কুইয়ার শহীদত্ব নিয়ে আরও কথা

আগের পর্ব পড়ুন এখানে

লেখকঃ ইসায়েদ

6) To put oneself up for death — this is a charismatic gesture.
 
Margery Kempe, a noble soul, kissed female lepers as acts of charity and to show divine love. We know her now as a Christian mystic. Kempe’s recklessness was necessary to establish herself as a mystic, but unnecessary to cure the lepers.
 
The Bangladeshi queer revolutionaries who put themselves up for death end up socially positioned as the distinguished leaders of the Bangladeshi queer community. Their deaths are necessary for them to become heroes, but unnecessary to liberate the queer community.
 
In the depths of thoughts unexpressed, queer revolutionaries who are ready to brave death might desire the power of death. Death, they may know, can make them immortal. We remember Socrates, Hallaj, Hypatia, and so many others — not necessarily for their lives, but for how mob justice sentenced them to death.
 
Xulhaz, as his friends remember, used to say often, “If I die, then I die. So what?” This rhetorical question is more than a passive acceptance of death at some indefinite future. This impulse shaped his actions. In the threshold between meaning something without saying it and saying while not meaning it, Xulhaz provoked his death. In living this way, Xulhaz’s queerness blurred the line between a victim of religious fanatics and a provocateur of his death.
৬) “আমি নিজের জীবন দিয়ে দিতে রাজি” — এই প্রতিশ্রুতি জনগণকে  মাতিয়ে তুলতে পারে।
 
মার্জারি কেম্প, একজন মহৎ আত্মা, মহিলা কুষ্ঠরোগীদের দয়া ও স্বর্গীয় ভালবাসা দেখানোর জন্য চুমু দিতেন। আমরা এখন তাকে একজন খ্রিস্টান সাধু হিসাবে চিনি। কেম্পের এই বেপরোয়া চুমু দেয়া নিজেকে সাধু হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল, তবে কুষ্ঠরোগীদের রোগ নিরাময়ের জন্য  ছিল অপ্রয়োজনীয়।
 
বাংলাদেশী কুইয়ার বিপ্লবীরা যখন নিজেদের মৃত্যুর মুখোমুখি করে, তারা তখন সামাজিকভাবে বাংলাদেশী কুইয়ার সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট নেতা হিসাবে চিহ্নিত হয়ে যায়। তাদের নেতৃত্ব জাহির করার জন্য তাদের মৃত্যু প্রয়োজনীয়, তবে কুইয়ার সম্প্রদায়কে মুক্ত করার জন্য তাদের মৃত্যু অপ্রয়োজনীয়।
 
কুইয়ার বিপ্লবীরা হয়তো তাদের মনের গভীরে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করার স্পর্ধা রাখে। তারা বিশ্বাস করে, মৃত্যু তাদের অমর করতে পারে। আমরা সক্রেটিস, হাল্লাজ, হাইপেশিয়া, এবং আরও অনেককে এখনো স্মরণ করি, তাদের যাপিত জীবনের জন্য নয়, বরং উচ্ছৃঙ্খল জনতার হাতে তাদের করুণ মৃত্যুর জন্য।
 
জুলহাজের বন্ধুরা বলেন, জুলহাজ নাকি প্রায় বলতো, “যদি মরে যাই, তাহলে মরবো। তাতে কি?” এই প্রশ্নটা কিন্তু চুপচাপভাবে মৃত্যুকে গ্রহণ করে নেয়ার থেকে আরেকটু বেশি কিছু। “তাতে কি?” বলার প্রবণতা জুলহাজের দৈনন্দিন চিন্তার উপর প্রভাব ফেলেছিল, তার সাংগঠনিক কাজকে একরকম আকার দিয়েছিল। খোলাখুলি কিছু না বলে ইঙ্গিতে কিছু বলা আর মুখ ফসকে এমন কিছু বলে দেয়া যা সে বোঝাতে চায়নি, এই দুইয়ের মাঝে কোন এক জায়গায় দাড়িয়ে জুলহাজ হয়তো তার মৃত্যুকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলো।জুলহাজের মাঝে থাকা কুইয়ার সত্ত্বাটি ধর্মান্ধের শিকার এবং নিজের মৃতুর উস্কানিদাতার মধ্যের পার্থক্যের যে রেখাটি ছিলো, সেটিকে ঝাপসা করে দিয়েছিলো।

