকিৎসা করা অসুবিধা হয়ে পড়ে তাদের জন্য। আবার কিছু ক্ষেত্রে কিছু ডাক্তার ক্লায়েন্টের গোপনীয়তা রক্ষা না করে তার অভিভাবককে তার অরিয়েন্টেশন সম্পর্কে জানিয়ে দেয়। যার ফলে ক্লায়েন্টের ব্যক্তিগত জীবনে নানা সমস্যা হতে পারে। এবং এই কথা অন্য এলজিবিটি মানুষ জানতে পারলে অনেকেই সেই ডাক্তার বা কাউন্সেলর শুধু নয়, অন্যান্য ডাক্তার বা কাউন্সেলরের কাছে যেতেও নিরুৎসাহিত হয়। 

উপরের আলোচনা থেকে এটাই প্রতীয়মান হয় যে, বাংলাদেশ কেন পুরো পৃথিবীতে এলজিবিটি মানুষেরা তাদের উপর নানা অবিচার এবং অত্যাচার সহ্য করছে। এর ফলে তাদের মাঝে মানসিক রোগে  আক্রান্ত হবার পরিমাণও বেশি। 

কিন্তু, এই অবিচারের শেষ কোথায়?

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.