
কুড়ি বছর বয়সে জীবনের এক কুৎসিত রূপ দেখতে পাবো সেটা আঁচ করতে পারিনি। দিন দিন দুর্বিষহ হয়ে উঠা জীবনটা এখন তেজপাতার মতো। আগুনের কাছে নিলেই নিমিষে শেষ। একেকটি রাত কাটানো যেন মৃত্যুর কাছে হামাগুড়ি দিয়ে নয় খরগোশের গতিতে এগিয়ে যাওয়া। এই বুঝি তারা এলো, এই বুঝি তারা আমায় শেষ করতে এলো। ‘আমায়’ পরিবর্তে ‘আমাদের’ বলা

লেখকঃ অরিত্র হোসেন ১) ‘তাহলে তুমি বিয়ে করছো?’ খুব আগ্রহ সহকারে কৌশিক তাকালো আবিরের দিকে। বিয়ের শেরওয়ানীটা তার হাতে। সেটার দিকে চোখ বড় বড় করে চেয়ে আছে। চোখের পাতা নড়ছে না। চেয়ে থাকার মতো শেরাওয়ানী নয়। বুকের দিকে অতি কুৎসিত নকশা আঁকা। আলপনার নকশা বিয়ের শেরওয়ানীতে মানায় নাকি? কৌশিক ঠাণ্ডা স্বরে বলল, কি পছন্দ হচ্ছে

লেখকঃ অরিত্র হোসেন ভূমিকাঃ ছায়ার বয়স মাত্র ১৫, বই পড়তে খুব পছন্দ করে। কিন্তু তার মা খুব অপছন্দ করেন মেয়ের বই পড়ার অভ্যাসকে। বড় হচ্ছে, কদিনপর সংসার করবে। এখন এসব শখ পোষা বেমানান একঅর্থে নিষিদ্ধ। কিন্তু তার বাবার খুব শৌখিন মানুষ। মেয়ে-ছেলেরা নবেল পড়বে, মুক্তচিন্তার অধিকারী হবে, এটাই চান। একদিন ছায়ার বিছানা গুছাতে গুছাতে হঠাৎ

লেখকঃ অরিত্র হোসেন আমার ২৩ বছরের জীবনে মানুষের আনাগোনা নেহায়েত কম। সাধারণত একা একা থাকতেই বেশ পছন্দ করি। কিন্তু মানুষ ছাড়া এ সামাজিক জীব কি বাঁচতে পারে? ছোটবেলা থেকে পড়ে এসেছি মানুষ সামাজিক জীব। তার চারপাশে রয়েছে নানা উপাদান। ইত্যাদি ইত্যাদি। ছোটবেলা বিনা দ্বিধায় মুখস্থ করতাম তবুও বাক্যগুলো বোধগম্য হতো না। ধীরে ধীরে বয়স বাড়তে

লেখকঃ অরিত্র হোসেন (১) -তুমি প্রস্তুত? হুমায়ুন বিছানায় নড়েচড়ে বসে মুখ কুঁচকে পায়ের দিকে তাকাল। পাতায় ভীষণ চাপ পড়েছে। এখন প্রচণ্ড ব্যথা করছে। পায়ের পাতা উল্টিয়ে দেখার চেষ্টা করলেও সফল হল না। পা নাড়াচাড়া করার বলয় নেই। উপায় না পেয়ে পা সোজা মেলে দিয়ে ঘাড় কাত করে ডানদিকে তাকাল। অর্ঘ্য হুমায়ূনের পিঠে হালকা স্পর্শ করে

অরিত্র হোসেন* একজন বাংলাদেশী কুইয়ার লেখক এবং মানবাধিকার কর্মী। ছদ্মনামে ও আসলনামে ২০১১ সাল থেকে লেখালেখি করছেন এবং বাংলাদেশের প্রান্তিক লিঙ্গ ও যৌন জনগোষ্ঠীর অস্তিত্ব রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি ‘মন্দ্র’ এর প্রতিষ্ঠাতা। গল্পঃ বিদায় অর্ঘ্য, প্রতীতি , প্রেমশাস্ত্র, অভিলাষ, ফলঙ্গ, অপ্রাপ্তি উপন্যাসঃ চরিত্রহীন , নীলকান্তমণি প্রবন্ধঃ অদৃষ্টের পরিহাস , পাঁচমেশালী লঙ্কাকাণ্ড *অরিত্র হোসেন ছদ্মনাম

শিরোনাম দেখে হয়তো আপনাদের মনে হতে পারে ঠিকঠাক ভাবে আবার গে হয় কি করে? সব কিছুর যেমন ভাল খারাপ আর পরিমিত দিক আছে, গে ব্যপারটা কিন্তু সব কিছুর উর্ধ্বে নয়। আমি নিজে যখন জানতে পারলাম আমি এই গোত্রীয়, তখন আমার বয়স ১৪, পড়ি ক্লাস টেনে। বড় হয়েছি মফস্বলের বাংলা মিডিয়াম স্কুল আর কলেজে পড়ে। তাই

রিয়াজুল ইসলামের বয়স ২৬। একটা প্রাইমারি স্কুলে ইসলাম শিক্ষা পড়ান। প্রতিদিন সকাল ৭ টার আগে স্কুলের জন্য বের হওয়া এবং বেলা দেড়টায় বাড়িতে আসা তার রোজকার রুটিন। তিনি পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়েন। সকালের কিছুটা সময় তিনি বরাদ্দ রেখেছেন কোরআন শরিফ পড়ার জন্যে। এ থেকে ধারণা হতেই পারে রিয়াজুল ইসলাম একজন গম্ভীর ধরণের মানুষ।তবে, তিনি এই

কবিঃ মৃত্তিকা রাই আমার মনে একটা রাজকুমারী খেলে।হাওয়ার সাথে ভেসে ভেসে আমায় নিয়ে চলে।এইদিকে না, সেই দিকে না, বারন করে থাকে।বিসর্জনের তিক্ত সুরে হাতছানি দিয়ে ডাকে। মাঝে মাঝে থমকে দাঁড়াই এই বুঝি পথ শেষ।আচমকা এক তীর এসে করবে আমায় নিঃশ্বেস।তবুও চলছি পা বাড়াচ্ছি মুক্ত পথিক বেশে।জেৎ ধরেছি পণ করেছি, জীবন টা দেবো হেসে। আমায় তুমি

কবিঃ মৃত্তিকা রাই (প্রথম কবিতা) আমি নিজেরে প্রকাশ করিতে চাই উজাড় করে।আমার ভেতরে একটা নারী স্বত্ত্বা বাস করে।বন্ধু! আমার এ প্রকাশে তুমি পেয়ো না কষ্ট।মনে নাই কোন সংঙ্কা দ্বিধা, বলিতে চাই স্পষ্ট। আমার শরীর টা পুরুষ, আর মনটা যে নারী;এই কথা আমি স্বতঃস্ফূর্ত ভাবেই বলিতে পারি।পুরুষের অন্তরালে আমি এক সম্পূর্ণা, আমি নারী।রুপান্তরের তীব্রতা শরীরেও যে