7) The death-desiring queer is a masochist. He enjoys an unspoken contract with the hetero-sexist state, whereby he expects the state to inflict upon him specific forms of pain and humiliation. He wants to push this relation to the edge. He is not a mere victim. He is an agent of queer masochism in bed with the state.
৭) মৃত্যু-আকাঙ্খী কুইয়ার ব্যক্তিটি একজন মর্ষকামী। তিনি হিটরোসেক্সিস্ট রাষ্ট্রের সাথে একটি অব্যক্ত চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। তিনি প্রত্যাশা করেন যে যখনই তিনি দিনের আলোয় বের হয়ে আসবেন  তখনই এই রাষ্ট্র তাকে নির্দিষ্ট পরিমাণে ব্যথা দিবে ও অপমানিত করবে। তিনি এই সম্পর্কটিকে ধাক্কা দিতে দিতে জীবনের শেষ প্রান্তে নিয়ে যেতে চান। তিনি কেবল হিটরোসেক্সিস্ট রাষ্ট্রের শিকার নন, তিনি আসলে মর্ষকামীতার প্রতিনিধি হয়ে রাষ্ট্রের সাথে এক বিছানায় শুয়ে আছে।  

8) For death to matter, dying is not enough. Even dying spectacularly — in a burst of fire or a pool of blood — is not enough. Depending on what follows, a dull moment of death can become memorable. That is to say, death is mundane but can be made extraordinary.
 
Death needs a narrator to mourn death’s significance and an audience, guilty enough, to listen. The audience has to allow the narrator to move and agitate subdued feelings – guilt, fear, hope – with the dead’s epic heroism. Feminists heroized Hypatia. Sufis heroized Hallaj. Shias heroized Hasan-Husayn.  
 
But if queerness in Bangladesh is socially valueless in the first place, who will tell the story of queer martyrs, in what way, to move which audience?
 
I told an elder relative about Xulhaz’s death. He told me, “Xulhaz is a person. What happened to him shouldn’t have happened to anyone.” The response is callous. What this relative is really saying is this: “I can mourn Xulhaz’s personhood, but not his queerness.” That is to say, “It is not OK to kill the person, but I am indifferent to killing the queer. And when the queer and the person are the same, the person is collateral.” This indifference is the cruel kernel of heterosexist humanitarian compassion.
 
Since queerness in Bangladesh is socially valueless in the first place, who will tell the story of Bangladeshi queer martyrs, in what way, to move which audience?
 
The Bangladeshi queer organizer, ready to give her life, therefore turns to her queer community, “What have you done for our liberation? Nothing. None of you are doing anything. Only I alone am giving my life to liberate this community.” Because the queer martyr knows only her queer community will be moved to value her life and feel guilty enough to listen.
৮) বীরত্বের মৃত্যুর জন্য কেবল মৃত্যুই যথেষ্ট নয়। এমনকি দর্শনীয়ভাবে মারা যাওয়া, যেমন ধরেন আগুনে পুড়ে বা রক্তে ডুবে মারা যাওয়াও যথেষ্ট নয়। মৃত্যুর পরবর্তী অধ্যায়ে কী হয় তার উপরে নির্ভর করে একটা সাদামাটা মৃত্যুও স্মরণীয় হয়ে উঠতে পারে। তার মানে মৃত্যু সাধারণ হলেও তাকে অসাধারণ করে তোলা যায়।
 
একটি মৃত্যুর তাৎপর্য বোঝানোর জন্য সেই মৃত্যুর একজন বর্ণনাকারী প্রয়োজন, এবং প্রয়োজন এমন শ্রোতা যাদের দোষী সাব্যস্ত করা যায়। সেই বর্ণনাকারী শ্রোতাদের মধ্যে, তাদের সম্মতিতে, মৃত ব্যক্তির বীরত্বের মহাকাব্য দিয়ে জাগিয়ে তুলে নানানরকম অনুভূতি – অপরাধবোধ, ভয়, আশা। নারীবাদীরা যেমন বীরোচিত করেছিলো হাইপেশিয়ার মৃত্যুকে, সুফিরা করেছিলো হাল্লাজকে, শিয়ারা করেছে হাসান-হুসেনকে।
 
কিন্তু বাংলাদেশী সমাজে কুইয়ার জীবনগুলি যদি প্রথম থেকেই মূল্যহীন হয়, তাহলে কুইয়ার শহীদদের গল্পটি কে বলবে, কোন উপায়ে বলবে, কোন শ্রোতাকে জাগিয়ে তুলতে?
 
আমি একদিন আমার এক আত্মীয়কে জুলহাজের মৃত্যুর বিষয়ে বললাম। তিনি আমাকে বললেন, “জুলহাজ একজন  ব্যক্তি এবং তার সাথে যা হয়েছে তা কারো সাথে হওয়া উচিত না।” কি নির্মম এই নিরপেক্ষতা! এই আত্মীয় আসলে যা বোঝাতে চেয়েছে তা হলো, “আমি ব্যক্তি জুলহাজের জন্য শোক প্রকাশ করতে পারি, কিন্তু তার সেক্সুয়ালিটির জন্য নয়।” তার মানে, “মানুষটাকে মারা ঠিক না, কিন্তু গে’টাকে হত্যার ব্যাপারে আমার কোন আপত্তি নেই। আর যখন একই ব্যক্তি মানুষ এবং গে, তখন তার গে সত্ত্বাকে হত্যা করতে গিয়ে, অনিচ্ছাকৃত ভাবে মানুষটির হত্যা হতে পারে।” এই উদাসীনতা বাংলাদেশি সমাজে হিটরোসেক্সিস্ট মানবিকতার নিষ্ঠুর অন্তর্বীজ।  
 
যেহেতু বাংলাদেশি সমাজে কুইয়ার জীবনগুলি এমনিতেই মূল্যহীন, সেখানে কুইয়ার শহীদদের গল্পগুলো কে বলবে, কোন উপায়ে বলবে, কোন শ্রোতাকে জাগিয়ে তুলতে বলবে?  
 
তাই বাংলাদেশি কুইয়ার সংগঠকরা শেষমেশ তাদের কুইয়ার সম্প্রদায়কেই বলেন, “আপনারা আমাদের মুক্তির জন্য কি করেছেন? কিচ্ছু করেননি। কেউ কিছুই করছেন না। শুধু আমিই এই সম্প্রদায়কে মুক্ত করার জন্য নিজের জীবন দিতে প্রস্তুত আছি।” এর কারণ সব কুইয়ার বিপ্লবীরা জানে যে কেবল তার কুইয়ার সম্প্রদায়ই তার জীবনকে মূল্য দেয় এবং তার জীবন দেয়ার প্রতিশ্রুতি শুনে শুধু তারাই নিজেদের অপরাধী মনে করবে।

9) It is always the Bangladeshi cis-gay male organizer who rushes to give his life. Not the lesbian organizer, not the trans organizer, not the non-binary organizer, not the hijra organizer, so on and so forth.  
 
Let’s hold that thought, and place this one beside it:
 
It is an old custom in patriarchal societies that the ideal man is supposed to sacrifice himself, without complaint, for his family.
৯) সবসময় বাংলাদেশি সিস-গে পুরুষ সংগঠকটাই প্রাণ দিতে ছুটে যায়। লেসবিয়ান সংগঠক ছুটে যায় না, ট্রান্স সংগঠক ছুটে যায় না, নন-বাইনারি সংগঠক ছুটে যায় না, হিজড়া সংগঠক ছুটে যায় না, ইত্যাদি, ইত্যাদি।  
 
উপরের চিন্তাটা মাথায় রেখে এই নিচের চিন্তাটা তার পাশে বসাইঃ
 
পুরুষতান্ত্রিক সমাজগুলোর পুরনো রীতির মধ্যে অন্যতম রীতি হলো যেকোন আদর্শ পুরুষ নিজের পরিবারের জন্য বিনা অভিযোগে আত্মত্যাগ করতে ছুটে যাবে।


10) The Bangladeshi queer martyr concludes, “There is no right time. Whatever we have to do, we have to do now.” He does not second-guess. He is absolutely sure of what is to be done. He is decisive. He practices epistemic arrogance.
 
“No, friend. I cannot die for our rights now,” says the opposing Bangladeshi queer organizer. This could be construed as a weakness of character, a lack of conviction. But then again, couldn’t his words also be a practice of modesty, a position of humility? After all, who can guarantee that their deaths will achieve what they die for?
১০) বাংলাদেশি কুইয়ার শহীদ সব কথার ইতি টানে এই বলে, “সঠিক সময় বলে কিছু নেই। যা করতে হবে, তা এখনই করতে হবে।” সে পুনর্বিবেচনা করে না। সে একদম সুনিশ্চিত। সে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছে গেছে। জ্ঞানের দম্ভে সে অদ্বিতীয়।
 
কুইয়ার শহীদের মতের বিরোধী বাংলাদেশী অন্য কুইয়ার সংগঠক বলেন, “না, বন্ধু। আমি আমাদের অধিকার আদায়ের জন্য এখন মরতে রাজি না।”  বিরোধী কুইয়ার সংগঠকের এই উত্তরকে মনে হতে পারে তার চারিত্রিক দুর্বলতা, দৃঢ় বিশ্বাসের অভাব। কিন্তু অন্যভাবে চিন্তা করলে তার উত্তরটা কি এমন  হতে পারে না, নম্রতা ও নিরহঙ্কারের প্রতীক? দিনশেষে কে গ্যারান্টি দিতে পারে যে সে যেই লক্ষ্য অর্জনে জানমাল দিবে, তার মৃত্যু সেই লক্ষ্য অর্জন করবে?

11) The martyr will die and leave behind a trail of suffering for the people who loved him, accompanied him, and believed in him. The martyr will no longer be around to help those who he died to help. The martyr might get his wish. But in every death, a parent, a child, a sibling, a friend, an organizer, a citizen, i.e., several relationships are lost. The world loses a dreamer, a voice, a gift the world had given to itself.
 
We happen in the world through all the work that everybody puts into sustaining, caring, and raising us from life to death. We, in turn, labor emotionally and physically to keep others alive. Because we live together, work for each other’s security and happiness, get entangled with each other, nobody dies alone. Anyone’s death is also a partial death of someone else in the collective. The queer martyr disrupts this collectivity, this chain of accountability that binds us to each other. To justify this profoundly selfish decision, the queer martyr finds something non-existent — a law, a set of rights in the future — as a cover for his disruptive act.
 
We are, perhaps, never just our own to kill.
১১) কুইয়ার শহীদ মারা যাবেন। যারা তাকে ভালোবাসতো, বিশ্বাস করতো, সঙ্গ দিতো, তাদের কাছে রয়ে যাবে শোক-দুঃখ; কিন্তু এই ভালোবাসার মানুষগুলির যত্ন নিতে তাদের পাশে কুইয়ার শহীদ থাকবেনা।শহীদ হয়তো তার জীবন দেয়ার ইচ্ছা পূরণ করলেন। কিন্তু এই মৃত্যুর সাথে হারিয়ে যাবে অনেক রকম সম্পর্ক, কারো অভিভাবক, কারো সন্তান, ভাই/বোন, বন্ধু, কোন আন্দোলনের সংগঠক, কোন অঞ্চলের নাগরিক। দুনিয়া হারাবে একজন স্বপ্নদ্রষ্টা, একটি কণ্ঠ, একটি উপহার যা দুনিয়া নিজেকে নিজে দিয়েছিল।
 
আমরা এই পৃথিবীতে জন্মাই, বেড়ে উঠি, আমৃত্যু টিকে থাকি অন্যদের যত্ন ও শ্রমের দ্বারা। তাদের অবদানের পরিবর্তে আমরাও মানসিক ও শারীরিক পরিশ্রম করি অন্যদের বাঁচিয়ে রাখার জন্য। যেহেতু আমরা সমাজে একসাথে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে পরিয়ে থাকি, যেহেতু একের সুখ/সুরক্ষা অন্যের সুখ/সুরক্ষার সাথে জড়িত, কেউই একা মরতে পারে না। একটি ব্যক্তির মৃত্যু সেই সমাজের অন্য কারো আংশিক মৃত্যু। কুইয়ার শহীদ এই সামষ্টিক  বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে নিজের জীবন দিতে রাজি। আমরা একে-অপরের কাছে যেই জবাবদিহিতার অনুরোধে আবদ্ধ তাকে কুইয়ার শহীদ তছনছ করে ফেলে। তার এই স্বার্থপর সিদ্ধান্তকে গ্রহণযোগ্য করার জন্য, কুইয়ার শহীদ কোন এক অস্পষ্ট সম্ভবনাকে হাজির করে তার সিদ্ধান্তের কারণ হিসাবে — তা হতে পারে কোন এক আইন বাস্তবায়ন করা বা কোন অধিকার অর্জন করা; তবে ভবিষ্যতে, সবসময় ভবিষ্যতে।
 
আমরা হয়তো কখনোই এতোটা নিজেদের না যে আমরা নিজেদেরকে নিজেরাই মৃত্যুর অনুমতি দিতে পারি।

12) “We want social change. Those other queers want things to stay the same. We want social change now, and they always delay the fight, look for excuses.” – Bangladeshi gay organizer.
 
The Bangladeshi queer martyr proceeds through reductive thinking. He reduces our complicated lives into a neat, manageable, exploitable duality — people who want change and people who don’t want change. Those who don’t want change are well-off, live “western” lives in cities, have white friends, attend parties; they can be visible without any threat, so for them, rights don’t matter. They don’t want any social movement because they will lose their leadership. On the opposing side, some want social change. Those queers are poor, harassed, disowned, stay closeted in fear, live in villages, and they are willing to martyr their lives for the right cause.
 
In reality, such paper-cut people never existed. Some impoverished queer persons regularly shuttle back and forth between their village homes and city conferences, or they periodically communicate over social media with white people around the globe. Affluent queer people also live in villages. Some well-off queer persons remain closeted out of fear, or their families have disowned them, or they do not get called to tokenizing donor spaces for not being marginal enough. Some wealthy queer people will throw down money behind martyr or martyr themselves. The real world is complicated, complicated, complicated. Be that as it may.
 
The reduction of social complexity is not an accident or a “lack of thinking.” In fact, the queer martyr’s attitude is a very well thought out position always under construction. For the queer martyr, the binary — elite vs marginal — serves the purpose of a shield. As he goes forward with his sword to give his life for LGBT+ rights, he uses the simplified rhetoric of elite vs. marginal as a shield against any caution, debate, suggestion, concern thrown at him. He does not seek to converse. He does not want the richness of diverse knowledge and ways of struggles. The queer martyr wants mastery over the entire LGBT+ rights struggle and wishes to run it as a commander. “My way or highway.” The product of his Bangladeshi upbringing, he mimics the logic: “one nation under one queen.”
 
The queer martyr would become vulnerable if he opened up to others and changed his perspectives. So he says, “I don’t need to know what they are doing or saying. What they are doing or saying, I know, is useless.” Using reductions, the queer martyr makes himself invulnerable to negotiation. He narrows his vision and operates out of willful ignorance. He wants what he wants, ad nauseam, that is, to give his life.
 
Perhaps in the depth of his nightmares, the queer martyr doubts his own certainty. But he must close himself to his own thoughts and realities to proceed as a martyr. Because he does not make himself vulnerable in relationships, in his own head, the martyr always dies alone. “If nobody comes at your call, you must walk alone,” he sings to himself. In his head, he dies alone, even if for the community.
১২) “আমরা সামাজিক পরিবর্তন চাই। ওই অমুকরা কোন পরিবর্তন চায় না। আমরা এখনই সামাজিক পরিবর্তন চাই, আর ওরা সবসময় লড়াইয়ে নামতে দেরি করে, না নামার অজুহাত দেখায়।” – বাংলাদেশি সমকামী সংগঠক
 
বাংলাদেশি কুইয়ার শহীদ জটিল অবস্থাকে সহজ করে দেখে, এবং সে চিন্তার সরলীকরণের মাধ্যমে কথা আগায়। তিনি আমাদের জটিল বাস্তবতাকে রূপান্তর করে সহজ, পরিচ্ছন, শাসনযোগ্য এক দ্বৈততায় – যারা পরিবর্তন চায় বনাম যারা পরিবর্তন চায় না। যারা পরিবর্তন চায় না তারা বড়লোক, শহুরে, “পশ্চিমা” জীবনযাপন করেন, পার্টি করেন। তারা সমাজে এলজিবিটি+ হয়ে নিজেদের প্রকাশ করলেও কোন হুমকিধামকি পায় না, তাই তাদের কাছে অধিকারের লড়াইয়ের কোন গুরুত্ব নেই। বরঞ্চ তারা কোন অধিকার আদায়ের আন্দোলন দেখতে চায় না কারণ সেই আন্দোলনে তারা তাদের বর্তমান নেতৃত্বের জায়গা হারাবে। আর অপরপক্ষে আছে তারা, যারা সামাজিক পরিবর্তন চায়। এই কুইয়াররা দরিদ্র, বিভিন্ন হয়রানির শিকার, এবং গ্রামে থাকে। তারা নিজেদের প্রকাশ করলে তাদেরকে ঘর থেকে বের করে দেয়া হয় ও উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা হয়। তাই এরা ভয়ে লুকিয়ে থাকে এবং তারা বুঝে যে, জীবন দিয়ে এই সমাজ পরিবর্তন না করা পর্যন্ত তাদের কোন রেহাই নেই।
 
কিন্তু বাস্তবে শুধু এই দুইরকমের কাগজ-কাটা পুতুলের মতো মানুষের সমাজ খুঁজে পাওয়া যাবে না। পাওয়া যাবে এরকম দরিদ্র কুইয়ার ব্যক্তি যিনি কয়েকমাস পরপরই তার গ্রাম থেকে শহরে এসে এলজিবিটি+ কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করছে। হয়তো তিনি সোশাল মিডিয়ার মাধ্যমে “পশ্চিমা” কুইয়ারদের সাথে চমৎকার বন্ধুত্বও তৈরি করেছে। আবার গ্রামেও পাওয়া যাবে বিত্তশালী কুইয়ার মানুষ। গ্রামে-শহরে পাওয়া যাবে এমন ব্যক্তি যে অর্থনৈতিকভাবে সচ্ছল কিন্তু তারপরও নিজেকে তার পরিবার ও সমাজের কাছে প্রকাশ করতে পারে না, অথবা এমন ব্যক্তি যাকে তার পরিবার অস্বীকার করে ত্যাজ্য ঘোষণা করেছে। কিছু ধনী কুইয়ার ব্যক্তি পাওয়া যাবে যারা নিজেরাই শহীদ হতে চায়, বা যারা দূরের থেকে শহীদদের কর্মকাণ্ডে টাকা ঢালতে চায়। যাই হোক,  বাস্তব খুবই জটিল, জটিল, এবং  জটিল।
 
কুইয়ার সংগঠকরা যখন সামাজিক জটিলতাকে সহজ করে তুলে ধরে তা কোন দুর্ঘটনা নয়, তা কোন চিন্তাভাবনার “অভাব” নয়। প্রকৃতপক্ষে, কুইয়ার সংগঠকদের এই শহীদত্বের মনোভাবটি একটি সুচিন্তিত অবস্থান যা ওই সংগঠকরা সদাসর্বদা নতুন করে নির্মাণ করতে থাকে। এলিট বনাম প্রান্তিক — এই দ্বৈততা কুইয়ার সংগঠকদের জন্য একটি ঢাল হিসেবে কাজ করে। সংগঠকটি যখন এলজিবিটি+ অধিকারের জন্য নিজের জীবন দিতে তলোয়ার নিয়ে এগিয়ে যায়, সে ওই এলিট-বনাম-প্রান্তিক ঢালটি ব্যবহার করেন নানানরকম সতর্কতা, বিতর্ক, পরামর্শ ও উদ্বেগের বিরুদ্ধে যা তাদের সামনে বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়। তিনি আলাপ-আলোচনা খুঁজে না। তিনি বৈচিত্র্যময় জ্ঞান ও সংগ্রামের উপায় নিয়ে মাথা ঘামান না। তিনি চায় পুরো এলজিবিটি+ অধিকার আদায়ের সংগ্রামের উপর দক্ষতা অর্জন করতে। তিনি চায় একক কমান্ডার হিসেবে সেই আন্দোলনকে পরিচালনা করতে। “বিচার মানি তবে তালগাছ আমার।” হয়তো সে যেই দেশে বড় হয়েছে, সেই দেশের শাসননীতি অনুকরণ করছেনঃ “এক রানীর অধীনে একটি জাতি।”
 
কুইয়ার শহীদ নরম হয়ে যাবে যদি সে নিজের মন খুলে, অন্যদের সাথে আলাপের মাধ্যমে নিজের দৃষ্টিকোণ পরিবর্তন করে। তাই সে বলে, “আমার প্রতিপক্ষরা কি করছে বা কি বলছে তা আমার জানতে হবে না। তারা যাই বলুক বা করুক, সবই অকেজো।” জটিলতাকে সরল বানিয়ে কুইয়ার শহীদ আলাপ-আলোচনা থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখে। চিন্তাকে সঙ্কীর্ণ রেখে সে একধরনের ইচ্ছাকৃত অজ্ঞতা থেকে নিজেকে পরিচালিত করে। বারবার, বারবার সে এক জিনিসই চান — তার জীবন দিতে।
 
হতে পারে যে এই কুইয়ার শহীদ তার দুঃস্বপ্নের গভীরতায় তার আত্মবিশ্বাসকে সন্দেহ করেন। তবে শহীদ হবার জন্য তাকে অবশ্যই তার নিজের অন্তর্নিহিত চিন্তা ও আশেপাশের বাস্তব জটিলতার থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। যেহেতু সে নিজেকে বিভিন্ন সম্পর্কে জড়িয়ে নরম করে ফেলেনা, তার মৃত্যুকালে, অন্তত তার নিজের ধারনায়, সে একলা মৃত্যুবরণ করেন। “যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলোরে,” এই তার গান। সে দেখতে পারে না যে তার পিছনে তার সম্প্রদায় তাকে ডাকছে। তাই যদিও সে সম্প্রদায়ের পক্ষ থেকে মৃত্যুবরণ করে, তার নিজের কাছে সে একাকী নিঃসঙ্গভাবে মৃত্যুবরণ করেন।

13) TRAUMA.
১৩) ট্রমা। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.